রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুবর্ণা (১১৮)

তুমি চলে গেছো রঙিন  প্রজাপতির প্রচ্ছদে  ভর করে 
যেখানে আমাদের বলে কিছু নেই 
অথচ আমি মন্দ বাসার গল্প লিখতে লিখতে   প্রায় 
ভুলেই গেছি আসলে এ গল্পে তুমি কোথাও নেই,

ধান কেটে নেওয়া মাঠের নির্জন  দুপুর বেলা যেভাবে 
ভালো  থাকে রয়েছি  সেভাবে  , 
বটের ঝুড়ির  একলা  মাটি ছুঁয়ে ফেলা যেমনটা তেমন 
সেঁধিয়ে  থাকি ভাবনার  গভীরে ,, 
আয়নার  বুকে রাখা নীল টিপ এখন অপ্রেমে অভ্যস্ত 
সুবর্ণা  আমাদের গল্পে আমরা  হারিয়ে গেছি 
আমাদের উঠোন জুড়ে তাই ঘুঘুর আনাগোনা আজ।

#সই(সুবর্ণা  প্রিয় নির্জনতা) 



না লেখা গল্পে



হঠাৎ  হঠাৎ  এ শহরের  মানুষ গুলো  বড্ড একলা হয়ে যায়, 
এই একলা   টের বাইরের আকাশ বাতাস পায়না, 
অথচ  এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম  ভিড় প্রতিটা সিগন্যালে 
একশো  কুড়ি মিনিট  মানুষের গা ঘেঁষে  মানুষ  দাঁড়ায়  আবার পাশাপাশি  হাঁটে। 
একলা  মানুষ গুলোর নির্ঘুম  চোখ  মনের পাঁচালীতে অদ্ভুত 
বর্ননাহীন অশান্তি  নিয়ে একলা মনের জন্য একটা  অবয়ব  খুঁজে ফেরে। 

কত নাম কত সম্পর্ক  ধরে চিৎকার করে 
স্টেশনের ঠিকানা বোর্ডের ওপর সফরের সাথির 
কতই না নামই ভেসে ওঠে। 
কখনো  কখনো  স্বপ্নের  মত কিছু সম্পর্ক  ফুটপাতে  হাতে হাত রেখে হেঁটে যায়   কখনো কখনো  কিছুতেই  বিশ্বাস  হয় না এ শহর কিভাবে  গিলে ফ্যেলে সম্পর্ক গুলো , 

দিনের শেষপ্রান্তে  মানুষ  খোলসে  ফেরে   মেঝে জুড়ে 
ইচ্ছে আর সাধের স্বপ্নেরা ভেঙে  যাওয়া  কাঁচের  টুকরো 
নিজের স্বপ্নের  সজভাঙা  টুকরোয় পায়ের পাতা যন্ত্রনা  এঁকে 
জানলার সামই সে আকাশ খোঁজে , কান্না  অন্ধ অক্ষর দিয়ে
বয়ান লিখে রাখে অদৃশ্য  খাতায়, 

আয়নায় নিজের মুখ চিনতে পারেনা মানুষ 
তার নিজের গল্পেই সব কিছু  কেমন অসম্পুর্ন 
কিছুই করা হলো না বেঁচে থাকা জুড়ে 
শুধু তার  না লেখা গল্পে একটা অদৃশ্য  তুমির খোঁজ  রয়ে যায় 
একলা শহরে । 


 #সই ( না লেখা গল্পে) 




সারল্য

সেই চোখ পিটপিট  পুতুলটা খুঁজে পাইনা আর 
পুরনো বাড়ির বাগান আমাকে চেনে না, 
ঝোপের ধারে খেলনাপাতি  আর বুনো পাখির
কিচিরমিচির শব্দ জব্দের পথ কোন মাইলফলকে
হাতছাড়া  হয়ে গেছে... খুঁজে পাইনা । 

স্বপ্নরা ঘুম ভাঙার পর সেদিন অদৃশ্য  নগরে হারিয়ে গেছিলো, 
হয়তোবা  এসব মিথ্যে  কিংবা নিজেকে ছেলেভোলানো গল্প
বদলে গেছি পথের বাঁকের মত আমিই আর হারিয়ে ফেলেছি
সেই চোখ পিটপিট পুতুলটা  হারিয়ে  ফেলেছি স্বপ্ন রাখা সেই নীল রঙের  বাক্সটা ... 
হারিয়ে গেছে যাবতীয় সারল্যের উপকরণ 
আর আমি কেবল মানুষের  কাঠামোয়  বেড়ে চলেছি 
ছল, পাপ, স্বার্থ, আমার বাতাসের রঙ আলোর রঙ 
নিশ্বাসের  রঙ নিয়ে, 
হারিয়ে গেছে চোখ পিটপিট পুতুলটা 
হারিয়ে গেছি আমি... 

#সই ( সারল্য)

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

খিদে

আজকাল আমার ভীষণ রকম খিদে  পায় 
এমন রাক্ষুসে  খিদে আমি আগে এ জীবনে কখনো  অনুভব 
করিনি, 
আগে আমার না খাওয়া পেট অনুভূতিহীন ছিলো 
এখন আমি পথ ঘাট  গলি  গাছ পাতা বাতাস আকাশ 
ডাস্টবিন  ফেলে দেওয়া  যাকিছু  গোগ্রাসে গিলতে  থাকি,

আমি গিলতে থাকি প্রেম অ-প্রেম ভালবাসা  মন্দবাসা ঘেন্না 
লজ্জা, ভয় দুক্ষ, রাগ অভিযোগ যন্ত্রনা  আফসোস  আদর ভালোলাগা ভালোবাসা ...
সব সব একটা  আস্ত সমাজ ,পৃথিবী , ব্রহ্মাণ্ড  সব গিলে ফেলি
অদ্ভুত  খিদে মেটাতে  আমার আমি তোমার থেকে তুমি সবাইকে খেয়ে ফেলি ....না মেটে না খিদে এত খেয়ে 
তবু মেটে না খিদে ,

আজন্মের কিংবা বহু জন্মের খিদেতে পেয়েছে আমাকে 
রাতের অন্ধকারে গলির গুণ্ডা , মন ছুক ছুক লোকটা ,
সঙ্গমে রত দশ ফুট বাই দশ ফুট বেঁচে থাকার সংসার আমি এক গ্রাসে খেয়ে ফেলি তারপর শুরু করি রাস্তার ঘেয়ো কুকুর বিড়াল ,নেড়ি কুত্তা ,কিংবা ওই বড় বাড়ির অদূরে বেড়াল অথবা বিদেশী কুকুরটা দিয়ে ,
 আমার খিদে কিন্তু মেটে না ...পেটের ভেতর এক অদ্ভুদ আগুন সব নিমেষে গিলে নিচ্ছে ।

অথচ  কোনো এক কালে আমার তেমন একটা খিদে ছিলো না
হয়তোবা বেছে বুছে  কিছু একটা খুব পছন্দের খেতে ভালবাসতাম , সেটাও খুব নিয়মে ,
আজ সে আমি এক রাক্ষুসে খিদে নিয়ে ঘুরছি তোমরা সাবধান থেকো হয়তোবা কখনও কোনো রাস্তার মোড়ে হাঁটতে চলতে আমার খিদের সামনে ...আর তারপর ....


©সই (খিদে)


সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মুখোমুখি

হঠাৎ  মুখোমুখি  সময়ে তুমি আমি বড্ড
অচেনা, 
যেমনটা  স্নান ঘরে তোমার কথা  মনে পড়লে
নিজেকে আরো একটু  যত্ন  করার কথা আজ
অচেনা,, 
আসলে পরিচয় গুলো  হঠাৎই  রাস্তা  বদলে ফেললে
কেমন অচেনা  হয়ে যায় , 
পুরনো  সব চেনাশোনা  মুখ থুবড়ে  পড়ে, 
ভালো লাগা কোজাগরীর আলো  রবি ঠাকুরের 
প্রেমের গান সব কেমন গা গুলিয়ে ওঠা অসুস্থতা মনে হয়,, 
ইচ্ছে ঘরে তখন সারি সারি মৃত দেহ, 
একটা  গোটা পৃথিবীতে  কেমন অসমপৃক্ততা, 

শরীরের কাঠামোয়  গেলে থাকা মাটি  ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে নিথর  স্মৃতির বিসর্জন কীভাবে  করবে এই ভেবে, 
ভাল কিংবা  মন্দবাসার সমস্ত  ব্যাকরণ নিয়ম মুখ
ভেংচে আরো এক অদ্ভুত  অচেনা  ব্যাকরণ  সাজায়, 
আর মুখোমুখি  সেই পুরনো  তুমি আমির সময়টা এক্কেবারে 
অচেনা । 

# সই (মুখোমুখি) 

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কবিতা মুখোশধারি গল্প




বেঁচে থাকা  কখনো কখনো  বিকল্প পথ খুঁজে ফেরে 
জীবনের ছন্দ নিয়ম মেনে একই লয়ে হাঁটতে  পারে না 
কবিতারা তাই মুখোশ পরা গল্পের  মত  
ভালবাসা  তাই একটা অর্গাজম  মাত্র 
আর ঘর বাঁধা  আসলে বেশ কিছু আপোষ এর সাথে
রফা সেরে সমস্ত ইচ্ছে  কে বলির কাঠে রোজ কিছু কিস্তিতে 
মরতে দেওয়া, 
তবু ভালো আছি ফটোফ্রেম যেন  হাসি মুখে ড্রইংরুমে রাখা থাকে, 
আসলে জীবনের  ড্রইংরুম আর অন্দরমহলের দূরত্ব রাখা জরুরী, 
 সম্পর্ক গুলো  সাজানো  শোকেসের ভেতর  দেখলে
ভালো  লাগে রুচির  পরিচয়  হয় উচ্ছশীল, 
অন্দরমহলে  পরিচয় গুলো  কেমন হাড় কংকালসার  
নগ্ন আর থ্যাতলানো ,  
মানুষ  বাঁচে প্যাট আর চ্যাট এর জন্যে প্যাট যখন ভরা থাকে
চ্যাট এর জন্যে মরিয়া হয় আর তখন হয় ভিতর মহল আর বাহির মহলের সমঝোতার লড়াই । 
কাঁচ ভাংে ক্যানভাস রঙ বদলায়  কারনের নিশান গুলো 
মেঘেদের মত স্থান বদলায় আর কবিতা  কবি তখন নষ্ট চরিত্রর মুখোশ  পরে ঘরে বাইরে আলাদা আলাদা এক উঠনে  বারো ঘর করে মরে। 

#সই(কবিতা মুখোশধারি গল্প) 



ঘুমিয়ে পরার আগে

 রঙের আড়ালের তুইটা  আর ছুঁতে পারিস না আমায় 
তোর জানা দরকার তোর  অহংকারি
তথাস্তু  শব্দটাও   আমার চোকাঠে দাঁড়াতে পারে না, 

আমি চিরকাল ফরিকের স্বত্বা ছিলাম আছি 
 নিতান্ত  ঝুলিতে তবু একটা  চাঁদের  হাসি অমলিন 
আজও।  
তোর আমার মাঝে এখন বারো নদীর  স্রোত 
দুয়ারে দুয়ারে আজো আলোর ফেরিওয়ালা   কিছু কম আসে না, তবু লোভী  হওয়া শেখা হয়নি আজো, 
 তাই জোনাক আর চাঁদের  আলোর  সাথে আজো আমি  উদার বাউল রাজার মতই বাঁচতে  ভালবাসি, 
আমার   মাটিতে  পারিজাত হাসে,  গাছের সংসারে ভালবাসা 
আছে,, 
 মঞ্চের আলোর ভিড়ে  হারিয়ে  যাওয়ার  ভয় আমার জন্মগত। 

 যদি কখনো  সময়ের বৃষ্টি তোর রঙ ধুয়ে দেয়  ফিরে আসিস, 
কিছুটা  গোলাপবর্ন আর খানিকটা  বেহাগের শেষ রাত আর
সেই পাহাড়ের  গায়ে  একমুঠো  আকাশ দেখতে  পাওয়া ঘর
ক্যানভাসে আঁকা  ছবি আর কবিতা অপেক্ষায় থাকবে 
ঘুমিয়ে  পরার আগে অবধি, 

#সই(ঘুমিয়ে  পরার আগে) 
 


বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

না পাওয়া

সমুদ্রমন্থনের সময় আকাশের কিছু প্রাপ্তি  হয়েছিলো 
কিনা কেউ লিখে রাখেনি লিখে রাখেনি  সেদিনের আকাশে
উড়তে থাকা পাখির  শরীরে  গরল কিংবা অমৃত কোন
বাতাস ছুঁয়েছিলো, 
 ঈশ্বর  ব্যাস্ত  ছিলেন নিজের অমরত্ব  অক্ষত রাখায় 
 শয়তান  ব্যাস্ত  ছিলো অধিপত্য অক্ষত রাখায়,  
পাখির  আকাশের খবর কেউ রাখেনি, 

 সেদিনের আকাশে  মেঘেদের  ঠিকানায়  কিছু স্মৃতি অমরত্ব 
লাভ করেছিলো  , পাখির পালকে ছুঁয়ে  কালো অসুখ  
শরীরে  সিঁধ কেটে কলজেটা  দখল করেছিলো 
আকাশ যে খুব একটা  পাখির অসুখ টের পেয়েছিল  তেমনটা 
নয়  পাখিও টের পায়নি কখন  যেন  আকাশের বুকে ভাসতে থাকা মেঘেদের নীল রঙএ মিশে  গেছে লোভী  গরল, 
ঈশ্বর  অমরত্ব  পেয়েছে  নাকি শয়তান  পেয়েছে অধিপত্যের
পৃথিবী! 
পাখির পালক ছুঁয়ে  জয় পরাজয় নিসৃত  সময়ের কালসিটে 
ছিলো  চিরন্তন,  আকাশের যন্ত্রনা  আরো কিছুবা বেশি, 

এ লেখা ঈশ্বর  কিংবা  শয়তান  কাউকে  কাঠগড়ায় দাঁড়  করানোর জন্যে নয়  এ লেখা শুধু জানানো হলো  যে 
স্বার্থের দুনিয়ায় পাখিটা কিংবা আকাশটা   ঈশ্বর কিংবা শয়তান  কারো হৃদয়ে  ভালবাসাকে  কিন্তু খুঁজে  পায়নি।

#সই (না পাওয়া)




রুহ

মানুষ  আকাশ মুখি গাছ হতে চায় 
পাতায় লিখে রাখতে চায় আশ্রয় , 
সবুজ  বিশ্বাসের  দিনে ভালবাসা আসে
রুপোলী  রুপকথার মত , 
গাছের শরীর  মন পড়তে  শেখেনি মানুষ 
মানুষের  তাই   নাটকের চক্রবুহ্যের থেকে  বেরিয়ে
আসার মন্ত্র শেখা হয় না  সে বাইরের  আবরণে  গাছের
পোশাক  টুকু  পড়তে  শেখে কেবল , 

গাছেরদের মত একলা  মাটি  আঁকড়ে  দাঁড়িয়ে  থাকা শেখা হয় না বলেই মানুষ  তার চলার পথের দুপাশে  নিসঙ্গতা নিয়ে হাঁটতে  থাকে   আর  মনে ভাবে   ঈশ্বর  বুঝি তার সাথে  ষড়যন্ত্র  করে চলছে , 
মানুষ  গাছেদের মত তাই ভালবাসতেও শেখেনি মাটির গভীরে  শেখেনি  ডুবতে ... 
গাছ আশ্রয়  দিতে দিতে পাতা ঝরিয়ে  ফেলে একদিন
সবুজের  দিনে জড়িয়ে  থাকা ভালবাসা  ছেড়ে  চলে যায় 
গাছ আকাশ মুখি  হয়ে হাসতে  থাকে এই ভেবে সবুজের  দিনে সবাই  ভালবাসার  ছলে কথা দেয়,   আসল তো সেই যে শুকনো পাতা ঝরে যাওয়ার  দিনেও সখ্যতায় হাসি মুখে আগলে  রাখে,  তাই মানুষ  গাছের মত দেখতে  হতে চেয়ে কবিতা  কাহিনি  লিখলেও গাছ হয়ে ওঠে না। 

#সই (রুহ)



রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

গল্পটার সাক্ষী ওরা

গাং চিলের বুকে রাখা নীল কথপোকথন 
সময়ের উৎসবে  গোপনীয়  থাকুক পুরনো 
অভিযোগ, 
পাহাড়ের  গায়ে  কাঁচের বারান্দায় মেয়েটা এখন সারাদিন ছবি আঁকায় মশগুল  সময়ের ঘরে মহাকালের শমন  পেয়েছে সে, 
যেতে  হবে তাকে...
 বুকের মাঝে মারন রোগের  আতিথেয়তা  প্রতিনিয়ত, 

  গল্পের পান্ডুলিপি  রাখা থাকবে ক্যানভাসের রঙ তুলির
ধাঁধায় ,  
মেয়েটা মৃত্যুকে প্রেমিক ভেবেই  অজস্র গল্পতে রঙ ভরছে
পাহাড়ি  রংগিনী নদীর বহতা   সাক্ষী   সাক্ষী  থাকুক  তিস্তা 
সাক্ষী  থাকুক  নাম না জানা পাহাড়ের  বাঁক পাকদণ্ডী পথ,, 

 ঘুমিয়ে  পড়া মেয়েটার  কথা যারা  জানতে আসবে এই
পাহাড়ের  কাছে   বাতাসে লেখা পাবে কুয়াশার অক্ষরে  না বলা কথাদের, 
রংগিনী তিস্তা  পাকদণ্ডী  পথ হয়তো বা  ফুঁপিয়ে কেঁদে  বলবে
বড্ড দেরি  করে ফেললে হে আগন্তুক । 

#সই ( গল্পটার সাক্ষী ওরা)





নো টিয়ার্স নো পেন

সম্পর্কগুলো  হারিয়ে গেলে আর কান্না পায় না 
দরজার বাইরে  অপেক্ষার পথটা   অনেকদিন ফাঁকা 
সেখানে হৃদয়ের কারবারের তেমন কেউ আসে না 
অথচ কবিতায় আসে নীরব  অভিমান 
আসে নোনা পানির  ছলাৎ ছল ঢেউ, 

স্মৃতি চিরকাল কোনো এক সময়ের মৃত্যুর  নাম 
আজটুকু হাতের মুঠোয় 
হয়তো  এ কবিতা নীরব  কোনো শুন্যতার নাম 
হয়তো  সম্পুর্ণায় কবিতা নিষ্প্রোয়জন, 
 রোজ অনেক প্রয়োজন ভুলে থাকতে আটটা পাঁচটার
নিয়মিত  তাড়াহুড়ো  
ব্যাস্ত  শহর জানে প্রয়োজনীয়  আয়োজনকে বেমালুম 
ভুলিয়ে দিতে 
ব্যাস্ত শহর সম্পর্ক গুলো  থেকে মোহ মায়ার  মায়াবী চোখে
কাপড়  বেঁধে  হাসতে   শেখায় বাঁচতে  শেখায়
আর তাই কোনো  চলে  যাওয়ায় মন কেমনের কথা  শহর শেখায় না। 

#সই (নো টিয়ার্স নো পেন)





পুড়তে থাকা হৃদয়পুরের কাব্য)



শরীর নয় মন পুড়ছে   পুড়ছে যত্নের  কলজেটা 
আবভমানে মিশে গিয়েও বেঁচে থাকা জুড়ে নিরবতা 
পুড়ছে , 
তুমি বেখবর  হয়তো  তোমার চরাই উতরাই পথ এবার অভিযোগ হীন,
অতীত  শুধুমাত্র  একটা সময়ের সৎকার এর স্মৃতি  এখন, 

সেই চেনা শরীরের থেকে এখন অনেক কিছু ছেড়ে  গেছে
 আজকাল  তোমাকে দোষারোপ  করতে  ভালো  লাগে না 
 বরং  ভাবতে ভালো  লাগে তার চেয়ে  অনেক বেশি তুমি, 
আসলে আমিও একবার একবার অন্তত  তোমারই মত গোত্রের বাজারে  বিক্রি  হয়ে দেখতে  চাই বেঁচে  থাকা 
সম্পর্ক গুলোর  মৃত  গন্ধ আসলে ঠিক কেমন ! 

 আমার জন্যে অবশ্য  এখন  কাঁদার মত  তেমন কেউ নেই 
যে ছিলো সে  তুলসীপাতায় চোখ  ঢেকে মুছে
নিয়েছে  আজীবনের যাবতীয় কষ্ট ... 
এখন রোজ রোজ মৃত্যুর উৎসব  উজ্জাপন 
 ভালোই লাগে   বরং  অহেতুক  ভালবাসায় আমার 
গা ঘিন ঘিন করে বমি পায়, 
তোমার  ভেতোর থেকে বেরিয়ে আমি নতুন করে তুমি
হয়ে গেছি   এখন পাপ আমার ভাল লাগে ... ভালো  লাগে 
যখন  কারো বুক গড়িয়ে রক্তক্ষরণ  এর দায় বর্তায়
আমি নামের  চরিত্রের ওপর 
ঠিক ঠিক এভাবেই দেখতে  চেয়েছিলে 
তোমার গল্পের  নায়িকার ভুমিকা  তাই না মান্যবর? 


#সই ( পুড়তে থাকা হৃদয়পুরের কাব্য)







বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অচেনা আকাশ

কোনো কোনো  দিন মানুষ  অচেনা  নিয়মের মুখোমুখি 
দাঁড়ায়  সে দেখে উড়ে  যাওয়া  পাখিদেরও বসত হয়, 
ওদেরও সংসারে  রাতের আলো জ্বলে জোনাকি গুঁজে, 
কোনো কোনো  দিন মানুষ  নিজের গোপন  পাপের মুখোমুখি 
দাঁড়ায়  দেখে ভাংগা আয়নায়  নিজের হাতে বিশ্বাস  হত্যার রক্তে  ভেজা তার নিজের  চেহারা, 
 কোনো কোনো দিন   মানুষ  সম্পর্ক থেকে দূরে সরে দাঁড়ায় 
নিঝুম রাতে সে দেখে সে বিহীন সম্পর্ক গুলো  কেমন অচেনা, 
 কোনো কোনো দিন মানুষ তুমুল  ঝড় বৃষ্টির মাঝে নিজেকে নিঃস্ব করে ভিজতে থাকে দেখে সত্যিই কি আকাশটার ঐ ঝড়
বৃষ্টি  তার সমস্ত অস্তিত্ব  ভেজাতে পারছে কিনা, 
এভাবে একদিন মানুষটা হাঁপিয়ে  ওঠে  গিয়ে দাঁড়ায়  অন্ধকার 
ভুবনডাঙার  মাঠের কিনারে তারপর সে অছিদ্র অন্ধকারে 
নিজেকে গুঁজে  দিয়ে নিজের পচে যাওয়া  অস্তিত্বের  গন্ধ
ছড়ানো একটা  ঘরে এসে দাঁড়ায়   সে একটা  তারায় ভরা
আকাশ আর একটা  আশ্রয়ের বুক ভিক্ষা করে বেঁচে  থাকার কাছে, 
অথচ একটা  নিদারুণ  অভিশাপ  নিয়েই ফিরে আসে সামাজিক  বরাদ্দের চতুস্কোনে,  অচেনা লাগে তার ঈশ্বর কে
অচেনা  লাগে আকাশ  অচেনা  আয়নায় তার নিজস্ব অবয়ব। 

#সই(অচেনা আকাশ)

মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মা

তোমায় পেয়েছি প্রথম আলোয় সহজ পথে
যেদিন তুমি চলে  যাবার  চিঠি লিখলে  সে
চিঠির  অক্ষরগুলো  শিখিয়ে দিলো আমার ভেতর
তুমি ঠিক কতটা রয়েছো, 
আমি কিচ্ছু বলতে পারিনি একটা মাতাল ্
হাওয়ায়  শুকনো পাতায় আমার অস্তিত্ব তখন দিকশুন্য
জানতাম তোমায় রাখার সাধ্য নেই আমার  এই জানাটুকুকে
অজস্র বার আড়াল রেখে ঈশ্বরের সাথে কথপোকথন 
সেরেছি তোমার বিনিময় আমি... কখনো কখনো 
মন বলেছে ঈশ্বর  জিতিয়ে দেবে৷ সমাজ সংসারকে তোয়াক্কা 
না করে তোমার কথা ভেবেছি তোমার কাছে নিজেকে রেখেছিলাম
আমার মাতাল ঘোর  তুমিহীন  আমাকে দেখতে রাজি নয় 
শিখতে চাইনি তুমি ছাড়া  বাঁচতে ,  
তুমিও শেখাচ্ছিলে  আমি পালিয়ে গেছি মস্তিষ্কের  কাছ থেকে
মনের কাছে।...একটা  মিরাক্যাল একটা  ম্যাজিক  কিংবা 
আলাদীনের সেই প্রদীপ এর জিন এর অপেক্ষায় স্ত্রোত পাঠ
করেছি। 

জানোই তো এ পৃথিবীতে  তোমার মত ঈশ্বরও নন ঈশ্বরের অপরাধ  এর হিসেব কে রাখে জানি না... জানতেও চাইনি
আমার চাওয়া চিরকালই  সামান্য   আর সেই সামান্যে তুমিই
একান্ত  তুমিই নিজের তুমিই স্বার্থহীন  তুমিই... 
হাতড়ে বেড়াই তোমায়  কুঁকড়ে যাই  ভয়ে  শীত করে জ্বর আসে তুমুল মাটি আঁকড়ে  কাঁদতে কাঁদতে দিন কাল মাস
 পেরোই  মরসুম বদল হয় আমি তোমার  অপেক্ষা  তোমার দিকে হাঁটতে  থাকি.... "মা"

#সই (মা)

মুক্তির পথে

চোখ বন্ধ না হলে মোহ থেকে মুক্তি পায় না মানুষ 
ভাংতে  থাকা ঘরের জানলা দরজা আগলে  রাখে
অলিখিত পুতুল খেলার আমার শব্দে, 
আমার বলে আসলেই কিছু হয়না এই খেলা ঘরে মন বোঝে না, 
মন আর মস্তিষ্ক একি ভাবে ভাবতে পারে না এক শরীরে ঘর হলেও আকাশ ও উঠোন  আলাদা, 
তুমি তুমি ও তুমি কেউ কথা  রাখোনি নালিশগুলো 
এখন বোবা কিংবা  মৃত ,  হাতের মুঠো  খুলে মুক্তি  দেবার
সময়  এসেছে এবার,   তবুও ক্ষরিত  রক্তের স্রোতের দৃশ্যে
আত্মজর মুখ ভেসে  ওঠে  বলেই মুক্তির দরজায় দাঁড়িয়ে  কেবল আজ মৃত্যুর কবিতাই লিখতে পারি... তোমাতে ডুবতে
আরও  কতটা  পুড়তে হবে জানি না  আর কতটা রক্তক্ষরণ বাকি তাও জানি না, 
আমি ফুরিয়ে গিয়েও গেলে রয়েছি জীবনের কোনে 
আজকাল অসহ্য লাগে এই বেঁচে থাকায় নিজেকে দেখতে... 
বড্ড হাঁপিয়ে  গেছি ঘুমোইনি বহু আলোকবর্ষ , 
তবু  সে চোখের  ওপর হাত না রাখলে মুক্তির দরজা পেরোই কিভাবে ... কিভাবে মৃত্যু  তোমার ঘরে যাই।

#সই (মুক্তির পথে)

অসম্ভব ইচ্ছা

অসম্ভব  ইচ্ছে 

কোনো কোনো পুরুষ প্রিয় হতে ছেয়েছিল  
ছেয়েছিল ঘামের মতো শরীরে  মেখে থাকতে 
তাদের  আমি ভাবনার বাইরে অন্য অন্ধকার  ঘরের দেওয়ালে 
 দফন করেছি, 
কেউ কেউ আবার চোখের  ভাষায় আমার একান্ত  নদীতে  ডুব দিয়ে চুরি  করতে চেয়েছিল আকাশের আয়না  আমি
তাদের চোখের আকাশ থেকে বঞ্চিত  করেছি চিরতরে। 
 আমার দীর্ঘশ্বাসে মিশিয়ে  দিয়েছি সে সব পুরুষের  সৎকারের ধোঁয়া ,  এর পরেও আমার স্বপ্নের ঘরে বন্দী  আছে সেই বিশেষ পুরুষ  যে কিনা ভালবাসে বন্দি হয়ে থাকতে  আমার খাঁচার ভেতোর , 
আমার বোধের ভেতর তার বোধএর সহবাস 
এক অতল সমুদ্রের  গভীরে  সে আমাতে ধ্যানমগ্ন, 
সবুজ  বিশ্বাসের  ভেতর আমাদের ঘর বাড়ির কড়িকাঠ সাজানো , তার ফুসফুসের আমার বলতে পারা জমাট  মুহূর্ত, 
রুপকথার মত শুনতে  হলেও এটাই সত্যি  আমার একান্ত  বেঁচে  থাকায়। 

দুঃখ আর মৃত্যু  নামক সমস্ত  পুরুষ দের আমি বন্দী  করেছি 
সময়ের বোতলে ওদের বন্দী  হতেই হতো  একদিন যে ওরা
আমাকে পাপি হতে শিখিয়ে গেছে 
আজ সময়ের কবিতায়  তাদের বন্দী  করে মাঝ সমুদ্র তরঙ্গে 
না ভাসালে অসম্ভব  ইচ্ছেরা মুক্তি  পেতো না কখনোই।

#সই (অসম্ভব  ইচ্ছে)

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ব্যাস্ত শহরের গল্পে

 ১) গল্পটা  ফুরিয়ে গেছে বহুদিন হলো 
বহুদিন হলো  প্রথম আলোর দিকে তাকাই না
ব্যাস্ত  শহরে  মিশিয়ে নিই আমার রোজকার
ছোট ছোট  বেঁচে  থাকার কাহিনি,, 
আমার ঈশ্বর  আজ বহুকাল  হলো হারিয়ে গেছে
আলোর ভিড়ে,, 
  বোধ আর বোধোদয় এর মাঝে আমি সংপৃক্ত ও শব্দহীন  এখন আমার অস্তিত্ব , 
নদীর দীর্ঘ জীবন একদিকে ঘর বাঁধে আবার ভাঙেও 
তার উপকথায়  সবটুকুই  বাঞ্চনীয়, 
আথচ শুরুর স্মৃতিকে   উপসংহারের পরিনতির অধ্যায়ের আয়নায় বড্ড অচেনা লাগে, 

২) মানুষ  হয়তো কোনো  কোনো বেঁচে  থাকার গল্পে নিজের
অজান্তেই  মৃত্যু  লিখে ফেলে ,   কলমের নিবে একটা 
অদ্ভুত  পুড়তে থাকা বোধ এর বোঝাপড়ার লড়াই চলে, 
ঈশ্বরহীন বেঁচে  থাকা তখন ডুবতে থাকে সময়ের কুয়োতে, 
ব্যাস্ত  শহর এসব খবর  রাখে না দিন ফুরোলে নিশ্বাসের 
মাইল ফলকের সংখ্যা সিঁড়ি বেয়ে  আরো একটু  নেমে আসে 

 

 হঠাৎ  একদিন অগুনতি  স্খলনে অগুনতি  উত্থানের  পরেও নটে গাছটি মুড়োয়  তারপর  হয়তোবা  নির্বাক এফিটাফের নিচে  নিছকই অগুনতি  গল্পের  মতো আরো একটা  কাহিনি  হারিয়ে  যায় ,, 
তবুও  বেঁচে  থাকা একটা  অদ্ভুত  বিস্ময়কর  শৈলী।। 

#সই (ব্যাস্ত  শহরের  গল্পে)