মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০

অপ্রত্যাশিত

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা 
হিজিবিজি আঁকা ক্যানভাসটা  তোমার চেনা
প্রতীক ও সংকেতে  চিহ্ন হারাতে হারাতে সে দুর্বল
এখন ,,
... তুমি  গভীরে আরো গভীরে খুঁড়ে চল সব দৃশ্য... সহস্র  আশ্চর্য জানালার গোরাদ .. একা অপরাহ্ণকালে অথবা সন্ধ্যেবেলায় তুমি মুক্তি
 পাঠাও ফোঁটা ফোঁটা  আনজান বর্নর ।
.   .   .   .   .   .   .  আকাশের কাছে তিব্র প্রার্থনা ছুঁড়ে ঈশ্বর ছোঁয়া এক অদ্ভুদ নেশা আমার তুমি।জান ।

আমার দহনের ভার গ্রহণ করবে  ভেবে তুমি
লিখে ফেল পাতার পর পাতা জুড়ে প্রতিবাদ শিকল থেকে রাত অবধি 
স্তব্ধ হয়ে আসি তোমায় দেখে 
সর্বত্র গেরুয়া এক আভা  ...  তারপর আমি পুড়তে থাকি
পোড়া রঙ বিছানা বালিশে  রোজকার আপোষে... গ্রিলের ফাঁকে .... রান্নাঘরের বাসনে ,
... ভুল খুঁজি আমার কিংবা আমার নাটকের চরিত্রের ,
সন্ধ্যাকালে সে ভুল নুড়িপথ বেয়ে
ছায়া ও অন্তরাল  ছুঁয়ে ফেলে ,, যা আমার নয় সব 
তা  না পাওয়ার আনন্দে  আমায় বিভোর করে দেয়, আমার  নামকরণ তখন অপ্রত্যাশিত কিংবা ব্রাত্য ।

আয়ুষ্মানভব

মনকেমনের সকাল আসে আমার জানলায় বাকি 
থাকা খয়েরী রঙের সন্ধ্যা সে নেমে আসে   ভুবনডাঙার শেষ প্রান্তে ,
চেনা আকাশ  চেনা পথ 
সাত পুরুষের ভিটে ছেড়ে কোন্ শহরে
ছিটকে  যাব বল সুজন ,, তাই একলা সিলিং আর গিটার ছেড়া সুর আমার খুব কাছের এখন 

লেখার খাতা ছেড়ে গেছ চুপিচুপি 
অথচ অযুত কাহিনী ঢাকা পড়ছে  শব্দমিছিলে,,
মৃত শহরে  চিরকুটে উড়ে  বেড়ায় বান্ধব ঘ্রান জড়িয়ে,
শীত মেখে পিচরাস্তা আজকাল  ঘুম খোঁজে রাতের গভীরে।
একটা দুটো ইচ্ছা পালক স্বপ্নে ভেসে আসে এই শহরেও
নিয়ম মেনে আবার যখন ফিরে  যাওয়া তখন মনকেমন লেগে থাকে দেহাতি মনে ,,
উড়ন্ত এক জ্যোৎস্না ফালি  করা বুকের নিচে
আশ্রয় নেয়  আশ্চর্য্য রকম নেশার মত ,

ঠিক তখনি পুড়িয়ে ফেলি নিজের সারাংশ রোজ আগুনে,,
আমার শহর লুকিয়ে রাখে সেসব .... ছাই দানীতে ,,
 ভোরের একটু আগে শিশির জমে শরীরের শিরা উপশিরায় ,,
 মহাকাল শর্ত ভেঙে ছুটে আসে মুগ্ধ কস্তূরী ঘ্রাণের মত ,,
ছায়ারঙ নামক ফলকটা খুঁজি ঠিকানা ভেবে ,
দুটোপথ যেখানে মিশে ছিল সেখানেই গন্তব্য শেষ হওয়ার কথা ছিল ,
ঝুল বারান্দা একখানা কবিতা লেখা নিজস্ব নামে  ,,...  
হারিয়ে গেছে  সব  যত আগ্রহ গাড় রঙের দেওয়ালের ওপারে .....
তুমি ফিরে এসে খুঁজে দিও বেঁচে থাকা স্বপ্নদের ..
আর তোমার ঈশ্বর রূপ তাদের বলবে আয়ুষ্মানভব ।

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০

আর কত পথ

হেঁটে চলেছি কয়েকশো দেশ আর  সভ্যতার বুক জুড়ে,,
কাঁটা তার পেরিয়ে কখনো সীমান্ত কিংবা পর্বত
নদী,, গর্ভে আমার  প্রিয় মৃত ভালোবাসার  ঘোষণা
পত্র আর  বাইরে অজস্র মুখোশ  ,
প্রতি সভ্যতায় নামকরণ দেখেছি এক একটা
মুখোশের ...কখনো ধারণ করেছি নিজেও ,
একটার পর একটা অস্ত্র একা  হয়ে গেছে যুদ্ধ
শেষে । ফিরেছি অন্য কোনো নগরসংকীর্তনে,,
পায়ের পাতায় সামাজিক বর্ণের মোহর লেগে আছে ,
........এত যুগ হেঁটে পার হলাম এত নদীর স্রোত,
কই জীবন তো দেখলাম না  পেলাম না সেই লালন ফকির কে  ,  না কোনো স্পর্শ পেলাম ,
মৃত সভ্যতায় অজস্র মৃত্যু শোক কিলবিল করছে 
শ্বেত পাথরের ফলকে মৃত সংবাদ......  যেন সত্যি বলে কিছু হয় না এই বিশ্বসংসারে  বাঁচা বলে কিছু হয় না । তাই এই গর্ভে ধারণ  আবারো কোনো মৃত্যুর জাতক,,,,
হেঁটে চলেছি মহাকালের সাথে  মহাকালের পথে
কখোনো আগন্তুক , কখনো ফেরারী,  কখনো......।


শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০

বেরঙ জিন্দেগী

 আজ কাল মন খারাপ হয় না ,কেবল দেওয়াল
জুড়ে মরচে রঙের চিহ্ন পাই ....ঘরের ভেতর 
আরেক ঘরে একলা ছায়ার সাথে সহবাস ...লালায়
বিষ চুম্বন মিশে শরীর জুড়ে গরল প্রবাহ , 
নদীর ধার জুড়ে নোনা পানীর স্রোত কেমন করে 
মুছে যায় সাজানো পুতুল খেলার বেলা ! রক্তের দাগ দেখে মেয়েবেলা শুরু ...হয়তো সত্যিকারের পুতুল   হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ ..., একটু একটু
তেজপাতা রঙ আঁকতে থাকে বেখেয়ালি স্বপ্ন 
ঘুম ভাঙে চড়া হয় রঙ ভাঙে যৌবন সকাল ....হাড়ের মজ্জা হারিয়ে ফেলে সবটুকু আদ্রতা ....,,
ঘর খুলে দেখি ঘুন ধরেছে সমস্ত আসবাবপত্রতে
আর দেওয়াল জুড়ে মরচে রঙের চিহ্ন ....
আজকাল মন।খারাপ হয় না .....
আজকাল দেওয়াল জুড়ে মরচে রঙের চিহ্ন
 যেন শোক মহলের পাণ্ডুলিপি ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০

আকাশী রঙ


প্রথম ঘুম ভেঙে প্রকাশ পেল  অবহেলা.....
ঠোঁট ভাঙতেই প্রকাশ পেল  ভাঙাচোরা শব্দজব্দ
 আধোপাপড়ির ঘুম ভেঙে তাহাদের কথা .....

পরপর বহু ঘুম ভাঙে...ভাঙে ঘোর ....কখনোবা 
 ঘর .... ভাঙে বহু স্বপ্ন ,একা হয় রুপকথা ।

একসময় দমে আসে কান্না  খুঁজে নেয় গাছের 
 কোটর ...থরে থরে ঘুম। 
ধুয়ে মুছে সাফ ভেঙে যাওয়া বহু হিসাব।
জন্ম বিতে যায় ভাঙা চোরা হিসেবের বাঘবন্দি খেলায় ।

অপ্রেমের প্রেম

---------------------------------

যেভাবে   আগুনের কথা ভাবি সেভাবে তোমাকে
পোড়াতে পারি কই,
অবগুণ্ঠন ছেড়ে যেদিন তুমি আসবে
সেদিন ছাই হাতড়ে খুঁজো একটাও বুকের
হাড় 
............  তুমি যেভাবে  অন্ধকার ভাবো  সেভাবেও তো
ভালোবাসা  ভাবতেই পারো 
  দায়নিবাস ছেড়ে বহু দূরে রেখে গেলাম
সিঁড়ির ধাপের পাণ্ডুলিপি ...সময় পেরিয়ে 
..........মাটিতে মিশে   যে শরীর
কুড়িয়ে রেখো সেদিন  মলাটবন্দি তোমার কবিতায়,
...........অন্তর্হিত আগুন যেন গেলে থাকে প্রদীপের
পলতে তে  এটুকুই কথা নেবো  মন্দবাসার হৃদয় থেকে

প্রজাপতি রং বিকিকিনি স্রোতে  ওড়ে... খুব চেনা 
একটা  হারানো সুর ... আরো গভীরে হারিয়ে যায় নিঃশব্দের
শব্দ ........যেন শতাব্দী পেরিয়ে তার পথ চলা ...,
.........হিজিবিজি নকশার দেশে নিজের
পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখি জন্মস্থান খুঁজে
পাওয়া যায় কিনা ,
কঠিন শবে এর মত সংকল্পে  বাঁধি তোমাকে
আমার মত করে পোড়ানোর ......
ভালোবাসা ভীষণ সহজ ....মন্দবাসা বড্ডো
কঠিন ....,,।

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০

সমীকরণ


আজ থেকে মুক্ত সব চেনা অচেনা রাস্তার ধুলাবালি, 
 উৎসব মুখরিত  দিনগুলো কাটে নিরুপায় কিছু 
মাসুল এর  ভুল হিসেবে,,  হাজার বছর ধরে নিয়মিত
অভ্যাসটা বন্দীশালা ক্যাম্পে ধর্ষণে অভ্যস্ত, চায়ের কাপে
মৃত্যু  লেখে সে, আর নিজের কাছে জরিমানা নতুন
অধ্যায়ের সাক্ষী হতেই হবে, 
আয়নর ধুলো বালি পড়তে পারে জীবনের দহন,,
অথচ সময় রোজ রোজ মুছে ফেলে পুরনো  অবহেলা
, একবার ঘুরে দাঁড়ানোর সমীকরণ    একবার 
চিৎকার.... নাহ এ বারেও ফাঁকি দিয়ে চলে যায় আমার 
মত আরেকটা আমি,.... বছরের পর বছর ঘোরে অন্তঃসত্বা
 হয় যাপন,  তখন  কঠিন খোলোশে  শীত শহরের   মত
বহু মানুষ ঢাকতে থাকে বেঁচে থাকার অভিনয় ..., 
আসলে কেউ বেঁচে নেই.... মৃত সভ্যতা, মৃত পৃথিবীর
বুকে.... প্রেম কেবল দুটো শব্দ... ভালবাসা কেবলমাত্র
মৃত কবির মৃত কবিতার অক্ষরপুঞ্জ....,,,   
      
               

শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা (৭০)


এই মুহুর্তে দাড়িয়ে বলতে পারি সব ক্ষরিত
রক্তের স্রোত মহা সমুদ্রে মিশেছে, ছোটো
ছোটো আস্তানায় ফুরিয়ে গেছে রোজকার
লেনদেন, পাওনা ক্ষত গুলো এখন কেবলি
হরেকরকমের চিহ্নর মতো... 
ভুলে গেছে সে উত্তরের মন কে কাকে ভালবেসে
ভিখারি হতে চেয়েছিল! 
একদিন সুবর্ণা তোমার মুখের মত ছিল এই শহরের
সকল মুখ.... এখন তুমি দুয়ারে তবু এই ভিক্ষারি মন
ঝাপসা, 
শীতল শয্যা,  বৃষ্টি, আমার     ক্যানভাসে গড়িয়ে
নামা কান্না.....অনুভূতি কেবল খয়েরী রঙের খামে   
বন্দি,  ঢেউ ভাংতে   ভয় নেই.... কারন এবার নিজের
চোখ উপড়ে অন্ধকারের সাথে তুমুল সহবাস, 
সুবাসে শুধুই মন্দবাসার ঘন ঘ্রান, 
তুমি বহু মন ছুঁয়েছ, ছিড়েখুঁড়ে ফেলেছ পোষাকি
আবরন, সকলের পেছনে দাঁড়ানো আমাকে পুর্নাঙ্গ 
অনুবাদ   করতে পারলে না কেন জানি না.... 
আমার ক্ষরিত রক্ত প্রবাহ তাই সমুদ্র মিলনে.... সুবর্ণা, 
..…....সুবর্ণা প্রিয় পাওয়া,