মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

মন কথা (১)

মৃত্যুর কিনারা অবধি ছুঁয়ে থাকা সবটুকু মুহূর্তই
বোধহয় উৎসব ,
অজস্র আসা যাওয়া  ফিরে ফিরে বাতাসে
চেনা অচেনা সুবাস  ছড়ানো
তুমি , আমি ... আর আমি তুমির ঘর ,
ঘর ছেড়ে হারিয়ে গেলেই কাঁটা তারে মানচিত্র রক্তাক্ত ,
বাঁচার মানে  জীবন মঞ্চে রোজ কিছু  সংলাপ বদলে 
নাটকে ভূমিকা আর পোশাক খোলা পরায় নিপুণ হতে হতে পারদর্শী হয়ে ওঠা ।
আর শেষমেষ তুমি কতটা সফল যোদ্ধা তার ইতিহাস রেখে যাওয়া প্রজন্মের জন্য।


সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

ঘর বাঁধতে শেখা


সময়ের স্বাদকারক  বুঝে ফেলে সব রকম  কথাদের 

একলা কোনো বিরহী  অভিমান বোঝে  ...  সামান্যই  হোক তবু থাকুক নিষ্ঠার  স্পর্শ, 

এভাবেই বয়স যখন ষোলো  কিংবা বয়স যখন পরিযায়ী পাখির মত চেনা কালো পরীর হ্রদ ছুঁয়ে দূর কোনো সফরের পথে 

শহরের সোয়েটারের সাথে ওম তখনও  প্রয়োজন ঠিক  প্রিয়জনের  মতই । 


সময়ের বোঝা সময়ই পিঠে বেঁধে  নেয়

শিরায়  প্রবাহিত তরলে নানান ক্ষিদে প্রথম  বসন্তে ও শেষ  বসন্তে  থেকেই যায়  শুধু সে ক্ষিদের ধরন পালটে দেয় স্থান, কাল। 

প্রতিক্ষা কে মুক্তি  দিতে শিখলেই পর মুহুর্ত নতুন সূর্যদয় দেখে জীবন,

আর সময়কে স্বাগতম  জানালেই একটা আবিষ্কারের সামনে দাঁড়ানো যায় । 

তখন ভালবাসা  মানে মুক্তি  লেখা আকাশ 

তখন  চায়ের কাপের ওমে নিজেকে   নিবিড় করে চাওয়া একটা নিজস্ব  অনুভূতি যেন  চিরন্তন। 

তখন পাখিরা রুপকথার  গান গাওয়া শিখে নেয়।


আসলে যে টুকু  যেমন সেটুকু  অপরিবর্তিত  রেখে  নিতে জানা শিখে নিতে হয় নিজস্ব  তথাগতর কাছ থেকে সকাল বেলাতেই। 

 দিনের প্রহরে প্রহরে  শব্দ জব্দে জন্ম মৃত্যু  সবই লুকোনো থাকে... লুকোনো থাকে যুদ্ধ  হার জিত 


 তবুও এ শহর  এভাবে দারুন বেঁচে থাকতে শিখে নেয়   ,এ শহর বাঁচতে চাওয়াকে শুভেচ্ছা  জানায় স্বার্থহীন হয়ে।

এ শহর  জিশুর ক্রুসবিদ্ধ পট সামনে রেখেও মৃত্যু  না বেঁচে থাকার উৎসব  পালন করে।

সই(62)

প্রেম এর মৃত্যুর পর তাকে দাহ করতে হয় বুকের পাঁজরে আগুন দিয়ে ,
.. অথচ ওই প্রেম প্রসূত ভালোবাসা টুকু দ্রোহ আর দহনের মাঝে শেকড় ছড়িয়ে যায় অনন্ত-কালশৌচ  এর মত  ,
 এক মৃত্যু আর জন্মের দায় বয়ে বেড়ায়।
..সই

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

জন্ম ও মৃত্যু

জন্ম আর মৃত্যুর  মাঝে দাবার সাজানো ছক,  
খেলাটায় দু'পক্ষই  এক কাঠামোয় অবয়ব পায়।

কিছুটা শিখে নেওয়া কিছুটা  বোঝাপড়া,  কিছুটা তৃপ্তি, কিছুটা আফশোসে, বারংবার  আবর্তিত  গল্প।

দুই শব্দ জব্দের  মাঝে জুড়ে দেওয়া সেতুর কাঠে   সত্যি  মিথ্যের পেরেক পুঁতে পাওয়া না পাওয়ার অদ্ভুত  খেলায় দিন ভর সাজে নানান মঞ্চে নানান ভুমিকায়। 

মরসুমি সিঁড়ি ভেঙে পাতা ঝরে, বসন্তর বয়স বেড়ে
রঙ বদলায় কখনো  ফিকে কখনো  গাঢ়,
আবিষ্কারে আলো পায়  হাজারো  ছায়াপথ  রেখাপথ,, 
পায়ে পায়ে সফর ফুরোয় আঁতুড়ঘর থেকে দুরত্বের বুননে কাঁধের ঝুলি ভারি হয়... 
সংসারের ক্যানভাসে  আঁকা সূর্য পূব থেকে মাথার ওপর  আর তারপর   অস্ত হয়   ক্যালেন্ডারের কোনো একটা  সংখ্যার ভেতর ..., 
 আগন্তুক ফিরে যায়  মহাকালের কোলে, আবর্তিত সময় এসে দাঁড়ায় নতুন  ঠিকানায় নতুন দরজার  চৌকাঠে  পুরোনো আবর্তিত অভ্যেসে। 
সময় রাজা সাজে, সময়ই সাজে ভিখারি , 
সময় গড়ে নেয়, সময় করে ভাংচুর ,  সময় নিজেই নিজের গল্পের লেখকের  ভুমিকায় অবিনশ্বর। 

উপসংহারে

 

শব্দের হাঁড়িতে কাঠের জ্বাল দিয়ে একটা দেশ অথবা মানুষ হয়ে ওঠার  অধিকার  সুপক্ক ভাবে রেঁধে  ফেলা সহজ নয় কোনো কালেই,
ইতিহাসে জায়গা পেতে গেলে প্রেমের কান কেটে কিছু পাগলামি  উড়িয়ে দেওয়ার জন্যেও বুকের তটের মাটিকে উর্বর  করে নিতে জানা খুব জরুরী। 

সময়ের স্রোতে কাঠের পাটাতন ভেসে  বেড়ায়,  আবার সরগম তার আশ্রয়  খুঁজে বাঁশির অন্তরমহলে   প্রেম রাখে নিভৃতে। 


এক উঠোনে বারো ঘর তবু,   ঘর বাঁধতে এক টুকরো  মন জমিন নেই এ গ্রহর বুকে।
মন বাউল একতারায় কাঁদে কোনো না কোনো  সুরের ভুমিকায়।


শব্দের  প্রতিবাদ  বাতাসে নবান্নের  গন্ধ ছড়াতে পারেনি... তাই
 ভিন্ন রকম খিদেতে মানুষ আজও কাঁদছে। 

ভোর রাতে ঘুরে দাঁড়ানোর  স্বপ্ন আসে... মনে হয় এবার বুঝি দেশটা বদলে ফেলা যেতেও  পারে।

সকাল থেকে জলের লাইনে জীবন দেখি অগুনতি  ফর্মায় 
সাজানো,  বুঝে উঠতে  পারি না মানুষ  স্বপ্ন কেনো দেখে? 

একটা গান দিয়ে  একতারা, বাঁশি আর কান্না কে একই সংগতে বাঁধার লোভ হয় সমস্ত জীবনে দর্শনের শেষে রেখে যাওয়ার  ইচ্ছা নিয়ে সামিল হতে হয় রোজকার মিছিলে। 

তোমার প্রশ্নের জন্যে

তোমার প্রশ্নের  জন্যে
................................
...সই

.কেমন আছি জানতে চেয়েছো,  
তোমায় বলি মানুষের  জীবনে  তিন প্রকার থাকা হয়... বাইরে, ভেতোরে আর দোরগোড়ায় , 
আমি  এর মাঝে একটা  নিজস্ব ভালো থাকায় অভস্ত্য এখন। 

রাত গুলো আমার কোনো ভালবাসার  ওম জড়িয়ে  কাটানোর ইচ্ছা কিংবা সময় কোনোটাই নেই। 
মাথায় হাত কিংবা যত্নের  জন্যে তুমি নামক কোনো  অবয়বে  নির্ভরশীলও নই, 
গভীর  ঘুম  আমায় আদোরে এক সকাল উপহার দেয় স্বার্থহীন হয়েই।

আজ অনেকদিন হলো তোমার শরীরের গন্ধটা আমি অন্ধকারে হাতড়াই না আথবা  ভুলে গেছি কারনে অকারনের ভিড়ে।

 বহুদিন আমার স্বপ্নের বাড়িটা আমিই সাজাই কবিতা, ছবি, কাচের বারান্দা আর ঝর্ণার  কিনার দিয়ে।
বায়োস্কোপ এর বাক্স কাঁধে  কাকুটা এখন সময়ের দান পার করে অন্য কোনো চারিত্রর সাথে অন্য কোনো  গ্রহে হয়তোবা। 

আমার বাড়ির সামনে আজো পুরনো কৃষ্ণচুড়া গাছটা দাঁড়িয়ে  আছে একইভাবে 
 বাড়ির  রাস্তাটা শেষ মেষ বাড়ানো হয়নি 
তাই গাছটা আমার সাথে আছে এযাবত। 

 ইদানীং নিজেকে অধরা করে রাখার ম্যাজিকটাও শিখে গেছি ভালো মতোই 
না আমার পুরনো  কোনো  দৃশ্য  একেবারেই মনে পড়ে না 
 আর অকারণে আগের মত মনখারাপও হয়না, 
আমার দুপুরগুলো জলনুপুরের ছন্দে বিভোর থাকে ইদানীং। 

  গোধুলির  সাথে ফেরিঘাটে আসি নতুনভাবে  নিজেকে  জলের মত আবিষ্কার  করবো বলে, 
খুব সকালে প্রথম আলো আমার প্রেমিক এখন,
 সে ভালবেসে কপালে ঠোঁট  ঠেকিয়ে  রোজ একটা নতুন মোড়কে দিন উপহার দিয়ে বলে আমি রইলাম তোমার প্রতিটা ক্ষনের সৃষ্টি ও ধ্বংসের  পাশে ও সাথে। 
বহুদিন   রাতের অন্ধকারে আমার উত্তরের বারান্দায় দাড়ালে কান্না পায়না আর। 

 মনের না বলা কথাগুলো আমার ক্যানভাস  বুক পেতে যত্ন  করে সাজিয়ে গুছিয়ে  রাখে আর
তারপর মনে মনে আমি বলি
আমার উপন্যাস  এবার সম্পুর্ণর পথে
আমার প্রেম এবার পুর্ন কোজাগরী স্নানের জন্যে প্রস্তুত, 
আমার অভিমানে  এবার শুধুই  তৃপ্তির ভালবাসার পরশ,
আমার সমস্ত রুপকথা  এবার আমাকে ঘিরে উৎসব উজ্জাপনে সামিল হতেই ব্যাস্ত। 







রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

মা

💐মা💐

সময়ের স্রোতে আসা যাওয়া... জন্ম-জঠর থেকে পৃথিবীর সাথে পরিচয় ,আর আজন্ম একটা বর্ন ,গন্ধ, স্পর্শ , লেগে থাকে ।

উৎসব,আনন্দ ,পাওয়া ,নাপাওয়া ,দুঃখ ,রাগ ,শোক,  যন্ত্রনা, অভিমানে  অস্ফুট  কিংবা প্রচন্ড

 চিৎকারে ,  ... আর সব কিছু ছাপিয়ে যে

 অনুভূতিগুলো নিজেও ঠিক বুঝতে পারা যায় না  সেই অনুভূতি

 যে শব্দটা নিঃশব্দে নিঃশর্ত হয়ে  বুঝে নেয় এই

 সমস্ত জন্ম উপত্যকায়   সম্পূর্ণ একটা শব্দ  💐 'মা' 💐 ।

অথচ সময়ের প্রবাহ কিংবা মহাকালের স্রোতে এই সৃষ্টিতেই সেই পরম কাছের  শব্দের স্বাক্ষরকেও বিলীন হতেই হয়।

আর তারপর সমস্ত পৃথিবীতে পড়ে থাকে একমাত্র হিসেবী সম্পর্ক ,শর্তে দাঁড়িপাল্লায় রাখা সম্পর্কের বানান গুলো ।

 মা এক বছর  তুমি চোখের সামনে নেই ,
আর কখনো চোখ খুলে তোমায় দেখতে পাবো না ,

   তোমার না থাকা জুড়ে চিরন্তন থাকাটুকু শুধু মন মস্তিষ্কে রয়েছে ।

                     🙏মা ভালো থেকো🙏
                     💐💐💐💐💐💐💐

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

সুখি অহংকার

সুখ কি কোনো খোয়াই এর হাটে কিনতে পাওয়া যায় ! লাল নীল কিংবা সাতরঙা পোশাকের মতো,

আর পসার শেষে ঘরের আয়নায় সে সুখ গায়ে জড়িয়ে ঠিক কতটুকু আত্মতৃপ্তি কেনাই বা যায়।

হাতা খুন্তি আর বাজারের থলেতে সুখ কি দরকচা হয়ে যায় !


নাকি প্যাট আর চ্যাটের শান্তিই আসল সুখ,

প্রশ্ন অনেক


তবে এ তিলোত্তমায় কাঁচের বয়ামে সুখ বিক্রি হয় শুনেছি, 
যার  ক্রেতা ইচ্ছা মত কিনে নিয়ে সুখ আর ইচ্ছার সামিয়ানায় তাসের ঘরে সুখের সাথে সহবাস করে নেয় ইচ্ছেমত,
আর নিজেদের উৎসব উদযাপন করে ,।



যারা এই পসারে ক্রেতা তাদের বালিশ বিছানায়  আঁশ টে গন্ধ লেগে  সারা জন্ম তারা নিজেদের অভ্যস্ত করে নেয় সে গন্ধে ।
ফুলের বাগানে তাদের বেঁচে থাকা গাগুলিয়ে ওঠে।

নিজেদের মত সংবিধান ভাঙে গড়ে,
তথাস্তু বলে মনের দর্পণে খেয়ালি তথাগত হয়ে উঠতে ভালোবাসে ।

                               ***

একবার একটা লোক কে খোয়াই এর হাটে কাঁধে সময়ের ঝুঁড়ি নিয়ে চিৎকার করে বলতে শুনেছিলাম...   সুখ গো সুখ কিনবে  আমার কাছে হরেক রঙের সুখ কিনতে পাবে , চাই নাকি গো ?

লোকটা আরো বলছিল আমার কাছে কিন্তু এই সুখ কিনতে কোনো পয়সা লাগবে না ,
শুধু একটা গরুর দনের মত আমার পেটের ক্ষিদে মিটিয়ে দিলেই   তোমাদের যার যেমন সুখের দরকার আমার কাছে পেয়ে যাবে।


একজন এগিয়ে এলো   পায়ে দামি জুতো গায়ে সিল্কের জামা শৌর্যের আতরে শুধুমাত্র খোয়াই এর হাট নয় কবিগুরুর সবটুকু লালমাটির জমি আকাশ ও বাতাস তার দখলে যেন মুহূর্তে,

কাছে এসে ফেরিওয়ালার খুব কাছ ঘেঁষে বললো
একটুকরো সুখের স্বপ্ন আছে   আমি কিনতে চাই আমার বালিশে সে সুখের স্বপ্ন গুঁজে রেখে আমি  রাতে শান্তির ঘুম ঘুমিয়ে পড়বো  ,
তার বদলে আমার তিলোত্তমায় তোমায় রাজপ্রাসাদের মত  বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা সব দিতে পারি ,।

লোক টা ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে বললো বাবু আমার বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা কিছু চাই না ,

শুধুমাত্র এই যে বিশাল পেট দেখছেন এরকম
 আরো পেট আছে .....যে পেট ভুবনডাঙ্গা মাঠের থেকেও আয়তনে বেশি,   কোপায় এর গতিপথের থেকেও বিশাল ,  সোনাঝুড়ির এই বনানী থেকেও বড় , বড্ড খিদে লেগে থাকে অষ্টপ্রহর   এ পেটে,

 সেই খিদে মিটিয়ে দিলেই আপনার প্রয়োজন মত সুখ আমার কাছে কিনতে পাবেন।



 সুখী হতে চাওয়া লোকটা শেষেমেস সুখের স্বপ্ন কিনেছিল কি না জানি না।
তবে আমি সেদিন শহরের অহংকারী আকাশকে  সাধারণ লালমাটির কাছে মাথা নত করে কাঁদতে দেখে ছিলাম ভিখারির মতোই।

আর আমি শহুরে আভিজাত্যর মোড়কে গল্পের কোনো চরিত্র নই বলে নিজেকে এক ফোঁটা অহংকারশিশিরে স্নান করিয়েছিলাম।



বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২

তফাৎ

সব সভ্যতায় এক অজানা গন্তব্য লেখা থাকে,

 সফরকারি পথিক হয়তোবা জানেনা তার শেষের মাইলস্টোনের সংখ্যা।

 এই সফরে হাজারো আমি তুমি, পাশাপাশি  হাঁটতে হাঁটতে কোন না কোন  সম্পর্কদের নথিতে নাম লিখিয়ে দেয় মহাকাল,
পথ ভাগ হয়ে যায় একসময় , চেনা যাকিছু ভুলে
 যোগাযোগহীন কিছু পথে সময় নিজের মত বীজ পুঁতে সবুজ রোপন করেই নেয় , সম্পর্কের ঘর তখন চিহ্নহীন নোয়তবা ইতিহাসের বুকে ঘুমিয়ে।

এই কোত্থাও চিরন্তন নয় জেনেও    রোজ রোজ চারদেওয়াল বুনে নেয় এ সফর-সময়ের সেলাইকলে ,
 
প্রতিটা  জন্ম  নিয়মে থাকে অথচ ...
অথচ কোনো বেঁচে থাকায় কেউই হয়তোবা গাছ হতে পারে না ,,
 কোত্থাও  নেই বলেই মানুষ আর গাছেদের মাঝে তফাৎ রয়ে গেছে

.... সই

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

আরশি নগরের পথে




একদিন নিজেরই  হাতে হাত রেখে আরশি নগরের পথে হাঁটবো ,
আমার শেষ না হওয়া উপন্যাসকে  বলবো, 

 এসেছি এবার কথা রেখেই ফিরবো।
পথের ওপর লুটিয়ে থাকা  গাছের শুকনো পাতাদের  স্পর্শ করে বলবো, 
মনে আছে তোমাদের তুবড়ি ঝরানো হাসির আলো  মুহূর্তে বিহ্বল করেছিল আমার প্রথম পথ চেনার দিনগুলোকে ।


আরশি নগর যাওয়া হয়নি ,  তবু আমার চোখে বুকে এক আরশি নগরের স্পষ্ট নকশা আছে -

                                          চিনে নেবো নিজের মত করে সে কোনো এক ভোরের দুয়ার খুলে।

আমার ভাঙাগড়া সংসারের মাঝে ২০৬ টা হাড়ের কাঠামোয় রাখা ঠিকানায়  তুমি নামক স্পর্শ একদিন  বাতাস পাঠাবে ঠিক ,
সুরজকা সাতবা ঘোড়ার ক্ষুরের ধ্বনি বুক পকেটের নিয়ে চিৎকার করে বলবো এ প্রার্থনা মঞ্জুর হোক সময়ের দরবারে ...

আমি নিশ্চিত ... বেজে উঠবে শঙ্খ ঘন্টা কাসর, মুখরিত বাতাসে আরশি নগরের সবটুকু অপেক্ষার সুবাস,,

কারা যেন বলে উঠছে
            ফিরে আসবে  কথা রাখবার জন্যে জানতাম !
আমার সেই প্রথম ফুটে ওঠা
  মল্লিকা  বলবে তুমিই যে পারো মনে রেখে কথা রাখতে
 
আমি ক্লান্তি খুলে হেসে বলবো,  আমার উপন্যাস যে ফুরোয়নি ... আমায় যে আসতেই হতো।

বোধ থেকে যে আরশি নগরের ছবির ভেতর আমার উপন্যাসের বোধোদয় , 
এমন সুখের উপত্যকায় আমি আমার থেকে বেরিয়ে শব্দের রঙ তুলিতে স্বর্গ মেলে দিতেই
আমার আরশি নগর বলবে 
এবার আমি তোমার ভেতর নয়, 

তুমি আমাতে বাস করো দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ বরস মাস !
  



পথ

 ক্রমশ এগিয়ে যাবে সময়

শিখর চূড়ায় দাঁড়াতে হবে একদিন

ভালো মন্দের বিচার  মন ও মস্তিষ্ক ছুঁতে পারবে না তখন। 


সূর্যের চলে যাওয়ায় রাত আসবে 

অন্ধকারে খোলস খুলে মন ফিরে যেতে  চাইবে

একান্ত নাভিশ্বাস সাক্ষী রেখে পুরোনো শৈশবের সকালে

খুঁজে ফিরতে চাইবে সময়ের হাত ধরে হাঁটা সেই চৌরাস্তায় হেসে ওঠা ছেলে বেলার অবয়বটা ,


সময়ের আগমনী গান আর

 বিসর্জন জন্ম নাভি বিন্দুতে জমানো থাকবে শেষ পর্যন্ত।

একটা বিন্দু ছুঁয়ে মানুষ জীবন প্রদক্ষিণ করে

যেখানে সবকিছু  আলগা হয়েও মুক্তির একটা নির্দিষ্ট তারিখেই লেখা থাকে,,

জীবনের আলনায় ঝোলানো হাজারো বায়নাবিলাসী ইচ্ছা পাট খোলা ভাঁজ ভাঙা থাকবেই।

মন বাড়ির বাইরে সাজানো বাগান ,সূর্যর সাত রঙ মেখে ফুলেরা আসে আবার মিলিয়ে যায়,

  মুহূর্ত পাহাড়ের উচ্চতা ছাপিয়ে লিখে রাখে দিনলিপি

 প্রতিটা ভেঙে যাওয়ায়  হাওয়ায় ভরি হয় 

প্রতিবার ইঁটের পিঠে ইঁট সাজিয়ে

ইমারত আকাশকে জানায় অস্তিত্বের ইমান ঠুনকো নয় । 

তাই তারিখের আগে  জীবনফর্মা শেষে হয় না কখনো।


বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২

অস্তিত্ব

অস্বস্তি 

জন্ম ও মৃত্যু আসলে একটা  সময় এর শুরুয়াত কিংবা  শেষ, 

এখানে কেউ স্বপ্ন দেখা শেখে না, স্বপ্নর ইঁট বানানো  শেখে,

শেখে মাটি আঁকড়ে থাকার সংকল্প থেকে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পরমত্ব। 

জন্ম মানে কিছু নিশ্বাসের  হিসেবে  মেপে নেওয়া ক্লোরোফিল 

আর সোনালী  কাব্য জড়িয়ে পাথরের ওপর নকশা  গড়ে নেওয়াও হতেই পারে। 


তবু জন্মের দায়িত্বের ভেতোর মায়া, মোহ, ভালবাসা, ঘৃণা, প্রশ্রয় , আশ্রয় ,  দঁড়িয়ে থাকে ঠিক নেমেসিস এর মতোই, 

আর জীবন যতিচিহ্ন  গুলো বড় গোলমেলে ... এখানে উত্তরের মতো প্রশ্ন আর প্রশ্নের  মতোই সব উত্তরেরা, 

সময়ের ঘরে ক্ষত আর ক্ষতি  লাভ ও লাভবান একইসাথে  সহবাসী... যেন কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ 

পোয়াতি মেঘের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা জলের ফোঁটাকেও বন্যার অপবাদ মেনে নিতে হয় আঁতুড়ঘর পেরিয়ে। 

 অন্ধকার সময়ও  চোখ খুলে রাখে  এক ছটাক আলোর খোঁজে, 

 আর মুহুর্ত  মুঠো থেকে কিভাবে যেন  নিরুদ্দেশে হারিয়ে যায়। 

একটা কোপাই নদী হাতছানি  দেয় নিষ্ঠাবান  একা হবার

 একা  বাউলের একতারায় প্রেম

গেয়ে ওঠে  "আমি আকাশে রোদের দেশে ভেসে ভেসে বেড়াই মেঘের পাহাড়  চড়ো তুমি "।

জন্ম ঘর থেকে মৃত্যুর ঘর আসলে একটা সময়- বন্ধনী  আর পথে বারংবার কোনো না কোনো পথিকের  যাওয়া আসা,

আমরা সকলেই সময়ের  ঘরে এক একটা  মুহুর্ত -গুচ্ছ মাত্র,

জন্ম মৃত্যু  আর অপেক্ষা  একটা  বিলীন  হয়ে যাওয়া  সময়ের। 


বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

সফর


সময়  ভুল নয়  নয়,  ঈশ্বর  কিংবা  প্রেম কোনটা ভুল কে বলবে!

হাতের ওপর  হাতের রেখা মিশিয়ে একটা প্রসস্থ  পথ... 

 সেও ভুল নয়। 

সমস্ত প্রত্যাবর্তনের গহীনে আসলে একটা না বলা গল্প থাকে সময়ের ফাটলে মুখ গুঁজে, সে গল্প বা গল্পের চরিত্র  কখনো বা বরফ-যুগ হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস হয়ে যায়। 

 এ সফরে কেউ কারো অবসর কিংবা ভাবনা চুরি করেনা অকারণে, 

আসলে... 

কিছু প্রশ্রয় জীবন শৈলীতে অজান্তেই অভ্যাস হয়ে যায়, 

আর শহর, ঘর, পথ সেই অভ্যেসে  সামিল হয়ে যায়  আজানা নিয়ন্ত্রণেই।

এরপর  কেউ কেউ হয়তো সহজ ভাবে নিজস্ব  শিরদাঁড়া বিক্রি  করবে বলে মোমের আগুনে মৃত্যু  কিনতে চায়।

তবে মৃত্যুর সামনে গিয়ে দাড়ানো ততটা সহজ নয়... মৃত্যু  পথ কেবলই খেলনাবাটির সফরও নয়। 


জীবন কে ভালবেসে বহু বেঁচে থাকা গোপন কারনে নিলামে দাঁড়ায় 

আর জীবনই আবার অবাক দৃষ্টিতে সে নিলামিও দেখে,

তবে এ পৃথিবীতে আসল কলজে কোনো বাজারেই

 বিক্রি হয় না কোনোকালেই. ..  যাকিছু  সহজলভ্য অসম্পৃক্ত তা হয়তো বাজারি চিরকাল। 

পরে পাওয়া চোদ্দআনার দাম ঈশ্বর ছাড়াও একমাত্র অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে  থাকা খিদেটা  জানে।

তবু  সোনার থালায় খিদে মেটানো রাজাও অভাব পুষে রাখে নিয়মের বাঁধনে। 

আর সময় বলে আমি খেলাটার দান চেলে রেখেছি, পথ, প্রাসাদ  ও মঞ্চ দুই তৈরি   তুমি কেবল একটা সাজানো কাঠের  কাঠামো  যে কিনা ঈশ্বরত্বে পাওয়ার নেশায় মশগুল। 

তোমার তাসের ঘর, তোমার জতুগৃহ, তোমার মৃত্যু জাজিম সব বুনিয়ে নিচ্ছে  সময়, অথচ  এই আমি শব্দটা 

সময়ের  এই খেলাটা  কখনো বুঝতে চায় না 

জীবন  যে কেবল  তিনপাত্তির খেলাটুকু নয়... 


মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২

কাহিনী


তুমি লিখছো কাহিনী, কেউ শুনছে কাহিনী, 

আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা  স্বপ্ন -বাড়ি

নীড় ছোটো  তবু হৃদয়ের ঘরন্দা অসীম। 

 ঘরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে  তোমার সাজানো  গল্প,

সে গল্পে হাতা খুন্তির  সাথে সাজানো পটে প্রতিটা চরিত্র 

আত্মীয়হীন।

.

জীবন কখনো  নিজে থেকে স্পর্শ  দেয় না  

সব কিছুর মুল্য সে নিয়ে নেয় চুক্তি  থেকে মুক্তি  অবধি,,

কৃষ্ণ  পার্থ কে তবু বলে যায়  সামনে বাঁচতে  চাওয়া  প্রতিটা সম্পর্ক  আসলে মৃত।

একটা সুতোর এপার আর ওপার... তুমিও বোধহয়  একদিন ঈশ্বর  হতেই চেয়েছিলে তাই,  

অথচ তোমার  গল্পে তুমিই শয়তান  সাব্যস্ত  শেষমেশ । 

.

অজানা কেউ গল্পের শেষটুকু লিখলো একদিন

সে গল্পে  নাম বদলে দিলো  

সে শয়তান  থেকে আবার ঈশ্বর  হয়ে ওঠার  প্রার্থনা  রাখলো

ফসল ফলাতে চাইলো প্রথম কার্তিকের  ভোরের বুকে।

তবু হত্যাকারী বদলে  যায়নি

তবু প্রেমের নামে প্রতারণা  ফুরিয়ে গেলো না। 

তবু একশ চার সপ্তাহে  অক্ষত রইল সমস্ত  ক্ষত আর রক্ত ক্ষরনের প্রবাহ পথ।

তুমি লিখছো কাহিনী ... কেউ শুনছে কাহিনী 

 আবারও মেঘেদের ঘরে ডাকাত করলো চুরি 

আসমানী  রঙ আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা  স্বপ্ন -বাড়ি

সব হারা হলো  মন্দবাসির অহংকার। 


শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

অন্য শহর


 অন্য শহর 

... সই

.

ঘোড়া  কিংবা ইদুর যে কোনো  একটা  দৌড়ে  সামিল 

এই শহর,  কিছু নিয়মিত  নিয়মে গচ্ছিত রাখা নিয়মের ভাংচুর।

আয়নার  সামনে সাজিয়ে রাখা বোঝাপড়ার চালচিত্র, 

 অথচ  কোন কোন  সফরের  মাঝেই আচমকা  দেখা মেলে প্রাক্তন গল্পের সাথে, থমকে যায়  মুহুর্ত  যেন  জীবন  গো-স্ট্যাচুর খেলার ময়দানে, 

অনুভূতির  জলে  কে যেন একের পর এক পাথর ছুড়ে তরংগে কাঁপুনি  এঁকে  দেয় তিব্রতার সাথে।

.অন্তরমহলে হাত পা ছুড়ে অধিকার  জানাতে চায় কারা যেন। 


 অভিমানি বিকেলে  সাঁঝবাতির আলোর  প্রয়োজনের   হিসেবকেও  সময়ের প্রেম বলেই ধরে নিতে হয়,

 কিন্তু প্রেমও  খোলা জানলার ওপাশে একটা আকাশ খুঁজে হিসেব  মিলিয়ে নিতে চায়, 

তারপর কোনো  এক অন্ধকার  পেরোনো  ভোরের উঠনে  মেঘ আছড়ে পড়ে সবটুকু নিঃস্ব করে। 

এ শহর জানে এমন গোপন মর্মকথা।

এ শহরের বুকে দাঁড়ানো কয়েকশো বছরের সবুজ এখন গাড় ও পাকাপোক্ত এ অভ্যেসে । 

.

মানুষ  বাঁচার নিশ্বাস  কুঁড়িয়ে ফেরে এই পাকাপোক্ত  সবুজের  কাছে,

 মানুষ  ভালো  থাকতে যে নিয়মে নিজেকে বাঁধে একদিন আবার কোনো  নতুন ভালথাকার আবেসে সেই নিয়ম ভাংচুর করে বেরিয়ে  আসে  ,

চেনা  হয়ে যায়  অচেনা, 

ভুলতে চায় মন রোজকার অভ্যেস...

প্রিয়জন কখন  প্রয়োজন  ছাড়িয়ে বিরক্তিকর  আবর্জনায় ট্রান্সফরমেশন। 


  মনের  ঘরে  এলোমেলো ভাবনা  জমে... জমে ইচ্ছা রঙে  আঁকা  অপুর্ন  হওয়া   ঘরে দেওয়াল বেয়ে অঘ্রানী শিশিরের জল , আর কাঁচের বয়ামে রাখা কিছু বেঁচে থাকার সংকল্প। 

এরপর একদিন 

 ভাগ্য মেনে গংগায় ভাসিয়ে দিতে হয় জল-আহুতি ভেবে  


কে কার  নীলচোখে সমুদ্র ডুব দিতো এ শহর মনে রাখেনা তারপর , 

কে নিয়মের চৌকাঠ মাড়িয়েই অনিয়মের উৎসবে মাতাল করতে শিখিয়েছিল শহর  মনে রাখে না তারপর। 

শুধুমাত্র  প্রতিটা ভাংগতে থাকা ইমারতের আঘাত বুকে লুকিয়ে রাখে, আর ফিসফিসিয়ে বলে ভেঙে যাওয়া  যে ফুরিয়ে যাওয়া নয়


বরং ভেঙে  যাওয়া হলো   সময়ের আগুনে একটা আহুতি    যাকিনা  মনে করিয়ে দেয় এই শহরের ভেতরে  আরো একটা  অন্য শহরকে।   


শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস

জগৎ বিখ্যাত দানবীর "দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ যিনি একজন বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদও , একইসাথে কবি ও লেখক ,  ...স্বাধীনতা সংগ্রামী এই জগৎ বিখ্যাত মানুষটির জন্ম কলকাতার পটলডাঙা স্ট্রিটে,
মা নিস্তারিণী দেবী, বাবা ভুবনমোহন দাস।

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন ভিন্ন গোত্রের । 
জাগতিক বিষয়ে তিনি বরাবর ছিলেন আপনভোলা  ।
প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়া শেষ করে পাড়ি দিয়েছিলেন লন্ডনে আইসিএস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ,
এই সময় দাদাভাই নওরোজিকে পার্লামেন্ট সভ্য নির্বাচনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে  জে ম্যাকলিন নামে এক ওল্ডহ্যাম প্রার্থী ভারতীয়দের 'গোলামের জাতি'  উল্লেখ করায় গর্জে উঠেছিলেন চিত্ররঞ্জন দাস  এই প্রতিবাদ এ রাজনৈতিক সক্রিয়তার ফল স্বরূপ তিনি আইএসসি হতে পারেননি ,
পরে তিনি মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করেন।

তার 'মালঞ্চ' কাব্যগ্রন্থর  'ঈশ্বর' ও 'বারবিলাসিনি' কবিতার জন্য  ব্রাহ্মসমাজ তাকে ঈশ্বর বিদ্রোহী ও মাতাল আখ্যা দিয়েছিল , পরে তিনি প্রথমটির উত্তরে 'প্রার্থনা' কবিতাটি লেখেন ।
তার বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল  এই ভাবনায় লেখা প্রকাশ  করার জন্যে।


আইনজীবী হিসেবে তিনি যথেষ্ট ঈর্ষণীয় রোজগার করতেন। আইনজীবী হিসেবে আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলা ছাড়াও চিত্তরঞ্জনের কয়েকটি নামকরা মামলা হল, নোয়াখালি নোট চুরি, ভূকৈলাশ জমিদারির নোট চুরি, ডুমরাওন, ঢাকা ষড়যন্ত্র, লছমীপুর, বন্দেমাতরম্ প্রভৃতি। মামলার সওয়াল-জবাবে চিত্তরঞ্জন প্রয়োজনে ব্রিটিশ বিচারকদেরও যথেষ্ট বাক্যবাণে বিদ্ধ করতেন।
তবে  আইনের মারপ্যাঁচ তেমন ভালো লাগতো না ।

সাহিত্যের সৃষ্টি আর তার রসাস্বাদনেই তিনি তৃপ্তি পেতেন।  তিনি বাংলা সাহিত্যের স্রষ্টা 'নারায়ণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন,
এছাড়া তিনি বৈষ্ণব-রসশাস্ত্রর প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন ।
এই বহুমুখী প্রতিভার খনি 'দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস'
আজকের দিনে (৫ই নভেম্বর ১৮৭০) জন্ম গ্রহণ করেন ।

এই প্রখ্যাত আইনজীবী তথা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা , এবং উদার ও মানবদরদী দেশবন্ধু কে আমাদের  'মোন-তোরঙ' এর  পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।
       ***শুভ জন্মদিন 'দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস'***










বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২

একা থাকতে ইচ্ছে করছে

তোমার সাথে  সব কথা হয়তো  শেষ .... আমার ভেতর কেউ তবু অনর্গল আমার সাথে মুখোমুখি  বকবক করে সারাক্ষণ।  

 ভীষণ একলা হতে ইচ্ছে করে,  ইচ্ছা করে আমার ভেতর আজীবনের  নিস্তব্ধতা এসে ঘর বাঁধুক ,

অথচ  শব্দরা প্রতিবাদ করে সে নিস্তব্ধতা গুড়ো করে দেয় নিমেষে 

 কিছুতেই একা হতে পারি না আমি ,

নিজের সাথে নিজে যে মুহুর্তে  ভালো  থাকার বন্ধনে বাঁধি...  তখনই   আমার ভেতর  কেউ বকবক করে চলে অসম্ভব চিৎকার করে ,

 ইদানিং  একালা থাকতে ভালো লাগে ভিষণ  অথচ  একলা থাকাটা হয় না কিছুতেই। 

.

  আলোহীন  রাস্তা ধরে হাঁটতে  ভালো লাগে নিজেই নিজের হাতে হাত রেখে

একা থাকা এক অদ্ভুত  নেশায় পেয়েছে...  একা  কোনো গন্তব্য হীন পথে এগিয়ে  যাওয়া  এক অ-সুখ আমাকে পেয়েছে। 


 কবিতার শব্দরা  বন্ধনী ছেড়ে  একা একা রাত জাগে..  

 শব্দদের দিন কাটে যেমন বাউল কাটায় প্রহর   

তবুও কেন জানি আমার  একা থাকা হয় না । 

.

 বড় একা ও নিস্তব্ধ থাকতে ইচ্ছে  করে আজকাল

 চারদেয়ালের ঘরের মেঝে জুড়ে   কেউ যেন অজস্র বকবকানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে  রেখেছে  ।

রেলিং ভর করে রাস্তার দিয়ে তাকিয়ে থাকা সড়কটাকে 

বহুদিন...  বহুরাত একলা হতে দেখিনি। 

রবিঠাকুরের গান কোনো পুর্নিমার একলা রাত পেরিয়ে শুধুই শহরের ভিড়ে রিমিক্স এখন। 


 বহুদিন একা  ফাঁকা বাসের সিটে একলা কোনো  স্মৃতি কে আনমনে আকাশ দেখতে  দেখিনি । 


এই পৃথিবীর এখনো কোনো একলা থাকার  ঋতু আসেনি।

কারনের  উৎসব , কারনের  অধিকার , কারনে সম্পর্কের মাঝে হাতে হাত আর কারণের কিছু আশ্রয়ে  মানুষ  একলা থাকতে ভুলে গেছে এখন, কিংবা  একলা থাকতে ভয় পায়। 


  আজকাল ভালোবাসার গলার স্বর শুধু শুনতে ইচ্ছে করে না

আজকাল আমার ভেতোর কার যেন  ঠোঁটের নড়াচড়া আর বকবক  অনর্গল  আমাকে ঝালাপালা  করে দেয়

শব্দহীন একটা  পৃথিবীর দেখতে ইচ্ছে  করে.... ভাল থাকার জন্য  নিজের সাথে নিজে একলা থাকা, নিজের সাথে পথ চলা, নিজেকে  বুঝে নেওয়া... খুব জরুরী। 

তবু পারছি কই একা থাকতে 


 যেন কেউ অনর্গল    ইদানিং আমার ভেতোর  শব্দের কারখানায়  হাপরে টান দিয়ে চলেছে  হাতুড়ি  মারছে শব্দ গড়তে।  

বড় এক থাকেতে ইচ্ছা করছে । 

একেবারে  নিস্তব্ধতা একা আলোহীন  হয়ে নিজের ভেতোরে  একা থাকতে  ইচ্ছে  করছে। 

.

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২

জীবন সংলাপ

 মানুষ কখনো না কখনো নিজের ভেতরের  দরজাটায় গিয়ে দাঁড়ায় 

দরজা খুলে দেখে  কিছু  অনুভূতি হয়তোবা সময়ের আলনায় পাট করে সাজানো আছে

কিংবা সম্পর্কের  অনেকগুলো  বন্ধ জানলা   অন্ধকার ঘরের ভেতর   বানানো  ,

সময়ের পরতে  মোড়া  মানুষগুলো ঋতু পরিবর্তন মেনে চলা জানে বলেই

 গ্রীষ্মের প্রখর রোদ কিংবা বরফ শীতল শীতে আশ্রয় শব্দটার     তলায় দাঁড়াতে অভ্যাস করে নেয়। 

 বর্ষায়  ভিজে যাওয়া শরীর দু চোখের অভিযোগ অভিমান লুকিয়ে  ফেলে অযথা  মেঘের দিকে আঙুল  দেখিয়ে। 

.

সময়ের আগুনে অগুনিত প্রশ্নের  বিলীন  যেন  সব প্রশ্নেরা উত্তরহীনতার গহীনে হারানো দুয়ার মাত্র।

আসলে জীবন হলো মহাকালের ক্যানভাস 

সময়ের কাছে  রং ধার করে শিল্পী ছবির মতো করে একটা গল্প আঁকে ,

জীবনের কাছে তাই প্রতিটি বেঁচে থাকার অজস্র  প্রশ্ন   থাকে,  

মানুষগুলো জীবন কাটাতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। 


দেহ শুধুমাত্র ধারক  ,

আসল কেউ একজন  চিরকালীন জীবন মৃত্যু  মাঝে নাটকের  সংলাপ  লিখেছে

সে শুধু পর্দা ফেলছে আর চরিত্র, স্থান, কাল, বদলে দিতেই ব্যস্ত। 

আমরাই  তো শুধু কাল্পনিক অস্তিত্ব 

আসলে বাস্তব হলো জীবনের গল্পগুলো কেউ আগে থেকেই  লিখে রেখেছে 

এক একটা মঞ্চের  দরজার  সামনে এক একটা গল্প,

লুকিয়ে রাখা গল্পেরাও বন্ধ মঞ্চের দরজার

 পাল্লায় ধাক্কা দিয়ে খুলে আলোর  সামনে দাঁড়ায়, 

আসলে বন্ধ কিংবা  বন্দি গল্পেরাও জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখতে চায় 

জীবন সংলাপে  তাদেরও যে ভুমিকা আছে সেটা চিৎকার করে  পৃথিবীর  কাছে জানিয়ে দিতে চায়।

মৃত্যু একটা পরিবর্তন


.

দেহের সৎকারে  নাভির বিলীন হয়নি 

তবু জন্মের আঁতুড়ঘর থেকে অনেকদুরে কোথাও হারিয়ে যেতে হবে  সব নক্ষত্রকে একে একে।

কাগুজে পরিচয় পত্রের জন্ম লিখে রাখে পৃথিবীর ইতিহাস।

শরীরের ঘর, মনের ঘর, সামাজিক  ঘর... যেন  ঘিঞ্জি  বসতি সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে। 

সূর্য  ঘুমিয়ে গেলেই নিজস্ব কুপির আলো জ্বালিয়ে জীবনকে সেঁকে নিতে হয় রাতভর, 


.  মানুষের মনের আকাশের অজস্র  চরিত্রের মেঘ ভেসে  বেড়ায়, তবু  এক মুহুর্ত সময়ের গতিপথ থামে না 

সময়ের রাজার চুলের রঙ ফ্যাকাসে হয় প্রতি বসন্তের আগেই, 

  শীত-কাঁপন এর তিব্রতাও বছরের সংখ্যা আকাশমুখি ক্রমশ। 

মানুষ নিজের কবিতায় নিজেই রাজা থেকে ভিখারি সাজে রোজ নানান মঞ্চে।  

সমুদ্র সফেনে হারিয়ে যায়  প্রিয় মুখ, চোখের উপকূল জুড়ে

ছড়িয়ে থাকে চেনা অচেনা পায়ের চিহ্ন, 

.

আকাশের  দিকে তাকিয়ে থাকা ঝাঁকড়া গাছটা কি করে যেন  একরকম  বিস্ময়কর ক্ষমতায় ভালো  থাকা শিখে নিয়েছে, 

মানুষের ভিড়ে গাছটার খোঁজ স্বতন্ত্র, তার সবুজে বেঁচে থাকার কবিতা অনন্ত,


আসলে  গাছ, আকাশ, মৃত্যু শব্দটা যতটা সত্যি মানে

তার থেকেও সত্যি মানে... বাঁচা মানে প্রতিটা নিশ্বাসে একটা উজ্জ্বল উজ্জাপন, 

মানে মৃত্যুর একটা পরিবর্তন  মাত্র।