সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

চিঠি

------
প্রিয় মনি
জানিস আজ কয়েকদিন ধরেই ভাবছি তোকে কিছু লিখি 
এক মিনিট দাড়াবি পাখার সুইচটা অন করি কলকাতায় বড্ড
ভ্যাপসা গরম জানিস এর এখানে আসার পর থেকে তোর হাতের ওই 
নিম্বু  পানি কি মিস করি, এই শোন কাকিমা কেমন আছেন রে?  কাকুর
কাজকর্ম এখন কেমন চলছে বলতো, আর শোন না তুই চিঠিতে এত কম
কথা বলিস থুড়ি লিখিস কেনরে পড়া শুরু করতে না করতেই শেষ হয়ে যায়, 
আসলে কি বলতো দুর্গাপুর ছাড়ার পর তোর চিঠির জানলা দিয়েই আমি 
শব্দের পর্দা সরিয়ে দুর্গাপুর কে দেখি, এই দ্যাখ কেমন আকাশের মুখ ভার করে 
বৃষ্টি এল দাঁড়া দাঁড়া জলের ঝাপটা আসছে সব ভিজে একাকার এক মুহুর্তে আগে জানলা
বন্ধ করি তার পর তোর সাথে কথা বলি, । 
হ্যাঁ এবার বলতো তোর কি খবর বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেল
আমি ভাবলাম আমার চিঠি লেখা হচ্ছে না সময় নিয়ে তুই হয়তো এরই
মধ্যে ইয়া বড়কা একটা চিঠি লিখে ফেলবি খস খস করে, আর তাতে 
ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ অভিমান কত্ত কিছু মেশানো থাকবে  , আর আমি কাজের ফাঁকে
তোর ওই ছেলেমানুষী অভিযোগ অভিমান থেকে    খুনশুটি কুড়োবো। 
যাক সেসব কথা তো হলো, বলছি কলেজ তো যাচ্ছিস নতুন কিছু খবরাখবর দে এবার 
কেউ কি চোখ ফিরে একবারো তাকালো না এই ছমাসে,  অবশ্য তুই যা খেঁদি পেঁচি মা মনসা 
তোকে কোন ছেলের  চোখ ট্যারা ছাড়া পছন্দ হবেও না,  কিরে কিছু বলবি না বাদি প্রতিবাদী
হয়ে হাহাহাহা এই সময় তোর মুখটা দেখার মত হয়েছে আমি জানি,  শোন না চিঠি টা পড়ার সময় একটা 
তোর মুখের একটা ফটো তুলে পরের চিঠির সাথে পাঠাস হাহাহাহা। 
মনি এই বলছি বাকি কথা পরে কাল সময় করে বলছি বুঝলি খুব খিদে পেয়ে গেছে 
নারায়ন দার হোটেল পৌঁছাতে দশ মিনিট লাগবেই  আর অনেক রাত হয়ে গেল শেষে খাবার 
শেষ হয়ে গেলে আজ উপোস থাকতে হবে কারন তো তুই জানিস আসপাসে তেমন কোনো
ঘরোয়া রান্না করে এমন খাবার হোটেল নেই,  আমি তো 
জানিস পেট রোগা লোক ভুলভাল কিছু খেলে পেট নিয়ে ভুগতে 
হবে অফিস কামাই আরো কত ভোগান্তি, তুইও যা খাওয়া সেরে 
নে কাকামা হয়তো বার চারেক তোকে খবার জন্য ডেকেছে আমি
হলফ করে বলতে পার, তুই তো আবার খাবার খেয়ে কাকিমাকে ধন্য 
করিস হাহাহা যাক পালাই বুঝলি পেটে ছুঁচো ডন দিচ্ছে মারাত্মক ভাবে।   
আজ পাঁচ দিন পর আবার        কলম নিয়ে বসলাম বুঝলি      মনি 
খুব ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি রে অফিস থেকে ফিরে, এরপর আর জল্ টাও 
নিয়ে খেতে ইচ্ছা করে না, আজ আসার সময় নারান দার দোকান থেকে 
রাতের খাবার নিয়ে ঢুকেছি, আর জ
যেন বেরতে না হয়, তার পর তোর সাথে থিক করে চিঠিতে কথাও
বলা হয়ে উঠছে না, আজ ভাবছি তোকে লেখা টা শেষ করে কাল পোস্ট করব
আচ্ছা শোন না তুই কি ব্যাস্ত? তাহলে একটু পরের দিকে কথা বলি, 
ওহ তোর তো এখন ফ্রি সময়, জানিস আমি কিছু ছবি আঁকা শুরু করেছি
পোট্রের্ট তোকে পাঠাব দেখে বলিস কেমন হচ্ছে, আজ একটা মজার ঘটনা হয়েছে৷, মনি জানিস অফিসে পলাশ আর সোফিয়ার মধ্যে  যে পুর্বরাগ এর পর্ব চলছিল
সেটা আজ পরিনত হল প্রেম নিবেদনের প্রস্তাবের মাধ্যমে,  
জানিস মনটা বেশ ভাল লাগছিল ওদের দুজন কে দেখে অফিসে সাবাই হুল্লোড় করছিল ওদের নিয়ে 
আর আমি চুপচাপ ওদের অন্তমিল দেখছিলাম এক তৃপ্তী ওদের চোখ জুড়ে মুখে ফুটে উঠছিল, 
যাক ওদের কথা তো গেল এবার তুই বল আজ কি করলি সারা দিন বিকেলে আমাদের বাড়ি গিয়েছিলি
ছোটকার কাছে অংক করতে?  মা নিশ্চয়ই কিছু একটা ভাল জলখাবার খাইয়েছেন ইস খুব মিস করি 
আর তোর ওপর এই সময় হিংসা  হয় আমার মা আমার বাড়ি আর আমি বিদেশ বিভুইয়ে, আর সেখানে  
তুই কিনা আমার মায়ের আদর খাচ্ছিস বিকেলের তোয়াজ করে ভাল ভাল জলখাবার খাচ্ছিস, 
দাঁড়া এবার দুর্গাপুরে ফিরে আমি সোজা তোদের বাড়িতে লোটাকম্বল নিয়ে উঠব আর কাকিমার কাছে 
আদরে যত্নে থাকব কয়েকদিন আর তুই মোটেই ভাগ বসাবি না তখন, আমাকে কেউ ভালবাসুক সেটা আবার
তোর সহ্য হয় না হিংসুটি ক্ষ্যেপি,  ওই শোন রাগ করবি না কাতুকুতু দেব কিন্তু বলে দিচ্ছি,  
আর বল কি করছিস আজকাল নতুন কিছু গল্পের বই শুরু করলি? 
আমি রোজ রাতে পুর্নেন্দু পত্রি মহাশয়ের কবিতা পড়ছি দু একটা, 
জানিস ভারি সুন্দর লেখা রে পরে সময় পেলে পড়ে দেখিস ভাল লাগবে, 
নয়তো ভাবছি এবার বইমেলায় তোকে আর মা কে নিয়ে আসবো কলকাতা
মা এর সব গল্পের বইগুলো বহুবার পড়া হয়ে গেছে, নতুন কিছু বই মা কে বলব
পছন্দ করতে আর তুইও কিছু বই কিনে নিস, এবার তোর জন্ম দিনের উপহার বই।
চল আজ এবার শেষ করি বুঝলি ক্ষ্যাপি,  রাত হল খাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি একটু 
ঘুমাতে হবে কাল একটু সকাল  সকাল  বেরতে    হবে রে মর্নিং সিফট ধরতে হবে 
চিঠি পৌছালে বড় করে লিখবি কিপ্টেমি করবি না,  ভালি থাকবি জানি 
আমিও ভাল আছি, শুভ রাত্রি 
     ................................ ইতি বাবাই দা 
                               

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

একা আজও কেন

তুমি বললে, ভালোবাসো ,  বাসলাম
তুমি বললে, আমার , 
যন্ত্রণায় কষ্ট পাও তাই পেলাম
সমস্ত জমানো  জমা পুঁজি তুমি বিলিয়ে
,  দেওয়া ভালো বললে
তাই বিলিয়েও দিলাম দ্বিধাহীন হয়ে,

তবু আমি একা কেন  বলতে পার ?
 তুমি আমাকে একা করে এত সুখ পাও !
আমার একাকিত্বটুকুতেও ভেঙে চুরে শত টুকরো করে বীজ বপনের মতো ছড়িয়ে দিয়েছ জলে-স্থলে  শহরের আনাচে কানাচে, 
তুমি বলেছিলে বলে চোখের জল ফেলা  ছেড়েছি, ছুঁড়েছি সমস্ত অভিমানী বেলা দুরান্তে।
যে আকাশ দেখিয়েছ তারই গায়ে ক্রমশ  মেঘ  ঢেলেছি দিনের শেষে, 
যখনই পেতেছ হাত দিয়েছি উপুড় করে  যথাসাধ্য আমার আয়োজন,

তবু দেখ  আমি একা। তবুও আমার কেউ হতে
পারেনি তুমি, আমিও তোমার কেউ হয়ে  উঠিনি।
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে, সেতু 
ভেঙে গেছে কেন বলতে পার ? বলতে পার আমি
কেন ক্রমশ একাকিত্বের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছি ?

আমার হত্যাকারীদের

ইবলিস আদমকে ক্ষমা করে ছিল কিনা 

জানি না জানি না আদম কি করেছিল ,

আমি চিরকাল বিচারকদের মধ্যে সবচাইতে নির্মম-নিষ্ঠুর-নির্দয়-নিরাবেগ-নিরাসক্ত!

আমার সমস্ত সংখ্যায় সংবিধান থাকলেও উনপঞ্চাশতম অনুচ্ছেদ আমি সযত্নে বিলুপ্ত করেছি,

আমার স্থির সালোকসংশ্লেষকে যে প্রথম

অস্থির করেছিল আমার ঠোঁটে রেখিছিল

খরস্রোতা চুমুচ্ছ্যাস আর আমি মুহূর্তে 

যৌবনজানলায় উঁকি দিয়ে অবান্তর ভেসে ছিলাম

স্বপ্নে , তার পর একদিন আমায় না জানিয়ে আমাকে হত্যা করেছিল সে জন  ,

যেদিন জেনেছিলাম  সেই হত্যার কথা পৃথিবীতে যত জ্বালানি ছিল তার ওপর নিক্ষেপ করে দাউ দাউ আগুনে  তার ঠিকানায় পাঠিয়েছিলাম মৃত্যু পরোয়ানা  তাকে বাধ্য করে ছিলাম আগুন দিয়ে আগামী  প্রতিটা কাব্যের মুখবন্ধ লিখতে ।

তার পর সে যতবার চেয়েছে ক্ষমা তাকে ফিরিয়েছি শূন্য হাতে ।

আরো একবার , আরো একবার যখন আমি হত্যা হই ,

তার আগে সে জন আমার শরীর জাগিয়ে 

স্পর্শ করেছিল সমস্ত ঋতু ,বসন্তের নতুন পল্লব

আসা মাত্রই পুনরায় সেই নির্মম হত্যা, এবার সে ক্ষুরধার অবহেলা দিয়ে আমায় হত্যা করেছিল,

ভূমিকা বদলে ফিরে আসি ন্যায় করবো বলে নিজেরই সাথে, আমি সেই হত্যাকারীকে জীবন্ত

লাশ হিসেবে দেখবো বলে তার আঁকড়ে বাঁচা শব্দ মহলের এক একটি ইট খুলে নিয়েছিলাম

আর গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম  ,তারপর সে শব্দ

বঞ্চিত হয়ে মরে গিয়ে বেঁচে ছিল ।

হত্যাকারী কে ক্ষমা করতে পারে ম্যাগনিফিসেন্ট 

সাইফের , আমি বারংবার হত্যা হওয়ার পর আর 

ক্ষমা করিনি কোন স্পর্শ জাগানো হত্যাকারীকে ,

আমি বারংবার হত্যা হয়ে বুঝেছিল

একটিমাত্র ক্ষমায় হাজারও অপরাধের জন্ম হয়।




শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

ভুলে যাওয়া যাক

উত্তরত্তর আজ আজ কাল আমি অসহ্যকর
হয়ে উঠছি,  তুষের আগুনে   পোড়াচ্ছি 
সমস্ত জমা পুজি  , বাইরের দরজা
জানালা গুলো   খুলে সেখানে ইঁট সিমেন্ট 
গেঁথে নিরদ্বিধায় মৃত্যু জাজিম বিছিয়ে আড়াল 
করছি আকাশ,  আসলে আমার আকাশ ছিল না
পরাশ্রয়ী হয়ে গেছি তাই কখন জানি না, 
তোমার কাছে স্নেহের মত কিছু সংপৃক্ত দ্রবন্ টুকু 
ছাড়া দাবি ছিল না তেমন কিছু,  তবু আজীবন আমার 
শিরদাঁড়ায় ব্যাথাটা রয়েই গেল,  তোমার সন্তান তোমার 
চতুর্ভুজ তোমার শব্দ মহলের সাত মহলা,  আমার শুধু জমি 
পুড়তে থাকা চীতার মাপে,  
মনে আছে একদিন শহরে ভিজবো এক সাথে আমরা 
কথা দিয়েছিলাম,  আমি তোমার সাজান সংসারের বাইরে 
একই শহরে ভিজি প্রবল বর্ষনে পুড়ি দাবদাহে,  ক্ষিদে তে 
পেটে কাপড় বাঁধি সেই কবে থেকে,  আমি কিন্তু মোটেও 
তুমি পাগল নই  শুধু অংকে কাঁচা হিসেব টা আমার  গুছিয়ে 
শেখা হল না এ জন্মে,  জন্ম আর আছে কিনা আমি জানতেও 
চাইনি কখনো.... চাওয়া গুলো এখন আমাকে ছাপিয়ে আকাশের 
সামিয়ানা খুঁজে নিতে পারে এই আধারটা এখন আর তাদের 
প্রয়োজন নেই,  মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে আমার স্মৃতিভ্রম অসুখ 
হলে ভাল হত এই রোদ বৃষ্টি  চাঁদ সূর্য কিছু মনে রাখার দরকার হত না, 
                   

আমার পথ

আমার হাতে কোনও শৃঙ্খল ছিল না,
বন্ধন ও  নয়, ছিল না বিদ্রোহ 

তবু, এতদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা সভ্যতাএক 

দমকা বৃষ্টিতে  কীভাবে ধুয়ে গেল।

আর ওই  যে বিশাল

সাপের মত ক্ষ্যাপা নদী

  আমায়  ভাসাত   তা আমি জানতেও পারিনি 

 কখনো । সেই অর্গল সজল উচ্ছল

গাম্ভীর্য সারাদিন, সারারাত আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলত এক কিনারা থেকে আর এক কিনারা।

সে সময় ভেসে গেছে  আমার  আবরণহীন  

দুঃখগুলো ভাসতে ভাসতে আমি পড়তে শিখেছিলাম গাঢ় দীঘিকার  সজল তোমার দু চোখের ভাষা, আমি শুনতে 

পেতাম সমুদ্রের নাভি থেকে উঠে আসা 

চাপা জললিপির ভাষা বাউলের এর গলায় তোমার গান, দিশেহারা, ওলোট-পালোট ঢেউয়ে

আমায় শীতলক্ষ্যার গভীরে  গার্হস্থ্য-সন্ন্যাস  সব পূরণ করতো ,

আর এখন জোয়ারে জোয়ারে  এ  আমাকে কোথায় নিয়ে চলেছে   আমার নীরবতা আমার ভাষা আমার যত্নে রাখা যন্ত্রনা আজ শহরের বুকে মজা নদীর মত, অরণ্যে অহল্যার মত ।



স্মৃতি

পুরনো জমায় লেগে ছিল আমার  তোমাকে নিয়ে যত অহংকার, যেন কবেকার শুকনো গোলাপ ।

কখন কোন কাল তার  বহেবিয়ান স্বভাবে দিয়েছিল কোন এক বসন্তে না হয় শীতে , হয়তো বা এমন কোন বর্ষণে,

অহংকারে র  মৃতদেহে এখন আর  পাঠযোগ্য  তেমন স্মৃতিচিহ্ন নেই ।

স্মৃতি কি ?  কি  আছে ? স্মৃতি  গুছিয়ে রাখা আবেগ  হেঁটে আসা পথ আর পথিক?

যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত আজ কাল আমি তেমনটা একদিন তুমিই চেয়েছিলে 

সামান্য, আলাপচারীতা  আর বাকি শব্দহীন সময়,

আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল তুমি জান,

দমকা হাওয়া যেন লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি,
ওলোটপালটে প্রলয় নাচন।

দুঃখেরও দুপুরের গায় আজ কাল তোমার হিসেবি জীবন আমার হওয়া বদল করে -ভৈরবী  সুরের ভেতর পথ খুঁজে নেয়,

আকাঙ্খার ডানাগুলি মিশে গেছে আকাশের গভীরে যা একদিন ভালোবাসায়

জন্ম নিয়েছিল অভ্রে ও আবীরে আগুনের মত 

জ্বল জ্বল । দিনগুলি মিশে গেছে সদ্যজাত

অবহেলায় ঘাসের সবুজে আজ ফ্যাকাসে ব্যর্থ কাব্য  প্রিয়তম তোমাকে কখনো ভাষায় বোঝাতে

হবে এ মন তেমন কথা ছিল না ,তাই মিশে গেছে সমুদ্রের ভিতরের নীলে  

আমার উচ্ছল শব্দ মহল,

 বড় উচ্ছৃঙ্খল, যাতনা আমার ব্যাধের মতন  অরণ্যের আদ্যোপান্ত হন্যে হয় বেড়ায় ।

অথচ  গত কাল বা পরশু কে ডেকে  

দিয়েছিল আমায় সামান্য অহংকার

কিছুতে মনে করে  বলতে পারবোনা ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

সেই নারীর মত প্রেম

মাঝরাতে সেই নারীর শরীর জুড়ে ডজন খানেক

হাত  গজিয়ে ওঠে গজিয়ে ওঠে ঘুমিয়ে

থাকা অকুলান সব আগ্রহরা , নারী তখন আগুন মুখি চণ্ডালিনী , 

আকাশের অগাধ দূরত্ব টেনে এনে সে তার প্রেমিকাকে মুড়ে ফ্যালে ঈগলের ছায়ার মত ,

মরুভূমির বালি ঝড়ে  নিজেদের  উড়িয়ে নিয়ে চলে বারংবার ,
ওর সারা শরীরে বিদ্যুৎ  নানা রঙের্‌ অজস্র চুম্বনে চুম্বনে  সঙ্গমের   রাঙঝাল দিয়ে নিজের বুকে জুড়ে নেয়
দেহের আনাচে কানাচে কামরাঙ্গা রঙের ফাটলের  সঙ্গীত কেঁপে কেঁপে ওঠে অগুনিত অধ্যায়ে, আর বিস্ময়ে প্রেমিক কোনো কুলকিনারা পায় না
সে নারী  বলে, ক্ষোদিত, করে রাখ হে জন্ম জন্মান্তরের প্রেমিক এই  কুলকিনারাহীনতাই প্রেম...

তোমায় শিখিয়ে দেবে আগুনও আগুনে পোড়ে ,তবু জড়িয়ে থাকে আগুনকে। 

নিশান



পুড়িয়ে ফেলি নিজের শরীর রোজ আগুনে
আমার শহর লুকিয়ে রাখে গোপন ক্ষত সংবাদ,
শর্ত ভেঙে ছুটে আসে হারানো যত আগ্রহ,
শহরে মন খারাপ ওড়ে বন্ধু হাওয়ার মত
বৃষ্টি মেখে পিচরাস্তা আজ পিচ্ছিল, তেজ
পাতা রং মন যেখানে সেখানে রাখা যায় না ,
উড়ন্ত এক চাঁদের ফালি বুকের নিচে রাখতে
চেয়ে দীর্ঘ রাত জেগে কেবল মেঘের সাথে সহবাস
করে এযাবৎ কেটে যায় ।
ঝুল বারান্দা  সাদা থামের ঠিক পাশে তার কবিতার
খাতায় আমি চিরকাল হয়তো থাকতেও পারি 
তবু সেই কি থাকা , যে থাকায় কেবল ছবির
মত কথোপকথন মৃত সংলাপ ,
আমি আজ কাল নিয়মিত নিমতলার গঙ্গা য়
ভাসতে দেখি নিজের ছায়া ,অবাক হই কে আমি 
চিনতে পারি না ,সমস্ত অবয়ব এক অন্য মানুষ 
যার ভেতর আমার নিশান নেই ,
নিয়ম মেনে বাজার দরে বেঁচে আছে যে  সে কি
আদৌ জীবিত , নাকি ছায়া অবিকল জীবিত র মত ।


সে জন

কেন জানি কথারা সব হারিয়ে গেছে কোন অভিমানী বেলায়

 পাখির ঠোঁটে নিঃশব্দে কুড়িয়ে নেওয়া অবহেলা ,
আসলে আয়োজন নিঃশেষে মুছে গেছে ,,আলোকবর্ষ দূরে আজ ইচ্ছামতো আমাদের স্বপ্ন গুলো,একটি নীল অন্ধকারে ঘুম ঘরে হাঁটছি জীবন পথ,

আসলে কথারা এসে ফিরে চলে গেছে সেই
গহীন সবুজে সবুজে রাখা নতুনদের ভিড়ে,

একদিন ব্যস্ত রোজমানচা থেকে ফিরে এসে সেই শিলালিপি পাঠ করো তুমি,

 শুনতে পাবে  শিলালিপি ভরে আছে
পাথরের বুকে নির্ঘুম রাত হয়ে 

হাজার সভ্যতায় আমার মত কেউ কেউ ।

  মৃততিতিরের ঠোঁটে কোন সে শব্দের 

অনুরণনলেগে আছে লক্ষ বছর ধরে-কান পেতে  শোন,
চলো গিয়ে বসি সেই শব্দহীন তিরতির  বহতা সময়ের কাছে

চলো, শুনি, কী কথা বলার ছিল  অবহেলা সময়ের ,

সে-ও তো অনেক কথা জানে  উজানে, ভাঁটির টানে বলে ব’য়ে গেছে কান্নার 

শব্দহীন হয়ে , তার পর নাহয় আর এক

জন্ম খুঁজে নেব কেবল মুখোমুখি হয়ে থাকার ,

তারও পরের জন্ম গোধূলী মেখে শহর হাঁটা ,

বাকি যদি মনে পড়ে কিছু লিখে রেখে আগামীর 

চিরকুটে ,।

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

তোমার হাতেই

এই নাও ধারালো ছুরি বুকের গভীরে গেঁথে দাও,
আমি বিন্দুমাত্র আক্ষেপ না করে স্থির স্থবির হয়ে থাকবো তোমার ঐ দু চোখের দিকে 
আমি অযুত বার ব্যর্থ হয়েছি ভালোবাসায় , আরো একবার নাহয় ......
এবার না হয় আমার রক্তের স্রোতে ভাসুক একটা সভ্যতা  , সেদিন তুমি আমার হত্যার  উল্লাসে মেতে
উঠেছ আজীবন , আমি চিরকাল তোমার তপস্যায়
লীন অথচ আজই তোমার চুড়ান্ত যাতনায় আমিও ইতিহাসে , 

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

তোমার ভেতর

শহরের বুক চিরে হাঁটতে হাঁটতে তোমার মনের
ভেতর একদিন ঢুকে পরে ছিলাম দেখলাম সারি
সারি মুখোশ পরা অনেকগুলো চেহারায় কারা যেন
দাঁড়িয়ে আছে ......
আরো একদিন শহরের চোখে চোখ রাখতে গিয়ে দুটো চোখে আমি  আটকে গিয়েছিলাম, যেন 
ঈগলের মত  দৃষ্টি র আড়ালে  অজস্র চাপা
রক্তপাতের ক্ষরণ ।
এক রাতে এই শহরের অন্ধকার বোনা দেখতে দেখতে অজস্র অচেনা গলি পেরিয়ে একটা চেনা
গলি চোখে পড়তেই  চামড়া পুড়তে থাকার গন্ধ পেয়েছিলাম ,পেয়েছিলাম বেশ কিছু হৃদয় পুড়তে থাকা এক মাংসাশী গন্ধ ,  জোনাক ছিল না শহরে বারুদ জ্বালিয়ে আগুনের ওপারে দৃষ্টি হাতড়ে দেখতে পেয়েছিলাম অগুনিত সম্পর্কে নৃশংস হত্যা, সে সব সম্পর্ক খুবলে খুবলে কে যেন পোড়াচ্ছে চিতাকাঠের আগুনে ........ভালোবাসা র
তিলোত্তমা য় তাই এখন সব সম্পর্ক  বোধহয়  মৃত ,
একদিন ভোর রাতে পথ চলতি সম্পর্কের গভীরে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম ,যে সম্পর্ক গুলো এযাবৎ
হত্যা হয়েছে তাদের জন্ম দিতে  যত সামান্য মূল্য ব্যায় হয়নি  ,বড় সহজেই পাওয়া ছিল সম্পর্কগুলো,
তাই তারা প্রত্যেকে ধীরে ধীরে ব্রাত্য হয়েছে একদিন ,
এক সূর্য সকালে সব শব্দরা ঋণী করতে পারে ,
হাঁটু মুড়ে  নতজানু হয়েও কি সেদিন অহংকার বলবে ....বিনা মূল্যে যা কিছু পাওয়া হয়েছিল যা
কিছু অহংকারে অবহেলা শব্দহীন ভাবে হত্যা হয়েছে তা মোটেই নিঃস্ব করেনি তোমার শহরকে !

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

আমিও ম্যাকবেথ

তোমার দিকে বন্ধ দরজাটা ফিরিয়ে দিলাম
ভীষণ বৃষ্টিদিন আজ... ঝড়ে উড়ে যাচ্ছে 
ক্ষত মেলে ধরো ডাকের সাজে
অর্থহীন নিষিক্ত আঘাত,
ঋতু বিনিময় হয়ে ছিল আমাদের যে স্বপ্নে
সেখানে এখন গুটিয়ে রাখা খরম রুগণ দিঘির পাড়ে... জলপটি দেওয়া কাপড়টা আর একবার ভিজিয়ে নিয়ে কপালের ওপর বেঁচে থাকার চেষ্টা মাত্র,অন্য জন্মের রেশ রয়ে যাওয়া বাঘনখ আমি স্পষ্ট দেখতে ও বুঝতে পারি ,স্মৃতির কাঠামোয় মাটির প্রলেপ... অন্ধকার শব্দ-ছায়া স্বরযন্ত্রের ফাঁকে অপেক্ষা গুঁজে রাখতে রাখতে আমি ক্রমশ নীচের দিকে নেমে চলেছি শ্বাসমূল হাতে। তোমায় মনে পড়ছে আজ সারাদিন ধরে ... সন্ধ্যের মুখোমুখি অগুনতি স্থবিরতা চরাচর জুড়ে রঙ এঁকে চলেছে হৃদয় ঘুলঘুলিতে ,,লাল হলুদের সাথে মিশে যাচ্ছে নিঃশব্দ বৃষ্টিবিন্দু। কবেকার ফেলে আসা হারানো অতীত আজও অধিকার বোধে আঁকড়ে ধরছে চিত্রাঙ্গদার চুপি চুপি ঘুমিয়ে পড়া শরীরটাকে। রেনকোর্টের গা থেকে বৃষ্টিবিন্দু মুছে নিতে নিতে ভাবছি সেদিনও শেষ প্রহরে হয়তো এভাবেই কালপ্যাঁচা ডেকে উঠেছিল...আমার দু-চোখ বেয়ে সন্ধ্যা নামছে... তুমি হয়তো কখনো বুঝতে চাও নি, কেবলই মুড়ে নিচ্ছ নীলগ্রহের নিশ্বাস।। আমায় পুড়িয়ে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছ
একদিন কালের স্রোতে।

মেঘেদের মত

মেঘেরা ভিনদেশি হয়... ভিজিয়ে যায় শহর, মন 
হঠাৎ আসে অভ্যেসি হয়ে ,বিচ্ছেদে ও সে দাগ রেখে যায় ,মন বলে অপেক্ষা য় থাকবো আবার কবে আসবে তুমি, এবার যেদিন আসবে তুমি উপচে এনো বসন্তরাগ, একটু যেন বেশিই হয় আর সবাইকে যা দিচ্ছ তুমি তার থেকে একমুঠো বেশি , এ কবিতা শেষের দিকে ভালোবাসার শেষ বেলায়,
এই বিচ্ছেদও পড়বে মনে হঠাৎ ভাংগা ঘুমের মাঝে, তুমিও তখন একলা রাতে আমার মতই বারান্দাতে উপচে পড়া অন্ধকারে হাতড়ে নেবে স্মৃতি যত   ,  আমার সব কবিতা তখন তোমার কাছে বাচাঁর খোরাক, বন্ধ ঠোঁটে আলতো হাতে বলবে আমায় শাস্তি দে ইচ্ছে মত, আমিও সেদিন 
থাকবো পাশে দেওয়াল জুড়ে কোলাজ হয়ে বলব সে দিন কানে কানে ভালোবাসার নাম কি হল শাস্তিই যদি বিচার  হয়।         





সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০

প্রত্যুত্তর

নিজেকে এত বেশি বিলিয়েছি তাই ভাঙতে পারলে আমায় , মূল্য দিয়েছি তাই ভাঙতে পার খুব সহজে ,
যতটা গুরুত্ব দিয়েছি ঠিক , ঠিক ততোটাই অবহেলিত আজ । ভালোবেসেছি যতটুকু কেঁদেছি ততটুকু , সুযোগ দিয়ে অধিকার দিয়ে আঘাত নিয়েছি বারে বারে , যতটুকু পেয়েছি ততটুকুই যদি ফেরাতে পারতাম তাহলে চুরমার হতে হত না ।,অথচ হাঁটু জলের পরিবর্তে গলা জলে নেমেছি ডুবতে তো আমাকেই হবে নিশ্চিত , বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে কখন যেন নিজেই অত্যন্ত সস্তা হয়ে উঠেছি ,। আমার মত যে অধিকার ,সুযোগ ,গুরুত্ব দিয়েছে তার বরাতে অবহেলার আঘাতে আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ তো হবারই কথা ,এক আনা পাওয়ার যোগ্যতাকে ষোলআনা দিলে মাশুল তো নিজেরই প্রাপ্য ।


রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০

বলতে চেয়েছিলাম

বলতে চেয়েছিলাম পারলাম কই, কত কথা বলা
হল এযাবতকাল তবু যেকথাটা বলার জন্য নিয়মের ভাংচুর গল্প সে কথা আজো বলা হয়ে ওঠেনি,  বলতে চেয়েছিলাম আমায় স্পর্শ দাও যে  
স্পর্শ খোঁজে আমি এক মুহুর্ত পারিনি কোথাও থিতু হতে, বলতে চেয়েছিলাম অনন্ত পৃথিবীতে সবাই স্বার্থপর  একবার নিঃস্বার্থ স্নেহময় হয়ে আমার সামনে দাড়াও,  বলতে পারিনি আমায় ভালবাসে একটা জীবন উপহার দাও, যে জীবন
মুহুর্তে মুহুর্তে আমায় সবুজ করে বাঁচতে বলবে, 
পারলাম কই বলতে সমস্ত সাম্রাজ্যের বিনিময়ে তোমাকে পেতে চেয়েছি যখন তখন আর ফিরর তাকিও না সাজানো সাম্রাজ্য,  পারিনি আমি পারিনি এমন অনেক কিছু   যাখুব সহজে প্রত্যেকেই পেয়ে থাকে, আমি তো এটুকুও বলতে পারলাম না  আমি তোমার শহরে ধুলোবালিতে হাঁটতে হাঁটতে রোজ অন্ততপক্ষে তোমার মুখটুকু দেখতে পাই,  আমার আর তেমন ভাবে এখন কিছুই আর বলার মত নেই তাই আমি সমস্ত দরজায় খিল তুলে নিঃশব্দের শব্দ শুনতে শুনতে 
রাত দিন কিংবা প্রহর কাটিয়ে ফেলি, মনে মনে ভাবি আমার এ জন্ম টা না হয় এই বলতে না পারা বোবা টানেলেই ফুরিয়ে যাক, তোমাকে এরকম কয়েক জন্ম আমি অনায়াসে দিতে পারি, 
তবু বলতে পারলাম কই আমার কষ্ট হচ্ছে, আমার কষ্ট হচ্ছে তোমার এই সামাজিক নিয়মের আড়ালে সমস্ত সুত্র মেনে নিতে।                                  

সত্যি

শহর ময় ধোঁয়া হয়ে মিশে যাই রোজ রোজ, 
দেখতে পাই হাজার সম্পর্ক মৃত শরীর আঁকড়ে
জমা হয় কত শোক,  অথচ মৃত মনের জন্য 
কখনো চোখ ভেজেনি কোন সম্পর্কের,, 
সে কথা জানা আছে সকলের তাই অযথা এ শহরে
স্বান্তনা দেয়  না কোন প্রেমিক মন,  হাজারো ভিড়ের মাঝে লোক দেখানো মিথ্যে হাসি, মিথ্যে কাছে থাকাথাকি, বুঝি না  আমরা এই মিথ্যে অজুহাতে
টুকরো টুকরো যন্ত্রনা কখন কিভাবে হ্রদয়ে আস্তানা করেই ফেলে..... 
শুন্য এই পৃথিবীতে দু কথা বলা  কথা ভাবতেই দেখি চারপাশে নির্জনতা ছেয়ে রয়েছে, কখনোবা শব্দ
আঁকড়ে দু এক কথায় খুঁজে নেওয়া ভালবাসা গুলো নিতান্তই পোষাকি। আসলে আমরা প্রতিটা 
মানুষ সম্পুর্ন আলাদা, একথা   জেনেও অবিকল নিজের মত কাউকে খুঁজতে জীবনভোর কাটিয়ে দিই, কখনো যদিবা পথ চলতি তার দেখা পাওয়া হয় হয় দুচার কথা বিনিময় মুহুর্তে  আমাদের পরজীবি প্রত্যক্ষ হয়ে সামাজিক হতে ব্যাস্ত হই, ভীষণ রকম ভয় পাওয়া চেহারা তখন আমাদের   । 
বহুবার এসব ব্যাস্ত সাম্রাজ্য রাজা রানির পুতুল খেলা নেড়ে ঘেটে দেখেছি অবশেষে ছেড়া ছেড়া 
শুন্য থাকে হাতের মুঠোয়, 
উত্তরের বারান্দায় ছমছম অন্ধকারে চেয়ে দেখি এর থেকে সত্যি আর তো কিছু নেই।  সমস্ত আসার একদিন যাওয়া থাকবেই, সমস্ত আলোয় নিভে যাবে নিয়ম মেনে  জোনাক রা একদিন থাকবে না 
দেশলাই কারখানা গুলোও হারিয়ে যেতেই পারে কালের স্রোতে, শুধু অন্ধকার ঘন হতে থাকবে সেদিও, প্রতিটা সকাল ফুরিয়ে গেলে তাই প্রতিটা শোকের রং মিশকালো অন্ধকার।                             

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

বাহাত্তর ঘন্টার বেশি

অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেল খবরাখবর
ছাড়াই যেমন আগেও পার হয়েছে বছরের পর
বছর দিন গুলো ,  
একই শহরে বাহাত্তর ঘন্টার বেশি নাকি সময়ের
কাঁটায়  অসময়ে   হয়ে চলে যাচ্ছি টিক টিক, টিক 
টিক,.... 
আমাদের দেখা হবে না জানতাম,  পথ ভুলেও
একই পথে মুখোমুখি আজ কাল সময়ের হত্যার মত মনে হয়,  আমার অসুখ হল কিংবা মনের অসুখ তোমার আর তেমন কিছু নাই বা এসেগেল,,  বাজারের থলি হাতে কেতাদুরস্ত সংসারী কখনো মাছের দোকানে, 
কখনো ওষুধের দোকানে তুমি দায়িত্বশীল অংগিকার বদ্ধ,৷  অথচ একই শহরে গত বাহাত্তর ঘন্টা কিংবা তারও বেশি.... শর্তহীন অপেক্ষায় কেউ কেউ অভ্যস্ত হতে থাকে প্রচন্ড নির্বাক হয়ে, 
আমরা মুখোমুখি নই অকারণের হাজারো কারন এর আড়ালে লুকনো অবহেলা, 
কবেই মৃত প্রমানিত হয়েছিল সমস্ত অনুরনন, শুধু মানা হয়নি   হৃদয় থেকে,  ভালবাসা এখন অশ্রাব্য তাই সত্যি বলে কিছু হয় কিনা কজন বলতে পারে?  কজন বলতে পারে বুক পোড়ে দাউ দাউ করে তার নাম বেঁচে থাকা  কিনা!  আসলে ভালবাসার মানুষই হয়তো নির্দিষ্ট হয় না সারাজীবনে,...... তাই আমরাও অপ্রেমিক অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটা শিখে নিচ্ছি। 
গত বাহাত্তর ঘন্টার বেশি অসময় হয়ে একই শহরে.... জ্যায়সে কোই আজনবি হো তুম অর ম্যায়....,  ঘর খুঁজছি অথচ থাকার অভাব ছিল না কোন কালেই,  আসলে জানোইতো ঘর একটাই হয় বাকি সব তো শুধুই থাকার জায়গা মাত্র, 
গত বাহাত্তর ঘন্টায় নিদেন খবরটুকু নেওয়া বড় অপ্রাসঙ্গিক আজকাল।                                          

প্রত্যুত্তর


নিজেকে এত বেশি বিলিয়েছি তাই ভাঙতে পারলে আমায় , মূল্য দিয়েছি তাই ভাঙতে পার খুব সহজে ,
যতটা গুরুত্ব দিয়েছি ঠিক , ঠিক ততোটাই অবহেলিত আজ । ভালোবেসেছি যতটুকু কেঁদেছি ততটুকু , সুযোগ দিয়ে অধিকার দিয়ে আঘাত নিয়েছি বারে বারে , যতটুকু পেয়েছি ততটুকুই যদি ফেরাতে পারতাম তাহলে চুরমার হতে হত না ।,অথচ হাঁটু জলের পরিবর্তে গলা জলে নেমেছি ডুবতে তো আমাকেই হবে নিশ্চিত , বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে কখন যেন নিজেই অত্যন্ত সস্তা হয়ে উঠেছি ,। আমার মত যে অধিকার ,সুযোগ ,গুরুত্ব দিয়েছে তার বরাতে অবহেলার আঘাতে আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ তো হবারই কথা ,এক আনা পাওয়ার যোগ্যতাকে ষোলআনা দিলে মাশুল তো নিজেরই প্রাপ্য ।


রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

একটা ভোর আসবে বলে

একটা ভোরে সে আসবে বলে

দাঁড়িয়ে আছি
ভরা বর্ষার  বৃষ্টি ছাঁটে,
রক্ত চোখে গড়িয়ে  নামে 

বুকের পাঁজর ভাঙতে ভাঙতে,

একটা ভোরে সে আসবে বলে

অনেক কথা আটকে আছে বুকের মাঝে ,।

অনেক  হাত রাখতে দিইনি এই বুকে ,

ব্যর্থ হাওয়ায় উড়ে গেছে নরম

আদর , নিজের মতো একলা বিকেল
হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে,

একটা ভোরে সে আসবে বলে

একলা মেয়ে পথ আটকালো হাজার  থাবার

বুকের আঁচল উড়িয়ে দিল নষ্ট হাওয়ায়  নিরুদ্দেশ,

একটা ভোরে সে আসবে বলে

জ্বলছে শহর  রক্তচোখে ,মিছিল থেকে মিছিল 

অবধি রাজপথে  আজ ধ্বংস 

লেখা হওয়ায় হওয়ায় ,

একটা ভোরে 

 সে বলে  দাঁড়িয়ে আছি ফুটপাতে  আবার,

দাঁড়িয়ে আছি
পচাগলা লাশের সাাথে
আগুন চোখে পোড়াব বলে
দাঁড়িয়ে আছি নষ্ট পথে

তাাকে শুধু চিনব বলে দাঁড়িয়ে আছি

একটা ভোরে আসবে সে 

তাই বলে দাঁড়িয়ে আছি… 

বছর ত্রিশেক
                           

চেনা গন্ধ অচেনা মানুষ

হৃদয় পুরের ঝুল বারান্দায়
তোমায় দেখব বলেই আসি রোজ
কিছু জরুরী কাজের ক্ষতি করে,
যখন দেখা হয় রোজ তুমি 
থাক উদাসী হওয়ার মত 
.....................................
সংসার  ভাঙা মেয়েটি হঠাৎ   কিশোরী
হতে চায় অথচ ভীষন রকম
তোমার উদাসীন  চোখের চাওয়ায়
তার কান্না উপচে পড়ে।


( দুই)
আমার চেয়ে ভালো
তোমায় বসতেই পারে 
অনেকেই,
হতে পারে কিছু কম বা কিছু 
বেশি, 
তোমায়  যারা চায় তারা তোমার 
গরাদ শোক নিতে  চায় না ,
 বলো সত্যি কিনা ?
যেমন করে আমি চাই,
 আমি নই তেমন কোনো মহিয়সী 
চিনি শুধু  তোমার নীল
আকাশ, চাঁদ তার জ্যোস্নাকে,
তেমনিভাবে জানি আমি
শুধু তোমার   তোমাকে ।।
(তিন)
বছর কিছু  পর হঠাৎ  
নিকোটিন ঠোঁটে এলাচের গন্ধ
বুকে সুবাসিত রুমাল কেন বলোতো ?
বছর  কিছু আগেও এমন দিনে,ঠিক এমনই মুহূর্তে
ধুব ধুপ রৌদ্রে 
তোমার বুকের  ক্ষত-বিক্ষত
আহত দাগ গুলো আমাকেই 
দিয়েছিলে গচ্ছিত।
 (চার)
তুমি সেই 
বাউন্ডুলে যার গভীর  বুকে
এক দিগন্ত পথ 
রাখা ,তোমার পাাগল হাসিতে জন্ম নেয়
পবিত্র ভালোবাসা।
যার প্রেমে মন্ত্র মুগ্ধ আমি
চেয়ে থাকি অপলকপ
চোখের তারায়, ইচ্ছে হয়
বার বার জন্ম হোক আমার,,
 যাকে দেখলে ছুঁতে মন চায়না ভেঙ্গে যাবে বলে।
ইচ্ছে হয় কেবল
ছবি এঁকে তার কবিতা সাজাই,
মুখোমুখি কাটিয়ে 
দিই একটির পর একটি জীবন।।
( পাাঁচ )
আমার জন্য হাসো তুমি একদিন
অন্তত,
আমার জন্যই মনখারাপ কর
একদিন অন্তত ,
পদ্মপাতায় জল টলমল মন
রাখ  আমার মনের ওপর  ।
( ছয় )
মাঝেমাঝে মনে হয়
ভীষণ কালো কোন মৃত্য ব্যাধিতে
ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলুক  এই আমাকে।
তবু যদি পাই তোমার  ভালোবাসা
তবু যদি সবসময় ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা,
হয় তোমার সাথে,
এতটুুুকু  স্পর্শের প্রতিক্ষায়
আমার মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা বারংবার
(সাত)
ঘুমের ঘোরে হঠাৎ
চেনা গন্ধ নাকে আসতেই
 উঠে বসলাম পেলাম না দেখতে
যাকে পাবার আশায় চোখ 
মেললাম
চারদিক চাইলাম,সে নেই।
বুঝলাম, ও কিছু নয়,
ওটা  নিশি প্রেমিকের গন্ধ
মাত্র ,  বহুদিন আগে যে
 ঘর ছেড়ে হারিয়েছে
দূরে কোথাও বাতাসে
আকাশে  আমার ভেতর কেন 
সে আজ বন্দী ভৃত্যের মত ,বটের
ঝুরির মত  ,সামনে দেখি
জড়াতে পারি না।

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০

ভিন্ন ভালোবাসা

মিথ্যে অজুহাতে আমায় সারিয়ে দিতেই পার ,
ভাবতেও পার আমার হাসিতে তুমি যা বোঝাতে চাইলে
তাই বুঝলাম , আমি সেই বাউলের খোঁজে আজ কাল যখন তখন ছুটে যাই পথে পথে এলোমেলো বাতাস ফুঁড়ে খুঁজে চলি আমার ঊষর ধূসর বাউন্ডুলে মানুষ টা কে , কোথাও  হাতের বাধন
ছিড়তে পারে ভেবে মনের সাথে বাঁধা ছিল ,
কোন সে প্রলোভন তাকে হারিয়ে দিলো অজানা
অবগাহনের পথে , শরীর ছুঁয়ে দেখেছি সে আর নেই
আধারটুকু তে ,শব্দ জব্দের মেলায় বাঁচাটুকু নাহয়
বিকিয়ে যায় ....বড় অহংকারে সেদিন সে বাউল বলেছিল তোকে আকাশ দেব নদী র জল দেব দেব লালমাটির মেঠো গন্ধ , রাত ভোর তুই ছবি  আঁকিস আমি না হয় হব তোর তুলির ছন্দ ,
সেদিন সে বাউল কে বলেছিলাম আগে তিন সত্যি কর তোমার কথার নড়চড় হবে না , সে জাপটে ধরে বলেছিল বাঁচতে চাই ....তোকে ছেড়ে আমার 
একতারার ছিলায় সুরের জন্ম হবে কেমন করে ?
আজ পথের ধুলায় ,বাতাসের গন্ধে আর  সে বাউলকে
খুঁজে  পাই না, তার জন্যে হন্যে হয়ে বেড়াই ,যদি জানতাম সে যাবে ....যাবার আগে শুধু একটি জিনিস চেয়ে নিতাম তার ঝুলিতে আমার না হওয়া সংসার টুকু পড়ে রয়েছে যে , বাকি সব সে হয়তো অন্য কোথাও বিলিয়ে দেবে.... যেমনটি সে আমায় দিয়েছিল ,নদীর জল ,লাল মাটির গন্ধ ,একমুঠো আকাশ ,
শুধু আমার তার সাথে  না হওয়া সংসারটা সে চাইলেও যে দিতে পারবে না ...।

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

এমন ভাবে যেতে দিতে নেই

 

নিমিষে ছিন্নভিন্ন  ঢেউয়ের আঘাতে সব প্রয়োজন ভাসিয়ে

 দিতেই  পারো অনায়াসে , তোমার সাম্রাজ্যর দেওয়ালে

নখের আঁচড় যাতে না লাগে  এক ফালি  যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখ

নিজেকে খুব অনায়াসেই ,

ঠিক চাঁদ নই তবু কোন এক অপ্রয়োজনে  জনে  চৈতালি রাতে ভবঘুরের মত একটা বুক খুঁজে ছিলে , খুঁজেছিলে আকাশ , আকাশ না দিতে

পারলেও রেখেছিলাম একখানি জানালা … সে জালনা পেরিয়ে নিদেন আলো বাতাস খানিক্ টা রোদ্দুর এসে থাকত কোন  শর্ত না রেখে  ,  অস্থির স্নায়ুর শীতলার সাথে নানান গুল্ম ,কিংবা

বাহারি ফুল কে সাথি করে ক্রমশ তোমার জানালা বেয়ে তাদের স্বভাবত বেড়ে ওঠা ,একদিন একফালি  জানালাটার  দরকার  ফুরিয়ে যায়

 বন্ধ জানালাটা  সুসজ্জিত পর্দায় হারিয়ে ফেলে অস্তিত্ব ,মনে মনে

ভাবো বড্ড গুছিয়েই  তো রেখেছি , যত্নের  কম কিছু হয়নি ,

একদিন জালনাটার একটা জন্ম হয়েছিল মন্দবাসার উদ্দেশ্যে ………

একদিন জানলাটা মন্দবাসার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালো মৃত্যুর উদ্দেশ্যে,

কিন্তু এমন ভাবে যেতে দিতে নেই সেটুকু বুঝলে না ।