জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
চিঠি
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০
একা আজও কেন
তুমি বললে, আমার ,
সমস্ত জমানো জমা পুঁজি তুমি বিলিয়ে
তবু আমি একা কেন বলতে পার ?
তবু দেখ আমি একা। তবুও আমার কেউ হতে
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে, সেতু
আমার হত্যাকারীদের
ইবলিস আদমকে ক্ষমা করে ছিল কিনা
জানি না জানি না আদম কি করেছিল ,
আমি চিরকাল বিচারকদের মধ্যে সবচাইতে নির্মম-নিষ্ঠুর-নির্দয়-নিরাবেগ-নিরাসক্ত!
আমার সমস্ত সংখ্যায় সংবিধান থাকলেও উনপঞ্চাশতম অনুচ্ছেদ আমি সযত্নে বিলুপ্ত করেছি,
আমার স্থির সালোকসংশ্লেষকে যে প্রথম
অস্থির করেছিল আমার ঠোঁটে রেখিছিল
খরস্রোতা চুমুচ্ছ্যাস আর আমি মুহূর্তে
যৌবনজানলায় উঁকি দিয়ে অবান্তর ভেসে ছিলাম
স্বপ্নে , তার পর একদিন আমায় না জানিয়ে আমাকে হত্যা করেছিল সে জন ,
যেদিন জেনেছিলাম সেই হত্যার কথা পৃথিবীতে যত জ্বালানি ছিল তার ওপর নিক্ষেপ করে দাউ দাউ আগুনে তার ঠিকানায় পাঠিয়েছিলাম মৃত্যু পরোয়ানা তাকে বাধ্য করে ছিলাম আগুন দিয়ে আগামী প্রতিটা কাব্যের মুখবন্ধ লিখতে ।
তার পর সে যতবার চেয়েছে ক্ষমা তাকে ফিরিয়েছি শূন্য হাতে ।
আরো একবার , আরো একবার যখন আমি হত্যা হই ,
তার আগে সে জন আমার শরীর জাগিয়ে
স্পর্শ করেছিল সমস্ত ঋতু ,বসন্তের নতুন পল্লব
আসা মাত্রই পুনরায় সেই নির্মম হত্যা, এবার সে ক্ষুরধার অবহেলা দিয়ে আমায় হত্যা করেছিল,
ভূমিকা বদলে ফিরে আসি ন্যায় করবো বলে নিজেরই সাথে, আমি সেই হত্যাকারীকে জীবন্ত
লাশ হিসেবে দেখবো বলে তার আঁকড়ে বাঁচা শব্দ মহলের এক একটি ইট খুলে নিয়েছিলাম
আর গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম ,তারপর সে শব্দ
বঞ্চিত হয়ে মরে গিয়ে বেঁচে ছিল ।
হত্যাকারী কে ক্ষমা করতে পারে ম্যাগনিফিসেন্ট
সাইফের , আমি বারংবার হত্যা হওয়ার পর আর
ক্ষমা করিনি কোন স্পর্শ জাগানো হত্যাকারীকে ,
আমি বারংবার হত্যা হয়ে বুঝেছিল
একটিমাত্র ক্ষমায় হাজারও অপরাধের জন্ম হয়।
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
ভুলে যাওয়া যাক
আমার পথ
আমার হাতে কোনও শৃঙ্খল ছিল না,
বন্ধন ও নয়, ছিল না বিদ্রোহ
তবু, এতদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা সভ্যতাএক
দমকা বৃষ্টিতে কীভাবে ধুয়ে গেল।
আর ওই যে বিশাল
সাপের মত ক্ষ্যাপা নদী
আমায় ভাসাত তা আমি জানতেও পারিনি
কখনো । সেই অর্গল সজল উচ্ছল
গাম্ভীর্য সারাদিন, সারারাত আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে চলত এক কিনারা থেকে আর এক কিনারা।
সে সময় ভেসে গেছে আমার আবরণহীন
দুঃখগুলো ভাসতে ভাসতে আমি পড়তে শিখেছিলাম গাঢ় দীঘিকার সজল তোমার দু চোখের ভাষা, আমি শুনতে
পেতাম সমুদ্রের নাভি থেকে উঠে আসা
চাপা জললিপির ভাষা বাউলের এর গলায় তোমার গান, দিশেহারা, ওলোট-পালোট ঢেউয়ে
আমায় শীতলক্ষ্যার গভীরে গার্হস্থ্য-সন্ন্যাস সব পূরণ করতো ,
আর এখন জোয়ারে জোয়ারে এ আমাকে কোথায় নিয়ে চলেছে আমার নীরবতা আমার ভাষা আমার যত্নে রাখা যন্ত্রনা আজ শহরের বুকে মজা নদীর মত, অরণ্যে অহল্যার মত ।
স্মৃতি
পুরনো জমায় লেগে ছিল আমার তোমাকে নিয়ে যত অহংকার, যেন কবেকার শুকনো গোলাপ ।
কখন কোন কাল তার বহেবিয়ান স্বভাবে দিয়েছিল কোন এক বসন্তে না হয় শীতে , হয়তো বা এমন কোন বর্ষণে,
অহংকারে র মৃতদেহে এখন আর পাঠযোগ্য তেমন স্মৃতিচিহ্ন নেই ।
স্মৃতি কি ? কি আছে ? স্মৃতি গুছিয়ে রাখা আবেগ হেঁটে আসা পথ আর পথিক?
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত আজ কাল আমি তেমনটা একদিন তুমিই চেয়েছিলে
সামান্য, আলাপচারীতা আর বাকি শব্দহীন সময়,
আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল তুমি জান,
দমকা হাওয়া যেন লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি,
ওলোটপালটে প্রলয় নাচন।
দুঃখেরও দুপুরের গায় আজ কাল তোমার হিসেবি জীবন আমার হওয়া বদল করে -ভৈরবী সুরের ভেতর পথ খুঁজে নেয়,
আকাঙ্খার ডানাগুলি মিশে গেছে আকাশের গভীরে যা একদিন ভালোবাসায়
জন্ম নিয়েছিল অভ্রে ও আবীরে আগুনের মত
জ্বল জ্বল । দিনগুলি মিশে গেছে সদ্যজাত
অবহেলায় ঘাসের সবুজে আজ ফ্যাকাসে ব্যর্থ কাব্য প্রিয়তম তোমাকে কখনো ভাষায় বোঝাতে
হবে এ মন তেমন কথা ছিল না ,তাই মিশে গেছে সমুদ্রের ভিতরের নীলে
আমার উচ্ছল শব্দ মহল,
বড় উচ্ছৃঙ্খল, যাতনা আমার ব্যাধের মতন অরণ্যের আদ্যোপান্ত হন্যে হয় বেড়ায় ।
অথচ গত কাল বা পরশু কে ডেকে
দিয়েছিল আমায় সামান্য অহংকার
কিছুতে মনে করে বলতে পারবোনা ।
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
সেই নারীর মত প্রেম
মাঝরাতে সেই নারীর শরীর
জুড়ে ডজন খানেক
হাত গজিয়ে
ওঠে গজিয়ে ওঠে ঘুমিয়ে
থাকা অকুলান সব আগ্রহরা , নারী তখন আগুন মুখি চণ্ডালিনী ,
আকাশের অগাধ দূরত্ব টেনে এনে সে তার প্রেমিকাকে মুড়ে ফ্যালে ঈগলের ছায়ার মত ,
মরুভূমির বালি ঝড়ে নিজেদের উড়িয়ে নিয়ে চলে বারংবার ,
ওর সারা
শরীরে বিদ্যুৎ
নানা
রঙের্ অজস্র
চুম্বনে চুম্বনে সঙ্গমের রাঙঝাল
দিয়ে নিজের
বুকে জুড়ে
নেয়
দেহের আনাচে
কানাচে কামরাঙ্গা রঙের ফাটলের
সঙ্গীত কেঁপে কেঁপে
ওঠে অগুনিত অধ্যায়ে, আর
বিস্ময়ে প্রেমিক কোনো কুলকিনারা পায় না
সে নারী বলে,
“ক্ষোদিত, করে রাখ হে জন্ম জন্মান্তরের প্রেমিক এই কুলকিনারাহীনতাই প্রেম...
তোমায় শিখিয়ে দেবে আগুনও আগুনে পোড়ে ,তবু জড়িয়ে থাকে আগুনকে।
নিশান
সে জন
কেন জানি কথারা সব হারিয়ে গেছে কোন অভিমানী বেলায়
পাখির ঠোঁটে নিঃশব্দে কুড়িয়ে নেওয়া অবহেলা ,
আসলে আয়োজন নিঃশেষে মুছে গেছে ,,আলোকবর্ষ দূরে আজ ইচ্ছামতো আমাদের স্বপ্ন গুলো,একটি নীল অন্ধকারে ঘুম ঘরে হাঁটছি জীবন পথ,
আসলে কথারা এসে ফিরে চলে গেছে সেই
গহীন সবুজে সবুজে রাখা নতুনদের ভিড়ে,
একদিন ব্যস্ত রোজমানচা থেকে ফিরে এসে সেই শিলালিপি পাঠ করো তুমি,
শুনতে পাবে শিলালিপি ভরে আছে
পাথরের বুকে নির্ঘুম রাত হয়ে
হাজার সভ্যতায় আমার মত কেউ কেউ ।
মৃততিতিরের ঠোঁটে কোন সে শব্দের
অনুরণনলেগে আছে লক্ষ বছর ধরে-কান পেতে শোন,
চলো গিয়ে বসি সেই শব্দহীন তিরতির বহতা সময়ের কাছে
চলো, শুনি, কী কথা বলার ছিল অবহেলা সময়ের ,
সে-ও তো অনেক কথা জানে উজানে, ভাঁটির টানে বলে ব’য়ে গেছে কান্নার
শব্দহীন হয়ে , তার পর নাহয় আর এক
জন্ম খুঁজে নেব কেবল মুখোমুখি হয়ে থাকার ,
তারও পরের জন্ম গোধূলী মেখে শহর হাঁটা ,
বাকি যদি মনে পড়ে কিছু লিখে রেখে আগামীর
চিরকুটে ,।
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
তোমার হাতেই
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
তোমার ভেতর
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
আমিও ম্যাকবেথ
মেঘেদের মত
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০
প্রত্যুত্তর
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
বলতে চেয়েছিলাম
সত্যি
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
বাহাত্তর ঘন্টার বেশি
প্রত্যুত্তর
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০
একটা ভোর আসবে বলে
একটা ভোরে সে আসবে বলে
দাঁড়িয়ে আছি
ভরা বর্ষার বৃষ্টি ছাঁটে,
রক্ত চোখে গড়িয়ে নামে
বুকের পাঁজর ভাঙতে ভাঙতে,
একটা ভোরে সে আসবে বলে
অনেক কথা আটকে আছে বুকের মাঝে ,।
অনেক হাত রাখতে দিইনি এই বুকে ,
ব্যর্থ হাওয়ায় উড়ে গেছে নরম
আদর , নিজের মতো একলা বিকেল
হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে,
একটা ভোরে সে আসবে বলে
একলা মেয়ে পথ আটকালো হাজার থাবার
বুকের আঁচল উড়িয়ে দিল নষ্ট হাওয়ায় নিরুদ্দেশ,
একটা ভোরে সে আসবে বলে
জ্বলছে শহর রক্তচোখে ,মিছিল থেকে মিছিল
অবধি রাজপথে আজ ধ্বংস
লেখা হওয়ায় হওয়ায় ,
একটা ভোরে
সে বলে দাঁড়িয়ে আছি ফুটপাতে আবার,
দাঁড়িয়ে আছি
পচাগলা লাশের সাাথে
আগুন চোখে পোড়াব বলে
দাঁড়িয়ে আছি নষ্ট পথে
তাাকে শুধু চিনব বলে দাঁড়িয়ে আছি
একটা ভোরে আসবে সে
তাই বলে দাঁড়িয়ে আছি…
বছর ত্রিশেক
চেনা গন্ধ অচেনা মানুষ
যখন দেখা হয় রোজ তুমি
সংসার ভাঙা মেয়েটি হঠাৎ কিশোরী
( দুই)
আমার চেয়ে ভালো
তোমায় যারা চায় তারা তোমার
তেমনিভাবে জানি আমি
বছর কিছু আগেও এমন দিনে,ঠিক এমনই মুহূর্তে
তোমার বুকের ক্ষত-বিক্ষত
(চার)
তুমি সেই
এক দিগন্ত পথ
পবিত্র ভালোবাসা।
যার প্রেমে মন্ত্র মুগ্ধ আমি
চেয়ে থাকি অপলকপ
চোখের তারায়, ইচ্ছে হয়
যাকে দেখলে ছুঁতে মন চায়না ভেঙ্গে যাবে বলে।
ইচ্ছে হয় কেবল
মুখোমুখি কাটিয়ে
( পাাঁচ )
আমার জন্য হাসো তুমি একদিন
আমার জন্যই মনখারাপ কর
পদ্মপাতায় জল টলমল মন
( ছয় )
মাঝেমাঝে মনে হয়
ভীষণ কালো কোন মৃত্য ব্যাধিতে
ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলুক এই আমাকে।
তবু যদি পাই তোমার ভালোবাসা
তবু যদি সবসময় ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা,
এতটুুুকু স্পর্শের প্রতিক্ষায়
আমার মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা বারংবার
ঘুমের ঘোরে হঠাৎ
চেনা গন্ধ নাকে আসতেই
উঠে বসলাম পেলাম না দেখতে
চারদিক চাইলাম,সে নেই।
বুঝলাম, ও কিছু নয়,
ওটা নিশি প্রেমিকের গন্ধ
দূরে কোথাও বাতাসে
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
ভিন্ন ভালোবাসা
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০
এমন ভাবে যেতে দিতে নেই
নিমিষে ছিন্নভিন্ন ঢেউয়ের আঘাতে সব প্রয়োজন ভাসিয়ে
দিতেই পারো অনায়াসে , তোমার সাম্রাজ্যর দেওয়ালে
নখের আঁচড় যাতে না লাগে এক ফালি যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখ
নিজেকে খুব অনায়াসেই ,
ঠিক চাঁদ নই তবু কোন এক অপ্রয়োজনে জনে চৈতালি রাতে ভবঘুরের মত একটা বুক খুঁজে ছিলে , খুঁজেছিলে আকাশ , আকাশ না দিতে
পারলেও রেখেছিলাম একখানি জানালা … সে জালনা পেরিয়ে নিদেন আলো বাতাস খানিক্ টা রোদ্দুর এসে থাকত কোন শর্ত না রেখে , অস্থির স্নায়ুর শীতলার সাথে নানান গুল্ম ,কিংবা
বাহারি ফুল কে সাথি করে ক্রমশ তোমার জানালা বেয়ে তাদের স্বভাবত বেড়ে ওঠা ,একদিন একফালি জানালাটার দরকার ফুরিয়ে যায়
বন্ধ জানালাটা সুসজ্জিত পর্দায় হারিয়ে ফেলে অস্তিত্ব ,মনে মনে
ভাবো বড্ড গুছিয়েই
তো রেখেছি , যত্নের কম কিছু হয়নি ,
একদিন জালনাটার একটা জন্ম হয়েছিল মন্দবাসার উদ্দেশ্যে ………
একদিন জানলাটা মন্দবাসার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালো মৃত্যুর উদ্দেশ্যে,
কিন্তু এমন ভাবে যেতে দিতে নেই সেটুকু বুঝলে না ।