মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না(৩৭)

---------------------------- 

দিন গুনলে হিসেব মেলে না তোকে ঠিক
শেষ কবে দেখেছি,, বেগুনি রঙের জামা
এক ঝাঁক চুলের এলোমেলো খেয়ালিপনা
হাওয়া...    ঝর্নার সাথে তোকে তুলনা করলে
মিলে যাস তুই, এ সংসারে সকলটুকু জুড়েই
তোর অবাধ আসা যাওয়া, ঠিক  যেন   ভাঙা
ঘরে চাঁদের অস্তিত্ব,, প্রথম তোকে আমার পাওয়া
সে এক বিস্ময় আজও আমার বেঁচে থাকায়...
আমার অনুভুতির জমিতে তোর নিবিড় ভিত....
যেন আমার সারাক্ষণের খেলার সাথি,
আপন মনে নিজের ইচ্ছেমত সাজাই তোকে
হাসাই আবার কাঁদাই এ যেন আমার আকাশ
আমার রামধনু রঙে আমিই এঁকে ফেলি   
তোকে দিয়ে হাজার রুপকথা,,   আমার সকল
কারিগরি বিদ্যার গিনিপিগ যেন    তুই,,, ঈশ্বর   
তোকে আমার খেলা ঘরের একমাত্র পুঁজি করে
পাঠিয়েছিলেন.... জানিস তোকে পাওয়ার পর
আর কোনো দিন আমার সেই না পাওয়া চোখ
পিটপিট পুতুলটার জন্য মন খারাপ হয়নি,
আজ এই মেঘলা বিকেলে তোকে জড়িয়ে আরও
কতো কতো কথা মনে পড়ছে তাদেরকে জড়ো
করলে    সুখ বৃষ্টির ছোট উপন্যাস হতেই পারে,,
তোর গন্ধ এত জড়িয়ে তবুও আজকাল তোর
মুখটাআবছায়া  হারিয়ে যায়....  তোর আমাকে
দখল করে নকল করার কথা মনে পড়লেই হাসি
পায়..... ফুঁপিয়ে উঠি   হাতড়ে বেড়াই তোকে...,,
দিন কাল মাস  সময়ের ধুলোয় তোর
ক্লিপ কাঁটা জং ধরে গেছে কবে,    কাঁকনমালা র
সুতোখানাও জীর্ন রোগে ভুগছে,
মেঘ আসে তোর মুখখানা   ঢেকে যায় আমার
খেলা ঘর আর আমি তোর স্পর্শ খুঁজি,
আসেপাশে তুই নেই কোথাও.. আমার অন্তরমহলের
একখানা  ঘর আলো বিহীন শোকে সকল প্রহর
আলুথালু....... আজীবন,
...........সুবর্না প্রিয় শোক,                      
                          

রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৯

বেলোয়ারি


ঝুটো এই সহবাস আমার  ... তোমার ভেতর,
তাই হয়তো প্রশ্ন চিহ্নের দোড়গোড়ায়  দাড়িয়ে
তোমার ভেতোরের সমস্ত বিপ্লব আমার দিকে
ছুড়ে দিলে আজও  ,,
  বহু ভুমিকায় আমার যাকিছু ছবি,
সেলাই করা চিত্রনাট্যে   ঘর পেরোনো
দুয়ার,  অথচ চেতন অবচেতনে আমার ভাবনায়
আসেনি এমন দ্বিধারা,,     ... বিশ্বাসের কথা যদি বল এ দুনিয়ায়
নির্ভরশীল রঙও পাল্টে যায়... বদলে যায় চেনা
অচেনা মন,,  তবুও যদি জানতে চাও, তবে কেন তোমায়
বিশ্বাস করে আমার  এই চোখের ভাষা ..., সে উত্তর তোমার
কাছে খানিকটা ডিপ্লোমেটিক মনে হতেও পারে,,  তুমি
এযাবতকাল সম্পর্ক   পুড়তে দেখেছো,,  আকাশের
দিকে চেয়ে থেকে দেখেছো তার  কালো ধোঁয়া... কখনো
পথের প্রান্তের বসে মাটির দিকে তাকিয়ে দেখোনি,
কখনো  কোনো গাছের সামনে দাঁড়িয়ে  আশ্চর্য
হয়ে ওঠোনি, কখনো আগুন কে জ্বলতে দেখনি
এক দৃষ্টি মেলে.....     
আসলে ভালোবাসলে সব চাওয়া মিলিয়ে যায় সমস্ত
উজার হয়ে যায়, নিজেকে  বিছিয়ে রাখা আর হয়ে ওঠে না
নিজের কাজে ,
হার জিতে সব একাকার যেখানে... হারানোর শোক নেই
পাবার আকুতি নেই.... "আমার ভেতোর ও বাহিরে
অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয় জুড়ে..... ,
সব অভিমান, অবিশ্বাস চাওয়া পাওয়া বড্ড ছোটো
হয়ে মিলিয়ে যায় সমস্ত চরাচরে,,
এ কথা তোমায় বহুবার বলেছি,  তবু বারংবার
হলুদ খামে তোমার সংশয়ের পান্ডুলিপি  আর নীল
খামে আমি  মুক্ত  বুনোহাঁস ...।             ,       
                          ইতি মেঘ বালিকা,

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না(৩৬)

---------------------------- 
হাজার বছরের হাতকড়া এ হাতে তবু
অধিকার খুঁজতে থাকে বেঁচে থাকার সাক্ষ,
প্রতি মুহূর্তের ফাটলে গুঁজে রাখা যুদ্ধের
তরবারি.... তবু শেষ হয় না হার, যাকিছু
পাই হারিয়ে ফেলি,  স্বান্তনার বাণী  আটকে
রাখা চিরকুট আমার অন্তরমহলের  দেওয়ালময়...,
সময় হেঁটে যায় জন্মান্তরের পথ দিয়ে
আমি তার হাতে হাত রেখে চলতে গিয়ে বার
বার ফুরিয়ে যাই,
তোমার কাছে ফিরে ফিরে আসি চেনা রাস্তার
মাইলস্টোন স্পর্শ করে ভাবি..., আমার ব্যঞ্জনার
কথা,  ভাবি দুঃখ মেনে না নিলে তুমি মুখ
ফিরেয়ে ফিরে যেতেই পার, , তবে  আমার তৃষার্ত
যাতনার কি হত? তাই হাজার বছরের শেকলে
এ ঘরের সব    আসবাব নিজেরা লিখে চলেছে
পরজন্মের উপ কথা,,
আকাশে বাতাসে সে সব পান্ডুলিপি উড়িয়ে দিও কোনো একদিন,
এতটুকু কথা রেখ আমার জন্য, পদ্মার জলে
ভাসিও চৈত্রের সমস্ত সর্বনাশ... তোমার
আমাকে     নাই বা বলা হল সে ভালবাসার
গোপোন কথা,.... এ জন্মের  মন্দবাসার অংগিকার
থাক না হয় কেবল আমার হয়ে.......
"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম......  
.........সুবর্না প্রিয়    যাতনা, 
       
                          

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না(৩৫)

---------------------------- 

আলেয়া জুড়ে   সাজানো গল্পের রাজারানীর
ঘরকন্না, ঘুম ভাঙা    জানলায় রোজ ছেঁড়া ছেঁড়া
বিরক্তি, ঘর পালানো আমার এই মন জানে না
আলোর নগরের ঠিকানা   কোথায়...,
নীরবে হেঁটে যাওয়া তোমার স্বৈরাচারী চোখের
ভাষা  আমায় ছুঁয়ে যায় কোনো  এক অন্তমিল খুঁজে, 
  মুহুর্তে   রঙ ভরে নিই আমার একঘেয়েমি
ঘ্যানঘ্যানে    কবিতার খাতায়.... এইটুকুই আমার বাঁচা,, 
কে আমি কোথায় আমি...  খুঁজি ফিরি  তোমার বয়ে যাওয়া
স্রোতের   মাঝে খড়কুটোর মত,,
বহু পথিকের  মত  হারিয়েও  যাই হয়তোবা তোমার চলাচলের
মাঝে,,
এমন করে বয়স বেড়ে যায় আমার সকল দহনের,  তুমি বল
একদিন মেঘ তোমাকে নিয়ে যাবে তোমার সেই মেঘ বালিকার
কাছে,  সব  চেনা দুঃখ গুলো রুপকথা হয়ে তোমার দরজায় দাড়াবে,
এক অজানা সাঁকো  তোমার কবিতার পাতা থেকে দল ছুট মেঘের দেশে
মিশে যাবে.....
এসব কথা তুমি যখন বল, আমার শহরে দেখি এখনো   
হাঁটু জল.... আর  ছবি জুড়ে একটা ছেলে   কাগজের নৌকা ভাসায়..  তার চোখে
চোখেমুখে লেপ্টে রয়েছে তোমার আলো... আমি বুঝি আমি এখনো
বেঁচে আছি... সুবর্না তোমার বুকের আঁচে তোমার আতাতে,,,
................সুবর্না প্রিয়  আলো। 

.

সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯

ঘুম

---------------------------

অদ্ভুত এক ঘুমে আমি আজ কাল আচ্ছন্ন থাকি,
স্বপ্নের সিঁড়িগুলো সব ভাঙা চোরা  আর আমি হোঁচট খাই
বারংবার,  ,  জং ধরা   নাবিকের কম্পাসে লেগে আছে ধ্রুবতারার
হারানো  শোক  ,,  ভেষে থাকা কবিতাগুলো শ্যাওলার জালে  জড়ান  ,
ঘুম চোখে হাতড়ে  বেড়াই লুকোনো তরবারি... যুদ্ধগুলো সারি
সারি দাঁড়িয়ে  উঠোন জুড়ে  ... চোখ মেলতে পারি না,
জ্বলতে থাকে  অজানা আচ্ছন্ন ঘুমে,,,,
তোমায় নিয়ে গল্প লেখার সব ফসিল থেকে
আমি সরতে থাকি,,  তোমার  সঙ্গে অন্তমিল
খুঁজে আমি ফিরে আসার পথ খুঁজি,, রক্তাক্ত
পায়ের নিচে কম্পাস,   দিকশূন্য  অবসাদে মিশে
যায়   সকল   যুদ্ধের সৈন্যরা  ,, 
জলপরী আসে আমার  ঠুকরে খাওয়া শরীরের 
পাশে.... ছুঁয়ে দেখে আমার শরীরে একটাও
পান্ডুলিপি জীবিত নেই...,,
আমি এক অদ্ভুত ঘুমে  আচ্ছন্ন হয়ে হারিয়ে যাই
পাথরের বুকের ভেতোর।  

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না (৩৪)

-------------------------------

বোকা স্বপ্নের দাবী ছেড়ে চলে যেতে চাই সুবর্না
তোর বুকে মাথা রেখে ঘুম ভাঙুক আমার  সকালের,
কবিতা  লিখতে ভুলে যেতে চাই বহুদিনের নির্ঘুম
কাটানো রাতে , নক্ষত্রদের গল্প আর তুই সাথে থাকিস
যদি, 
বহুদিন সহবাস করেছি  আটপৌড়ে  ছেঁড়া
কাঁথার আঘ্রাণ জড়িয়ে,  তোর আঁচল পেতে
হারিয়ে যেতে চাই আমার সাজানো গল্পের শহরে,
খবর আসে খবর চলে যায় নিয়মিত,   তুই থেকে যাস
সময়ের সমস্ত অভাবের অজুহাতে... বিনিময় প্রথায় তুই
নেই  কোথাও কোনো অনুভূতির  অভিধানে,,। 
তুই ছুঁয়েছিস যে আমার আমাকে সে আমি কে
সরিয়ে নিয়ে যেতে চাই সুবর্না এই সমস্ত সাজানো
মেকি মুখোশ এর থেকে দূর থেকে বহুদূরে,
এ কবিতা কেবল তোকে জড়িয়ে নিজেকে পোড়ানো
অনেকটা সময়.... বাকি আকাশ মিথ্যে, বাকি সম্পর্ক
মিথ্যে, বাকি   দাবী সব মিথ্যে.... কেবল সমস্ত জুড়ে
সুবর্না তুই একমাত্র আমার .. দাবীহীন সত্যি ,
............সুবর্না প্রিয় বাঁচা
                                          

ভেজা চিঠি (১৫)

তোমার কাঁধে চিবুক রেখে জীবন গল্প লেখে,
গোপোন নীল বন্দরের ঘাটে রাজা রানী জল ছবি
আঁকে... তখন সময় চুপ করে পাশে বসে ঝুলি
ভরে নেয় বুকের সমাধিতে,
তোমার ছায়ায় মাথা নুইয়ে স্বপ্নেরা মাটি ছুঁয়ে নেই
রাজা রানী তখন রঙ ভরে নেয় সাদামাটা গল্পগুলোয়,
সময়ের  তখন চুপ কথায় হাজারো যতিচিহ্ন তখন,,
তোমার হাতের রেখায় পথ খুঁজে নেয় আমাদের "ভালো - বাসা "
সময় তখন চুপ করে কান পাতে গোপন মন্দবাসার গল্পে,,
ছায়ারং বদলে দিতে পারে তোমার আলোর ধারা...
যে কথা কখনো বলা হয়ে ওঠে না হিসেবি রোজনামচায়
আমার মতে তোমার মত কেউ নেই কোথাও নেই,
চল খুঁজে নিই একসাথে এক বৃষ্টি দিন খুঁজে নিই এক
ফালি রোদ্দুর আর একচিলতে আকাশ ,  যেখানে
স্বপ্নেরা মাটি ছুঁয়ে থাকে ইচ্ছের রঙ মেখে  যেখানে
তোমার কাঁধে চিবুক রেখে জীবন গল্প লিখবে
ভালোথাকার,                                  

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯

ভালো থাকার উপকথা

----------------------------
ভালো থাকা জরুরী ছিলো না আমার
মত পথের,  যে  খানে ছায়া হীন বিষাদ রঙের
ছেঁড়া ছেঁড়া অনুভুতির বস্তাপচা সেন্টিমেন্ট,
মূল্যহীন ইচ্ছা আর সাজানো তাসের ঘরে
বেগম বাদশা মাটি  ছুঁয়েছিল স্বপ্নের ভেতর,
ভালো থাকায় কি যায় আসে প্রবল খরস্রোতের
সময়ে,  শেষ কিছু ছবি সময়ের প্রেক্ষিতে
কেবল মোহের  আঁচলে ঢেকে আমাদের রোজ
রোজ একলা করে এই ভিড় শহরেও...
জোকার সেজে নিজেদের বলি এই বেশ ভাল
আছি,  কিতাবি দরে যেন আমাদের নিঃসংগতা
বিকিয়ে ফেলি হাসি মুখে.. বছর শেষে আর এক
জন্মদিন ফিসফিসিয়ে বলে যায় আমি ফুরিয়ে
গেলাম আরো খানিকটা,,
অপেক্ষা যা কিনা   বোধদয়  থেকে বলিরেখা পার
হয়ে তারপর একদিন ঘুমিয়ে  পরে নিজের  জীর্ন
আস্তিন বিছিয়ে... তবু বুঝি শেষ হয় না,
পরজন্ম খুঁজে বেড়ায়,
আমার কবিতা চিরকাল ভিষণ অসম্পুর্ন..
কিংবা আলুথালু ভিখারির ভুমিকায়,
কখনো  ভালোথাকার  বর্নরা সে ভাবে  সেজে
ওঠে না... তাতে  কিছুমাত্র  বদলায় না কোনো
কবির কবিতার শব্দবুনন,,
ভালো থাকা আমার জন্য চিরকাল বড্ডো বিলাসিতা
, তবু কৃতজ্ঞতা তোমায় কবি তোমার অবসর সময়ের নিবে
আমিও ছিলাম নামহীন দাবিহীন হয়ে কখনো কখনো,,,                       

সুবর্না (৩৩)

-----------------------------
কথার স্রোতে ভেসে থেকো সুবর্না, তোমার
সকল অহংকার দিয়ে মুড়তে থাক আমাকে,
আমি হাসি তোমায় চোখের ভাষায়, যে কথা
বলা হয় না তোমার আমাকে , কোনো  অভিমানী
বিকেলে বৃষ্টি আমায় জানায় এসেছিল সে মনভোলা
মেঘ বালিকা, ফিরে গেছে আজো একলা কবিতার
খাতাখানা বুকের সাথে মিশিয়ে,  তুমি এমন করে
যখন খুশী বদলে দিতে পার দক্ষিনের হাওয়া কে
উত্তরে নিশানে,  আর হাসতে থাক কলমের নিব গড়িয়ে
পড়া  দুঃখ দের বইতে দেখে,
এই অহংকার    তোমার চিরকালীন সজ্জা সে আমি জানি..
এভাবেই দাবিহীন হয়ে তোমার কাছে
চিরকাল ছিলাম আজত,  ...  আজ কাল   নতুন করে অবাক হইনা,
বহুদিন  মনে করেছি মেঘের দেশে ফিরে গেলে কেমন
থাকবে তুমি?  তখনও কি তোমার এই রোশনাই সজ্জা
তোমার অহংকার  একই থাকবে! 
শেষ ছবিটা রামধনু রঙে  আঁকবে কথা দিয়েছ
তাই ফিরতে পারি না সমস্ত অভিমানের  পরেও,
বরাবর তুমি জিতে গেছ  যে কোনো অজুহাতের
বিনিময়ে,
..............সুবর্না প্রিয় অভিমান                  
            
                 

সুবর্না(৩২)

একফালি রোদ্দুর আর তুমি আমার অপেক্ষার
সব মৃত রঙে বেশিরভাগই শ্যে ওলা   পড়া ফসিল,
খুঁজে পাওয়া শেষ কিছু ছবি সময়ের চালচিত্রে
সাঁঝনামা সন্ধ্যেয় একলা বাস করে হ্রিদয়পুরের
একান্ত চিলেকোঠার দেওয়ালে,,
সময়ের অভ্যাসে বেড়ে ওঠে খেলাঘর.... হিসেবের
বাইরে তখন আমরা হয়ে যাই একাকার,,  অথচ
সত্যি কোনোদিন বদলায় না,, বাড়তি ভাতের খিদের
দাম ভীষণ কম এই শহরে  চিরকাল ,,
অভ্যাস বদলে যাওয়া স্বপ্নদের ছেড়ে নতুন পথ খুঁজে
নিতে হয় নিয়মিত আয়োজন    মতো,, স্পর্শ গুলো
কেমন হারিয়ে যাওয়া রাতের নক্ষত্রদের জন্মের সাথে
আপোষ কাটায় জীবন,,
সুবর্না তোমার বুকের আঁচে   সবকটা অনুভুতি
যখনই অস্থির হয়ে তোমার      দরজায় কড়া নাড়তে
. বাধ্য করে....  .. তুমি আপোষে গানে বিভোর হয়ে থাক বরাবর ,,,
তাই আজ থাক সব কথা  চুপকথার আড়ালে, স্বপ্নের
রাজা-রানি ঘুমিয়ে থাক সোনার কাঠির অদৃশ্য স্পর্শের
ভেতোর,,
যে সময় তোমার আমার নয় সে সময় জেগে থেকে
কি বা পেতে পারি বল? 
কেবল একফালি রোদ্দুর আমার জানলায় রোজ
একলা হতে হতে ক্লান্ত হয়ে
বিদায় দিনের দিকে তাকিয়ে ভাবে আজ আরো একটা দিন
ফুরিয়েছে,
...................সুবর্না প্রিয় ফুরিয়ে যাওয়া দিন,  
                                        
   
   

বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯

চির অচেনা


আমি শুধু আমার কথাই বলতে পারি,,  তোমায়
জানতে চাইলে দেশ মাটি নদীর কথা জানতে হয়,
তবুও তুমি অচেনা পথের মতো থেকে যাও,  তাই
কেবল আমার কথাই বেড়ে ওঠে আমার ভেতোর,
আমি দেশ নই, নদী নই, নই  কোনো ভৌগোলিক ব্যাপ্তি
তাই আমার কথা আমার ভেতোর বাসা বাধে যুগান্ত ধরে,
কোনো রদবদল ছাড়াই,,   
তুমি  যখন    রাজপাটের  চাল চিত্রে প্রধান ভুমিকায় আমি
কেবল এক মুঠো খিদে আগলে রাখি,  তোমার স্রোত
দেশ কাল ছুঁয়ে যায় শতাব্দীর বুননে,  তার রং অচেনা,
আমার তখন কেবল প্রদীপের কাজল টুকু সম্বল,
তুমি যখন মানুষ মাপো কাঁটাতারের বেড়ার উপকূল এঁকে,,
আমি সুখ খুঁজিতে   ব্যেস্ত আমার জ্যোতস্নায় ভরা কুঁড়েঘরে,
তাই আমার কথা ঠিক যেমন সকাল থেকে শেষরাত তক বলতে
পারি কোনো তৎসম চিহ্ন ছাড়াই,
.... তেমন করে তোমার কথা আমি কখনো বলতে সাহস পাইনি। 
হে রাজরাজেশ্বর আমি চাইনে তোমার মত বিশালতা,
কেবল একটুকরো হৃদয় হয়ে হৃদয়ে থাকি যেন...
যেন নিজের কথা বিছিয়ে উঠোন  আমি আমাকে
নকশীকাঁথা বুনতে  পারি আজীবন. ...
আমি আমার কথা যেমন করে বলতে পারি তেমন
করে কখনো  তোমার কথা বলতে পারি কই?                 

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না (৩১)

আমার  আয়নায়    লুকোনো  তোমার চেনা মুখ  কখনো
বদলায়নি সুবর্না, তোমার কাছে চটি জামা ছেড়ে দাড়াতে
পারা ভিখারি হতে আমার বরাবরের সাধ.... তবু তোমার
সাজানো চতুর্ভুজের   কাটাকুটি খেলায় আমি সামিল
হইনি,,
,  কখনো  আমার সমস্ত দুঃখ দের ঘাসে পা
ডুবিয়ে ভোরের অপেক্ষায়   শিশিরে ভিজতে দেখিনি,,
যে সকালের ঠিকানা অনেক   মৃত্যু  কথা লেখা থাকে
সেই সকাল সাঁকোহীন হলেই বা কি  যায় আসে ,, 
সুবর্না    কথা দাও  ভুলবে না ফেলে আসা  তারা খসা রাতের
গল্পদের,, কথা দাও ভুলবে না সে সব বৃষ্টি কথা
যা কেবল শেষ কবছর     তোমার স্রোতে মিশিয়ে
এসেছি......,,
আমি ঘর পোড়া তাই,  ঘর ঘর হারানোর শোক আমার
উঠোনে জুড়ে,   তুমি হাসছ আমার ছেলেমানুষী শব্দবুননে
,, তোমার কাছে চিরকাল আমি ভুমিকা হীন থাকতে চাই,
সমস্ত অপাংতেয়   যাপন চিত্রের ছবি মুছে রাখি আয়নায়,,
যে আয়নায় সম্পর্ক কখনো  অচেনা হবে না,
তাই কথা দাও আকাশের মত আমার আমিকে
তোমার  আশ্রয়ে চিরন্তন রেখ সাঁকোর দুইপারে।
.............সুবর্না আমায় রেখো তোমার হাতের রেখায়।
   .................. সুবর্না প্রিয়  আমার আমি,,  
                             

সুবর্না (৩০)

----------------------------- 
গোধুলির আলো মেখে কিছু আলাপ  রোজকার
নিদেন বেঁচে থাকায় যেন আমার বুকপকেটে
খুচরো পুঁজি,,  অনেক দিন ভেবেছি  এই ক'টা
আনা আধুলি হারিয়ে যেতেই পারে মুহুর্তের
বিভাজিকায়....  আমার সমস্ত ছায়া আমায়
তোমাতে একাত্ম হওয়ার ধাপগুলি  মিশিয়ে
দিয়েছে সময়ের স্রোতে, 
আমি আজকাল ভাল আছি ..... এই কথাটা
আমি ছাড়া আমার পূবের বারান্দা জানে
ভীষণ রকম, 
বাতাসের আলাপন ছড়িয়ে  যায় তোমার
শহরেও... ঝোড়ো হাওয়া আমায় রোজ নিয়ম করে
এলোমেলো করে দেয়,  আমি গুছিয়ে রাখি
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নর বিষন্ন স্বরের কান্নাদের,
ছুঁয়েই যায় সেই সব কথা যারা নিজেদের গ্রন্থের
অনুবাদ শেখেনি আজও,,   
সমসাময়িক   হতে পারিনি কখনো প্রিয় প্রেম মুখরিত
সময়ের প্রেক্ষিতে কেবল অজানা আগামির
অপেক্ষায়  উপেক্ষিত বয়ে চলা স্রোতেরা,
রাত আসে তার ছাপ আমার চোখের কিনার
ধরে শতাব্দী  পেরিয়ে এক অজানা ধ্বংসাবশেষ ফেলে যায়,
ভীনদেশী আলোর মত তুমি পরবাসী  হয়ে  থেকে যাও
ভেঙে যাওয়া স্বপ্নদের ছড়ানো ছিটানো টুকরোতে,
তবু তুমি  চিরসাথী....,,, সুবর্না  প্রিয় জীবন,         
 

                                                              
      
                 

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না (২৯)

----------------------------
অনেকটা পথ তোর সাথে আপোষে কেটেছে, বাঁধ ভেঙে
ইচ্ছার গর্ভধারণ    করে আধ ভাঙা    জানলায় ঠাই
পেয়েছে হাজার বছরের ফসিল,    দোষ খুঁজে পাওয়া
অমাবস্যার মধ্যরাতে দিঘিতে ডুব দিয়াছি বেশ কয়েকবার,
ভেবেছিস মৃত শিলাস্তরে ঘুমিয়ে পড়েছি,  অথচ ঘুম নেই
একটাও রাতের গল্পে,  ছায়া রং বদলে দিতে পারে
তোর চোখের  যে  ভাষা    সে সব স্বরলিপি আজ
আর মনে পড়ে না।  কেবলমাত্র ডাঙায় চাঁদ নিয়মিত
স্পর্শ মাখে  জ্যোতস্নায়    স্নান সারবে বলে,, আমার
চিলেকোঠার দেওয়ালে আঁকা অধ্যায়ের গায়ে   এতটুকু আলো
আসে না কয়েকশো বছর পরেও  .....   ভয় করে
সুবর্না আমার যে বড্ড গাঢ় রঙের পান্ডুলিপি গচ্ছিত
আছে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নদের  বিষন্ন রঙ,  আলো
আসার পথে দেখি আয়নার মত তুই....,  আমার
বিস্ময় হঠাৎ   যেন আমার কাছে এসেও হারিয়ে
ফেলে পথ,,  সুবর্না আমি এভাবেই অবাক হয়েছি
হাজার বছর ধরে নিয়মিত নিয়ম মেনে.....
তুই নেই কোথাও এটা আমার জন্য এক মুহুর্ত
অন্ধকার পৃথিবীর মত,,  কোথাও কোনো
এক অজানা ফুলের গন্ধ হয়ে তুই থেকে যাবি
কোনো  কবির প্রিয় নারী রূপে। আমি ফিরে
ফিরে আসবো তোর  বয়ে চলা স্রোতের টানে,, খড়কুটোর
মত শেষ তাগিদে কোনো কাব্য   হয়ে উঠবে
তোর সমস্ত রেখে যাওয়া ফসিল।
তোকে জড়িয়ে নিজেকে পোড়াতে সাধ
হবে এমন সময় আসবে যেদিন  আমি
আমার বৃত্ত সম্পুর্ন করে ফেলবো..... ততক্ষণ
পর্যন্ত স্বপ্ন থাক তোর আঁচলের আড়ালে।
............সুবর্না প্রিয় বন্ধন                  
                                           
                                         

সুবর্না (২৮)

-_----------------------------
মিছিমিছি কিছু বিষন্নতা একাকীত্বের ভেতর
বাঁধতে থাকে ঘর,  তোমার কবিতাগুলো এখনও
অনেক বেশি ভাবনা বিলাষী বলে   বুক পকেটে
ভরে রাখি,  তোমার লাগানো মানিপ্ল্যাট গাছটির
  ছেলেমানুষী ভাব    অনেকটা শরতের বিকেলের
মত... তুমি এরকমটাই চেয়েছিলে,
আজ কাল কথারা বড্ড বেশি অসুখ ছুঁয়ে থাকে
জ্বলন্ত আগুন স্নান যেন আষ্টেপৃষ্ঠে    তোমার স্নানঘরে
তোমার অপেক্ষায় একা প্রেমিকার ভুমিকায়...,, 
আজীবন ফিরে ফিরে এসেছে ঘষে যাওয়া সময়
আমার একলা পূবের বারান্দায় ,  আকাশের
উপকূল জুড়ে আমার পেরিয়ে আসা এবং আগামির
ছায়াপথ জুড়ে দেয় আমায়,,,     ভালো আছি ভেবে
শহরের গলিতে আঁকা অধ্যায় শেষে করে ফেলি... 
ভোরের আগে  বুঝি কবির পথভোলা কোনো কবিতা আমায়
ছুঁয়েছিল পরম স্নেহে,, তখন সবে মাত্র কান্নার সমস্ত ছায়ারা
আমাকে পুর্নাঙ্গ অনুবাদ করতে করতে সম্মোহিত
ক্যানভাসে    এঁকে ফেলেছে, 
তুমি ছিলে না কোনো দরজায়.... প্রতিটি মুহূর্ত এসে
পড়েছিল সকালের পায়ের পাতায়, 
নেই কোনো অভিধানের নামকরণ....  তবু তোমায়
নিয়েই গল্প  শহরের গলির মোড়ে ,,
জানি তোমার রিদম  অন্তমিলহীন,  অনেক স্রোতের
কাছে ঋন সমুদ্র সফেন তোমার কাছে হিসেবের
আলাপে মেতে উঠা  এক একটা চরিত্র,   তুবু বলি
ভাল খেকো শতাব্দির স্রোতে ভেসে থেকো সুবর্না,,
এক দিন রাত শেষে কচলানো চোখে দেখবে তোমার
ভাবনার ঘরের দোড়গোড়ায় তুমি আর তোমার অপেক্ষায়
সেই চরিত্র যে কেবল তোমার স্পর্শ খুঁজেছে আজীবন।।         ।
........সুবর্না  রোজকার  আমার প্রিয় দৃশ্য,                    
                                               

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৯

সুবর্না (২৭)

----------------------------
সময় হেঁটে যায় চেনা শহরে, চেনা মুখ অচেনা
আবছায়া ঢেক বৃত্ত থেকে মুক্ত করে ফেলি  দুজন,
মানুষের ভিড়ে একা একা দুটো পথ কখন যে আলাদা
হয়ে ওঠে ভীষণ রকম বাতাসের আলাপন ছড়িয়ে ছিটিয়ে
থাকা কিছু জানা অজানা ফুলের গন্ধ,
দেওয়ালের ফাটলে গুঁজে রাখা বাঁশিওয়ালার সুর,
মন উদাস হয়ে ওঠে মাঝেমধ্যে,  তুমি আসবে না জেনেও
অনেকটা সময় পথ চেয়ে থাকা...  এক আধবার পেছন
ফিরে  আকুতি  চেনা ডাক শোনার....,,
  একটা ঘন কালো মেঘ তোমার
বারান্দার সামনে থেকে     হাসনাহেনা  ফুলগুলোকে যেন   
ফিসফিস করে বলে গেল .... সে কথা রেখেছিল প্রতিবারের
মতো,  এমন করে কখনো কখনো    অপেক্ষা কে তুমি
আমি উপেক্ষিত করে ফেলি... ,
আসলে ভালোবাসতে পারা যায় কি না জানা
হয়ে ওঠে না হিসেবি দুনিয়াদারীতে,  ভিজে যায়
চোখ , গাল বেয়ে সোহাগি অভিমান মরে যায়,
আমার প্রিয় নদী তার ছাপ ফেলে চলে যায়
আমার  আমি কে একা রেখে।
এমন  অভিমানের নৈমিত্তিক আসা যাওয়ায়
কি বা  আসে যায়,  ভালো থেকো সুবর্না ... তুমি
আমার প্রিয় পথ ,, আমার না বলা কথারা জন্মাবে না
আর কখনো,  তোমার কথায় হাজারো কবিতা ছিল
থাকবে , ,  কেবল তোমার জন্য তাদের কাছে পথের
বাঁকে যে  পথ  ছুঁয়ে গেছিলো   আমি সেই পথ  .... সেই নিঃশব্দ
আলোড়ন তাকে  ফেলে চলে আসা যায় যে কোনো অজুহাতের
বাহানায়,,  চটি জামা ছেড়ে দাড়াতে পারবে না জানিয়েছ
বহুকাল আগে,  তবু ভুল বোঝাবুঝি কোনো এক শিশির
ভেজা চিঠি পেয়ে যায় সেই অভিমানী কবিতার ঠিকানা।
...................সুবর্না প্রিয় পথ  ।।