রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

কবির অ-সুখ

  নিঃশব্দে কান পাতলেই শুনতে পাবে কবির অসুখ কাঁদে গভীর অন্ধকারে যখন কোজাগরী রাত পুড়ে যায়   দীর্ঘ অন্তর দহনে ।

আমরা  যারা  কখনো সন্ধ্যে গুলোর যত্ন করতে পারিনি  ....তুমুল বৃষ্টির পর তাদের বাড়ির খুব কাছেই সাবধানী  ফেরার রাস্তা রাখতে হয়েছে চিরকাল  , 
ভুবন ডাঙ্গার  মাঠের মত প্রাণ বাতাস বাড়ির পাশে ছিল না কারণ  ,প্রতি রাতে সেখানে সম্পর্ক পুড়ে যাওয়া আঁশটে গন্ধ বাতাসে ভর করতো , 
 আর কবির অসুখে সে বাতাস ছড়াতো  ক্রমবর্ধমান ক্রমিক সংখ্যা ....,।
কারা যেন জেহাদ করে  নগরের সমস্ত রাস্তা একদিন অন্ধ করে দিতে চেয়েছিল !  ওরা চিরকাল চেয়ে এসেছে অন্ধ রাস্তা যেন  আগন্তুকে পথ না বলে দিতে পারে ।
ক্রমশ অবহেলায় রাখা সন্ধ্যে গুলো প্রেতাত্মার মত মাটি ও মাংসের মানুষ গুলোর দুয়ারে অগুনিত নিষেধ এঁকে রেখে গেল ,, সেদিনের পর থেকে কবির  বুকের শব্দে   শুধুই  নাব্যতার প্রবাহে লালনের  ফুরিয়ে আসা  সুর  বাসা বাঁধলো ।

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

কবি

আমি অনেকদিন অবধি ভাবতাম তুমি একজন কবি , নিশ্চুপ পাহাড়ের দেশে বসে আকাশ দেখা একজন কবি ,যার গালে গড়িয়ে নামা শিশির মোছানোর জন্য কেউ বরাদ্দ ছিল না ,
 যার শরীর জুড়ে নক্ষত্র মন্ডলী থেকে অজস্র টুকরো টুকরো শব্দ বেয়ে পড়ছে ....,
 আমি অনেক দিন অবধি ভাবতাম তুমি একজন কবি .................
সাদা পাতায় তোমায় যখনই পেয়েছি তুমি লাভার মত অনর্গল গড়িয়ে গেছো কখনো , আবার কখনো সমুদ্রের গভীরে 
লাল নীল শৈলজর মাঝে স্তব্ধতার মত স্থির ,

সুতোর রিলে পুঞ্জীভূত সময় টেনে খুলে খুলে তোমার অন্তর মহলের  ঠিকানা পাইনি খুঁজে  , 

আমি অনেক দিন অবধি  ভাবতাম তুমি কেবল একজন কবি ,..... অথচ তোমার মাধ্যাকর্ষণ না মানার ক্ষমতা  ,অসীম কে তুচ্ছ করার ক্ষমতা সমস্ত প্রেমাস্পদ থেকে মোহ হীন হওয়ার ক্ষমতা  আমার সমীকরণ বদলাতে বাধ্য করেছে .......,
.........আমি অনেক দিন অবধি ভাবতাম তুমি একজন অদ্যপ্রান্ত  নিপাট কবি ।

অপেক্ষার শহর

সকলেই অপেক্ষা করে অথচ কেউ খোলাখুলি 
বলে না ,কানাকানি ফিসফাস বাতাসে ওড়ে ,....  মোড়ের মাথায় ধোপানির ছেলেটা শীত চড়ুইভাতি গেছিলো সে বছর  ..... বছর এর পর বছর শীত আসে যায় ছেলেটিকে   কেউ ফিরতে দেখেনি আজও । ছত্রিশের প্রেমিক তার তরুণী প্রেমিকাকে বলেছিল রোজ বারান্দায় দাঁড়িও  আসা যাওয়ার পথে একবার আমাদের দেখা হওয়া জরুরি ,মেয়েটি হাতে গোলাপ নিয়ে অপেক্ষা করতে করতে গোলাপের রঙে মরচে ধরে গেছে যুবকটি সে রাস্তায় ফেরেনি কখনো , 
যুদ্ধে যাওয়া সৈনিক তার সাত বছরের সন্তান কে বলে  বেরিয়েছিল  বড় দিনের ছুটি কাটবো একসাথে .....সাত বছর এখন একুশে পা দিয়েও  প্রত্যেক  বড় দিনে অপেক্ষা করে  বাবা ফিরবে ......! অপেক্ষা শেষ হয় না ।
কখনও কোনো সকালে  ছদ্মবেশী অপেক্ষার শহরে আমিও সামিল হয়েছি .....সন্ধ্যে নামলেও অপেক্ষা ফুরোয়নি , এ শহরে 
দশ দিক কেটে নতুন পথ বার করলেও অপেক্ষা ফুরোনো কারো , 
অতীত থেকে আগামী কেবল অপেক্ষার জাতিস্মর 
হাজার হাজার , পথ আর পথিক বদলায় অপেক্ষা নয় ।

তোমার ভেতর

একটা নদী দেখতে পাই গোঁসাই তোমার ভেতর ,
আর নদীটার মধ্যে ধ্যানস্থ এক আত্মা তরঙ্গ যার সামনে আমি চিরকাল নতজানু ,
চিরকাল  আমি তরঙ্গের কাছে সমস্ত গোলকধাঁধা 
থেকে এক সুধাময় জীবনের খোঁজ পাই ,

রেশমের নগরের নাগরিক জটে তাই আমাকে কেউ খুঁজে পায় না ,

আমি তোমার একতারার কোটরে ঘুমোতে যাই শ্মশানে আগুন নিভে গেল .......নদীটার সাথে সঙ্গম উপাসনায় একাত্ম হয়ে যাই সমস্ত সংস্কার পেছনে ছেড়ে এসে  ,, জীবনের ভেতর তখন সাক্ষাৎ আলাদিনের চিরাগ ।

..........গোঁসাই তুমি কি টের পাও তোমার নিঃশব্দে সাধনায় এত তরঙ্গ উচ্ছাসের ওঠা নামা ! , নাকি 
তুমি নিজ হাতে আমার কপালের লাল টিপ মুছে ছাই ভস্ম দিয়ে তৈরি করে নাও ঠিক তোমার স্বরূপের প্রতিবিম্ব , 
তার পর হাসতে থাক আমার যন্ত্রনা আর উপশমের সংঘাত দেখে , 
অথচ দেখ প্রতিটা যন্ত্রণা আর উপশমের সংঘাত শেষে  কি আশ্চর্য সাঁতারে আমার মন বার বার ভেসে ওঠে তোমার প্রবাহ তরঙ্গে ....এও কি খুব মামুলি ব্যাপার !



সুবর্ণা(১০০)

ট্রামের সিঁড়ি  বেয়ে সময় নামছে...
নির্দিষ্ট ছায়া পথ মরণের জলরেখা ছুঁয়ে যাচ্ছে,
 হৃদয় থেকে  আহেরী টোলার গঙ্গা স্রোতে ,

 সুবর্ণা অপেক্ষমান সেই ছেলেটা 
   তোমার লাল টিপ আর  চোখের কাজল রেখায়  ভাসতে চেয়েছিল আজীবনের ডিঙিতে ,,

ক্রমশ রাত নামছে এই  বুকের জঙ্গলে , দেবদারুর বনে গাড়ি এগিয়ে যায়  পেছনে ফেলে....  সূর্যের আলো পড়া ধানক্ষেত , আলতা পায়ের ছাপ ,কোজাগরী খুনসুটি  , জুতোর ফিতের গায়ে লেগে থাকা মিঠেল ছোঁয়া  ,

চটি জামা ছাড়া  ল্যাংটো লোকটা  বারবার  আঙুলের করে উদযাপনের দিন গোনে
ঘাসফড়িং এর খোঁজে মাঝে মাঝে শিশিরের মুকুট পড়া ঘাসে আতস কাঁচে চোখ ঘষে ।
 
কখন দিন -- কখন রাত --  এই মিশেল হাওয়ায় সে চিনতে পারে না তার সাধন সঙ্গীর মুখটা 
নিভন্ত সকালে শুধুই অতীতের দিন গোনা  ....
কারণ পৃথিবীর চোখে সে অদ্যপ্রান্ত শুধুমাত্র পাগলা আজ ।
.............(সুবর্ণা প্রিয় সমাপ্তি)

শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

আশ্চর্য স্বপ্ন

জং ধরা গোলাপের রং দিয়ে বহু দিন ধরে আশ্চর্য্য
স্বপ্ন এঁকে চলেছো ,

বহুদিন তুমি জেল খানার ভেতর কেবল তান্ত্রিক 
অপভ্রংশর অশুদ্ধ তত্ব ধারণ করে চলেছ,

নারীর যোনির উপান্তে এসে রক্ত  আর লালা মুছতে মুছতে কোন এক কামার শালায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছ সামাজিক চতুর্থ বন্ধনী ,

বন ঝাউ এর সাথে যৌণ মিলনে চিরন্তন শ্যামা তুমি কখনো পাওনি , 
তাই অপভ্রংশ কে স্বভাবতই মনে করেছ ,
তোমার দর্শন কেবল তোমার আগলে রাখা ঘরের  আঁধার টুকু , ,,
সেটাও যে  জেলখানা বই কিছু নয় একথা মানবে কবে? .....
জীবন সামান্য বৃত্তে আগলে নিঃসর্গময় যাপন করে
চলেছো,,.... সাদা পাতায় মাকড়সার মত শব্দের সিঁড়ি ভাঙার চেষ্টায় পৃথিবী ভাঙচুর করছো বারংবার....,
প্রতিবার সে পৃথিবী গড়ন আলাদা ,প্রতিবার সাধন সঙ্গিনী আলাদা .....হাওড়ের জলের থেকেও তোমার মনের খরস্রোতা বহতা ।সেই বহতায়  অজস্র হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ,
গোঁসাই স্বপ্ন আঁকা মামুলি ব্যাপার নয় ....সেকথা মাকড়সাও জানে ।

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

নালিশ বিহীন

ভিজে চুপসে থাকা ঘন শব্দদের তুমি মাঝে মাঝে 
আর একটু জল মিশিয়ে দাও , 

তারপর নিজেই নিজের ভয় গুছিয়ে দরজায় দাও খিল ,
কখনো মেঘ কখনো রোদের বয়ানে লিখে ফেল আমিই নাকি দূরত্বের মাইল ফলক পুঁতছি প্রহর জুড়ে .... পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলছি অবহেলায় সাধন সঙ্গী ,,
...এও কি সত্যি মানতে হবে শীতল ষষ্ঠী রোদকে করবে অবহেলা,
  মনের মত চোখও জানে সত্যি 
ডানা বিহীন শোকের ছায়া মাথার ওপর ....
মন কেমনের পরে আর কি থাকে হৃদয়ের দফতরে .....বুঝতে যদি নিদেন টুকু দরজা না হোক চিলেকোঠার জানলা টুকু রাখতে খোলা , 
নালিশ বিহীন মন বলে শুধুই দিলে অবজ্ঞা ।

দ্বিরাগমন

সন্ধ্যে গুলো এখন বিষণ্ন গণিকা 
অপেক্ষার দেওয়ালে হেলান দিয়ে মরীচিকার আয়ুতে যত দূর যায় চোখ রাখে মানতে পারে না এমন দুনিয়ায় কেউ আসলে কথা রাখার জন্য আসে না  .....,
এক একটা সন্ধ্যে লন্ঠন জ্বালিয়ে বসে পুরোনো রীতির অভ্যাসে জামার ভাঙা বোতাম সেলাই এর চেষ্টায়  ... আলো অন্ধকারের দ্বিরাগমন হতে থাকে, , 
 বোঝাপড়ায় নিঃশ্বাস বাতাসে আসার জানালা  বন্ধ করে ব্যান্ডেজের জীবনে প্রবেশ করে  যারা 
এক দিন কথা দিয়েছিল ফিরবো প্রতি সূর্যাস্তের পর।
সন্ধ্যা গণিকার মত  রাত ছুঁয়ে যায় অপেক্ষা মাথা নিচু করে স্তব্ধ হয়ে  , 
তুমি  সওদা করে আলোর শহরে ব্যস্ততার নাটকে মেতে ওঠ ,
অন্ধ রাত কে ভোর ভেবে যে হাত বাড়িয়ে ছিল ঈশ্বর সে হাত এখন সন্ধ্যে গুলো কে চরিত্রহীন ভেবে   ফিলামেন্টের ব্যারিকেডে হেঁটে যায় ।

স্বপ্নের সিম্ফোনি

ভোর রাতে স্বপ্ন দেখি আমার কফিন বাহক তুই 
কান্না লেখা চিরকুট  কফিনের পেরেকে পেরেকে গোঁজা।
তোর চোখে সময় হারানোর সিম্ফোনিতে সন্ধ্যে নেমে আসে ,
প্রশ্ন তুই সেদিন এর পরে কেমন থাকবি ...!
প্রশ্ন আমার মৃত্যুর বিচার্য তুই সেদিন সঠিক করতে পারবি তো ! 
ভোর রাতে স্বপ্ন দেখি রোদের বয়ানে তুই আমাকে চিঠি লিখছিস ,ছেড়া সোয়েটারের উষ্ণতা দিয়ে রিপু করে দিচ্ছিস  শব্দের সুতোয় ,

বোতাম ঘরের চারটে ফুটোয় আমায় বুকে আগলাতে চাইছিস ,
তবু খবর মাফিক এসব মিথ্যে  রূপকথা 
যেমন মিথ্যে রাজা রানী সোনার কাঠি রুপোর কাঠি .....যেমন মিথ্যে শহুরে প্রেমিক প্রেমিকার হাতে হাত রেখে হাঁটা সমস্ত প্রতিশ্রুতি ....
মাথার ভেতর এসব অবগাহনের পর শেষ স্বপ্নে সেগুন রঙের কফিন আর শেষ সাধন সঙ্গী শুভকামনায় তুই  ,
ভোর রাতে স্বপ্নে তুই আমার কফিন বাহক ...
ঘুম ভেঙে মনে প্রশ্ন এলো মৃত্যু  কি  দুবার হয় !

নতুন ফিকির

কোনো এক ফিকির পথ বাঁক বদলায় 
চলতি হওয়ার মিছিলে আমি দল ভাঙা লোক
কিংবা দলিত বিষকন্যা ,
দৃশ্য কেটে আনা নিজস্ব অতীত পাতা ঝরার মত জড়ো হয়  ঈশ্বর নিঃস্ব তরোলহীন কাঁচের পুরান এগিয়ে দিয়ে ফিরে জয় নিঃস্বর্গে উদ্দেশ্যে,  .....ভোর রাতে স্বপ্নে বাউলের দলে হেঁটে যায়  চেনা  সে জন কবিও থাকে সে পথে ,
তার নিঃসঙ্গতার পিছু নিয়ে মনের কাঁচা পথ ধরে 
শব্দের গোপন চিরাগ ছুঁয়ে ফেলি ,
অথচ শব্দ তো মায়া জাল তাই ভালোবাসার কোনো কথায় কোনো ভূমিকা রাখতে চাই নি ঠোঁটে । 
আশ্রয় পাওয়ার নেশা একটা অসুখ সে সব সময় 
ছায়ার দিকে ছোট ,, 
অথচ নতুন ফিকির রাস্তা যখন বাঁক নেয়  ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় দুটো মন ....
ছিঁড়ে যায় ভালোবাসার সব অক্ষর ,
এক মনে কুড়িয়ে রাখা থাকে কাঠ ....
অন্য এক একটা মনে তখন সে ভেসে যায় ।

বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

শব্দের উৎসর্গ

কবরে শোয়ানো মৃতদেহটাকে শোনাবে বলে তুমি এযাবৎ কবিতা লিখে যাচ্ছ , মৃত দেহটার কষ্ট কমানোর জন্য মাথার কাছে ক্রুস কাঠ রাতের অন্ধকারে খানিকটা দূরে সরিয়ে পুঁতে দাও , 
এ কবিতা তোমার লেখা ....
হয়তো ওফেলিয়ার নিঃশব্দ আত্মহত্যার মত এই মৃত্যু ,
তুমি যে তার মৃত্যুর পর তাকে খুব কাছ থেকে কবিতা শোনাবে সে হয়তো জানত , 
তাই।মৃত্যুর আগে কফিনে রেখেছে ....একসাথে হেঁটে আসা পথের কয়েক মুঠো মাটির আলাপন , কিছু অসমাপ্ত চুম্বন , নাভিমুলের অঙ্গীকার পত্র , নানান মাপের পাথুরে আত্মীয়তা ,।
 তারপর নিজের করতলে মৃত্যু দাগগুলো ফিরিয়ে দিয়েছে  জোৎস্নার দিকে , 
সে জানতো তুমি আসবেই , তবে তার চোখে চোখ রাখতে নয় ,
...........কবরে শোয়ানো মৃত দেহটাকে শোনাবে বলেই এযাবৎ তোমার সমস্ত কবিতা  লেখা ।
তোমার কাছে তার কিছু  অব্যর্থ শব্দ রাখা আছে যা দিয়ে কিছু ঐতিহাসিক ছবি আঁকা যেতে পারে বলে তুমি জানিয়েছিলে  , 
মৃত দেহটাকে তোমার যাবতীয় কবিতা শোনানোর পর ফিরে যাওয়ার আগে তার কফিনে ওই অব্যর্থ শব্দদের রেখে যেও ।

আমার পৃথিবী

অন্ধকারে বড় সহজে বেঁচে থাকি আমি ,

একাকিত্বের আয়নায় স্পষ্ট দেখতে পাই আমার ফাঁপা হাড়ে লাল নীল রঙিন মাছের চোখ,

মাঝে মাঝে অন্ধকার ডিঙিয়ে খাঁড়ি পথে  প্যাস্টেলের রং ঘেঁষে হেঁটে যায় বক এর দল।

অন্ধকারে বড় সহজ হয়ে বাঁচি আমি .....
অসাড় অনুভূতি আর অবহেলার সংকেত দিয়ে ভিজে বাতাসে ত্রিভুজ এঁকে ফেলি নানান মাপের ,,,

খুব কম  মানুষ জানে একটা গোটা রাতের ভেতর   এমন অজস্র ত্রিভুজ অন্ধকার আঁকা থাকে ,

........ আমি এমন অন্ধকার ত্রিভুজ জুড়ে  জুড়ে কুৎসিত  চিহ্নের কফিন বানিয়ে রাখি...  যার ভেতর সুর ধারার মত  অনর্গল অন্ধকার ঝরে পড়ে ।
এমন নিকষ অন্ধকারে আমি বড়  সহজে বেঁচে থাকি ।

অন্তর দৃশ্য

কাঠের জ্বালানিতে আগুন কুড়িয়ে রাখি 
মৃত্যু  ঝাঁপ দেবো বলে ,
কত প্রজাপতি ঋণ ধেয়ে আসে ভালোবাসা নামক 
শব্দের কাঁধে.….. গালে ,,
আমি কেবল নাভিকুন্ড ডিঙিয়ে প্রথাহীনরাত পাখির নিঃশ্বাস ছড়িয়ে যাই নিজস্ব নির্ঘুম রাতে ...,,

গন্ধর্ব মতে স্পর্শ রাখলে সে স্পর্শ একদিন দৃশ্য হীন হতেই হয় । 
শরদেহ সাজানো সময়ের শস্য ক্ষেতে, ...ওপর থেকে দেখলে সরলরেখা মনে হতে পারে,
 .....মনে হতে পারে দু প্রান্তেই ভালোবাসার বিন্দু,, আসলে শর কাঠি বেয়ে ক্ষরিত রক্ত রেখার বহতা সমীকরণ,, 
শব্দের চুড়া থেকে কখনো কখনো গোলাপের রং মনে হতেই পারে তা বলে সেটা সত্যি ভাবার তেমন তীব্র কারণ নেই ।
আমরা সকলে তীব্র  অন্ধকার অসুখে ভুগতে ভুগতে মাঝে মাঝেই দিশেহারা হয়ে ঝলমলে শপিং মল কিংবা নিদেন পাড়ার বিহারীর দোকান থেকে 
বোরকাম রিফ এর প্যাকেট কিনে কিছুটা আলো রাংতায় মুড়িয়ে বুক পকেটে কিংবা সাইড ব্যাগে রাখি ,,.....রেকসিপ্রার মত অসুখ রং ফিকে হয় তাতে আসলে বহু নির্ঘুম রাতের পর একটা  প্রশস্ত ঘুম দরকারি হয়ে পড়ে ,

যারা রোজ কিছুটা সময় ঘুমোতে পারে তারা কখনো মৃত্যু ঝাঁপ দেবার জন্য আগুন কুড়িয়ে রাখেনি ।

তুই ছাড়া তোর শহর

তোর শহরে এলেই সোয়েটার শীতএর তোর কথা মনে পড়ে ,
 অথচ তুই কবেই সরতে সরতে 
মনের চোখের নাগালের বাইরে চলে গেছিস  ,

একলা দুপুর কাজের ফাঁকে অবসর সবই ঠিক কেটে যায় ....শুধু মাঝে মাঝে  আচমকা মনের মাঝে নিয়মহীন অন্ধকার ঘনিয়ে  বর্ষা আসে ,

অথচ পোশাকের নীচে সমস্ত আবহাওয়ার রদবদল ঢাকা রেখে আমি তোর শহরে, বন্দরে, নদীর কিনারে, হাসি মুখে হেঁটে যাই  ....
শরৎ বাবু বলে,গেছেন স্বেচ্ছায় মেনে নেওয়া দহনকে ঐশ্বর্যর মতোই ভোগ করতে ভালো লাগে ,
আমিও সে কথার অন্যথা করিনি ....
তুই হয়তো বুঝেও চুপ থাকিস .....কারণ তুইও মানিস মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কেউ হয় না  কখনও ।

অর্কিড প্রেমিক


বিবাদের দখলে তোমার দুপুর গোড়ানো নিকোটিন কথোপকথন , ছেড়া ছেড়া শব্দের নালিশ , ছোট হয়ে আসা  শীত সোয়েটারের সাইজ ,
আর আমাদের  অক্ষত রাখা জন্য  স্পর্শ  যা স্নান হারানো ছিল আগে.... তাদের দেহ এখন  অক্ষরে ঝুলছে , 
জানি না কোথা থেকে দলে দলে একলা বাতাস এসে  ঝুলন্ত দেহ গুলো নাড়িয়ে দিয়ে যায় ,

দেহ গুলোর ছায়ায় যে অন্ধকার লেগে থাকে  সেখানেই ভাঙা ঘাতক চিহ্নরা বাসা বাঁধে .....

লাশ ঘরের সীমারেখায় অসুখের কাঁটা তার  
তাই আমাদের ঘুমের ভেতর দেশ কাল সবই এখন নিয়মমাফিক  ভাগাভাগি হয়ে গেছে , 

আমাদের দায়ভার কথোপকথনের বেশির ভাগ পথই এখন স্তব্ধতায়  কিংবা সৌজন্যে কেটে যায় ,।

সুবর্ণা (৯৯)

সুবর্ণা তোমার নামের পাশে চিরকাল অমলিন হাসি রেখে যেতে চেয়েছি ,
রেখে যেতে চেয়েছি খানিকটা রাত বেহাগ , খানিকটা গোলাপবর্ন ঘর  ,কিছুটা আকাশ ,

....অথচ তোমার কাঁচের দুচোখ থেকে   ঘুড়ি ভাসা উদাসীন মেঘেদের মিছিলের জট  ভীষন কঠিন ।
...এখন মায়া ও সংঘাতের এক একটি দিন  কুঁচিয়ে কুঁচিয়ে  শহরের মিনারের চূড়া থেকে ছিঁড়ে ফেলে দিই, 
তোমাকে ফুরিয়ে ফেলতে চাই ইদানিং.…. কিছুতেই 
শেষ গন্তব্যের যাওয়া  পথে আলোর বিন্দু ঠাহর করতে পারি না , নদীর জলে তোমার ছায়া অস্পষ্ট হয়ে আসে,,
....আসলে আমার চাওয়া বা না চাওয়ায়  মেঘেদের মিছিল ভাঙবে না, আমার চাওয়া বা না চাওয়ার হওয়া  মাইল ফলক পেরিয়ে তোমার ঠিকানায় পৌঁছনোর আগেই তিন প্রহরের প্রহরীর হাতে নিঃস্ব হয়ে যাবেই ।
চিরকাল তুমি আমার হৃদয়ের চাওয়া ইচ্ছাদের নিজের মতো শাসন করে গেলে , 
একবার ভাবলে না আমার ভেতর শত পদ্মের ঝিলে শান্ত ডিঙি থেকে বৈঠার শব্দ ধীরে ধীরে মৃদু হতে হতে  তোমার নাভিমূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ।
একবারও বললে না  এসো তোমার ধুলো মাখা মন আমি নিজের হাতে ধুইয়ে দিই বুকের পটে রেখে ।
অথচ সুবর্ণা আমি চিরকাল তোমার সানিদ্ধ্যের বাতাসে সুগন্ধ ছড়িয়ে রাখতেই চেয়েছিলাম ,
তোমার মন যে প্রহেলিকা সে কথা আমার অজানা ছিল ।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

হাজার মৃত্যু

প্রতিটা শব্দের উচ্চারণে আমার  মৃত্যু হয় কেউ 
দেখতে চায়  না ,   আমি ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাই কাকুড়ে পথ দিয়ে রক্তের ছায়া পথ ধরে হাজারো সম্পর্কে পোট্রেট সাজে ,
জিন্দেগী গলে লাগালে ......আজন্ম তুমি সদয় হয়ে আমাকে আরো নিরেট আর খাঁটি করে চললে ।
সময়ের  কড়া হাঁড়ি তে রান্না বাটি খেলতে খেলতে পুতুল এর ঘর সাজানো । প্রেমিক সে প্রতিটা নিঃশ্বাস বুকে রাখে ........
সুখ আসে বহুমূল্য মুহূর্ত নিয়ে ........সময় মরে গেলে হাহাকারের দাম বহুমূল্য দিয়ে হয় না , অনন্ত দিগন্তে তার নিঃশব্দের ধ্বনি তরঙ্গ ভাসে ,
আসলে   মানুষের সম্পর্ক গুলো বড় সাময়িক 
সাজানো ......প্রতিটা প্রেমিকের অসহায় দৃষ্টি আমাকে শেষ বিকেলে বিদায় জানাতো ....অথচ আমি ঐ অসহায় দৃষ্টির আড়ালে জুলুজুলু স্বার্থের চাউনি আজ খুঁজে পাই .....
ধিক ধিক আগুনের ছাই ঘেঁটে  সম্পর্কে পসমর্টেম 
রিপোর্ট আজ আমার মুঠোয় , , 
সব কিছু বে মতলব মনে হয়  প্রেমিকের দায় সারা প্রেমের আস্ফালন আমি মরতে থাকি আমার শব্ জ্বলে অনবরত .... অথচ পুরোপুরি পুড়ে ছাই হই না ...... এ আমার বিধাতার ক্রুরতা ছাড়া কিছুই না ।

মৃত্যু অপেক্ষা

প্রেম যেন ঠোঁটের কাছে হরবোলা মৃত্যু ,

ফিকে হয়ে আসা প্রেমিকের মুখ বহুদূর শীত পথ 
বেঁকে ফিরতে চায় ক্লান্ত কুয়াশা চিরে ,

হাঁটু গেড়ে বসে থাকা বিষাদ আসলে কালজাদুর মায়া ,,

নিমতিতা ভালোবাসা তবু তার পিছুটান পিঞ্চসুরের 
অবগাহন সাধে সকাল সাঁঝে বেখবরী হয়ে ,

দেহ মন প্রেমিকের স্পর্শ হারায় মিথ্যে অধিকারের 
মন ভোলানো খেলা চিনে ,

ফাল্গুন চৈত্র আসুক বার বার মিথের জন্ম প্রবাদের
মত,
 শুধু মৃত্যু যেন কোনো ভালোবাসার অপেক্ষায় না  দাঁড়িয়ে থাকে।।

হলুদ পাখির চোখে

সেদিন, শান্ত বিকেলটায়  ওরা  গোধূলি যুগলবন্দী
হয়ে  কল্পতরু বিছানায় গা এলিয়ে সারল্যে একে অপরের  বুকে কান পেতেছিল ,
পারিজাতীয় ভূমিকায় ছিল নগ্ন কবিতার জন্ম ,
সেখানে  'অভিমান' আর একটি 'অভিযোগ'
কথা বলছিলো নিজেদের সাথে  ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ,
ওরা গাছের  রঙ শিশিরের কাব্য  নিয়ে সোহাগী কথপকথনও সারছিল মাঝে মধ্যে,
আর পাশ দিয়ে একটি হলুদ পাখি
চুপ করে  দেখছিল আর মৃদু
 হাসছিলো... ভাবছিলো..
গাছ আর  শিশির  রঙে ওরা
হৃদয় মেশাতে চায় ....তাতে জীবনের
 আর কি আসে যায়।
বহু পথ হেঁটে .............জীবন কাব্য নয় ওরা আজ বোঝে ওদের
 যৌবন গেছে  বহুরাত.. নিজস্ব আত্মহননে,
এখন ওদের  শুধুই মনের আলোয়
দীঘল অপেক্ষার  রেখাপাত..!



সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সুবর্ণা (৯৮)

সুবর্ণা আর কত যুগ তোমার হৃদপিণ্ডের 
মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টায় তোমাকে ক্লান্ত করবো?
আর কত সভ্যতা তুমি আমার নিজস্ব মাটি হবে 
কতকাল হবে গাছ আমারই জন্য ....
আমার যে অনন্ত কালেও অশ্রু বৃষ্টি থামবে না ...
দূষিত আকাশে উড়তে উড়তে হাঁপানো ফুরোবে না ।
আর কত জন্ম তুমি আমার পৃথিবী হবে ...যার বুক জুড়ে সময়ের তাড়া খেতে খেতে রাজপথ  আল পথ পেরিয়ে আমি আশ্রয় নেবো ,
আর কত আমার উপর ক্ষত খোদাই এর  শব্দ ছুঁড়ে তুমি  আকাশের গায়ে নতুন তারা মন্ডলী 
আঁকবে !  এবার মশাল আমাকে জ্বালাতে দাও 
পুড়তে দাও  হাঁটতে দাও গনগনে দহনের ওপর ,
আমার রোদ্দুর বৃষ্টি আমাকেই শুষে নিতে দাও ,,
আমাকে আরো অত্যাচার হতে হবে , আরো শোষণ  নিপীড়ন  আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ,
তুমি যাও সুবর্ণা ...... খানিকটা ঘুম তোমার দরকার , আমি বিহীনে তুমি আলো হয়ে ফুটে ওঠো , আমাকে আর তোমার ভেতর লাভার মত ফুটতে দিও না , আমি তেমন যোদ্ধা নই যে তোমার সৎকার এর সাহস রাখি ।
........যাও সুবর্ণা  কিছুটা সময় তোমায় এবার ঘুমোতে হবে ।
.......(সুবর্ণা প্রিয় পৃথিবী)




কে আমার হৃদ্‌পিণ্ডের ওপরে মাথা রেখে ঘুমোয়

কে আমাকে দুধ ও ভাতের গন্ধ দিয়ে আড়াল করে
কে আমার মাটি যেখানে আমি বৃষ্টির মতো শুষে যাই
আমি যখন দূষিত আকাশে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে উড়ি
আমার পালকে ছাই জমে জমে ধূসর হয়ে যায়
তখন আমার সামনে সবুজ গাছ হয়ে ওঠে কে
কে আমাকে চোখের পাতা বন্ধ করে আড়াল করে
কে আমাকে আগুন দিয়ে মশালের মতো জ্বালায়
কে আমার পৃথিবী যার ভেতরে আমি লাভার মতো
ফুটতে থাকি
আমি যখন পথ থেকে গলিতে তাড়া খেতে খেতে দৌড়ই
আমার পায়ের তলায় হাইওয়ে, আলপথ সব ফুরিয়ে যায়
তখন আমার সামনে আশ্রয় হয়ে ওঠে কে
এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে
আমার ওপরে অনেক অত্যাচার করতে হবে
এত অত্যাচার করার ক্ষমতা, দুর্ভাগ্যবশত,
কোনো শোষক, নিপীড়ক বা রাষ্ট্রমেশিন এখনও জানে না
যখন জানবে
তখন আমার প্রশ্নের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাবে
আমি প্রশ্নগুলোকে ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগোতেই থাকব
আমাকে দেখা যাক বা না যাক
প্রশ্নগুলো ফেটে অনেক সপ্তর্ষিমণ্ডল আকাশে দেখা যাবে।

অভিশপ্ত সময়

 পৃথিবীতে এখন সর্বত্র রোগ শোক জ্বরা মহামারী

  ওষুধ নেই নেই পানীয় জল......

মানুষ তাই  অকুতোভয়ে চেটে  নিচ্ছে তেজস্ক্রিয় রাজনৈতিক ঘা থেকে ঝরে পড়া পুঁজ রক্ত জিভের ঝাড়নে ।

দুঃসময় সাফ করে
টেবিলে  সময়কে  ফিটফাট রাখছে ,

বোঝা যায় না কিছুতে এটা মহামারীর গ্রহ,

কিছু মানুষের সংগ্রহে আছে.......................

অকিঞ্চিৎকর কিছু ছায়াপথ ধরে হৃদ্‌পিণ্ডে রক্তাক্ত ছড়া দিয়ে মাাটি।ভিজিয়ে বিশেষ গোপন দু একটা সঞ্জীবনী গাছ পুঁতে রাখে,,,।

কিছু  অশ্রাব্য কথার গ্রন্থাগারে ন্যাপথলির চাঁদ রাখা হচ্ছে যত্নে ইতিহাসের জন্ম অপেক্ষায় ।

 পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে  অলৌকিক আচ্ছে দিন এর পরশপথর  রাখছে বিশ্ব মাতা পিতারা,,

অথচ......................

অলৌকিক  অতলস্পর্শে এ ব্যাধি  সারে না

এ শোক ফিকে হয়ে না  সবাই জানে,,

তবু  কবি বুদ্ধিজীবী গাছের আয়নায় সবুজ ছায়া 

ফেলছে মায়াময়  অভয়াঅরণ্যে ভেবে,

তারা তো মাটিতে হাঁটেন নি কোনো দিন 

ভাবনার পসারে তাদের কেনাবেচার নিয়ম চিরকাল ।

তাদের কাছে প্রতিটা  চিতার আগুন কাব্যময়,,

পৃথিবীতে এখন  

রোগ ,শোক, জ্বরা ,ব্যাধির মহামারী ....

ওষুধে খোঁজ নেই নেই সামান্য তৃষ্ণা মেটানোর পানীয় জল, নিদেন খিদে মেটার ঝুটা খানা ...

হাইড্রেন গুলোয় শব্  এর স্রোত।

মানুষ অকুতোভয়ে চেটে নিচ্ছে তেজস্ক্রিয় ঘা থেকে ঝরে পড়া পুঁজ রক্ত,,


জিভের ঝাড়নে সাফাই সেরে সময়ের  টেবিল

 ফিটফাট ,বোঝা যায় না কিছুতে এ

গ্রহ ব্যাধিময়  , জরাজীর্ণ ,।

 ।

রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

বিপরীত আশা

বিপরীতে চলে যাওয়া ভীষন সহজ বলেই 
আত্মিক স্পর্শ গুলো এখন ভঙ্গুর ,

বাতাস থেকে খসে পড়া অনবরত ক্ষত গুলো বার
বার দর্জি ঘরে নিয়ে গিয়ে সেলাই করতেই হয় আসলে আমরা ভালো থাকার মুখোশ রিপু করে সম্পর্ক বাঁচাই  ,
বেঁচে থাকি বারো ঘর এক উঠোন সেলাইয়ের ফোড় এ নকশা তুলে ,

সমাজিক পোট্রেট একটা সাজানো গোছানো  লিভিং রুম  ভীষণ জরুরী .....সন্তান যেন সেই লিভিং রুমের ডাইনিং এ দুধে ভাতে বেড়ে ওঠে ,

হাসি পায় মানুষ জানে এটা বাঁচা নয় নিঃশাস বায়ু 
রোজ কমে আসছে তবুও  নিজেকে ভেঙে নদী 
কুড়িয়ে পাখির ডানায় সকাল দেখে জোর করে ....
কিংবা নিজের লাশ পুঁতে নতুন  কোনো সবুজের জন্মের সম্ভাবনার স্বপ্নে জল দিতে থাকে কবরের মাটিতে ।

ব্যাধির নিরাময় খুঁজতে  খুঁজতে  শ্মশান পেরিয়ে অন্য জীবনে এর দোরগোড়ায়   .....  আশা রাখি পেয়ে যাবে কোন এক জন্ম ষোলোআনা।

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

জখম হ্যায় ফিরভি

আত্মহননের  ডাক নাম ছাড়া কোনো নাম নেই ,

ব্যাথাও যে খোঁজে উদযাপন এর আড়াল তাই
বুকের শোক চুরি করেছে নিয়ন আলোর রোশনাই,

আমাদের কথার ফাঁকে অযথা মেঘ নেমে আসে 
শব্দরা ভিজে গেল ঠোঁটের সেলাই পোক্ত হয় ....

 অজানা প্রচ্ছদে আমার ভেতর দিনের পর দিন জাগে অধম এক ভিখারী , আকাশ পথে উড়ন্ত ঈগলের এসে নিয়ে যায় আমার সামান্য ছাউনি ,
দূরত্বের মিছিলে আধ ভাঙা চাঁদ  খিল্লি ওড়ায় ,
বছরে বার চারেক বন্ধু মেহেরজন  আড্ডা থাকুক মেহেরবান ,
তোমার কাছে আমিই কেবল বেকুব চাদরে সারা জীবন গোপন জখম .....,

বরফের পৃথিবীতে

অক্ষরপুঞ্জের  বাইরে অনেকখানি বরফ পড়ে আছে। অথচ   ত্রিশঙ্কুর চূড়ায়, মেয়েটা এক দাঁড়িয়ে ভিজছে  শব্দ বরফ বৃষ্টির মধ্যে , যেখানে সে খুঁজছে খুব জরুরি   কিছু অন্তর দহনের কথপোকথন ।  
শহরের  রাস্তায় দেখা যাচ্ছে  সভ্যতার আলতায় রঙিন প্রতিচ্ছবি। ওফরার হাইলাইটারের চকমকি প্রেম ....,
 মেয়েটি  কিন্তু অনবরত  ভিজছে  ঝিরঝিরে  বরফে বৃষ্টির মধ্যে, তার কাছে ছাতা নেই। ছাতা আছে যে-ছেলেটির কাছে, সে  গাছের কোটরে  ঘুমিয়ে আছে এক লক্ষ সভ্যতা ধরে । 

 ....উত্তরের বারান্দায়  আজকাল বেশ কিছু তারা খসার দেহ ভেঙে পরে থাকে বড় অবহেলায় , নেমে আসছে  প্রবাদ  রূপকথা ,  উঠে আসছে ব্যস্ততা  । 
এরই মাঝখানে ,  শব্দ জব্দের জালে   দুজনের দেখা হয়ে যায় কথায় কথায় । কিন্তু এর বাইরে, দুই শহরের মাঝে অনেকখানি বরফ পড়ে আছে।
 মেয়েটা  নির্বোধ , হাতে বেলচার বদলে কলম নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে ত্রিশঙ্কুর চূড়ায় । সমস্ত স্মৃতি, ঢেকে গেছে বর্ন হীন অতীতের গুঁড়োয়, 
  এমনকী একটিও  শব্দের ভেতরে   মেয়েটার  কোনও পৃথিবী  নেই আর।

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

আহুতি

সমস্ত ইচ্ছে আমার একান্ত কফিনে রেখে এবার আমার ধ্বংস করো ঈশ্বর । 
অন্ধকারে ডুবতে ডুবতে মন নিভে এসেছে,  ক্ষত যখন রংদানি রক্তই যখন একমাত্র রং ক্যানভাসে জীবনের উৎসব আর শোক আলাদা করে আঁকতে পারি না ,
আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি নিজের মৃত প্রতিফলন আমার দিকে অদ্ভুত বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়েছে ।
সময়ের প্রশ্রয়ে আর আশ্চর্য আস্থায় রূপকথার তাসের ঘর সাজানো অভ্যাসে অহেতুক নেশাতুর 
হয়েছি সারা বসন্তে , .......কেননা জন্মাবধি অবহেলায় অভ্যস্ত মেয়েটা কাছে এমন রোমন্থন প্রচ্ছদ সুদূর কল্পনাতেও  অপ্রত্যাশিত ছিল ।

মেঘ পুঞ্জ থেকে সন্ধ্যে নামছে এবার পুরোনো খোলস খুঁজছি  ....ধ্বংসের ঝাপটার মুখে উড়িয়ে দিলাম আমার সাজানো রূপকথা ব্যর্থ উপন্যাসের পাতাগুলো .....
সমস্ত ইচ্ছে আমার একান্ত কফিনে রেখে এবার  ধ্বংসের আগুনে পুড়িয়ে দাও আমার মানুষ হওয়ার যাবতীয়  অহংকার , 
যে পাপ কোনো এক দগদগে চৈত্রের দুপুরে বসন্ত কে বন্দী করার বাসনা রেখেছিল আজ সব  আহুতি হয়ে উঠুক ধংসের আগুনে ।

অমৃত অপেক্ষা

অনেকটা পথই পাশাপাশি খালি পায়ে পাড়ি দিয়েছিলাম.... তারপর গ্রহণের অন্ধকারকে 
তুমি পথের বাঁক বদল করলে ,
মাটির ভেতর সবে মাথা উঁচু করছিল সবুজ অঙ্কুরিত একটা সৃষ্টি , হঠাৎই অমৃত তৃপ্তি থেকে আমরা মুক্তি চাইলাম একে অপরের কাছে ......
আমার ভেতর তখনো কিছুটা সুখী মাধুকরি রূপ ক্ষয় হতে বাকি ছিল,
তবে  তোমার অহংকারী আহ্বানের গোপন মৃত্যু টের পাইনি বিন্দুমাত্রও ,

আগ্নেয় গিরি জেগে উঠেছিল নকশিকাঁথার সুক্ষ পথ লাভায় লাভায় ধ্বংস করেছে সমস্ত  সৃষ্টি........ 
প্রিয় তারাগুলো রূপকথার গল্প বলা ভুলে  ব্যথার বিস্ময় আঁকতে থাকে রাতের আকাশে জুড়ে ,,

অহেতুক মনে হতে থাকে আমাদের ক্যালেন্ডারের অপেক্ষমান তারিখগুলোকে  ,
আমার ভিতর মহল এর সমস্ত বিস্ময় ছেড়ে তুমি একদিন সত্যি সত্যি ফিরে যেতে চাইলে তোমার তীব্র শব্দ মহলের আলোয় ,

আমি চিরকাল অনুযোগহীন নীরবতায় বলে 
এসেছি .....তুমি যা চাও তাই হোক ....
এবারেও  অন্যথা করিনি ।
নিঃশব্দে বাতাসে নিজস্ব  ওয়েস্টরেজেন এর গন্ধ 
রেখে ফিরে গেলাম আগামীর আশায় ,,
তুমি বলেছিলে নিপাট ভালোবাসার কখনোই মৃত্যু হয় না কেবল সময়ের নিরিখে বিস্ময়ের গভীরতা স্থান বদলাতে থাকে .....আমি বিশ্বাস করতে ভালোবাসি বরাবর ।




অচেনা স্মৃতির পাতায়

স্মৃতি হল  বল্গাহীন স্লেজ... বড় জটিল হলেও
তত্ত্বে নেই কোন ভুল সূত্র, 
ষ্টেশন ছেড়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় নেমে যাওয়া যাত্রী আত্মীয়তা , 

......বহুদূরে মিথ্যে ধোঁয়া তুলে সমস্ত জরিমানা ও স্বীকরক্তি ঠিকানাবিহীন হয়ে যায়... পলকের নিমিষেই, ......হয়তো কোনো দিন দেখা হতেও পারে পাশাপাশি  ভাতের হোটেলে ....তখন মুখ শুধু চেনা চেনা  বাকি সব নিখোঁজ হওয়া।

কে যেন বলেছিল জীবন আসলে গম ক্ষেত আর রোদ্দুরের গল্প .....সেখানে শড়রিপুর সাথে  অ-সুখ
আর উৎসব মিশে থাকে  , 
তবে শর্ত একটাই শুধু মাত্র এসব উপার্জন সেখানে পৌঁছানোর পরেই জানা যায় ।





নোটে গাছটি মুড়োলো

আজকাল কথা বলতে গেলে কেন যেন  সমস্ত সেলাই এসে জড়ো হয় ঠোঁটে ,
 অন্দর মহলে ছাইয়ের পাহাড় জমে  জমে.... বুকের নীচে ভেজা কবর শ্যাওলা আর বৃষ্টির আওয়াজ ওপাশের কোনো কথা স্পষ্ট শুনতে দেয় না  , এসব ঘটনা আসলে চুক্তি সই করার আগে দু মুহূর্ত না ভাবার ফলাফল ,
কোনো এজলাসি আদালত নেই তাই নালিশ ঠুকি শব্দের কাছে ..... কৌতুক এর কথা হল...  আমার লেখা নিঃশব্দ ও ধীরে আমাকেই হত্যা করে  চাণক্যর অপ্রকাশিত নীতি মেনে।

জানতো সুজন অস্থির তৃণর গায়ে কোনো সুন্দর পতঙ্গ বসে না  অথচ দেখো আমার ভেতর উড়ন্ত শব্দের চিরকুট , খুচরো কিছু বিসর্জনের খই ,
এসব পতঙ্গের মতোই ...... সবাই দেখতে পায় না যে শহরে শীত পড়লেই সকলে রোদ্দুরে পিঠ রেখে রান্না ঘরে শোক রাঁধে ।
অনেক জোরাজোরি পর মুঠো এবার আলগা হলে 
ব্যথার শেষ ট্রেন ষ্টেশন ছাড়তে সময় করে বাধ্য ।

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

শীত গোলাপের কাহিনী

রাস্তা শেষ হবেই একদিন , সে রাস্তা ভাঙাচোরা হোক মেঠো হোক , কিংবা রাজ পথ । যেখানে  চতুর্ভুজ গুলো   বেসামাল সাংসারিক হাতা  খুন্তির খুটখাট রোজনামচায় , আর  সম্পর্কের হাতাহাতির গুজবে  সরগরম শহরতলি ... । কে না জানে, 
জীবনের  সঙ্গে অল্পবিস্তর জড়িয়ে থাকে রূপকথা। কাল দুপুরে চলে গেছে যে  প্রিয় আটত্রিশ মিনিট , তাকে নিয়ে এখনও মাথার নিউরিনে  নিউরিনে আলোচনা চলছে । তাড়াতাড়ি ঢুকে পড়তে চাইছে কোনও না কোনও সম্পর্কের সুক্ষ সুতোর সেলাই ফোড়,  
কেননা হাওয়া যত ভেজা ভেজা বার্তা  ততই শরীর মন এর বাড়তি চাওয়া মাথা উঁচু করে উঠতে চায় , ততোই অস্তিত্বর  দাম জলের দরে নাব্যতা খুঁজে নেয় , এই শীতে কোনো না কোনো  নতুন নতুন নতজানু লাল গোলাপ এসে পৌঁছয়  যখন তখন রাস্তায় ঘাটে। কেবল  যেন ভালোবাসা থেকে নেমে এসেছে একের পর এক   নাটকীয় আয়োজন। আমি মোটেও বান্ধব মনস্কা নয়  ।  আমার আছে কেবল ভাড়াবাড়ি একটা তক্তা খাট আর যৎসামান্য চালের খুদ । রাজনীতি নিয়ে তর্ক করতে করতে কাল দু এক মুহূর্ত প্রেম এসেছিল পরিযায়ী মন দুটোর ভেতর । ঠান্ডা ছিল জমাটি, তবু হাত দুটো হাতে নেওয়া গেলো না , গালের চুম্বন বড় হিম ভেবে বাতিল হল .....
আর তাই, সারা রাত স্বপ্নের মধ্যে ফায়ার প্লেস জ্বলেছে ...শরীর দুলছে শূন্যে ।  মাথাভর্তি ধোঁয়া নিয়ে তুমি বসে আছো বিছানায় কবিতাদের সাথে  ,,
ঘুমের কোনও চিমনি নেই বলে আমি ভালো করে কখনোই পুড়তে পারিনি ,তোমারও কান্না পায়নি।

জীবনের গল্প

নিশ্চিত নৈশব্দে যাচ্ছে সমস্ত জাগতিক তরঙ্গ..
 মুহুর্মুহু চিৎকারে গলার স্বর ভঙ্গ  'ককরলেও...
জীবনের গল্পটা  যে বড় বেশি  কঠিন ... না বুঝে  
আত্মীয়তায়  বেঁধেছি তোমায়  ...!
 নির্বাক-ধূসর শূন্যতা রেখা ধরে  একটি প্রবাহ বইছিল  , সময়ের খেলা ছাড়া আর কিছুই নয় 
আমাকেই বারংবার শিখিয়ে গেলো অন্তর দহন  এক উচ্চমানের  শিল্প..!

জানিনা আর কতোটা ছাড় দিলে তবে মুক্তি  পাওয়া যায়..? 
সবাই ঘরে ফিরছে .সবাই , এই একলা নদীটা.. আমার জন্ম যে দিগন্তরেখা বরাবর সেটা জানে.; তাই মোহ দিয়ে বুকে সিঁধ কাটে ,

পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর দৃশ্য  কি ঠিক বলতে পারি না,  তবু  শুনেছি বিস্ময়কর আনন্দ নাকি প্রিয় মানুষের হাসি মুখ....
 নিজেকেই ষোলো আনায় 
বিক্রি করে দিলাম হৃদয়ে কাছে 

জানোই তো তুমি..
অঙ্কের হিসেবে আমি বরাবরই বড্ড কাঁচা...!


নিঃশব্দের চিৎকার



আমি চিৎকার করেছি  যত বার সমাজ  কোনো ক্ষতর ওপর চোখ রাখেনি ... কিছুই হবে না ভেবে যারা ফিরে গেছে অনাত্মীয় হয়ে তাদের একদিন আত্মীয়  করেছি ঘর কন্না বাজি রেখে... যখন চোখের রক্ত আতশবাজির রাতে ছিটকে  এ সমাজ দূরে সরে যায় নদী প্রবাহের মত ,
 তুমিও অপরাধবোধে শার্সিজানালার কুয়াশা সরিয়ে দেখেছো ... তোমার ঠিকানা ডাকবাক্সে রয়ে গেছে চেনা আলস্যে হাজারো জরুরী কারণগুলো ।  মধুবন্তী রাগ...  একটা মানুষের ভিতরমহল   কতটা নিঃস্ব করে ... প্রিয় সঙ্গও বোঝে না  যখন, ভাসমান পানা পচা অবিশ্বাস ও কাচলব্ধ মৃত্যু বেবহে থাকার মাঝে বাসা বাঁধে   । মন ভালো  এক অদ্ভুত অসুখ ... । গুমঘরের ভাঙা চেয়ারটায় বসে আজও... বিন্দু বিন্দু শূন্যতাবোধে অ্যালজাইমার্স কিশোর দের  যৌনতা উপভোগ করছি, অনেক  রাতে  দৃশ্য শেষ হলে আংজাইটি পিল খেয়ে মাথার শব্দ চলাচল থামাই ....
শববাহী যান অপেক্ষা করে  একতারা ও চৌকো মুখশ্রীর ভেতর  আমি দেহ ছেড়ে উঠে দেখি আমার আসবাবপত্রর মায়া কাটাতে আরো কিছু দিন ওই শব হীন যানটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ।

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

যেভাবে জীবন চায়

হারানো সময়ে কি মাথা রাখা যায় ? আমি আর রূপকথায় ভুলতে চাই না .....আমাকে  ভালোবেসে জড়িয়ে রাখার সোহাগী কথা আর কখনও বলো না , এ এক জুয়া খেলার মত নেশা ....,,

মাঝে মাঝে নরম যে চিঠি তুমি  মুঠোফোনের ওপ্রান্ত থেকে পাঠাও   ,এবার থেকে  এমন নরম  কোনো স্পর্শ আমায়  পাঠিও না ,,
ইঁটের ওপর ইঁট সাজিয়ে যেভাবে দেওয়াল ছিল আগে ......
 সে দেওয়ালের ইঁট আর দ্বিতীয়বার সরিও না , আমার আলো ভালো লাগে না আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায় ......অন্ধকারে আমি স্পষ্ট পথ দেখতে পাই ......বাকি যা দেখতে চাই না তারা অস্পষ্ট থাকে ,,  ঢেকে রাখা খাবার ও উপেক্ষায় জন্মাবোধি অভ্যস্ত .....দুদিন  ভেতর থেকে দরজা খুলে গরম খাবারের থালা এগিয়ে দিয়ে  তুমি একবার আমার অভ্যস্ত জীবনের লয় বদল করেছ .... ঘরের পর্দা সরিয়ে আলো এনেছো ,, কিন্তু সময়ের যোগ্য আমি কোনোকালেই নয় তাই সময়ের নিরিখে আমার প্রেমিকরা হারিয়ে যায় বারংবার , 
এ খেলায় আমি আর সামিল হব না কেমন আছি আর কখনো তোমাকে জানাবো না ।

হারিয়ে যাওয়া চত্ত্বর

এখন আমি বাড়ি ফেরার পথে খুঁজিনা ,

অফিস থেকে সোজা হারিয়ে যাওয়ার কয়েকটা গোপন চত্ত্বরে চলে যাই , 
......যেখানে সাদা হওয়া ছুরির ধার কাটিয়ে ফুটিয়ে তোলা বিষণ্ন নির্জনতা , 
যেখানে শোকের কান্না থাকে ধারা বিহীন ........ ,

আমায় কে যেন বলে ছিল মানুষের স্মৃতি ফিলামেন্ট দিয়ে তৈরী অন্ধকার ছুঁলে নাকি আলো ফুঁটে উঠে আস্তে আস্তে ,  আমি চিরকাল বোকাসোকা মানুষ হিসেবে অহংকার বোধ করি,, 
 এমন জটিল গবেষণা বুঝতে পারি না  কিংবা স্বাদ পাইনা ... ,,
এসব বুদ্ধিজীবী আলোচনা আজকাল রান্নাঘর থেকে ফুটপাত রাজপথ হয়ে কফিহাউস সব জায়গায় ছিটিয়ে থাকে , 
আমার স্বস্তি হারানো অভ্যেস এমন জটিলতায় ,
সামান্য স্বস্তির জন্যেই আমি আর বাড়ি  ফেরার 
পথ খুঁজি না ......খুঁজে নিই যে কোনো হারিয়ে যাওয়া চত্ত্বর ।




অপেক্ষার ছায়া

মানুষের অপেক্ষাগুলো দীর্ঘতর ছায়ার মত নিজেকে ছাপিয়ে দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বেড়েই চলেছে ,

অথচ সময়ের ট্রেন অনেক আগেই ষ্টেশন ছেড়ে গেছে , ষ্টেশনে খবরের ফেরিওলা দুদিনের বেশি বাসি খবর রেখেছে পসারে, ,  কারণ গত তিনদিন তার কাঁধে মৃত ভাই বন্ধু সন্তান এর শব রাখা ছিল। ,  যুদ্ধ পরবর্তী শহরে শ্মশান কিংবা কবর স্থান গুলোতে বেঁচে যাওয়া মানুষরা থাকতে  অভ্যস্ত ছিল,,  তাই মৃত সম্পর্ক গুলো কেবল কাঁধেই রাখা সংবিধান দিয়েছে সরকার ,
কেউ কেউ ট্রেনে নিজের মাথা কেটে ফেলেও  মৃত্যু ঘোষণা করতে পারেনি ....নিজের কাটা মাথা নিয়ে শহরের ভাগাড়ে ভাগাড়ে জায়গা খুঁজে বেরিয়েছে গত তিনদিন ,
কবর খানা থেকে উড়ে আসা পায়রা ,শ্মশান থেকে উড়ে আসা শকুনের দল  শহরের পানশালার পানপাত্রে ঠোঁট রেখে নেশাতুর হচ্ছে গত তিন দিন,
যুদ্ধ পরবর্তী বেঁচে থাকা জীবন গুলো ষ্টেশনে অপেক্ষা
অপেক্ষা করতে করতে ... সকলের ছায়াকে অবিশ্বাস্য রকম দীর্ঘ করে তুলছে  অথচ কেউ  মাথার ওপর বড় ঘড়িটার    সময়ে চোখ রাখার   সাহস করতে পারছে ,।




সাধন সঙ্গী

আমার মুখ লুকোনো বা শান্তি খোঁজার কোন সংবিধান কোনোকালেই ছিল না ,

উত্তরের জানলা ঘেঁষে দিন প্রতিদিন চলে যায় 
কত না পথিক .....তবুও আমায় নির্জনতার অক্ষর
কেবল বারংবার ছুঁয়ে যায়,
 নিন্দুকেরা বলে আমি   গোমড়া মুখো   আমি একলা থাকতে ভালোবাসি ,

ওরা জানে কি না জানি না আমার শালের গায়ে একলা নকশা টা  প্রিয় সাধন সঙ্গী ,
আমার উঠোনে  ধানের গোলা আমার প্রিয় সাধন সঙ্গী , 
.......আমি তাই কখনও ভিনদেশী কম্পাস কিনে গতি পথ নির্ণয় করিনি , শুধু সন্ধ্যে বেলা 
ফিরতি লোকাল ট্রেনে অন্ধ গায়কটা কে এক জন্ম প্রেমিক হিসেবে পেতে বড় সাধ হয় ,
আর একবার অজয়ের আখড়ায় এক ধুলো মাখা ভিখারী সন্ন্যাসীর সাধন সঙ্গিনী হতে চেয়েছিলাম ,

কিছু নিন্দুকেরা তখন রে রে করে আমায় এক ঘরে করে ছিল .... তারপর  আর কখনো শান্তির সংবিধান   খুঁজিনা ।




শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

পরিহাস

প্রতিটা  সূর্য ভোরে 'একাকিত্ব' ব্যধির মতো 
আমি তোমার  ঠোঁটে ঠোঁট রেখে অভিশাপ রেখে  যাই,
 তাই তুমি কালের আবর্তে হারিয়ে যাও  নিজস্ব বৃত্ত এর ভেতর,
প্রজাপতি  আসে নিজস্ব নিয়মে বার্ষিক ফুলের গন্ধ বর্ন দেখে তার পর মেঘ মেদুরে বেড়ে ওঠে সঙ্গমের 
ভয়ানক ইচ্ছা .....
অথচ তুমিতো ঘুমন্ত   অভিমানী নকশীকাঁথার মায়াবী ভাঁজে চিরকাল কান্না লুকোতে ভালোবাসো,
শুভ' অশুভ  যাকিছু  পড়ে থাকে তোমার ফেলে আসা পথের ধুলোয় ,
তোমাকে মুখোমুখি রেখে বহুবার পাশার গুটি ফেলে চাল শিখিয়েছি পার্থ .....বুঝিয়েছি,
না চাইতেই বহু  পাওনা গুলো  বুক পকেটে জমা।হলে.....
এক জীবনে বেঁচে থাকার নির্যাস  বড় একঘেয়ে  লাগে স্বাদকরকে ".....
আমার কথাই ভাবো আমি তো 
তোমার সাথে দূর্বাঘাসের চাদরে শুয়ে 
এক  সুন্দর পৃথিবীর কথা জেনেছিলাম 
বেমালুম ভুলে গেছিলাম তোমার  স্পন্দনের 
রিদম যেকোনো সময় তুমি বদলে ফেলতেই পারো .....,, বুঝিনি 
এ যুগে একটাই শুধু হিসেব পার্থ
একটাই হিসেব.. .... নিজেকে সময়ের চেয়ে আগে বদলে ফেলা ....,,,

এযুগে বুদ্ধ পরিহাস .......
এ যুগে বিবেকানন্দ পরিহাস....
এ যুগে নেতাজি সুভাষ পরিহাস ....
এযুগে রাজানেতা ....রাজনীতি পরিহাস
এ যুগে বিশ্বাস পরিহাস..... 
এ যুগে ভালোবাসা  পরিহাস ......
এ যুগে বাঁচতে চাওয়া পরিহাস .।









নব জাগরণ

আমার আজকাল কুকুর হতে ইচ্ছে হয় ... অথচ

কথা ছিল পাখিদের মত আকাশ থেকে মাটি দেখার

আমি আজকাল। উদার  হতে পারি না ,,সংকীর্ণ মন আমায় বেঁধে দেওয়া নদীর মত টানে ।

পৃথিবীর সবচেয়ে সত্য এবং মিথ্যে  কথাটি নিয়ে  আমি আজকাল  শব্দ জব্দ খেলি  নয়তো সাপ লুডো ।

আমার এই জাগরণের পর মাথার নিউরিনে শয়তান সত্বা তীব্র দহন গুঁজে দেয়,

.আমি  ভুলে গেছি  ভালোবাসা 

ভুলে গেছি  বৈধ্যব যন্ত্রনা  কাঁটাতারে বাঁধা  সমস্ত উপাখ্যান ....

ভুলে গেছি বুকে গাঁথা তির গুলোর ক্ষত 

ভুলে গেছি  ঠিকানা কাকে বলে , 

 শয়তানি  নেশায় মুখোশ পরে   নাগরিক সভ্যতা 

গায়ে জড়িয়ে  

আমি  সকাল থেকে রাত ভোর  হেঁটে চলেছি একটা মৃত্যুর শহর দিয়ে  কালের বুকে। 

.শান্ত হতে আর চাই না বরং মহাকালের প্রলয় নাচনের ঘুঙুর পায়ে বাঁধে বুকের শ্মশানে 

বুকের রক্তে বারুদ জ্বালিয়ে রক্ত শূন্য করতে ইচ্ছা করে আমার মতো একজন দ্বৈত স্বত্ত্বাকে ,

তারপর হিরোশিমা বিস্ফোরণ অপেক্ষায়  দেহ আজ কয়েক সভ্যতা। 

তিলোত্তমার পথে  দাঁড়িয়ে একলা প্রতিটা চলন্ত দৃশ্য আমার এখন চেনা

ন্যাকা  চিৎকার ন্যাকা  প্রতিবাদ এর মুখোশ।

 গুলো ছিঁড়ে একদিন এক শয়তান সভ্যতাকে উলিঙ্গ করে দেবে তোমদের সামনে

পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে কোন লাভ নেই নিজের ভেতর ঘুরে দেখতে আমরা কেউ চাই না  ...চাই না অন্তরের শুদ্ধিকরণ ,

  ঝুটা রিস্তা ঝুটা দিখাবা কে পিছে  কেমন যেন সকলে দিনান্তে ক্লান্ত ভিখিরি  শুধু  নাটকে বাঁচতে চাইছে 

আসলে প্রত্যেকের ভেতর এক দিগন্ত জোড়া  শ্মশানে  ছাড়া কিছু নেই ।

দুই আমি

তার প্রতিটা চোখের পলক ফেলার খুব কাছে বসে আছি ,
তার দুঃখের প্রতিচ্ছবি ব্যর্থতা আগলে বসে আছি,
তার প্রান্তরের দিগন্ত বিসরী চক্রান্ত  মাড়িয়ে যাওয়া শুকনো ঘাসের পাশে শুশ্রূষা নিয়ে বসে আছি ,
শতাব্দীর দেওয়া সমস্ত যন্ত্রণা সে রোজ রোজ আমাতে ভাসিয়ে দেয় .....আমি ঘর বাঁধতে পারি না বলে নদীর মত সরে সরে যাই  ,
লাল নীল  সবুজ মোহ ভরা মিলন মায়া তাকে আজও যখন হাতছানি দিয়ে ডাকে ....লোভাতুর জুলুজুলু চোখে সে প্রেমিক মন কে প্রশ্রয় দেয় ,
সন্ধ্যে নামার পর কেউ কথা রাখে না সুনীল বাবুকে মনে করে , তখন গুঁড়ো গুঁড়ো অনুভূতি নিয়ে অন্ধকারে হাঁটতে থাকে মৃত্যু মুখী শহরের পথে  মানুষটা ....আমি তখন তার গায়ে গা ঘেঁষে থাকি ....প্রেতাত্মার  মত ,
সব দৃশ্য ,শব্দ , দুঃখ , ব্যর্থতা ফুরিয়ে যায় শয়তানি প্রেতাত্মার সামনে ।

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১

আমি ও আমি



সমস্তদিন  আমি দরজা বন্ধ করে কাটাই

          বাতাসের কাঁপন শব্দ যাতে কানে না পৌঁছায়    গুঁজে দিই গলা লোহা ,
বাইরে থেকে হাজারো  সম্পর্ক জাপটে এসে  যাতে না ধরতে  পারে 
         এই দরজা  সমস্ত প্রহর বন্ধ রাখি হৃদয় রাখি বর্ম মুড়ে ,

দুঃখ যত জমেছিল  তাই দিয়ে নতুন খোরাক বানাতে বানাতে আমি আইনস্টাইন হয়ে উঠি কিছু কিছু সময়ে,
ভালোবাসতে ইচ্ছে করে যখন আমি সমান্তরাল হয়ে সমকামী হয়ে যাই সময়ে সময়ে  ।
           আমার  কথার রেশ ধরে আমি কাব্যিক হয়ে উঠি সময়ে সময়ে ।
 
কষ্ট দিয়েছিল  কারা মনে করলে আমি ভিঞ্চি হয়ে 
           ক্যানভাসে হুবহু মোনালিসা এঁকে ফেলি 

 বন্ধ ঘরে আমার পৃথিবী,  
আমিই  এখন আপন আমার, আমিই আমার পর,
            
এমন  ফাল্গুনে আমিই কৃষ্ণ আমিই রাধা 
আমার বন্ধ মনে  ব্যাপ্ত চরাচর
           আমার পৃথিবী কেবল  আমার এই বন্ধ ঘর।


মানুষ হতে গেলে

মুখের হাসি ছদ্দবেশী  বুকের ভেতর ক্ষয় রোগ
সবাই মিলে কবর দিয়ে মেরে ফেলে আস্ত একটা মন ,
টিলার মাথায় রইল না আর অযথা কোনো অঙ্গীকার,  
পুড়িয়ে ফেলা চিতার আগুন জানতে চায় না কোন  কাঠ কার ,
ভোর পেরিয়ে অনেকটা পথ চলা হলেও  মানুষ হতে গেলে মুখের ভাঁজে সময় লিখতে হয় ,

শিখতে হয় কার ধনুক কাকে তাক করে ধ্বংসর
স্বক্ষর নেয় 
মুখের হাসি ছদ্দবেশী  বুকের ভেতর ক্ষয় রোগ 
মানুষ হলে এরপরেও শিখতে হয় অনেক কিছু ।


সংক্রান্তি কথা

ছিঁড়ে ফেলেছি সমস্ত জন্মমূল ,
সংক্রান্তির ঘ্রাণের সাথে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি
আজন্মের দায়বদ্ধতা , নব জন্ম হচ্ছে আমার পিঠোপিঠি চরিত্রের ,  দেহের ওপর যে গাছগুলো 
এতদিন মাটি আঁকড়ে জমি আগলে ছিল একে একে তাঁদের  বিষণ্ণ সন্ধ্যে আসার আগেই পুড়িয়ে দিচ্ছি , 
আখড়া বদল করতে হয় সময়ে সময়ে কারন জীবনে দ্বিতীয় পর্ব বলে কিছুই হয় না .....মুহুর্ত জন্মের পরেই মরে যায় ... আলোর সঙ্গমে অন্ধকারের জন্ম , আবার অন্ধকারের সঙ্গমে আলো , 
অথচ এই সম্ভোগ চিরকাল খোলা চোখে দেখা নিষিদ্ধ , 
যেখানে প্রকৃত আড়াল রাখেনি নিয়ম এর শেকল বাঁধেনি সেখানে  অহংকারী মানুষ  ঈশ্বর হতে ভালোবাসে ,  নিজেকে দুনিয়ার দারির দাঁড়িপাল্লা ওজনদার প্রমান করতে ভালোবাসে ,,
সারাটা রাত যখন অজয় নদী আর আমি এসব কথোপকথন নিয়ে মুখোমুখি বসি  আমার সমস্ত জন্মমূল ছিঁড়ে যায় আপনা আপনি .....দেহের ভেতর দোতারার ছিলায় সুর লাগে পায়ের বেজে ওঠে অদৃশ্য ঘুঙুরে ঝাঁক ..... শরীর জুড়ে তখন  শুধুমাত্র সংক্রান্তি  ।

অন্তত একবার

 কালভেরির যে পথে যীশু হেটেছিল পিঠে ক্রুস কাঠ নিয়ে কাল সারা রাত আমি সে পথে হেঁটেও  এক জীবন থেকে অন্য জীবনে পালাতে পারলাম না , 
ভাঙা সারেঙ্গির মত অর্ধেক জীবন ছেড়া কাপড়ে মুড়ে যারা রাখতে পারে আমি তাদের দিকে তাকিয়ে খ্যাপার মত হাসতে থাকি  আসলে আমি কে জেরুজালেম এর দিকের জানলায় মুখ রেখে দেখি রোজ রোজ যীশু রক্ত ঘাম মুছে কালভেরির পথে হেঁটে যাওয়া , 
আমিও চেষ্টা করি চোখের নিচে রক্ত ঘোড়ার ছুট  বেঁধে লোহার মুগুর দিয়ে  পাঁজর ভাঙি,  হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে দিই বেশ খানিকটা কীটনাশক ,,
কারণ আমি যে সারা রাত হেঁটেও এক জীবন থেকে অন্য জীবনে পালাতে পারি না ,
পারি না আমার প্রিয় পুরুষের বীর্য দিয়ে সময়ের  ফসল পাকাতে ,
প্রতি সকালে আয়নায় দেখি আমার চোখের ভেতর আমারই হাজার খানেক লাশ পাশাপাশি দুর্গন্ধ মাছি ভনভন করছে ,, দেখি জীবন মৃত্যুর পরে কেমন অনাথ  আত্মীয়হীন হতে পারে ,,
এসবের পরে কার না ইচ্ছে হয় অন্তত একবার যীশুর মত কালভেরির পথে হেঁটে এক জীবন থেকে অন্য জীবনে পালিয়ে যাই ....।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১

উপহাস


স্পষ্টত বৈকল্য বাসা বেঁধেছে  মনের ভেতর সন্ন্যাসী
 হিসেব করে ঈশ্বর আর তার মধ্যে একটি চাতুর্যর  জন্ম সিঁধ তৈরী হচ্ছে আজকাল....
সেখানে স্যাঁতসেঁতে ভেজা শরীর নিয়ে প্রতি মুহূর্তে পুনরজন্ম নেয়  অবহেলিত  শৈশব....;যৌবন ,,

সে চিরকালীন নিপাট তাই তার  সাথেই বিভেদের এক অদ্ভুত বোঝাপড়া শেষে  হয়ে গেছে কালের নিয়মে 
শব্দহীন হিয়ে শলাকায় মুখাগ্নি করে  সে বিবেকের ভেতর 
তারপর সংকোচেহীন হিয়ে   হত্যার দায় ভুলে গিয়ে নতুন ভোরের আলোর দিকে দৌঁড়তে থাকে আগামীর  দিকে

এমন করে  যতবার  মহামারী  জন্ম নেয়... পৃথিবী পরম মমতায় তার কোল পেতে দেয় মৃত সন্তান, আত্মীয়, শাঁখা সিঁদুর, প্রেমে ,
অথচ  বিবেকের মৃত্যুর চাইতে বড় মহামারী শুনিনি   কোনদিন..
অথচ, কি নিদারুণ নিরাগ্রহ আজকের এই সুখী মানুষের মন 
ঠিক যেন গল্পের শেষ অংশের   তৃপ্তি  মন থেকে শরীর বেয়ে নামছে 
আর  সেই তৃপ্তিতে মানুষের জীবনের জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে হাজারো বঞ্চনা  বাতাসের গায়ে মেখে থাকে।

 নির্বোধের সমাধি ফলক নিয়ে সমাজে মাতামাতি 
বোধের জন্য  পঞ্চভূতের কোনটাই জোটে না এ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণীদের 
উদার চরিত্র খুঁজতে চেয়ে  অহেতুক বিব্রতকর  জীবনের সময়  অপচয় ছাড়া কিছুই নয় 

কারন আমরা যারা মানুষ বলি নিজেদের তারা কেবল উপহাস উৎযাপন করি সময়ে সময়ে...।।




মন্দ কথা

ঠোঁটে আত্মহত্যার সূত্র গেঁথে রেখেছি কারণ 


মানুষের মিছিলে  আজও ঠিকঠাক হাঁটতে  শিখিনি ।

ঠোঁটে আত্মহত্যার সূত্র গেঁথে রাখি কারণ .... হাতের তেলোতে সুখকে ভিক্ষা করতে করতে
নিজ পায়ের ধুলোবালির নিলামে  দাঁড় করাতে পারিনি ,

সে  এখন নতুন করে বাঁচার যে ভাষা বলে আমি তার অদ্যপ্রান্ত কিছুই বুঝিনা .
 অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি শুধুমাত্র ,
মৃত শকুনের দলে  মানুষ বাঁচাবে একথা  যে প্রতারণার মোড়কে ঝলসানো উৎসব কে না বোঝে ?
যারা  মাটির রঙ চেনেনা ...
যারা  ফুটপাতের রোদে পোড়েনি..

যারা জীবনে কখনোই যুদ্ধই দেখলো না..
তারা আজ নাকি  রাজতন্ত্রির নায়ক হতে চায় ,
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রোজ দেখি
   মনুষ্যত্ব বিকোচ্ছে নুনের থেকেও কম দামে ,
গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে শুনতে পাই

 নিদারুণ আত্নহত্যা ও অপঘাত  বেশ্যার বিছানায় সম্পর্ক মরছে চিৎকার করে ,

নিশ্বাস বন্ধ করে  পাপ যোগার করতে হয় আজকাল
মানুষের বুকে  সেঁটে দিতে  অদৃশ্য রক্তের দাগ.,,

নিয়ম করে  মুখোশ খুলে ডালে ভাতে পেট ভরানো 
এখন ট্রেন্ড ,

মুখোমুখি মজলিসে বসে মাটি ভাগের মতো..
মানুষের আত্মার ভাগাভাগি হয়ে যায়  অন্ধকার মুহূর্তের ভগ্নাংশে,,
শহর তখন ঘুমিয়ে শরীরে  শরীর জড়িয়ে নিয়মিত সামাজিক সঙ্গমে ,

একটা মধ্যরাতের প্রেমের কবিতা.. তখন স্বপ্ন দেখে কবির কলমে 
বুক ভরে একটা নতুন দিনের  অপেক্ষা...কবির ভাবনায় , কবি চিরকাল ভাবনায় জীবন আঁকতে ভালোবাসে ,
আমি এত সব জেনেও ঠোঁটে আত্মহত্যার সূত্র গেঁথে রাখি নিয়মিত ।


মিথ্যে

পায়ের শব্দ যেখানে শেষ  আমি মাটি খুঁজি একটা ঘর বানানোর জন্য , একটি বীজ অঙ্কুরিত হয়ে  বেড়ে উঠতে চায় মাথা উঁচু করে  সেখানে...,,

 বৃষ্টির সাথে যাদের  মিল ছিল তাদের আমি বিসর্জন দিতে পেরেছি অজয়ের  বুকে উড়ন্ত স্মৃতির নুড়ি কাঁকরেরা নাব্যতার ভাষা এবার শিখে ফেলুক তারা ..  তন্ত্রীয় শিকল  খুলছি নিজ হাতের  .....ভালো মানুষের ছায়া কাঁপে শয়তান এর জন্ম দিতে গিয়ে  ... দু-চোখে সন্ধ্যা মুছে নিয়েছি আজ বহুদিন হল। জন্মবোধি এই ভেবে  ভেবে জানলার সারসি তে চোখ রেখে মাথার চুলে মিডলাইফ ক্রাইসিস ছুঁয়ে ফেললো , আচ্ছে দিন অভিভি দিখি নেহি , ....

আর কত বাস্তব বাকি জানা নেই ....তবু আয়নার সামনে দাঁড়ালে আজকাল নিজেকে  মিথ্যে বলে।মনে হয় ....অসহ্য লাগে নিজের দেহজ বর্ননাকে,  ইচ্ছে  হয় আয়নায় ছদ্মবেশী রঙ লিখে রাখি । 
রাত ভোর ঘুমের দেশের দরজার ফাঁক থেকে  সোহাগী নক্ষত্রদের সংগম দেখি  আর নিজেকে পুড়িয়ে ছাই করি...... তারা আজও সে কথা জানে না  , আমিও  নিজেরই ছায়াকে  সত্য বলেনি বলিনি কখনো ,. কারণ আমি আলো দেখিনি কখনো ... গুঁড়ো গুঁড়ো  যন্ত্রনায় বারংবার সময় আমাকে মিথ্যে সূর্য কথা শুনিয়েছে।

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

জিন্দেগী গলে লাগা লে

সামনে সময়ে সময়ে আছড়ে পড়া সমদ্র টা আমার চেনা ....সাথে পাশাপাশি চেরাপুঞ্জি অঞ্চল টাও
আমার সহবাসে বারংবার ফিরে আসে 
গোপন মুহূর্তের অজস্র 
প্রতীকি   সংকেতে আমরা একসাথে  
শূন্যদশকের চাঁদের নীচে লুকিয়ে রাখে ... গভীরে... আরো গভীরে  
অগুণিত ছিদ্রের আশ্চর্য জানালায় শব্দরা অপেক্ষায় থাকে ..... নিঃস্ব 
চৈত্রের দুপুর  অথবা সন্ধ্যেবেলায়
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে সন্ধ্যা বাতি শিখায় বেশ খানিকটা সোহাগ লেগে থাকে উঁচু হয়ে আকাশের কাছে ......ছিপছিপে আগুনের বেশে।

নিজস্ব দহনের ভার গ্রহণ করেছ ভেবে
    শব্দহীন  হই কখনো কখনো ,,
হাড়ের মজ্জায়  রঙিন এক রোদ ... আমাদের অন্তর দহন ঘটায় ,
পোড়া কাব্য চাদরে  বালিশে... উত্তরের বারান্দার কার্নিশে জোৎস্নাহত হতে চেয়ে পন্নে বদল লেতি হ্যায় ...  অজস্র ভ্রান্তির কথা বলি সঙ্গম শেষে বুকে বুক রেখে কান্না মুছে রাখি অস্তিনে, , 

 নিঃশ্বাস ফুরোনোর আগে জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে কিছুটা বাড়তি স্নেহ বেঁধে রাখি আগামী স্পর্শ হীন দিনগুলোর জন্যে ।

দিন শেষে  নুড়িপথ বেয়ে
ছায়া ও অন্তরাল যা আমার নয়
তা পাওয়ার আনন্দে সে   বিভোর হয়ে থাকে

অধিবাসে সারাংশ উচ্চারিত হয়  পরবর্তী সারাদিন ধরে। 
 সমিধস্পর্শে ধোঁয়া ভেসে ওঠে জীবন হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে রবির গানে কবির কলমে । 

ছায়া রেখা

. ছায়ারেখার সাথে দিনলিপি সেলাই করে ...  
বোতাম ঘরের চারটে ফুটোয় আটপৌরে একটা জীবন খুঁজছে মানুষ গুলো ,
  দিগন্তের  ঋণে একঝাঁক কালো রঙের বক উড়ে  জীবনের খুব কাছ  ছুঁয়ে থাকে মৃত্যুর আবহ নিয়ে ,
সেলাই মেশিনে অনবরত  ক্ষত গুলো সেলাই করার চেষ্টায়  একটা গোপন পচন কেউ দেখতে পায় না ।

ঘাড়ের কাছে মানুষের নাগপাশ হয়ে থাকা  মহাকাল সাপের ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে প্রতি মুহূর্তে । গলা বেয়ে... সেখান থেকে বুকের কাছে গুঁড়ো গুঁড়ো অভিমানের মতো লুকোনো প্রন্থশালা খোঁজে 
হাপর লাগা যাপন গোপনে খানিকটা জিরিয়ে নিতে ... ,, কেউ কেউ শহরের রাস্তার জেব্রাক্রসিং  ডিঙিয়ে  হওয়া হওয়ায় হাতে হাত রাখে ক্ষণিক । 
ঠিক যেমন ইচ্ছা গাছ  বড় হয়, ... যেমন ঈগল মাথার কাছে পাকদণ্ডী পথের ছায়া ও একপ্রস্থ একলা দুপুর  একাকার করে যায় ইচ্ছে মত ...
 মানুষের জীবনে খানিকটা তেমনি   অশরীরী  গতিতে ধেয়ে আসে  খয়রী বহুবর্ণী প্রলয় । 
গঙ্গা নাম বদলে বয়ে যায় হারিয়ে ফেলা কথা নিয়ে... এ শহর থেকে অন্য শহরে তারওপরে আর এক শহর ......সমস্ত বন্ধনে থেকে মুক্ত মনা আকাশমুখী আত্মিক ছন্দে ,,


ষষ্ঠী কথা

জন্মের শেষে কোনো গভীরে ডুবে যাওয়া 
অতল শূন্যতায় একটা জন্ম ভাসে ,
গান্ধর্ব শব্দের ঘ্রাণ নিয়ে  সাঁতার কাটে কাদা মাটির নেশা লাগা শিল্পী , বোতাম খোলা আঙ্গুল পুরনো জাতিস্মর প্রেমের আঁচড় চিনে নেয় , ঈশ্বর পানপত্রে পাশে ভাগ্য হাতে নিলে ,
মানুষ তার ইচ্ছার কলম ধরিয়ে দিয়ে লম্বা লাইনে দাড়ায় ..... তোষামোদ নিতে গিয়ে মানুষ ঈশ্বর ,আর ঈশ্বর ক্রমশঃ লোভী হয়ে ওঠে , ঈশ্বর তার পর থেকে আলো রেখা ধরে তীব্র অন্ধকারের দিকে হাঁটা শুরু করে .... কাঠের সিন্ধুকে বন্দী রাখে পরশ পাথর , আসলে ঈশ্বরও জানে মুখো মুখি হওয়ার থেকে সহজ কাজ নিজেকে সরিয়ে নেওয়া .....খানিকটা আছি অথচ আবার নেই , 
ধরিস মাছ না ছুঁই পানি,,

দেহজ প্রতিলিপি

রাত বাড়তে থাকল অন্ধকার বেহিসেবি হয়ে 
ছিটকে আসে চোখে ভেতর .......
এমন সময় দেহজ আবরণ গুলো একে একে  নিজেদের খুলে শূন্য সিলিঙে সোহাগ হাতড়ে বেড়ায় ,  
পুনরায় দেহ উৎসব মেখে উদযাপন চায় ,
সারা শরীরে অজস্র যোতিচিহ্ন তুলে রাখা আদরে আদরে ,
সমস্ত দূরত্ব ভেঙে এসো একদিন নিঃশব্দের সংবাদ হয়ে ,
ভালোবাসা মামুলি ব্যাপার নয় .......
 যথার্থ মূল্য নিজেকেই ঠিক করতে হয় , 
চার হাতের মুঠো খুলে দেবতা হতেই হবে ভালোবাসলে  .......
ভালোবাসা মামুলি ব্যাপার নয় ........
একটি দূরত্বের পর অন্তর্বর্তী মিনার মাথা নিচু করে ফেলে ..... নিজেদের কাঁচের  এক্তিয়ারে চির ধরে ঝাপসা হয় .....,
যদিও এসব কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্য নথিপত্র বা বিশ্রামাগার কোনোকালেই নেই ,
তবু একটা দম বন্ধ বুকে জোনাকি নিভিয়ে ফেলে নিজেকে .......ভালোবাসা মামুলি ব্যাপার নয় হে ।




মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

ব্যবধান



জীবন  কান্নার শব্দ পার করে.... এক এক পর্বের মধ্যে দিয়ে,,
 জীবন পথে  যেতে যেতে একদিন হাওয়া আর বাতাসের সুক্ষ সেতুর সমান্তরাল ব্যাবধান বুঝে নেয়। একদিন দ্বন্ধ  ও দ্বিধা র ব্যবধানে ফাঁকা জমি চিনে ফেলে । আশ্রয় আর প্রশ্রয়ের তফাৎ খুঁজে নেয়।  কথা বলা আয়নার  মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের কথা জিগ্যেস করলে  সবটুকু সত্যি নির্যাস চেহারায় ধরা পরে ,
  মুখ ও মুখোশের মাঝে  সাদৃশ্যগুলো এত বেশি 
পার্থক্য খুঁজতে সূর্যের নীচে আতস কাচ রাখতে হয় । রিপুর  মাঝে আটকে থাকা আশ্চর্যসব বন্ধনী আসলে দুটো সময়কে বেঁধে রাখে। জুড়ে রাখে অসুখ আর সুখ।  বন্ধনীর মাঝে বাতাস ঘর থাকে । আকাশমুখী জানলা সেখানে সবসময় মুক্ত। 

মানুষের জীবন আসলে তো অতলঅনন্ত। জিভের স্বাদ কোরকে তুলে রাখা ঋণ আশ্রয়ের বুক খুঁজে নেয় । যা গড়তে গড়তে  ভাঙে, ভাঙতে ভাঙতে গড়া হয়  অচেনা তরঙ্গে। 
 পা ডুবিয়ে বসে থাকে মন নিশ্চিন্তে অপেক্ষার প্রহরে । আত্মিকতা খুঁজে পেতে টিলার ওপর  যেতে হয় সাগর এর খোঁজ করতে , 
আছড়ে পড়া ঢেউ  নোনাজলের গল্পে  এক চিরকাল,  বুকের ওপর  নাবিক নৌকা চালায়  নির্বিকার জীবনের চর্যাপদ বিছিয়ে ।
  বন্ধনের  দিকেই ঝুঁকে পড়া চিরকাল ক্ষমার অভ্যাস  শেষমেশ,,।



রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

শহরের উপকথা

ঝাঁ চক চকে  রাজপথের  বাতিস্তম্ভ থেকে ছড়িয়ে 
পড়া নির্যাস  বদলে যায় অভিমানের  চিঠির অক্ষর দের মতো .... টুকরো কাগজের পাশে সরষে ক্ষেতের হাত ছানি ... ,
পিঠে রাখা অদৃশ্য হাতের মত ,,ঈশানি  বিপদগামী মেঘ  লেগে থাকা বাড়ির ছাদ, গড়ের মাঠ ,রাজভবন . আরও কতো কী আমি পেরিয়ে চলেছি।
 মৃত্যুর  হাত ধরে হাঁটছি নিজস্ব গোলার্ধের ব্যাস পথে। 
বিবর্ণ অন্ধকার দের  কোনো একদিন ঝরে পড়ার কথা মাথার নিউরোন বেয়ে । 
খরিসের হিস হিস  আগুন অশ্লেষাপ্রহর জুড়ে পাহারায় রাখে আত্মাটাকে ,। স্রোতের আড়ালে আমি তাকে নিয়ে চলেছি... নিঃশ্বাস এর সিঁড়ি বেয়ে উঠছি আর নামছি হারিয়ে ফেলা মানুষটার খোঁজে।  বর্শার ফলায়  অস্থির এক অনুভূতি রাত্পাখির ডাকের সাথে  নৈঃশব্দ্যের শব্দ মিশে যায় সে এসব কখনো জানতে চায় না ,, 
তার মাথায়  কয়েক হাজার দুয়ারী  আর কয়েকশো খিড়কি সময়ে সময়ে দৃশ্যত হয় ... মেঘ নেমে আসা কলমে তখন   মৃত্যুসংবাদ ছাড়া কিছুই লেখা যায় না , সাদা পাতায় , 
এ শহর এমন সাক্ষী হয়েও চুপচাপ দীর্ঘায়ুর পথে এগিয়ে যায় ।

ঋতু বদল



ঋতু বদল করে ফেলেছে  শহর নিজস্ব ছন্দে 
আলোয়ানে রাখা  নক্ষত্রের রাতে দীঘির  তীর ঘেঁষে হেঁটে চলেছে সময় অনন্তের নিঃশব্দের শব্দের খোঁজে ......।
    ঘন রাতের শহুরে শূন্যতা মেনে নিতে নিতে ..
চোরাবালিতে ডুবছে মানুষের স্বয়ংক্রিয়তা ,
আত্মিক  বর্ণে ও ভাষায়... তামাটে তর্জনীমুখে 
খিড়কি  ভাঁজ করে রেখেছে  কারণের সম্পর্ক গুলো বটের কোটরে ,
 প্রেমিকার আঁচলে  পৃথিবীর  মানচিত্রের মতো
কবি অচেনা পরিখা  আঁকে নিজস্ব আঙ্গিকে..........
 দহনে মেঘ আসে বৃষ্টির অনেক আগে। 
গাঢ় কমলা চিতার পাশে সংলাপ লিখছে ঝাপসা শরীরগুলো,
ছায়া জন্মানো বিকেলের কাছে। জীবাশ্ম ভেসে আসে অলস ও অবসন্ন নদীর স্রোতে... অপ্রাসঙ্গিক নিরাময়তায়... খুঁজে চলে চেনা মুখ,
অচেনা নক্ষত্রে আর্তনাদ লিখে রাখার মতো গোপন বেজন্মা  জন্মপরিচয়... মারাত্মক তরঙ্গে ভাসিয়ে দিই আমরা সকলেই। চিতাকাঠের উত্তাপ শুষে নেয়  দেহজ সংলাপ ,
 ঋতু বদলে শহরের পথ ঘটে সম্পর্ক গুলো হাত বদল হয়ে দেখে প্রতিটা বাতিস্তম্ভ অথচ প্রতিবাদী হতে পারে না স্বৈরাচারীতার বিরুদ্ধে ।





শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১

অলিখিত গ্রন্থ (৭)


ক্রমশ অন্ধবায়ুতে   তোরও দুঃখের কথা  শুনতে শুনতে উজান থেকে বহু দূরে গিয়ে দাঁড়াই আমরা, ,
শেষ আলোটুকু নিভিয়ে ফেলে ছিল যে ছেলেটা তার বুকে বারুদে বারুদ ঘষে আগুন জ্বেলে সারা রাত নদী পার করিয়ে দিতে হয়  ,
প্রেম যে বস্তুর মত মত নয় সে কথা কোপাই নদীর পাশে দেখা হওয়া বাউল সন্ন্যাসী প্রথম বুকের দেওয়া গেঁথে ছিল ,
তার পর ঠোঁটে রক্তের স্বাদের প্রলোভন কাঙালপনাকে বারংবার প্রকট করেছে ,
বাউলের আখড়ায় সমস্ত  জগৎ সংসার  বাজি রেখেছিলাম সে ও আমি  ......আহম্মকের মত দুজনে ....বলেছি তোমার বুকে ছাড়া কোথাও মাথা রাখবো না .....তুমি বিনে প্রাণ বাঁচে না যে ।
এভাবে হাটে বাজারে কথা সাজিয়ে সাজিয়ে ব্যথার ভেষজ জড়ি বুটি বেচেছি আমাদের মত অদ্যপ্রান্ত অস্তিনবিহীন  মানুষ গুলো ,
অথচ মেনে নিতে পারি না সত্যিটা .....পোড়া কলিজার গন্ধ  চন্দন কাঠের সুবাসেও আড়াল করে যায় না ।
যে কথা সবাই জানতো যারা শ্মশান পরে ঘর বেঁধেছিল একদিন .... আমরা দুজন শুধু নদীর আত্ম কথা শুনতে পাইনি আপন ত্রিভঙ্গ শব্দের আড়ালে ।





জিন্দেগী কি রাহত


-------  

 জিন্দেগী কি রাহত  জব চলে যাতে হ্যায়
শুকনো  বসন্ত  হওয়ায় বিষণ্ণতা ছড়ায় দশ দিক থেকে ......,
বিদায়ী সুরে আলবেলা   দিল কি দর্দ ছুপি রহতি ,,

 জিন্দেগী কি রাহত  জব চলি যাতি  হ্যায় 
ডিপ্রেশন রাতে বৃষ্টি নামে আনজান  কাহানি মে ,

ছদ্মবেশী সে কোন জন   আমার সামনে আমারই কবর খোঁড়ে ,

জীবন আর যন্ত্রনা  দূরেই রাখি নিয়ম মেনে
কিসের টানে রাত বিরেতে ওরা কেবল জড়িয়ে থাকে  ।
  সাদা পাতায় হরফ জ্বলে  বেপ্যায়মান ....,
সারা জীবন কিসের অপেক্ষায়   পোড়ে মন কে তা তা জানে সঠিক করে ? 

সাহস করে বলছি সবাই এই তো বেশ কাটছে দিন  ‘ইরশাদ’ ময় জীবন আছে  .....শোকেসে মৃত হাসি রাখা ,

 জিন্দেগী কি রাহত  জব চলে যাতে হ্যায়  
বসন্তে তখন  ভীষন বিষণ্নতার অসুখ করে , 

আর কিছু নয়, হাওয়ায় শুধু শুকনো পাতা ওড়ে...
মনের ঘরে ডিপ্রেশনের বৃষ্টি পরে ।

কিন্নরী বার্তা

খাতার হিসেবে হারানো সময় মুছে যায় না ,
দীর্ঘশ্বাস খুঁজবে বলে ভ্রম এসে বাসা বাঁধে সময়ের ঘরে ,

বিনিদ্র রাত জুড়ে এক মাহফিল আরোহন করলেও
অন্ধকার ঝরে পড়ে ঝাড়বাতি কোন এক গোপন সংবাদে ,

রাতের অন্তরা বোঝার আগে নির্জন মুদ্রা সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে বুকের ভেতর ,,
...........আশ্চর্য যে জেটি ঘাটে অসুখের ঢেউ অপেক্ষা করতো  সেখানে  অবিরাম বৃষ্টি ছাড়া কিছুই  ছিল না ।
তার গায়ের গন্ধে কোন দাগ সেই ভাঙা নদী পাড়
গুছিয়ে রাখেনি সময় ।



শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১

অলিখিত গ্রন্থ (4)


স্বপ্নে ঈশ্বর আসেন ঘোড়া ছুটিয়ে  তখন
ল্যাম্পপোস্টের আলো যেখানে পৌঁছোয় না, এমন একটা ছায়া ছায়া দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বাজারি শরীর গুলো দাঁড়িয়ে থাকত , মরফিন সংসার থেকে স্বাদ বদলাতে  এই বাঘবন্দি খেলায় ঈশ্বর সামিল হন  সাথে সাক্ষ হিসেবে মানুষ ,
ফাটা চামড়ার যাপন ছেড়ে পালিয়ে বাঁচা পুরুষ তখন ঈশ্বর ভূমিকায় ........সিংহাসনে বসে ,
আমার শহরের কনিষ্ঠতম ঠগী  মানুষ এখন আমি
পানপাত্রে ছড়িয়ে রাখি  সমুদ্রের ভিজে বালি আর নোনা জল, 
সকালের গা  গোলানো ওষুধের  গন্ধে রোজ এক গোপন বমির অভ্যেস হয়ে গেছে , চোখের সামনে আসাইলামের নক্ষত্র যাপন স্পষ্ট ছবি আঁকতে পারি জল রং তুলি ছাড়াই ,

এশহর উড়ন্ত চিলের বেশে
ঠিকানা ফেলে রেখে কোথায় যেন...
ত্রিখন্ড অঙ্গুল হীন প্রত্নভাষায়
বাতাসের বারো ভাঁজে... রক্ত মাংসের নেশা লেগে আছে প্রতিটা বধির শরীরে ,,
মাঝে মাঝে নিজেকে মিলেনা . . গ্রেতি কিংবা ডোরাও ভাবি  তাই ভেবে রেখেছি মুখোশ খুলে এলদিন  পালিয়ে যাব ফুলস্টপের  সাথে ।




আব নেহি তো কভি নেহি

ঘর বদল হলে  নিঃশ্বাস বায়ু কমতে থাকে 
কমতে থাকে জিভে লাগা বেঁচে থাকার স্বাদ ,
যে ঘরের ভীত ইঁট  ভালোবেসে  একদিন গাঁথা হয়ে ছিল আজ আর সে ঘরের পথে ফিরতে মন চায় না
সাপের বিষে কলিজা পুড়ে ছারখার  সে কথা যে জানে  তার কোনো শব্দ দোষ হয় না , 
বাউল সন্ন্যাসী বলেছিল ঘর বাঁধা মনে পাপ জড়ো করা , পচা পুকুরের পানিতে ভালোবাসার স্বচ্ছতা থাকে না  .....খোয়াই এর গা বেয়ে বয়ে চল   ......  নদী কখনো পাপ জমা করে না .....তাই  কোমল সুর  কখনো ঝাপসা হতে দেবে না ,
মায়ার পেছনে যে কালো জাদু বাস করে সেদিন বোঝেনি মেয়ে  ......আজ বাউল সন্যাসীর স্রোত প্রান্তর , লাল মাটি ছেড়ে বহুদূর , 




বটের ঝুরি

মেয়েটির চোখের নীচে বটের  ঝুরি  ও শব্দ মহলের গুঁড়ো গুঁড়ো অবশিষ্ট 
পায়ের মলে  জড়িয়ে পড়ে আছে কোনো এক চন্ডীদাসী চর্যা পদের   দুরবদ্ধ কথন,

বটের বাকল অজস্র ভুলের মত প্রদাহের চিহ্ন ।

ভালোবাসার গাছ ঠিক কখন মরে জানা নেই ,

মাটির দুফুট নীচে যখন শেকড়ের সঙ্গমে প্রেম থাকে মেয়েটির শরীর তখনো ভীষন ঠান্ডা ,

পাতা কাঁপা উত্তেজনায় এ শহরে প্রেম আর নেই 

সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রত্যেকেই এখন রক্তবমি 

অসুখে  অভ্যস্ত ।

মেয়েটি স্পর্শ চেয়েছিল  অথচ আগুনে কুঁকড়ে যেতে হল মেয়েটিকে ,।


বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

ঈগলের চোখ জানে

ঈগলের চোখে পৃথিবীর  চিত্রনাট্য ভীষণ স্পষ্ট ,
সভ্যতার ভাঁজ করা আলোয়ানের ভেতর প্রতি মুহূর্তে যে মৈথুন চলে তা লুকোনো যায় না ,

নাটকীয় আশ্চর্য  সামাজিক দাম্পত্য .....
ফিরে আসা রাতের বুকে সোহাগ হীন ঘুম জড়িয়ে দুটো মানুষ নাব্যতা হীন নির্জন নদী পার করে ,

 শব্দ ঋণ তেমন বাড়ে না বলেই চিত্র নাট্য আর দুর্বল মুহূর্ত  বলে কিছু  নেই ,,

ঈগলের চোখ জানে যুদ্ধ টা শেষতক চালাতে হবে,
পৃথিবীতে প্রতি মুহূর্ত  যেমন  সম্ভোগ থামে না ,তাই থামে না জন্ম মৃত্যু , তেমনিই থামে না যুদ্ধ ।



জাগলিং জীবন

সম্পর্ক গুলো এখন কেবল মাত্র দেহ আর দেহ গুলো মর্গের খোপে থরে থরে রাখা

 কিছু কিছু গভীর  অসুখ সারাজীবন ভেঙে চুরমার করে দেয় শব্দ হীন হয়ে ,  অমাবস্যা উপশম 

খোঁজে বেঁচে থাকা চরিত্র গুলো যারা নাভি পুড়তে থাকা গন্ধ নিতে নিতে অভ্যস্ত এখন ,

নাগরিক যতি চিহ্ন ছিড়ে যায়  সেই মৃত্যু গন্ধ 

প্রবল হলেই ,

পৃথিবীটা ছোট হতে হতে যখন হাতের মুঠোয় তখন সম্পর্ক গুলো মাইলস্টোন মেপে গুটি গুটি পায়ে দুরত্ব এঁকে ফেলে , 

আকাশের গায়ে  শব্দের জাগলিং করে জোকার হতে পারে না হেডলেশ মনস্টার  যারা ,

অথচ যে ভাবে অসুখ ছড়াচ্ছে সম্পর্ক গুলোর মাঝে  বেঁচে থেকে পাশ পাশি থাকা প্রায় অসম্ভব ,

ভেবে দেখ আগামীতে প্রতিটা সম্পর্ক মুছে গিয়ে দেহ গুলো মর্গে ট্রেতে কেবল  থরে থরে রাখা ,

আর আকাশের গায়ে তারা দের পাশে অজস্র শব্দ জব্দের খোপ খোপ ঘরে কিছু মুসাফিরের কিসসা 

বন্দি ।



মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

শূন্য থেকে শূন্য

 এ শহর কখনো শূন্য, সংঘাত বোঝে নি,

পার্কের বেঞ্চে  অপেক্ষার বাদাম ভাজা খেতে খেতে  শুধু ঠায় বসে থাকে সাময়িকি প্রেম ,

 নিমিত্তে সরলদোষগুণ ঘড়ির কাঁটায়...  সরে যায় 

যেন এক একটা কম্পন তরঙ্গ সেতু থেকে সেতু ভাঙে আর জোড়ে ,
অভিমানী  মেহফিল থেকে ভেসে আসে নূরজাহানের বেহাগী কন্ঠস্বর ,

আলো মুসাফিরের মত তোমার ভেতরেই কাটাকুটি খেলা রপ্ত করে নেয়  ,

তোমার ভেতরেই  জীবনহিংলাজ.. মরুতির্থ সফর ।

হাতের মুঠোয়  সময় ক্রমশ উড়ে যাচ্ছে কালের

প্রবাহে নিয়ম মেনে .......এসো আগুনে ঝাঁপ দেবার আগে 

  পরিযায়ী পাখির মত . চলো উড়ে যাই

চলো ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে , ,,।


বৃষ্টি সংবাদ



তুমুল একটা বৃষ্টির  সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে 
আমাদের গল্পটা এগোচ্ছে না  জেনেও 
রোজ রোজ তোমার   বুকের মেঘেদের  স্মৃতি  আঁকড়ে 
এক রাত জাগা পাঠক আমি কেবল মাত্র,
চাতকের মতো জলের ফোটার দিকে
তৃষ্ণা জমিয়ে রেখেছি আমরণ .....কারণ আমি অভিশপ্ত  চিরাগ  এর জীন ,
হাজারো অভিমানী       স্পর্শে কেন  নির্ঘুম রাত থেকে ভোর ভেঙে যায় আসে আরো একটা অভিশপ্ত দিন  জানি না........ জানি না, 

             ইচ্ছে করে রাত  পাখি  হয়ে চুরি করি পৃথিবীর নিশ্চিন্ত ঘুম 
তোমার ঘুমের কাছে  গুঁড়ো গুঁড়ো কূজন ছড়িয়ে
রাখি 
চোখের ভিতর কী তীব্র দহন  কেউ বোঝে না 
কাউকে বোঝাতে মারাত্মক রক্ত ক্ষরণে ঝাপসা দৃশ্য ,
 নদী পারে যত সভ্যতা সব একা একা নিদারুন ভাঙাগড়া  খেলায় মত্ত ।তারপর ভোরের আজান ভেসে আসে নিঃশব্দে শব্দ হয়ে "sound of silent"
ভোরের আজানে  মন কাঁদে তুমি  শুনছো ...? জানি আজকাল তুমি অনেক কিছু শুনতে পাওনা 
কানের ভেতর অবিরাম চলন্ত ট্রেনের হুইসেল 
লাইন বদলানোর আওয়াজে ব্যস্ত তুমি 
 আমাদের ভোরের আজান একসাথে
শোনা আর কখনওই হবে না , একসাথে ভুলে যাওয়া কথাদের  পুনরায় মনে করায় কেবল টানেল জুড়ে বিস্মৃতির অন্ধকার যার দু পাশে আলো থাকলেও বুকের ভেতর চির অমাবস্যা ।

ঈশ্বরের সঙ্গে যার কোনো চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক নেই,  আমি নাস্তিক এর দলে আমি শুধুই 
 আগুনের দিকে ডানা মেলে ধরি আজকাল ... 
বৃষ্টি জলের গভীরে ডুবে ডুবে পদ্মমঙ্গল লিখি...
অলক্ষী আর নাস্তিক বলেই  তোমাকে এভাবে ভালোবাসতে পারি  এও কী নিবেদন কম ?

ঘুম এসে পা ডুবিয়ে বসে থাকে আমার একান্ত দীঘির জলে  রাতভর ,
পাঁচিলের ফাটল থেকে আলো   খিড়কির কাচে কান পাতে,  ভালো আছি কিনা খবরাখবর নেয় ।
 পাগলের মতো  হাসে দেওয়াল  আঁচড়ায় অজানা কিছু গোপন আর্তি নিয়ে  ।  
যে বিষণ্ণ রাতের   কোনো জাত হয় না   সেও তো আমারই মতো ভবঘুরে বিনিদ্র  কথোপকথন যেমনটা .......
বাইরে বৃষ্টি  আমার বাড়ির ছাদে নিদারুন অধিকারে ছিদ্র করে ফেলে ।

আমি জলে ভেজা   ধ্রুপদি আঙ্গিকে নিজেকে বোঝাই শামুকের ভেতর এক খান ঘর বাঁধার ,, ......তার পর জ্বলতে থাকি 
 নিভন্ত চাঁদের আগুনে,  তুমুল বৃষ্টি  সংবাদ 
থাকে আমাদের সমস্ত গল্পের ধারাবাহিকতায় ।



মৌন কথা


শব্দরা  যখন অন্তিম পুঁঁজি  বাজি রেখে হেরে যায়,
মুুঠোবন্দী  মাটি মুুক্তি খোঁজে  .....খাঁচা  খুলে দিতে হয় সন্ন্যাসী

দেখে নিতে হয়...সে মাটিতে আশ্রয় ।কতটা শক্ত ।

 ফাঁকা ক্যানভাসে সারি সারি , একলা অন্তরমহল

কাঁদলেও কিচ্ছু করার থাকে না । 

 
অন্ধকার জমানো এই দেহ থেকে ঝরাপাতাদের
খুলে নিচ্ছে সময়,।সীমানা খুলে দিচ্ছে খরস্রোতা প্রবাহ ,,

 যারা সারাটা রাস্তা শোক ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে ,যাচ্ছিল তারা  ....নিজের  ভেতরে 

দীর্ঘ মাইল শীতকাল  পার হযে  ।

এখানে  তারা  সবাই ভীষণ একা  ,

 তুমি আসো বারংবার অথচ পাপ এঁকে 
পুনরায় হারাই তোমাকে।
যারা আঙুলে আঙুল ক্ষয়ে যাওয়া দেহজ সম্বল খুঁজে নিচ্ছে আমি যে তাদের মিছিলে হাঁটতে  শিখিনি আজও সন্ন্যাসী 


তাদের জলে থেমে আছে এই সম্পর্ক-নিরাকার।
 সিগারেটের ধোঁয়া ঘুরে ঘুরে ওঠা নামায়   অবসর যেমন ,

বিষাদ কেটে নাও খানিকটা গলা থেকে,দূরে ফেলে দাও অদাহ্য  পোশাকি  শব্দ সজ্জা ।

ছেঁড়া ছেঁড়া শূন্যতা ভর করে আছে পুরোনো সাক্ষাত,, 

ফুরিয়ে যাওয়ার আগে একবার।   ...... বল ফিরে এসো ,

 
মরসুুমি পাখিরা গোপন আকাশ পথ বেছে নিয়েছে ,,

বুকের ভেতরে সন্ধের পর যদিও বাড়ি ফেরেনা কিছুই, শুধু যেন  অন্ধকার এর।সাথে অন্ধকার কথা বলে ,

মেঘ নেমে আসা অবিকল কোনো ব্যথার কোলাজ
জুড়ে নগর জ্বলে ওঠে  দাউ দাউ আগুনে 

যারা পরিযায়ী  সময়ে সময়ে  মৃত প্রমাণিত হয় তারা  ,
ভাসমান স্তবির পালকে হাতছানি মোছে  নাটকের পর্দায় তারাই।

এ শহর আমার কাছে  পিছুটানহীন  এখন

কোথাও... হারানো চৌম্বক অপেক্ষা আর নেই ।
অথবা চুপ থাকা  সমীচীন বুঝে ভাগ করে রাখি নিস্তব্ধতা...

আয়নায় ধুলো  টুকু দুহাতে সরালে কাচা সন্ধের রঙ ফুটে ওঠে রেকর্ড প্লেয়ারে .....
সারা দেহে লেগে আছে  ফুরিয়ে আসা  পারিজাতীয় ওম ....... প্রেম চোখ মুছে নিতে নিতে

গাছে দের  কোটরে  ঘুম খোঁজে ,

যে গাছের শরীরে আমাদের প্রিয়নাম লেখা আছে... তার বুকে অতীত সংখ্যা থেকে আগামীও লেখা থাকবে সন্ন্যাসী ।


সন্ন্যাসী কথা 

--

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১

প্রবাহ কথা

প্রবাহের  কথা লিখতে গিয়ে  দেখলাম নিজস্ব একলাঘর ছাড়া কিছুই নেই 
বারংবার  ভাঙতে ভাঙতে নদীতে মিশে যাচ্ছে পরিচয় হীনতায়,
আমার মত কেউ  জলের ফেনায়
বদ্ধঘরে  মৌনমনা আনজান গোপনীয়তা মাত্র ।
তার হারানো  অভিযানের মিছিলে একলা আমি ও আমার ছায়া 

সব নদীর  পার জানে একটা ভাঙনের পরে বিষণ্ণ ঠান্ডা রক্তের স্রোত  আসে ধমনীর পথে ,
কুয়াশায় মিশে যায় নতুন প্রেমিকযুগল  মন ,,
সাঁকো থেকে নিচে দেখলে বোঝা  যায়
 বুুক ভাঙা নদী স্পষ্ট বিছিয়ে দেয় যন্ত্রনা , আমি নেমে আসি সমস্ত সিঁড়ি পার করে 
নদীর বুকে মাথা রাখি আমি, 
 বহুদূরে আমার সাজানো শূন্যতাঘর অশনি সংকেতে দুলে ওঠে প্রায়শই , 
 গা ঘেঁষে গভীর অরণ্য চলে গেছে নানান
প্রলোভন পথ ,
আরো  দূর থেকে
  দূরে আলো সরে যায় এবার,,  
আমি তার অপেক্ষায় আরো একটা সকাল হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে তার দেওয়া দুঃখ গুলো বেশি করে খুঁজে পাই ,,, 
ঘুম আসে না ......ঘুম আসে না .........।
 

শ্মশান


তোমার বুকের ভেতর দিগন্ত জুড়ে একটা শ্মশান সেখানে মৃত এবং বিশ্বাস ঘাতক সম্পর্ক গুলো পাশাপাশি শুয়ে আছে , 
মাড়িয়ে চলে যাচ্ছ চেতনাহীন চরিত্র , 
একের পর এক অসি যুদ্ধে পরাজিত করে মুন্ড ছেদ করছো  বিশ্বাস ঘাতক মৃত  সম্পর্কে র ....অথচ  করো মুখাগ্নি করতে পারোনি , 
জন্মাবধি মৃত সম্পর্কে সারিতে মা বাবা শৈশব।যৌবনে আসা সম্মোহিত সম্পর্ক ,এযাবৎ উনপঞ্চাশ তম  প্রেমিকারাও বিশ্বাসী হতে পারেনি 
......পারেনি ভালোবাসায় আগলে রাখা স্ত্রী ,সন্তান  বিশ্বাসী হতে ,
প্রতিটা মুখ যেন মৃত শব ,তারা প্রয়োজনে প্রয়োজনে মুখোশ পরে বেঁচে ওঠে তোমার অসম্পৃক্ত দুনিয়ায় ,
যন্ত্রনা আর জীবনের মাঝে শব্দ জালে মাথা রাখো সময়ে সময়ে ,
আগ্নেয়গিরির গলা লাভায় কবিতা লেখো  জলন্ত অক্ষরে ,,
 খ্যাপা সন্ন্যাসীর মত ....... ঊষর ধূসর ছাই মেখে নিজেকে লুকিয়ে ফেল নিয়মমাফিক ,
দু একটা জানলা দিয়ে তোমার ছোটপটানি যন্ত্রনা ভেসে আসে দুনিয়ারদারী বাজারে  .....কেউ কেউ তোমায় কিনতে চেয়ে আবার কিছু স্তূপকৃতি যন্ত্রনা দিয়ে সময় এর ছলনায় খানিকের অতিথি সাজায়  ....
একটা শ্মশান দেখি তোমার বুকের মাঝে  ভীষন স্পষ্ট রকম ,, সেখানে মৃত বিশ্বাস ঘাতক সম্পর্ক গুলো ক্রমশ বাড়তে থাকে ......তুমি পোড়াতে পারেনি আজন্ম একটিও বিশ্বসঘাতকের মৃত দেহ, মাথার ভেতর তাই তাদের শেষকৃত্য জমা হয়ে রয়েছে ....
তুমি পুড়ছ অনবরত আজীবন ।

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১

বি-শ্বা-স

আজ কাল বিশ্বাস শব্দটার ওজন হারিয়ে গেছে,, 
বহুবার  এই শব্দটার গভীরে  মাথা গুঁজে দেখেছি 
রেশায়  রেশায় বিশ্বাসী  সম্পর্কের বুনন যতই  নিরেট হোক..... খুলে গেছে গড়িয়ে  যাওয়া  উল সুতোর মতই, 
যারা  বিশ্বাসী  হতে এসেছিল তারা মুখ নামিয়ে ফিরেছে জেরুজালেম  থেকে আর কখনো  মুখোমুখি হয়নি  দিনের আলোয় যিশুর সামনে, ,
 
যারা  বিশ্বাস  করতে এসেছিল তাদের এক একজন কে  ক্রুস বিদ্ধ করা হয়েছে এই গ্রহের আজস্র জেরুজালেমে , 
হিসেবে দেখা গেছে  সহজে বিশ্বাস যারা করে তাদের থেকে নিযুত  গুন বিশ্বাসী  হয়ে আসাদের  জন্ম বেশি, 
তবুও বিশ্বাস নড়ে না গাছের মত পাথরের পাহাড়ের মত স্থানুবৎ  থেকে যায়,,  ক্রুস কাঠ ফুরিয়ে যায়....  হাঁপ ধরে বিশ্বাসী  হয়ে আসা চরিত্র  দের জেরুজালেম বাড়ে এ পৃথিবীতে , 
বিশ্বাস শব্দটা ওজন বিহীন হতে থাকে, 
বিশ্বাস  করে যারা  তারা অনন্তকাল  ক্রুস-বিদ্ধ
হয়েও হাসতে থাকে........ 

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২১

ছায়ার খোঁজ

আমার থেকে একটা ছায়া সরে সরে কোথায় যেন হারিয়ে গেল .....,  
খুঁজলাম পায়ের নিচে এদিক ওদিক ডাইনে বাঁয়ে কোথাও আর ছায়াটা পেলাম না  , 
তারপর ছুটে গিয়ে আয়নার সামনে..... পেলাম না কোনো ছায়া কিংবা প্রতিচ্ছবি ,
 ছুটতে ছুটতে ভুবন ডাঙ্গার মাঠ... , মফস্বলের অলি গলি.... , গাঁয়ের জমি আল পথে.... , খোয়াইয়ের চর..... , তিলোত্তমার রাজপথ  থেকে পরিজাত, ষ্টেশন চত্বর....., কোথাও সে ছায়াটার দেখা মিললো না .........,
আমার বাড়ির সামনে চৌরাস্তার মোড়ে জোরালো বাতিস্তম্ভর নীচে উবু হয়ে  নখ দিয়ে খুঁটে খুঁটে   খুঁজলাম ছায়া   ....পেলাম না ।
 আবারও  ছুটতে ছুটতে প্রতিটা পরিচয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করলাম তাদের দুবাহু  ঝাঁকিয়ে  সেই ছায়ার কথা ... , সবাই নিজেদের মধ্যেই ব্যস্ত থাকলো আমি যেন তাদের দৃশ্যে দৃশ্যত  হইনি মোটেই ,  
ছুটে  গেলাম আমার সে প্রিয় বাউল এর কাছে যে আমায় নিয়ে রোজ গান লেখে ..... তাকে গিয়ে জিগ্যেস করলাম .......গোঁসাই ছায়া কি দেখতে পাও তুমি ?.... সে মুখ তুললে না,  যে গান সে গাইলে তার সুরে আজ কেন যেন শোক লেগে .....তার মরমিয়া বাউলিনী কে আজ গানে গানে শেষ বিদায় অর্ঘ্য ঢালছে ,,
ফিরে এলাম সেখান থেকে ছুটতে ছুটতে
কবির কাছে জিগ্যেস করলাম কবি তোমার প্রিয় নাম ......তার ছায়া নেই কেন আজ...?  কবি চাইলো না আমার মুখের পানে ধ্যানমগ্ন কলম  থেকে তার বেরিয়ে এলো হৃদয় নিংড়ানো কান্না , আমার কবির এমন কবিতা আগে কখনো লেখেনি, .....দাঁড়ালাম না আর মুহূর্ত ছুটতে ছুটতে    এলাম  হাঁপিয়ে গিয়ে খানিক থেমেছি যেই  চোখে পড়লো চেনা সম্পর্কের ভিড় 
ফিসফাস কিছু কথা ভিড় থেকে এগিয়ে আসতেই কাঠের ওপর কাঠ সাজানো তার ওপর চেনা একটা শরীর ......আর একটু কাছে যেতেই দেখি হুবহু আমার মত কেউ ঘুমিয়ে আছে , মুহূর্তে আমার সন্তান এক মুঠো আগুন নিয়ে রাখলো সেই ঘুমন্ত মুখে , 
বুঝলাম আমার ছায়ার খোঁজে আর পাওয়া যাবে না কোনদিন ।

শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১

শেষপর্ব

 কানে আসে কিছু সংলাপ  বুঝি  প্রেম কখনও গাছ  কখনও পাথর ......
বাউল বলে দোষ কারো নয় না মনের না জনের ...

তবু চাঁদ গড়িয়ে নামে রাতের বুকে.... ভাবতে পারো কান্না নয় শিশির ফোঁটা ,
জন্ম নেবো জেনো আবার ....আবার তুমি দুঃখ নাম রেখো ,তখন নাহয় নতুন করে লিখো বাকি থাকা  কিসসা .....,,
ঠোঁট পুড়ে যাওয়া  নিকোটিন শোক আর অযুত রাতের ঘুম  নিয়ে আমি এখন মাটির দু হাত নীচে ,,
চাঁদ নামুক ইচ্ছে মতন , প্রেমিক  খুঁজুক নতুন মন ইচ্ছে মতন , কবিতায় আসুক ইচ্ছে মত নীরা ,বনলতা , কিংবা বেনামি কেউ  , মন পুড়বে না আর , ভিজবে না  বিন বর্ষাত মে দীপ্তি ফারুক ,
মনের এবার  নির্বাসন ........
দূরত্বে বয়ান থাক তোমার জাতিস্বর মনে 
বিদায়  এবার ........
দেখা হবে আবার যদি জন্ম বলে কিছু থাকে ।




জানি না ....

বুকের ভিতর  এলোমেলো আলো
ঠাহর করতে পারি না  চেনা মুখ ,
সময়ের ধারালো স্রোতে দৃশ্য রা কেটে কেটে থামে 
পথের বাঁকে , কি যেন গোপন গল্প বুঝি না ,,

জোঁকের মত রক্ত চোষা স্মৃতি  রাত বিছানায় আমার উল্টোদিকে সিলিংয়ের দাপিয়ে বেড়ায় ,
কার বিহনে  ওমন করে কাঁচা ক্ষতের সেলাই খুলে যায় রোজ রোজ!   ..... জানি না ........  
কার  বিহনে বুকের মাঝে ধিক ধিক আঁচ জ্বলে আর নেভে বলতে পারি না .........
কার বিহনে পাতায় পাতায় শূন্যতা ঘিরে ধরে আমাকে জানি না ............
সে জন কে   জানি না  ....যাকে বুঝে নিতে ক্ষয়ে যাচ্ছে বুকের আকর ! 
নিজের সাথে নিজের কলহ "জিন্দেগী ভর চলতে হ্যায়  ......খোয়াইসে দম তোড়তে রেহে হর এক পান্নামে ....,
 তবু যাপন টুকু  একদিকে জলের গভীরে বুক রাখে,
জীবন  সে আগুনের দিকে পাগলের মতো ছুটে যায় ভালোবাসে   কিনা তাও জানি না ........

ভালোবেসে কেবলই পরকুটিরেই মায়া বাড়লো ,
নদীর কথা কেউ শুনে না নদী শুধু শুনে যায় দেওয়া নেওয়ার  কিসসা । 







তেমন কিছু

সকলেরই জীবন কিংবা ইচ্ছার গহীনে আশ্চর্য প্রদীপ থাকে থাকে একজন জীন ,আমার তেমন কিছু নেই , 
সকলেরই  একটা নিজস্ব ঘর আর নিদেন পক্ষে সেই ঘরে একটা জানলা থাকে যেখান দিয়ে সূর্য শিশির গড়িয়ে নামে  আদুরী সকালে.... কোজাগরী জোৎস্না আসে কবির গানে গানে ......আমার তেমন কোনো ঘর বা জানালা নেই  যেখান দিয়ে নিতান্ত আধ ফালি চাঁদের আলো  কিংবা সকাল আসে ,,
সকলেরই  একটা বুক থাকে মাথা রাখার ,কান্না থাকে গালের পরে অভিমানী হয়ে নামার জন্যে .......আমার তেমন কোনো বুক নেই ...নেই জল থৈ থৈ একটাও দীঘি , 
সকলেরই  নিজের ছায়া থাকে যা তার একান্ত 
আমার কোনো ছায়া নেই .....তাই একান্ত কথাটা আমার কাছে  দুর্বোধ্য ,
সকলেরই চলে যাওয়ার পর রেখে যায় নিজের পাংক্তেয়  কিছু পুঁজি যা তার স্মৃতি বলে রাখা থাকে পৃথিবীতে ....... আমার তেমন কোনো স্থাবর কিংবা অস্থাবর নেই  যাতে এ গ্রহের কারো জন্য সামান্য কিছু রেখে যেতে পারি ...,
সকলেরই কিছু কম কিংবা কিছু বেশি আত্মিক সম্পর্কর মালায় মালাকর হয়ে থাকে .....
অথচ আমার তেমন ভাবে মালাকর হয়ে ওঠা হয়নি কারন আজীবন আমি অনাত্মীয় থেকে গেছি ,
সকলের যা দৈনন্দিন আমার তেমন কিছু নেই...
আমি হয়তো চিরকাল ঈশ্বরের ঘরে উপচে পড়া দের মধ্যে  .....বাড়তি , তাই ব্রাত্য ।

প্রশ্রয়

প্রশ্রয় পেলেই জীবন কেমন জুলুজুলু চোখে প্রেমের
খোঁজ করে ,
প্রশ্রয় পেলেই মন পালে হওয়া লাগিয়ে বেহাত হতে থাকে ,
প্রশ্রয় পেলেই ইচ্ছা গুলো অপেক্ষা শিখতে চায় ,
প্রশ্রয় পেলেই ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দাখিল ,
প্রশ্রয় পেলেই  তিনবার করে পেটে ক্ষিদের জন্ম হয়,
প্রশ্রয়ে সংরক্ষণ হয় আগামীর তারিখগুলো ,
প্রশ্রয়ে যে মেদ বাড়ে সে খবর কার না জানা ,
প্রশ্রয়ে জানলায় আসে আলটুসী রোদ ....প্রেম মেখে নেয় খানিক আদর ,

প্রশ্রয়ে তুমি হাতড়ে বেড়াও  বাড়তি সোহাগ, 
প্রশ্রয়ে বালিশ জড়িয়ে প্রেমিকার ওম ,
প্রশ্রয়ে  সব লাগাম ছাড়া, বাঁধন হারা .....
প্রশ্রয়ে সে পাগল হওয়া ,
..............বুকের ওপর সাদা পাতায় লাল কালিতে
সাবধান সব ,
প্রশ্রয় যেন প্রশ্রয় না পায় ......থাকতে হবে নিয়মিত ।