অথচ সে কখনোই অহীন কে কোনো ব্যাপারে বাঁধা দেয় নি বরং উৎসাহ দিয়ে এসেছে , অহীন বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে কোনো যোগাযোগ রাখতো না কি রকম মন খারাপ করে বলতো কিচ্ছু ভালো লাগছে না কুর্চি .....আর কুর্চি পরের দিন ঘর সংসার কাজ সব ফেলে ভোরের ট্রেনে দৌড়ে যেত অহিনের কাছে , তারপর সমস্ত দিন অহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে ওর যাবতীয় মন খারাপের কথা নিজের ভেতর আত্মসাৎ করে বলতো শান্ত হও , যাও মাঝে মাঝে রনি, সাহেব, মৃদুলের সাথে সময় কাটাও , একটু নিয়মের বাইরে আড্ডা দাও ভালো লাগবে , অহীন বলতো জানিস কুর্চি আমার ওদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে না সেই এক মেয়ে আর মদ ছাড়া ওরা কিছুই জানে না ,আমি ওদের সাথে ঠিক নিজেকে মেলাতে পারি না ...,
কুর্চি বলে আচ্ছা তোমার যা ভালো লাগে যেমন করে ভালো লাগে তেমন করে সময় কাটাও ,রোজ রোজ এক ঘেয়ে অফিস আর বাড়ি থেকে একটু ছুটি নাও ।
অহীন কুর্চির বুকে মুখ গুঁজে বলে উঠতো তোর সাথে কাটানো একনকোয়েক ঘন্টা আমার মুক্তি, আমার ভালোলাগা ,আমার উৎসব উদযাপন ,
তুই আমাকে ছেড়ে যাস না ।
কুর্চি চুপ করে থাকতো সে জানতো সে অহীন কে ছেড়ে না গেলেও অহীন তার কাছে থাকবে না ....,।
আজ গঙ্গার ঘটে বসে কুর্চির সে সব কথা ভীষন মনে পড়ছে , আসলে কাল অহীন বলছিলো তার কিচ্ছু ভালো লাগছে না , কুর্চির কানে দেড়শো মাইল দূর থেকে সারা রাত এই কিচ্ছু ভালো লাগছে না অহীন এর গলার স্বর ভেসে আসছিল ,
কুর্চি সারাতার ঘুমোতে পারে নি কি করবে ভেবেও পাচ্ছিল না ।
সকালে উঠে ভোরের বসে অহীন এর শহরের উদ্দেশ্যে পারি দিল ....চলে তো এসেছে কুর্চি অথচ কি করবে একবার অহীন এর বাড়ির সামনে একবার অফিসের সামনে ঘোরাঘুরি করছে তারপর এক সময় অহীন অফিসে এলো বাইক চালিয়ে ,সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেল অথচ কুর্চি কে দেখতে পেল না ।আসলে কুর্চি মুখ ঢেকে ছিল , আসলে অহীন যে দিন থেকে বলেছে সে আর কুর্চির মুখোমুখি হতে চায় না ,কুর্চিও নিজের জায়গাটা বুঝে গেছে ,তারপর থেকে অহীন এর শহরে এলেও তাকে আর জানায় না । আজও তাই সে অহীন এর সামনে গেল না ,সারা দিনের বেশ কিছুটা সময় সে অহীন এর অফিস এর সামনে বসে থাকলো তারপর গঙ্গার ঘটে বসে মানুষের আসা যাওয়া দেখতে দেখতে কত কিই না ভাবতে লাগলো ....অহীনএর সাথে এই গঙ্গার ঘটে একদিন অনেকটা সময় কোনো কারণ ছাড়াই তারা একসাথে কাটিয়েছে ,
আর আজ অহীন এক মুহূর্ত কারণ ছাড়া কথা বলে না .....এই অহীন কে কুর্চি আর চিনতে পারে না ,
অহীন এর এই মাতৃ পিতৃ হীন শহরটা কুর্চি কে বড় কাঁদায় , বড় মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছে কুর্চি অহীনকে , তবু আজকাল কুর্চিও অহীন এর মত ভাবতে চেষ্টা করছে এই এক তরফা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে ......
….……............................ক্রমশ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন