বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

চিঠির অনুবাদ আর কালো মেয়ে





ভালো থাকার সুযোগ আসে অথচ... 
ভালো না থাকাটা সমুদ্রতীরে ভেসে বেড়ানো আঁশটে গন্ধের মতো... 
সর্বত্রগামী নিঃসঙ্গতা বুকে চেপে বসে... 
কালো মেয়েটার  কথাগুলো জমাট বাতাসে আলপনা এঁকে যায়... 
অলৌকিক দেহ থেকে ছিটকে আসে শব্দ... জোয়ারের  জলে আবছা অনেককালের পুরনো সন্ধ্যার রঙ... 
চেনা কিংবা অচেনা, অমসৃণ এবং চিৎকৃত আবেশ... Holy Spear বুকে ঢুকিয়ে সবকিছু মনে করিয়ে দেওয়া...
 নিমফলের রঙমাখা মৃত শহরের প্রতিবিম্ব যেন। দিয়োনিসুসের উপাসনাগৃহে নিটস-এর 'দ্য বার্থ অফ ট্রাজেডি' প্রবাহিত হয়। ট্র্যাজেডিতে 'অ্যাপোলোনিয়ান' কাব্যের সৌন্দর্য অদ্ভুত অবগুণ্ঠনে আমাদের আর্দ্র করে... আমরা বাধ্য হই সহ্য করতে সেই ভয়াবহ প্রলুব্ধকর দিয়োনিসুসিয়ান দর্শনকে।

এখন শারত্রের ক্যাথিড্রাল থেকে ঠিকরে আসা আলোয় কালো মেয়েটার  মুখ ভিজে যাচ্ছে। আমার প্রতিটি অক্ষর ওর কাছে সাজানো Brillo Boxএর মতো... স্টেনসিল করা প্লাইউড বাক্সের স্তূপ। 
কে যেন অজান্তে আমার ঘরে ঢুকে পড়েছে... কেন এমন মনে হচ্ছে জানি না... মাথাটা হেলিয়ে একদৃষ্টিতে আমার বিপরীত উপাত্ত... প্রতীতিবাদ... বিমূর্ততা অনুকরণ করছে...

ভার্জিনিয়া উলফ্-এর সেই চিঠিটার কথা মনে পড়ে... 'শীতের মধ্যে নিঃসঙ্গ আমি, বসে আছি ফায়ারপ্লেসের পাশে, তার পাঠানো বইটি মাঝে মাঝে খুলে দেখছি, কিন্তু পড়তে পারছি না। কার যেন  শব্দগুলিকে বুকের মধ্যে আঁকড়ে বসে আছি, তারা অগ্নিকণিকার মতো, অনন্তের দিকে ধাবমান, কী মহৎ অপরিমেয় মহিমায় তারা উত্তীর্ণ।  তোমার কলম থেকে ঝরে পড়া শব্দগুলি!'... এসব কি কবিতা নয় কালো মেয়ে ?
... ছিটকে আসা প্রতিভাস... ইলিউশন অতিক্রম করছে তার সীমাবদ্ধতা... অনন্ত ছুঁয়ে ফেলছে কবিতাযাপন... বিচিত্র বর্ণময় জলজ আভা... এত তাড়াহুড়ো তবে কিসের জন্য? কোথাও যে পৌছনোর নেই আজ থেকে আর।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন