জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০
একরোখা
হয়তো
জীবিত নই, জীবিত রা অন্যরকম,
আমি মোটেও জীবিত নই নইলে কেন
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি অন্ধকারে ,
আমি মোটেই জীবিত নই, জীবিত হলে হাসতে পারতাম ,কাঁদতে পারতাম, নালিশ গুলো বলতে
পারতাম ,আব্দার কিছু কুড়িয়ে নিতাম,
ছই থাকতো, করিকাঠে স্বপ্ন দুলতো,
আমি হয়ত জীবিত নই,
জীবিত হলে আকাশের বুুুকে মুক্তি দেখতে পাাই না কেন?
জীবিত রা অন্যরকম, হৃদয় থাকবে, মান থাকবে, থাকবে কারো কারো মত ভালবাসা,থাকবে সোনালী আগামীর অপেক্ষা,
জীবিত হলে আঁকড়ে থাকায় নেশা থাকতো,
মনের দরজায় অভিমান থাকতো,
জীবিত হলে মাাথার ওপর হাত থাকত,
জীবিত হলে হারিয়ে ফেলার ভয় থাকত
হঠাৎ করে মরে যাবার ভয় থাকতো।
জীবিত হলে তোমাকে নিয়ে গল্প হতো ,।
সময়ের মার
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
পথ
আমার দু পায়ের ভরে এত ভারি শরীর নিয়ে
হাঁটছি অন্ধকারের দিকে ,আমি অন্ধকার দেখতে চাই
চাই দুঃখ দেখতে ,
চির অন্ধকার বাদুড় ডানায় ভর করে নামুক ,
পিচ্ছিল গাড় অন্ধকার আমার পাপের মত সম
গোত্রিয় ,
আমার দু পায়ের ভরে এত ভারি বোঝা তুমি
তবুও নির্বাক নিষ্ঠুর
,বূঝতে চাওনি আমি ক্লান্ত
আমার সামনে দীর্ঘ পথ বিছিয়েছো সময়ের
আমাকে আরো গভীর অন্ধকারে যেতে হবে
জানি যে অন্ধকারের
জঠর আলোর জন্মধাত্রী,
বলতে চেয়েছিলাম আসলে
বড় ক্লান্ত আমি
আমায় ঘুমোতে দাও , তবু তুমি পিছনে মুখ
ঘুরিয়ে আমার সামনে দীর্ঘ পথ বিছিয়ে দিলে ।
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০
ঈশ্বর স্থাপন
তুমি এসে বলে
গেলে এখনো আমার কিছু সম্ভবনা আছে,
যদিও তুলোর আঁশে হাহাকারের মত আমার সর্বস্ব উড়িয়েছি
তোমার মতে
, তবুও তবুও
আমার করোটি কংকালে দিব্য এখনো
সমস্ত অহংকার
বেঁচে রয়েছে , নিজেকে ভেঙেছি ভুরুক্ষেপ হীন
হয়ে কখনোবা মকর বিহীন জলে আকন্ঠ ডুবেছি …। তুমি বলেছো
তুলনামূলক আমার
মত তেমন কেউ তোমার চোখে পড়েইনি ,
আরো কিছু বিস্ময়
নিয়ে ভাঙ্গা পাঁজরের রিডে আঙ্গুল রেখে দেখে
বলেছিলে এখনো
সপ্ত সুরে ক্ষত পৌছায়নি,
দীনের মত আমার
লোভ জেগে উঠেছিল কখনো পাহাড় চুড়ায়
সূর্যোদয় কিংবা সিন্ধু
পারে সূর্যাস্ত দেখার সাধ , জমাট খনিজ থেকে
ঠিকরে পরেছিল
আলো , আমার মুখোমুখি যারা আমাতে নিরবধি
পেরেক পুঁতে
চলেছিল হাতুড়ি থামিয়ে থমকে ছিল তাদের দৃঢতায়
নেমে এসেছিল
গাঢ রঙের বাদামি সন্ধ্যে,
সম্পূর্ণ পাথর
কিংবা জড় হইনি কেমন করে আবিষ্কার করলে ?
কেমন করে জানলে
এখনো আমার কিছু সম্ভবনার ঘরে
পড়ে আছে নিতান্ত
পুঁজি ? সে কথা জানতে চাইনি কখনো
শুধু সে দিন
আমার গর্ভ গৃহে তোমার স্থাপন হয়েছিল পূর্ণমাত্রায়।
সত্যি আর মিথ্যে
--------------------
চারদেওয়ালের
গদ্যে লিখে রাখা ,
এক মাত্র তুই
সত্যি …… সত্যি তোর ফোটানো
শব্দ কুড়ি ,
বাকি সব তুচ্ছ
ভাব যা কিছু পোষা ছারখার
করা ,সত্যি
গুলো রাত জাগানিয়া , তবু ভালোলাগা
নির্বাক রূপকথায়
তুই হেঁটে আসিস মাঝে মধ্যেই,
আমি ভুলে যাই
দ্বিধা দ্বন্ধ, তুই ফুটিয়ে তুলিস
শিশির পদ্ম,
ধুয়ে যাওয়া নাগরিক রাতে আমাদের সহবাস
গোপন ছন্দে মেতে ওঠে , আমি মৃদঙ্গ তালে
মেতে উঠি সমস্ত সত্যির পেছনে আড়াল করা
মিথ্যে গুলো
ছিড়ে তোকে আমার সমতলে দাড়
করাই , তুই
বিস্ময় চোখে ভ্রূণ ভাঙ্গা চাঁদের আলোয়
আমার হাত ধরিস
, আমরা মিলিয়ে যাই শুন্যে , ,
রাত শেষ হলে
তোর ঘুম ভাঙ্গে কর্পোরেশনের গাড়ি
আমার নিথর দেহ
তুলে নিয়ে যায় নিমতলার উদ্দ্যেশে ,
তোর হাতের মুঠোফোনে
ওপাশ থেকে বলে ইয়ে নাম্বার
উপল্বধ নেহি
,
……… বাকি সব
মিথ্যে ভাব যা কিছু চারদেওয়ালের গদ্যে
এত দিন লিখে
রাখা , এক মাত্র তুই আর তোর শব্দ গুচ্ছ
দিয়ে লেখা অভিমান
সত্যি , বাকি মিথ্যে সব সব মিথ্যে।
অন্য কথা
বিজ্ঞাপনে ঝুলতে থাকা মুখ গুলোকে আমার
আজ কাল অসহ্য লাগে ,তাই একলা দাঁড়িয়ে
থাকি চৌরাস্তা যেখানে গলি পথে মিশেছে খোলা হাওয়া,
আমার কেবল একটা দুটো সহজ কথাই
বলার ছিল ওতপ্রোত মন্দবাসায়,
জৌলুস আর রঙ বাহারের ভিড়ে হারাই
পাছে তাই একলা ব্যাক্তিগত কিছু শব্দ
নিয়ে দাঁড়িয়ে একলা,
নিয়ন আলো জ্বলার আগে বাড়ি ফিরো …ফিরতি
পাথে অপেক্ষাকে সঙ্গে নিও, আজকাল সব
ভালবাসা পন্য হলেও … সবাই তা মেনে নিতে পারে না ,
যেমন পারি না আমি
এমন অনেক কিছু যা ওই বিজ্ঞাপনের
ঝুলে থাকা মুখ গুলো পারে , আমি পারি না যেকোনো রঙ
নিজের ওপর ছড়িয়ে ফেলেতে । আমার নিজস্ব রঙ
শুধুই নিজস্ব ,
বিজ্ঞাপনে ঝুলতে থাকা মুখ গুলোকে আমার
আজ কাল অসহ্য লাগে ,তাই একলা দাঁড়িয়ে
থাকি চৌরাস্তা যেখানে গলি পথে মিশেছে খোলা হাওয়া,
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
খোলা মুঠো
তোমার মধ্যে
দিশা বদল
তোমায় যখন প্রথম দেখেছিলাম তুমি তখন
একজন আদ্যপ্রান্ত নারী পাগল মানুষ ছিলে ।
যে কোন নারীকে তুমি ছিঁড়ে খেতে ভালোবাসতে ,
ভালো কি বাসতে? নাকি নেশা সে কথা তেমন বলতে
পারি না,
একদিন এক দুঃখ বতী মেয়ের শরীর ছিড়তে গিয়ে তোমার
হাত কাঁপতে শুরু করেছিল,
পাথরের বুকে রক্ত
ঝরনা তোমার মন কে প্রথম স্পর্শ করে ,
তোমার বাড়ির পরে তার বাড়ি ছিল, উঠোনে বরাবর
গভীর রাত টাঙ্গানো স্বভাব ছিল তোমার বাড়ীর লোকেদের
তাই প্রথম আলোয় দেখা হয়নি সে চোখ দুখানি,
মেয়েটার বরাতের লেখায় রাতের পর রাত ভিজতে হত
উত্তরের খোলা বারান্দায় কুয়াশা জলে , আরো ছিল তার
গোপন ব্যাথা সেসব কথা মেয়েটি
লিখে রাখত বুকের খাতায় ।
একদিন কবিতার খাতায় তুমি মেয়েটাকে আবিষ্কার করলে
শ্রেষ্ঠ নারী রুপে , তারপর
কি এক জাদু মন্ত্রে
তোমাকে বদলে নিল আদ্যপ্রান্ত, তোমার ছিঁড়ে
ফেলা
স্বভাবে উজান ডিঙি বেয়ে এল স্পর্শ , আস্ত নারী পাগল থেকে
তুমি ভালোবাসার কবি হয়ে উঠলে , যেন নিখাদ সোনা
তারপর বছর গেল সময় গেল তুমি
বদলাতে বদলাতে নিজের
ভেতোর প্রকান্ড ডালপালা বিছিয়ে ক্রমশ বোধি বৃক্ষ হয়ে উঠলে ,
একদিন খূব ভোরে মেয়েটা তোমার
কাঁধে হাত রেখে তোমায়
জাগিয়ে তুলল , তারপর তোমার
হাতের ওপর হাত রেখে বুকের
কাছে টেনে বলল গুছিয়ে
রেখ জীবনখানি এমনি করে ,
এসেছিলাম ঝড়ের সময় , আজ
সব খব শান্ত আজ আসি তাহলে , ,।
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
সুবর্ণা ( ৯৪ )
ভেবে দেখ সুবর্ণা আজ আমাদের মরফিন বন্ধনে আশ্রয় নিয়েছে যারা
তাদের উত্তর পুরষেরা কেবল দীর্ঘ তৃষ্ণা রেখে ফিরেছে ,
আমরাও আঙ্গুলহীন প্রত্ন ভাষায় ছায়ায় লিখে চলেছি কাহিনি
যেন জং রঙের নিঃশব্দ ইতিহাস ,
ভালো করে ভেবে দেখলে
দেখবে ……… এখন আমারা উড়ন্ত
তুণীরের
ছেড়ে আসা আলিঙ্গন মাত্র ,
ভাবনায় আসে না তেমন কোন সামান্যতম সোহাগ ,
কারণ গুলো মৃদু আঁচে
তুমি সেঁক তে শিখিয়েছো, তারপর চুপিসাড়ে গুঁজে দিয়েছো
শরীরের কড়িকাঠে মারাত্মক
বীষফল।
আজ আর তেমন ভাবে মনে পড়ে না দুজনের কে আগে শিউরে উঠেছিলাম ,
আজ শুধু চারপাশে শব দেহ পোড়ানোর গন্ধে মেতে উঠি নিজের খাচায়,
জান সুবর্ণা আমি সারা জীবন কেবল ছায়া ছায়া দেওয়াল ঠেস দিয়ে
দাঁড়িয়ে
থেকেছি আট দশ জন
প্রমিকা ক্রমশ সরিয়ে ফেলেছে তাদের অক্ষ রেখা
আমিও হয়েছি ব্রাত্য , অথচ সে সব কজন প্রেমিকার ঘ্রান আমি আলাদা
আলাদা দেরাজে রেখেছিলাম , আজ যখন খুলে দেখি সব মৃত মাছের
সারির মত,
তুমিও তো ভালোবাসার আড়ালে একই গুপ্ত হত্যার অংক সাজিয়েছ
, তাই
কখন বন তুলসী কখনো অগুরু আবার কখনোবা শ্বেত বস্ত্র উপহারে
দিয়েছো , ,
এত চেষ্টা করেও মৃত্যুত্তীর্ন হয়ে থেকে গেছে ভালোবাসার লোভ,
……………………সুবর্ণা প্রিয় মোহ
চলে যাওয়া
ধরো কোন একদিন এই
আমি ভেসে গেলাম
বহু দূরে
সমুদ্রে, আর তোলপাড় ঢেউ গুলো অভিশাপের মত
তোমার বুকের ফ্রেমে কোন তৈল
চিত্রের মতো থেকে গেল।
আর তা সময়ের ধুলোয়, মরসুমি কুয়াশায়
কিংবা ধর পোড় বাড়ির চামচিকে বাদুড়ের সুখরে
বাসা হয়ে যায় যদি ,
– মনে
কর একদিন যদি খোয়া যাই চলন্ত মহামারিতে, ,
কোন সোনার তোরঙ্গে
ভরা থাকবে পিছনের প্রতিটি দিনের
কথোপক্থন, ঘন রঙের
অভিমান , বৃষ্টি জলে তোমার
শহর হয়তো বাকি শ্রাবনের মত ধুয়ে
ফেলবে ,
কারন কোন শোক চিরস্থায়ী নয় ,
যখন খুশি
তখন তুমি আমাদের আঁকা ছবি গুলো
সোহাগী রোদ্দুরে।
উষ্ণ হতে দেবে জানি ,
আসলে সমস্ত চলে যাওয়া মানে
আরো গভীর করে কাছে থাকা আর
মনে মনে বলা কখনো যাবে না
আমায় ছেড়ে।
পাগল হওয়া
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
এই শহর
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
ভুলভুলাইয়া
শুনেছি
একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে
পথ তো একটা নয় –
তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা
সময়ের দু – প্রান্তের
একপ্রান্তে ভিড় হাজারো ভক্তের
দুদিকেই কূল ছাপিয়ে একটা অচেনা দুরত্ব,
দুটো জন্ম লাগে কিনা জানা নেই ,
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
বৃষ্টি
বুকের মধ্যে আছে শ্রাবণ
হৃদয় জুড়ে বৃষ্টির রাশি, আকাশের যত মেঘ যত অভিমান
যত নালিশ
মেঘের বুুকের থেকেও
আমাদের বুকে বোঝার মত
সিঁড়ি হয়তো আমাদের
দু বাহু মেলে স্বাগত জানাতে চাইছে ভালোবাসার
মতো মৃত্যু কে
পার ভেঙে নদী একলা হয় কেউ বোঝে না
বাতাসের কাছে থাকে
রঙিন পাপড়ির
বাতাস তা জানে গোপন কথার মত
তাই আমি আর প্রেম দেখি না সারা পৃথিবীতে
প্রেম আমায় বরাবর বৃষ্টি তে ভিজিয়েছে ,
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০
অনেক দিন
তেমন ভাবে কোনো কথাও হয় না
কেন তা আমরা জানি। সমস্ত ইচ্ছার সৎকারে
আমরা বড় ব্যস্ত ছিলাম । তাছাড়া তোমারও তো
ছিল নিপাট দায়বদ্ধতা- মুখফেরানো ব্রত
তাই
স্বভাবি রোজ খরচের খাতায়।
অনেক দিন দেরাজের গোপন সংসারে হাত
রাখা হয় না
ডাক দাও না তুমি কিংবা আমি সাহস করে,
রোদে ঝলসানো মন গিয়েছিল ভহুবার বটের ছায়ায়
বেঁচে থাকা একটা নাটক আর গোটা জীবন স্রোত
একটা মঞ্চ।
তাকাই না আর বহুদিন আয়নার দিকে,
চুলের জটে দিই না চিরুনি , ।
না-তাকাবার অজুহাত তো আছেও কয়েক অজুত ।
তবু অন্দরে- একটা কথাই টোকা মারে
তোমার আমার মধ্যে এখন সেতু কেবল বাতাসগামি কিছু
বার্তা।