শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

সুখি অহংকার

সুখ কি কোনো খোয়াই এর হাটে কিনতে পাওয়া যায় ! লাল নীল কিংবা সাতরঙা পোশাকের মতো,

আর পসার শেষে ঘরের আয়নায় সে সুখ গায়ে জড়িয়ে ঠিক কতটুকু আত্মতৃপ্তি কেনাই বা যায়।

হাতা খুন্তি আর বাজারের থলেতে সুখ কি দরকচা হয়ে যায় !


নাকি প্যাট আর চ্যাটের শান্তিই আসল সুখ,

প্রশ্ন অনেক


তবে এ তিলোত্তমায় কাঁচের বয়ামে সুখ বিক্রি হয় শুনেছি, 
যার  ক্রেতা ইচ্ছা মত কিনে নিয়ে সুখ আর ইচ্ছার সামিয়ানায় তাসের ঘরে সুখের সাথে সহবাস করে নেয় ইচ্ছেমত,
আর নিজেদের উৎসব উদযাপন করে ,।



যারা এই পসারে ক্রেতা তাদের বালিশ বিছানায়  আঁশ টে গন্ধ লেগে  সারা জন্ম তারা নিজেদের অভ্যস্ত করে নেয় সে গন্ধে ।
ফুলের বাগানে তাদের বেঁচে থাকা গাগুলিয়ে ওঠে।

নিজেদের মত সংবিধান ভাঙে গড়ে,
তথাস্তু বলে মনের দর্পণে খেয়ালি তথাগত হয়ে উঠতে ভালোবাসে ।

                               ***

একবার একটা লোক কে খোয়াই এর হাটে কাঁধে সময়ের ঝুঁড়ি নিয়ে চিৎকার করে বলতে শুনেছিলাম...   সুখ গো সুখ কিনবে  আমার কাছে হরেক রঙের সুখ কিনতে পাবে , চাই নাকি গো ?

লোকটা আরো বলছিল আমার কাছে কিন্তু এই সুখ কিনতে কোনো পয়সা লাগবে না ,
শুধু একটা গরুর দনের মত আমার পেটের ক্ষিদে মিটিয়ে দিলেই   তোমাদের যার যেমন সুখের দরকার আমার কাছে পেয়ে যাবে।


একজন এগিয়ে এলো   পায়ে দামি জুতো গায়ে সিল্কের জামা শৌর্যের আতরে শুধুমাত্র খোয়াই এর হাট নয় কবিগুরুর সবটুকু লালমাটির জমি আকাশ ও বাতাস তার দখলে যেন মুহূর্তে,

কাছে এসে ফেরিওয়ালার খুব কাছ ঘেঁষে বললো
একটুকরো সুখের স্বপ্ন আছে   আমি কিনতে চাই আমার বালিশে সে সুখের স্বপ্ন গুঁজে রেখে আমি  রাতে শান্তির ঘুম ঘুমিয়ে পড়বো  ,
তার বদলে আমার তিলোত্তমায় তোমায় রাজপ্রাসাদের মত  বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা সব দিতে পারি ,।

লোক টা ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে বললো বাবু আমার বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা কিছু চাই না ,

শুধুমাত্র এই যে বিশাল পেট দেখছেন এরকম
 আরো পেট আছে .....যে পেট ভুবনডাঙ্গা মাঠের থেকেও আয়তনে বেশি,   কোপায় এর গতিপথের থেকেও বিশাল ,  সোনাঝুড়ির এই বনানী থেকেও বড় , বড্ড খিদে লেগে থাকে অষ্টপ্রহর   এ পেটে,

 সেই খিদে মিটিয়ে দিলেই আপনার প্রয়োজন মত সুখ আমার কাছে কিনতে পাবেন।



 সুখী হতে চাওয়া লোকটা শেষেমেস সুখের স্বপ্ন কিনেছিল কি না জানি না।
তবে আমি সেদিন শহরের অহংকারী আকাশকে  সাধারণ লালমাটির কাছে মাথা নত করে কাঁদতে দেখে ছিলাম ভিখারির মতোই।

আর আমি শহুরে আভিজাত্যর মোড়কে গল্পের কোনো চরিত্র নই বলে নিজেকে এক ফোঁটা অহংকারশিশিরে স্নান করিয়েছিলাম।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন