রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

তারে বলে দিও


আমার চোখে লেগে থাকে উত্তর না মেলা দীর্ঘশ্বাসেরা
 বেমানান স্বেচ্ছামৃত্যুর   মত ক্রমশ একটা পূর্ণ ছবি হয়ে 
যাপনের আসপাশের দেওয়ালে টাঙানো। 
তুমি ছাড়া একথা কাউকে বলতে পারি না 
তোমায় বোঝাতে   উত্তরের বারান্দায় 
শেষ রাতের তারাদের ঠিকানায় খবরাখবর রেখে যাই বরাবর ,
শব্দগুলো যখন তোমার খিড়কি পার করে বিছানার
পাশে    খোলা হাওয়ায় ভাসে তুমি হিমেল হাওয়া ভেবে
প্রতিবার নিজেকে আলগোছে বিমুক্ত 
করে দাও অলিখিত দায়ভারে,    পাশ ফিরে ভোরের স্বপ্নে পা রাখ সযত্নে  । 
এভাবে কতদিন তো আমার ক্ষতরা কোন
শুশ্রূষা ছাড়াই  মাথা নিচু করে ফিরে এসেছে, 
তুমিও বিস্ময় দৃষ্টি রাখনি ডাকবাক্সের দিকে,,   
আমার মৃত্যুরা তাই এখন  খন্ডিত অনেকগুলো
খন্ডে, অথচ তোমার কবিতায় আমি বরাবর মৃত্যুপ্রেমিকার ভুমিকা ছাড়া কিছুই নয়।   
স্থিতিশীল ফসিলের বুকে হয়তো এভাবেই পৃথিবীর
সব ইচ্ছামৃত্যুরা বাস করে,  আর কবিরা হেঁটে যায়
নতুন কোনো সৃষ্টির পথে।       
 
           

শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

শেষ উপহার

----------------------------
উপহার চাইছে কিছু একটা,  কিছুটা বিস্ময়, 
কিছু উৎসব মুহুর্ত এই মন, 
ইদানিং দৈনন্দিন গুলো একঘেয়ে রং চটা
দেওয়াল লিখনের মত অবসাদে ভুগছে হয়তো। 
রং তুলি ভিজিয়ে চলেছি কেবলি  ঘামে, 
ভীষণ ইচ্ছা করছে  নাম না জানা কোনো এক 
নতুন রঙে আকাশে মেঘ আসুক...  অদ্ভুত আনজান
নুপুরের       ছন্দে আসুক বৃষ্টির  এক একটা ফোঁটা.... 
আমার  আসলে কিছুটা বাঁচার রসদ  দরকার শেষ
বারের মত। 
এই মৃত সভ্যতায় স্টেশনে স্টেশনে প্রিয়জন হারানোর
শোক ছুড়ে ছুড়ে চলে যাচ্ছে অসময়ের আগ্নতুক 
কামরা। 
পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে বহুদিন শান্তি, স্বস্তি, 
ক্ষিদের পেটে লাথি মেরে পঙ্গপালের দল 
নিসস্ব সংগমে বংশবিস্তারের আগে  হয়তো
এটাই শেষবারের মত   হৃদয় উপহার পেতে চাইছে 
কচি ধানে নবান্নের ঘ্রান , মৃত পৃথিবীতে শেষ
উৎসব  হিসেবে থেকে যাক  সদ্য জন্মানো 
শিশুটার হাসি  ।     
জানি না কাল কোন শুভেচ্ছার আলো নিয়ে সকাল
আসবে কিনা!  
আজকাল  খবরের শিরোনামগুলোর দিকে চোখ
রাখতে ভয় পাই, 
শুধু একবার  শেষমেশ অবাক করা আনকোরা
কোন উৎসব আনন্দের মুহুর্ত হয়ে  ছুঁয়ে যাক--
তারপর.... তারপর হয়তো নিয়মিত  কোন মৃত্যু শোক, 
কান্না,  অসহায়তা  অশরীরির মত আসবেই... পঙ্গপাল
অথবা মহামারি ,  নতুন কোনো নামকরনে,   
কাঁদাতে চাইবে, পোড়াতে চাইবে ,  
অথচ আমরা সকলেই তখন পাথর....।    
                                    

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

একলা মন

---------------------------- 

যখন তখন মেঘ আসে বৃষ্টির কোনো সময়
নেই, সিঁড়ি  ভেঙে জল বইলে ভাবি আমারি
কপাল মন্দ,  পাখির চোখে সেদিন দেখেছিলাম
সমান ভাবেই ভিজছে পড়শির ও ছাদ, 
সেদিন থেকে মেঘ করলেই ছাদের ঘরে একলা হই...
পাখি নয় বৃষ্টি যদি ছাদের আগেও আমাকেই প্রথম
ছোঁয়। 
আমি আর পড়শি একই রকম তোর কাছে তাই না? 
তাই  সমানে সমানে ভাগ হয়ে যাস নিয়ম করে, 
তুই বুঝবি  না তোর নিয়ম আগুনে পুড়ি আমিই পড়শি ভেজে, 
 মন্দ কপাল তবুও লড়াই.... খুব কি কিছু বেশি চাওয়া
বৃষ্টি তোকে আমার বলা,  ধ্যাত বোকামি  এসব,  না মেঘ
না বৃষ্টি না তুই,  আমার নয় কিছুই ।   একলা ছাদে 
মিথ্যে বাসর অপেক্ষায় মিথ্যে সময়, 
যেটুকু জল গড়িয়ে নামে সেটুকিই আমার  সঞ্চয়।    
          

ইস্তেহার

----------------------------
একটা ইস্তেহার দেব ভাবছি  আমার নিজস্ব
একটা 'তুই'  এর জন্য,  আমার কিছু  নিজস্ব 
 অন্ধকার গচ্ছিত রাখার জন্য ভীষণ রকম
 নিজি 'তুই'  দরকার,, 
তাই সারা পৃথিবীতে একটা ইস্তেহার দিতে চাই, 
আর সেই তুইটাকে....................   
আমার ভেতোরকার  জমে থাকা শতাব্দীর
জঞ্জাল গুলো   দিতে চাই , আমার 
লুকনো পাপ,  আমার বদঅভ্যাস, আমার
দোষ,  আমার না পারা নালিশ,  আমার  কলঙ্ক
তোকে শুধু সেই তুইটার কাছেই গচ্ছিত করতে চাই। 
তোর কাছেই যেন   দ্বিধাহীন হতে পারে খুব  সহজে 
আমার অপারগতা গুলো,  আমার কয়েক হাজার
মুখ চাপা, বুক চাপা বদ রক্তে জমা  কষ্ট আছে 
সব গুলো গুনে গেথে  আমার ছেঁড়া আস্তিনে মুড়ে 
 সেই তুইটাকে  নিতে হবে,  
বুকের পাথর সরিয়ে দেবে  কোনো প্রশ্ন... কিংবা 
বিচাকরকের ভুমিকায় না গিয়ে,   আমার কান্নারা
হয়তো সেই তুইটাকে  বুক জলে ডুবিয়ে দিতেও পারে, তবু
তুই বলবি কাঁদ আরো কাঁদ , জানতে চাইবি না কেন 
কিসের জন্য, 
সেই তোকে  আমার আকন্ঠ বীষ দেব যা জমানো এযাবতকাল, 
এই নকল মৃত মানুষের ভিড়ে আমি কেবলি 
সাজিয়ে গুছিয়ে আমার না পারা গুলো ঢেকে 
পরিবেশন করেছি নকল পোট্রের্ট... আমি ক্লান্ত
হয়ে গেছি এবার  ,   আমি হারিয়ে ফেলেছি
আমার একান্ত  কাদামটির আমিটাকে, 
শুধু সেই তুইটার  কাছে  আদ্যোপান্ত নিরাভরণ নিরাবরণ
হয়ে  যেন রাখতে  পারি নিতান্ত আমিটাকে, , 
 আমার একজন তুই  দরকার ভীষণ রকম,
আমি তাই এই পৃথিবীতে  একটা একান্ত 'তুই' চাই
ইস্তেহার দিতে চাই।    
                       

শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

রুদ্র

---------------------------- 
তোমার রুদ্র খেলায় 
ভাঙল মেলা 
আছড়ে নিলে ভাসিয়ে গেলে 
দিল দরিয়া শুন্য এখন 
থামল যখন তোমার মাতন।
----------------------------  

তোমার মাইল ব্যাপি  নিদারুন নিষ্ঠুর তছনচিয়া
 আলোড়ন    আমাকে ছুতেই   সামান্য নিশ্চিন্ত টুকু 
এলোমেলো হল আগলানো খড়কুটো কাঠের জ্বালে
ভাতের হাঁড়ি,  নুনের কৌটো, দৈন্যতার পাতের লাউ গাছ, 
এমনকি  জোতস্না রাত আসা মাথার ছইটুকুও, 
ছায়া ছিল  তাল তমালের তোমার তছনচিয়া স্বভাব
সেদিন নিয়ে গেল যাকিছু সহায়সম্বল কোনো এক অজানায়, 
মা  বিসর্জিত হল বোধোনের আগেই এ জেন সন্তান জন্মের
আগেই মাতৃহারা, 
তুমি বর্ন পরিচয়ের এক একটি বর্ন দের আছড়ে 
করলে টুকরো, ভাসিয়ে নিলে নোনা কষা স্রোতে, 
বাক্যহীন হয়ে বোবাটানেলে রাখলে কলমের
পৃথিবী, 
যারা  সমাজের বিদ্দজন তাদের গায়ে এই আলোড়ন
নিদেন মাত্র ,  কে বলে দেবে তাদের কাছে ক্ষতি মাপার
যন্ত্রটা নেহাত ছেলে ভোলানো খেলনা মাত্র। 
তাদের কাছে ঝড়ের রাত কবিতা মাত্র 
বিরহী প্রেমে বিলাস যাপন। 
আমার মত তাদেরও একবার ঘর  ভাঙা দরকার
দরকার সম্বলহীন হওয়া সে কথা তুমি কিংবা ওরা
কখনো বুঝবে না, 
তাই ওদের কাছে আমার একমাত্র চাল উড়ে যাওয়া
নিঃশ্ব চারদেওয়াল কেবল সামান্য ক্ষতি,, 
খবর হলাম পাতা জুড়ে খবরেই হব ফসিল, 
ত্রান শুধু লৌকিকতায়.....  মাটির উনুন  মিশলো
জলে কান্না শুধু ভাতের হাঁড়ির সংগোপনে,       
ওদের কাছে নিদেন তুমি এ আর এমন কি 
ক্ষতি,  খিদের শিশু ঘুম হারানো বইছে স্রোতে 
দুমুঠো চালচুলো এক নিমেষে নিলে কেড়ে,। 
                    

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

তফাৎ

----------------------------  
তোমার যেমন যখনতখন মন কেমনের ভাব
আমারও আছে এমনি  তছনছিয়া  স্বভাব, 
তোমার যেমন গা ভাসানো আকাশ কুসুম
আমারও  বালিশ আঁকড়ে দুঃখ ঘুম, 
তোমার যেমন ইচ্ছে মত উড়ান নামাও 
ভুবনডাংগায় 
আমার একটা মেঘ আছে যখনতখন 
বৃষ্টি নামায় 
তোমার যেমন কলম জুড়ে রাস্ট্র থেকে
নগরকীর্তন 
আমার তেমন খাতার পাতায় খামখেয়ালির
প্রতিক্ষণ, 
তোমার যেমন জমিজমা পাহাড়  দ্বীপ  হিসেব
করে নিয়ম মানে 
আমার তেমন বহতা পানি নতুন করে পথ আনে। 
তোমার আমার ফারাক অনেক তফাত গুলো
ভিন্ন ধারার 
কেমন করে আমরা তবু একে অপরকে চোখে হারাই!   
                      

নাকছাবি

----------------------------  
নাকছাবিটা হারিয়ে গেল হলুদ বনে 
ঝড়ের সাথে 
চোখের মাপে আবার কোনো নতুন 
ছন্দে  নতুন বিরহ ঘর বাঁধে 
ভিজলো চুল ভিজলো মন কার যেন
সংগদোষে 
বর্ষাতিটা ক্লান্ত হল ব্যাগ বন্দি অবহেলায় 
একলা হল আবার মন ছাদের ওপর
চিলেকোঠায়, 
ঝাপটা হাওয়া হাজার কথা গাছেরা বলে
আমরা শুনি 
সবুজ ভাষায় আন্দোলনে ভয়ের কিছুর দিন গুনি, 
ঝড় কি কেবল নামেই থাকে  ওলট-পালট বাইরেটকুই?
প্রেম কেবল গড়ায় নয়, ভাংগনেও দেয় হৃদয়টুকু 
ঝড়ের শেষে কাল হয়তো খবর হবে পাতায় পাতায়
ক্ষয়ক্ষতি সামলে নিতে সামনে ছিল মন্দবাসা।             

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

আর এক জন্ম

আর এক জন্ম সময় দাও আমি দাউদাউ
করে জ্বলে উঠি কোনো দাবানল হয়ে, 
গত জন্মগুলো আমি ধীর তুষের বুকে 
ধিক ধিক করে বেঁচেছি... খাঁটি হতে পারিনি। 
মায়া মোহ  সমস্ত শরীর ও মন  ভগ্নাংশে
যাপিত  হয়েছে,  
আর এক জন্ম সময় দাও দাউদাউ করে 
হোক সৎকার সমস্ত ভগ্নাংশের, 
মিশে যাই তোমার স্বভূমির সাথে 
তোমার পরিচয়টকুতেই থাকুক মন প্রান, 
আর এক জন্ম সময় দাও দাউদাউ করে 
জ্বলে উঠি  তারপর 
তোমার  মন +দিরে  তোমার পুজায় সামিল
করো আমায়।                  

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

শুধু আমরা

--------------------------- 
ওরা ভাবলো প্রেম হয়তো,  বিস্ময়ে
থাকলো অপেক্ষায় ----
তুমি আর আমি হাঁটলাম আগুনে,  প্রথমে
ছুঁলো আঙুল তারপর পুড়লো ঠোঁট,  
আমাদের বেয়ে উপচে উঠলো বহ্নিশিখা --
ওরা ভাবলো হয়তো প্রেম, 
বুকের দরজা জানলা ছই ভেঙে ঝড় করলো
তোলপাড়,  হিমশিম হলাম আগল সামলানোয়,
ওরা যথেষ্ট বাহবায় প্রসন্ন হয়েছিল, 
তুমি আর আমি বুঝেছিলাম  ভাঙন ধরলো এবার... 
নদীর পাড় নৌকার পাল  ছিন্নমস্তার নাচনে  হল
তছনছ  গলুই পাটায় ফাটল ধরে উঠলো জল, 
ওরা ভাবলো প্রেম  -- করতালিতে ভরিয়ে দিল সবাই, 
অথচ নিদারুন কঠিনের উপর  কোমল স্বর রাখা যায় না, 
শুধু তুমি আর আমি বুঝেছিলাম সেটা  
শুধু তুমি আর আমি জানতাম কতটা দহন
চম্বন রেখেছিল আলগোছে, 
ওরা বুঝলো আদ্যোপান্ত একটা প্রেম।    
                       

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

সুবর্ণা (৯১)

+++++++++++ 
এরপর যেদিন তোমার  হৃৎপিণ্ডে টুকরো টুকরো
কাঁচেরা ক্ষত আঁকবে   সেদিন তুমি আমায়
ডাক পাঠিও,  আমি তোমায়  সেদিন আমার 
একটা চর শুকনো নদী দেব,  তুমি বৃষ্টি ভরে দিও
তাতে। 
তোমার   শিরদাঁড়ায় যেদিন ঘুন পোকারা 
মিছিল করে অধিকার ঘোষণা করবে সেদিন
আমায় খবর দিও... তোমায় বাড়িয়ে দেব 
নিজেকে তুমি আমায় বেয়ে উঠে  দাঁড়িও 
আমি তোমায় জড়িয়ে  দিগন্তের শেষে কোনো
পিরামিড ছোঁয়া আকাশ ঠিক খুঁজেই নেব।  
তোমার ঘরের ভেতর কোনো মেঘের দেশ যদি
ডাকাত হয়ে ঢুকে পড়ে কখনো  তুমি ভয় পাবে না 
বলো,  জানো তো  ঝড় চিরকাল থাকে না,   হয়তো
বৃষ্টি থাকবে  .... তোমার সে   বৃষ্টি রাখার জন্য আমি
একটা গোটা নদী দিতে প্রস্তুত, 
তোমার সাজানো সংসারের আনাচ কানাচ নেড়ে 
যেসব অন্ধকার   খুঁজে পাবে সেই অন্ধকার ওলট
পালট করে দেখো আমি ছিলাম সেখানে, 
রয়েগেছি থেকে যাব সব অবহেলায়  অভিমানে,,
তোমাকে বিব্রত  না করে আমার  হাতের রেখায়
তোমায় রেখেছি সযত্নে, 
শুধু এরপর যেদিন তোমার কান্না পাবে  ঝড় 
উঠবে   প্রবল বৃষ্টিতে  ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে হবে
জগৎ সংসার তুমি ডেকে নিও আমায়... 
তোমায় একটা নিপাট   শুকিয়ে যাওয়া নদী দেবো
তোমার স্রোত রাখার জন্য, 
আসলে কি জান আমার যে বড়   তৃষ্ণা পায়
গলা বুক  ফেঁটে যায় তৃষ্ণায় ,  তাই আমার চর
পড়া শুখনো নদীটা তোমায় দেব ভেবেছি 
তুমি বন্যা এনো  আমি ভাসতে চাই, ডুবতে চাই,
যেন আর কখনো আমার তৃষ্ণা না পায়,।                   
                                          

বহুদিন

-------  
বহুদিন তুই নীল সমুদ্রের হাওয়ায় তুমুল
মাতাল হয়ে উঠিসনি,  বহু দিন নেশাতুর হয়ে 
রাখিসনি আমার আঁচলে আকাশের নক্ষত্রদের, 
আজ কত দিন  বেসামাল হয়ে আমার পথে
পথ ভুলিসনি,  আমার মাধবীলতার দু চারটি 
আনমনে তুই রাখিস নি কবিতা জুড়ে, 
তোর আউল বাউল চেহারায় অভিজাত্যে 
পাই না আর নিজেকে, 
সামান্য কিছু গুলো অসামান্য হয়ে গেছে বহুদিন পর
বহুদিন হলো শালিকের বেশে তুই আর আসিস না 
বেখেয়ালি আড্ডায়, 
আমি বহু দিন  তোর ঘামের গন্ধ ভুলে আছি 
ভুলে আছি অগোছালো করে দেওয়া মন কেমনের
ফিরতি বিকেল, 
তুইও কি আমার মত আজ কাল ভুগছিস বহুদিনের
স্মৃতির অসুখ।                    

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

পাগল হওয়া

জানি সব তবু পেছন টেনে ধরে অতীতের কাহিনী রা , হাতের রেখায় সমস্ত সম্পর্ক গুলো অধিকার  লিখে রেখেছে  নিঃশ্বাসে , তাই   আমাদের অস্তিত্ব নামকরণ হীন জমিতে  গোপনে রাখা গুপ্তধন , 
তুই ছাড়া বাকি স্ক্রিপ্টে 
কি যেন এক অসুখ  হৃদয়ে রাখা ,  
মাঝে মাঝে মনে হয় হতে চেয়েছিলাম আমরা  নদী 
কার  যেন অভিশাপে  আমরা 
আজ পাহাড় ....মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সময়ের বুকে অথচ ছুঁতে পারি কই , সত্যি বড্ড দেরি করে ফেলেছি ভুল গুলো চিনে ফেলতে , এখন   আমাদের শরীর জুড়ে  জমা বদ রক্ত আর 
আমরা নীলকন্ঠ ,
তবু মনে হয় তোর হাত ধরে হারিয়ে যাই  আকাশ ঘুড়ি হয়ে ,
তবু মনে হয় কোনো বাউলের বেশে তুই আমি তোর হাতের একতারা হই .....তবু একলা বিছানা বালিশে তোকে ভেবে ফুরিয়ে যায় সবটুকু নালিশ ,
তবু আমি তোর বুকে কান্না রাখি দ্বিধাহীন হয়ে , আমাদের গল্প অসমাপ্ত হয় না কখনো ......কারণ গল্পটার ভূমিকা আর নামকরণ
" মন্দবাসা" গল্পের লেখক তুই কোনো পাগল হওয়া ।

সহজিয়া

---------------------------- 
হাতের ওপর রাখা হাত বদলে যায়
হাতের বোঝা বাড়লে পরে, 
হাতে হাত রাখা সহজ হয় না দু
চার খানা শব্দের জোরে   সেতু মজবুত
হয় না,  পড়ে থাকা   চায়ের কাপে   টাপুরটুপুর
অসময় ঝরে যদিও পড়ে... তবু  নদী 
হতে সবাই পারে না যারা একলা তারা চিরকাল
পাহাড় হয়েই থাকতে চায়
তাদের হাতে কেউ একদিন একটা সম্ভবহীন
ঠিকানার  চিরকুট গুঁজে বলেছিল ভালোবাসি, 
একদিন তাই এই অসম্ভব ঠিকানা আর 
কেতাবি শব্দ মিলে মিশে পাহাড়ের জন্ম
হয়েছিল। 
বান্ধব রঙ প্রজাপতি গুঁটি  খোঁজে,  যেমনটা  কোথাও
কোথাও জীবন বায়োস্কোপে সাজানো, 
চোখের সামনে সাদা কালো আর রঙিন প্রচ্ছদ
একাকার হতে থাকে,  বুঝি প্রলয়ের আগে শেষ
বাঁচাটুকু তোমার  গভীরে  বন্ধক থাকাই  শ্রেয়, 
আমি  বহুদিন একটা সূর্য নগর খুঁজছি সময়ের
উপকূল জুড়ে.........  . 
খুঁজছি সার্থক কোনো প্রেমিক প্রেমিকার যুগল, 
যদি কোনো এক সকালে হদিস পাই এসব
গল্প নয়  তাহলে আমিও ইরেজারে মুছে 
ফেলবো বিষন্নতার   মর্চে দাগ,  তারপর 
উজ্জ্বল দিনের বুকে দাড়িয়ে তুমি বলবে আমায়
পাগলি হাতে হাত রাখা খুব কঠিন নয়,, , হাতের বোঝা
বয়ে  চলাও অসম্ভব নয় তেমনটা,,    
 বলবে সব হাত বদল চায়  না....   
শুরু থেকে শেষ একটা হাত হাতে বেঁধে থাকার
নাম ও হতে পারে ভালোবাসা,, , 
পাহাড় একলা নয় পাহাড়ের বুকে কান
পাতলে তুই উচ্ছল ঝর্নার নুপুর ধ্বনি শুনতে পাবি,, 
শেষমেশ  মাথায় হাত রেখে বলবে এবার তুই মৃত্যুর
বুক থেকে   মাথা সরিয়ে   আয় আমার বুকে। 
                   
                

সোমবার, ১১ মে, ২০২০

স্বেচ্ছামৃত্যু----------------------------

---------------------------- 
কথাগুলোর স্বেচ্ছামৃত্যু কবেই যেন হয়ে গেছে
তবু প্রেম রয়ে গেছে অভিযোগের অগোচরে, 
তুমি আমি থেকে  জন্মানো "আমরা" র সেতু--
যোগাযোগ ফুরিয়ে যায় তবু  কবরস্থ     হয়না
"আমরা " শব্দটা ... শব্দটা নিজেরা বেঁধে  বেঁধে
থাকে চুক্তিহীন হয়ে,  যেমনটা চোখ কখনো বলে না
আজ থেকে আর আলোর ভোর অথবা অন্ধকার দেখব
না.... অথচ দৃষ্টির স্বেচ্ছা মৃত্যু হয়ে যায়, 
এ পৃথিবীতে  ভালোলাগা কখনো কড়া নেড়ে
  আসে না ভালোবাসার  দরজায়...
অযথা সোহাগে  উপচানো  থাকে পান পাত্র,  তবু একদিন
ভালোবাসার স্বেচ্ছামৃত্যু যথার্থ   বলেই ধরে নেওয়া
হয়। 
বদলে যাওয়া ঠোঁট প্রতিটা  মুখস্থ  চুম্বনে অভ্যস্ত হয়েই
পড়ে.... সময় যে স্বেচ্ছামৃত্যুর নাম দেয় প্রাক্তন,, 
চোখের জলে অজস্র নদীর স্রোত তাদের নতুন
নতুন কাহিনি পাড় ভাঙে   বদলায় হৃদয়পুরের
মানচিত্র,  বদলে যায় চোখ বদলায় হৃদয়, 
স্বেচ্ছামৃত্যুর বিস্তীর্ণতা যেন বেঁচে থাকাকে 
নাগপাশে জড়িয়ে নেয়।    ভুল করে
কোনো সুইসাইড পয়েন্টে "আমাদের" পা
পিছলে পড়ে.... কেউ জানতে পারে না
এটাও   একটা স্বেচ্ছামৃত্যুই ছিল।   

রবিবার, ১০ মে, ২০২০

বাজে মেয়ে

--------------------------- 
আমি বাজে মেয়ে ...., আমি সেই বাজে মেয়ে
যার চরিত্রে খুব সহজে লাগানো যায় 
মুখোরোচক কোনো চরিত্রহীনার  তকমা, তবু আমি 
বাজে মেয়েই হয়ে থাকতে ভালোবাসি, 
আমি সেই বাজে মেয়েটা যার স্বভিমান তাকে
কখনো কোনো প্রেমিক, স্বামি,  পিতা,  কিংবা
সন্তান,  বলা যায় কোনো  পুরুষ  কে 
বাহন করে বাঁচতে চায়নি ,   
সেই বাজে মেয়েটা সময়ে সময়ে হয়ে উঠেছে
পাড়ায় ঘরে বাইরে সামাজিক বাহকদের 
 সাতকাহন  আলোচনার ঝড়, তবু সেই বাজে মেয়েটা
কখনো চায়না ভালো হতে, 
সেই বাজে মেয়েটা ভাগ্যের অখণ্ড লেখা কে
তাচ্ছিল্য করে নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নেয়
বরাবর     , বুকের বারুদে তার সর্বদাই পূর্ণাঙ্গ
দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে রাখে ,  বাজে মেয়েটা
অন্ধকারকে ভালোবাসে আলোর থেকে দ্বিগুণ, 
সে হাঁটতেই পারতো নির্দেশিত পথে, তবু বরাবর
পাহাড় জংগল কেটে কেটে নিজেই পথ তৈরি করে, 
বাজে মেয়েটা সোহাগি হতে চায়নি কখনো 
বরং রুদ্র রুপের সমুখে দাঁড়াতেই সাবলীল সে। 
বাজে মেয়েটা  সু-গৃহীনির থেকে সহ যোদ্ধায়
সুখ দেখে ,  তাই বাজে মেয়েটা লক্ষ্মীছাড়া, বেহায়া। 
সংসার শাড়ী গয়না শাশুড়ী ননদ অথবা
পাড়ার কুটকাচালিতে মন নেই,  মন নেই
,তার ঠোঁট রাঙানোর রং দানি বা চোখের
কাজলে,  তার  চোখে  তীক্ষ দৃষ্টি, ঠোঁট
তার ধারালো শানিত ছুরি, সেই বাজে মেয়েটা
 রুপ কথা পড়ে না... পড়ে পাল্টে ফেলার ইতিহাস, 
সেই মেয়েটা সমাজের জন্য মানুষ দেখে না.. 
দেখে মানুষের জন্য সমাজ,        
    আমি সেই বাজে মেয়েটা হয়ে থাকতে চাই
আজ এবং আগামির প্রতিটা জন্মে,
আমিই তোমাদের সেই চিরাচরিত বাজে মেয়ে।   
    
  
                       

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

আয়না কথা

--------------------------- 
আয়না টা  ভাঙার শব্দ আমি পেলাম না, 
যার সমস্তটায়  আমার নিতান্ত ভালো থাকা  
গড়িয়ে নামতো আনন্দধারার মতো তার 
চুরমার হয়ে ছিটিয়ে যাওয়ার কষ্ট আমায় জানতে
দিলো না,  এমনই হয় হয়তো  ছেড়ে যাওয়া  আশ্রয় গুলো, 
নিশব্দে  মিশে হারিয়ে যায় ঝড়ের আঘাতে, হত্যা
হয় আর্তনাদ বিহীন ,  শেষ যাতনাটুকু কেন বলতে 
পার সুজন আমারই প্রাপ্য হয়  বরাবর,,  
টুকরো টুকরো খড়কুটো জড়ো করে  কেবল
যেন তাসের ঘর সাজিয়ে চলেছি আমি আর 
বিধাতা খেলার ছলে এক একটা গুটির দানে
ভেঙে  গুড়িয়ে দিতে মত্ত, 
আজ আর কাঁদতে পারলাম কই  যেন এ আমার
অবচতনে জানা কাহিনি, 
ফুরিয়ে যেতে চাইনি তাই মুখ থেকে ওঠা রক্ত
গিলে ফেলেছি দিন প্রতিদিন, আলোর দেশে 
একদিন ফিরবো  এমনটাই তো চেয়েছি, 
প্রতিটা  যুদ্ধে হেরে গিয়েও বুকের ক্ষতদের
উৎসব দিয়ে যন্ত্রনা ভুলিয়ে  আগামীর জন্য
প্রস্তুত করেছি.... তবুও আমার দীর্ঘ সময়ের
আয়নাটা আজ নিঃশব্দে ভেঙে গেল... 
আমার জমিন জুড়ে  ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে
গেল আমাদের একসাথের সুখ দুঃখের 
সাতকাহন,  মুখ ফিরিয়ে   ঝড়ের ক্ষতগুলো
আড়াল করে রাখলো শেষ বেলাতেও, 
যেন চলে যাওয়ার আগেও আমার জন্যে রেখে
যাওয়া চিরকুটে এঁকে গেল " আমাদের
কাহিনি ফুরোলো  নটে গাছটি মুড়োলো। 
আজ ঝড়ের বিকেলে আমার আয়নার
বুকে অসংখ্য কাটাকুটি খেলার সাক্ষর
রেখে কে যেন আমায় বলে গেলো তুমি 
ফুরিয়ে যাচ্ছ,  আমার আয়নাটা আজ 
চুরমার হয়ে গেল কালবৈশাখীর ঝড়ে।            

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

নির্ঘুম ভাবনা

----------------------------  
কান্না চাপা খয়েরী রঙের রাতটা 
ঘড়ির কাঁটায়  বিছানা বালিশে সময়
এখন দেড়টা, 
কালো  রংটাই চেনাশোনা খয়েরীটা আনকোরা 
বৃষ্টি এলো মন জুড়ে আর বাড়ল যোজন  দুরিয়াঁ, 
অন্য নামে  সাজছে প্রেম পোশাক ঢাকা কান্না 
সুনসান শহরে চুপ কাহিনির বইছে বাতাস 
অচেনা সব মনখারাপের নালিশগুলো আর না, 
আঙুলের ফাঁকে জানলা রাখি  বারো ঘরে আমি
বন্দী থাকি। 
তবু রোজই  দেখা হয়ে যায় তোমাতে আমাতে
যেকোনো গলিতে,, 
জানতে পারি না বন্ধু কারা !  আমরা যেখানে
দাঁড়িয়ে রয়েছি  --- সমান্তরালে রয়েছে যারা, 
ভেতোরে সবার অস্ত্র শানিত    এমনো পরশী
কেই বা তা জানত, 
দেখাতে পারি না তোমার কাহিনি  অস্ত্র ছাড়াই
গড়তে পেরেছে মারন বাহিনী, 
আর কিছুতেই মন বসে না কবিতা কাব্য লেখাতে
জখম গুলো জিদ্দি বড্ড সারতে চায় না ঝুটি দোয়াতে, 
উপহার গুলো  মুড়ে ছিল সব  ঝিলমিল  অনুভব আঁচে 
হঠাৎ কারা যে রক্ত ঝরালো মন ভেঙে যাওয়া কাঁচে, 
তবুও তুমি তবুও আমি বুঝে নেওয়ায়  নই ক্লান্ত 
ভেতোরে ডানা ঝাপটে মরি বাইরেটস  ভীষণ শান্ত।                       
             

সোমবার, ৪ মে, ২০২০

ঘুমের ওপারে


এত স্তব্ধতা আমি আমার চারপাশে আগে দেখিনি
একটা ছায়ার মত নিস্তব্ধত ঘুমের ভেতোর আমি
বহুকাল পর হাঁটছিলাম,  দেখতে পেলাম কতগুলো
নদী তাদের প্রবাহে আলাদা আলাদা রং, 
আমি চোখ বন্ধ করে একটা নদীতে নামলাম
স্পর্শে এল এমন অনুভূতি যা আগে     কখনো
হয়নি, তোমার শরীরের গন্ধ মিশে গেছে    আর একটা
শরীরে  সে আমি নই.... তুমি  আমাকে বলতে পারোনি
কেন জানি না... বলতে পারোনি তোমার প্রবাহে এখন
অন্য কোনো নতুন শরিকি, তোমার সময়ের বুননে
আমি অনেকদিন আগেই থেমে গেছি.... 
আমি টের পাইনি তেমনটা নয় আসলে তোমাকে 
আর তোমার নাটকে আমি একাকার হয়ে গেছিলাম, 
অবহেলা সবাই বুঝতে পারে তার জন্য কাব্যিক   সাহিত্যিক
না হলেও চলে,   যে কন্ঠ আঠারো বছর কোনো শব্দের  
আস্ফালন করে নি   শুধু তোমার শব্দে অহল্যার
মুক্ত কন্ঠ কেঁপে উঠল  সে কিছুই নয় কি?   
তুমি বুকে হাত রেখে বলতে পারো না এ তোমার
নতুন অধ্যায় নয়, আমার কোনো অভিযোগ নেই 
সুজন,   শুধু জানার ইচ্ছা রইলো তবে আমাকে
আঁকড়ে থাকার নাটক কেন আজো!  আমাকে
ছুড়ে ফেলতে কিসের দ্বিধা,   আমি বলছি তোমায়
যাও  এবার তুমি...  নয়তো  হারিয়ে যাবে কোনো অতলে। 
তোমার দুনৌকার দিশা আলাদা আলাদা, নতুন
তোমায় আমার থেকে বেশি দিতেও পারে,,  
আমার ঘুম ভেঙে যায়  এরপর,  
আমি ঘুম ভেঙে দেখি আমার শরীর ভেজা চুপচুপ, 
উত্তরের আকাশে গিয়ে তারাদের সাথে বসলাম 
ভেজা আমিটাকে আঁকড়ে, কান্না পেল কান্নার স্রোতে  
জুড়তে থাকলাম তোমার  শ্বাশত প্রেমের একটার
পর একটা কবিতা,  স্পষ্ট দেখলাম  আমার 
আকাশের থেকে তুমি দুরে সরে যাচ্ছিলে 
টকটকে লাল টিপ পরা নারীর উদ্দেশ্যে।  
আমি আমার থেকে বড়  তামাসা   আগে
দেখিনি.... একটা ধিক্কার জুড়ে আমি 
আমাকে দেখছিলাম আর   ভাবছিলাম  .. 
 তুমি কি সত্যি কখনো কাউকে ভালবেসেছ, 
       
                             

শনিবার, ২ মে, ২০২০

খবর

---------------------------- 
যদি  খবর দিই ভালো নেই   যদি বলি 
তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে..... 
মন আর শরীর কেমন অসময়ের বৃষ্টিতে
ভিজে  যাচ্ছে,  তুমি তো দেখার জন্যে 
আসবে না    তুমি তো আমার এই বৃষ্টি ভেজা
রুখতে একটা ছাতা নিয়ে  উর্ধশ্বাসে আমার 
দিকে আসবে না, 
তবে কি লাভ জেনে কেমন আছি?  কি লাভ
জেনে আমি  শেষমেশ নিজেকে কোনো
উইঢিপির আড়াল করলাম কিনা। 
 বরং আমার শুন্যতার দিকে তাকিয়ে তুমি আর 
দীর্ঘশ্বাস ফেলো না ,  তার থেকে ভাল 
নিয়মিত একটু একটু করে আমাদের অভ্যাসে
আসুক চেরাপুঞ্জির মেঘ সমেত আকাশ, 
একটু একটু করে মন্থর  গতিতে কোনো এক
অদৃশ্যে মিশে যাক  যোগাযোগ সেতু, 
ফিরে যাওয়া যাক তুমি আমির ব্যাক্তিগত 
খোলোসে। 
তুমি আর এই  ব্যাপারটা নিয়ে ভেবো না 
তুমি তো জানোই আমার গ্রহের সব,  জেনেও
কেন জানতে চাও  মাঝে মাঝে 'কেমন আছিস বাবু... '
তোমার শহরের লাল রক্ত প্রবাহে মিশে
আছে হয়তো  আমার ধমনী কাটা স্রোত, 
আঁশটে  গন্ধে রোজকার হাজারো মৃত্যুর স্বাক্ষর,      
 আমারা যার যার মৃত্যু নিজের মত ভাগ 
করে নিয়েছি,  কারন  খবর দেওয়া খবরের
কাগজ গুলোয় এখন লাল রঙে মৃত্যু শোক
লেখা,  আর আমি জানি তুমি খবরের
কাগজ পড়ো না,  খবর দেখো না, 
তোমার সমস্ত  যন্ত্রনা উপচে তুমি শুধু
মাত্র কবিতায় ক্ষতবিক্ষত হতে থাকো। 
 তোমার ভীতু  শব্দ জব্দ বারংবার তরবারি
চালিয়ে কবিতার খাতায় সাহস লিখে জেহাদ 
করে,  আমি এসব জানি, তোমার সম্পুর্নটা
আমি দেখতে পাই... যেমনটা তুমি আমাকে,, 
তবুও  হঠাৎ টেলিফোনে একটা অচেনা নাম্বার
....আর         
 খবর পাও  আমার আজ সকালে আর
ঘুম ভাঙেনি... তুমি কি একবার  আমায়
শেষ দেখা দেখতে আসবে ?  নাকি
স্মৃতির পাতা খুলে পুরনো ছবিতে  আমাকে
স্পর্শ করবে। আর নিজেকে বলবে তোকে
ভালোবাসতে,  তোকে ছুঁতে এমনকি তোকে 
দেখতে আমার তোকেও প্রয়োজন নেই।