জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২
মন কথা (১)
সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২
ঘর বাঁধতে শেখা
সময়ের স্বাদকারক বুঝে ফেলে সব রকম কথাদের
একলা কোনো বিরহী অভিমান বোঝে ... সামান্যই হোক তবু থাকুক নিষ্ঠার স্পর্শ,
এভাবেই বয়স যখন ষোলো কিংবা বয়স যখন পরিযায়ী পাখির মত চেনা কালো পরীর হ্রদ ছুঁয়ে দূর কোনো সফরের পথে
শহরের সোয়েটারের সাথে ওম তখনও প্রয়োজন ঠিক প্রিয়জনের মতই ।
সময়ের বোঝা সময়ই পিঠে বেঁধে নেয়
শিরায় প্রবাহিত তরলে নানান ক্ষিদে প্রথম বসন্তে ও শেষ বসন্তে থেকেই যায় শুধু সে ক্ষিদের ধরন পালটে দেয় স্থান, কাল।
প্রতিক্ষা কে মুক্তি দিতে শিখলেই পর মুহুর্ত নতুন সূর্যদয় দেখে জীবন,
আর সময়কে স্বাগতম জানালেই একটা আবিষ্কারের সামনে দাঁড়ানো যায় ।
তখন ভালবাসা মানে মুক্তি লেখা আকাশ
তখন চায়ের কাপের ওমে নিজেকে নিবিড় করে চাওয়া একটা নিজস্ব অনুভূতি যেন চিরন্তন।
তখন পাখিরা রুপকথার গান গাওয়া শিখে নেয়।
আসলে যে টুকু যেমন সেটুকু অপরিবর্তিত রেখে নিতে জানা শিখে নিতে হয় নিজস্ব তথাগতর কাছ থেকে সকাল বেলাতেই।
দিনের প্রহরে প্রহরে শব্দ জব্দে জন্ম মৃত্যু সবই লুকোনো থাকে... লুকোনো থাকে যুদ্ধ হার জিত
তবুও এ শহর এভাবে দারুন বেঁচে থাকতে শিখে নেয় ,এ শহর বাঁচতে চাওয়াকে শুভেচ্ছা জানায় স্বার্থহীন হয়ে।
এ শহর জিশুর ক্রুসবিদ্ধ পট সামনে রেখেও মৃত্যু না বেঁচে থাকার উৎসব পালন করে।
সই(62)
রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২
জন্ম ও মৃত্যু
উপসংহারে
তোমার প্রশ্নের জন্যে
রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
মা
শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
সুখি অহংকার
বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
তফাৎ
বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২
আরশি নগরের পথে
পথ
ক্রমশ এগিয়ে যাবে সময়
শিখর চূড়ায় দাঁড়াতে হবে একদিন
ভালো মন্দের বিচার মন ও মস্তিষ্ক ছুঁতে পারবে না তখন।
সূর্যের চলে যাওয়ায় রাত আসবে
অন্ধকারে খোলস খুলে মন ফিরে যেতে চাইবে
একান্ত নাভিশ্বাস সাক্ষী রেখে পুরোনো শৈশবের সকালে
খুঁজে ফিরতে চাইবে সময়ের হাত ধরে হাঁটা সেই চৌরাস্তায় হেসে ওঠা ছেলে বেলার অবয়বটা ,
সময়ের আগমনী গান আর
বিসর্জন জন্ম নাভি বিন্দুতে জমানো থাকবে শেষ পর্যন্ত।
একটা বিন্দু ছুঁয়ে মানুষ জীবন প্রদক্ষিণ করে
যেখানে সবকিছু আলগা হয়েও মুক্তির একটা নির্দিষ্ট তারিখেই লেখা থাকে,,
জীবনের আলনায় ঝোলানো হাজারো বায়নাবিলাসী ইচ্ছা পাট খোলা ভাঁজ ভাঙা থাকবেই।
মন বাড়ির বাইরে সাজানো বাগান ,সূর্যর সাত রঙ মেখে ফুলেরা আসে আবার মিলিয়ে যায়,
মুহূর্ত পাহাড়ের উচ্চতা ছাপিয়ে লিখে রাখে দিনলিপি
প্রতিটা ভেঙে যাওয়ায় হাওয়ায় ভরি হয়
প্রতিবার ইঁটের পিঠে ইঁট সাজিয়ে
ইমারত আকাশকে জানায় অস্তিত্বের ইমান ঠুনকো নয় ।
তাই তারিখের আগে জীবনফর্মা শেষে হয় না কখনো।
বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
অস্তিত্ব
অস্বস্তি
জন্ম ও মৃত্যু আসলে একটা সময় এর শুরুয়াত কিংবা শেষ,
এখানে কেউ স্বপ্ন দেখা শেখে না, স্বপ্নর ইঁট বানানো শেখে,
শেখে মাটি আঁকড়ে থাকার সংকল্প থেকে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পরমত্ব।
জন্ম মানে কিছু নিশ্বাসের হিসেবে মেপে নেওয়া ক্লোরোফিল
আর সোনালী কাব্য জড়িয়ে পাথরের ওপর নকশা গড়ে নেওয়াও হতেই পারে।
তবু জন্মের দায়িত্বের ভেতোর মায়া, মোহ, ভালবাসা, ঘৃণা, প্রশ্রয় , আশ্রয় , দঁড়িয়ে থাকে ঠিক নেমেসিস এর মতোই,
আর জীবন যতিচিহ্ন গুলো বড় গোলমেলে ... এখানে উত্তরের মতো প্রশ্ন আর প্রশ্নের মতোই সব উত্তরেরা,
সময়ের ঘরে ক্ষত আর ক্ষতি লাভ ও লাভবান একইসাথে সহবাসী... যেন কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ
পোয়াতি মেঘের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা জলের ফোঁটাকেও বন্যার অপবাদ মেনে নিতে হয় আঁতুড়ঘর পেরিয়ে।
অন্ধকার সময়ও চোখ খুলে রাখে এক ছটাক আলোর খোঁজে,
আর মুহুর্ত মুঠো থেকে কিভাবে যেন নিরুদ্দেশে হারিয়ে যায়।
একটা কোপাই নদী হাতছানি দেয় নিষ্ঠাবান একা হবার
একা বাউলের একতারায় প্রেম
গেয়ে ওঠে "আমি আকাশে রোদের দেশে ভেসে ভেসে বেড়াই মেঘের পাহাড় চড়ো তুমি "।
জন্ম ঘর থেকে মৃত্যুর ঘর আসলে একটা সময়- বন্ধনী আর পথে বারংবার কোনো না কোনো পথিকের যাওয়া আসা,
আমরা সকলেই সময়ের ঘরে এক একটা মুহুর্ত -গুচ্ছ মাত্র,
জন্ম মৃত্যু আর অপেক্ষা একটা বিলীন হয়ে যাওয়া সময়ের।
বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২
সফর
সময় ভুল নয় নয়, ঈশ্বর কিংবা প্রেম কোনটা ভুল কে বলবে!
হাতের ওপর হাতের রেখা মিশিয়ে একটা প্রসস্থ পথ...
সেও ভুল নয়।
সমস্ত প্রত্যাবর্তনের গহীনে আসলে একটা না বলা গল্প থাকে সময়ের ফাটলে মুখ গুঁজে, সে গল্প বা গল্পের চরিত্র কখনো বা বরফ-যুগ হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস হয়ে যায়।
এ সফরে কেউ কারো অবসর কিংবা ভাবনা চুরি করেনা অকারণে,
আসলে...
কিছু প্রশ্রয় জীবন শৈলীতে অজান্তেই অভ্যাস হয়ে যায়,
আর শহর, ঘর, পথ সেই অভ্যেসে সামিল হয়ে যায় আজানা নিয়ন্ত্রণেই।
এরপর কেউ কেউ হয়তো সহজ ভাবে নিজস্ব শিরদাঁড়া বিক্রি করবে বলে মোমের আগুনে মৃত্যু কিনতে চায়।
তবে মৃত্যুর সামনে গিয়ে দাড়ানো ততটা সহজ নয়... মৃত্যু পথ কেবলই খেলনাবাটির সফরও নয়।
জীবন কে ভালবেসে বহু বেঁচে থাকা গোপন কারনে নিলামে দাঁড়ায়
আর জীবনই আবার অবাক দৃষ্টিতে সে নিলামিও দেখে,
তবে এ পৃথিবীতে আসল কলজে কোনো বাজারেই
বিক্রি হয় না কোনোকালেই. .. যাকিছু সহজলভ্য অসম্পৃক্ত তা হয়তো বাজারি চিরকাল।
পরে পাওয়া চোদ্দআনার দাম ঈশ্বর ছাড়াও একমাত্র অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা খিদেটা জানে।
তবু সোনার থালায় খিদে মেটানো রাজাও অভাব পুষে রাখে নিয়মের বাঁধনে।
আর সময় বলে আমি খেলাটার দান চেলে রেখেছি, পথ, প্রাসাদ ও মঞ্চ দুই তৈরি তুমি কেবল একটা সাজানো কাঠের কাঠামো যে কিনা ঈশ্বরত্বে পাওয়ার নেশায় মশগুল।
তোমার তাসের ঘর, তোমার জতুগৃহ, তোমার মৃত্যু জাজিম সব বুনিয়ে নিচ্ছে সময়, অথচ এই আমি শব্দটা
সময়ের এই খেলাটা কখনো বুঝতে চায় না
জীবন যে কেবল তিনপাত্তির খেলাটুকু নয়...
মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
কাহিনী
তুমি লিখছো কাহিনী, কেউ শুনছে কাহিনী,
আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা স্বপ্ন -বাড়ি
নীড় ছোটো তবু হৃদয়ের ঘরন্দা অসীম।
ঘরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তোমার সাজানো গল্প,
সে গল্পে হাতা খুন্তির সাথে সাজানো পটে প্রতিটা চরিত্র
আত্মীয়হীন।
.
জীবন কখনো নিজে থেকে স্পর্শ দেয় না
সব কিছুর মুল্য সে নিয়ে নেয় চুক্তি থেকে মুক্তি অবধি,,
কৃষ্ণ পার্থ কে তবু বলে যায় সামনে বাঁচতে চাওয়া প্রতিটা সম্পর্ক আসলে মৃত।
একটা সুতোর এপার আর ওপার... তুমিও বোধহয় একদিন ঈশ্বর হতেই চেয়েছিলে তাই,
অথচ তোমার গল্পে তুমিই শয়তান সাব্যস্ত শেষমেশ ।
.
অজানা কেউ গল্পের শেষটুকু লিখলো একদিন
সে গল্পে নাম বদলে দিলো
সে শয়তান থেকে আবার ঈশ্বর হয়ে ওঠার প্রার্থনা রাখলো
ফসল ফলাতে চাইলো প্রথম কার্তিকের ভোরের বুকে।
তবু হত্যাকারী বদলে যায়নি
তবু প্রেমের নামে প্রতারণা ফুরিয়ে গেলো না।
তবু একশ চার সপ্তাহে অক্ষত রইল সমস্ত ক্ষত আর রক্ত ক্ষরনের প্রবাহ পথ।
তুমি লিখছো কাহিনী ... কেউ শুনছে কাহিনী
আবারও মেঘেদের ঘরে ডাকাত করলো চুরি
আসমানী রঙ আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা স্বপ্ন -বাড়ি
শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২
অন্য শহর
অন্য শহর
... সই
.
ঘোড়া কিংবা ইদুর যে কোনো একটা দৌড়ে সামিল
এই শহর, কিছু নিয়মিত নিয়মে গচ্ছিত রাখা নিয়মের ভাংচুর।
আয়নার সামনে সাজিয়ে রাখা বোঝাপড়ার চালচিত্র,
অথচ কোন কোন সফরের মাঝেই আচমকা দেখা মেলে প্রাক্তন গল্পের সাথে, থমকে যায় মুহুর্ত যেন জীবন গো-স্ট্যাচুর খেলার ময়দানে,
অনুভূতির জলে কে যেন একের পর এক পাথর ছুড়ে তরংগে কাঁপুনি এঁকে দেয় তিব্রতার সাথে।
.অন্তরমহলে হাত পা ছুড়ে অধিকার জানাতে চায় কারা যেন।
অভিমানি বিকেলে সাঁঝবাতির আলোর প্রয়োজনের হিসেবকেও সময়ের প্রেম বলেই ধরে নিতে হয়,
কিন্তু প্রেমও খোলা জানলার ওপাশে একটা আকাশ খুঁজে হিসেব মিলিয়ে নিতে চায়,
তারপর কোনো এক অন্ধকার পেরোনো ভোরের উঠনে মেঘ আছড়ে পড়ে সবটুকু নিঃস্ব করে।
এ শহর জানে এমন গোপন মর্মকথা।
এ শহরের বুকে দাঁড়ানো কয়েকশো বছরের সবুজ এখন গাড় ও পাকাপোক্ত এ অভ্যেসে ।
.
মানুষ বাঁচার নিশ্বাস কুঁড়িয়ে ফেরে এই পাকাপোক্ত সবুজের কাছে,
মানুষ ভালো থাকতে যে নিয়মে নিজেকে বাঁধে একদিন আবার কোনো নতুন ভালথাকার আবেসে সেই নিয়ম ভাংচুর করে বেরিয়ে আসে ,
চেনা হয়ে যায় অচেনা,
ভুলতে চায় মন রোজকার অভ্যেস...
প্রিয়জন কখন প্রয়োজন ছাড়িয়ে বিরক্তিকর আবর্জনায় ট্রান্সফরমেশন।
মনের ঘরে এলোমেলো ভাবনা জমে... জমে ইচ্ছা রঙে আঁকা অপুর্ন হওয়া ঘরে দেওয়াল বেয়ে অঘ্রানী শিশিরের জল , আর কাঁচের বয়ামে রাখা কিছু বেঁচে থাকার সংকল্প।
এরপর একদিন
ভাগ্য মেনে গংগায় ভাসিয়ে দিতে হয় জল-আহুতি ভেবে
কে কার নীলচোখে সমুদ্র ডুব দিতো এ শহর মনে রাখেনা তারপর ,
কে নিয়মের চৌকাঠ মাড়িয়েই অনিয়মের উৎসবে মাতাল করতে শিখিয়েছিল শহর মনে রাখে না তারপর।
শুধুমাত্র প্রতিটা ভাংগতে থাকা ইমারতের আঘাত বুকে লুকিয়ে রাখে, আর ফিসফিসিয়ে বলে ভেঙে যাওয়া যে ফুরিয়ে যাওয়া নয়
বরং ভেঙে যাওয়া হলো সময়ের আগুনে একটা আহুতি যাকিনা মনে করিয়ে দেয় এই শহরের ভেতরে আরো একটা অন্য শহরকে।
শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২
দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস
বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২
একা থাকতে ইচ্ছে করছে
তোমার সাথে সব কথা হয়তো শেষ .... আমার ভেতর কেউ তবু অনর্গল আমার সাথে মুখোমুখি বকবক করে সারাক্ষণ।
ভীষণ একলা হতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছা করে আমার ভেতর আজীবনের নিস্তব্ধতা এসে ঘর বাঁধুক ,
অথচ শব্দরা প্রতিবাদ করে সে নিস্তব্ধতা গুড়ো করে দেয় নিমেষে
কিছুতেই একা হতে পারি না আমি ,
নিজের সাথে নিজে যে মুহুর্তে ভালো থাকার বন্ধনে বাঁধি... তখনই আমার ভেতর কেউ বকবক করে চলে অসম্ভব চিৎকার করে ,
ইদানিং একালা থাকতে ভালো লাগে ভিষণ অথচ একলা থাকাটা হয় না কিছুতেই।
.
আলোহীন রাস্তা ধরে হাঁটতে ভালো লাগে নিজেই নিজের হাতে হাত রেখে
একা থাকা এক অদ্ভুত নেশায় পেয়েছে... একা কোনো গন্তব্য হীন পথে এগিয়ে যাওয়া এক অ-সুখ আমাকে পেয়েছে।
কবিতার শব্দরা বন্ধনী ছেড়ে একা একা রাত জাগে..
শব্দদের দিন কাটে যেমন বাউল কাটায় প্রহর
তবুও কেন জানি আমার একা থাকা হয় না ।
.
বড় একা ও নিস্তব্ধ থাকতে ইচ্ছে করে আজকাল
চারদেয়ালের ঘরের মেঝে জুড়ে কেউ যেন অজস্র বকবকানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে ।
রেলিং ভর করে রাস্তার দিয়ে তাকিয়ে থাকা সড়কটাকে
বহুদিন... বহুরাত একলা হতে দেখিনি।
রবিঠাকুরের গান কোনো পুর্নিমার একলা রাত পেরিয়ে শুধুই শহরের ভিড়ে রিমিক্স এখন।
বহুদিন একা ফাঁকা বাসের সিটে একলা কোনো স্মৃতি কে আনমনে আকাশ দেখতে দেখিনি ।
এই পৃথিবীর এখনো কোনো একলা থাকার ঋতু আসেনি।
কারনের উৎসব , কারনের অধিকার , কারনে সম্পর্কের মাঝে হাতে হাত আর কারণের কিছু আশ্রয়ে মানুষ একলা থাকতে ভুলে গেছে এখন, কিংবা একলা থাকতে ভয় পায়।
আজকাল ভালোবাসার গলার স্বর শুধু শুনতে ইচ্ছে করে না
আজকাল আমার ভেতোর কার যেন ঠোঁটের নড়াচড়া আর বকবক অনর্গল আমাকে ঝালাপালা করে দেয়
শব্দহীন একটা পৃথিবীর দেখতে ইচ্ছে করে.... ভাল থাকার জন্য নিজের সাথে নিজে একলা থাকা, নিজের সাথে পথ চলা, নিজেকে বুঝে নেওয়া... খুব জরুরী।
তবু পারছি কই একা থাকতে
যেন কেউ অনর্গল ইদানিং আমার ভেতোর শব্দের কারখানায় হাপরে টান দিয়ে চলেছে হাতুড়ি মারছে শব্দ গড়তে।
বড় এক থাকেতে ইচ্ছা করছে ।
একেবারে নিস্তব্ধতা একা আলোহীন হয়ে নিজের ভেতোরে একা থাকতে ইচ্ছে করছে।
.
“
বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
জীবন সংলাপ
মানুষ কখনো না কখনো নিজের ভেতরের দরজাটায় গিয়ে দাঁড়ায়
দরজা খুলে দেখে কিছু অনুভূতি হয়তোবা সময়ের আলনায় পাট করে সাজানো আছে
কিংবা সম্পর্কের অনেকগুলো বন্ধ জানলা অন্ধকার ঘরের ভেতর বানানো ,
সময়ের পরতে মোড়া মানুষগুলো ঋতু পরিবর্তন মেনে চলা জানে বলেই
গ্রীষ্মের প্রখর রোদ কিংবা বরফ শীতল শীতে আশ্রয় শব্দটার তলায় দাঁড়াতে অভ্যাস করে নেয়।
বর্ষায় ভিজে যাওয়া শরীর দু চোখের অভিযোগ অভিমান লুকিয়ে ফেলে অযথা মেঘের দিকে আঙুল দেখিয়ে।
.
সময়ের আগুনে অগুনিত প্রশ্নের বিলীন যেন সব প্রশ্নেরা উত্তরহীনতার গহীনে হারানো দুয়ার মাত্র।
আসলে জীবন হলো মহাকালের ক্যানভাস
সময়ের কাছে রং ধার করে শিল্পী ছবির মতো করে একটা গল্প আঁকে ,
জীবনের কাছে তাই প্রতিটি বেঁচে থাকার অজস্র প্রশ্ন থাকে,
মানুষগুলো জীবন কাটাতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে।
দেহ শুধুমাত্র ধারক ,
আসল কেউ একজন চিরকালীন জীবন মৃত্যু মাঝে নাটকের সংলাপ লিখেছে
সে শুধু পর্দা ফেলছে আর চরিত্র, স্থান, কাল, বদলে দিতেই ব্যস্ত।
আমরাই তো শুধু কাল্পনিক অস্তিত্ব
আসলে বাস্তব হলো জীবনের গল্পগুলো কেউ আগে থেকেই লিখে রেখেছে
এক একটা মঞ্চের দরজার সামনে এক একটা গল্প,
লুকিয়ে রাখা গল্পেরাও বন্ধ মঞ্চের দরজার
পাল্লায় ধাক্কা দিয়ে খুলে আলোর সামনে দাঁড়ায়,
আসলে বন্ধ কিংবা বন্দি গল্পেরাও জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখতে চায়
জীবন সংলাপে তাদেরও যে ভুমিকা আছে সেটা চিৎকার করে পৃথিবীর কাছে জানিয়ে দিতে চায়।
মৃত্যু একটা পরিবর্তন
.
দেহের সৎকারে নাভির বিলীন হয়নি
তবু জন্মের আঁতুড়ঘর থেকে অনেকদুরে কোথাও হারিয়ে যেতে হবে সব নক্ষত্রকে একে একে।
কাগুজে পরিচয় পত্রের জন্ম লিখে রাখে পৃথিবীর ইতিহাস।
শরীরের ঘর, মনের ঘর, সামাজিক ঘর... যেন ঘিঞ্জি বসতি সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে।
সূর্য ঘুমিয়ে গেলেই নিজস্ব কুপির আলো জ্বালিয়ে জীবনকে সেঁকে নিতে হয় রাতভর,
. মানুষের মনের আকাশের অজস্র চরিত্রের মেঘ ভেসে বেড়ায়, তবু এক মুহুর্ত সময়ের গতিপথ থামে না
সময়ের রাজার চুলের রঙ ফ্যাকাসে হয় প্রতি বসন্তের আগেই,
শীত-কাঁপন এর তিব্রতাও বছরের সংখ্যা আকাশমুখি ক্রমশ।
মানুষ নিজের কবিতায় নিজেই রাজা থেকে ভিখারি সাজে রোজ নানান মঞ্চে।
সমুদ্র সফেনে হারিয়ে যায় প্রিয় মুখ, চোখের উপকূল জুড়ে
ছড়িয়ে থাকে চেনা অচেনা পায়ের চিহ্ন,
.
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ঝাঁকড়া গাছটা কি করে যেন একরকম বিস্ময়কর ক্ষমতায় ভালো থাকা শিখে নিয়েছে,
মানুষের ভিড়ে গাছটার খোঁজ স্বতন্ত্র, তার সবুজে বেঁচে থাকার কবিতা অনন্ত,
আসলে গাছ, আকাশ, মৃত্যু শব্দটা যতটা সত্যি মানে
তার থেকেও সত্যি মানে... বাঁচা মানে প্রতিটা নিশ্বাসে একটা উজ্জ্বল উজ্জাপন,
মানে মৃত্যুর একটা পরিবর্তন মাত্র।