শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস

জগৎ বিখ্যাত দানবীর "দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ যিনি একজন বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদও , একইসাথে কবি ও লেখক ,  ...স্বাধীনতা সংগ্রামী এই জগৎ বিখ্যাত মানুষটির জন্ম কলকাতার পটলডাঙা স্ট্রিটে,
মা নিস্তারিণী দেবী, বাবা ভুবনমোহন দাস।

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন ভিন্ন গোত্রের । 
জাগতিক বিষয়ে তিনি বরাবর ছিলেন আপনভোলা  ।
প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়া শেষ করে পাড়ি দিয়েছিলেন লন্ডনে আইসিএস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ,
এই সময় দাদাভাই নওরোজিকে পার্লামেন্ট সভ্য নির্বাচনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে  জে ম্যাকলিন নামে এক ওল্ডহ্যাম প্রার্থী ভারতীয়দের 'গোলামের জাতি'  উল্লেখ করায় গর্জে উঠেছিলেন চিত্ররঞ্জন দাস  এই প্রতিবাদ এ রাজনৈতিক সক্রিয়তার ফল স্বরূপ তিনি আইএসসি হতে পারেননি ,
পরে তিনি মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করেন।

তার 'মালঞ্চ' কাব্যগ্রন্থর  'ঈশ্বর' ও 'বারবিলাসিনি' কবিতার জন্য  ব্রাহ্মসমাজ তাকে ঈশ্বর বিদ্রোহী ও মাতাল আখ্যা দিয়েছিল , পরে তিনি প্রথমটির উত্তরে 'প্রার্থনা' কবিতাটি লেখেন ।
তার বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল  এই ভাবনায় লেখা প্রকাশ  করার জন্যে।


আইনজীবী হিসেবে তিনি যথেষ্ট ঈর্ষণীয় রোজগার করতেন। আইনজীবী হিসেবে আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলা ছাড়াও চিত্তরঞ্জনের কয়েকটি নামকরা মামলা হল, নোয়াখালি নোট চুরি, ভূকৈলাশ জমিদারির নোট চুরি, ডুমরাওন, ঢাকা ষড়যন্ত্র, লছমীপুর, বন্দেমাতরম্ প্রভৃতি। মামলার সওয়াল-জবাবে চিত্তরঞ্জন প্রয়োজনে ব্রিটিশ বিচারকদেরও যথেষ্ট বাক্যবাণে বিদ্ধ করতেন।
তবে  আইনের মারপ্যাঁচ তেমন ভালো লাগতো না ।

সাহিত্যের সৃষ্টি আর তার রসাস্বাদনেই তিনি তৃপ্তি পেতেন।  তিনি বাংলা সাহিত্যের স্রষ্টা 'নারায়ণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন,
এছাড়া তিনি বৈষ্ণব-রসশাস্ত্রর প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন ।
এই বহুমুখী প্রতিভার খনি 'দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস'
আজকের দিনে (৫ই নভেম্বর ১৮৭০) জন্ম গ্রহণ করেন ।

এই প্রখ্যাত আইনজীবী তথা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা , এবং উদার ও মানবদরদী দেশবন্ধু কে আমাদের  'মোন-তোরঙ' এর  পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।
       ***শুভ জন্মদিন 'দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস'***










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন