শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এবারে মুক্তি দাও প্লিস

মাথার ভেতর তীব্র তোমার থেকে যাওয়া আসা

সময়ের দিকে তাকিয়ে আছি 


একবার চোখ ছুঁয়ে যাও আমার 
স্মৃতি ফিরে আসে রোজ ,একদিন এসো তুমি পথভোলা পথিক হয়েই নাহয়,
 
একদিকে একফালি জিতে যাওয়া হাসি থাক  আমার  তীব্র হাহাকারের বিপরীতে ,
দিনান্তের অক্ষর বোনে তোমারই নাম ,
হারিয়ে যাওয়ার নিয়তিতে চিহ্ন হয়েই রইল শেষমেশ ,
যে খেলা কেবলই খেলার ছলে ছিল প্রহর কাটানো ....তুমি তার সব কটি নিয়মে উত্তীর্ণ ,
আমি মাঠের খেলার হারজিত নিয়ে অন্দরমহলে
আজো জরাজীর্ণ ।
চলে তো গেছোই চোখের বাইরে , মাথার ভেতরের জমির দখল আর কতদিন ।
কিছুই ছিলাম না কখনো তবু আমার রোজনামচায়
প্রথমত ও শেষপর্যন্ত তুমি থেকে শুরু আর তুমিতেই শেষ।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বন্দী মন্দ বাসা



 যে বৃষ্টি আমায়  ফিরতে দেয় না ঘরে আমি তার সাথে ভিজতে ভিজতে শোক ও সুখ দুইই ধুঁয়ে নিই দারুন ভাবেব। নিজেরই  পাপছায়া হারিয়ে যায়  ফুঁসমন্তর হয়ে।
 এভাবেই মেঘে নেমে আসা শহরে আমি একলা হতে ভালোবাসি বারংবার বার। দেখি ফেলা আসা আত্মিক সুখ লেগে থাকা মোড়ের শেষে  
দাঁড়িয়ে থাকা মোহের নেশার এতটুকুও আজ আর এই।
জীবনের নেশায় আমি  দাঁড়িয়ে আছি এখন পাপ ধুঁয়ে দেওয়া বৃষ্টির ফোঁটা মেখে নিতে ,


যে পথ আমার জীবনের চেয়েও প্রিয় ছিল সে পথ
 উষ্ণতা হারানো বলেই মেনে নিয়েছে মন
।  এক একটা  গল্পের কাছে কখনো কখনো
আমরা  ঋণী হয়ে থাকি সারাটা জীবন; একটা মোহের কাছে নিজেকে কাঙাল হতে দেখতে ভালোবাসি চিরকাল।
কিছু কিছু গল্পে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার তীব্র লোভ
লালন করে মানুষ তার মন কোঠায়, 
সে গল্পে থেকে যাওয়ার জন্যে রোজ বোধিবৃক্ষ পরিক্রমা করে । 
 একটা পাগল-মন আদ্য প্রান্ত ভিখিরি হয়ে ঘুরে বেড়ায়  পথে পথে। অথচ
একটাই পথে সে চিরকাল হারিয়ে ফেলে বারংবার নিজেকে।


প্রিয় মুখের কাছে আমারই মৃত  ছবি পড়ে আছে মাত্র। 
 কানে কানে আর কেউ কখনো বলবে না  ...ভালোবাসি...ভীষণ ভালোবাসি তোমায়।

রাত  গাড় হয় , সে তো যতবার  হাওয়া আদর খোঁজে  ততবার
  কলঙ্ক সাজিয়ে পেশ করে সে তার সমুখে
বাতাসে তার নামে কুৎসা উড়িয়ে সে অমোঘ সুখ নেয়... 
শব্দের কাছে মানত করে একদিন শব্দহীন হওয়ার

যে শহরে ঠকের মান বেশি, হৃদয়ের দালাল বেশি
সে শহরে সমস্ত ভালোবাসার কবিতা গন্ধকলিপি তাই তার পুড়ে যাওয়া অনিবার্য।


মন কাঁদানো প্রলাপের গায়ে চাঁদভাঙা অক্ষর এসে আশ্রয় খুঁজে মরে
তার স্পর্শে  এখন মৃত্যুর মতো নীল
তবু আদরের দিন  সোহাগের রাত  ভুলে যেতে নেই বলেই জড়িয়ে রাখতে হয় নিজস্ব শরীরের গন্ধে

পাগলের মত খুঁজে ফেরা  মাথার বাইরে একটা চোখ ও চেহারা, যেন... জান্নাত থেকে ভেসে আসা পূর্ন  ছুঁয়ে যাবে এ প্রার্থনায়।

শিশিরের দিন খুব কাছেই ; সে 
কবিতার চিরকুটে গোপনে লিখে রাখে মন্দ বাসার অনেক চিঠি, 
এ চিঠি নিজের কাছে একা,  এ চিঠি সুজন   তোমার উদ্দেশ্যে ডাকবাক্সে  যাবে না কখনো। 
                
এ কবিতাও পাঠ হবে না  কোনোদিন কোনোখানে।
কেবল গোপন পাপ হয়ে একটা বুকে তুমি বন্দী থাকবে আজন্ম।

তোমার শহরের কবিতা

তোমার চোখে শহরের সাত কহন  গড়িয়ে  নামে

আমি লুকিয়ে  দেখি  পুরোনো শরীরে নতুন পোষাকে তুমি শহরকে উৎসবে  সাজাও। 

সকালে চোখ খুলে দাও এ শহরের, আমি  পাশ ফিরে রাতের পর ভোর দেখি... দেখি তোমার  দায়ভার। 

আমি দেখতে  পাই তোমার আদরের চোখে লুকোনো রক্তের আসা যাওয়া    ,

বই পাড়ায় পুরোনো বইয়ের দোকানের  নতুন অনুবাদে তুমি ব্যাস্ত সময়ের ষড়যন্ত্রে,

  শংখ, শক্তি ,সুনীল ,  হারিয়ে গেছে কবেই... তবু আমার মত কেউ কেউ সব জেনেও  খুঁজছে নীরা কে। 

.স্প্লেনেডে  ক্রমশ বাড়তে থাকে ভিড়  আমরা সবাই নিজেদের হারিয়ে ফেলিতেই চাইছি এই  ভিড়ে, 

কোনো অসময়ের মিছিল মুখ লুকোনো অভ্যেসে সামিল হতে চাইছি  সবাই, 

আমাদের চাওয়াগুলো  গুলো  বড্ড এক রকম শুধু জানলা দরজা ঠিকানা আলাদা আলাদা। 

 সুজন তুমি  বহুদিন  স্নান করোনি, বহুদিন কোনো সাধনায় বসোনি পুজোর ঘরে, 

সংসারের শব্দ লুকিয়ে শান্তি খুঁজতে চাওনি  এক মুহুর্ত  ,

ঈশ্বরকে বলোনি সময়ের  সাথে সকলের ভালো হোক, 

কেবল জানলার বাইরে  শালিখের ঝগড়া তোমার  মাথার ভেতর নিউরনের স্ফুলিঙ্গর উচ্চতা  বাড়িয়ে দিয়ে চলেছে।

.

 তুমি তোমার   পাশে অন্য এক পাগলকে ফস করে বিড়িতে আগুন ধরাতে দেখে চমকে  ওঠো ইদানীং, 

ইদানীং  তুমি  বাজারের থলে হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একরাশ শুন্যতা নিয়ে ফিরে আসো সংসারের হেঁসেলে।  অথচ শুন্যতা দিয়ে খিদে মেটে না বরং খিদে বাড়ে সেকথা তুমি ছাড়া ন-বছরের  ছেলেও বোঝে 

তোমার  সাজানো শহর কিনতে চাইছে সুখ এ এক আসম যুদ্ধ  সুজন... এ অভ্যেস থেকে মোহ থেকে মুক্তি দাও নিজেকে তোমার শহরকে,

 দেখো  চায়ের দোকানে ধুঁকতে থাকা কুকুর আজো কুকুরীর সাথে অজস্র সহবাসে সুখ পেলো না, 

একটা ভাদ্রের মেঘে তপ্ততা  থাকলে রোদ্দুরে ভরসা  করে স্যাতস্যতে ভালবাসা সুখিয়ে নিতে সুখ নেই নেই ভরসা। 

এইভাবে সুখ অন্ধকারেও নেই আলোতেও নেই আকাশেও নেই মাটিতেও নেই

  আসলে সুজন  তুমি আর তোমার এই শহর ঘুমোওনি   অনেকরাত।

.আসলে  তোমার  দিন গুলো কাটে এই শহরে পুঁজ ধরা সম্পর্কের কবিতার মতো, 

আসলে তোমার বয়স বাড়ে এই শহরে হাজারো অপেক্ষায় মাইলস্টোন পেরিয়ে রেখে যাওয়া  অভিশাপে  নাগপাশে,

 জানোতো সুজন সময় ফুরোয় একদিন, একদিন দুঃখ  ফুরোয় 

ময়দান জুড়ে কাশ ফুলের সমাবেশ যেন  শান্তিরক্ষী  সৈন্যরা,  ,সেখান  মানুষের অভ্যেস ফুরোয় না, মানুষের  মাথার ভেতোর পৃথিবীতে  কিছুই বদলায় না কিংবা বদলাতে চায় না।


আমি   শহরের কবিতায় মানুষগুলো পড়ি আর পড়ি মানুষের  চোখ দিয়ে শহর,,

তুমি  নিজের মতো সাজাও একটা  তাসের শহর 

সেখানে  দাবার-মঞ্চ আছে, শব্দ আছে, সৈন্য আছে, রাজা আছে, ঘোড়া আছে, নৌকা  আছে,  শুধু তুমি বোকার মত নিজেকে চিরকাল শ্রেষ্ঠ  খিলাড়ী ভেবে গেলে 

আর কমতে থাকলো তোমার  অন্তরবর্তী একলা সুখ, 

আসলে জানোতো সুজন সময় সবসে বড়া খিলাড়ী। 

ছক খেলা খিলাড়ী  সব আগেই সাজানো তুমি আমি কেবল কাঠের পুতুল।

 


মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সই৬০

প্রয়োজনে কেউ পাশে থাকে না থাকে আয়োজনে
...সই

তোমার আলোর পথ

তোমার আলোর পথ

********

.

 সত্যিই বলতে পারো তুমি  আলোয় আছো?

 তবে ভালোবাসা নামক  শব্দটায় পোষাকি  রঙ খুঁজে  ফেরো কেনো? 

কিংবা আদৌ পোশাক পরা  ভালবাসা বলে কিছু হয় কি!  আর সেই ভালবাসা  খায় না মাখে সেটাও কি জানা আছে তোমার? 

ভালো -বাসা ,বলতে পারো  আশ্রয়  বলতে পারো... 

এই বাসা মানে কি  জানো তো সুজন? 

এই বাসা মানে একটা  গহিন   উপলব্ধি  আর সেই উপলব্ধির পরতে পরতে কোনোটাই  অতিরিক্ত  উপচে  পরা নয়, 

 সেই তুমিতে সবটুকুই  প্রয়োজনীয় 

আসলে আমিও এই শব্দগুল লিখতে লিখতে  হাসছি  হয়তো মনে মনে বলছি এত যত্ন  করে ভালবাসাকে রাখবো  বলে নাম রাখলাম মন্দবাসা... তবু বাঁচাতে পারলাম কই মন্দ নজর থেকে।


.

 তোমার নীল পাঞ্জাবিতে এক পৃথিবী ভাবনার নকশীকাঁথা  শুধুমাত্র  যে আমার পৃথিবী সেদিনেও এদিনেও,  

 তোমার স্বপ্নের শহরে একটা গোপন পারিজাতে  কিছু গল্পে  ,স্বপ্নিল বাঁচা লেগে সেদিনেও এদিনেও..., 

অথচ  তুমি এগোতে  জানো  আলোর দিকে 

আর আমি গাছ শব্দটায় নিজেকে স্থির রেখে আকাশের আলো মাখি রোজ। 

 শেষ বহু মাস তোমার  মুঠোফোনে অজস্র  আত্মিকতা 

  হাজারো মুখের মিছিলে  তুমি সামিল রোজ... রোজ মঞ্চ বদল তোমার 

 তোমার মনের ঘরে শান্তির ঘর পুড়ে যায়  রোজ অজানা জেহাদি আগুনে, তুমি নিজেই সে আগুনে জল ভেবে দাহ্য ঢেলে দাও পোড়ার নেশায় মশগুল তোমার বিকার মন। 

আর আমার মনের  ঘরে একটা অদ্ভুত আশ্চর্য  বোধি ,বড়োই স্নিগ্ধ  শান্তির নিঃশ্বাস, 

  আসলে যারা  সত্যি ভালোবাসে ,তাদের নিজস্ব   ঘর  থাকে থাকে নিজস্ব  অন্তর মহল 

যারা ভালোবাসে তারা   নিজস্ব  যত্নে ভালবাসা রাখে   তারা নির্ভরশীল  নয়  কোনো দিন  কারন তারা কেবল ভালবেসে সুখ পায় শান্তি পায়, সেখানে বিনিময় প্রথা নেই। 

সুজন  তুমি জানো সবই 

তবুও কেন জানতে চাও 

আয়নার ব্যবহার

ভালোবাসা   বাউন্ডুলে  নয়, তার ভেতর অন্তর নিহিত শেকড় থাকে, থাকে মাটি ছুঁয়ে  থাকার সংকল্প 

তার কোনো লোভ নেই , তবে চরিত্র  আছে 

তার চলার পথ আছে,  দেওয়াল তো ইচ্ছাকৃত চাইলেই  আছে চাইলেই  নেই,  আর অধিকার বোধ সে তো ঈশ্বরস্বরুপ,

আসলে  যে সত্যি ভালবাসে  সে একটা  কথা মন্ত্রের মত গিঁট  বেঁধে  মানে "তোমাকে  ভালবাসার  জন্যে তোমাকেও  দরকার নেই" ভালবাসা  বাঁচে নিজের তাগিদে  নিজের জন্যে। 

তার শুধু অনন্ত  আকাশ আছে আর সেটুকুই  তার কাছে  প্রয়োজন। 

 সব জানি সুজন  , তাই শুনতে পাই দূরে কোথাও বাঁশি বাজে 

আর বাঁশির সুরে সেই বাউলের  একতারা আগলে থাকার সুর

"যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না... 

যদি বাতাসকে আমি ছুঁয়ে না দেখি তোমার শরীর স্পর্শ  পাবো না... 

আমি মাটির তলায় ঘর না বাঁধলে তোমার  জঠর গন্ধ পাবো না.... "

"

S

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এলোমেলো

আবছায়া স্বপ্নেরা সাদাকালো গল্প লেখে শহরের বুকে ,
মাটির ভেতর ঘুমিয়ে পড়া ইচ্ছেদের শেকড় শুধুই যেন নিম্নগামী ,
 কংক্রিটের জীবন গুছিয়ে ছেলেটার বেঁচে থাকা গদ্যময় হয় কখনো  না ,
 হাজারো কাঁটাতারে জখম তার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র ,।
দূরে কোথাও হাতছানি দিতে দিতে রাত্রি ছুঁয়ে হারিয়ে যায়  ছেলেটার ক্লান্ত স্বপ্নেরা।
শিরা উপশিরা জুড়ে   অর্ফেরণ এর বহতা যেন  শহরটাকে নাগপাশে পেচিয়ে রেখেছে  বহুকাল,
 উৎসবে মেতে ওঠেন ছেলেটার মত এ শহর ,  নির্ঘুম ইনসমনিয়া বহুকাল  কাটে এক অদ্ভুত  ঘোরের মঘ্যে।।
মানুষ গুলো মন খারাপের কারণ খুঁজে পায় না বলেই হত্যা করে ভালো থাকার নিদেন টুকুও ।
 আজকাল ব্যাকরণ বদলে গেছে যে  বেঁচে থাকার ।

...ওরা নামে কিছু প্রাণী বাঁচে কোনো কৌশলে , এরা নামে কিছু প্রাণী বাঁচার কৌশল  জানে না বলে লাশ নামের ট্যাগ জুড়ে রাখে পায়ের বুড়ো আঙুলে   , 
সংবিধান জানে নিয়ম... আর বেঁচে থাকা জানে রুটি কাপড় ছাদ এই থেকেও বেশি কিছু দরকার ,
সংঘাতে এ আগুনে পুড়ে যায় সম্পর্ক আর বেঁচে থাকার সহবাস টুকু ।
শহর নিজের বুকে নিজের উপকথা লুকিয়ে রাখে রোজ। 

বরফ ঘরে রাখা লাশের কপালে।বিন্দু বিন্দু ঘাম ইতিহাস ঘাটবে বলে আবহাওয়া বদলে মেঘ বৃষ্টি নামায় , 
হাত বদলে যুক্তি গুলো রং বদলে নেয় ,
চেনা শহরে সব কিছু অচেনা লাগে রোজ দশটা পাঁচটা সাইরেন এর সাথে জীবন চাবি দেওয়া ছেলেটার ।
ভোকাট্টা ঘুড়ির মত অদ্ভুত ঝুলতে থাকে বেঁচে থাকা ছেড়া  ইচ্ছেগুলো ।
আমার কবিতার মত অনেক কবিতা হঠাৎ শব্দ অন্ধ হয়ে নিয়ন বাতির নীচে অক্ষর খুটে নেয় ।
দিনের আলোয় সে কবিতা এই শহরের মতোই সাদা কালো আবছা ।
এ শহর  সে শহর জুড়ে যায় বিষণ্ণ আবেশে অহংকারী মন খারাপ1 এর সেতুর ভেতর ।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চুপচাপ

চুপচাপ একটা  আসা যাওয়া রয়েই গেছে
আমরা কেউ কারো অপেক্ষায় নেই ,আছে চুপচাপ আসা যাওয়া।
 একটা অদৃশ্য আসা যাওয়া আমাদের
ভেতর  যেন কেউ বিনি সুতোর সেতু বুনে যাচ্ছে ,
তুমি কিংবা আমি কেউই টের পাচ্ছিনা সেসব ....।

সব গল্পের  দৃশ্য  খালি চোখেএকরকম দেখা যায় না ।
উহ্য শব্দটা  এই আসা যাওয়াকে আড়াল করে রেখেছে।
তুমি আমি এখন তুমুল হাত বদলে মাতোয়ারা ,।

আমি নিজেকে স্নান ঘরের আয়নায় দেখে আগে কখনো এত বিস্ময় হয়নি , আমার  চামড়া ,হাড় মাংসের অবয়বটা একেবারেই অনুভূতি হীন ,জড়ের মত হয়ে গেছে ,আর উৎসব নেই শরীরে ,মনে নেই কোনো উজ্জাপন ।
আমার পুরোনো নির্ঘুম রাতগুলো এখন স্মৃতির মত লাগে ...কারণ বালিশ বিছানা ছাড়াও আমার আজকাল অসম্ভব ঘুম পায় ,এত গাড় ঘুম যেখানে কোনো স্বপ্ন পর্যন্ত লখিন্দরের ঘরে প্রবেশের ছিদ্র খুঁজে পায় না ।
অথচ আমার সারাটাদিন জুড়ে নিরন্তর একটা চুপচাপ আসা যাওয়া থাকে বাতাসহীন ,শব্দহীন , হয়ে ।
আমি প্রতিটা অক্ষরকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে আমাকে খুঁজি ...তোমার ভেতর ,অথচ তোমার উপহার দেওয়া উনপঞ্চাশতম সংখ্যাটা আমার চেনা লাগে না ,, ,
আমাদের মাঝে একটা চুপচাপ যাওয়া আসা কেমন সময়ের মাইলস্টোন ছুঁয়ে যাচ্ছে  তবুও দৃশ্যের বাইরে হারিয়ে যাচ্ছে না ,
 অথচ আমরা রোজ  আমরা মুক্তির নপ্রার্থনা করি নিজস্ব তথাগতর কাছে ।

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্পর্শহীন বাতাস এ শহরে



স্পর্শহীন বাতাস তোমার আমার মাঝে সুয়ো দুয়ো খেলায় মেতেছে  ।
অন্তর মহল আর উঠনেও সে নির্বাক ও স্পর্শহীন
যেনো জন্ম -মুক।

তোমার আমার মাঝে শুধুই ভারী নিঃস্পর্শের পাহাড় জমছে আজকাল।

সিলিং এর সাথে সখ্যতা সেধে আকাশ দেখা রাতগুলো নিজের মত জানলা খুঁজে নেয় গুমোট অবস্থানে।

এত বরফ আগে কখনো মৃত্যু ছাড়া জানা হয়নি,
এত স্রোত কখনো ভাঙ্গন ছাড়া দেখা হয়নি,
... যেনো প্রমত্তা প্রকৃতি আজকাল নটরাজের ভূমিকায় আমাদের মাঝে ।
আমাদের আত্মিকতার গায়ে আজকাল শকুন ঠুকরে খায়।

ভাদ্রের রোদ্দুরে ছাদের দড়িতে সুখ-স্মৃতিদের শুকিয়ে মরতে দেখে আমি আবেগহীন সিঁড়িগুলোর সাথে ফিরে যাই খোলসে।

এলোমেলো বৃষ্টি  মেখে হাস্নুহানা জেগে উঠছে দীর্ঘ
ঘুম থেকে,, তবু আমার বুক ভিজলো না সামান্যতম।

আমার বুকের দ্বীপে রাখা জমিটা এক্কেবারে খটখটে শুকনোই রয়ে গেলো।

অথচ দ্যাখো, কেমন গভীর স্পর্শহীন বাতাস
তোমার আর আমার মাঝে একটা বিষণ্ণ বর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে ।

এই বাতাস  আশ্চর্য শূন্যতার ম্যাজিক এর মত তোমার আমার মাঝে সেতুটাকে ধীরে ধীরে দৃশ্যের বাইরে মিলিয়ে দিচ্ছে ।
আজকাল এক শহরের এক আকাশের নিচে আমরা আলাদা আলাদা চাঁদের জন্য আকাশ দেখি।
আমরা আজকাল স্পর্শের শহরে স্পর্শহীন অথচ মুখোমুখি।

#সই #রমা