মনে আসিস তুই যখন যে ভাবে নিজের স্বভাবে।
তোর গলার স্বরে এক আঁজলা প্রাণ ,তোর ভূমিকায় আমার বেঁচে থাকা।
লুকোনো কফিনে যে স্বভাব বন্দি সময় তার অঙ্গীকার
শুধু অন্ধকার।আলোর রেনু ,নীল সমুদ্র এসব কেবল নিয়মের
অধিকার আমি জানি জানে শহরবাসী, জানিস তুইও মানিস না হয়তো।
স্বপ্নরা কেমন হয় তোর কবিতায় ছবি দেখি ,তোর কবিতা তোর মতোই
স্বপ্নের কস্তুরী হরিণ। খামখেয়ালি পাগলের মতো নিজের
মাদকতায় ।
তোর বুকের ভেতর থেকে যে ওম হওয়ায় ওড়ে
তুই চাইলেও ছুঁতে পারিস না , অথচ নীরবে নিবিড়ে কাঁদিস , রাখতে চাস নিজের পাঁজরের বেড়ায়,
নিজের করেই চাইতে থাকিস এমন অনেক মুহূর্ত,,
তবুও ইচ্ছা পূরণ হয় না অলীক পর্দার আড়ালে তুই আর তোর চাওয়া ।
তবুও বলি ভালো থাকিস একদিন ... নিতান্ত
নিজের কবিতার পাতায় ।
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭
এভাবে স্বভাবে
গোপন তোরণে
গোপন তোরণে
---------------------------------------------
সে সকাল আসবে না ,যে সকালে
পরে থাকবে তোমার কবিতা,তোমার ইচ্ছেরা।
ইচ্ছের আলোয় উৎসর্গীকৃত জীবনের যোগফলে
তুমি তোমার ভালোবাসা দেখবে আমরা থেকে যাব একাকার।
শুধু থাকবে নিবিড় জমা আলো আকাশ
আর আমাদের সেই বাড়িটা।
যার দেওয়াল ছুঁয়ে নামবে স্পর্শ
আখরোট ঠোঁটে চুইয়ে নিকোটিন মাখা ঠোঁট,
আর আদরের গায়ে
অজস্র বর্ণমালা উষ্ণ খোদাই করা সেলফি,,
আমরা হাসব , কাঁদব ,পাগলের মতো জড়িয়ে প্রতিটা কণা।
থাকবে আমার তুমি।
তোমার কবিতার প্রতি পাতায়
তোমার ভালোবাসার হৃদয়ে বয়ে যাওয়া উচ্ছল নদী ,
শহরের রাস্তায় কৃষ্ণচূড়া তোমার কবিতার মত প্রেমের রঙে রাঙানো।
পাগলের মতো তোমাকে আমি আঁকড়ে বাঁচি,
তুমি প্রতিটি চেনা মুখের কথা বল ,আমার তোমাকে
খোঁজার জন্যে তোমাকেও যে দরকার হয় না ।
তুমি অন্তরের আমার সমস্ত নদীর শিরায় শিরায় বয়ে চলেছ।
তোমার বলা কথার চারপাশে আমি ভনভন করি
অনবরত কারণে অকারণে।
একদিন বুঝবে তোমার প্রেডিক্সন ভুল .. আমার কোনো
নিষ্ফল আক্রোশ ছিল না , ছিল কেবল যত্ন , তোমার
সমস্ত ছুঁয়ে যাওয়া খড়কুটো দের তোমার পর আমি ছুঁতে চেয়েছি কেবল।
বল এটা অনেক বড় চাওয়া আমার ?
বহুদিন চলে যাবে, আমি এমন করেই চাইব তোমায়।
,তুমি মনে করবে এটা আমার দৃষ্টতা। বুঝবে না একটা অপেক্ষা
কতটা নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে এক এক মুহূর্তের ভগ্নাংশে।
জানি তোমার অনেক কবিতায় আমি একমাত্র নদী
আজ।
তোমার হৃদয়ের বিভাজনে বাস করা সময় এক
নির্বাক পাথরের মত ।
আমি এমন সময়ের পথে আজ কাল রোজ হাঁটি।
ফুঁড়ে ওঠা দীর্ঘশ্বাস ,এই সময় জানে কিনা জানি না বাঁচার মানে ।
কোনো অদ্ভুত সকালে ঘুম ভেঙে তোমার মনের ঘরে আমি যদি না থাকি
তুমি ছুঁয়ে দেখো তোমার জুতোর ফিতেতে আমার সমস্ত মোহ
আর .... থাক আর নাহয় সব টুকু এই শতাব্দীর অধিকারে
অগ্রিম দেন পাওনা মিটিয়ে নিও ধারবাকির ধারাপাতে।
এই সব আসে না স্বপ্নে ,, তোমার শহরের
ভিখারি ঘুরে বেড়ায় গলায় অজস্র চিৎকার আর
দারুন তৃষ্ণা।
রাস্তার উপর আমাদের পায়ের ছাপ ,স্বপ্ন।
আখরোট ঠোঁট ,ভিজে বালি ,বালিঘর
সমুদ্র এসে ছুঁয়ে যায় চোখের পাতায় অজস্র না বলা ইচ্ছা।
কারণ কান্নার রেণুগুলো আমার চোখের কিনারে রেখে দিয়েছি।
আর কান্নার শব্দরা তো তোর প্রশ্রয়ে তোমার কবিতার আদর।
এক সকালে তুমি যদি হারিয়ে যাও তবে আমি ঘুমিয়ে পড়বো
তোমার সমস্ত ছুঁয়ে থাকা স্মৃতি কে অস্তিন করে ,
চোখ খুলে দেখবো না আর এক কণাও আলো।
তুমি তো জানো আমি একবার ঘুমিয়ে পড়লে আর
কখনও জাগব না ।
শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭
চোখের কিনারে
--------–---------------------------------------------
প্রচ্ছদের গায়ে লেগে রইলো চলকে পড়া চায়ের
নিশানা , এক বিরহী ফাল্গুনের সকালে তোমার
হাতে তুলে দেবো আমার সমস্ত পাণ্ডুলিপি,
আর তারপর আমার ভুমিকা শেষ আমি ছুটি নেব
সকল অলীক শোকদের থেকে ,, ঠোঁটের কোনার
হাসিতে থাকবে না একচিলতেও অভিনয়,।
একজোড়া চোখ বুকের দেওয়ালে চেয়ে থাকবে
কোনো কারণ ছাড়াই।
দক্ষিণের জানালাটা বোঝে আর কিছুদিনের পর
আসবে ঝড়ের দিন , আমি কেঁপে উঠব মুঠোর খোঁজে।
আমার যে শীত জ্বর গায়ে লেগে রয়েছে ,,
তাই পাণ্ডুলিপি ছাপাখানায় পৌঁছনোর কাজ বাকি
থেকে গেলো।
বড় ইচ্ছে উৎসর্গের পাতায় তোমার নাম লিখে দেব,
আর বলবো এবার তুমি পড়ে ফেল সমস্ত সমুদ্রের
উপকথা ছুঁয়ে দিও ছোট্ট ছোট্ট আমার অভিমানী কুঁড়িদের।
দেখবে ওরা সবাই ফুল হয়ে ফুটে উঠবে তোমার বাগান জুড়ে।
শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭
খোঁজ(৩)
বাঁচার খোঁজে পথের পাশে চেনা গঙ্গার
ঘাটে অচেনা নোঙর তোলা ছইয়ের নীচে
তবুও ব্যর্থতা এখন নিয়মিত আমার সকল বাইরে জুড়ে।
তোর কথা ভাবতে ভাবতে উপড়ে আনি
সব অভিমান,, ভাঙা সিঁড়ির আর্তনাদে পায়ে
তলায় মেহেন্দি রঙ , শেষ যখন ফেরার পালা
রেলগাড়ি ভর্তি আলো নিয়ে তুই আসিস।,
দুজনে দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে
পুনর্জীবন প্রাপ্তির আনন্দ ,,
মনে আছে একবার বলেছিলিস তোকে
একটা ঘর দেব তাতে চমৎকার চাঁদের
আলো আসে দেখিস আর গহীন অমাবস্যায়
জোনাকীদের মেলা বসে নিয়মিত ।
আমি মুখ লুকিয়ে কাঁদার জন্য একটা বুক
চেয়েছি তাই ......
এর পর আর কিছু বলার ছিল না আমার।
বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
খোঁজ
----–-------------------
নিঃসঙ্গতা ফেলে রেখে হারাতে চায় একটা
একলা বিকেল, তাই তোমাকে বয়ে নিয়ে বেড়ায়
গোপন তোরণে।
আজো রাস্তার দুপাশে চোখ বোলাতে বোলাতে
হাঁপিয়ে মনের ওজন চোখের কিনারে।
এভাবে ক্লান্ত একটার পর একটা দিনের বুক চিরে
নিঃশব্দে রাত আসে।
চোখের মাপের আকাশ বর্ষাকে আঁকড়ে বাঁচে,,
ভেজা আগুনে নক্ষত্ররা গলে পরিযায়ী জল
ছুঁয়ে ফেলে ।
কাঁটা তার ছেড়ে যাবার পর স্মৃতিরা জমে যাবে
এপিটাফ এর অক্ষরের বিভাজনে।
ক্রমশ সূর্যর রঙ খয়েরী হচ্ছে ,শুধু জানা হবে না
কোথায় থামতে হবে ...তোমার কিনারে না কোনো অস্তাচলে।
সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
একটু উষ্ণতার জন্য
----------------------------------------------+-
সহজ পোষাকে মিশে গিয়েছিল না বলা
মাণিক্য দ্যুতি,, এত দিন বাদে পালটে গেছে
শহরলিপি।
ঘন রাতে ডুবে থাকা শিরা ধমনী আর ২০৬টা
হাড়ের আবিষ্করণ দুঃসাধ্য কাজ তোমারি সুজন,,
তার সাথে খড়কুটো আর কিছুটা মাটির স্তুপ।
যে ভাবে বেঁচে আছে ঘাসফড়িঙ, কিংবা যেভাবে
বেচেঁ থাকাটা এ শহরের পোড়োবাড়িগুলো মেনে
নিয়েছে, সে ভাবে বেচেঁ থাকবে সাদাকালো নিশ্বাস।
হয়তোবা রঙিন ছায়ার মত একটা কোলাজের উজ্জ্বল
উপস্থিতি দেওয়াল জুড়ে.... এমন কবিতায়
সে এক পাগল হেসে বলেছিল ছায়ার আবার রঙ!
সে দেখেনি ছায়ার রঙ,, এ চোখ তো দেখে যায় রোজ রোজ...
ছায়ার গায়ে ইচ্ছুক রঙ, অনিচ্ছুক রঙ, অভিমানী
রঙ, আদুরে রঙ,ঝর্না রঙ,আরো কত রঙ, শীতের
দুপুরবেলা ছাদের কার্নিশ জুড়ে দীঘল ছায়ারা
রদ্দুরের আলাপে আসে নতুন নতুন নামে,,
আবার মিলিয়ে যায় সেতু বিহীন সমান্তরাল অন্ধকারে।
যখনি তোমার শহরের শব্দরা পথ খুজেঁ পায়,
জানতে ইচ্ছে করে শেষ রাতে তুমি বাড়ি ফেরো কার সাথে।
চেনা চোখের কিনারে গোপোন ইচ্ছারা পোষাকি
কাজলে অপেক্ষা করে বুকপাতা বাড়িটার যেখানে একটু উষ্ণতার জন্য তুমি আমি একেবারে অচেনা পৃথিবী থেকে।
সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
শিল্পী তুমিই আছো
-----------------------------------------
সে যদি সকালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অতিথি হয়
তবে শিশিরে ঘুমানো তুলি তে শিল্পীর অপেক্ষা
নতুন বান্ধব রঙ ভরুক তোমার শহরে।
আমি হাওয়ার গতির বিরুদ্ধবাদ হই নি কখনওই
তবু কিছু সাঁকো পেরিয়ে শব্দের ভূমিকাকে সাজিয়েছি
খাতার পাতায়, খানিকটা জানলার টবে সাজানো বেঁচে
থাকা বলতে পার।
প্রতিটা খাঁজে একটা করা নতুন দরজা লাগাবার কথা
বলা হয়েছে, বলা হয়েছে সময়কে হার মানাতে শিখতে,
তাই এখন বাতাসও জানে অস্থির হওয়া একেবারেই বারণ।
তবু ধার করা চাউনি একবার রোজ চোখ রাখে মুঠোফোন
এর শরীরে,, বরফের নিচে অনেক সময় ঘুমিয়ে থাকে
বারুদখানা।
বছর শেষে চড়ুইভাতি করে খুশি থাকবো ভেবে
রেলিঙ জুড়ে মুহুর্ত সেকছি। তোমার ঘরে শীতের
চাদর আর উষ্ণতা দেয় না আজকাল।
গেটের পোষ্ট বক্সে ডাকপিয়ন রাখে গেছে অভিমানী
সংকেত যা কিনা লুকোনো চিঠিতে মরশুমি ফুল হয়ে
থেকে গেছে ফি বছর।
রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
ভুলে যাওয়া ---------------------------
---------------------------
ম্রিয়মাণ হচ্ছে যোগাযোগ, হয়তো নিভে যাচ্ছে
আলোর সেতু-- বুকের পাথরে জমা জল আর
পলাশের ওস কে তুমি কেবল শিশির ভেবেই গেলে।
একলা হতে চাইলেই বুঝি একলা হওয়া যায়!
অনেকবার... অনেকবার চেয়েছি ভীষণ একলা
হতে হারিয়ে গেছি প্রান্তরের শেষ সীমানায়য়---,
পরে দেখেছি ছায়া হয়ে সমস্ত স্মৃতি, একমুহুর্তও
একা হতে দেয়নি।
জানি চলে যাবে' একদিন, হাতের রেখায় সে পথ
স্পষ্ট।
গ্রহণ লাগা কোনো পূর্ণিমা রাতে চাঁদ খুঁজবো
পুড়ে যাওয়া চালাটার কাছে পোড়া মন নিয়ে।
সে দিন হয়তো তোমারও গা ঘেঁষে একটা পোড়া
বাতাস কিছু বলে যাবে, তার উপকরণের কিছু
গন্ধ তোমার খুব একটা অচেনা মনে হবে না,,
সেদিন সুজন পারিজাতে রাখা সমস্ত স্পর্শকে
গন্ধমোছা বৃষ্টি হয়ে ঝরে যেতে দিও এই পৃথিবীর
বুক ঘেঁষে।
অসংহত নিয়ম
--------------------------------------------------
জীবন পড়ে পাওয়া ভগ্নাংশ বাঁচা একথা
অযুতবার বলেছো সুজন।
যাপনীয় সময়ের চুঁইয়ে পড়া শোকেদের নিরুত্তাপ
বরফে তুমি আমি চাপা আছি যুগ যুগ ধরে,
একথা তো সব কবির কলমের নীবের চেনা কান্না।
জানা অসংগতি অথছ সংগত স্বাভাবিক।
স্বপ্ন ঘুম খোলা চোখে অচেনা কারন,, অনেক নির্ঘুম
রাতে ওরা পথ হেটে ক্লান্ত,, ওদের ঘুমাতে দাও
বুকের নরম ওমের মাঝে,, বেঁচে থাকাটা খুব জরুরী
পাওয়ার জন্য.... এসব তোমার থেকেই শেখা
মাটির তলায় শুয়ে থাকা ঘুমন্ত বীজের মন প্রশ্ন করে না,
সে জানে সময়টুকু কাটাতে হবে সুর্যনগরে পৌছাতে গেলে।
যারা রাতজাগা পাহারাদার তারারা কেমন করে স্বপ্ন বোনে
জানতে ইচ্ছে হয়।
লুকনো দরজার পেছনে দুটো আত্মায় একটাই ঘর
ছিল, সেটা বুঝতে সময় গেছে অনেক পথ..
আজো কি যাচ্ছে না সময় নিজের নিয়ম মেনে?
সামনে জেগে আছে ভোর রাতের শহরে।
নিরুত্তাপ রাতের বুকে ইচ্ছারা গলা শুকিয়ে
ঘুমিয়ে পরে কারন রাত সত্যি এখনো বাকি
স্বপ্ন দেখে মন বার বার অস্থির হয় ভোরের খোঁজে।
অনন্ত শয্যায় শুয়ে নীলকন্ঠ রুপে তুমি আমির কথার
জীবন ,, এক পেয়ালা অমৃতর তৃষ্ণা বুকে আর
ইচ্ছার ঘরে অপেক্ষার আলো এই হয়তো
নিয়োজিত বাঁচা।
ঘুম জাগা চোখ মরা স্বপ্নর স্তুপাকার
মাটির তলায় চাপা পরা শোক নটেগাছের
কথা অথচ অসংগত বাঁচায় তুমি আমি হেটে যাই
যুগ যুগ ধরে।
সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭
কিছু কিছু কথা
--------------------------------------------
নেশাগ্রস্তর মত ইচ্ছারা জেহাদি আস্ফালন ছোঁড়ে
বুকের পাঁজরে। হিমেল পাহাড়ের বুকে বরফ
হিমাংকস্থান ছাড়তে থাকে,, আত্মিয়দের দরজায়
দুর্বোধ্য চিহ্নগুলো আমায় আর অবাক করে না।
নিয়মের সুত্র আজকাল অনিয়ম আঁকে আমার
দেওয়ালময়, ধারালো আসবাবপত্রের ক্ষতগুলোকে
রঙিন প্রসাধনীতে ঢেকে ফেলায় বেশ পারদর্শিনী
এখন আমি।
সময় পেলে পাতা উল্টিয়ে নিশ্চিন্দিপুরের দিকশুন্য
মাঠটায় হারিয়ে যাই.... বড় লোভ আমার ওই মাঠে
লুটিয়ে পড়া জোতস্নার উপর। মনে মনে ভাবি
অ- সুখ নামে যে শ্বাসকষ্ট বুকের আধারে আশ্রয়
পেয়েছে তার যেন অধিকারবোধ আর না বাড়ে।
সে বছর খুব শীতে একবার ছুঁয়ে গেছে মারন
অ- সুখ,, চারদেওয়ালের প্রতিবেশীরা ব্যেস্ত ছিল
অসময়ের বৃষ্টি শব্দের ইতিউতি নিয়ে।
ভেবে দেখেছি আমার হৃত যন্ত্রর মৃদু শব্দের চেয়ে
অনেক বেশি আওয়াজ এরকম অকাল বর্ষণের।
তাই জানা নেই কে কথা রাখার মত!!
শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭
সাঁকো
কখনো চেষ্টা করিনি বিরল আলো থেকে উড়ে
আসা রেণুদের মুঠোয় আনার,,
ফুরফুরে বৃষ্টিতে উঁকি মেরে দেখেছি জোনাকিরা
স্নান সারে, আর ওদের আলো রেখে আসে নীলচে
খামের বুকে।
ঘুম রাতে যে সব ছবিরা জড়ো করে টুকরো ভীড়
তাদের একটাও চেনা হয় না,, তিলেতিলে শেষ
হয়ে যাওয়া ইচ্ছাগুলো সাদা কাপড়ে নির্বাক।
পাথর সাজিয়ে কবর আর তার ভেতোর ভেঙে
যাওয়া বেলজিয়াম গ্লাস রেখেছি, কারণ অনেক
যত্ন লেগেছিল ওই নীরব কাঁচের বুক জুড়ে।
তুমি খরচের হিসেব চেয়ে পাঠিয়েছিলে,, সুর্য
ডোবার আগে কিছুটা আলো সরিয়ে রেখেছিলাম
লক্ষীভাঁড়ের আড়ালে সেখান থেকে কামরাঙা
রংটুকু কেবল খরচ হয়েগেছে ঐ বেলজিয়াম গ্লাসটার
গায়ে।
এভাবে সমস্ত সাত্ত্বিক আর তাত্ত্বিক উপকরণ বন্ধক
রইলো বিদীর্ণ সময়ের স্রোতে...এভাবে ছুঁয়ে
যাক জন্মাবধি অগুনিত স্থবিরতা।
বাসস্টেন্ড এর বেঞ্চে বসে ভেবেছি এমন অকাল
বৃষ্টি ঠিক কতটা আমাকে ভেজায়! নাকি মনখারাপের
রঙ এ ছবি আঁকার জন্য সংকেত? বুঝি না ঠিক যেমন
বুঝিনা কালপরুষের ছায়ার পাশে কেন তোমার ঘরের
নিশান! তোমায় বলা হয় নি আমার হারিয়ে যাওয়া প্রিয় তুলিটা
রিভুদের উঠোনে পেয়েছি, সেদিন তরল জোতস্নায়
ঘন রক্তকরবী তে চোবানো তুলিটা আমায় আর আমি
তুলিটাকে ঠিক চিনে ফেলেছিলাম।
শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
খয়েরী রঙের কথা
ধোঁয়া ওঠা সমান্তরাল ভোরে বহুবার তুমি আমি
হেঁটে গেছি পারিজাতের আঙিনায়,,
প্রশ্নচিহ্নর আড়ালে আশ্রয়টার কোনো সাঁকো ছিল
না তবু গলার স্বর শুনে আমায় পড়ে ফেলা এ তোমার
এক অদ্ভুত অহংকার।
অতিদাহ্য ক্ষতগুলো এতো বেশি এক ঘেয়ে হয়েগেছে
তাই আর ওই স্বাদগুলোর বর্ণনা তোমার আর দেওয়া
সম্ভব হয় না। পাতা ওল্টালেই হারিয়ে যাওয়া শব্দরা
বাঁসা বাঁধে অযাচিত আশ্রয়ে,, । অনুকরণে বেঁচে থাকা
আমার অভ্যাস বলতে পারো।
স্বার্থপরতা শিখতে থাকি রোজ একচুমুক, যাতে
সময়ের রংমিলান্তে মিশতে পারি। অনেক না বলা
কথার মত এটাও বলা হয়নি যে আজকাল মৃত্যু শব্দটা
মনকে গ্রাস করতে পারে না,, ঘুমে ডুবে যাওয়া রাতে
ঘড়ির কাঁটার শব্দ আমার মাথার ভেতোর
দাপিয়ে বেড়ায়,, আমি তখন অন্য গ্রহে পালিয়ে যাবার
জন্যে হন্যে হয়ে বুকের ঘরে সিঁধ কাটার চেষ্টা করি।
মুহুর্তে সামনে একটা সিঁড়ি দিয়ে কয়েক পা হাঁটতেই
নিজেকে ভারসাম্যহীন মনে হয়,, চারপাশে ক্রমশ
ভীড় জমতে থাকে ছায়াপথের।
নিয়নবাতির স্পটে স্বপ্নগুলোর মুখ তখন বিভৎস রূপ
ধারন করে।
এমন সময় জেটিঘাটে জাহাজ মাস্তুল উড়িয়ে
সাইরেন দেয়,, চোখ মেলে বুঝি আমার মন আজ
বড্ড বেশি খারাপ।
দিনের প্রচ্ছদে লেগে থাকে সেই খয়েরী রঙ,
বেলার মাঝে খবর পাই পাড়ার প্রাণবন্ত ছেলে
দেবাশিস মল্লিক ভোর বেলা রোড আক্সিডেন্টে নিজেকে
থেঁতলে ছিটকে গেছে গ্রহান্তরে.... মন খারাপের কারন
নিশান খুঁজে পায় মন।