শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতাই তো চেয়েছি  চেয়েছি একার থেকেও আরো
আরো একলা হতে ।
যেমন  পাহাড়ী বরফের ভেতর হারিয়ে যাওয়া আরোহীর শরীর.... ।
যেমন আত্মা-সফরের  প্রথম দিনে প্ররোদ্ধ হীন আত্মা...
তেমন একলা হতে চেয়েছি এই অজানা আত্ম-সফর ভিড়ে।
কেউ ছিনিয়ে নিক এই আলো অন্ধকার যা চিরন্তন 
সেই অন্ধকারে মিশে একাকার হতেই চেয়েছি এই অনন্তে 
আলো তো ক্ষণিকের ...আলোর আগে আর পরে সেই অন্ধকার সত্যি ,
আর কোনো মিথ্যে প্রশ্রয়ে মোহ নয় মোক্ষ কেবল নিঃসঙ্গতার 
ভেতর অন্ধকারের ভেতর ।

#সই




শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

পরের জন্মে

পরের জন্মে মানুষ হই যদি
হবো লম্পট 
হবো বিশ্বাস ঘাতক,
হবো দ্বি চারিত এক মানুষ, 
হবো অকৃতজ্ঞ, 
হবো স্বার্থপর, 
হবো বাহানা বাজ এক মিথ্যুক, 
হবো চরিত্রহীনতায় বুঁদ 
এক জঘন্য মানুষ 
হবো ঠকবাজ । 
 হবো দায় হীন অপরাধী 
কিংবা মারাত্মক এক খুনি, 
হাতে কিংবা মনে থাকবে ধারালো অস্ত্র,
পরের জন্মে মান-হুস হীন এক দারুন
রকম মানুষ হয়ে বাচাঁর মত বাচঁবো 
এ জন্মটা বাচঁতে চেয়ে স্রেফ বারে বারে মরতে হলো। 


বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

ডেলিসোপ আর শহর

ডেলিসোপের শহরে আশ্রয় বলে কিছু হয় না 
সবটাই সময় কাটানো ...
সবটাই প্লাস্টিকের....
সবটাই কাঁচ ব্যায়ামে সাজানো সো পিস।
আর বেচেঁ থাকাটা শুধুমাত্র পুতুল খেলা ।

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

পুড়িয়ে ফেললাম

 তোমার জন্য এবার কেবল আগুন টুকুই লেখার ছিলো
ভালো খারাপ সব স্মৃতিই দহনের কারণ ,
...পুড়িয়ে ফেলতে না পারলে রোজ নিজেকে পোড়াতে হয়।
অসুস্থ্ হয়ে বাঁচতে বড্ড কষ্ট হয় তুমি বুঝবে না ,
নিজেকে সুস্থ রাখতে এবার তোমাকে শেষমেশ পোড়াতেই হলো।

সময় ফেরৎ হয় না বলেই ভালো কিংবা খারাপ সব স্মৃতির সাথে তোমায় আহুতি দিলাম ,,
ভালোবাসা ,আশ্রয় , মন্দবাসা , যত্ন এবং তারও পরে 
বহুকাল ধরে ঘৃণা লিখতে লিখতে  হাঁপ ধরেছে ,
নিজেকে সুস্থ রাখতে চাওয়ায় দোষ নেই 
তাই তোমাকে শেষমেশ পুড়িয়ে ফেলোতেও কোনো অপরাধ বোধ কাজ করলো না ।




মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

ক্রমশ

ক্রমশ দুচোখের আকাশ থেকে তুমি সরে যাচ্ছো 
কিংবা  মাটির আরো আরো গভীরে  তলিয়ে যাচ্ছি আমি ,
ক্রমশ মাঝের  সাকোটা কুয়াশায় ডুবে যাচ্ছে
কিংবা আমি গভীর ঘুমের সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছি অতলান্তে।
ক্রমশ শহর ফুরিয়ে আসছে আমাদের গল্প থেকে 
 কিংবা উপন্যাস হয়তবা উপসংহারে মাইল স্টোন ছুঁয়েছে।
ক্রমশ শীত হাওয়া আমাদেরকে বরফে মুড়ে ফেলছে 
কিংবা দীর্ঘ নীরবতা তোমার আমার ওপর ব্যাধির মত বিছিয়ে 
যাচ্ছে ।
ক্রমশ লেখা গল্পের অক্ষরেরা অন্ধ হয়ে যাচ্ছে 
 কিংবা স্মৃতি থেকে সময়ের আগুন গল্প লেখার খাতা পুড়িয়ে ফেলছে ।
ক্রমশ মাটি চাপা দিচ্ছি  আমারা সময়কে
 কিংবা এক অপরের সব টুকু  গোপন কবরে  করছি দফন ।
ক্রমশ আমাদের কাহিনী থেকে  তোমার আমার আর তারপর আলাদা আলাদা কাহিনীতে তুমি আর আমি অন্য চরিত্রে।

#সই ( ক্রমশ)



মানচিত্রের কথা

মানচিত্র পালটে ফেলতে ফেলতে কখন যেন
ঘর হীন হয়ে গেছি হাতের মুঠোয় চারফুট জমির মাটিটুকুই 
এখন সম্বল ।
শীত মাখা শহরে পুরোনো উষ্ণতার কথা সুখের দিনের
মতোই লাগে ....তুমি আমি দুজনেই মানচিত্র এঁকেছি নতুন করে  তাই স্মৃতিদের কেবল সুখের খেতাব মুড়ে রাখি ।

এই খালপাড় ,ফেরি ঘাট , স্টেশন , আমার কফিন বন্দী শরীরে নিচে আরো নিচে বুক পাঁজরের তলায় রাখা ... এদের কাছে
চাওয়ার দিন আজ আর নেই ।

তোমার শেষের কবিতার শেষ ছত্র টুকু আমায় লিখতে দিও 
বলেছিলাম একদিন  সেসব ছেলে মানুষী কথারা 
স্বেচ্ছা মৃত্যুতে খুশি এখন ।

তোমার জন্য  জীবনের রিয়ারভিউ গ্লাসে বেচেঁ থাকার গল্প রাখা রইলো ,
সে গল্পের শোকেসে কাঁচ ব্যায়ামে আরো একটা গল্প থাকবে 
তোমার দিকে তাকিয়ে ,
একটা দীর্ঘ ব্যাধির মত আমার কথা মনে পড়বে তোমারও।
কিছু ছাপ নাম বিহীন আর দৃশিত হয় না তবুও বড্ড গাঢ় তার
অনুভব ।

#সই (মানচিত্রের কথা)




শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

বলেছিলাম


বলেছিলাম হয়তো ফেরা হবে না 
বলেছিলাম গোঙ্গার পারে অশ্বত্থ গাছটা হয়তো ভুলে যাবে
আমাকে ,
বলেছিলাম স্বর্গ দুয়ারে দাঁড়িয়ে সেদিনের আমাদের কথপোকথন একটা ফুলস্টপ,
বলেছিলাম একবার মুখ ফিরিয়ে নিলে  আমি শত চেষ্টা করেও ফিরতে পারিনা ।

বলেছিলাম আগামী কোনো বসন্ত কে তুমি টিপের পাতা আর চকলেট দিও না ভালোবেসে ,
বলেছিলাম এক দিন পাহাড়ী ঝর্ণার পাশে এক চিলতে বারান্দায় একটা কবিতা আঁকব ক্যানভাস জুড়ে ...

বলেছিলাম আমায় দত্তক নেবে ?
বলেছিলাম বছর কুড়ি সময়টা তেমন বেশি নয় ।
বলেছিলাম তুমি কিংবা আমি স্বচ্ছ কাঁচের মত থাকবো আজন্ম।

 ফিরেছিলাম একদিন ....
গঙ্গার পারে অশ্বত্থ গাছটা আমায় দেখে হেসেছিল আগের মতই ,
স্বর্গ দুয়ার ছিল নয়ন বাতির নিচে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিল,,
মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমি ফিরেছিলাম ট্রাম লাইনের শহরে ,
ঋতু বদল হয়েছে আকাশের গায়ে শহরের বুকে,
বসন্ত এসেছে যেমন আসে ...তুমি বিশ্বাসী হতে পারোনি,
আমার ক্যানভাসে কেবল তেজপাতা রং  বড্ড বেশি রকম তীব্র,
পাহাড়ে গেছি বহুবার কবিতা আঁকব বলে কিন্তু হয়নি কিছুই ,

তুমি দত্তক নিয়েছো অন্য কোনো কবিতাকে 
আমি ফিরতে পারিনি আগের মত করে ।
শুধু বুঝেছিলাম স্পর্শ মরে গেছে চোখ ও মন থেকে ।






মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪

সই (


ঘুড়ির নেশা পেয়েছে মন হয়তো বা ভোকাট্টা  হয়তোবা ফেরার,
ফেলে আসা  চার দেওয়ালে ফেরা হবে না ....একবার মুখ ফেরালে ফেরাটা  আর হয় না,
তুমি ভাবছো সময় আমিও ভাবছি সময় অথচ দুজনের মাঝে
স্রেফ প্রবাহ যার আসা যাওয়া আছে ফেরাটা নেই ।

#সই 


...

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৪

মায়াবী সফর

ক্রমশ বিলীন হচ্ছো আলো আর অন্ধকার সবটুকুতেই
মিশে যাচ্ছো নক্ষত্রে তারার দীপ্তিতে 
মোম কিংবা নকল আলোর সত্যতা  এখন জানা 
শেষ অধ্যায়ে ।

আলো চিনতে চিরকাল অন্ধকারের প্রয়োজন 
অথচ অন্ধকার চির সত্য ,
আলোর আগে আর আলোর পরে নিকষ কালো টুকুই সত্যি 
বেচেঁ থাকা জুড়ে অজস্র মায়াবী খেলা চলে 
চলে মন্ত্রের জৌলুশ ,
ভ্রম কাটলে ফিরের সময় টুকু বুক পকেটে ...
বোধ আর বোধোদয় দিয়ে জন্ম থেকে শেষ দুয়ারে নকশী কাঁথায় ছুঁচ সূতোর খেলা ,
অন্ধকার থেকে আলোর ট্যানেল হয়ে আবার সেই সত্যির অন্ধকারে মিশে যাওয়া।

#সই (মায়াবী সফর)




শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪

নাভির মত

তোমাকে দেখবো বলে প্রতিবার উৎসব সাজাই ,
অজস্র ছবির ভেতর একটাই ছায়া আমাকে ছুঁয়ে যায় 
সময় ঢেউ ভাঙ্গে যতবার ততবার কেউ যেন তোমার দিকে 
আমার নামক সব টুকুকে এগিয়ে দেয় দৃশ্যের বাইরে থাকা 
সেপাই সেজে ।
বহু দিন আর আগের মত  অ_সুখ  হয় না ভেতর ঘরে ,
বহুদিন হলো ঘুমের ভেতর এক অদ্ভূত শান্তির আলেখ্য
সাজানো থাকে ।
যতবার ভাবি আমার গোপন হারপুনে না থাকার কাব্য রেখে যাবো ততবার আর এক অন্য আমি উৎসবে হারিয়ে যাই,
নাভির মত তোমার থেকে যাওয়া প্রতিবার কেন যেন বড্ড সত্যি হয়ে যায়...!

#সই(নাভির মত)


বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪

অনুপম

তোমার লেখা উপন্যাসের গল্প  মঞ্চস্থ,
 সবাই জানে চেনে বাহবা হাততালি দিতেই পারে  ইচ্ছেমত।
আমি অপেক্ষা করি সেই  সব অজানা গল্পের,
 যা লেখা গেলো না  বাজারি বিকিকিনির হিসেব কষতে গিয়ে ।
একটা একলা ঘর আর তার থেকেও ভীষণ রকম একলা
 তুমি টাতেই আমার যত আগ্রহ।

#সই

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪

ছায়ার মত


অন্ধকারে সঙ্গ বলতে আসলে একার সাথে নিজেকে
চেনানো  মানানো,
ছায়াও শর্ত মেনেই সাথে থাকে কোনো চিরন্তন প্রতিজ্ঞা তার নেই ,
তেমনি তুমি আমি আকাশের রঙের মত ,গাছেদের ছায়ার দিকের মত সরে গিয়ে বদলের রূপে থাকি ।
এই যে এত কথা দেওয়া সাথে থাকা, বন্ধন  , প্রতিশ্রুতি,সাথে না থাকলে ভয় ...
সব সেই ছোটবেলার ভাবনায় যেমন অসম্ভব বৃষ্টি হলেই মনে হতো আকাশটা বুঝি ভেঙে গেছে সূর্যের আলো টুকু  গেছে ফুরিয়ে তেমনটা,,
 আসলে আকাশ ভেঙে পড়লেও বেচেঁ থাকাটা ফুরোয় স্রেফ  নিজের নিয়ম মেনে ,,
 কোনো আকাশ ,কোনো গাছ ,কোনো সাথে থাকা ,পাশে থাকা ,কিংবা প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা না করেই ...
তুমি আমি রোজ রোজ এভাবেই দারুন রকম বেচেঁ থাকি ।

#সই (ছায়ার মত)



সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪

আমাদের গল্প গুলো

বিভোর হয়ে থাকা জমাটি নকশী কাঁথার একটা গল্প ...
সেখানে ভোরের আসা যাওয়া  ছিলো আংশুমানের নরম আলেখ্য ছুঁয়ে,
আমাদের পাহাড়ী বাড়িটা ঝর্ণার গা ঘেঁষে খানিক সময়
বিনিময় করে কথোপকথনে।
যক্ষ পুরীর ভয় ডাকা পরে যায় এমন  প্রিয় সঙ্গমে....,,
তুমি আমি সংজ্ঞাহীনের মত থমকে যাই  এমন প্রিয় উৎসবে।

একে অপরের দিকে হিসেব নিয়ে বসতে গিয়ে একদিন অদ্ভূত ধর্ম যুদ্ধ আমাদের মাঝখানের সেতু টাকে চিহ্ন হিন করে দিলো
একটা অসম্ভব পাহাড় জন্ম নিলো ছবির ক্যানভাস জুড়ে।

প্রতিটা শব্দ  হিসেব করে পা ফেলতে শিখে গেলো তোমার দিকে কিংবা আমার দিকে ,
 প্রতিটা নিঃশ্বাসের ওঠা নামায় এক অনিশ্চয়তা তুমি কিংবা আমি দুজনেই দেখি রাত জেগে ।

আসলে সহজ ভাবে বেচেঁ থাকাটা মনুষের কাছে কখন যেনো
বড্ড কঠিন হয়ে গেছে ,
আসলে সাদা কে সাদা বলতে মানুষের একটা কালো রঙের দরকার হয়ে পড়েছে ,
আসলে বিশ্বাসে থাকার জন্য একটা অবিশ্বাসে সাথে ঘর করা চিরকাল বড্ড বড় ভূমিকায় থেকেছে,
আসলে থাকার পাশে  না থাকা  টুকু না থাকলে থাকাটা কখন যেনো স্পর্শহীন হয়ে যায় ।
আমরা রোজ এমন কত হিসেব করি এমন কত খোশরা লিখি 
তবু আমদের গল্প গুলো এ শহর রোজ জন্ম দেয় আবার মুখাগ্নি করে ....আমাদের গল্প গুলো 
        আমাদের গল্প গুলো।

#সই (আমাদের গল্প গুলো )






রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৫

তোমার না থাকা জুড়ে আজকাল তুমি ভীষন রকম 
বেঁধে বেঁধে থাকতে চাও ,
ভালো থাকার সাত সতেরো এখন বাসী গল্পের মতোই
লাগে ....আসলে মানুষ যে দিন একা থাকতে শিখে যায়
 সেদিন থেকে সমস্ত মন্দ বাসার গল্পেরা ক্যানভাস ছেড়ে অন্য আকাশে মিলিয়ে যায় ।
আজকাল সে এক অংশুমান ভেতর বাইরে আলোময় 
সেখানে অনুভূতি গুলো বড্ড হালকা পালক পালক
তোমার আসা যাওয়া  ছুঁতে পারে না আগের মত।

একদিন জড়িয়ে থাকার বাহানা গুলো আজ গেরুয়া
বসনে মোক্ষ পেয়ে গেছে ।
একদিন বেচেঁ থাকার উজ্জাপণ গুলো আজ নিজেকে ভালোবেসে বেঁচে থাকা শিখে গেছে ,
একদিন ঘর বাঁধার জন্য এক টুকরো বুক জমি চাওয়া
মন আজ আকাশ ,নদীর বহতা, আর বাতাসের বুকে বসত 
রেখেছে ।

বড্ড বেশি বিরতি টেনে   ফেলেছে তোমার না থাকার  অধ্যায় 
এখন সমস্ত জুড়ে এক সে অংশুমান আলোকময় সাম্রাজ্য বিছিয়ে ফেলেছে ....
তুমি তোমার লেখা গল্পে কোথায় কি ভাবে সাজাবে কিংবা
মুছে ফেলবে  স্রেফ তুমিই জানো,
এ তরফে সমস্ত জুড়ে অংশুমান  তার আলো নিরন্তর অনন্তে বিছিয়ে  সমস্ত আমি ময় ছাপিয়ে।

#সই ( অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৬)


বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৪

অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৪



কোনো কিছুর সাথে তুলনায় রেখে অংশুমানকে ভালোবাসা 
যায় না ...,
আকাশ কিংবা নদী কিংবা পাহাড় হয়তো মুহূর্ত দাঁড়ায় 
সে পথে   তবু স্পর্শ যেমন চিরকাল তুলনাহীন কিংবা উপমহীন
তেমন অংশুমান।

ভাবনায় হ্যাঁ ভাবনা ভর করে এক নিরন্তর অভ্যেস সে,,
অংশুমান কোনো অলংকার শোভিত অহংকার নয়,
অংশুমান কোনো  বড় মাপের কবির   শ্রেষ্ঠ  কবিতায় 
বাস করেনি কখনওই ,
অথচ অংশুমান সর্বকালজয়ী প্রেমিক ,কবিতা,সময়,আলোর
আধার,আশ্রয় ,একটা বেচেঁ থাকা,একটা মৃত্যু।

কোনো কিছুর সাথে তুলনায় রেখে অংশুমান কে ভালোবাসা যায় না ...
অংশুমান যতটা দিতে পারে ততটা না হলেই খানিকটা
সে নিয়ে নিতে পারে সহজ করে,
অংশুমান যতটা গাছ কিংবা আকাশ তুলনায় মুহূর্ত থাকে
ততটা না হলে তার আলোয় শিখে গেছি ছায়া কিংবা সামিয়ানা হতে ...., এ পারা কেবল তার জন্য এ সম্ভব কেবল তার উপহারের প্রতিবিম্ব।
অংশুমান তোমাকে জড়িয়ে এখনও না লেখা হাজার উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি রাখা ।
একজন্ম কিংবা বারংবার তোমাকে লিখতে ফিরতেই হয় তোমার ভালোবাসার টানে।

#সই (অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৪)






মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৩

গল্পটা অংশুমান এর আলো ছাড়া এক বিন্দু 
এগোয়নি এগোবে  না, 
বুননের টানা বানা দুটোতেই তার উপস্থিতি,
অনাদিকাল প্রতিক্ষার কাছে মাথা নত করে নিজেকে
বিছিয়ে রাখা সে এক প্রাপ্তির নাম অংশুমান।
ছুটে   যাওয়া তোমার থেকেই ...তোমার দিকেই ফিরে আসা,
উত্তরে তুমি দক্ষিণে তোমার আলোকময় উপস্থিতি,
জটিল সমাধানে একমাত্র তোমার নামের অক্ষরের আধিপত্য 
অংশুমান।

চারপাশে এত কোলাহল ,এত কান্না ,এত সাজানো উৎসব 
প্লাস্টিকের সম্পর্ক কাঁচ ব্যায়ামে থরে থরে রাখা,
এত অভিমান , দিকভ্রান্ত হয়ে  ছুটে যাওয়া ,
এত অবিচার  তুমি ছাড়া আলো দেবে কে অংশুমান!

খাঁচা বন্দী পাখির মুক্তির আকাশ তুমি ,
কান্না অধিকৃত শ্রান্ত চোখে তুমি অংশুমান হয়ে হাহাকার মুছিয়ে দিও,
বাইরে তোমার তিরিতিরি স্পর্শ বুকের ভেতর জেগে থেকো তুমি অংশুমান দহন আর দ্রোহের মতোই।


কেউ নেই কোত্থাও কেউ নেই , কেউ আগুনে হতে পারলেও পুড়িয়ে সোনা তো তুমিই করতে পারো অংশুমান।

#সই ( অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ৩)







অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ২

রাত আকাশে তারার মত তার দিকে তাকিয়ে 
জীবন প্রহর কেটেই যায় .... সে জানতে চেয়েছিল এমন
তুমি ময় অংশুমানে সব টুকু ভরিয়ে রাখ কিভাবে !
বলা হয়নি তাকে  সর্বত্র যার অবাধ থেকে যাওয়া, জন্মাবধি যার খোঁজ সেই সর্বময় ... তাই শূন্যতা আর পূর্ণতা আলাদা করা যায় কই।

রাত হয়ে জ্বলে গেছি যতবার অংশুমানে মিশে গেছে
সবটা আমিত্ব ,
প্রতি সন্ধ্যের দুয়ারে দীপ শিখায় আমাদের দূরত্ব গেছে মিলিয়ে   ,
অক্ষর থেকে দূরে  অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা আমিটার 
ভিতর বাইরে উজাড় করে নিজস্ব অংশুমান ধ্যানস্থ  ।

একমাত্র তোমার কাছেই কোনো অভিমান নেই ।
একমাত্র তোমার উপহারে নেই প্রত্যাখ্যান ।
একমাত্র তোমার দেওয়া দহনে মোক্ষের পথ পাই।

যে স্মৃতি গোপন করা যায় না  সে স্মৃতি জুড়ে বেচেঁ থাকার
রসদ রাখা ... কখনো পর জন্ম প্রারদ্ধ সে ধারা ,
অংশুমান-আলোকময় তুমি রাত কিংবা অন্ধকারের ললাটে এক উজ্জ্বল সকাল মাত্র তাই...
 শ্মশানের শেষ সমর্পনও তুমিই একমাত্র অংশুমান।

#সই (অংশুমান আলোকময় আশ্রয় ২)

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪

অংশুমান

বুকের ভেতরে আর কোনো চিৎকার গুলো বেমালুম 
হারিয়ে গেছে , সে সংসার এর শেষ কোথায় জানতে চাইলো,
আসলে নদীর কখনো কোনো সংসারে ছিলো না তাকে বোঝাই কি করে।
বুকের ভেতর শব্দজব্দ গুলো জট খুলে মুক্তির আকাশে
আজ বহুকাল পাখি ,
বুকের ভেতর আর কেনো জন্ম কিংবা মৃত্যু দিনের তারিখ
রাখা নেই ,
এক অংশুমান বুকের ভেতর ভালোবাসা ময় আলোকময়
এক অংশুমান বুকের ভেতর সব অঙ্গীকার নিয়ে রাজা...,
এক অংশুমান  একটা আকাশ লিখে দিয়েছে বুক পেতে,, ....তারপর আর কখনো আশ্রয়হীন হতে হয় না...
ভালবেসে কেউ আকাশ হলে আশ্রয় তো শেষ দরজার ওপারেও তাই না।

#সই (অংশুমান আলোকময় আশ্রয়)

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪

মন শরীর

মন-শরীরের ওপর ভারী হয়ে থাকো 
মাটির বুকে মাথা রেখে তোমার অস্তিত্ব শুনতে চাইছি,
মন-শরীর ভর না পেলে পালক দেহ আকাশ পেরিয়ে যায়
কোনো জানান না দিয়ে ,,
শূন্য যেন বড্ড হালকা করে দিয়ে মাটির থেকে নদীর থেকে সরিয়ে
নিয়ে কেমন এক অনন্ত প্রবাহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আজকাল ,,
তুমি মন-শরীরকে ভারী করে রাখো।

সুখ আর অসুখের মাঝে সফরটা চিরকাল মানুষের অচেনা এক্কেবারে আউট অফ বক্স,
আলো আর অন্ধকারের মাঝের সফরটাও এক্কেবারে একরকম , যেমনটা জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে একটা না জানা  পথের অস্তিত্ব আছে অথচ কোত্থাও কিচ্ছুটি নেই... অনন্তের মধ্যে
শূন্যতার মত সত্যি ...যা স্পর্শ করার উপায় নেই তবু থেকে যাওয়াটাও মিথ্যে নয়।

মন-শরীরে একটা ভর এর প্রয়োজন হয় তাই ,
মাটির বুকে কান পেতে  ...আছি আর নেই এর অনুভূতিটাই 
বেচেঁ থাকার  সাক্ষর,
মন শরীরের ওপর ভারী হয়ে থাকো
পালক আর শূন্যতার সঙ্গম জীবন থেকে বোধ সরিয়ে নেয় যে।

#সই ( মন শরীর)

আশ্চর্য


কখনো মুখোমুখি কখনো নত জানু হয়ে বসে পড়ে ফেলে আসা সময়,
 হাতের মাঝে হাতের পুরোনো উষ্ণতা সুখ বদলে গিয়ে উৎসব বদলে গিয়ে কেবল ঠান্ডা শরীরের অনুভূতি ধরে থাকে ।
সময় মরে না সময় ফসিল হয়ে থাকে,  চিহ্নের ইতিহাস
থেকে যায় পরিচয়ে ।
অসম্ভব ফিরে আসা গুলো হঠাৎ দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলে কেউ কি
 এখনও বেঁচে আছো দাফন করা সময়ের নিচে?....
নিঃশ্চুপ মৃত অপেক্ষা গলা শুকিয়ে আরো একবার মরে যায়
অথচ উপস্থিতির আওয়াজ টুকু দিতে পারে না  বহু চেষ্টা করেও,,

দিনের আলোতে রাতের তারারা বেচেঁ থাকে বলেই হয়তো মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চার দেওয়াল কে মানুষ আজও একটা ঘর ভাবে ,
আসলে মানুষ আশায় বেচেঁ থাকতে অভ্যস্ত,
তাই বান ভাসি হবে জেনেও রাক্ষস নদীর পাশেই ঘর বাঁধে  বারংবার,
মানুষ অসুখের বুকে মাথা রেখে এক অমোঘ সুখের সন্ধান পায় ... বিষের মধ্যে অমৃত সন্ধান তার অভ্যেস ,
আসলে মানুষ বড্ড আশ্চর্য রকম বিস্ময়।

#সই

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪

দিন ফুরানোর কথা

পাঁজরের নীচে দফন রইলো আগুন,
বাগানের একটাও ফুল তার সৌরভ দিয়ে
তোমায় স্পর্শ করলো না এতগুলো জন্ম দিনে।
পথ বদল, রাজপথ বদল ,বদল করলে জমির আলপথ,
তাসের দেশের রাজা রানি বদলে গেলো খেলার নিরিখে।

ঝুলফির ফাঁকে হিসেব বাড়ছে ফি বছর, বুকের ভেতর মিনকারী গল্পেরা দেরাজ ভরে ফেলছে, 
তুমি সময়ের আয়নার মুখ দেখে সময় উড়িয়ে দাও বাতাসে....
 নৌকাডুবির গল্পেরা জন্মের সময়েই হারানোর ভবিষ্যত লিখে নেয় সেটা সবাই জানি....।

আজ হয়তো বুকের ভেতর একটা শীতলপাটি খুঁজে ফিরছো তুমিও। 
হয়তো জন্ম দিন গুলো  হিসেবের খসরা সাক্ষর নিতেই ফিরে আসে প্রত্যেকের বেচেঁ থাকায় ।

আসলে প্রতিটা জন্মদিন সময় ফুরোনোর কথা বলে দেয় ।
আসলে প্রতিটা জন্ম দিন বলে বেচেঁ থাকা দৈর্ঘ্যে নয় প্রস্থে 
বড় হোক  বলে যায়।
আসলে  পাঁজরের দাফন রাখা আগুনে আলোর গল্প লিখতেই বলে জীবন।


#সই ( দিন ফুরানোর কথা)

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

সই



মানুষ  তার কাছের মানুষটাকে একটা ঘর মনে করে,,
যেখানে প্রতিদিনের ঝুঁট-ঝামেলা, কোলাহল, সামাজিক দায়ভার, কর্পোরেট টানাপোড়েন,  সমাজিক উচাটন,পেরিয়ে 
দিন শেষে  খুব শান্ত হয়ে রোজ ফিরে আসা যায়।
#সই


হারিয়ে যাচ্ছে

আলোর। রোশনাই থেকে দূরে একটা মুখ হারিয়ে যাচ্ছে,
শব্দের ভিড়ে পায়ে পায়ে হারিয়ে যাচ্ছে সে,
ভালোবাসাহীন আগুনে তার দেহ হারিয়ে যাচ্ছে ,
সকালের কুয়াশার ভেতর অন্য দরজা ,উঠোন ,চেনা চত্বর
সব দৃশ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ...
দুহাত বাড়িয়ে আকড়ে ধরছি অথচ মুঠোয় বন্দী কেবল শূন্যতা, 
    আর ভেতর জুড়ে সেই হারিয়ে যাওয়া মুখ...
সমস্ত নেই এর মধ্যে সমস্ত জুড়ে থেকে যাওয়া ....

#সই




রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪

যেভাবে

যেভাবে দেওয়াল পেরিয়ে 
বাতাসের ভরে  চিরকুট হয় পালক,
যেভাবে ক্লান্ত পিঠে তোমার হাতের স্পর্শ 
সেভাবেই রোজ ভির থেকে দিন ফুরায়
শেষ টুকু মুছে দিয়ে শুরুর দিকে।
#সই




শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৪

পালক হালকা

রাত প্রদীপের আলো আঁধারিতে 
 পালক হালকা সুবাসের মত ভালবাসা মাখা মুহূর্ত গুলো
মনের দেওয়াল জুড়ে আতরের গল্প আঁকছে,
লাজুক রামধনু আলোর নহবত রেস রেখে যায়
জড়িয়ে রাখা আদরের মতোই ,
 ঠোঁটের কোলাজে রঙিন হয় উৎসবের উজ্জাপন ,,

সব কথা কবিতায় বাসা বাঁধে না  ...
কিছু কথা মন দেখে, মন ছুঁয়ে রাখে স্পর্শের সোহাগে ।

নরম ওম লুকিয়ে রাখি আগামী শীত সময়ের জন্য 
একটা কাঁচ বারান্দায় এমন অনেক কবিতা আদরের
ভূমিকায় ক্যানভাস ছুঁয়ে যায় সারা বেলায়,,,
.....তুমি দেখো এ ভালবাসার  কবিতার মত ,
আমি দেখি মেয়েটা আনমনে রং তুলি ক্যানভাসে মগ্ন।




শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪

অঙ্গীকারে

যেভাবে ছিলে সেভাবেই রয়ে গেলে 
পাহাড়ী ঝর্ণা , কাঁচ বারান্দা ,কবিতার খাতা,
আমার ক্যানভাসে রং তুলিতে তোমার অদ্ভূত 
এই বেচেঁ থাকা।
রোজ দেখি মুহূর্তর জন্ম...তবু দেখি না মৃত্যু 
কারণ তোমার খবর হয়ে তুমিই কোনো একদিন এই
পাহাড়ের কাছে, ঝর্নার কাছে ,কাঁচ বারান্দার কেদারায়
বসে লিখে দিতে আসবে ...
       আমি তোমার স্মৃতিতে চিরঞ্জীবী থাকবো আবারো এক
অজানা অঙ্গীকারে....




বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪

সময় ফুরায়

দিন ফুরিয়ে আসছে 
সন্ধ্যার প্রদীপকে বলা রইলো 
এই ব্যাস্ত নগরের কিনার ধরে
এক খানা একলা জানলা খোলা রয়েছে
তুমি সাক্ষী থেকো ,
সে ফিরতি  পথে  এলে বলো ...
কেউ দাঁড়িয়ে ছিলো একদিন
আজ সময় গেছে চলে।

#সই





বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বাঁচতে শেখা

জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যাগেজ গুলো সরাতে পেরে 
খুব ভালো লাগছে ...  যেমন কে কি মনে করলো, কাকে খুশি করতে হবে, কার মন ভালো লাগছে না তার মন ভালো করতে হবে, কাকে ভালোবাসতে হবে,... উফফ জীবনে যেনো নিজেকে বাদ দিয়ে বাকি সব্বাইকে প্রায়োরিটি দেওয়া হয় গেছিলো ...এসব জাস্ট ঝেড়ে ফেলে বেশ পালক পালক ফিলিং এখন এই বেচেঁ থাকাটা ,
 ভাই আদালা লেবেলের আনন্দ 👌কে বলেছে স্বর্গ আর শান্তি এই পৃথিবীর বাইরে I feel সব এখানে Just বাঁচতে শিখি  আমরা বড্ড দেরি করে , but একবার  শিখে গেলে এই খেলাটা গ্যালারীতে বসে দেখার মজাটাই আলাদা তখন আর পেছনে ফিরে দেখতেও ইচ্ছে করে না কোনো পিছুটান exist করে না জাস্ট পালক feelings ♥️👌

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

শক্তি রূপেন

মেয়ে তুই বারবার মরিস পুড়ে ছাই হয়ে যাস 
সমাজিক লেলিহানে, ভেসে যাস কখনো রক্তের স্রোতে কখনো 
গঙ্গায় ...
 আবার সহস্র যোনি পথ হেঁটে আসিস সংসার ভালোবেসে ,

মারের রূপ বদলায় চারদেওয়াল থেকে সে মার পৌঁছায় 
সমাজ সংসারে বাসে ট্রামে কর্মস্থলে... মেয়ে তুই ক্ষয়ে যাস,
মরে যাস  ওরা  মেরুদণ্ডে গুঁজে দেয়  যন্ত্রণার বিষ,
 ওরা তোর থেকেই  জন্মায়  অথচ তোরই জন্ম দ্বারে গুঁজে দেয়
পিশাচের হাসি গুঁজে  দেয় উল্লাস , 
তবু শেষমেষ জিত হয় তোর , মাটিতে পুঁতে দিস আগামীর জন্য যুদ্ধ অস্ত্র বীজ....মেয়ে তুই জানিস যতবার জন্ম দ্বার পার হবি ওরা আসবে অসুর হয়ে রং বদলে রূপ বদলে  কাঠামোটা  থাকবে পুরনো  ,
 সব ক্ষত সব যন্ত্রণা সব ভেঙে যাওয়া বুকে নিয়ে 
মেয়ে তুই তাই প্রতি জন্মে প্রতি  যুগে প্রতি যুদ্ধে 
শক্তি রূপেন্ সংস্থিতা ...
শক্তি রূপেন্ সংস্থিতা...
শক্তি রূপেন্ সংস্থিতা....


#সই (শক্তি রুপেন)





সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বয়ে চলা দিন রাত

পাহাড় থেকে গড়িয়ে নামছো 
বাতাসে যাতনা উড়িয়ে দিয়ে ,
বহুকাল পর তুমি আমি দর্শক ও দৃশ্যের মত
বোবা অনুভূতি নিয়ে স্রেফ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি ।
এখন আমরা দুজনেই ভীষণ রকম স্রষ্ঠার ভূমিকায়
এখন আমরা প্রতিটা রঙের মাপ জেনে বুঝেই রোজনামচা জীবন এঁকে নিতে পারি ,
এখন আমরা হারানোর আচড় সামলাই নিপুণ ভাবে ।
কত্ত কিছুই এখন আমরা বয়ে চলা দিন রাতে সামিল করেছি।
তবু বেশির ভাগ রাতে এক অদ্ভুত ছটফটানি তোমাকে
আমাকে গ্রাস করে ....তুমি নিকোটিনে পুড়ে ছাই হও আমি উত্তরের বারান্দায় অপেক্ষাহীন রাতে আকাশ  দেখি ।


#সই ( বয়ে চলা দিন রাত)

আর কত দিন?

মহা মিছিলের ভিড়ে তুমি সঙ্গহীন এখন
 নিজের মৃত্যুর পর নিজের বেচেঁ থাকাটা 
খানিকটা স্মৃতির ক্যানভাসে চিল শকুনের তীক্ষ্ম ঠোঁটের জলসার মতোই,
 দিন পার  হচ্ছে বাতাসে  একটাই শব্দের আসাযাওয়া বিচার  চাই  আর বিচার শব্দের  অক্ষর যেনো খুব থুবড়ে  পরে আছে অত্যাচারের সিংহাসনের সামনে ।

 তারপর এভাবেই হয়তো  এই পৃথিবীও শিখে যায়
 শরীরের ক্ষত কে মাটি কিংবা আগুনে চাপা দেওয়ার কুশলতা। ,
থমথমে শহর চিৎকার যন্ত্রণা গিলে নিচ্ছে অদ্ভূত কায়দায় ,,
সূর্য  শোকাচ্ছন  চাঁদের আলোয় বিষাদ চাদর,
বৃষ্টি তুমিও পারছো কই এই পাপ ধুয়ে ফেলতে ?

 জেনে রাখো হে  শক্তিমান মুখোমুখি হতে হবে এই পৃথিবীতেই 
এই বেচেঁ থাকাতেই
শুধু দেখার ....আর কতদিন ?
আর কতদিন ?
আর কতদিন?
আর কত নির্ভয়া ?
আর কত অভয়া ?
আর কত তিলোত্তমা?

#সই (আর কতদিন)

রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সুবর্ণা এক চক্রব্যুহ (১০২)

রাস্তা চলতে কিংবা চায়ের দোকানে হয়তো মুখোমুখি হবো এই বেঁচে থাকার দিনগুলোয় কোনো একদিন,
পলাশ পরবে দেখা হওয়া  অচেনা তুমি আমির মত ভেতরে
চিৎকার ছটফট করবে অথচ অচেনা শব্দহীন দুই পথিক আমরা কেউ কাউকে চিনবো  না ,
হয়তোবা ক্যানভাসের স্থির চিত্রের মত পলক পড়বে না তোমার আমার প্রতি দৃষ্টির ... চোরা স্রোত চোঁখ থেকে বুক ছুঁয়ে যাবে,
খোলা ঠোঁটে বোবা অক্ষর অসহায় হবে সেদিন...

সেও এক অদ্ভূত ভাস্কর্যের মত তোমার আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ দৃশ্য তাই না সুবর্ণা ?

আমাদের সুখের দিন গুলো এই দৃশ্যের কাছে  মুখ থুবড়ে পড়ে  থাকবে কোমায় থাকা জীবনের ভূমিকায়।
ওরা নিষ্পাপ হয়েও যাতনার ভাগিদারি হবে ।

আর তুমি আমি দিব্য  সংসারের রঙ মেখে আড়াল করে নেবো 
পচে যাওয়া ক্ষতগুলো ....কারণ আমরা পুরোদমে বাঁচার অভিনয়টা শিখে নিয়েছি ।

ভেতরে ভেতরে আমরা একে অপরের রচিত চক্রবুহ্যে বন্দী 
যেখানে যাবার পথ জানা ফেরার পথ অজানা।

#সই। ( সুবর্ণা এক চক্রব্যুহ )

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৪

আমার কবি আমার প্রেমিক

সে এক মরমিয়া কবি ছিলো ...ছিলো সে
আমার প্রেমিক ,
প্রেম তার  একনিষ্ঠা   আকাশের মত ছিল তার
বুকের ঘর ,
সে ছিল কবি তার কবিতায় নদী ,বাতাস, আগুন, অহংকারের
মত আমায় অলংকৃত করতো ,
সে  যত্নবান প্রেমিকও ছিলো বটে  নীল বিষ গলায় আড়াল
করে  সুধাটি রেখতো আমার তরফে ...,
বড্ড অদ্ভুত কাহিনী কিংবা রূপকথার মত ছিল সে কবি আমার
প্রেমিক , আমার প্রেমের ঘরকন্না,
 আমার ক্লান্তি আমার দীর্ঘ জন্মের জমানো ঘুম নিয়ে তার বুকের ঘরে আমি  'দ'   মত নিশ্চিত শুশ্রূষায় রাত পেরিয়ে আলোর ভোর ছুঁয়ে ফেলতাম ।

এক দিন অজানা জ্বরে কবি মারা গেলো , মারা গেলো আমার
একমাত্র  প্রেমিক  , 
কালো সেপাই   আমার কবি আমার প্রেমিকের পায়ে কালো সুতো বেঁধে নিয়ে গেলো সীমা রেখার বাইরে।
 ... ঢেউ নীল বিষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আমাদের প্রেমের ঘর  তীব্র বিষাক্ত হয়ে গেলো , রূপকথায় রাক্ষস কিংবা রাক্ষসী কেউ একটা এলো,, ... কাহিনী ,প্রেম ,প্রেমিক  সব মৃত ঘোষিত হল এক সময় ।

এখন আমার  প্রেমিক কবি আকাশের গায়ে রোদ্দুর কিংবা বৃষ্টি দিয়ে কবিতা  লেখে আমি আকাশের নিচে সে প্রেমময় কবিতায় বাকি জন্ম হাঁটতে থাকি ,
....শুধু অনেক বছরের ঘুম জমে আছে আমার ক্লান্ত চোখে ,
আমারও যে এবার একটা অজানা জ্বর খুব দরকার।

#সই ( আমার কবি আমার প্রেমিক)




শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪

সাক্ষী

সময় নিজ আবর্তে ফিরে এসে ছুঁয়ে যায় দাঁড়িয়ে থাকা বিন্দু,
দিন কাল কাটে ...কবিতা কিংবা কলমে খবর বদলায় বদলায় রং,  প্রচ্ছদ বদলালেও খড় মাটি কাঠামো আর তোমার আমার
বেঁচে থাকার গল্প তেমন বদলালো না।

এই চিৎকারের  দিন গুলোয় নদী কিংবা পাখি বোবা 
প্রেম কিংবা বিশ্বাসঘাতক এক্কেবারে চুপ 
.... যেমনটা কেমোথেরাপির পর যন্ত্রণা গুলো পোষ মেনে
নেয়  চুপ করে একটা সত্যির অপেক্ষায় দিন বুনে যায়,

এই পৃথিবীর সব কিছুই বুমেরাং এর মত ফিরিয়ে দেওয়া 
স্বভাব,
এই পৃথিবীর মুখোশ গুলো সত্যির মত ...
আলোর ভেতর বড্ড বেশি অন্ধকার মুখোশ পরে থাকে,
ভালোবাসার আড়ালে মুখোশ পরে ভালোবাসাহীন সংসার।
ভালোবাসার শহর কেবল রক্ত ক্ষরণ এর চিহ্নr সাক্ষী থেকে গেলো।

#সই (সাক্ষী)





শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৪

খেলার সামগ্রী

দৃশ্যত গল্প গুলোর নক্সার সাথে
কখনো কোনো অন্তরমিল হয় না ।
আজন্মের অপেক্ষায় থাকেনা কোনো
পাওয়া ,
তবুও জীবন স্রোত উত্তর দক্ষিণ ছুঁয়ে যায় ,
সম্পর্ক তো কেবল স্রোত ছুঁয়ে থাকা ঘাটের মত,
বয়ে যাওয়া থাকে আজন্ম সাথে রাখা যায় না ।

অংকের খাতায় সিঁড়িভাঙার শেষেও ভুল উত্তর লেখাও 
সম্পর্কে স্বভাব কিংবা অংক শব্দটাই করো কারো জন্যে
আজন্ম বড্ড জটিল।

মানুষ সব পারে না তবু মিথ্যে অহংকারে উৎসব সাজায়
হাসে ,ভাবে  সে বুঝি  গল্পের কাহিনীকার ,,
তারপরেও দিন শেষে কালো সুতোয় বেঁধে কেউ যেনো
বুকের কাহিনী থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় সব নিঃস্ব করে,

অসহায় রক্ত মাংসের একটা জীবন স্রেফ ফ্যালফ্যাল করে
তাকিয়ে থাকে ওই সময়ের দিকে ,
অহংকার অলঙ্কার সব স্রেফ খেলার সামগ্রী হয়েই থেকে যায়।

#সই (খেলার সামগ্রী)

শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০২৪

দহন


আমাদের মাঝে যুদ্ধ আমাদের মাঝে কাঁটাতার 
আমাদের বুক ভরা দহন  মেশানো কান্না 
অথচ আশ্চর্য একই অনুভূতি নিয়ে আমরা একে অপরের থেকে বারংবার বিচ্ছেদ চেয়েছি ।
শিউরে ওঠা আমাদের একাকীত্ব  ,
একই অনুভূতিতে স্তব্ধ দীর্ঘশ্বাস  দুজনের
অথচ বারংবার আমরা এক অপরকে কেবলমাত্র
ঠকানোর জন্যেই মুখোমুখি হই।

#সই ( দহন)



আলো

শহর  থেকে দূরে একটা  ক্ষিন আলোর মত তোমার থেকে যাওয়া  
ভিড় হারানো স্বভাব আমার তাই আগলে রাখতে পারিনা 
তোমার তুমিটুকুকে, 
দূরে আকাশের থেকেও কোথাও আরো  দূরে দিকনির্ণয় 
তোমাতে  কিংবা ওম শব্দের সিঁড়ি বেয়ে তোমার দিকে
আমার  একটাই পথ ।
সৃষ্টি  বিনাশ, শব্দ আর নিঃশব্দ,  বর্ম আর ফলার আঘাত 
সবটুকু তুমি  , 
এক একটা আয়নায় দাঁড়াই স্বরুপ বদলে তুমি  কখনো 
দাতা কখনও ভিক্ষুক ,কখনো প্রেম কিংবা  প্রেম ।
যেভাবেই হোক তুমি থেকে যাও ...
যেভাবেই হোক তোমাতে রেখে দাও আমাকে ...
যেভাবেই হোক তোমাতে থাক শেষ মাইল ফলকের সংখ্যা।

#সই (আলো)


সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০২৪

সই

তোমাকেই খুঁজতে হবে তুমি কোন রূপে আমাকে চাইছো 

#সই

সই

তুম দিখোগে নেহি তো  ভুলা দিয়া যাওগে 

শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৪

খোঁজ ফুরোনো বেলায়

অদ্ভূত এক যাদুকরের ভেল্কীবাজীতে, 
তুমি উধাও হয়ে গেছো আমার সর্বস্ব থেকে।

 আলোয় কিংবা  অন্ধকারে ,
সুখ কিংবা অসুখের দিনে ,
আদর কিংবা অভিমানে ,
কোত্থাও তো তুমি নেই।

পৈশাচিক আলোর  রাতের মতো 
কিংবা মধুমাসের জোৎস্না মালা ...
পুরোনো হীর রাঞ্ঝা কিংবা প্রথম আলো 

সবই ঠিক আছে আগের মতোই  কিন্তু তুমি কই?

নিখোঁজ সংবাদ পাঠাবো আজ আর সে সব জরুরী নয়,
খোঁজ শব্দটা প্রয়োজন পেরিয়ে সন্ন্যাস পথে এগিয়ে গেছে 
চারপাশে  তোমার চিহ্ন মুছে গেছে , নষ্ট আমাতে তোমার 
মূর্তি। 
হন্যে হয়ে খুজঁছি যাকে একদিন 
আজ ঠোঁটের কোণে সে খোঁজে লেগে ছেলেমানুষী হাসি 
কোথাও তুমি নেই নেই তুমি হারানোর অসুখ নেই ..
যেনো ছিলেই না  তুমি আমাতে ।
 আসলে খোঁজ ফুরিয়ে যাওয়া এক অদ্ভুত মৃত্যু 
যেনো কখনো ছিলই না এক্কেবারে চিহ্ন হীন 
অস্তিত্ব হীন।

#সই (খোঁজ ফুরোনো বেলা)


শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০২৪

সময়

মুঠো অন্ধকার চোঁখের পরিসরে ক্যানভাসে কেবল কালো 
রঙের অধিকার বোধ 
আমার মত এ শহরও আলো খুঁজছে 
পরীদের গল্পে সময় হয়েছে খরচ ,
একটা মৃত্যু কেবল এখন নতুন সকলের জন্ম দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে,
গঙ্গায় রাত বাড়ে জমা হিসেবের বাসী ফুল 
কারা যেনো সম্পর্ক পুড়িয়ে সাদা কাপড়ে ফেরৎ যায়
পূর্ব পশ্চিম হাতে নিয়ে ।
সাদা কফিন মোড়া সময়ের চোখ পিটপিট পুতুল
আরো কিছু মুহূর্ত,
 অন্ধকারে কেবল আগুন দেখা যায় কে কতটা পুড়লো 
তার হিসেব ঠাহর হয় না ,
ঠাহর হয় না অপচয়,
সময়ের পেন্ডুলাম একই ভাবে আলো আর অন্ধকার ছুঁয়ে
বয়ান রেখে যায় নিজেরই বুকের কাঠগড়ায়।

#সই (সময়)



বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০২৪

দৃশ্য



তোমার মাথায় পিছনে আকাশমুখী জানলা
সামনের মঞ্চে সাজানো ফরিয়াদ ...অথচ তোমার
ঈশ্বরত্ব মৃৎ ।
মেরুদন্ডের সিঁড়ি বেয়ে আরো কয়েক খন্ডে আকাশ মুখী জানলা ছুঁতে চাইছো ,

তোমার সামনে যুদ্ধ সাজানো মুখ গুলোও চেনা অথচ তুমি
পার্থহীন এক অর্জুন ...
তোমার পেছনে মুক্ত আকাশের জানলা অথচ তুমি
গরাদ বন্দী ....।
তোমার ঈশ্বরত্ব তোমায় ছেড়ে যাচ্ছে অথচ তুমি 
আশ্চর্য রকম নিরুপায় এক দর্শক।
চোখ বেঁধে নিলে সামনের দৃশ্য হয়তো কেবল কালো রং
তার মানেই তো রাত নয় তাই না !

#সই। (দৃশ্য)

পৃথিবী

একটা পৃথিবী আঁকো আঁকো 
একটা ধর্ম , সে ক্যানভাসে 
থাকুক আমারও এক ফালি জায়গা 
আমি প্রদীপ জ্বালি সেথা 
বোধী বৃক্ষে সুতো বেঁধে তুমি তোমার তাকে
আগলে রাখো,
আমি উত্তরের বারান্দায় এখনো গরাদের পেছন থেকে সে গল্প দেখি ।।


একটা পৃথিবী  আঁকো আঁকো একটাই ধর্ম 
যেখানে তুমি আমাকেও  এক থালা ভাতের পাশে এক
চিমটে নুন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারো ,
সে ধর্মে তোমার তাকে নাহয় রাজন্য সাজিয়ে দিচ্ছ 
যত্ন করে ।।

একটাই পৃথিবী  হোক হোক একটাই ধর্ম 
তুমি হও সময় তুমি হও নিষ্ঠা ,তুমিই সেখানে 
একমাত্র তুলনা ,
আমার নাহয় না বলা অনেক ইস্তেহার 
নিজের ভেতর ...
আমার না হয় পোষাক বিহীন তোমার ছবি রাখাই থাক,
তুরুপের তাস সময় জানে  বোঝে সময়ের দাম।

তুমি তোমার  মুখ 
আমার বুকে ঢাকো সে কথা গোপন রাখো 

 আমি একটাই পৃথিবীর  সাক্ষী আজও 
আমার আজান
তোমার স্তোত্র একটাই ধর্মে আজও।।


 এবার মধ্য গগনে সূর্য এবার একটাই পৃথিবী আঁকো
আঁকো একটাই ধর্ম 

তোমার রবীন্দ্রনাথ  তোমার প্রেমিকার মন মাথা নিচু না হোক
তোমার কারণ।

একটাই  পৃথিবী আঁকো,
 পারাপারের
একটিই থাক সাঁকো।।

#সই (পৃথিবী)

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০২৪

শূন্যস্থানের

চেতনার মাঝে বরারার সমুদ্র 
উত্তাল স্রোতে  কেনো যে থমকে দাঁড়াই 
আর সেই দাঁড়ানোর মুহূর্তে কান্না উপচে আসে
চেতনার থেকে একটু নেমে এলেই 
পাথুরে পাহাড় বুক চেপে স্থানু অথচ অদ্ভুত ডানা 
ঝাপটানো ছটফট সে পাহাড়ের গভীরে ।

হ্যাঁ আলোচ্ছস আসে বিকেলের প্রান্ত ঘেঁসে 
কেউ ফিরে না এলেও আলো আসে বারবার ...
আর সেই আলোর হাত ধরে ক্রমশ তাসের ঘর থেকে
পা বাড়াই শূন্যস্থানের উদ্দেশ্যে।

ক্ষতগুলো ম্রিয়মাণ হয়ে আসে রোজ সন্ধ্যার 
শীতলতায় ....পাখিদের ঘরে ফেরা থাকলেও
আমার সেসব মোহ নেই ,
আছে আছে একটা গন্তব্য 
যেখানে তুমি আমি পেরিয়ে সমস্ত এক
যেখানে থেকে আলাদা করে ফিরে আসেনি 
কেউ ।

পায়ের ছাপ মুছে  আত্ম গোপন করা হয়নি 
নিজের হত্যা চেয়ে নিয়েছি বারংবার প্রকাশ্যে
ক্রমশ কোনো এক নাম জিতে গেছে সময়ের তালিকায়,
আমিও থামিনি এগিয়ে গেছি সমুদ্রের আহবানে
সেই শূন্যস্থানের উদ্দেশ্যে।

#সই। (শূন্যস্থান)




শনিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৪

ঘরে বাইরে

শব্দরা এক রকম দেখতে হলেও আমাদের ভাবনা গুলো আলাদা,
পথ এক গন্তব্য আলাদা 
হুবহু এক দেখতে দৃশ্যপট বাইরে থেকে আলাদা করা যায় না
অথচ তুলির টান আলাদা ,
বাইরে থেকে মনে হয় সাজানো সংসার তোমার আমার কবিতার শব্দে, বাইরে থেকে যা কিছু সত্যি মনে হয় সবটা
ভেতরে আলাদা ,
বাইরে থেকে দেখে মনে হয় ভালোবাসা ভেতরে আসলে হরমোনের খেলা ,
আসলে ভালোবাসা শব্দটারে কোনো অস্তিত্ব ছিলই না কখনো 
সামান্য কিছু হরমোনাল কাটাকুটি খেলা ।
তেমনি প্রতিটা ভাবনা আসলে বাইরে আর ভেতরে এক্কেবারে আলাদা কোনো মিল নেই ।
মানুষ ভুল করে বাইরের খোলসের রং দেখে 
ভুল গুলো সত্যি ভেবে কখনো সুখ পায় কখনো সুখের পরে অসুখ মাখে ...সময়ের টেবিলে হাজারো ওষুধ বাইরে থেকে
ভেতরে শুশ্রূষা পৌঁছোয় না ,
কেবল মুহূর্তের গায়ে ছড়িয়ে পরে সুখের পরে অসুখ আর জন্মের পরে মৃত্যু ।

#সই (ঘরে বাইরে)


শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪

ভুল

মানুষের জীবনে ছোটো বড় কিছু ভুল থাকে 
আমার এই বেঁচে থাকা  আলাদা  নয়,
আজ স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আমার জীবনে আমার মতে
সব চেয়ে বড় ভুল তুই ...তোর সাথে পরিচয় হয়তো পেছনে ফেলে আসা অন্য কোনো জন্মের ঋণের হিসেব 
হয়তো অন্য কোনো জন্মের অন্ধকার অধ্যায় প্ররোদ্ধ হয়ে এই জন্মে তোর মুখোমুখি,
এটা আমার কনফেশন ...
আমাকে বারংবার ভেঙে দিতে তোর মত করে কেউ পারেনি ,
আমার ভেতর বিশ্বাস শব্দটা অদ্ভূত ফ্যালফেলিয়ে হাস রে ,
আমার বোকামি গুলো আমার গালে চড় মারে তবু 
তোর মৃত্যু চাইনি 
হ্যাঁ একটা মৃত্যু তো মুক্তি আর মুক্তি তো আশীর্বাদ 
আমি ঈশ্বর হতে চাই না ... তবু বুকের ভেতর যন্ত্রণাটাও 
সরিয়ে রাখতে পারি না ।
শুধু বলি ঈশ্বর আমাকে নিয়ে তোর মত এত বড় ভুল খেলায় সামিল না করলেই পারতেন ।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

অজ্ঞাতবাস

মানুষের‘অজ্ঞাতস্থান‘দেখতে কেমন? 
নিজের ভেতর... নাকি বাইরে একটা বদ্ধ দেওয়াল 
পোড়োবাড়ী একটা সঙ্গ হীন পাহাড় চূড়া।
সেই ‘অজ্ঞাতস্থান‘ মানুষ কখনও কখনও নিজেই বেছে নেয়
তারপর নিজের  চোখ  বেঁধে নিজেকেই ইন্টারোগেশন করতে থাকে  ,
বরফের চাঙরে  দাঁড় করিয়ে রাখে নিজেকে 
নিজেকে অন্ধ বধির করে দেয় সেই অজ্ঞাতবাসে,
থেঁতলে দেয় নিজের মাথা মনের সমস্ত অস্তিত্ব,
একবারও রুখে দাঁড়াতে চায় না শেষতক,
একটা শুদ্ধিকরণ একটা রিগ্রেট একটা হিসেব নিজের সাথে ...
প্রতিটা মানুষের একটা অজ্ঞাতবাস জরুরী।

#সই (অজ্ঞাতবাস )

নতুন জন্ম

কোস্টারিকান গোলাপ এই নতুন শহর লন্ডন 
লক্ষ বছর  তুমি হাতছানি দিয়েছো ,
অপেক্ষায় থেকে থেকে হয়ে গেছি ক্রুশকাঠবিদ্ধ কাঠে আমার ভুল ভ্রান্তির শহর কলকাতায়,
আজ শুধূ আলো কিংবা অন্ধকার নয় একটা সম্পূর্ণ আকাশ
আমায় আগলে নিয়েছে  এই নতুন শহর।

 এখন আমি জানি বুকে ক্ষত  নিয়ে  তারপরও পাখিরা কেন গায়
কেন  উৎসব হয়  মৃত্যুর পরেও 
আসলে প্রতিটা শেষ কোনো না কোনো শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়ায় ।


হে আমার অপেক্ষার অবগাহন তোমায় জড়িয়ে আমার জন্ম 
সার্থক 
ও আমার ম্রিয়মান অনন্তকাল তুমি শিখিয়েছো 
কাদঁতে নেই হৃদয়হীন  বুকের কাছে  কখনও কখনও
কান্নাগুলো জমা থাক বিষাদের লকারে
আমি আমার কান্না দুঃখ পুড়িয়ে ছাই ভাসিয়েছি ওই গঙ্গায় 
এই হার্ডসন নদীর ধারে আমার সাথে নতুন এই শহর এই ভালো _ বাসা ।

 #সই(নতুন জন্ম)

জন্ম সাধ

বুকের ভেতর বারুদ রাখা 
জন্ম ফুরিয়ে গেলেও বারুদ ঠান্ডা হয় না 
স্বপ্ন রাখা চিলেকোঠায় চোঁখ রাখা সামনের দেওয়ালে ,
ওই দেওয়াল একদিন রাজপথ হবে ... বারুদ হবে আগুন 
বোবা ট্যানেল আলোয় ভরবে।*
প্রেম যে দিন জন্ম নিলো সেদিন থেকেই প্রেমের মৃত্যু পথ হাঁটা 
এই মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া সময়ের স্বভাব ।
পৃথীবিতে আমার শব্দটা মিথ্যে অথচ আগুনের মত জ্বলন্ত সত্যি নিয়ে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যায় আর পুড়িয়ে দেয় শেষের চিতা পর্যন্ত।
আমারও একটা জন্ম সাধ ছিলো অবুঝ শিশুর মত
ছিলো আমার শব্দ আঁকড়ে থাকার অহংকার ,
এক সকাল এলো আলোয় মিশে হারিয়ে গেলো আগুন , অহংকার ,আর আমার শিশুতোষ বায়না ....বোধ আর বুদ্ধ
এক হয়ে মুঠো খুলে বাতাসে মিশিয়ে দিতেই হলো 
শুধূ ঋণ  টুকু শোধ হলো এই পৃথিবীর।

#সই
(জন্মসাধ)


মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪

চিৎকার

পেছনে ফিরলেই সময়ের গহীনে অজস্র 
চিৎকারকে ছটফট করতে দেখি ,
ওরা মুক্তি খুঁজছে অথচ খাঁচার ভেতর
বন্দী জন্ম জন্ম।
সময় তার দাড়ি টানে নিজের নিয়মে 
ওদের কফিন চাপা দেওয়া হয় কিংবা
আগুন ছুঁইয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ....
ওরা নাভিমূলে রেখে যায় নিজেদের সংবাদ আগামীর জন্য ,
প্রতিবাদ নয়  শুধু আলোর অপেক্ষা ওদের সভ্যতার পর 
সভ্যতার চরিত্রের ভূমিকায় আসতে বাধ্য করে ।

পরিযায়ী পাখির মত কখনো রুপ বদল কখনো মাটি বদল
বদল কখনো সাজ পোষাক,
প্রতি জন্মে কিছু ঋণ শোধ আর কিছু ভুল করা বাকি 
এ যেন অনন্তের মাঝে জটিল অলাতচক্র।
যেখানে শূন্যে ফেরাটা জরুরী অথচ পথ কবে ঠিকানায় 
পৌঁছাবে জানা নেই , ঠিক কতগুলো চরিত্রের ভূমিকায় নিয়োজিত আর জানা নেই কত ভুল করা বাকি ।

#সই (চিৎকার)




বৃত্ত

প্রতিটা গল্প কোনো না কোনো বৃত্তে হাঁটতে থাকে 
একটা সময় আসে সেই বৃত্তের প্রথম বিন্দুতে 
গল্পটা মিলিতে দিতে হয় ....
ঋণ গুলো চুকিয়ে না দিলে বারংবার ফিরে আসা লেখা থাকে
কিছুতেই পুর্নতা পায় না বৃত্ত ।
পিছনের রাখা জীবনের কাছে এলেমেলো অগোছালো পংক্তিমালা গুছিয়ে নিতে পারলেই অনুভূতি গুলো শূন্যে 
খিলখিলিয়ে হাসে,
নাভিমূলে রাখা জন্ম জন্মান্তরের স্মৃতি মুক্তির আলোয় স্নান সারে  ভেসে যায়,
একটা বেচেঁ থাকার পেছনে অজস্র অজানা বেচেঁ থাকা থরে 
থরে রাখা ....ইচ্ছে করে পিছনে ফিরে প্রতিটা দরজা খুলে
ফিরে ফিরে শুধরে নিই সমস্ত গড়মিল হিসেব ,
ইচ্ছে করে সময়ের অনন্ত গভীরে ফিরে প্রথম দরজায় দাঁড়াই নতজানু হয়ে ,
ইচ্ছে করে আকাশের বুকে ভেসে সমস্ত ফেলা আসা অধ্যায়গুলো নিরিখ করি ,
ইচ্ছে করে সমস্ত ফেলে আসা জন্ম গুলোয় নিজের চরিত্রের কাছে দাঁড়াই ছবি গুলোর রং বদল হোক  তারপর।
গল্প গুলো ঋণ শোধ করে আলোকময় অনন্ত মিশে যাক ।
মনের জানলার কাচ মুছি  রোজ,   স্বচ্ছ আলো টুকু যেন পথ পায় ,,
এক অদ্ভুত ধ্যানস্থ মূর্তির মত সময়ের গভীরে ডুবছে আমার অহংকারী অস্তিত্ব,
একটা বৃত্তের প্রথম বিন্দুর কাছে দাঁড়িয়ে আছি দরজা গুলো যদি একের পর এক খুলতে পারি 
হয়তোবা গল্পগুলোর হিসেব মিটবে এই বেচেঁ থাকা অধ্যায়ে।
বৃত্ত যে মিলিয়ে দিতেই হয় একসময় ।

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪

সই

প্রত্যেকটা মানুষের মনের মধ্যে তার নিজস্ব একটা জানলা থা কে আর সেটা তার একদম নিজস্ব 

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪

একার সফর

স্মৃতি চিহ্নর ভেতর অরুপ আলো রয়ে যায়,
যারা চলে যায় তারা রেখে যায় মূল্য দিয়ে কিছু
সময়ের কোলাজ , 

সফর তো একারই হয় ...
এই যে রোজ শহরের রাস্তায় অগুণিত আসা যাওয়া 
সবারই একার সফর  ... কিছুটা দাঁড়ানো সিগন্যালে, কিছুটা
এক পথ, কিছুটা দেওয়া নেওয়া ।

কেউ কেউ বলে শূন্যতার চেয়ে পুড়িয়ে ফেলার মত আগুন
নাকি আর কিছুই নয় ...
কেউ কেউ বলে কান্না নাকি বিষাদের অন্য নাম ।

আমি বলি শূন্যতা না থাকলে নিজের ভেতরের নিজস্ব 
ঈশ্বরকে ছুঁয়ে চেনা হয় না ,
আমি বলি কান্না হলো আবর্জনা ধুয়ে ফেলা বর্ষণ,
আর নিজের সঙ্গ যদি নিজেরই না ভালো লাগে অন্য 
সম্পর্ক গুলো দায় নেয় কিভাবে ?


©সই (একার সফর)


মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪

(সুবর্ণা ১৯৯) শেষ চিঠি

তোমার সাথে বৃদ্ধ হওয়া হলো  না 
তোমার সাথে ঝর্নার ধারে কাঁচ বারান্দার
ক্যানভাসে কবিতা আঁকা হলো না ।
তোমার সাথে এক কফিনে ঘুমোনোও 
হবে না  ,
কোনো এক পড়ন্ত বিকেলের অঙ্গীকার ছিলো  এক সাথে
 বৃদ্ধ হওয়ার ,
কোনো এক ফেরি ঘাটে অপেক্ষাকে সাক্ষী রেখে ঘরে ফিরতো
 মন্দবাসা,
কোনো এক পরিজাতের উঠোনে উৎসব পেতো উজ্জাপন।

 ফিরতেই হয়  কখনো কখনো কাউকে  ফিরে যেতে হয় কথা না রেখেই 
...কথা রাখতে সবাই জন্মায় না ,
আসলে সবার জন্য সবটা নয় 
সবাই জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতার ছবিটা এঁকে উঠতে পারে না,
এই না পারা গুলো জন্মান্ধর মত জন্মকালার  মত প্রারদ্ধ।

 ,বাকি পথ হাঁটতে পারলাম না  ,
ঋণ গুলো ছড়িয়ে রইলো অসহায় তোমার দিকে তাকিয়ে 
ক্ষমা করে ফেলে দিও স্মৃতির দেরাজ থেকে  ।

যেটুকু সত্যি ছিলো সেটুকু থাক এই শহর সাক্ষী 
যেটুকু মিথ্যে ছিলো ভুলে যাক বহতা সময়ের মত
এ জীবন।
নিজের ভেতর ফিরতে হবে 
একটা  সফর  ধ্যানস্থ মূর্তির দিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে 
শেষ বার শব্দের সাথে তোমার মুখোমুখি 
শেষবার সাহস জুগিয়ে ক্ষমা কাছে দাঁড়ানো,
শেষবার তোমায় জানানো সুবর্ণা তোমার সাথে বৃদ্ধ হওয়া 
হলো না ।
আমাদের উপন্যাসটা   শেষ হলো না  ।


©সই  (সুবর্ণা ১৯৯) শেষ চিঠি।

কলহ খেলা

সমস্ত কলহের পাশে চুপ করে বসে দেখি 
আর ভাবি লড়াইটা আসলে কিসের 
...আসলে এই আমি আর আমার শব্দ দুটোই 
একটা সম্পুর্ন  মহাভারত। 
অধিকার ফলাতে ব্যাস্ত  এই আমি আর আমার শব্দ 
আসা আর যাওয়ার  মাঝে এই কলহের কারন 
  হয়তোবা একটা  গোটা জীবনের আসল সৌন্দর্য  আসল এসেন্স থেকে আড়াল করে রাখে প্রতিটা জন্ম কে। 
 একটা পড়ন্ত বিকেলে মানুষ হয়তোবা  হিসেবে বসে 
হয়তোবা পেছনে ফেলে আসা ঋতু গুলো আলেখ্য দিয়ে তৈরি করে একটা সেরা গল্প...  একটা  অসম্পূর্ণতা লেগেই থাকে
আনাচ কানাচে ... দেরি হয়ে যায়  এতটুকু বুঝে নিতে। 

 জানতে ইচ্ছে হয়  শরীর  ফুরিয়ে গেলে আমার আর আমি শব্দটা কোথায় মিলিয়ে যায়  কোথায়  বা শুরুই
হয় এমন মোহের কারন  , কে এমন কাঠ পুতুলের খেলার সেনা নায়ক? 

©সই (কলহ খেলা)

rules of Life

""Fail fail fail again and then rise like a pheonix ""

সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪

সই(১০১)

গত কালের যন্ত্রণা গুলো আজ মনোবল হয়ে পাশে হাঁটছে 
            আলো আর অন্ধকার দুজনের কাছেই কৃতজ্ঞ 
                            এই মনুষত্ব বোধ,,
                         Heartiest gratitude 

           
 

              

সই (১০০)

ঠকতে ভালবাসি, বিশ্বাস করতেও ভালোবাসি,
হারতে ভালবাসি , 
ভালবাসি বলেই রোজ কয়েক ফোঁটা এই পৃথিবী চিনে ফেলি।
    ঠকাতে পারিনি , অবিশ্বাসী হতে পারিনি
পারিনি কোনো মৃত্যুর সিঁড়ি চেপে জিত হাসিল করতে
...এই না পারাগুলো আমার অহংকার আমার অলঙ্কার।
©সই

সই(৯৯)

 নিজের অন্তর মহলে ফিরে এলে বোঝা যায়
বাইরের সাজানো দুনিয়াদারি কাঁচ ব্যয়ামের সম্পর্ক 
কতটা গরল মাখা অথচ মলাটি বাহারে  সাজানো....
 নিজের গভীরে  শামুকের খোলসে শর্ত হীন অনন্ত আনন্দ সুধা, আলোময়,
....যেখানে  অনুভূতিগুলো তুমি কিংবা আমি নির্ভরশীল নয়, মুখোশ নয় , ।


©সই




বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪

চিৎকার ১

বাইরে ও ভিতরে এত চিৎকার 
একটা শব্দহীন আশ্রয়ের খোঁজে রোজ
হাতড়ে বেড়াচ্ছে মন ,
লাল সবুজ আলোর সম্পর্ক গুলো অনুভূতি হীন 
তাকানো ফেলে রেখে গন্তব্যে পোঁছাতে চায় ...
মানুষ একটা গোটা জীবন এই চিৎকার এই ভিড় 
পার হয়ে হাঁটতে থাকে গন্তব্যে .... শব্দহীন শান্ত 
স্থির আশ্রয়ের কাছে ,
তবু কি চিৎকার থামে ?
তবু কি শেষমেশ মন বলে আমার আর কোথাও যাওয়ার 
নেই ?
মানুষ বুকে হাত রেখে নিজের কাছে সত্যিটা বলতে পরে কি
বোঝে কি ঠিক কোনটা তার সত্যি আশ্রয় ?

চিৎকার থামে না বাইরে ভেতরে ।

©সই  (চিৎকার)

সই (৯৮)

কাউকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার পর তার কাছে ক্ষমা 
চেয়ে আগের মত সবকিছু চাওয়ার কোনো মানেই হয় না,
ঘর যতই সজিয়ে নাও মৃত মানুষ বেচেঁ ওঠে না আবার করে।
©সই

মিলন

অন্তহীন মিলনে ডুবে যাচ্ছে অস্তিত্ব 
স্বচ্ছতার দুপাশে দুজন সিঁড়ি ভেঙে 
ক্রমশ গভীরে নামছি ,
ভ্রমের থেকে বহু দূরে আমাদের নিজস্ব নগর অপেক্ষা করছে,
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যেতে কথারা মুখোমুখি কেবল
চুপকথায় হাতে হাত রেখে একে ওপরকে আবিস্কার 
করছে ,
ব্যথার ভেতর আলোর চিরকুট রাখা ছিলো 
তাই জীবন যেন রূপকথার মত ভালোবাসাময় ।

©সই (মিলন)





ঝড়

কোথাও ঝড় হচ্ছে ধ্বংস ঝড় 
পাঁজরে উড়ে আসা ধুলোয় বিষন্নতার গন্ধ ছড়াচ্ছে,
জাহাজের কম্পাস ভেঙে গেছে বলেই পথ চেনা যায় না 
কোথাও ধ্বংস ঝড় হচ্ছে ,

তবু উৎসব আলো সব তো এখানে ঠিকঠাক 
কোজাগরী আলোয় কারা মিলন সুখে ভাসছে ।

কোথাও ধ্বংস ঝড় কারো হয়তো ঘর ভাঙছে ,
 অন্তর মহলে গিয়ে জানতে চাইলাম
হিসেবের খসড়া.... বেহিসেবী খরচে অসুখ কিনেছি
আবারো  কিছু কিস্তিতে,
বাইরে থেকে  দেখতে পাওয়া যায় না 
সব হিসেব ....
কোথাও ঝড় ঘর ভাঙছে জমা পুঁজি ডাকাতি হওয়ায় 
ঠিকানা হারাচ্ছে ।

আমি অলমতাস গাছটার নিচে দাঁড়ানো  সেই স্নিগ্ধ পুরুষটাকে খুঁজছি আর খুঁজছি  ...কোথাও পাচ্ছি না 
বুঝতে বাকি রইলো না কোথাও ধ্বংস ঝড় হচ্ছে
পাঁজরে বিষন্ন বাতাস মন ছুঁয়ে যাচ্ছে 
ঘর ভাঙছে ....
ঘর ভাঙছে ....

©সই (ঝড়)





মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

ভুল গল্প

ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়ল 
বুকের ভেতর তোমার পায়ের আওয়াজ 
দরজায় যে মানুষটা এসে দাঁড়ালো সে তুমি নয়,
মন আর মাথা এক জায়গায় রাখতেই ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়ল ,
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে  গভীরে রাখা কাহিনীর 
মলাট খুলে গেলো  ,
মাথার ভেতর রাখা সমীকরণ মিলে যেতেই ঘরের  ইটের 
বাঁধন ছেড়ে পড়ল ,
চেনা গায়ের গন্ধে তোমায় পাচ্ছি কই ভাবতে ভাবতে
বিকেল ফুরোতেই বুঝলাম তুমি নেই ...
কিংবা আমি ছিলাম না ঘরটার কোনো দেওয়ালে ,
থাকার ভেতর না থাকা অদ্ভুত যন্ত্রণার জন্ম দেয় 
অথচ জন্ম কাল থেকে না থাকার মধ্যে কোনো অনুভূতি থাকে না।
ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা জানতো ঘরটা আসলে না তোমার না আমার ...গল্পটা কোনোদিন আমাদের ছিলোই না।

©সই (ভুল গল্প)

সময়ের আয়না

সময়ের কাছে অসময় এসে দাঁড়ালে
আমরা কারণের নিশান গুলো সরিয়ে
মুখোমুখি দাঁড়াই সময়ের আয়নায়,
অসময়ের কাছে সময় এসে দাঁড়ালে মুখ ঢেকে যায়
মিথ্যে অলোর গল্পে ,
মানুষ কদিন বাঁচে একটা জীবন একটা উপন্যাসের জন্য মোটেই যথেষ্ট নয় ,
দৌড়াতে দৌড়াতে দিন ফুরিয়ে যায় প্রিয় গিটারে
সুর গুলো কখন যেন জং পরে অভিমানী মুখ কালো
করে থাকে এক পাশে ,মন ভাবে আমারই তো
ধুলো জং ঝেড়ে নেওয়া যাবে সময় মত 
অথচ সুর গুলো আর মনে পরে না একদিন 
ব্যাস্ত সময়ের বুকে অসময় অভিশাপ রেখে যায় 
স্বাক্ষর হিসেবে 
প্রিয় কবিতার শব্দ গুলো অচেনা লাগে ,
প্রিয় মন দেহ কিছুই তো থাকে না বিনা যত্নে
মানুষ মরে একবার মন মরে অজস্র বার ,
তবু নালিশ থেকে যায় শেষ যাত্রার পাশে হরি ধ্বনি হয়ে ,
চৌ রাস্তার মাথায় ভালোলাগা রেখে পিছু ফিরে চাইতে নেই .... দোষ পায় ,
বেঁচে থাকা গুলো তখন কেবল অনাত্মীয় 



সই (৯৭)


বুকের পাঁজর গুঁজে রাখা বিষন্ন কেতাব 
রোজ যেখানে লিখে রাখা ভুল কিছু চাওয়া,
 ভোর হলে পরিপাটি রোজ আমি ভিড়ে মিশে চলি হাসি
কিছু পথ আলগোছে কেউ ধরে ক্ষণিকের হাতখানি 
রোদ্দুর নিভে যায় ,মেঘ হয় ভারি
বৃষ্টিতে  ডুবে যায়  পাহাড় সব ..ওরাও হারিয়ে যায়
সময় মেনে ....
একদিন ভালোবাসা ভেবে  করেছি ভুল
আসলে সে আগুনের সাক্ষর
আসলে সে মিথ্যে অহংকার 
আসলে সে ঘর ভাঙা বেনো জল 
আসলে সে মুখোশের আড়ালে মানুষের ছল।

©সই(৯৭)



সই(৯৬)

 এবার ফিরে যাওয়া দুর অন্তরালে 
কোনো নতুন গল্পে সাজাবে মন 
নিজস্ব হবে বাকি টুকু সফরের সংলাপ 
ফিরে যাবার পথে অনুতাপের বাতাস থাক
পড়ে ....
একটা সকাল একটা অবসর 
বাকিটা জন্মান্ধ আর জন্মকালা এক
অভিশাপ শুধু।

©সই

সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

জীবন ছত্র

১)খেলাটা শেষ এইবার দরজায় বন্ধ করে ফিরে যাওয়ার পালা
একটা গোটা নাটকের বারংবার পোষাক বদলাতে বদলাতে 
চরিত্র গুলোও হাঁপিয়ে গেছে একটা দাড়ি টানা দরকার ছিলো।

২)অসম্ভব দ্বিধা আর দহন পেরিয়ে মৃত্যু স্নান সেরে উঠলাম
পুড়ে যাওয়া ছাই থেকে নিজের মেরুদণ্ডের হাড় টা তুলে নিলাম
আর পিছনে তাকানো যাবে না মায়া মোহ প্রেম  আনন্দ শোক বিরহ সব পেছনে রেখে দরজার চৌকাঠ পেরোতে পেরোতে 
অন্ধকার তলিয়ে যাচ্ছে ,
ফিরে তাকানো যায়না এ পথে  এ পথ অনাত্মীয় বান্ধব হীন..
আমি আর আমার হাতে  আমারই মেরুদণ্ডের পুড়ে যাওয়া হাড় 
এটুকুই চেনা ...।

৩)স্মৃতি কথা  পুড়ে গেলো এইমাত্র বাকিটুকু বৃষ্টি দিয়ে নিলো 
বেচেঁ থাকার দিনগুলো জন্মান্ধ ছিলাম মৃত্যুও চোখ খুলে দেয় 
হুহু করে ঢুকে যাওয়া জল একসময় ভাটার পথে চলে যায় 
সাথে ... শান্ত হয়ে বসে আছি জীবনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অতিথিশালায় , মন জানে শূন্যতাই একমাত্র পরিত্রাণ পরিপূর্ণতা।

©সই (জীবন ছত্র)

রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

মনোহর খেলা

অনন্ত একাকীত্ব দরজা খুলে অপেক্ষা
করছে ,
মিথ্যে সাথে থাকাগুলো আবছা থেকে স্পষ্ট,
অন্ধকার হলে বোঝা যায় মানুষ আসলে কতটা 
একা বাঁচে ,
কেউ কথা রাখে না নিজের সাথে নিজেকেই কথা রাখার দায়টা নিতে হয় ,
যন্ত্রণা গুলো কাঁচের শোকেসে সাজিয়ে রাখতে ভালোবাসে 
বলেই বাজার থেকে সময় খরচ করে কিনে আনে মানুষ।

কখনো কখনো শোকেশ থেকে ওরা বেরিয়ে বুকের ভেতর হুহু 
করে ঢুকে পড়ে ,
হঠাৎ একদিন নিজের মুখোমুখি নিজেই দাঁড়িয়ে দেখে যন্ত্রণার 
বিষ ঠিক কতটা গরল ছড়ালে বেচেঁ থাকা যায়
 ....জিত ঠিক সেই মুহূর্তে 
.....যুদ্ধ থেমে যায় ভেতরের 
ধারণা পাল্টে যায় ... সুখ ,শোক ,প্রেম, বিচ্ছেদ , বিশ্বাসহত্যা 
সব কেমন একাকার,
ওই একাকীত্বের দরজার ওপারে এক অদ্ভুত আলোর হাতছানি ।
সবটাই মুখোমুখী দাঁড়িয়ে দেখে নিজের ভেতর আলাদা দুটো মানুষ ...তারপর একজন জিতে যায় 
.... দুদণ্ড দাঁড়ালে এমন মনোহর খেলা নিজের উঠোনে প্রায়শই দেখা যায় ।

©সই (মনোহর খেলা)





বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

সই (৯৫)

বৃষ্টি হয়তো সব ডুবিয়ে ভিজিয়ে দিতে পারে 
যা পারে না তাই ভেসে যায় অন্য গোত্রের কাছে
যা ডুবলো তার নাম কবি দিলো ভালোবাসা 
আগুন হয়তো সব পুড়িয়ে দিতে পরে যা পরে থাকে
বেচেঁ থাকার মাঝে ভাঁজ করে রাখা ব্যর্থ মন নাম দিলো স্মৃতি ।
আকাশ হয়তো সবটুকু ঢেকে দিতে পারে 
তবু বুকের পাঁজরে ক্ষত  ...তবু একটা অপেক্ষা
চোখ বন্ধ হবার আগেই বড্ড উদম হয়েই থেকে যায়
তুমি আমি নাম দিলাম ইচ্ছে।
একটা জন্ম দিন হয়তো সবার থাকে তবু মৃত্যুর অপেক্ষা
আরো কিছু মাইল এগিয়ে যাওয়াই জন্মদিন...  মানুষ বেচেঁ থাকার শুভেচ্ছা নাম দেয়।
আজ বৃষ্টি নেই , আজ ডুবে যাওয়া অথবা ভেসে যাওয়ায় নেই,
আছে স্মৃতি নিয়ে আরো একটু এগিয়ে যাওয়া একটা শুধুমাত্র দিন ....তোমরা অন্য কথা বলতেই পারো ...
জন্ম দিন।

এই প্রথম একলা একটা জন্মদিন 
এই প্রথম আশ্রয়হীন একটা জন্মদিন 
এই প্রথম কিছু না পাওয়াগুলো কাদতেঁ দিলো না,
বুঝলাম মানুষ পাথর হয়ে গেলে কোনো পাওয়া 
না পাওয়া শুভেচ্ছা অভিশাপ কিছুই স্পর্শ করে না ...
বুঝলাম বেচেঁ থাকার জন্য  আসলে কিচ্ছু লাগে না 
এইতো এত কিছুর পর একটা  গোটা মানুষ দিব্য 
বেচেঁ বর্তে আছি ... ।


©সই ( জন্ম দিন)






মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

যেতে পারলে যাও




বারংবার পথ বদলে নাও তুমি 
কোনো এক অদ্ভুত নগরী তোমার গন্তব্য 
পাশে থাকা মানুষ গুলোকে অন্ধকারে ভেতর,
ঝড়ের ভেতর, প্রলয়ের চক্রবূহের আড়ালে রেখে এগিয়ে যাচ্ছ।

তোমার  আয়না তুমিই খন্ডিত অজানা অংশে 
সব রূপ আলাদা কেউ কাউকে চেনে নে ,
তোমার এগিয়ে যাওয়ায় সময় হয়তো বা নিশ্চয়তা দেবে
পথ হয়তবা দুয়ার খুলে দেবে...।
যারা নেপথ্যে রইলো যারা, হৃদয়ে তোমার বিরুদ্ধে হাহাকার রাখলো , যারা তোমার সব কটা রূপের জন্ম মৃত্যুর সাক্ষী থাকলো ,
তুমি হয়তো তাদের এই এক জন্মের হাজারো  ভিড়ে মনে রাখতে পারলে না 
অথচ তারা কেউ তো ভুলবে না তোমায় , হিসেব রাখবে সবটুক দেওয়া নেওয়ার,
তুমি কি পারবে এগিয়ে যেতে?
যেতে পারলে যাও।

©সই ( যেতে পারলে যাও )



সই (৯৪)

দিনকাল মাস বৃদ্ধ হয় হোক আষাঢ়ের বৃষ্টিতে থাকুক 
রূপকথার স্মৃতি কিংবা হারানোর মন কেমন,
ভালো থাকার তবুও এত আয়োজন ... এই যে 
জল ভেজা বাতাস ,এই যে আমার গোপনে রাখা 
চোখ পিট পিট পুতুলের অভাব, এই যে আমার বিশ্বাসের 
মানুষ অবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ,এই যে সব হারানোর মাঝে
এই অদ্ভুত বেচেঁ থাকা এর থেকে বেশি ভালো থাকা আর তো কিছুই হয় না ....নিজেকে সর্বজয়া মনে হওয়ায় এক
অদ্ভুত ভালোলাগা কনসিটেন্সি রাখে ।

©সই





আয়না

আয়নায় দেখো রোজ নিজেকে 
নিজের চাতুরী দেখে হেসে ওঠো 
ভাবো তোমার জানা সব টুকু কেবল
জয় ,তোমার জানা ঠিক তোমার দেহের মত 
তোমার পরিচিত ভেবে খুশি হয়ে যাও ,
আসলে কোনো কোনো  মানুষ জন্মান্ধ হয়
তার কাছে পাহাড়  দেখাটা অদ্ভুত ,তার মনে হয়
পাহাড়কে সে জন্মের আগে থেকেই চেনে ,
পাহাড়ের সবটুকু সে জানে ....হয়তোবা পাহাড়টা সে নিজেই
সৃষ্টি করেছে  এসব ভেবে....
কোনো কোনো দিন আয়নার সামনে গুনগুনিয়ে ওঠো 
বেশ সুখী জীবনের মত বেশ চেনা মানচিত্রের মতোই 
তোমার চুল তোমার ভ্রু ,তোমার মুখ,
 দেখোতো ভালো করে দেখো  বহুবার দেখো 
অনেক বার  ....তবু কি চিনতে পারো নিজেকে ?

©সই (আয়না)





সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

সই (৯৩)

বড় মায়াময় এই তোমার দিকের পথটা 
ও পথে পাড় ভাঙ্গে , বানভাসি হয় সংসার ,
পাহাড় আরো বেশি স্তব্ধ হয় ...
বারোবাসের বেশিরভাগ সময় যাতনার বর্ষণ
তবু বাকি থাকা দিনগুলোর সুখ লোভী করে দেয়
ও পথের দিকে যাবার  .... বড় মায়াময় ও পথ ।
©সই






রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

প্রথম আষাঢ়ের শুভেচ্ছা তোমাকে

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে মহাকালের কাছে মাথা নত 
করে মেনে নিতে হবে গোলার্ধ বদলের সমন ,
তুমি এপারে কোনো গল্পে তখন নতুন প্রেমে 
হাতে হাত রেখে প্রথম আষাঢ়ে বৃষ্টি মাখছো।
আমি পুড়ছি শেষবার ,
যারা শেষতক সাথে থাকবে তারা হয়তো আমার মেরুদণ্ডের 
হাড় বেছে নেবে নিভে যাওয়া ছাই থেকে ,
তুমি নতুন প্রেমিকার চুলে ভেজা গন্ধের সাথে রজনীগন্ধার 
গন্ধে খানিকটা হয়তোবা চমকে যাবে ।
তোমার বুকের ভেতর সুখের মাঝে হঠাৎ মন খারাপের
কান্না দরজা ঠেলে বানভাসি হতে চাইবে ,
বলতো কিছুই কি টের পাবে ... হ্যাঁ কৃষ্ণ তুলসী সফর
পেরিয়ে অনেক দূরে তখন একটা মেঘ তোমার দিকে
তাকিয়ে থাকবে  তুমি জানবে না কিছুই ,
তোমার নতুন প্রেমের ঘরকন্নাতে তারার হাসি  এলিয়ে পড়বে,
দাবি হীন ভালোবাসা আসলে মূল্যহীন সে দিন ওই ভেসে থাকা মেঘটাও জেনে যাবে ....

তোমাকে আগামীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেঘ ঝরে পড়বে হয়তো তুমি আর তোমার হাতে হাত রাখা নতুন প্রেমের ওপরে 
আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমাকে শুভেচ্ছা ভালোবাসাময় হোক
তোমার প্রেম ,তোমার বেচেঁ থাকা ।

©সই (প্রথম আষাঢ়ের শুভেচ্ছা তোমাকে )

শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

ভালোবাসা

ভালোবাসা আসলে বুক তোরণে রাখা সুগন্ধী রুমাল
ভালোবাসা আসলে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে আঁকড়ে থেকো
একদিন শূন্য হাতের মুঠো ,
ভালোবাসা আসলে এক অদ্ভুত না পাওয়া যে না পাওয়াটা 
আঁকড়ে সারাটা জীবন দীর্ঘশ্বাসে কবিতা বয়ান লেখে ।
ভালোবাসা আসলে ছেড়ে যাওয়ার পরে বাকি থাকা অবশিষ্ট 
যাতে তার গন্ধ স্পর্শ লেগে থাকে ।
ভালোবাসা আসলে মরে যাওয়া গাছটার দিকে তাকিয়ে
অতীতের সবুজ কে মনে মনে বাঁচিয়ে রাখা ।
ভালোবাসা আসলে তুমি ছাড়া আমি 
ভালোবাসা আসলে আমি ছাড়া বাকি জীবনটা তোমার
অক্ষরের মালা গেঁথে আমার ছবির সামনে রাখা ।
ভালোবাসা 
ভালোবাসা 
ভালোবাসা...

©সই (ভালোবাসা)

ভালো থেকো

তোমাকে বলা হয় নি এক নতুন ডাক এসেছে
দরজার ওপারে কালো কাপড়ে ঢাকা তার মুখ,
তার ডাক তোমার নিবিড় প্রেমের থেকেও গাঢ়,
হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না হবো না মুখোমুখি নালিশ নিয়ে অভিমানী সাজে ।
আমার তরফে তোমাকে মুক্তি দিতে চাইনি ,
জানি আমার না থাকা তোমাকে কিছুটা হলেও 
বিষন্ন করবে ... হওয়ায় আমার সুবাস তোমাকে
এলোমেলো করবে ।
আমার উপায় নেই যেতে হবে  ঘুড়ির সুতো ছিঁড়ে গেছে
মুঠোফোন থেকে একটা নাম মুছে ফেলো,
স্ক্রিন সেভারে তারিখ মুছে ফেলো 
এর পর ১১ফেব্রুয়ারি আসবে অথচ তোমাকে কেউ উপহার দেবার জন্য হন্যে হয়ে শহরের অলিগলিতে খুঁজবে না হয়তো ....
কিংবা  তোমার জন্যে দামী কোনো উপহার নিয়ে অন্য কোনো নতুন 
সময় দাঁড়িয়ে থাকবে ...তোমার বুকের ভেতর একটা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অনুভূতি আর চোখের কোন থেকে 
এক ফোঁটা জল এতেই আমার থেকে যাওয়া ।
ভালো থেকো ...তোমায় ভালো থাকতে হবে আমার উপন্যাসের শেষ কাজ তোমায় সম্পন্ন করতে হবে 
তোমার একটা কবিতায় আমিময় হবে বাকি জন্ম 
ভালো থেকো....

©সই (ভালো থেকো)

শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

মনে নেই শুধু তুমি

তোমার  গলার আওয়াজ শুনে ভাবতে বসলাম
কে তুমি.... এত চেনা আওয়াজ অথচ মুখ মনে 
পড়ে না, ভাবতে ভাবতে এক যুগ  পেরিয়ে আরও 
এক যুগের  দোড়গোড়ায়.... হাজারো  মুখ আসছে
আমি তাদের খারিজ করছি একের পর এক, 

তোমাকে  মনে করতে পারি না শুধু  আওয়াজ চেনা লাগে
মুঠোফোন এর ওপাশে অন্ধকার থেকে তোমায় চিনতে পারি না
,মাথার ভেতর ভাবনা ছবি জট পাকাচ্ছে 
একটা  গিঁট  খুলতে গিয়ে আরও গিঁট এর ভেতর ধরা  দিচ্ছি
অথচ তোমায় মনে করতে আমি ব্যার্থ। 

©সই (মনে নেই শুধু তুমি)

কাঠ পুতুল

শুধু তোমারই জন্য এই পৃথিবীর থেকে আমি
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ,
তোমারই জন্য আমার শব্দেরা বোবা হতে চেয়েছে ,
তোমার জন্যেই আমি অলীক শান্তির মত শীতল ,
তোমার জন্যেই উড়ন্ত হওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি সমস্ত স্বপ্ন 
তোমার জন্যেই ক্যানভাসের সমস্ত ছবি গুলো
নষ্ট করে ধুয়ে দিয়েছি তার বুক ...
তোমার জন্যেই ভয়ংকর আর সুন্দরের সঙ্গম 
সম্ভব হয়েছে একই সন্ধিক্ষণে।
তোমার জন্যেই আমার বুকে আতরের গন্ধ 
মিশে গেছে রক্তের গন্ধে ।
তোমার জন্যই আমার পাতাল তোরণে এক অন্য পৃথিবী 
রাখা ।
মাঝে মাঝে মনে হয় আজন্ম আমার অস্তিত্বের নিব বুঝি
তোমাকে দিয়েই শুরু 
মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার পথে চলতে চলতে আমি আমাকে
হারিয়ে ফেলেছি সবটুকু ।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যানভাস রং তুলি সব আমাকে
হাতে দিয়ে তুমি তোমার মত ছবি আঁকিয়ে নাও 
আবার ইচ্ছে মত সে ছবি তুমি দায়িত্ব নিয়ে নষ্ট করো ,
আমি মানুষটা আদ্যোপান্ত তোমার কাঠ পুতুল ,
খেলা তোমার দান তোমার গুটি তোমার গল্প তোমার 
তোমার নির্দেশে আমি তোমারই হাতের দুটোর টানে
স্রেফ এক কাঠ পুতুল ।

©সই (কাঠ পুতুল)





বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

শুভেচ্ছা তোমাকে চে

সামান্য শুভেচ্ছাই তো 
এই শুভেচ্ছাটুকু তোমাকে দিতে পারলেই
যেন নিজের ভেতর অ - প্রতিবাদী  ভীতু মানুষটা পাপ
ধুয়ে ফেলতে পারে ।
 তেজপাতা রঙের দীর্ঘশ্বাস আর অতীতে রাখা
শৈশবের জানলার  গরাদের পেছন থেকে 
 তাকিয়ে রাখা মানুষ আমি 
বুকের ভেতর অজস্র না দেখা মৃত্যু ভয়  তোমার মত
আগুন পথে যেতে পারিনা কখনো ।
 সামান্য সংগ্রামী মুহূর্তে নিজেকে খরগোশ ভাবা মানুষ গুলো
তোমার দিগন্ত খোলা বুকের ওপর বয়ে যাওয়া বিপ্লবী স্রোত 
দেখে  শুধু মনে মনে নিজেকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ।

কোনো শপথ সফল হলো না ... ট্যানেলের অন্ধকার পেরিয়ে যেতে যেতে জন্ম ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিবার ,
  আর প্রত্যেক বার তোমার ছিন্ন শরীর আকাশ ছোঁয়া চাহনি জীবন্ত হয়ে হাতছানি দিচ্ছে ট্যানেলের অপর  পাশ থেকে ।
অন্তত একটা জন্ম সত্যিকারের প্রতিবাদী  হোক এই বলে
নিজেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফিরে আসছি বারংবার ....
কিছুই হচ্ছে না  "চে"  কিচ্ছু হচ্ছে না  .... শেষমেশ তোমার দিকে তাকিয়ে  নিতান্ত শুভেচ্ছা টুকু জানানো ছাড়া  কিছুই হয়ে উঠছে না ,
প্রশ্ন  একটাই  ঠিক কবে আমাদের ভেতর শেকলে আটকে থাকা  মানুষটা  শেকল ছিঁড়ে সংগ্রামী   হতে পারবে  বলতে পরো "চে"?


....."চে" আজ তোমার  "৯৬"  অন্তরে নিরন্তর বেচেঁ থাকার শুভেচ্ছা তোমায় ।

©সই (শুভেচ্ছা তোমাকে চে)






মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪

দেওয়াল

ডাক ফুরিয়ে আসলেই যৌথ খামারের মাঝামাঝি 
একটা দেওয়াল তুলে দিতে হয় 
আসা যাওয়া থেমে গেলে যাতে অপেক্ষা না দাঁড়িয়ে থাকে ।
এক সফরের বারংবার ভুল করলে অপরাধী আখ্যান পেতে হয় বলেই সাধন বদলে নিতে হয়।
সময় থাকতে বাকি টুকু নিজস্বতা গুছিয়ে রাখার চেয়ে ভালো
আর কি হতে পারে ,
মৃত্যু তো সবসময় নোটিস দিয়ে আসে না 
বাকি বেচেঁ থাকাটুকুর ওপর নাহয় একান্ত নিজের অধকারটাই
থাকুক ।

©সই (দেওয়াল)


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

বিশ্বাস

বিশ্বাস ভাঙার পর আবার কিভাবে ঘর বাঁধে মানুষ?
আবার কিভাবে বিশ্বাস করে যে এবার ঘর হবে এক্কেবারে 
কপোত কপোতীর মত ভালোবাসাময়!
বিশ্বাস খুন করার পরেও ফুলের শরীরের বেঁচে থাকার রঙ 
লাগে কিভাবে ?
বিশ্বাস ভাঙার পরেও ভালোবাসা কিভাবে উৎসব!
 
কিভাবে জানতে জানতে দহন হচ্ছে সাধের জন্ম 
কিভাবে জানতে জানতে ঝলসে যাওয়া  জ্যৈষ্ঠ 
অপেক্ষাকে পুড়িয়ে ছাই করছে কিংবা চিহ্ন হীন।
বিশ্বাস ভাঙার পর  আর কখনো বৃষ্টি নামেনি মাটির ওপর,
 আসলে কান্নার স্রোত বুঝে যায় বিশ্বাস ভাঙার পর
চোরা পথে বিষাদ রাখতে হয় বুক জমিনে,
তারপর যীশুর মত আটকে থাকতে হয় কাঠ আর পেরেকের মাঝে ...

  বিশ্বাস পুঁতে দেখেছি 
ও জমিন আসলে মীরজাফর ।

©সই। (বিশ্বাস)







রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

তোমায় চোখ দিয়ে যখন দেখি



কাগজে পাল তুলে  স্বপ্ন স্রোত চুঁইয়ে পরছে
নিয়মিত ব্যাকরণের কাছে,
মেঘেরা মাটি ছুঁতে চায় সেই আদিম কাল থেকে 
মাঝে খানে কাঁটাতার অদৃশ্য অথচ কার্যকরী ।
যে নদী শহর সভ্যতার বুকে ভেসে যায় তাকে সবাই দেখতে পায়,
.... লুকনো নদী লুকনো স্রোত লুকনো ইচ্ছে নৌকো লুকিয়ে রাখতে হয় ,
তুমি ক্যানভাসের ঠোঁটে ভাষা এঁকে দাও ...
আমি অক্ষর সাজাই সাধ্যমত ....
দুজনেই  অ - সুখ লুকিয়ে রাখি তোরণের ভেতর।

©সই   (তোমার চোখ দিয়ে যখন দেখি )