শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২

দৃষ্টিকোন

চাঁদের  আলো কুড়িয়ে নিয়ে জ্বালাই আগুন

অন্ধকার রাজপথে   উজ্বল বেঁচে থাকার ব্যাস্ততা   খোঁজে 

 পথ ও পথিক দুজনেই একলা।

বাঁচার ইস্তেহার ,ঝকঝকে  হাসি বিক্রি করে শহর

বাঁচার বিশ্লেষণ নিয়ে  রাত রঙিন  করতে চেস্টা করে  শো-কল স্ট্যাটাস। 

সময় মাফিক  শহরের  আকাশে  মেঘের আড়ালে চাঁদ জড়িয়ে নেয় প্রেম

অনেকটা মীরার নিরব ভালবাসার  মতো মনে হয় এই আকাশী গল্পটা। 

.

রাজপথ ঘেঁষা চায়ের দোকান 

অকারণের মোড়কে কারন সাজিয়ে নেওয়া   মাটির ভাঁড় লুটোপুটি খায়  সম্পর্কে  জাগলিং ফস্কে গিয়ে,

চমকে  পিছন ফিরে তাকায় একটা সময়  

একটা  মৃত্যু  বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড জুড়ে ভয় ছুড়ে দেয় আচমকা   হিমেল ঝোড়ো  হাওয়ার মতো 

নির্ঘুম রাতে  মনেরই বারান্দায় অকারণে চাঁদের আলোয় পুড়তে থাকে মন নিজেই

একটার পর একটা সম্পর্ক পুড়েছে  সময়ের চিতায় । 

.

আমরা কখনো কখনো  দুঃখের কারন খুঁজি  বিলাসি মনের খোরাকী  হিসেবে 

 সুখী জীবনের আড়ালে  বিরহী শব্দের সোয়েটার বুনতে বুনতে

ভালবাসাটা যেন অভ্যাস  করে ফেলি কখনো কখনো   ,,,

 জীবনের  গতিকাঁটায় ৮০ কিংবা ১০০ যাইহোক  না কেনো ,

আমরা প্রত্যেকে নিজেদের  সাথেই নিজেরা

একটা রেসের মাঠের ছুটে বেড়াই ,

গতি বাড়ে ,জীবনের  স্পটলাইট খুঁজে চলে  গন্তব্য  

মুহুর্ত এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বেঁচে থাকার ইস্তেহারের  সামনে 

একটা অচেনা হাসি  খুব লোভি করে দেয় মুহুর্তে  দাঁড়িয়ে থাকা মন ও মস্তিষ্ককে।

 চোখের জল মুছে নিয়ে ইস্তেহারি হাসিটার আবেশে  আরো এক মুহুর্ত  হেসে উঠে বলে


আমিও তো ভালো আছি... আমিও যে ভালো  থাকি... আমিও যে সকালের আলো ও রাত্রির অন্ধকারের মতই রোজ নিজেকে ভাঙি

আবারও নতুনভাবে গড়ি আবিষ্কার  করি।

সবকিছু নান্দনিক

  সবকিছু  ভীষণ   নান্দনিক 
জীবন মানে অনুভবের পাত্রে জড়িয়ে থাকা ওম
সব পবিত্র হয়ে যায় স্বচ্ছতায়  ডুবে থাকা সম্পর্কে  
যেন নিজস্বতার আহুতি  নিজের ভেতোরে নিরন্তর। 

দাউ দাউ আগুন পুড়ে যাওয়া  সময়ের ঘরেও ভালবাসা ঘর বাঁধে, 
নিকোনো উঠোনে  অপেক্ষায় প্রদীপ  জ্বলে প্রতিটা সাঁঝবেলায়, 
 কারণ  নির্লিপ্ততায় কাঁটা তার শব্দটা  বেমানান  চিরকাল । 
.
অসমাপ্ত  জীবন বলে কিছু হয় না 
প্রতিটা দিনলিপিতে  অসঙ্গতির আড়ালে আসলেই সমস্তটা সংগতিপূর্ণ ,
 অজানা অচেনা অথচ ভীষণ  চেনা কেউ আছে মনের জমিতে ঘর করে, আছে  হাজারো গল্পের
বুনোনের সুতো তার আঙুলে  । 

 অজস্র মুহুর্ত,  একটা  বিশাল উপন্যাসের খোলা পাতায়... 
মহাকালের চরিত্রদের   জন্ম ও মৃত্যুর মাঝ পথের গল্পে 
  অসমাপ্ত খোলা পাতায়  জীবন লেখা পরিপূর্ণতা পায় ।
.

 মানুষের  বুকের কাছে জমা হয়ে থাকে অনুভবের  খালি  পাত্র। 
সময়ের গভীরে হাঁটতে হাঁটতে   সম্পর্কেরা ছুঁয়ে  দিলেই সে পাত্র ভরতে থাকে ফোঁটায় ফোঁটায়,
 ভালো থাকা, খারাপ থাকা  আসলেই  ক্যানভাসে ছবি আঁকা  শিখে ফেলার মত রপ্ত করে নিতে হয়,
 ভালোবাসতে চাওয়াটাও  কারণ ছাড়া  শিখে নিতে হয়, 
আর এই শেখা গুলো  পরিনতির ঝুলিতে তৃপ্তি সঞ্চয়  করিয়ে দেয় শেষ উপসংহারে ।
হ্যাঁ  কখনো কখনো সময়  মুখোশ পরে   দাঁড়িয়ে মুখ ভেংচায়, 
 তবু মানুষ  সুকৌশলে বাঁচাটা শিখেই নেয় । 

 একলা মুহুর্তে  ফিরে  ফিরে আসা ফ্ল্যাসব্যাক  হয়তোবা কাঁদায় কিংবা  হাসায়, 
সে কান্না হাসিতে  কিছুই বদলায় না চলন্ত মুহুর্তে 
 মানুষের ভালো থাকা  তার নিজের কাছে
অনুভবের খালি পাত্র জীবনের নানান রঙের কিস্তিতে ভরে যায়  ঠিক, 
আর মেঝের উপর গড়াগড়ি যায় কিছু অহংকারে খোলস।

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

সুকুমার রায়

সুকুমার রায় যিনি একাধারে কবি, ছড়াকার,শিশুসাহিত্যিক,রচনাকার,নাট্যকার, সম্পাদক ও প্রবন্ধকার,  বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্য জগতে তিনি  'ননসেন্স রাইম'এর জন্মদাতা। 

আমাদের শৈশব কৈশোরের দিনগুলো  নানান খেলার সাথীর মতোই সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল বইটিও ছিল মনজুড়ে। 
সেই বই এর পাতায় কুমড়োপটাশ, হুকোমুকোহ্যাংলা , কলের বুড়ো ,হাঁসজারু  আমাদের শিশু মনের আনন্দের খোরাক  ছিল অপরিসীম। 

আজ এই কিংবদন্তি মানুষটির জন্মদিন , ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কলকাতা শহরে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ,বাবা ছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। 

সুকুমার রায়ের লেখা ছড়া গুলো বিশেষত আবোল তাবোল বইটির ছড়ায় আপাতদৃষ্টিতে অযৌক্তিক ব্যাঙ্গাত্মক হলেও  অন্তর্নিহিত অর্থ যথেষ্টই গভীর তা এই বড়বেলায় বুঝতে পারি আমরা ।
 তার নাটক বা ছড়া নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে ততটা তার গল্প ও প্রবন্ধ নিয়ে হয়নি , তার রচনায় স্থান পেয়েছে সত্তরটি গল্প ,ষোলটি জীবনী ,একশো আঠাশটি প্রবন্ধ ।

সুকুমার রায়ের বিখ্যাত গল্প গুলি 'হ য ব র ল'  'পাগলা দাশু'  , তার লেখা 'হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডাইরী'তে  এক অদ্ভুত  এডভ্যাঞ্চার  সন্ধান আমরা পেয়েছি ,  
 পরে এই এডভ্যাঞ্চার আরো পূর্ণতা পায় তার সুযোগ্য পুত্র সত্যজিৎ রায়ের হাতে ...'প্রফেসর শঙ্কু' সিরিজ   নামে।

সুকুমার রায়ের পান্ডিত্য ছিলো বহুমুখী  ,তার সাহিত্য প্রতিভা অসম্ভব বিচিত্র  ও সমৃদ্ধশীল ।
এমন ক্ষণজন্মা প্রতিভার অধিকারী অসামান্য ব্যক্তিত্বের মানুষটিকে তার  শুভ জন্মদিন আমাদের 'মন -তরঙ'এর পক্ষ থেকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য 
         শুভ জন্মদিনে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক বাঙালির মনে  অম্লান  তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি  চিরন্তন ।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

সই(৬১)

ক্যালেন্ডারের  কোনো কোনো তারিখে আমাদের দূরত্ব  কমে যায় ... এক আকাশের নিচে অন্ধকার  রাতের প্রদীপ  হয়ে পুড়তে থাকি দুজনেই,
গংগার কিনার জুড়ে আজো  বসে থাকে চুপচাপ একটা অপেক্ষা  ... 
তুমি চেয়ে  দেখো যে কথা বলা হয়নি তোমাকে তারা সবাই
ছড়িয়ে আছে কবিতায়, 
....সই

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

মন খারাপ একটা শব্দ মাত্র


আজকাল  আগের মত মন খারাপ হয় না, 

 প্রথম কার্তিকের  হিমেল  আমেজে এখন  এক ওমে  বহুদিন  নেই  আমি ,তুমি 

বৈশাখী রোদ্দুরে   কিংবা ভরা পোয়াতি শ্রাবণের   বর্ষনে কখনো  আমি ,তুমি এক ছাতায় 

 পাহাড়ি  ঝর্নার  খুব পাশেই খোলা  বারান্দায় গরম  চায়ের কাপে  কখনো  আমি, তুমি পরম উত্তাপে মিশে 

হয়তো  আকাশের বাইরে সিঁড়ি বেয়ে এখন আমাদের প্রাক্তনী সুর বাজে সারেংগিতে

তখনও মন খারাপ হয় না আর। 

.

মনখারাপী মেঘের গায়ে  সত্যি সত্যি অতীতের ফোটোফ্রেম গুলো বড্ড জরাজীর্ণ 

জরাজীর্ণ  অতীত  একলা  শীত রাতের মত রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে  ফুরিয়ে যাওয়ার  অপেক্ষায়, 

আসলে কিছু সম্পর্ক  যখন থাকে খুব কাছে থেকে যত্ন  করে 

তখন সেটা  কেমন যেন  প্রিয়জন না  প্রয়োজন  হয়েই থেকে যায়  ,

 প্রয়োজনের বাইরে  বাঁচাগুলোয় কোনো  সুর তাল লয়ের দরকার হয় কি না জানা নেই  ।

এই সংসারে দরকার ছাড়া  কেউ কারো কাছে ও পাশে থাকে না। 

.গভীরে এসব  ভেবেও দীর্ঘশ্বাস  কিংবা মনখারাপ  কিছুই কেন  হয় না আজকাল আগের মত জানি না। 

 পাখির মত সময়ের সাথে বদলে ফেলা যায়  মনের ঠিকানা, 

সুতোর বুনন দেহ রাখে সময়ের স্রোতে   মানুষের  মনখারাপ  হয় শেষকৃত সেরে আয়নায়  নিজের বদলে যাওয়া  চেহারার  মুখোমুখি হতে গিয়ে। 

স্টেশনের শেষ ট্রেনে   অসহায় অপেক্ষা সময়ের দুরত্বের মাইল ফলকে হারিয়ে যায় 

তাই ভালবাসা মরে যায় একদিন

তাই একলা দিনে ঝড়ের মতো স্মৃতি এলোমেলো হয়ে বিস্মৃতির অতলে চাপা পড়ে যায় মানুষের অজান্তেই , 

 মনখারাপের কবিতায় নতুন  শব্দের সূর্যদয়ের মতো 

কষ্ট ঢেকে যায়  আলোয় আলোয় ,

 বুকের গভীরে মৃত স্বপ্নেরা মাটি ভালবেসে ফেলে,, 

আসলে জীবনটা সত্যি  রিলের মতো নয়,

 সব শর্টগুলো সবসময়  দারুন ভিউয়ার্স পাবে তেমন টা নয়।


কেউ কেউ একটাও লাইক নাও পেতে পারে।

তাই মনখারাপ  শব্দটাকে নিয়ে বিশেষ মনখারাপ করার তেমন কিছু নেই।

 

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

বাঁচতে চাওয়া একটা অভ্যেস

বাঁচতে  চাওয়া কি আসলে একটা  অভ্যেস মাত্র?

অভ্যাস ধরে হাঁটতে হাঁটতে  

 একটা গোটা  জীবন পেরিয়ে আসে মানুষ, 

সময় মাঝে মধ্যেই অসম মুহূর্ত থেকে  গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দিতে পারে 

সেখানে সময়ের কখনো ক্ষতি হয়না,

বরং বেয়াড়া বিকেলে সেই সব  মুহূর্তদের পাশে বসে এক কাপ গরম চায়ের ওমে নিজেকে হাওয়ায় মিশে  যেতে  দেখতে বেশ  লাগে। 

যারা মৃত্যুর কথা বলে তারা আসলেই মরে গেছে অনেক আগেই 

.

যারা অন্ধকার ঘরে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে ভাবে আহা কি দুঃখ 

তাদের দুঃখ কেবলি রবিঠাকুরের কবিতা ও গানের ভেতোর

যারা সাজানো দুঃখে সুখে  পাশে থাকবে   বলে তারাও আসলে সাজানো মঞ্চের  অভিনেতা অভিনেত্রী, পর্দা নামলেই অন্য এক চরিত্রে রূপান্তরিত। 


 জন্মান্তরের কথায় তাদের অনেক সাজানো গল্প থাকে জলখাবারের প্লেটে , তারা সব সাজানো সোনার  তৈরি  সে খাবারে খিদে মেটে না সে সম্পর্ক চোখের  জল মুছে নেওয়া যায় না ।  


বাঁচতে চাওয়াটা আসলে একটা দারুণ সফরের  অভ্যেস, 

  

মানুষকে বহুবার   অসম  মুহূর্ত  পথের ধুলোয় খোলা আকাশের নিচে মিশিয়ে দেবে  থাকবে না সেখানে

সামান্যতম  সমবেদনা ,

আমরা জানি ভিক্ষুকের  মানচিত্র লাগে না,  লাগে না কখনো কোনো সীমানা  তবু  তার অন্তরমহলে এক শান্তির  মন্দিরে  স্থাপিত থাকে গভীর  দর্শন ,

  কাঁদতে পারে যারা তারা ভালবেসে দুঃখ কেনে নানান কিস্তিতে, 

 আর নকল হাসতে পারে যারা তারা সুখী দেখাতে চায় এ দুনিয়াকে আসলে তাদের  ভেতোরে দারুন প্রেমহীন  হাহাকার উপচে পড়ে। 

 সীমাহীন গন্ডির বাইরে কিছু   স্থবির অস্তিত্ব 

 হাত পা ছড়িয়ে ঘুমোতে থাকে, 

 বেঁচে থাকে  বেঁচে থাকার অভ্যেসে 

কারণ  সেই সব আসম  মুহূর্তদের পাশে বসেও 

তারা মৃত্যুর কথা না ভেবে বেঁচে থাকার অভ্যাসকে রপ্ত করে নিতে থাকে বারংবার। 

দিন পেরোচ্ছে

দিন  পেরোচ্ছে, আবার নতুন আকাশ দেখতে পাচ্ছে মেয়েটা 

ঝকঝকে সকালে সাদা খাতায় তার সূর্যদয় আঁকা  আবারো সে শিখে ফেলছে 

 লক্ষী মেয়ের ট্যাগ সরিয়ে অলক্ষীর নেমপ্লেট মেয়েটার দরজায়, 

 অলক্ষীতেই বিশ্বাসী  সে আজকাল

ভালোবাসায়  রাখা  মাটির মূর্তিগুলো ইউসলেস আজকাল তার ড্রইংরুমে,  

মেয়েটার কিচ্ছু যায় আসে না এ নবরুপি পোষাকে তাকে আসলে কি চোখে দেখছে শহর, 

এখন কারো দেখার সার্টিফিকেট  নিয়ে মেয়েটা জীবনের ফাইল ভরে রাখে না। 


.

 টের পেতে চায় না কোন সাধনায় সে আরাধ্য


মেয়েটা একদিন যে দরজাগুলো দিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছিলে  তাদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে আতসবাজির ফুল্কি,


ইদানিং ও চোখে চোখ  রাখতে এ শহর কে ভাবতে হয় কিছুক্ষণ,  

 নিজের লড়াইটা একলাই অনায়াসে  লড়তে শিখে গেছে সে   

.

  শরীর জুড়ে আজস্র সৈন্যের দল

 সশস্ত্র  হাত  , ভালবাসার  শ্বেত পদ্ম নামিয়ে বজ্র তুলে নিয়েছে, 

 আঙুলে আজকাল জ্বলন্ত মারিওয়ানার বেপরোয়া খেলা, 

 চোখের ভাসায়   নতুন  অভ্যাসের জন্মদিনের রোসনাই 

 সুজন তোমার  শহরের কাছে সবটাই একটু বেশি রকম বদল তাই না? 

যে মেয়েটা এক সময় বাঁচার জন্য ,ভালো থাকার জন্য নিজের  নির্ভরশীল একটা ছায়া খুঁজে ফিরতো


আজ  নির্ভরশীল শব্দটা তুড়ি  মেরে উড়িয়ে দিয়ে অট্টহাসিতে হারিয়ে যায়  সে শ,...  হাজারো মনের ছায়া মেয়েটার অস্তিত্ব। 

যে মেয়েটা আজ থেকে বছর দুই আগেও ভালোবাসতে চোখের জল ফেলতো 

সে আজ খুব অবহেলে ভালোবাসা শব্দটার সফর করে এ শহরেই  ,

সময় বদলায়  

 আর বোকা বানানো সম্ভব নয়  সুজন তোমার সেই বোকাসোকা  মেয়েটাকে।

 পায়ের জুতোয় আজ টিপে রাখে ভালোবাসা নামে প্রহসনের  গলা 

হ্যাঁ  বোকা  মেয়েটা জেনে গেছে ভালোবাসা একটা মরীচিকা।

আর সে মরিচীকায় ডুবতে  নেই কেবল ডুবে যাওয়ার অভিনয় টা শিখে  নিতে হয় জবরদস্ত। 


কালির আঁচড়ে


 কালির আঁচড়ে জীবন লেখা যায়  কিনা ভেবে দেখা হয়নি। 

জীবন শুধু মাত্র  সফলতায়  দেখার নাম নয়,  শুধুমাত্র  প্রাপ্তির নাম নয় ,, 

হ্যাঁ  একজন মানুষ  একাকিত্বে  একলব্য  আজীবন , কারণ  প্রতিটি  যুদ্ধ  তাকে একাই লড়াই করে  হারতে কিংবা  জিতে নিতে হয়,

না কোনো দ্রোণাচার্য  সময়ের দরজায়  দাঁড়িয়ে  থাকে না... থাকে না পিছিয়ে যাওয়ার কোনো  পথ


মানুষের  ইতিহাস মানুষকে হেরে যেতে  দেয় না, আসলে হার জিত নয় সবটুকুই কেবল পুঁজি। 

.

যেখান থেকে জীবন লেখার কথা ছিল  সেখান থেকেই লেখাটার শুরুয়াত করে সময়  ... তা সে সাত পাঁচ কিংবা আকাশের চাঁদ কিংবা  ধুমকেতু যাকিছু  আসুক না কেনো....সময়ের কাঁটা   ভুল করেও টিক টিক পথ চলা বন্ধ  করে না।

বাঁচার রাস্তায়  দাঁড়িয়ে  থাকা  প্রিয় মুখও হয়তোবা  কালের খেলায় হারিয়ে  যায় নিয়মমাফিক কিংবা  নিয়মের বিপরীতে। 

 কর্ণর মত জগৎসভায় একাই একার সাথ দিতে হয় শেষতক,


সকলেই আমরা হার জিতের খেলায় পুঁজি  সঞ্চয় করি জীবনের ঝুলিতে 

 আর তাই সকলেই   হেঁটে যেতে  পারি মাথা উঁচু  করে, 

তোমার চোখে জল বুক পকেটের রুমালে লুকিয়ে রাখা আসলে বেঁচে থাকার  একটা  কৌশল , আর সেটা শিখে  নিতে হয় সকলকে।


কালির আঁচড়ে জীবন  লেখার চেষ্টায় হয়তোবা 

কালি ফুরিয়ে যায়  কিংবা ফুরিয়ে যায় জীবন, 

বিকিয়ে যায়  অনেক মুল্যবান যতি চিহ্ন জীবন সফরে,


কারণের পৃথিবীতে  ব্রাত্য দের প্রয়োজন বারংবার জরুরী 

তবুও যত্নে  বেঁচে থাকার উৎসবে আলোর প্রদীপ  জ্বালানো ভীষণ  দরকার, 


কারণ  শেষে নিস্তব্ধ কিছু থেকে যাওয়ার  নাম 

স্মৃতি, 


 আসলে মহাকালের  যুদ্ধটা ফুরোয় না কখনো 

তাই মানুষ খিদে পেটেও অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়ে 

মৃত্যু দিকে পিঠ ফিরিয়ে বেঁচে থাকা মানে উৎসব  ভাবতে পারে।

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

সবটাই মিথ্যে

মিথ্যে বলেছিলে  আগলে রাখবে, হাঁটবে সমন্তরালে, 

নিষ্পাপ মনে তোমার দেওয়া ফুল  গুঁজে নিয়েছিলাম  নিজের খোঁপার বাঁধনে যেন  ঠিক জড়িয়ে নিয়েছিলাম তোমায় ,

আলোর দিকে হাঁটতে  চেয়ে   তোমাকে  উদ্দেশ্য  করে বেড়ে ওঠা মানিপ্ল্যাট গাছটাকে যেমন ইচ্ছে কাটলে, উপড়েই দিলে। 

গাছটার ভেতোর সবুজ  ভাবনার  বাসগুলোর কথা একবারও ভাবলে না

ভাবলে না তোমার ছইয়ে একটা  নিশ্বাস বেঁচে  আছে 

.

মিথ্যে বলেছিলে সাথে আছি,  মিথ্যে  বলেছিলে এটাই তোমার শেষের সেই মাইলফলক, 

সারারাত ঘুমের চোখে মিথ্যে স্বপ্ন এঁকেছি তোমার রঙে 

অজস্র মিথ্যের ফাঁকে নিজেকে লুকিয়ে তুমি আমায় বিকিয়ে দিয়েছো অনায়াসে, 

আমি কিন্তু সত্যি সেদিনে  এবং এদিনে একই রকম  ভালো আছি ,

আসলে তুমি  ঘর শব্দটার মানে বোঝোনি, আসলে বাউলের ভেতোরেও একটা  গোপন  নিজস্ব কুটির থাকে সেটা জানতে চাওনি।

 হয়তো আজকাল তোমারও  মন কাঁদে আকাশে মেঘ দেখলে। 

.

 হাজার মিথ্যে গল্পর মত তোমার মিথ্যে গল্প এ শহর শুধু ভালোবেসে বুকে রাখলো

 হাজার মিথ্যে ঘর ভাংচুর এর মতই   এই শহরে  তুমিও আরো  একটা  ভালোবাসার ঘর ভাংচুর এর সাক্ষী এবং আসামি দুই চরিত্র হয়ে থাকলে।

হয়ত অনেক কবিতা ও গানের কলিতে কারা যেন  বলে গেছে চারটে দেওয়াল মানে নয় ঘর 

হ্যাঁ  হ্যাঁ  মিথ্যে তোমার এই সাজানো বাঁচার খেলা

তোমার মিথ্যে  হাসি মিথ্যে কান্নায় আমার মল্লিকা ফুটেছে  আর   ঝরে পরেছে, বুঝিতে বড্ড সময়  নষ্ট হল

কিন্তু সেই বিশ্বাস  সেই হাসিতে আমি ছিলে  না কোনোদিন তুমি কেবল  স্বার্থপর নাটকের  চরিত্র  যাপন  করে  গেছো

তুমি পথ চলতি আশ্রয়হীন দের নিয়ে তথাস্তু  তথাস্তু  খেলায় আনন্দ  পাও 

 আজ আমি জানি তোমার আসলে আশ্রয় নেই , 

মিথ্যে তোমার  এই সংসারে দাবা খেলায় হেরে যাওয়া  

তুমি জানো না ভালোবাসা আসলে মাটি আঁকড়ে থাকা শেকড় 

একটা আশা 

 একটা  নির্ভেজাল ভাবনা। 

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

মুক্তির পালক

হাওয়ায় ভেসে থাকা পালকের মত লাগে  এ মুক্তি 

এ মুক্তি  নিয়ে জীবন  যেন  উজ্জাপন মনে হয়। 


মশগুল ব্যাস্ত  দিন রাতের সবকটি প্রহর , আমার কবিতার  খাতায়  আমি মুক্তির পালক আঁকতে থাকি 

তুমি বা তোমার পৃথিবীতে  তখন সময় চটকে কিছুটা আলোর দিকে পথ চলতে  চাওয়া হঠাৎ  জেগে ওঠা  ইচ্ছার তুবড়ি জ্বলছে,  

আমি  আজকাল অবাক হই না কোনো  দৃশ্যেই,

 আজকাল ছেলেবেলার ছাদ আর আকাশের রামধনু বড্ড মনে পড়ে... মনে পড়ে  ঠাকুরদার মুখে শুনে  আসা রুপকথার অবাক করা গল্পের  কথা ,  ইচ্ছে হয় ফিরতে 

 ইচ্ছে হয় ভাসতে  রামধনু আকাশে  পাখির  জীবনে  

যদি ভাসতে  পারতাম  আগের মতো এখনকার   নষ্ট অধিকারের শিকল  গুলো  ছিড়ে,

যদি চিৎকার করে আকাশ আগলে বলতে পারতাম , আমি পাখির মত ডানা মেলবো একদিন ,  যদি  বলতে পারতাম

থ্রি চিয়ার্স ফর লাইফ ,

তারপর হয়তোবা মুক্তি আঁকার আনন্দের  আরো আলো এই নয়নে ভরে নিতে পারতাম

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

লোকে আমাকে পাগলী বলে

সত্যি প্রহসন মনে হয়  আজ... 
 আজ কেউ যদি বলে আমি..... তোমাকে ভালোবাসি খুব কিংবা তোমাকে সারাক্ষণ  মিস করি, কথাগুলো  শুনলেই প্রহসন  মনে হয়। 
তাই আমি চাই না কেউ কানে কানে কিংবা  কবিতায়  বলুক 
আমার শুধু তুই... আমার আর কোথাও  যাবার  নেই তুই ছাড়া, আমি তোর ভেতোরেই শেষমেশ  থামতে চাই,
আমি শুনতে চাই না... আমি শুনতে চাই না।
আর যাই হোক তোর হাত আমি ছাড়বো না, এমন কথা শুনতে চাই না।
.
অনেকগুলো রক্ত কান্নার  রাত অন্ধকারে ডুবে গেছে নিজেকে হত্যা করে, আসলে আমি অন্ধকার হয়ে বেঁচে  থাকতে  চাইনি কখনো ,  
 গভীর ওম,  চোখ সহজ ভাষা কাছে পাওয়ার
 অভিমান ... হয়তো ... হয়তো  অনেক বড় আমার চাওয়ার লিস্ট 
লোকে পাগলী  বলে
আমি বলি আমি  কিন্তু  শুধুমাত্র  মন্দবাসায়  একনিষ্ঠ  প্রেমিকা হতেই চেয়েছিলাম। 
.
অদ্ভুত কাব্যিক  আমার প্রেম আর সে চোখে  পেরেক পুঁতে  দেওয়া রক্তাঞ্জলি রাত 
 ফেলে আসা পারিজাতের শব্দরা সব ছায়াময়ী অশরীরির   মত আমাকে জড়াতে থাকে কেনো জানি না 
বুকের ভিতর অভিমানগুলো তখন মাটি চাপা পড়ে
গেছে,  মাটির বুক চিরে  সাদা রজনীগন্ধার গাছ
 সেদিন গুলো   কেন জানিনা আমার বাঁচার গল্প লিখতে ইচ্ছে হতো। খাতার পাতা তখন তোর গল্পের ভীড়
গল্পের শব্দরা তখন তোর শরীর জড়িয়ে বলছে কত্তদিন তোকে জড়াই না, 
আকাশ জুড়ে আচানক বর্ষা নেমেছে কতবার
 আমাদের  সঙ্গম কে হিংসা করে তুমুল ভিজিয়েছিল আকাশ কত কত দিন।
ক্রমশ  আলো অন্ধকারের  খেলা শুরু  হলো 
তুই হারিয়ে গেলি ঠিক কিন্তু তোর গল্পেরা থেকে গেলো তুই বিহীন হয়ে আমার ভেতোর বাইরে। 
লোকে আমাকে পাগলী বলে 
আমি বলি পাগলী  হয়তো এখন  আমি  কিন্তু মন্দবাসায় একনিষ্ঠ  প্রেমিকা হতেই চেয়ে ছিলাম শুধুমাত্র। 

মন্দবাসার সমাপ্তি

তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি ঠিকানা ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছিলাম ক্রমশ... , গাছেদের পাশ কাটিয়ে হারালো পথ, 
স্রোত সাক্ষি রেখেছিলাম,   সাক্ষি রেখেছিলাম আসমান, 
গাছেদের পাতার রেখার সাথে আমার হাতের রেখা ও আমি তোমার গহিনে  পথ হারালাম, 

 কোন  এক নতুন বর্নের  মেঘ বদলে দিলো আকাশের নিশান, 
নদী বক্ষ লুকিয়ে ফেলেছিলো  স্রোত  সক্ষতা। 

প্রতিটা গাছ একই রকম দেখতে,   প্রতিটা পথে ফেলে আসা আজস্র পায়ের চিহ্ন দেখতে একই রকমের , 

তোমার  ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে যে শব্দের কাছে  আমি বান্ধব বর্নে ঋনী হয়েছিলাম... তারা এই গহিনে হাতছাড়া হলো এবার। 

অজয়ের বুকে মোহ ভাসিয়ে  ঘোর জ্বর গায়ে  ঘরে ফিরেছি যখন,

 মনে হলো  আমার আত্মজ শব্দেরা  যারা  কিনা হারিয়ে গেলো গহিনে,     যাদের  মোহ ভাসিয়ে এলাম  অজয়ের বাউল স্রোতে,
 তারা কি পথ চিনে ফিরবে কখনো ?
 মন মুচড়ে উঠলো হয়তো... হয়তোবা চোখ  জ্বালা করে উঠলো  এক মুহুর্ত। 
তোমায়  বললাম চল ওদের  ফিরিয়ে আনি... ওরা যদি  পথ চিনে  ফিরতে না পারে!  তবে যে ওদের ছাড়া অসমাপ্ত আমার মন্দবাসার উপন্যাস । 

গেলাম   ...সে প্রান্তর  ছাড়িয়ে গহিনে আরো গহিনে আরো গহিনে, 
যেখানে গাছেদের সব পাতার বুকে আমারই  হাতের  রেখা,  যেখানে নদী, স্রোত,  পথ, আলো, অন্ধকার পারিজাতীয় সংগমরত  সমস্ত দৃশ্যেরা ভীষন ভাবে  জাগ্রত , 

অথচ আমার শুন্যতার ফ্রেমে সে সব মোহন  দৃশ্য বেঁধে রাখার 
সামান্য আকুতি নিমেষে  উধাও, তারা আর নেই, 
নেই অসমাপ্ত  উপন্যাসের কিসমতের ভয়। 

দুদন্ড দাড়িয়ে  ভাবতেই  বুঝলাম
তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি কখন  জেনো তোমাকেই  পেছনে ফেলে অনেকগুলো  অদৃশ্য মাইল পার করে ফেলেছি, 

 এখন অজয়ের ব্যাস্ত  স্রোত,  গাছেরদের সারি সারি বিলিকাটা পথ, ওদের পাতার রেখার মত আমার হাতের রেখাতে তোমার অস্তিত্ব নেই। 
আমার এতকালের মন্দবাসার উপন্যাসের পাতায় অদ্ভুত  অকাল বর্ষনে একটা  অক্ষরও আর নেই, 
মন্দবাসার খাতাটা আদ্যোপান্ত একেবারে  সাদা।

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২

সমাপ্ত প্রহসন

এখন আর বেশি বাকি নেই 

হাওয়ার কাছে বার্তা আছে  জানালার নেমপ্লেটে অলিখিত চুক্তি রেখে যাবে পুরনো ইতিহাস, 

জানলার পাশে পড়ার টেবিলে হলুদ পান্ডুলিপিতে

 সব কবিতা  অসমাপ্ত হাহাকারে কাঁদছে, 

 জীবিত পরিচয় বেঁচে যে একদিন জমি কিনেছে  আজ তার

জমি শ্মশান মাত্র,

.

আচমকা ধড়ফড় করে উঠে বসে লোকটা  

অজস্র কালো ফ্রেমের অসমাপ্ত ছবি লোকটার বুকের দেওয়ালে আটকানো পেরেক দিয়ে

ছবিগুলোর গায়ে স্বপ্নের বদ রক্ত  প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে স্থির, 

 প্রশ্রয়ের কাছে ঋনী লোকটার মাথা নিচু আজ,

কোনো  উপসংহারি সমাপ্তি  লেখা হবে না কবির খাতায় কোনদিন, 

কেবলমাত্র একটা অসমাপ্ত  নেমপ্লেটে কিছু হিসেব লেখা থাকবে মাটির ওপর আর লেখা থাকবে প্রেমিক আর স্বার্থপর  একসাথে হওয়া যায়না। 


.

চারিদিকে জমে থাকা নোংরা  জলে যোগবিয়োগ এর ফলাফল হিসেবে কিছু ব্যাংাচি কিলবিল করছে আজ। 

 সিঁড়ি ভেঙে ভরসার চিলেকোঠায় লোকটা আর উঠতে পারবে কিনা জানা নেই, ,

লোকটা প্রেমিক হতে গিয়ে খুনি প্রমাণিত হয়েছে সময়ের কাঠগড়ায়, 

.

আর অবিশ্বাসের রক্তে বারংবার  ভিজিয়েছে  

 যোনি ,স্তন ,নাভি ,ও হৃদয় 

তাই লোকটার জিভ ,ঠোঁট সব গলে পচে যাচ্ছে  

সে আর কখনো ঠোঁটের ওপর ঠোঁট  রেখে গভীরে চুমু খেতে পারবে না 

 অপেক্ষা মরে যাবে একদিন নিশ্চিত। 


আনন্দ ,শোক ,দুঃখ,ঘেন্না ,ভয় -শরীরে শেষ সুতোটুকু খসে যাচ্ছে  তার ,

তাকে জীবন্ত  পুড়িয়ে গিয়ে জানলাটা বন্ধ করে দিয়েছে  নিষ্পাপ ভালবাসাতো তার প্রেমিকা , 

কবির অসমাপ্ত কবিতার শেষে লিখে দিয়েছে  সমাপ্ত প্রেমের প্রহসন। 


সময়ের কাছে পরিত্যক্ত

সম্পর্ক আসলে সমীকরণ  ,সময়ে দুলতে থাকা দোলনায় বসানো কাঠের পুতুলের  খেলাও বলা যেতে পারে ।

আবার ভালো থাকা আর না থাকার মাঝে একটা সুক্ষ তারের তফাৎ 

অনেকটা ধীর  গতিতে  শান্ত নদীর ক্ষীন স্রোত এর মতই, 

মানুষ হয়তো বুঝেও   বোঝে না 

  আসলে সম্পর্কগুলো  উঠন জুড়ে সৈন্যদল। 

.

একটা যুদ্ধ-ব্যাকরণ বই খুলে সম্পর্ক পড়তেই হয় প্রতিটা  পোশাক পরা মানুষকে

নিজের হাসি ,নিজের কান্না , অনুভবে মুড়ে

 বুকের গভীরে জমিয়ে রাখতে শিখে নিতে হয়,   

সকলেই পোশাক পরে  ,

সকলে নিভৃতে  সেই পোশাক বদলায় 

 

নিজের একান্ত ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখবে বলে 

 সম্পর্কের ত্রুটি ঢাকার আর্ট কজন  সঠিক জানে জানা নেই।

আমি বুঝি সম্পর্কের মাঝে লুকোনো মুখোশ থাকলে একদিন সে মুখোশে   টান মারবে সময়,

একটা মিথ্যে  ক্রমশ পেঁচিয়ে ধরবে বেঁচে থাকা অস্তিত্বকে, ,ক্রমশ মৃত্যু  হবে সম্পর্ক বানানটার   অসহায় কোনো   কারনে,

তোমার মতো ,আমার মতো সকলেই যারা মুখোশ আড়াল রাখি নিজেদের তারা একদিন পরিত্যক্ত হবেই  সময়ের দরবার থেকে।

 

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

প্রাক্তন


.


 একদিন  থেমে যায়  মুহুর্ত সবকিছু বিসর্জন দিতে হয় 

ভালোবাসার পোষাকের গায়ে  জমে থাকে ফসিল

ভাংতে থাকে কাছে আসা সিড়ি গুলো

আসমানী চাদর  জড়ানো বুকে অনন্তকালের চুপ কথা জন্ম নেয়। 


আমিও চুপ থাকা শিখে নিই সময়ের প্রবাহকে মেনে নিয়ে,

চেনা পথ ভুলতেই হয়... ম্যাজিকের মত ঠিকানা  বদলে যায়  ডাক বাক্সের চিঠিতে, 


.

পিছনে ফিরে দেখলে 

পায়ের তলায় মৃত সময়ের যন্ত্রনা  রাখা 

 স্মৃতির শব্দদেরা  করে একের পর প্রেতাত্মার মত ঘোর লাগায় সমস্ত  বেঁচে থাকা জুড়ে  ,

ঘুমের ফাঁকে কপালে কাপালিক তান্ত্রিকদের ত্তত্বাঘাতের হিসেব নিকেশে চলমান মুহূর্ত নিলাম হয়ে যায়, 

ঘুম আসে তবু ঘুম আসে শেষ রাতে

বুকের নিশ্বাস গচ্ছিত  রাখতেই হয় মহাকালের গহ্বরে, 

.

রাস্তার ধারে পরে থাকা সম্পর্ক শব যেন কিছুতেই চিহ্নহীন  হয়ে মাটিতে মিশতে পারে না, 

একটা  অহংকার যেন   প্রতিবেদন হয়ে  বুকে সেটে অদ্ভুত ভাবে গা-জোয়ারীতে মাতাল হয়,


মানুষ জানে না  ,মানুষ  বোঝে না

প্রতিটা নাটকের পর্দার  পেছনে পোষাকি  সম্পর্ক  ঝালিয়ে  নেওয়া হয়  কারন সমস্ত পরিবেশনায় অসাধারণ  কথাটা জরুরী । 

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ মাঝে অজানা সময় 

মানুষ দুঃখের দেওয়াল ভাঙে আবার সুখের  ঘর বাঁধায় ব্যাস্ত হয়,

হারানো সময়ের পরে আকাশের ভাঙা মেঘে বৃষ্টি নামে মাটির বুকে, জন্ম নেয় নতুন আমার নাম ধামে তখন নতুন মাটির প্রলেপ 

শব্দরা কাঁসর  ঘন্টায় জন্মকান্না ঢেকে দেয়, 

আসলে শব্দদের কারন দরকার পড়ে, আসলে সব বদলের আগে ও পরে শব্দ খুব জরুরী, 

 

আর নতুন শব্দের কাছে পুরোনো  শব্দেরা খুব সহজেই  প্রাক্তন হয়ে যায় , 

প্রতিটা বিসর্জন  আসলে আগামীতে  প্রাক্তন।