এ শহরে বহু শতাব্দি কোনো বৃষ্টি হয় না
কোনো এক অহল্যার অভিশাপে তপ্ত
বীষে এ শহরে পুড়ছে,, সবার শোক ভীষন রকমের
আলাদা অথচ তৃষ্ণায় বুকফাটা ছটফটানি
একরকম, বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো লোকটাকে
বেশ সবুজ ভেজা মনে হল ইচ্ছে করলো
আবহাওয়ায় খবরটা তাহলে ইনিই হয়তো
ঠিকঠাক দিতে পারবে,
ওহে মশাই আপনি যে এই অভিশপ্ত শহরে
এমন কাক ভেজা হলেন তা বৃষ্টি পেলেন কেমন
করে, উনি হেসে বললেন আমি প্রেমের দেশে
থাকি প্রেমের বৃষ্টি আমায় এমন করে সবুজ
রঙে ভিজিয়ে রাখে..... এই এই দেখ আমি
আমার কবিতার খাতায় কেবল প্রেমের কবিতা
লিখি, আর গান সেও কেবল প্রেমের গান গুনগুনিয়ে
থাকি, আমার নগরে একবেলা খাবার না খেয়েও
থেকে যাবে সবাই অথচ প্রেম বিনে সেখানে এক মুহুর্ত
অচল সবাই,
আমি অবাক হয়ে বাকরুদ্ধ হলাম... মন ভাবছে
এ কোন পাগল এই খরার দেশে এমন প্রেমের জোয়ার
কোথায় হে... আর এমন কোনো নগর কোথায়
কোনো সভ্যতায় আছে সেও তো অজানা,,
আমি যে কয়েকশো শতাব্দী থেকে
বয়ে চলেছি কত নগরের প্রান্তে প্রান্তে কই একমুঠো
প্রেমের হদিস পেলাম কই পেলাম না তো তেমন
কোনো কাব্যিক নগরের ঠিকানা ..,!
আমার ভাবনায় নাড়া দিয়ে সে আবার শুরু করলো
মশাই আমার নগরে সবাই প্রেমিক সে আপনি
ঝাঁকামুটেই বলুন আর রিক্সাওয়ালাই বলুন
আর কবিই বলুন,
আবার সে নবীন কিশোরী কিংবা প্রৌঢ়া..
সবাই সেখানে রোজ দুপুর শেষে বৃষ্টি মাখে
সারা শরীরে, সব প্রেম সেখানে হাতে হাত রেখে
জোতস্নায় গেয়ে বেড়ায় "" চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে
উছলে পড়ে আলো, ও রজনী গন্ধা তোমার গন্ধ সুধা ঢালো,""
রাতের ক্লান্তিতে সকলে মিঠে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে
চলে যায় ঘুমের দেশে, প্রেমের দেশে সব দুঃখ, শোক
জরা, দীনতা কে ভালবাসায় প্রেমের আকাশ
আগলে রাখে.....
আমার চোখের কিনারে কখন যেন লোভ
ঝিলিক দিয়েছিল তা সেই সবুজ ভেজা
মানুষটার চোখ এড়ায়নি... আমায় বলল
যাবে আমার সাথে... তোমার তৃষ্ণা মিটবে
এ কথা জোর করে বলতেই পারি, হয়তোবা
তোমার সেখান থেকে ফিরতে ইচ্ছে নাই হতে
পারে... যাবে আমার সাথে বৃষ্টি ভেজা দুপুর
জুড়ে নিজেকে সবুজে মুড়তে...
আমি পলকহীন চোখে আমার শহরের
কর্কশ প্রেমহীন পিছুটান খুঁজছিলাম,
মনে মনে বললাম বলে দিই হ্যাঁ আমায় নিয়ে চলুন
সেই অবাক দেশে,, ....... তার পর আর কখনো
খুঁজে পাইনি সেই সবুজ ভেজা লোকটাকে,
আমি অপেক্ষায় থাকি রোজ বাসস্ট্যান্ডে,
বাকিটা.......
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন