কেউ কেন চিৎকার শুনতে পাচ্ছে না , সবাই এত স্থির কি করে রয়েছে এত চিৎকারে,
শব্দের খরস্রোত কেন যে কেউ দেখতে চাইছে না , আমি এই অর্ধশত ছুঁইছুঁই বয়সে দাড়িয়ে
রোজ রোজ হাজার হাজার আর্তনাদ শুনতে পাই সময়ের টানেলে ,
কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে , মাথার বাইরে মাথার ভেতরে মিছিল আর মিছিল ,
আমি সময় কে চুপ করতে বলি মাঝে মাঝে সময় কাছে গিয়ে স্তব্ধতা চাই ...
এত চিৎকার এত হাহাকার সহ্য করতে কষ্ট হয় এখন ,
আমার ভেতর এখন একটা জলন্ত দেশ ...। দাউ দাউ করে পুড়ছে কে যেন মুখাগ্নি করছে ক্ষনে ক্ষনে ।।
মুখে কালো কাপড় বাঁধা কেউ দাড়িয়ে আগুন উস্কে দিচ্ছে ।
আমার ভেতর যারা জ্বলে যাচ্ছে যে দেশ জ্বলে যাচ্ছে সবাই জীবিত ,
তাই তারা চিৎকার করছে আর্তনাদে ফেটে পড়ছে,
এ পোড়া দেশে মানুষ গুলো উপহাসি আর উল্লাসের উজ্জাপনে আর কোনো ব্যাথার পাতা ঝরা
জানতে চায় না , আমি ঘুমের ভেতরেও শুনতে পাই নিঃশব্দে যে আর্তনাদ রাতের বালিশে মুখ গুঁজে নদী আশ্রয়ে
বেঁচে আছে ,
চিৎকার গুলো একটা বুক খুঁজছে অথচ এ শহরে যে বুকের অভাব তা
নয় ...
তবু কোন অজানা বিষক্রিয়া বতাসে বাতাসে মিশে গিয়ে দুরত্বে মিলিয়ে যাচ্ছে আশ্রয় দেওয়া বুক ,
কাঁধ ,
ধ্রুবন বাবু আপনি বলেন ... আমাদের মানুষের মত দেখতে ... আসলে আমরা
কেউ মানুষ নয় ... আমরা কেউ কেউ হেদলেশ মনস্টার ... আমরা সময়ের কালো কাপড়ে চোখ বাঁধা গান্ধার জীব, আপনি ঠিকই বলেন
মানুষ ছিলেন মনিন্দ্র বাবু , ভাস্কর বাবু ... আরও এমন অনেকে আসলে আমি যে তাদের তেমন চিনি তা নয়্,
শুধু আপনি আমায় জানিয়ে ছিলেন তারাও নাকি বেঁচে থাকতে আমার মত এমন চিৎকার আর আর্তনাদ শুনতে
পেতেন ,
তবে কি তারা এই তিব্র অহংকারী চিৎকারের নীচে মাথা নিচু করে চলে গেলেন জানি না দ্রুবন বাবু
আমিও এই সময়ের আরতনাদের সামনে আর কতক্ষন দাড়িয়ে থাকবো।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন