শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮

স্রোতোবহা

*******************
স্রোতের টানে ঘরকন্না ভাসে যায়,  একলা
ছায়া পড়ে থাকে সেতুর নিচে,,
ভাঙা চুড়ি সময়ের বুকে আছড়ে পড়ে......
আমার চেয়েও গভীর আর্তনাদে মাথার ভেতোর
সুড়ঙ্গ তৈরি হয়, সেখান দিয়ে বয়ে যায় নোনাজল
আর যন্ত্রণা সুতোর মত চোরাস্রোত যেন।
আবছা আলোয় ডুব দিয়ে ঘুম খোঁজা অভ্যাস এখন,
যেমন তুমি অতল সমুদ্রের নিচে ঘুমিয়ে আর
মাছেরা ঠুকরে ঠুকরে তোমার শরীর থেকে সমস্ত
রুপ,রস, গন্ধ, বর্ন নিচ্ছে।
ফ্রেমে বাধানো জলের শরীর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, চিতাকাঠের
আঁচ খুঁজছে মাটি খুঁড়ে প্রতিনিয়ত।
আমিও ভেবে দেখেছি বহুবার সব গল্পই উড়ে
যায় একদিন পাখির মত।

স্তব্ধ

বয়স বেড়ে যাচ্ছে পাতার শিরায় শিরায়,, উপন্যাসের পাতায় এখন স্থবিরতার ছোঁয়া...  সময় কমছে,,
কোতো কিছু বাকি এই চুপ কাহিনির,
সামলে রাখা বোবা দাবিদাবা বুক পকেটের কোনায়,
বেকার জমা ক্ষতির জ্যামিতিক রেখা, মনের
পাতায় অগোছালো হিসাব,
বেশ হত যদি বৃষ্টি আসতো সব অনুভুতির রেশে... 
ভিজতে চায় এই মন অচেনা সংরাগে।
এখনো ইচ্ছেরা ছাপোষা চড়ুই,  ট্রামলাইন
আঁকড়ে আছি, বিদায়ী সময় কেতাবি হেসেবে
শুন্য শুন্য খালি।
তবু বলি বাকি আছে বেশ কিছু ভালোবাসা...
বাকি থাকুক এখনো অনেক অংক।

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১৮

প্রতিবার

**********************************
তোকে যখন খুব করে জানতে ইচ্ছা করে
গভির রাতে উত্তরের বারান্দার রেলিঙ ছুঁয়ে
তারাদের সাথে ভাব জমাই, অমনি আকাশ
জুড়ে বৃষ্টি প্রতিবার।
তোকে যখন  নিশ্বাসে পেতে ইচ্ছা করে অসম্ভব
রকম, তখন আমি স্নানের ঘরে বাষ্প মাখি সারা
শরীরে, অমনি ঝাপসা আমার চারপাশ প্রতিবার।
চোখ যখন অসম্ভব নালিশের ইচ্ছায় তোর খোঁজে,
অমনি চোখের সামিয়ানায় তোর হাসির রঙ প্রতিবার।
স্বপ্নে যখন তুই অসম্ভব পাগলামি তে কবিতা, আমার ঘুম ভেঙে যায় হঠাত করেই প্রতিবার।
প্রতিবার যখন তুই হাঁটিস আমার দুয়ার দিয়ে,
আমি ছুটে আসি উত্তরের বারান্দায়, স্নানের ঘরে,
দিগন্ত ছোঁয়া মাঠের প্রান্তে, বিছানা বালিশে,
অমনি তুই নেই প্রতিবারের মতন।
প্রতিবার আমার স্বৈরাচারী চোখ খুঁজে ফেরে
তোর উপস্থিতি, অথচ তুই কোথাও যে নেই।

মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১৮

অর্ধেক

********************************
আমার অর্ধেক তুই রেখে দে বাকি
অর্ধেক নাহয় সাজানো মঞ্চের,
তোর অর্ধেক আকাশ আমার জন্যে রাখিস
বাকি অর্ধেক নিয়মেরা থাক,
প্রেম তুই আতর মাখাস আমার অর্ধেক শবে
বাকি অর্ধেক খাক চিল শোকুনে,,
জানি অর্ধেক আসলে গুজব অথচ জীবন
যখন ভগ্নাংশ  মরণ যখন খাপছাড়া সেখানে
অর্ধেক অমৃতে তুই আমি বাকি অর্ধেক থাক গরল মাখা,

রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮

আগামি

*********************************
কিছুটা স্পর্শ  রেখো আগামির পাতায়,
কিছুটা ভালোবাসা আজ থেকে রেখে দিও
আগামির হাওয়ায়,,
কিছুটা স্বপ্ন রেখো আগামির ভেজা চোখে,
হারিয়ে দিও না বই এর মাঝে নামকরনের
অক্ষরদের,
উড়ে  যাক  কিছুটা নীল আগামির আকাশে,
কিছুটা  অবাধ্যতায় থেকে দিও আগামির নালিশ
ভরা ঠোঁটে,
কিছুটা তুমি থেকে যেও আগামি আমির কাছে
কিছুটা পায়ে পায়ে হাঁটা আগামি কিছু পথের জন্য,
কিছুটা বাঁচা আগামির নিশ্বাসে,
কিছুটা তুমি কিছুটা আমি নাহয় বাকি থাকুক
আগামির কোনো উপসংহারের জন্য।

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

সম্পর্ক আর তুমি

++++++++++++++++++++++++

সম্পর্ক বানানটা লিখতে পারলে না আজো
সময়ের আকাশে হাজার তারাদের নাম না জানা যেন,,
অথচ স্পর্শ বানান টা তার থেকেও স্পর্শীল,
তুলিবিহীন ঘুম ছবির মত, সেটা তোমার ভীষণ আয়ত্তাধীন।

জোনাকী রাতে একলা চলা স্বপ্ন যেন মায়া চোখ খুঁজে বেড়ানো
কোনো মুসাফির,
কোথাও তো তুমি  নেই,শুধু উপস্থিতি তোমার ওম,
,অনেক সম্পর্কর নামকরণ করা যায়  না শত চেস্টা করেও?
প্রশ্ন করেছি বারংবার সময়ের কাছে,,  নিশ্চুপ সময়
ফেলে গেছে অনেক দাগ, বলা হয়নি তুমি আমির কি সম্পর্ক!
কি কারনে আলো আসে অন্ধকার ছুঁতে কি কারনে সে রাতের পর
ভোর,  কিই বা কারন বাঁচার জন্য অনিয়মের পাগলামি!
অথচ যাপনীয় সব কিছু রোটি, কাপড়া, মাকান
তবুও,  পরম তৃপ্তি তোমার জংলী বুকে, যেমন
নাকি  কোন দেবতার পরম নিদ্রায় কোনো মহীরুহর ছায়ায়
ঘুম ভাঙা প্রথম আলো তুমি  দুচোখে বাঁচতে চাওয়ার
নতুন ইচ্ছা।
আমি বুঝতে পারি ঈশ্বর সব জায়গায় পৌঁছাতে
পারে না তাই তুমি আসো সেই রুপে
,
সত্যি  তুমি না এলে জানা হত না আমার আমিকে,
তোমায় না জানলে জানা হত না ভালোবাসা কখনো
ক্ষত নয় ভালবাসা নয় কোনো শেকল।
ভালোবাসা শুধু যেন  প্রান্তর থেকে প্রান্তরে কেবল
ছায়া,।

শুক্রবার, ১৫ জুন, ২০১৮

যত্ন

++++++++++++++++++++++++
যত্ন  করে রেখে দেওয়ার ছিল অনেক কিছুই,
তোর প্রথম ছোঁয়া, তোর দুচোখের বিস্ময়এর
চাউনি, তোর প্রতিটা নিশ্বাসে বিশ্বাস গুছিয়ে
রাখা যেতেই পারতো,,
ভিড় ঠেলে নজরে নজর মেলানো,ইশারায়
ছুঁড়ে দেওয়া স্পর্শ,,
অদ্ভুত নেশা! এসব কিছুই যত্ন করে গুছিয়ে রাখার ছিল,
অনেক আবিষ্কৃত মুহুর্তর মিলমিলান্তি ছিল
আমাদের পৃথিবীতে
অথচ দেখ পড়ে রইল শুধু তোর দেওয়া
ক্ষতদের গাঢ় চিহ্ন।

অন্য নামে

++++++++++++++++++++++++++++

এই মাত্র অন্ধকারকে থ্যেতলে দিয়ে ফিরছি
তোমার দেশে, ম্যারিওয়ানার তীব্র গন্ধর বুক চিরে  একগুচ্ছ বাবলাকাঁটা গুঁজে দিও
আমার আধখোলা খোঁপায়... নষ্ট মেয়ের গল্প
এখন আমার দেশে।
নিরুদ্দেশ  ভালোবাসার খবর এখনো টাটকা আমার
দেশের সবকটা সংবাদিক পাতায়,,
তখন আমি কাঁটাতার টপকে পৌঁছে গেছি
তোমার দেশে।
আমার জন্য আমার দেশে হাওয়ায় এখন
নষ্ট  মেয়ের মরচে রঙা ফিসফিসানি,,
তখন তোমার দেশে পদ্মার শীতল জলে
স্নিগ্ধ আমি। পাঁচমেশালি বনফুলে আঁচল
ভরা,, সংগে কিছু মাটির গন্ধে আমার দেশের
ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি।
আমার দেশে আকাশলীনা নামে কোনো
মেয়ে চোখে পড়েনি....আমার দেশে ছিল কেবল
কৃষ্ণকলি আর তার ভ্রমর চোখ,,
তোমার দেশে নতুন আমি নতুন আমার সকাল,
কি নামে ডাকবে তোমার "গল্প" কি নামে
কবিতা হবে,,
আমার দেশে নষ্ট মেয়ে তোমার দেশে কেমন সে।

বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮

সাজানো সুখ

সাজানো সুখ
**********************************
মিথ্যে সুখ জমানো বুকের দেরাজে,
ভালো থাকতে চাওয়ার তাগিদে এঠোঁ বাসনের
ভিড়ে খুঁজে বেড়ানো আত্মিকতা,, ভেতোরে বাইরে
ঠোকাঠুকি অগোছালো ঘরকন্না।
সীমাবদ্ধ  অক্ষর যেন সুতোয় ঝুলছে, প্রতিটা
সম্পর্করর পাশে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে  আছে দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন,,
বিভাজন পেরিয়ে সিঁড়িভাংছে পাটিগণিত,
উত্তর মেলে না শেষ বেলাতেও।
রোজ রাতে নেশায় বুঁদ  হয়ে বাড়ি ফেরা
অথচ ঘরে ফেরা হয় না কখনওই,,
রয়ে যায় সমস্ত আস্তিন পথের ধুলোয়।আঁকড়ে থাকে
মন মরা প্রিয় গানকে শূন্য রাতের মিছিলে।

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮

বৃষ্টি যখন

***************************************
শহর জুড়ে তুমুল বৃষ্টি  পথচলতি সবাই খুঁজছে
মাথা বাঁচানোর একচিলতে আশ্রয়,
আমি খুঁজছি তোকে সহস্র বৃষ্টিফোটার ভিড়ে,
গঙ্গার পাড়ে, গড়ের মাঠে সবুজ চাদরের বুক চিরে,,
তোকে খুঁজছি গঙ্গা   কাঁটাতার পেরিয়ে যখন পদ্মা,,
তোকে খুঁজছি সীমান্তহীন দেশ কাল তোলপাড় করে।
তুই থাকলে বৃষ্টির কথা হত কবিতায় কবিতায়,
আদর জমতো সমস্ত ভেজা সবুজ পাতায়,,
তুই যে আছিস জানি, মেঘের বুকে যেমন বৃষ্টি,
আমি খুঁজি নিজের তাগিদে বাকি থাকা হিসেব
যে মেলাতে হবে নগদে,,
শহর জুড়ে তুমুল বৃষ্টি একচিলতে মাথা বাঁচানোর
জন্য সবাই খুঁজছে আশ্রয়... ভিজতে সবাই ভয় পায়।
আমি খুঁজছি তোকে সহস্র বৃষ্টিফোটার ভিড়ে গঙ্গারর পাড়ে,
গড়ের মাঠে সবুজ চাদরের বুক চিরে।

ডাক বাক্স

**************************************
ডাকবাক্স বদল হওয়া চিঠিরা ফ্যাকাসে মুখে
ভীষণ একলা, বৃষ্টিছাট ধুয়ে ফেলে ওদের
সাদা বুকে লেগে থাকা ভাবনার দাগগুলো,
প্রতিবার এমন করে হেরে যায় ওরা এই
তুমুল বর্ষার দিনে,
***************************************
ভিজে যাওয়া একজোড়া পাখি আমার বাগানে
ব্যস্ত কথোপকথনে, ওদের পালকের রঙ গাড়
বৃষ্টিজল পারে না ধুয়ে ফেলতে ওদের রঙ,,
কত কি যে সাধ হয় এপোড়া বেঁচে থাকায়..
যেমনটা আজ মনে হচ্ছে...  যদি পাখি হতাম
উড়ে যেতাম শহরের ফ্লাইওভার এর কার্নিশে
ভিজতাম তোর সাথে একবর্ষাভর, কিংবা
সেই স্বপ্নে দেখা বাগানটা খুঁজে ফিরতাম প্রান্ত
থেকে প্রান্তে,,
****************************************
ভাঙা বাড়িটায় এসব ভাবনা রক্তশূন্যতায় ভোগে আজকাল,,
আঁকড়ে ধরে আমাদের যোগাযোগ সাঁকোটা,
এইবাড়িটার কড়িকাঠ, জানলার কবজায় চড়া
মরচে পড়ছে দ্রুত গতিতে, হয়তো ঋণ বাড়ছে গোপোনে,,
হয়তো সিমান্তে এসে দাঁড়াবে দীর্ঘ অভ্যাস,,,
****************************************
দীর্ঘশ্বাস এর ওপর দীর্ঘশ্বাস  লেপে দেখেছি
দেওয়ালের ফাটল এতটুকু সংকুচিত হয়নি,
ওরা দুরত্ত্ব বাড়িয়েছ কেবল,
হয়তো আগামি বর্ষায় আমার গুছিয়ে রাখা
চিঠির শব্দরা ভেসে যাবে ভীন কোনো দেশ
তখন  অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ দের ভিড়ে আরো
একলা হবার দিন, যেমন ডাকবাক্স বদল হওয়া
আমার ভেজা চিঠিরা তোমার শহরে ভীষন একলা।

তোর ঠিকানায়

*************************************
একটু পরেই অন্ধকার নামবে আমি ফিরে
যাব নদীর ঘাটে,
টুকরো টুকরো আলোর রেণু লেগে থাকবে
দিনের প্রান্তরে,, চলে যাবে  আমাদের অধ্যায়
থেকে বেশ অনেকটা মুহুর্তগুচ্ছ। ফিরে আসি
এমন করে রোজ কিছু গোলাপি আলোকে
পেছনে ফেলে,, নদীর ঘাটে কলার ভেলায়
খানিকটা বিসর্জিত ফুলের মত।
*************************************
কতটা ভালো ছিলাম ফেলে আসা বসন্তে
তোকে বলবো,  তাই গুছিয়ে নিই অভিধান
থেকে মসৃন শব্দদের,,
তপ্ত বৈশাখে ঘাম মুছিয়ে বটের ছায়ায় কচি
ঘাসের ওপর সাজিয়ে নিই সেই রুপকথাকে।
***************************************
অনেক বার ভেবেছি তোর কাছে যে সব জরিমানা
বাকি আজো.. তার সব টুকু মিটিয়ে দেব পুর্নপ্রেমে,
যেহেতু দেরী হয়ে গেছে আসতে... এক সমুদ্র চুম্বন
তোর প্রাপ্য,,
যেহেতু অপেক্ষা ছিল বছরভর তার জরিমানা হোক না
আকাশ প্রমান প্রেম,,
যেহেতু বসন্ত পেরিয়েছে রঙ বিহীন সেহেতু আজ
বিকেলের সব রঙ গোধূলির আঁচলে তোর জন্য।
******************************************
এতো কিছু ভেবে রোজ আসি তোর ঠিকানায়
সুর্য ডোবার অনেক আগে, অথচ তোকে পাওয়া
হয় না কখনওই,  একটু পরেই অন্ধকার নামে আমি ফিরে যাই  রোজকার মত।

সোমবার, ১১ জুন, ২০১৮

তোর জন্য

তোর জন্য রংদানির সব রঙ উজ্জ্বল,
ফুরিয়ে না যাওয়া  শেষ আশাতে তুই আলোর
মুকুট,
সিন্থ এর সব সুরে তোর স্বরেরা লয় খুঁজে পায়,
তোর জন্য গোধূলি মাখা শহরের রঙ যেন স্বপ্নভরা।
তোর জন্য সমস্ত ঝগড়া, সমস্ত খুনসুটির আঁকিবুঁকি
আকাশের গায়ে রামধনু,
তোর জন্য সব হিসেবি অংকে আমি ভীষণ রকম কাঁচা,
তোর ঠোঁটের আব্দারেরা আমার অহংকারের অলংকার,
তোর জন্য আঁকা সব ছবিতে তোর হাসির নানান কোলাজ,
তোর অভিমানে আমার বুকে অসম্ভব এলোপাথাড়ি  ঝড়,
তোর সব কথাই আমার সাদা পাতায় কেবল রুপকথা।

গাছ

++++++++++++++++++++++++++++
একটা তারার আলোও নেই আকাশের
বুকে, তাই গাছের কোটোরে লুকিয়ে রাখি
নিজের 'শব'।
তোর ইচ্ছা আকাশ জোড়া গাছ হবি একদিন,
সূর্যর দিকে মাথা,  রাতের আকাশ ঢেকে তোর
ডালপালা... নাইবা থাকলো  আকাশের তারা,
ধমনীতন্ত্র জুড়ে তোর ইচ্ছার স্ফুলিঙ্গ।
ঘুমের ভেতর কাল আবার সেই সাজানো
বাগানে হেঁটেছি বেশ কয়েক পা, সেখানে
কখনো  তুই গাছ, কখনো তুই কবি, কখনো
আবার ঈশ্বর।
আজ কাল জাগতে ইচ্ছে করে না একেবারেই,
একখণ্ড  রাত্রি  বুকে আঁকড়ে রাখতে ইচ্ছে হয়,
আমার যে সব রাতে স্বপ্ন আসে না, তাই উত্তরের
বারান্দার কুলুঙ্গিতে অনেক রাত গোঁজা আছে।
রাতজাগা স্বপ্নরা পতঙ্গ  হয়ে নিজেদের মেলে ধরে
আকাশ পারে,  
আমি সেই নির্ঘুম রাতগুলোয় পেয়ালা ভরে বিষ
পান করি। লেজ গুটিয়ে রাতের অন্ধকার
যখন জানলার শেষ প্রান্ত পার হয়ে যায় তখন
চোখের উঠন জুড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো  নীল বর্ণরা
ক্ষয়িষ্ণুতার গল্প সাজায়। বিষের আদোরে
রক্তশূন্য সমস্ত দিন কাল মাস,  তাই পচনহীন মৃতদেহ
লুকিয়ে রাখতে তুই  একদিন গাছ হয়ে আসিস আমার কাছে।

রবিবার, ৩ জুন, ২০১৮

কবি

কবি
*********************
হৃদয়ের রঙ জান তুমি,
তুমি মনের দেওয়াল জুড়ে আঁক
মন ভালোর  ছবি, তুমি সবকাল
ইচ্ছার মাতাল তাই শহরের উদাসী হাওয়াদের
ছুঁয়ে দেখ না,,
প্রেমিকের মন কেমন তুমি বোঝ না, তুমি
সারারাত ধরে প্রেমিকার মুখের হাসি আঁকতে
ভালোবাস,
ভালোবাস প্রেমিকার বাস্পে স্নান সারতে
ভালোবাস কোঁচকানো চাদরে লেপ্টে থাকা
আদরের আতর মাখতে,
তুমি হৃদয়ের রঙ জান,, তুমি দেওয়াল জুড়ে
আঁকতে থাক ভালোথাকার সব ইচ্ছাদের।
তাই তুমি জিতে যাও  অসময়ের যুদ্ধে,
প্রেমিকের চোখ তোমার কাছে সব কালের
অর্জুনের মাছের চোখ, ভালো  থেকো কবি
তুমি প্রেমিকের রুপে জন্মে জন্মে।
ভালো থাকবে তোমার কবিতার নীরা,
বনলতা, চলন্তিকা।

তোমার প্রেমে

++++++++++++++++++++++++++++
সর্বনাশের আশায় তোমার প্রেমে ভাসতে রাজি
পুড়তে রাজি সেই আগুনে যে আগুন তোমার উপহার
ক্ষইতে রাজি তোমায় ভালোবেসে,
ভাসতে রাজি কিনারে কিনারে তোমার খোঁজে,
ডুবতে রাজি সেই গভিরের গোপোন ভালোবাসায়,
শেষতক পথ চেয়ে থাকতে রাজি তোমার অপেক্ষায়,
রাতের তারাদের প্রথম থেকে সব গল্প শুনতে রাজি
তোমায় জানতে,,
আমি  সর্বনাশের আশায় তোমার প্রেম কুড়াতে রাজি
পুড়তে রাজি এমন অনেক জন্ম যেখানে তোমার
আগুন আমাকে ঘিরে জ্বলুক জন্ম জন্মান্তর।
তোমার প্রেমের জন্যে সব দ্বিধাদের উত্তর খুঁজতে রাজি।

শুক্রবার, ১ জুন, ২০১৮

গুমঘর

+++++++++++++++++++++++++++++++
কত কি পুড়ে ছাই হচ্ছে শহরের বুকে তোর  আমার
ইচ্ছের মত,,
ক্রমশ ছাইয়ের ওজন ভারি হচ্ছে পাথরের
চেয়ে,  যত বার ভাবি তোকে স্পর্শ করবো
সকালের নরম আলোর মতো...  আমার শুন্য
দুহাত ছুঁয়ে ফেলে কেবল স্তব্ধতা।
কলের ধোঁয়া মাখা দিন শেষ ট্রামগাড়ি পিষে ফেলে,
ফিরে যেতে মন চায়  রাতের আঁচলে,
অথচ চোখের কোল থেকে দারুন
অবাধ্যতা বার বার ছেড়ে যায় রাতঘুম,
সিলিং জুড়ে অভিধান মেলে
খুঁজতে থাকি স্পর্শর এক একটা অক্ষর,,
নির্ঘুম রাত রোজ বিদায়ী উপহারে রেখে
যায় এক গুচ্ছ হলুদ কেতাবি শূন্যতা।
সেতুহীন হয়ে পড়ে তারাদের যোগাযোগব্যবস্থা,
গুম ঘরের দেওয়াল জুড়ে স্বরচিত বিষাদের
ছায়ারা জেন চিরস্থায়ী হয়ে গেছে।