শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

একরোখা

মনে পড়লো জেলা কিংবা দেশ  ও দশের কথা
শুধু তার কথা ভুলে যাবার জন্যে , 
মনে পড়লো আমি নাগরিক কোনো এক দেশের 
দেশ নিয়ে মাতামাতি করি  মিছিলে ,যাই সভা সমিতি করি , আয়োজন করে ব্যস্ত হই ,শুধু তাকে ভুলে যাবার জন্য,
তাকে ভুলে যাবার জন্যে নিয়মিত নিয়ম বানাই যে
নিয়মগুলো একদিন তার সাথেই ভেঙেছিলাম ,
মনে পড়লো নারী নিয়ে  পাতারপর পাতা ফেমিনিস্ট হওয়ার কথা শুধু তার কান্না যাতে দেখতে না পাই , 
তার ফিরে যাওয়ার নিতান্ত পাথর কিংবা গাছের মত খানিকটা দুঃখে স্থবির হতাম তাই তাকে আর 
ডাকি না , 
মনে পড়লো সাংসারিক দায়  সন্তানের কচি মুখ 
তাই যথেষ্ট কে জায়গা দিয়ে ভুলে গেলাম তাকে ,
 দু চার কথা কেন.... কলমের নিব না ভাঙা পর্যন্ত লিখে ফেলা যায় দেশ ,রাষ্ট্র ,ধর্ষণ , চোরাপথ ,ভাঙাচোরা রাজনীতি , শাসন ব্যবস্থা নিয়ে , লিখে ফেলা যায় অনন্ত ক্ষন  ধরে কবিতা গল্প কিংবা মুখবন্ধ, এবং এসবই তার সাথে দুচার কথা নাই বা বলার বাহানায়,
অপেক্ষা একটা শব্দ মাত্র সকলেই বুঝি অথচ ন্যাকামো করতে ছাড়ি না , কালের ঘরে শিকেয় তুলে নাচি খ্যামটা নাচ , জুলুজুলু চোখে কখনো তাকে বলেওছি আমার হে তুমি আমার কথাটার মনে জানো? আবার সেই আমি টার মত হাজার হাজার বোকা......তাকে বোকা ........ভাবে ,
তাই বহু কিছু কে মনে পড়ে যাতে তাকে মনে না পড়ে , 
অথচ আমরা কে বলতে পারি যা কিছু ভোলার জন্য আজ মুখ লুকোনো হয়তো কালের ঘরে সেই সমুখে বসে, ভীষন রকম অচেনা হয়ে ,, মাথা ঢুকলেও সময়ের আবর্তনে সে কি চিনে নেবে ?

হয়তো

জীবিত নই, জীবিত রা অন্যরকম,

আমি মোটেও জীবিত নই নইলে কেন
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি অন্ধকারে ,

আমি মোটেই জীবিত নই, জীবিত হলে হাসতে পারতাম ,কাঁদতে পারতাম, নালিশ গুলো বলতে

পারতাম ,আব্দার কিছু কুড়িয়ে নিতাম,

ছই  থাকতো,  করিকাঠে স্বপ্ন  দুলতো,

আমি হয়ত জীবিত নই,

 জীবিত হলে আকাশের বুুুকে মুক্তি দেখতে  পাাই না  কেন? 

 জীবিত রা অন্যরকম, হৃদয় থাকবে, মান থাকবে,    থাকবে কারো কারো মত ভালবাসা,থাকবে সোনালী আগামীর অপেক্ষা,

জীবিত  হলে আঁকড়ে থাকায় নেশা  থাকতো,
মনের দরজায়  অভিমান  থাকতো,
জীবিত হলে মাাথার ওপর হাত থাকত,

জীবিত হলে হারিয়ে ফেলার ভয় থাকত
হঠাৎ করে মরে যাবার ভয় থাকতো।

জীবিত হলে তোমাকে নিয়ে গল্প হতো ,। 


সময়ের মার

সময় প্রতারক চক্র হয়ে আছির আগলের আড়ালে
ফালা ফালা করছে প্রতি মুহূর্তে , বহুদূরে যেতে গিয়ে ফিরে আসছি চক্রবুহ্যে , কঠিন কে ভয় পেয়ে
আরো কঠিন তলিয়ে যাচ্ছে যাপন ,যেন কোনো দুর্বাসার অভিশাপ । হ্যাঁ অভিশাপ নিয়ম ভাঙার,
অভিশাপ বিশ্বাসী হয়ে ওঠার , অভিশাপ সুখের বন্ধনটুকু যে   মন এর একান্ত  ও একমাত্র আশ্রয়
তার ,
এত অভিশাপের নাগপাশ সময় যীশুর মত পেরেক
পুঁতে রেখেছে জেরুজালেম এর প্রান্তরে ,
চোখে আঙুল দিয়ে সময় বলছে দেখ এটাই পরিনতি আরো আছে ক্রমশ তোমার সামনে তোমার হৃতপিন্ড নিয়ে খেলবে কাল ভৈরবী  তার নাচনে মথিত হবে দলা পাকানো সমস্ত আগামী ,
কিচ্ছু করার থাকবে না ....তোমার উঠোন জুড়ে
ভাঙা সংসারের ধ্বংস আর সেই ধ্বংস স্তুপে ক্রমাগত তলিয়ে যাওয়া , পাতাললোকের অন্ধকার অপেক্ষায় নতুন আগন্তুক এর । সময় প্রতারক চক্র হয়ে সাজানো আছির আগলে ফালা ফালা করছে
অথচ নিজের ধ্বংস নিজেই উদযাপন করছে মন ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

পথ

 

আমার দু পায়ের ভরে এত ভারি শরীর নিয়ে

হাঁটছি অন্ধকারের দিকে ,আমি অন্ধকার দেখতে চাই

চাই দুঃখ দেখতে ,

চির অন্ধকার বাদুড় ডানায় ভর করে নামুক ,

পিচ্ছিল গাড় অন্ধকার আমার পাপের মত সম

গোত্রিয় ,

আমার দু পায়ের ভরে এত ভারি বোঝা তুমি

তবুও নির্বাক নিষ্ঠুর  ,বূঝতে চাওনি আমি ক্লান্ত

আমার সামনে দীর্ঘ পথ বিছিয়েছো সময়ের

আমাকে আরো গভীর অন্ধকারে যেতে হবে

জানি যে  অন্ধকারের জঠর আলোর জন্মধাত্রী,

 বলতে চেয়েছিলাম আসলে বড় ক্লান্ত আমি

আমায় ঘুমোতে দাও , তবু তুমি পিছনে মুখ

ঘুরিয়ে আমার সামনে দীর্ঘ পথ বিছিয়ে দিলে ।

 


বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

ঈশ্বর স্থাপন

 

তুমি এসে বলে গেলে এখনো আমার কিছু সম্ভবনা আছে,

যদিও  তুলোর আঁশে হাহাকারের মত আমার সর্বস্ব উড়িয়েছি

তোমার মতে ,   তবুও তবুও  আমার করোটি কংকালে দিব্য এখনো

সমস্ত অহংকার বেঁচে রয়েছে , নিজেকে ভেঙেছি ভুরুক্ষেপ হীন

হয়ে  কখনোবা মকর বিহীন জলে আকন্ঠ ডুবেছি …। তুমি বলেছো

তুলনামূলক আমার মত তেমন কেউ তোমার চোখে পড়েইনি ,

আরো কিছু বিস্ময় নিয়ে ভাঙ্গা পাঁজরের রিডে আঙ্গুল রেখে  দেখে

বলেছিলে এখনো সপ্ত সুরে ক্ষত পৌছায়নি,

দীনের মত আমার লোভ জেগে উঠেছিল কখনো  পাহাড় চুড়ায়

 সূর্যোদয়   কিংবা সিন্ধু পারে  সূর্যাস্ত দেখার সাধ , জমাট খনিজ থেকে

ঠিকরে পরেছিল আলো , আমার মুখোমুখি যারা আমাতে নিরবধি

পেরেক পুঁতে চলেছিল  হাতুড়ি থামিয়ে থমকে ছিল  তাদের দৃঢতায়

নেমে এসেছিল গাঢ রঙের বাদামি সন্ধ্যে,

সম্পূর্ণ পাথর কিংবা জড় হইনি কেমন করে আবিষ্কার করলে ?

কেমন করে জানলে এখনো আমার কিছু সম্ভবনার ঘরে

পড়ে আছে নিতান্ত পুঁজি  ? সে কথা জানতে চাইনি কখনো

শুধু সে দিন  আমার গর্ভ গৃহে তোমার স্থাপন হয়েছিল পূর্ণমাত্রায়।

সত্যি আর মিথ্যে

 

                     --------------------

চারদেওয়ালের গদ্যে লিখে রাখা ,

এক মাত্র তুই সত্যি …… সত্যি তোর ফোটানো

শব্দ  কুড়ি ,

বাকি সব তুচ্ছ ভাব যা কিছু পোষা  ছারখার

করা ,সত্যি গুলো রাত জাগানিয়া , তবু ভালোলাগা

নির্বাক রূপকথায় তুই হেঁটে আসিস মাঝে মধ্যেই,

আমি ভুলে যাই দ্বিধা দ্বন্ধ, তুই ফুটিয়ে তুলিস

শিশির পদ্ম,

ধুয়ে  যাওয়া নাগরিক রাতে আমাদের সহবাস

গোপন  ছন্দে মেতে ওঠে , আমি মৃদঙ্গ তালে

মেতে উঠি  সমস্ত সত্যির পেছনে আড়াল করা

মিথ্যে গুলো ছিড়ে তোকে আমার সমতলে দাড়

করাই , তুই বিস্ময় চোখে ভ্রূণ ভাঙ্গা চাঁদের আলোয়

 আমার হাত ধরিস  , আমরা মিলিয়ে যাই শুন্যে , ,

রাত শেষ হলে তোর ঘুম ভাঙ্গে  কর্পোরেশনের গাড়ি

আমার নিথর দেহ তুলে নিয়ে যায় নিমতলার উদ্দ্যেশে ,

তোর হাতের মুঠোফোনে ওপাশ থেকে বলে ইয়ে নাম্বার

উপল্বধ নেহি ,

……… বাকি সব মিথ্যে ভাব  যা কিছু চারদেওয়ালের গদ্যে

এত দিন লিখে রাখা , এক মাত্র তুই আর তোর শব্দ গুচ্ছ

দিয়ে লেখা অভিমান সত্যি  , বাকি মিথ্যে সব সব মিথ্যে।

 

 

 

 

 

 


অন্য কথা

বিজ্ঞাপনে ঝুলতে থাকা মুখ গুলোকে আমার

আজ কাল অসহ্য লাগে ,তাই একলা দাঁড়িয়ে

থাকি চৌরাস্তা যেখানে গলি পথে মিশেছে খোলা হাওয়া,

আমার কেবল একটা দুটো সহজ কথাই

বলার ছিল ওতপ্রোত মন্দবাসায়,

জৌলুস আর রঙ বাহারের ভিড়ে হারাই

পাছে তাই একলা  ব্যাক্তিগত কিছু শব্দ নিয়ে দাঁড়িয়ে একলা,

নিয়ন আলো জ্বলার আগে বাড়ি ফিরো  …ফিরতি

পাথে অপেক্ষাকে সঙ্গে নিও, আজকাল সব

ভালবাসা পন্য হলেও … সবাই তা মেনে নিতে পারে না ,

যেমন  পারি না আমি

 এমন অনেক কিছু যা ওই বিজ্ঞাপনের

ঝুলে থাকা মুখ গুলো পারে , আমি পারি না  যেকোনো রঙ

নিজের ওপর ছড়িয়ে ফেলেতে । আমার নিজস্ব রঙ

শুধুই নিজস্ব ,

বিজ্ঞাপনে ঝুলতে থাকা মুখ গুলোকে আমার

আজ কাল অসহ্য লাগে ,তাই একলা দাঁড়িয়ে

থাকি চৌরাস্তা যেখানে গলি পথে মিশেছে খোলা হাওয়া,


মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০

খোলা মুঠো

 বাঁধিনি তোমায় , আকাশ ছিল মুক্ত বরাবর
যেটুকু ছিল হৃদয়ের টানাপোড়েন ,
এখন পারি এক মুহূর্ত ও তোমায় না ভেবে থাকতে ,
ভাবনারাও যে শৃঙ্খল হতে পারে সে কথা তুমি বুঝিয়ে দিলে সুন্দর শব্দ গুচ্ছর মধ্যে দিয়ে ,
তুমি এবার ঈশ্বর হতে পার , আমি হয়তো আর কখনও তোমাকে আমার সমতলে আসার ছেলেমানুষি বায়না করবো না ,  মন এখন সবটুকু
জানে তার বোতাম খোলা বুকে হাজারো সুবাস ছুঁয়ে আছে  একটি দুটি তিনটি করে , মুক্ত জ্যায়ে এখন তুমি তোমার দিক 
নির্দেশন করো , 
সমস্ত পৃথিবী রাখলাম তোমার পরিবেশনে ,
আসলে আমি মুঠোর আগলে কোন দিন গিঁট রাখিনি .......তুমি  হয়ত বুঝেছো তোমায় চোখের সামনে  রাখতে চেয়েছি বন্দি করে.... সে কথা চিরদিন ভুল ছিল  । বোঝাতে পারিনি বেশি কিছু হয়ে উপচে পড়তে চাইনি কখনো .....
মুঠো খুলে আজ আমার ভেতর শুরু হোক আমার সৎকার ,  আমার উনিশ কিংবা বিশ সবটাই এক,
আলাদা আলাদা কক্ষে আমার বাস নয়।  

তোমার মধ্যে

 যাকে ভালবেসেছি তার ভেতর একটা 
পবিত্র মহাদেশ রয়েছে,  সে যখন আমার 
অনাচ্ছাদিত বুকে ঠোঁট রাখে , পৃথিবী এক
মুহুর্তের জন্য কেঁপে ওঠে,  কারন আমার 
মত মেয়েরা কখনো  গাং গায় স্নান সেরে শুদ্ধ
হয়নি,  তারা প্রতিবার স্নানে গেছে কোন না কোন
 নষ্ট  জলে ,  প্রেমিকের চোখে ব্যতস্যায়নের রতি
ছাড়া কিছুই পড়া হয়নি তাদের , 
আজ যখন দিনের শেষ, জীবন কথা না রাখার 
অজুহাতে হাত রাখতে ব্যাস্ত,  সে এলো দুয়ারের কাছে,  বলল    আমার দিকে পা বাড়াও  খুলে ফেল সাজ সজ্জা তোমার শরীরের নিপুন ক্ষত গুলো আমার নদীতে একে একে ধুইয়ে দিই, 
তার পর তোমার ভেজা সমস্ত মরসুমি ভোরগুলো   শুকিয়ে  
নিই আমার পাহাড়  চুড়োয় আসা প্রথম আলোয়  , 
না হয় আরো একটু দেরি করে শুরু করবো আমাদের সাথে পথ চলা,  না হয় হাঁটতে হাঁটতে আমরা পেরিয়ে যাব আরো কিছু জন্ম পথের মানচিত্র, 
আমি প্রথম বার বুঝলাম একেই বুঝি প্রেমিক
বলা হয়   একেই বুঝি মানুষ হিসেবে   ভালবাসা যায় । 
        

দিশা বদল

তোমায় যখন প্রথম দেখেছিলাম তুমি তখন

একজন আদ্যপ্রান্ত নারী পাগল মানুষ ছিলে ।

যে কোন নারীকে তুমি ছিঁড়ে খেতে ভালোবাসতে ,

ভালো কি বাসতে? নাকি নেশা সে কথা তেমন বলতে

পারি না,

একদিন এক  দুঃখ বতী  মেয়ের শরীর ছিড়তে গিয়ে তোমার

হাত কাঁপতে শুরু করেছিল,  পাথরের বুকে রক্ত

ঝরনা তোমার মন কে প্রথম স্পর্শ করে ,

তোমার বাড়ির পরে তার বাড়ি ছিল,   উঠোনে বরাবর

গভীর রাত টাঙ্গানো স্বভাব ছিল তোমার বাড়ীর লোকেদের

তাই প্রথম আলোয় দেখা হয়নি সে চোখ দুখানি,

 

মেয়েটার বরাতের লেখায় রাতের পর রাত ভিজতে হত

উত্তরের খোলা বারান্দায় কুয়াশা  জলে , আরো ছিল তার

গোপন ব্যাথা  সেসব কথা মেয়েটি লিখে রাখত বুকের খাতায় ।

একদিন কবিতার খাতায় তুমি মেয়েটাকে আবিষ্কার  করলে

শ্রেষ্ঠ  নারী রুপে , তারপর কি এক জাদু মন্ত্রে

   তোমাকে বদলে নিল  আদ্যপ্রান্ত,    তোমার ছিঁড়ে ফেলা

স্বভাবে উজান ডিঙি বেয়ে এল স্পর্শ , আস্ত নারী পাগল  থেকে

তুমি ভালোবাসার কবি হয়ে উঠলে , যেন নিখাদ সোনা

 তারপর বছর গেল সময় গেল তুমি বদলাতে বদলাতে নিজের

ভেতোর প্রকান্ড ডালপালা বিছিয়ে ক্রমশ বোধি বৃক্ষ হয়ে উঠলে ,

 

একদিন  খূব ভোরে মেয়েটা তোমার কাঁধে হাত রেখে তোমায়

জাগিয়ে তুলল  , তারপর তোমার হাতের ওপর হাত রেখে বুকের

কাছে  টেনে  বলল  গুছিয়ে রেখ জীবনখানি এমনি করে ,

এসেছিলাম  ঝড়ের সময় , আজ সব খব শান্ত আজ আসি তাহলে , ,।

 

 

 

 

 


রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

সুবর্ণা ( ৯৪ )

ভেবে দেখ সুবর্ণা আজ আমাদের মরফিন বন্ধনে আশ্রয় নিয়েছে যারা

তাদের উত্তর পুরষেরা কেবল দীর্ঘ তৃষ্ণা রেখে ফিরেছে ,

আমরাও আঙ্গুলহীন প্রত্ন ভাষায় ছায়ায় লিখে চলেছি কাহিনি

যেন জং রঙের নিঃশব্দ ইতিহাস ,

 ভালো করে ভেবে দেখলে দেখবে ……… এখন আমারা উড়ন্ত

  তুণীরের  ছেড়ে  আসা  আলিঙ্গন মাত্র ,

ভাবনায় আসে না তেমন কোন সামান্যতম  সোহাগ ,

 কারণ গুলো মৃদু আঁচে তুমি সেঁক তে শিখিয়েছো,  তারপর চুপিসাড়ে  গুঁজে দিয়েছো

শরীরের  কড়িকাঠে মারাত্মক বীষফল।

আজ আর তেমন ভাবে মনে পড়ে না  দুজনের কে আগে শিউরে উঠেছিলাম ,

আজ শুধু চারপাশে শব দেহ পোড়ানোর  গন্ধে মেতে উঠি নিজের খাচায়,

জান সুবর্ণা আমি সারা জীবন কেবল ছায়া ছায়া দেওয়াল ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে

থেকেছি   আট দশ জন প্রমিকা ক্রমশ সরিয়ে ফেলেছে তাদের অক্ষ রেখা

আমিও হয়েছি ব্রাত্য , অথচ সে সব কজন প্রেমিকার  ঘ্রান আমি আলাদা

আলাদা দেরাজে রেখেছিলাম , আজ যখন খুলে দেখি সব মৃত মাছের সারির মত,

তুমিও তো ভালোবাসার আড়ালে একই গুপ্ত হত্যার অংক সাজিয়েছ , তাই

কখন বন তুলসী কখনো অগুরু আবার কখনোবা শ্বেত বস্ত্র উপহারে দিয়েছো , ,

এত চেষ্টা করেও মৃত্যুত্তীর্ন হয়ে থেকে গেছে ভালোবাসার লোভ,

 

                   ……………………সুবর্ণা প্রিয় মোহ


চলে যাওয়া

 ধরো কোন একদিন এই আমি  ভেসে গেলাম বহু দূরে

সমুদ্রে, আর  তোলপাড় ঢেউ গুলো  অভিশাপের মত

তোমার বুকের  ফ্রেমে কোন তৈল চিত্রের মতো থেকে গেল।
আর তা সময়ের  ধুলোয়,  মরসুমি  কুয়াশায়
কিংবা ধর পোড় বাড়ির চামচিকে বাদুড়ের সুখরে বাসা হয়ে যায় যদি ,

মনে কর   একদিন যদি খোয়া যাই  চলন্ত মহামারিতে, ,
কোন  সোনার তোরঙ্গে ভরা থাকবে পিছনের প্রতিটি দিনের

কথোপক্থন,   ঘন রঙের অভিমান , বৃষ্টি জলে তোমার

শহর হয়তো বাকি শ্রাবনের মত ধুয়ে ফেলবে ,

কারন কোন শোক চিরস্থায়ী নয় ,
যখন  খুশি তখন তুমি আমাদের  আঁকা ছবি গুলো সোহাগী রোদ্দুরে।

উষ্ণ হতে দেবে জানি ,

 আসলে সমস্ত চলে যাওয়া মানে আরো  গভীর করে কাছে থাকা আর

মনে মনে বলা    কখনো যাবে না আমায় ছেড়ে।

 


পাগল হওয়া

তোমার নাম ধরে আর ডাকব না কথা দিলাম 
........কথা দিলাম ভাঙাচোরা পাড় তার খবরাখবরের জন্য তোমার দুয়ারে আসবে না কোনো ডাকপিয়ন , এবার বৃক্ষের মত স্থাণু হয়ে 
থাকুক বাকি আছে যাকিছু উপাখ্যান ,,
আসলে এমনটাই কি হওয়ার ছিল না !  হয়তো
অনেক ডাকের থেকে বেশ কিছু  বেশিই  সাড়া
দিয়েছো আমার প্রতি ডাকে ।
আমি  আসলে সেই প্রেমিক এর খোঁজে  দিগন্ত
হেঁটেছি  যার ছায়ার ভেতর আমার ছায়া .....
তুমি সে জন নও হে গুণী , তা যখন বুঝেছি 
আমি তখন বুক জলে ,
আমি আসলে সেই বাউলের খোঁজে মাটি মেখে
পথের প্রান্তে ছিলাম বসে  যার একতারার ছিলার
ভাষা কেবল আমিই বুঝব ...........
আমি আসলে একদিন প্রেমের হাতে হাত রেখে 
খোয়াই হতে চেয়েছিলাম সারা রাত বোলপুরের 
লালমাটির বুকে বুক ঘষে  ........ আঁকড়ে বলতে 
চেয়েছিলাম ও নদী তোমার সব জল সব স্রোত 
শুধুই আমার ......,
আসলে আমি  আকাশের বুকে ছোট্ট শিশুর মত
তারাদের রূপকথায় সামিল হতে চেয়েছিলাম প্রেমিকের মুখে পিতৃ স্নেহের খোঁজে .....
না হে গুনী তুমি সে জন নয় ......
তুমি মোটেও সে জন নও ........,
যখন বুঝেছি সে কথা আমার সমস্ত টুকু 
সম্বল জলমগ্ন,
 মিছে  সকল খেলাঘর  এযাবৎ ভেঙে গেছিল
সকল  আসা যাওয়া মিলনমেলা  ,
 তাই আর না হয় নাই ডাকলাম ভুল নাম ,
তাই তোমার নাম ধরে আর ডাকব না কথা
দিলাম .......কথা দিলাম ভাঙাচোরা পাড়
এবার নিজের মত ভালো থাকার বাহানা
খুঁজে নেবে , খুঁজে নেবে আপন খোলস ।

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

এই শহর

---- ----- 

কেউ তেমন একটা  দেখতে চায় না 
শহরের বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস
ওড়না বিছিয়ে আছে
কোনো বিষন্ন রাগেও এতো 
বেদনার সরলিপি নেই হয়তো,
এই  শহরের বুক জুড়ে আজকাল শোকের পর
শোক পিঠোপিঠি   প্রগাঢ় এপিক হতে ইচ্ছামতির মত, 
প্রতিটা গলি বেয়ে  চোখের জল নয়তো দীর্ঘশ্বাসের 
 সুর,  মানুষের অন্দরমহলে   মনোবেদনার শাখাপ্রশাখা
 ট্রাজিকের   হাজারো  ভিড়,
প্রেমিকের মন নিরন্তর সাবধানি বর্ষাতি খোঁজে তাও , 
 কে জানতো ঈশ্বরের রচনায়   দীর্ঘশ্বাসভরা কাব্য
এত বেশি, এমন হলুদ, ধূসর আর  ঘোলাটে সমস্ত অনুভূতি!   
 তাই হয়তো একেকটি মানুষের বুকের মধ্যে 
  গাঢ় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেড়ায় অথচ বাইরে পোষাকি সুগন্ধির
আবেশ, 
কেউ জানে না  হঠাৎ একসঙ্গে অসংখ্য দুঃখ আসে
মেঘেদের সাথে শহরের বুকে একটা মেয়ে নিঃশ্ব হয়ে 
ভিজতে থাকে যেন শিলালিপি থেকে শোকের
গান.... 
তারপর হঠাৎ সব   দুঃখ  ম্লান হয়ে যায়,  কৃষ্ণবর্ণ মন 
নিজের ভেতোর মেঘ সরিয়ে জোতস্নার হাত
ধরে, ... ….,গল্পেরা এমন তো হয়েই থাকে তবু কেন যে
এ শহরে এত দীর্ঘশ্বাস  লুকিয়ে   প্রতিটা হৃদয়
   ছেড়া বসন্তের পাতা ঝরার মত, 
আমিও সামিল হই একই অভিসারে যেন
এ শহর আমার একমাত্র প্রেমিক পুরুষ।   

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

ভুলভুলাইয়া

আমি আর কখন তোমার দরজায় কড়া নারবো না
কিংবা তোমার  অনন্ত বৃক্ষের ছায়ায় আসবো না , একথা বলি সাহস কই অথচ জোর
গলায় বলি এবারে মুক্তি দাও এ রাহুর প্রেমের থেকে সে জোর ও তো  পাই না ।
বাড়ির কিছু আসবাব পত্রের মত আজকাল নিজেকে মনে হয় , কাজে লাগলে কখনো ধন্য
হই,  না কাজে লাগলে ব্যর্থতায় ভুগি , আমি যে
কোন কালে এমনটা ছিলাম সেটুকু জানতে পারিনি
কোনোদিন , আজ যখন বুঝি এত কিছু সমস্ত অঙ্গ
প্রতঙ্গে লেগে আছে জীর্ণতা , 
কাল যে জন্মালো শিশু আজ আমায় বুঝিয়ে দেয় 
জীবনের মূল্য কথা ,আমি ও হাতের  অগোল খুলে
আকাশের পথে তাই পা বাড়াই ..... ঢের হয়েছে 
এই খেলা ঘর তাসের দেশে , 
আমি তাই আর তোমার দরজায় কখনো কড়া নাড়তে চাই না ....তুমি একদিন বোধিসত্ত্ব হও
আজ এটুকু বলে বিদায়ী  অর্ঘ রাখলাম শব্দের 
আড়ালে , ও চোখে প্রেম নেই  এ চোখ বোঝে
না বলা অবহেলা ।

শুনেছি

শুনেছি তোমার  কাছে ফিরতে হলে জন্মের 
পর থেকেই আমাকে হাঁটতে হত
বহুদুর কোন প্রান্তরে রেখে সেদিন আমার 
চলে যাওয়া টুকু ছিল তোমার দুয়ার থেকে
বাকি সব নিয়েগেছিল অনন্ত শোকের
বৃষ্টি, 
মনে মনে জানতাম  বহুদূর চলে গেছি
ঠিকিই  –যেখান থেকে ফিরতে হলে হয়তোবা 
 আরো একবার  জন্মেই পথ চলতে হত ,

একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে
সেখানে আজ ফিরলেও তুমি চিনতে পারবে কি ,
 পৌঁছুতে পারবো না আগের জমিতে 
পথ তো একটা নয় –
তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা
সময়ের দু – প্রান্তের 
একপ্রান্তে ভিড় হাজারো ভক্তের 
  অন্যপ্রান্ত জনশূণ্য কাঙ্গাল সরল রেখা ,
দুদিকেই কূল ছাপিয়ে একটা অচেনা দুরত্ব, 
দুদিকেই এপার-ওপার, আসা-যাওয়া, টানাপোরেন –
দুটো জন্ম লাগে কিনা জানা নেই , 
 শুনেছি তোমার কাছে ফিরতে হলে  এক জন্ম
কম পড়বে ,
তাই আমার বহু জন্মের একটা পথের খোঁজ নিয়ে পথ চলা ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

বৃষ্টি

এই যে বাইরে অঝোর বৃষ্টি, এর চেয়ে অনেক বেশী
বুকের মধ্যে আছে শ্রাবণ
হৃদয় জুড়ে বৃষ্টির রাশি, আকাশের যত মেঘ যত অভিমান
যত নালিশ
মেঘের বুুকের  থেকেও
আমাদের বুকে বোঝার মত 
ভারী। আকাশের দিকে গেছে যে 
 সিঁড়ি হয়তো আমাদের 
জন্যই 
দু বাহু  মেলে স্বাগত জানাতে চাইছে ভালোবাসার
 মতো মৃত্যু কে
পার ভেঙে নদী একলা হয় কেউ বোঝে না
বাতাসের কাছে  থাকে 
রঙিন পাপড়ির
ঝরে যাওয়ার খবর
বাতাস তা জানে গোপন কথার মত 
তাই আমি আর প্রেম দেখি না সারা পৃথিবীতে
প্রেম আমায় বরাবর বৃষ্টি তে ভিজিয়েছে  ,
দারুন রোদ্র খুঁজি এখন হন্যে হয়ে ,

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

অনেক দিন


 
তেমন ভাবে  কোনো কথাও  হয় না

কেন তা আমরা   জানি।  সমস্ত ইচ্ছার সৎকারে

আমরা বড় ব্যস্ত ছিলাম তাছাড়া তোমারও তো 

ছিল নিপাট দায়বদ্ধতা- মুখফেরানো ব্রত

  তাই স্বভাবি  রোজ খরচের খাতায়।

 

অনেক দিন  দেরাজের  গোপন সংসারে হাত

রাখা হয় না

ডাক দাও না তুমি কিংবা আমি সাহস করে,

 

রোদে  ঝলসানো মন  গিয়েছিল ভহুবার বটের ছায়ায়

বেঁচে থাকা একটা নাটক   আর গোটা জীবন স্রোত

একটা মঞ্চ।

 

তাকাই না আর বহুদিন আয়নার দিকে,

চুলের জটে দিই না চিরুনি ,

না-তাকাবার অজুহাত তো আছেও কয়েক অজুত

তবু  অন্দরে- একটা কথাই টোকা মারে

তোমার আমার মধ্যে এখন সেতু কেবল বাতাসগামি কিছু

বার্তা।

 

 


সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

মৃত্যু

------------------    
গাছটার মৃত্যু  ফরমান আপাতত দুই খন্ডে
এসেছিল,   প্রথমটা প্রতিবাদ করে গাছটা 
বিরুদ্ধাচারণ করলেও,  জিতে গেল পাষণ্ড
কাঠুরেটাই ,  হেরে যাওয়ার মুহুর্তে শুধু শেষ
ইচ্ছায় গাছটা চেয়ে নিল খন্ড মৃত্যু,  
বলল  আমার ডাল পালা তুমি কেটে 
ফেল প্রথমেই,   ছেড়ে যাক আমাকে 
যেকজন আমাতে বাস করে,  ওরা আমার 
মৃত্যুতে আমার থেকেও বেশি আহত হবে, 
তাই আমি চাই ওরা আর না ফেরে আমার
দিকে, 
লোকটা গাছের শেষ ইচ্ছা মত সব ডাল পালা
কেটে ফেলল প্রথমেই ওরা চলে গেল চিরকালের
মত,  রাতভোর গাছটা একা আকাশের দিকে 
শুন্য দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল  নোনা পানি আকাশ
ঢেলে দিল   অমনিশার সাথে,  অন্ধকারের
গভীরে গাছটা  মনের সব অনুভূতি গচ্ছিত 
করে দিল, চোখ বন্ধ করে ফেলল আলো ফোটার  
  আগেই,,  ভোরের কথা 
সে ভাবে বুঝলো না সেদিন,  ওরা যে আর ফেরেনি
গাছের কাছে,,  
লোকটা কুড়ুলের ঘায়ে প্রথমে মাথাটা ফালা ফালা 
করে দিল,  ভাবলো গাছটার বিবেক  মরলো , 
তারপর ধীরে ধীরে বুকের কাছে কুড়ুল রাখলো, 
আরো নিচে নামতে  গিয়ে লোকটা হাঁপিয়ে  উঠল, 
অন্ধকারে শিকড়ের জালে আটকে গেল লোকটার
সারা শরীর  দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার মনে মনে 
বলল আমাকে একটু নিশ্বাসের জন্য বাতাস দেবে 
একটু আলো দেবে,  আমি মরতে চাই না আমায় 
কেঊ হাত বাড়িয়ে দাও  আমার যে এখনো  বাঁচা 
বাকি আছে অনেক অথচ চিতকার
করতে পারল না..  ...... আর গাছটা নিরুত্তর ছিল।      

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

তোমার জন্য

---------------------   
যেদিন তোমার মায়ের কথা মনে হয় আর 
তোমার মন ভীষণ রকম খরস্রোতা বন্যা আনে
আমি তোমায় জড়িয়ে থাকি পুরোনো মন্দিরের 
বটের ঝুরি হয়ে, 
যেদিন তোমার অভিমান হয় শতাব্দীর ক্ষয়িষ্ণু
সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আর  মুচড়ে ওঠে 
শব্দের হাওয়ায় বেদনা, সেদিন আমি তোমায় 
আগলাই প্রদীপ শিখায় হাত আড়াল করে, 
আবার যেদিন তোমার  শরীরে বয়ে যাওয়া
স্রোতে তীব্র পিতৃ স্নেহের অভাব হয় তুমি দিগন্তের
সীমানায় দাড়িয়ে হাহাকার জানাও ওই আকাশটাকে
আমি সেদিন তোমার মাথায় বিছিয়ে দিই ছায়ার ছোঁয়াখানি।
এমন  অনেক কারন খুঁজে    তুমি নিজেকে প্রায়শই ভাংচুর
করে ছড়িয়ে ছিটয়ে ফেল,  প্রতিবার আমি তোমার গভীরে
নামি খুব সন্তপর্ণে, দরজা   খুলি  আলগোছা হাতে তারপর
তোমার প্রতিটা টুকরো আমার আঁচলে  বিছিয়ে একে
একে নতুন করে সাজাতে থাকি রাতভর,  ভোরের আলো
ফোটার সাথে সাথে শব্দ জট খুলেফেলি, তুমি আবার 
নিজস্ব  পরিক্রমায় প্রস্তুত হও।  আমি তোমায় যুদ্ধবেশ
পরাতে পরাতে শেষমেশ হাতে অস্ত্র দিয়ে বলি এগিয়ে 
যাও আগামীর দিকে,  আবার যেদিন ক্লান্ত হবে আমায়
তুমি এমনি করেই  প্রতিবার পাবে।             

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

প্রশংসা

-------------   
তোর প্রসংশায় পাখির ডানা পায় এই বিকলাঙ্গ মন
আকাশের আগে ফুলেরা  সুগন্ধি বিলোয় তোর প্রশংসায়
তোর বাগানে হাজারো ফুলের মেলা  সব কি মনে রাখার মত
তবু এই নাম ধরে তোর ডাকা  যেন বেলোয়ারী সমাবেশ, 
সমুদ্র জানে না তার বুকে কত ঢেউ নিশ্বাস নিচ্ছে তবুও 
আগলে রাখা স্বভাবে অভস্ত্য,  তোর  প্রশংসার দাবিদার 
মানুগুলোর ভিড়ে সামিল হওয়া পর্যন্ত বহু পরিক্রমা শেষ
হয়, তারপর সে জয়মালার মালাকর হতে পারা জন্ম  সার্থকতা
পুর্ন হয়,  আজীবনের  যে কাঙালের ঝুলি   হঠাৎ ভরে ওঠে 
এক কনা  কনকের মাধুর্য,  তোর প্রশংসার  রূপক হতে পারে 
কাব্যিক  সন্ধ্যার কোজাগরী আলো।   

আমার প্রমিক

---------------
আমার প্রেমিক একজন যোদ্ধা 
তার চোখে আগুন ,  সে আগুনে 
সে পোড়াতে থাকে মৃত সভ্যতাটাকে, 
আমার প্রমিক একজন যোদ্ধা 
তার ঠোঁটে  বীষ ,  সে প্রতিটা চুম্বনে
স্খলিত প্রেমের মৃত্যু আনে যুগের পর যুগ,
আমার প্রেমিক একজন যোদ্ধা তার হাতে
সময়ের ধারালো অস্ত্র... তা দিয়ে সে 
কাটাকুটি খেলে  যেকোন  শতাব্দীর
ব্যর্থ প্রেমের কারণ গুলোকে, 
আমার প্রেমিক একজন যোদ্ধা  তার
বুকে লুকোনো কাল সাপের ঘ্রান
যা দিয়ে  সে এযাবতকাল কথা না রাখার
প্রেম কে  জড়িয়ে ধরে বটের শিকড়ের ন্যায়, 
তবু.... তবু তার কঠিন হৃদয় আমাকে পাষান 
থেকে অহল্যায় ফিরিয়ে এনেছে, 
আমার প্রেমিক একজন যোদ্ধা।          

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

ফলক নামা

------------- 
কত দিন ফিরে গেছি শব্দের  সমুদ্রে শুধু পা টূকু 
ডুবিয়ে,  মৃত্যু আর যাপন লিখতে লিখতে ক্লান্ত 
 হয়ে গেছে  বেঁচে থাকা। 
আমার জন্ম নানান ছায়া ছবিতে চান সেরে পাড়ে 
বসে  অখ্যাত কোন রুপকথার টানে,  রাজ পুত্র গেছে
যুদ্ধ জয়ে যার ফিরে আসা  বছর কুড়ি বাদে..... 
কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় বিরহ আহুতি বেশ স্পষ্ট 
হয়ে ভাসে  আর সে দিন এ শহরে নীলকন্ঠ পাখিটার ঠোঁটে
প্রতিধ্বনির দেশের আমন্ত্রণ ,  আমি তখনো স্বপ্ন আঁকার 
চেস্টা চালিয়ে যাই বাস্তবের পাতা জুড়ে,  বুকের ভেতোর 
লুকোনো চিলেকোঠার চাবিতে জং রং মুড়ে ফেলে নিজেকে.. 
পরে  মৃত্যুর ওপার থেকে দেখেছিলাম   সব কটা উপন্যাসের
শেষ পাতায় শুধু  কান্না  এঁকেছিলাম আজীবন।                   

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

সুবর্ণা(৯৩)

নৈ:শব্দ যত সব বিদ্রুপ মাখা শব্দের জন্ম দেয় 
সুবর্ণা তোমায় যতবার লিখতে বসি  ওই দুটো চোখ
আমায় পাহারায় রাখে  ,  আমার শব্দরা তাই এখন ডাকবাক্সে যেতে চায় না ।
রঙ চটা ইঁটের দারিদ্র দেখে একদিন তুমি শুশ্রসার
প্রলেপ দিয়েছিলে , অথচ সেদিন ও তোমার কাছে সমস্ত ক্ষয় ক্রিয়া বলা হয়ে ওঠেনি ,
এযাবৎ কাল ভেবেছিলাম  আমার শব্দ টায় একটা অসুরীয় ক্ষমতা আছে আগলে রাখার  ....সবার মত তুমি তো নয় কোনকালেই ,
অথচ সেই তুমিও  মাটি খসা শরীরটায় বেশ কয়েকবার পেরেক পুঁতেছো ।
......কেন এমন হয় সুবর্ণা আমি যখন ভাবি মারাত্মক আশ্চর্য করে আমায়  এই বুঝি ভালোবাসবে  ঠিক সেই সময় কম্পাসের স্নায়ুতে 
প্রবল ঝড়ের সংকেত ........কেন এমন হয় সুবর্ণা 
যখন পার্থিব সমস্ত সঞ্চয়ের বিনিময় তোমাকে আরাধ্য করেছে এই মন তখনই হৃদয় বেয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে ।
এস একবার একই কাঠামোর ভেতর  ....জীবনের যত গল্প দেখবে পাখি হতে চেয়েছিল ,
কেন যেন তুমি তাদের সকলকে কেবলই হত্যা করেছ বারে বারে ,  আর এখন.... আমাদের পৃথিবীতে শুধু কান্নার দাগটুকুই রয়ে গেছে ।

দায়হীন

------------------------   

 দায় ভারে  রাখিস না এ হৃদয়,  বরং 
দুহাতে ভাসিয়ে দে আকাশের গায়ে 
আজকাল  আছি আর থেকে যাওয়ার 
মাঝে হারিয়ে   গেছে নিশ্বাস , অভ্যাস  অজান্তে 
দাসত্ব শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলে,  শুছিয়ে নিতে নিতে     গোপনে নৃশংস 
হত্যা  চোখ এড়িয়ে যায়,  আসলে  দৃশ্য আর দর্শকের
ফাঁকে সুকৌশলে এক যুদ্ধপরাধী মুখ লুকোয়, 
অপেক্ষাগুলো আর বেঁচে থাকার কারন খুঁজে পায় না 
আমার শহরে এই মুহুর্তে তুমুল বৃষ্টি  আমার কবিতায় জায়গা
করে নিচ্ছে,  সব মৃত্যুই শব্দহীন  অথচ বুকের হাপরে কান্নারা 
চিরকাল ক্ষরস্রোতা স্বভাবের,    
মনখারাপের দায় না হয় নাই বা নিল আগামি 
তুই আমি জানি সব শুরুর এক দিন শেষ আছেই 
আছে সোনালী ফ্রেমে বন্দী মৃত সময়, 
ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকানোয়  হোঁচট খায় সময় 
সেকথা সবারই জানা,  
তুই   মুঠো খুলে ভাসিয়ে দিতেই পারিস সমস্ত  অংগিকার 
এবার হয়তো  আকাশি হবার প্রস্তুতি               

উপহার

------------- 
উপহার যেন ছোটই থাকে কারন তোমার  আঁচল
আমায় ঢেকে থাকুক  সম্পুর্ণা হয়ে। 
আমার সমস্ত চাওয়া ছাপিয়ে তুমি উজার করে দাও 
তোমার  যা দেওয়ার ,  রবি ঠাকুরের  কাছে ঋনী হয়ে বলি 
"দিলেম যা...... স্বর্ন হয়ে এল ফিরে "  
তোমায় যেন দিতে পারি আমার সকল শুন্য করে,  
................শুভ জন্মদিন  "মিস্টি মা "

না হয়

------------------------------    
না হয় আমার নাম পরিচয় নাই বা জানলে 
না হয় শুধুমাত্র এক অপরিচিতা  হয়েই থেকে গেলাম, 
দু এক পা পায়ে পায়ে হাঁটতে  কি পারবে হে অপরিচিত।   
সামাজিকতা না হয় কিছুক্ষণ হোক অর্থহীন  
না হয় প্রয়োজন ছাড়াই  রাখলে হাতের ওপর হাত
না হয় চুপকথা টুকুই সাথে থাকল, নাহয় সমস্ত প্রশ্ন উত্তর 
আজ অকারন মনে হল      , বিনা কারনেই  নাহয় দু চার 
পঙতি  লতিফায়  তুমি আমায় হাসালে,   
যেকথা বলা হয় না নিয়মিত নিয়ম মেনে  সে কথা 
তুমি কি কখনো পারবে কান পেতে শুনতে, পারবে কি কখনো
কোন অপরচিতাকে তোমার কবিতার দু চার লাইন
নির্দ্বিধায় সমর্পণ করতে,     
পারবে কি দু চার পা পায়ে পায়ে হাঁটতে  
পারবে কি নিয়ম ভেঙে কোনো অপরিচিতার সাথে 
একটা গোটা দিন কাটিয়ে ফেলতে... 
পারবে কি কোনো নাম পরিচয় ছাড়া অপরিচিতার 
হৃদয়ে দখিনা বাতাস হতে!!!    
  
     

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

খিদে হারানোর গল্প

আমার মত অনেকের আর খিদে পায় না 
আকাশের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা 
গাছের মত এখন অনেকেই কেবলই ছায়া বিলোয়
আশ্রয় বিলোয় , আর এই বিলিয়ে দেওয়ার আড়ালে স্বার্থ আমরা লুকিয়ে রাখি নাকের নীচে অদৃশ্য গোঁফের আড়ালে   তাই নিজেদের মহান ভাবতে অসুবিধা নেই ।

আসলে এই পৃথিবীতে জরুরত একটা অদ্ভুত শব্দ
একমাত্র এই শব্দ টাই পারে সরীসৃপের মত পুরোনো খোলস ছেড়ে অদ্যপ্রান্ত নতুন করে সাজতে ,
ইদানিং তাই আমার মত অনেকের আর খিদে পায় না , পাকস্থলী তে জমানো পুরোনো সঞ্চয় ভেঙে বাঁচতে শিখতে শিখতে কখন যেন খিদে না পাওয়ার অভ্যেস হয়ে যায় , আমরা সকলে ঈশ্বর হয়ে উঠি , ভাঙাগড়া খেলা তখন সহজপাঠ এর ছড়ার মত  সহজপাচ্য ,, মেরা দেশ মহান এর মতোই মেরা  দেশবাসী  ভি না জানে কব মহান বন চুকা ।

জীবনের ছক গুলো দানে লোভী হৃদয় পাশা খেলে বার বার .........বার বার হয়  দ্রপদীর বস্ত্র হরণ 
আর কৃষ্ণ বলে আমি পাশেই ছিলাম দ্রপদী তুমি তো আমায় ডাকনি নাম ধরে , তাই বুঝব কি করে তোমার জরুরত ? খেলা খেলা চলে প্রতিনিয়ত চোখের সামনে অথচ দৃষ্টির আড়ালে ,,
তাই গাছ মাথা উঁচু করলেও আকাশ নিজেকে দূরে রাখতে ভালোবাসে চিরকাল ।   এমনি অনেক টুকিটাকি বোঝাপড়া সামিল করতে করতে আমি কিংবা আমার মত অনেকেরই খিদে মরে গেছে 
আর ঈশ্বর তাই এখন কর্মহীন।


হারিয়ে ফেলা জন্ম

নির্বাক ইশারায় অন্য হাতে হাত রাখতে বলে 
পাশ  কাটিয়ে চলে যায় জীবন , আরো একবার 
ঈশ্বর আহুতি অপেক্ষা থালায় সাজায় ,

আমার মত একজন তুমি কে একদিন না চাইতে 
পেয়েছিলাম দশ ফুট বই দশ ফুট বেঁচে থাকায় 
আর আজ সময় বদলে আয়না জানান দেয়  কেউ
কারো মত হয় না , এসলে বাড়ির  ভিত পুরোনো হলে নোনা লাগে বুকের পাঁজরে আর মুক্তি চায় 
ধুকপুক প্রাণ ।
চলে যাওয়া গুলো আর ফিরতে পারে না অজানা কারণে বন্দি হয়ে যায় স্মৃতির ফ্রেমে , মানুষ বিকল্প
খুঁজেই নেয় আর ভালো থাকে নিজের মত সাজানো সংসারের আলেয়ানে .....তখন সত্যিগুলো মিথ্যে আর মিথ্যে বলে জানা যাকিছু
সব হটাৎ সত্যি হয়েই যায় ,

নির্বাক হতেই হয় যোগ বিয়োগের ফলাফলকে মিলিয়ে রাখতে ,
ঈশ্বর বড় স্বার্থপর নিজেকে ভালো রাখতে সময়ে
সময়ে বদলে ফেলে সমস্ত প্রতিশ্রুতি ।

সেই মেয়েটা

আজ কাল প্রতিটা সকাল যেন স্বপ্ন ভাঙা  ,ভোরের পরে রাত ফিরে আসে কেন জানি না , আমি চূর্ণবিচূর্ণ ইচ্ছাদের পিরামিড সাজাই নতুন করে সূর্য নগর দেখবো বলে , সেই মেয়েটাকে খুঁজে পাই না  যে সূর্য মণির খোঁজে আমার দেশে একদিন জন্ম নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছিল ,
মানুষ হয়তো বুকের ভেতরে
শামুকের মত নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে , হয়তো পরের বার নিরাপদ আশ্রয়ে নিজেকে রাখবে বলে ।

ঘুম ঘোরে আমি চুরি করে ফেলি একটা গোটা সূর্য ,
আসলে সোনালী সকালের লোভ আমার চিরকাল ..তাই পিরামিড চুড়ায় দাঁড়িয়ে ঈশ্বর গর্ভ থেকে তুলে আনি বাঁচা ,  প্রতিবার ঘুরে দাঁড়ায় সেই মেয়েটার মত কেউ ...প্রতিবার সেই মেয়েটার মত কেউ এগিয়ে আসে বাঁচার কাছে ,,যেন কোন ছায়া 
লুকোচুরি খেলে  অষ্টপ্রহর  ,আমি সরে সরে যাই সমস্ত মোহ থেকে তখন একটা দেশের নাম আমার 
জাতিস্মর মন দেখতে পায় সে দেশের নাম বড় অদ্ভুত "কথা না রাখার দেশ " আমি তবুও প্রতিটা 
মন খারাপ আড়াল করে ভালো থাকি , কারণ সূর্য নগরীতে যেন আমার শেষ ইচ্ছা রেখে যেতে পারি।