শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯

তোমার গল্পে

---------------------------

তোমায় নিয়ে গল্প হোক বৃষ্টি ছন্দ মাতাল হোক,
বালিশ ছেড়া স্বপ্ন থাক তোমার চোখে,,
আমার ছন্দে তোমার অন্তমিল খুঁজছি
মেঘেদের মাঝে,   
গলির মোড়ে দাড়ানো গল্প তোমার কবিতায়
সেই প্রথম প্রেমের কথা মনে পড়িয়ে দেয়,
তোমার চোখ মেঘলা এখন স্মৃতির বাষ্পে,
জানি তোমার গল্পের অনেক অধ্যায়...
আসা আর যাওয়া  বলে দেয় এই তো জীবন,
বিকেলের গায়ে  কিছু জলছবি    আজও যেন
রূপকথা,  আর মনখারাপ তাই মাঠ জুড়ে,,
কাঁধের কাছে গোপন চিরকুট ফিসফিস করে
সময়ের স্রোতে ভেসে,    নতজানু হয়ে
বেঁচে আছে তোমার সকল দহন... তবু তুমি
আজকাল ভালো আছ,  আসলে অভ্যেস বলে
কিছু হয় না পাল্টে ফেলাই জীবন    ... তাই তোমায়
নিয়ে গল্পেরা ফিরে ফিরে আসে বারংবার....,            

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯

সুবর্ণা (৪৭)

----------------------------

ঘোড়ার দৌড় চেয়ে আরও দ্রুত এগিয়ে মৃত্যু ,
. পায়ের পাতায়... সহস্র পথের ক্ষত আঁকা  থাকছে ,
বাতাস   রোমকূপে  সমস্ত কথকতা পাঠিয়ে রাখে ফুরিয়ে
যাবার  অনেক আগে থেকে  , রাতপাখির ডানায় . বহু যতি চিহ্ন এঁকে যায়
তোমার রাত জাগা গল্পেরা ,,,
তুমি গোপনে আঙ্গুল  ছুঁইয়েছ সে সব চিহ্নে ,
তারপর হেঁটেছ চেনা তরঙ্গপথে ,,
আঙুলে জড়ানো চাঁদের আলোয় খুব নিবিড় আমার মন্দবাসা ,
,  ভাঙা কাচ বেয়ে বিছিয়ে যায় আমাদের তাসের  ঘরে ..
আজকাল দীর্ঘ কোনো বটের ছায়ার মত
তোমায় দেখি আর  ঝড়  থেমে যায়  ,,
   পাড় বদলান নদীর মত কখনও আবার চেনা অচেনা
ছায়া  নিয়মের চৌহদ্দির ভেতর .....তখন সে তোমার অহংকার ,,
কোনো এক দিগন্ত শেষ প্রান্তিক সুড়ঙ্গে  কিছু
প্রতিলিপি রাখা থাকে হওয়ার হাতে ধরে ,
দিগন্তের শেষে আলো নিভে যাবে একদিন তুমি
,, স্মৃতি রা সব সময় তাই খুব
একলা ,, সুবর্ণা সেটুকু তুমিও মেনে নেবে একদিন ।
........সুবর্ণা প্রিয় মন ।

বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯

বৃষ্টির সাথে

-------------------------------- 

কাটাকুটি খেলায় কেটে যায়   সব কালবৈশাখী
বেলা... যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাতে জমি
ভিজবে না সে কথা মন জানে... আরো কিছু
জন্মান্তরীণ তৃষ্ণা    জমি জুড়ে থেকে গেছে, হয়তো-বা
থেকেও যাবে,   
হাওয়া বদল কেবল মন খারাপের অভ্যাসকে
ভুলে থাকা, দক্ষিণের জানলায় কখনো সামান্য ঝাপটা
বলে দেয় বুকের ভেতরে সবটুকু বাস্প ফুরিয়ে
যেতে নেই, তাহলে উপকূল জুড়ে পড়ে থাকে
মৃত সভ্যতার শিলালিপি,  
উপন্যাসের শেষের কিছু পাতা জুড়ে কিছুটা
বেঁচে থাকা রেখে যেতে বড় সাধ...
বাকিটা নিয়মিত রোদ্দুরে হাঁফধরা কোনো
চলন্ত বাসের হাতলে ঝুলতে ঝুলতে পথ
পার হওয়াই বিধাতার লিপি,
জমি জুড়ে প্রয়োজনের বেশি শেকড় জাল
ছড়ানোছিটানো  এ বৃষ্টি পারেনা সামান্য সবুজ
আনতে সেখানে, রোজ নিয়ম করে কিছুটা
ভেজা হাওয়া মুঠো ছুড়ে দেয় মেঘ আমার দিকে,,
সারাদিন
কোনো পেশাদার প্রহরীর মত   তৃতীয়চক্ষুর 
চলাচলকে ফাঁকি দিয়ে খুঁজতে থাকি অবিকল
বেঁচে থাকা ,
কাটাকুটি খেলায় মেতে থাকা  এমনই কোনো
তপ্ত বৈশাখী দিনে মেঘ এসে বলবে আমি
আর নাই বা ফিরলাম এসেছি যখন এই
আকাশেই থেকে যেতে চাই,  জমি
তুমি সবুজ বুনতে পারো আমার সাথে
তোমাকে ভেজাতে আমারও জন্মান্তরএর
সাধ.....,,  মন জানে বাকিটা নিয়মিত আয়োজন,,                 

সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯

খোঁজ(৭)

---------------------------------- 

একটা করে দিন চলে যায় তোর আশায় আশায়,
হাজার মানুষের   ভিড়ে  এ শহরে  হাঁপিয়ে ওঠে
ট্রামের তলায় পিশে যায় নিদেন দামে তোর প্রেমিক  
হওয়ার সাধ,
একটা করে অনুভূতি ঘুমিয়ে পড়ে তোর অপেক্ষায়,
হাজার বছররের  এই শহরের পুরনো  কবরের বুকে,
নোনা ইঁটের দেয়াল  ভুলে গেছে  তুই কবে
ভালবেসে আলগোছে হাত রেখছিলি তার হাতে,
পাঁচিল জানে কার্নিশে র গায়ে নাম না জানা ফুলের
আবদার, শুধু ভুলে যায় মিশে যাওয়া এ শহররের
ক্লান্ত প্রেমিক,   
মুঠোফোন বলে যায় তোর আমার পথ
এ শহরে কেবল সমান্তরাল,  মাঝরাতে
রাতপাখির একাকিত্বে  মিশে যায় তোর আমার
নিশ্বাস,
সুজন আমি আর ফিরতে চাই না এ শহরের ভিড়ে
আমি আর চাই না এই ভিড়ে একলা হতে,
এবার যে দিন আসবো তোর কাছে  সে দিন
আমাদের  এ শহরে ভিষণ রকম নির্জনতায় গোপোন হবে, 
এবার যখন ফিরবো আমি সে দিন তুই আমার  রঙে,
আকাশ জুড়ে বৃষ্টি শুধু ইচ্ছেমতো,
  একটা করে দিন চলে যায় তোমার আশায় ,
এ শহররে তোর মত প্রেমিকরা সব ভীষণ একা,
এ শহরে আমার কথা বলে না কেউ.....,,            

                  

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯

প্রেমের উপত্যকা


এ শহরে বহু শতাব্দি কোনো বৃষ্টি হয় না
কোনো এক অহল্যার অভিশাপে তপ্ত
বীষে  এ শহরে পুড়ছে,, সবার শোক ভীষন রকমের
আলাদা অথচ তৃষ্ণায় বুকফাটা ছটফটানি
একরকম,  বাসস্ট্যান্ডে  দাঁড়ানো লোকটাকে
বেশ সবুজ  ভেজা মনে হল ইচ্ছে করলো
আবহাওয়ায় খবরটা তাহলে ইনিই হয়তো
ঠিকঠাক দিতে পারবে,
ওহে মশাই আপনি যে এই অভিশপ্ত শহরে
এমন কাক ভেজা হলেন তা বৃষ্টি পেলেন কেমন
করে,  উনি হেসে বললেন আমি প্রেমের দেশে
থাকি প্রেমের বৃষ্টি আমায় এমন করে  সবুজ
রঙে ভিজিয়ে রাখে..... এই এই দেখ আমি
আমার কবিতার খাতায় কেবল প্রেমের কবিতা
লিখি, আর গান সেও কেবল প্রেমের গান গুনগুনিয়ে
থাকি, আমার নগরে একবেলা খাবার না খেয়েও
থেকে যাবে সবাই অথচ প্রেম বিনে সেখানে এক মুহুর্ত
অচল সবাই,   
আমি অবাক হয়ে বাকরুদ্ধ হলাম... মন ভাবছে
এ কোন পাগল এই খরার দেশে  এমন প্রেমের জোয়ার
কোথায় হে...  আর এমন কোনো নগর কোথায়
কোনো সভ্যতায় আছে সেও তো অজানা,,
  আমি যে কয়েকশো শতাব্দী থেকে
বয়ে চলেছি কত নগরের প্রান্তে প্রান্তে কই একমুঠো
প্রেমের হদিস পেলাম কই পেলাম না তো তেমন
কোনো কাব্যিক নগরের ঠিকানা ..,!
আমার ভাবনায় নাড়া দিয়ে সে আবার শুরু করলো
মশাই আমার নগরে সবাই প্রেমিক সে আপনি
ঝাঁকামুটেই বলুন আর রিক্সাওয়ালাই বলুন
আর কবিই বলুন,
আবার সে নবীন কিশোরী কিংবা প্রৌঢ়া..
সবাই সেখানে রোজ দুপুর শেষে বৃষ্টি মাখে
সারা শরীরে,  সব প্রেম সেখানে হাতে হাত রেখে
জোতস্নায় গেয়ে বেড়ায়  "" চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে
উছলে পড়ে আলো,  ও রজনী গন্ধা তোমার  গন্ধ সুধা ঢালো,""
রাতের ক্লান্তিতে সকলে মিঠে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে
চলে যায় ঘুমের দেশে, প্রেমের দেশে সব দুঃখ, শোক
জরা,  দীনতা কে ভালবাসায় প্রেমের আকাশ
আগলে রাখে.....
আমার চোখের কিনারে কখন যেন লোভ
ঝিলিক দিয়েছিল তা সেই সবুজ ভেজা
মানুষটার চোখ এড়ায়নি... আমায় বলল
যাবে আমার সাথে... তোমার তৃষ্ণা মিটবে
এ কথা জোর করে বলতেই পারি, হয়তোবা
তোমার  সেখান থেকে  ফিরতে ইচ্ছে নাই হতে

পারে...  যাবে আমার সাথে বৃষ্টি ভেজা দুপুর
জুড়ে নিজেকে সবুজে মুড়তে...
আমি পলকহীন চোখে  আমার শহরের
কর্কশ প্রেমহীন পিছুটান খুঁজছিলাম,
মনে মনে বললাম বলে দিই হ্যাঁ আমায় নিয়ে চলুন
সেই অবাক দেশে,, ....... তার পর আর কখনো
খুঁজে পাইনি সেই সবুজ ভেজা লোকটাকে,
আমি অপেক্ষায় থাকি রোজ বাসস্ট্যান্ডে,
বাকিটা.......

       
       
     

                        

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯

স্পন্দন

---------------------------- 
একটা ফাঁকা রাস্তা সামনে দাঁড়িয়ে আশ্চর্য ফিরে দেখা
প্রচন্ড শোরগোল হাসি কান্নার কলতান একটা
সাজানো গল্পের রাজপুত্রর কাহিনি,,     
চোখ ফেরাতে  হঠাৎ সময়  ফুরিয়ে
আমার নিঃসংগতার  অপেক্ষায়, একটা ঘন মন
খারাপে প্রহর এগিয়ে আসছে সেই রাস্তার
সামনের প্রান্ত থেকে,  মুক্ত সব অনুভুতি, যন্ত্রণার
কাতরানি মনের ভেতর মন জানে খুনসুটি
ছবি ছুঁয়ে তোর আমার আঁকিবুঁকি আর
থাকবে না, ,  বাইরে মুখোশে মুখ ঢাকা কান্না, তোর
কাছে লুকাই আমার তোকে নিয়ে সমস্ত দীনতা,
মিথ্যে করে লিখি এমন সব গোছানো কথকতার
গল্প, মন খারাপের বিকেল গুলোয় তুই বড্ড
দূরে তখন,  আমি আঙুলের ফাঁকে সময়
বুনতে থাকি তোর কাছে যাওয়ার জন্য,
সেই কবে থেকে আমার  সম্বিতে তুই
সে কথা  এখন কোনো উপন্যাসিক কোনো
ভুমিকা,
আঙুলের  করে তুই দূরে যাবার সময় এগিয়ে ...
ঘরের ভেতর চুনসুরকির আজ মন
ভাল নেই দেওয়াল জুড়ে অগোছালো হাতের
আঁকিবুঁকির বিস্তার দাগ,  সব যেন তোর
বেড়ে ওঠা মুহুর্তের কোলাজ আর সমস্ত
স্পন্দনের অনুভব,    কেমন
করে আগলে রাখিস আমায় তোর সাথে,
আর কখনো আসবি কিরে দৌড়ে
কাছে.... এবার তুই বড় হবি আকাশ ছোয়া
শৌর্য হবে  সময় হয়ে এগিয়ে যাবি,
আমিও রবো তোর সাথে মনের ঘরে সব সময়,
যখন তুই ক্লান্ত হয়ে  বলবি মনে... থাকতে
যদি আমার কাছে...  ওমনি আমি  চুপটি করে
তোর মাথায় রাখব হাত..
আমি চাই তুই ভাল থাক....

বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৯

সুবর্ণা(৪৬)

আমার শহরে একটাও আশ্রয় নেই যেখানে
হৃদয় রাখা যায় নির্ভাবনায় , এক পসলা
বৃস্টি সেটুকুও নেই  ,নেই একটা পথ
যেখানে প্রেমিক তার প্রেমের হাতে হাত রেখে
দু পা একসাথে হাঁটতে পারে ,

এস সুবর্ণা নগ্ন নির্জন রাতে   কিছুটা ওম পেতে রাখি .
সহস্রভাষায় নামহীন সমাধিতে ছায়া চিনতে পারবে আমাদের
কোনো অতীত,
জলের কাঁপনে ভেসে যায় সাধের  ঘুম, এপিটাফ জুড়ে
আমাদের ইতিহাসের ত্রিমাত্রিক সঙ্গমে আচ্ছন্ন  সাজানো ইঁটের স্তুপ ,,
টুকরো টুকরো আদর রাখা   ভেসে যাওয়া অক্ষরে
          সে সব হওয়ার  প্লাবন ভাগ করে নেয় রোজ রোজ ,

প্রতিটা নিশ্বাস হয়তো বা.. ফিরিয়ে নেওয়া স্রোত
বার বার একই ভুল,  ভুলে ভরা প্রত্যাশিত  দিনের মত ,
মৃত শরীরের তোষকের নীচে ছেঁড়া জামাকাপড় লুকিয়ে রাখি,
নিজেই মাথার ভেতর বটের ঝুড়ি নামছে বুঝি ,

পারদের স্রোত গড়িয়ে চলে  অসহায়  সব দৃশ্য গুলো যেন
জ্যোৎস্নায় চিবুক ডুবিয়ে ভাবতে থাকে ....
কৃষ্ণবর্ণ রাতে তুমি উড়ে এসেছিলে
তীব্র ঘন্টাধ্বনির সাথে ,আমিও পূজার ছলে তোমার
কাছে হৃদয় খুলে রেখেছিলাম ...
আজ যখন দেখি এ শহর ছাতি ফাটা তৃষ্ণায় ছটফট
করছে , বুঝি আমার শহর ভীষন রকম দারিদ্রতা ভুগছে ।
এখানে সব ভালোবাসা নামকরণ এর
নামে অধিকার খুঁজতে ব্যস্ত , সব অশ্রয় ক্ষনিকের ।

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯

সুবর্না(৪৫)

,
শূন্যতা   কেন বৃত্ত  ভরে জানি না সুবর্না ...
ক্ষত মেলে  যায় কেন উৎসবের ডাকের সাজে !
দুপুরের বিছানায় ক্লান্ত  বাতাস  কেন ঘুরে বেড়ায়
চাদরের কোল ঘেঁষে ,
ঘামের গন্ধ থেকে নকশা আঁকা  পাহাড়ী  পথ
অচেনা ভাষার আর্তনাদ করে কেনই বা ,
.  .  শুকনো  জিভে আটকে যায় বেঁচে থাকার যন্ত্রনা ,
.  সাদা কালো মেঘ যেন দলছুট ইচ্ছা অস্থির এলোমেলো ,

খোঁপা র বাঁধনে বাসি কিছু ফুলের শুভেচ্ছা

ঋতু বিনিময়  করে যায় নিয়ম মেনে  ,, আমাদের স্বপ্নে

বৃষ্টি আসার কথা ছিল  কথা ছিল সরলপত্রে
ভেজিয়ে ফেলব না পাওয়ার সব পাণ্ডুলিপি ,
ভীষণ বৃষ্টিদিন আজ... চিলেকোঠার ছাদে
ঝুলিয়ে রাখা  বাটিকে ওড়না এখন একা  .. আমরা একসাথে
রং ভরেছি ফেলে আসা কোনো স্রোতে ,
সুতোয় বাঁধা  ইচ্ছাগুলো আজকাল বেঁধে রাখা কোনো
বুড়ো বটের কোমর বন্ধনে ,
... সন্ধ্যের মুখোমুখি অগুনতি স্থবিরতা চরাচর জুড়ে রঙ এঁকে চলেছে।
লাল হলুদের সাথে মিশে যাচ্ছে নিঃশব্দ বৃষ্টিবিন্দু।
কবেকার ফেলে আসা হারানো অতীত আজও
অধিকার বোধে আঁকড়ে ধরছে রাজরানীর ঘুমন্ত শরীর ,
রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে পরজন্মের উত্তরীয়ে  মুড়ে নিচ্ছি  নিশ্বাস ,
পাতাদের গায়ে অভিকর্ষ লেগে আছে  চেয়ে দেখো সুবর্না
ছোটো ছোটো শ্রুতি, প্রতিশ্রুতি
বৃষ্টি ও অধিবাস সব কিছু স্পষ্ট ,

.  .   .
নৌকো, ঘোড়া, গজ, বোড়ে আর
ডানা ও চোখের পাতায় জড়সড় ক্ষীণ স্রোত

আমার দু-চোখ বেয়ে সন্ধ্যা  আর
কপালে একফালি চাঁদ উঠেছে ,
সুবর্না আমি বাঁচতে চাই তোমার ভেতর কোনো
গর্ভগৃহের এক খন্ড শিলার মত ....
সুবর্না প্রিয় ছিন্নপত্র ,,,,

সুবর্না(৪৫)

------------------------–-

শূন্যতা   কেন বৃত্ত  ভরে জানি না সুবর্না ...
ক্ষত মেলে  যায় কেন উৎসবের ডাকের সাজে !
দুপুরের বিছানায় ক্লান্ত  বাতাস  কেন ঘুরে বেড়ায়
চাদরের কোল ঘেঁষে ,
ঘামের গন্ধ থেকে নকশা আঁকা  পাহাড়ী  পথ
অচেনা ভাষার আর্তনাদ করে কেনই বা ,
.  .  শুকনো  জিভে আটকে যায় বেঁচে থাকার যন্ত্রনা ,
.  সাদা কালো মেঘ যেন দলছুট ইচ্ছা অস্থির এলোমেলো ,

খোঁপা র বাঁধনে বাসি কিছু ফুলের শুভেচ্ছা

ঋতু বিনিময়  করে যায় নিয়ম মেনে  ,, আমাদের স্বপ্নে

বৃষ্টি আসার কথা ছিল  কথা ছিল সরলপত্রে
ভেজিয়ে ফেলব না পাওয়ার সব পাণ্ডুলিপি ,
ভীষণ বৃষ্টিদিন আজ... চিলেকোঠার ছাদে
ঝুলিয়ে রাখা  বাটিকে ওড়না এখন একা  .. আমরা একসাথে
রং ভরেছি ফেলে আসা কোনো স্রোতে ,
সুতোয় বাঁধা  ইচ্ছাগুলো আজকাল বেঁধে রাখা কোনো
বুড়ো বটের কোমর বন্ধনে ,
... সন্ধ্যের মুখোমুখি অগুনতি স্থবিরতা চরাচর জুড়ে রঙ এঁকে চলেছে।
লাল হলুদের সাথে মিশে যাচ্ছে নিঃশব্দ বৃষ্টিবিন্দু।
কবেকার ফেলে আসা হারানো অতীত আজও
অধিকার বোধে আঁকড়ে ধরছে রাজরানীর ঘুমন্ত শরীর ,
রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে পরজন্মের উত্তরীয়ে  মুড়ে নিচ্ছি  নিশ্বাস ,
পাতাদের গায়ে অভিকর্ষ লেগে আছে  চেয়ে দেখো সুবর্না
ছোটো ছোটো শ্রুতি, প্রতিশ্রুতি
বৃষ্টি ও অধিবাস সব কিছু স্পষ্ট ,

.  .   .
নৌকো, ঘোড়া, গজ, বোড়ে আর
ডানা ও চোখের পাতায় জড়সড় ক্ষীণ স্রোত

আমার দু-চোখ বেয়ে সন্ধ্যা  আর
কপালে একফালি চাঁদ উঠেছে ,
সুবর্না আমি বাঁচতে চাই তোমার ভেতর কোনো
গর্ভগৃহের এক খন্ড শিলার মত ....
সুবর্না প্রিয় ছিন্নপত্র ,,,,

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯

কাঁচ পোকা

---------------------------- 

কাঁচ পোকা তুই আসিস না  আর আমার ভেতোর
কাঁচ পোকা আমি  সাজব না আর তোর সাজে,
কাঁচ পোকা তুই কেন এলি আমার ঘরে মনের পরে
হৃদনগরে?  বেশ তো ছিলাম অন্ধকারে ঘুমের ঘোরে ,
কেন রে তুই বিচ্ছিরি এই আমিটাকে রুপনগর
সাজিয়ে দিলি?  আমার মত ছায়ার পরে নিজের
কায়া ভরলি কেন,  কাঁচ পোকা তুই আসিস না
আর ,
ফিরতি হাওয়ায় এলোমেলো অগোছালো, আমার
ঘরে, এমন করে মোহের কারন দেওয়াল জুড়ে থরে থরে, 
কতই মোহ আসে যায়,  তুই কি করে আমার
ভেতোর বাঁধলি বাসা আমার সকল মন্দবাসা,
কাঁচ পোকা তুই বিচ্ছিরি আজ কাঁদাস
আমায় হাসাস আমায় ,,  যা চলে   যা এবার
রে তুই শুন্য করে হৃদয়পুর,,,
     
   

রবিবার, ২ জুন, ২০১৯

হলুদ পাখি

-------------------------

ফিরে যাও সুবর্না ফিরে যাও তোমার
ইচ্ছার ঘরে শব্দদের বুনন পুরু করে বেড়া
বেঁধে দাও,
আরো একবার মৃতের মত কবরে চিরনিদ্রায়
থাকব.. কথা দিচ্ছি আমার মন্দবাসার সকল
অহংকার খুলে রাখব,  সাদা ফুল  মাড়িয়ে সময়
হয়ে এগিয়ে গেছ আমায় তথাস্তু বলে..
খেলার ছলে ঈশ্বর গড়ে তোলা তোমার
স্বভাব,  একা হতে হতে একদিন ছায়াপথ
হয়ে মশে যাব... আর না হয় নাইবা হল
অবশেষের কোন নতুন কাহিনি, বদলে গেছ
অনেক বেশি   , সেই মুখ হারিয়ে গেছে কবেই যেন
কোনো ঘন সামিয়ানার পেছনে ,  চেয়েছিলাম
চিনে নাও স্বপ্ন কেমন করে মাটি স্পর্শ করে...
কাউকে বোঝাতে পারিনি.... তোমার কাছেও
হেরে গেলাম,  চিতার আগুন থাকুক এই বুকে
কোনো কবির প্রিয় কিছু মুহুর্তে ছিলাম, 
এক পথে  হেঁটে কস্তুরিঘ্রাণ মেখেছি, পারিজাতের
আঙিনায়, সেসব ছবি সময়ের চালচিত্র,
ভালোবাসার  মুল্য যেন আরো মুল্যবান হয়ে গেছে... দু মুঠো
চালে ডালে আমার সংসার সে ঘরে নুন ফুরোয়
পান্তা জোটে কম... তুমি ফিরে যাও...
ফিরে যেতে পার পুরোনো ঘরে  চেনা আভিজাত্যে,
আমার দীনতা তোমার কাছে আজ মাথা নিচু করে
মুখ লুকিয়েছে ,  পথের ধারে চেনা রুপে অচেনা হয়ে
থেকে যেতে পারি সব অভিমান    ফেলে, তার  দ্বিধারা
যে দিন উত্তর খুঁজে পাবে সেদিন এস আমি সেখানেই
থাকব পথের বাঁকে সেদিনও।    
।     
                 
         

সুবর্না(৪৪)

------------------------------

কোন একদিন ফিরবো  রিমঝিম বৃষ্টির
মত হঠাৎ করে,  তোমার উঠোন জুড়ে
ছাড়িয়ে থাকা  তৃষ্ণারা  মেতে উঠবে
উৎসবে,
ফেরাতে পারবেনা কোনো আছিলায়, বৃত্তর
বাইরে জীবন  সে কেবল তোমার
সিকি আদুলি তোমার বুক পকেটে কিছু
অভিমানী খসড়া নিয়ে বন্দী, 
আমরা বলা যতটা সহজ মিশে যাওয়া
সহজ নয়, কারন সেই নিয়মের বৃত্তে   জীবন
নয় , যেদিন শুরু হয়েছে একটুকরো আকাশের
খোঁজ    সেদিনও কতটা ছিল নিয়মত বৃত্ত সম্পুর্ন,
হয়তো এতটুকুই ছিল বাঁচার বরাদ্দে, তাই খুব
সহজে একঘেয়ে  পথ চলার সমস্ত  বর্ননা আজ
কাল.... খানিকটা প্যেচপ্যেচে গরমের দমবন্ধ
কোনো ঘর,  হ্যাঁ একটা ঘর আর হল না তোমার
জমিতে, 
তবু এক অচেনা দুপুরে আলস্যে তোমার
কোনো কবিতা তোমায় যখন আঁকড়ে
বলবে আমি  আছি আমি থাকব তোমার
ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে... সে দিন
আমি ফিরবো  রিমঝিম    বৃষ্টি হয়ে,
দেখে  যাব ভাল আছ, তোমার কবিতাগুলো
সবুজ হলুদ তোমার কাঠামো গড়ে চলেছ
আমি ফিরব মনে মনে গোপনে বলব তোমায়
আজও ভালবাসি সুবর্ণা... তোমায় ভালবাসতে
আর যে আমার তোমাকেও লাগে না,
এমন করে ভাবলে ভীষণ রকম কেঁপে
উঠি, আমার ধুম জ্বর তখন  সমস্ত ছেয়ে গেছে,,
তোমায় ছেড়ে থাকি এ আমার সাধ্যের বাইরে,
তবু আর একঘেয়ে  বর্ননায় চাইনা  কোনো
অপাংতেয় যাপন চিত্র,,।
সুবর্না প্রিয়  মনখারাপের বিকেল,