বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

হিসেব

বেঁচে থাকার জন্য নিজেই নিজেকে শেষমেশ হত্যা করলাম,,
কারণ আমি আর এই ভিড়ে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা রাখবো না ,
আমি হয়তো বোঝাতে পারছি না  আসলে 
মৃত সম্পর্কের বুক মাড়িয়ে যে  স্বর্গ দুয়ারে আমি দাঁড়িয়ে সেখানে ঈশ্বর থাকে না তাই আর  ঈশ্বর খুঁজবো না ,
খাতার পাতায় যে সব হিসেব লিখেছে পোশাকি জনেরা আমি তাদের চিনেছি খুব ভালো করেই,,,

 তোমার মনে বারো ঘর তাই তোমাকে আবিস্কার করা ছেড়ে দিয়েছি  ,
একদিন হুবহু তোমার মত হতেই চেয়েছিলাম 
প্রতি মাসের হারিয়ে যাওয়া দু একটা একান্ত দিন 
আর অপেক্ষায় নেই অপেক্ষায় নেই আর সেই বেকারারি হৃদয় ,
প্রেম খুঁজতে আজন্ম অদ্ভুত পাপের গাছ হয়ে রইলাম  অথচ ফলে ফুলে গর্ভবতী হওয়া হল না ,,

মন মরে গেলেও মানুষ কেমন জীবন্ত লাশ হয়েও 
চলা ফেরা করে কথা বলে .......আয়নার সামনে না দাঁড়ালে জানাই হত না ,
ভালোবাসার গন্ধে গা  ডোবাতে ডোবাতে ....প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেব নিকেশ করতে করতে  নিজেকে 
কখন মৃত ঘোষণা করে এগিয়ে গেছে মন হীন কায়া টুকু নিয়ে ,,

রোজ সকালের খবরে তোমার রক্তদাগ শিল্প আঁকা
শব্দ জব্দ পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠেছি আমি ,,
তাই তোমাকে জানানো ভালো ..............আমি 
আর এই বিশাল জন সমুদ্রে ভালোবাসার অপেক্ষা করবো না ,ঈশ্বর জানবো না , মাসের কোনো তারিখে উদযাপন লিখে  রক্ষণাবেক্ষণ করবো না ,,
বেঁচে থাকার জন্য আমার এই হত্যা বলতে পারো ।


বিদায় 2020

বছর শেষের  ছায়ায়  দুলে ওঠা গঙ্গার  জলে কয়েক মুঠো সহিষ্ণুতা রাখা আগামীর জন্য... স্হবির কুন্ঠায় যারা হৃদয়ের  রঙ ও দরজার ফাঁকে আটকে পড়া কালো ঝড়ের গতিময়তার কথাই বলে  , 
তাদের ভিড় পার্কস্ট্রীট এর আলোর সেতু ,  হাওড়াব্রিজ, ও দ্বিতীয় হুগলি সেতুর  বক্ষবন্ধনী মত ,,,
. কারণ রাত শেষ হ'য়ে এলে ডানার প্রমিতি নিয়ে ছায়া ফেলে আসবে নতুন বছর ,
শহরের  হৃৎপিণ্ড  আবার রজঃস্বলা হযে উঠবে। সুতোয় ঝুলিয়ে রাখা সুরক্ষাগুলি যত্ন ক'রে তুলে নিয়ে সঙ্গম গৃহ খুঁজে নেবে নাগরিক প্রেমিক প্রেমিকারা ,.... ... ধমণী ও সমুদ্রবাহিত গোপন  মৈথুন কৌশল তুমি আমি নয় অনেক সরল মুখের আড়ালেও থাকে ।

সুখের ভেতর অপ্রস্তুত এক কৃষ্ণগহ্বর  থাকবে নিয়মিতভাবে । 
তবু বর্ষবরণ এর  ভিড়ে আমার মত কিছু মানুষ কে ... নিঃসঙ্গতা পেয়ে বসে  ভীষন রকমের । 

নিজেকে যে প্রশ্ন কখনও করিনি তার ঢেউ এসে লাগে  আকাশে তারায় তারায় । 
মূঢ় স্থাপত্যের  মত এই শহরে নির্বাসনে আসি যেমন........  আজও তার ব্যতিক্রম হয় না .

যখন এসব ভাবি যখন নিজেকে পঙ্গু মনে হয় ভীষণ রকম ,
 শেষ বিকেলে  পালক উড়িয়ে একদল পায়রার যাবার পথে সূর্যাস্ত মিশে যায় আমার মনের মানুষটার  কান্নার স্বরের মতোই । 
লম্বা লম্বা দাগ এঁকে গঙ্গা ... সন্ধ্যেবেলার সব কষ্ট লিখে রেখে ,
 নতুন আলোর জন্ম দেয়  নতুন বর্ষবরণ ।
বিদায় তিলোত্তমা বিদায় ......"2020"।।

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

বৃশ্চিক

Dying is an art, like everything else. I do it exceptionally well. I do it so it feels like hell. I do it so it feels real. I guess you could say I've a call.
--- Sylvia Plath

কালের প্রবাহে  হারিয়ে যাওয়া সময় বন্ধনীতে  মৃতবাহকের এই নাগরিক প্রলাপে অজস্র সমুদ্রভাষা থাকে ,,
পাথরের আঙুলে উড়ে আসে তার মত মানুষ,  .......... যারা তাদের বুকের ওপর  নিসর্গহীন পালকের ছায়া
রক্তশূন্য দুটি হাত মাড়িয়ে ফেলে কবির দিকে তাকিয়ে দিকভ্রান্তের মত হাসতে থাকে,
.................... তাদের  স্তনের বোঁটায় জমা  লুকোনো আততায়ী নখের দাগ, নদীর  জঠরে   বিষময় পৃথিবীর সভ্যতা জন্ম নেয় গোপনে  
গরল হাতে মৃত    সন্তান ভাসিয়ে কুন্তী হাসে সভার মাঝে গোপন সন্ন্যাস  বাস  ভেঙে,,, 
..................  শরীরের ঘাসে লুকিয়ে 
ঋণস্পর্শের  ওম যা তাকে বাতিঘর গুলো দিতে পারেনি 
....... ধুলোবালির মতো ছড়িয়ে  থাকে অপ্রেমিক 
গুপ্ত বার্তা   , সম্মোহিত কুয়াশায় সবটাই ভালোবাসা মনে হলেও আসলেন প্রয়োজনের 
 ক্ষরণ মন বেয়ে চুঁইয়ে পড়ে,..... 
 যে  শবদেহ ছুঁয়ে থাকতেই ভালোবাসে ... 
সেও মৃত্যুশোক আঁকে বাতিঘরের দেওয়ালে ।
 মৃত্যুসংবাদ লিখে রাখে  যে ঠোঁট  সে মন জানে 
সমাধি ফলক একমাত্র কথা রাখে সমস্ত কোলাহল বুকে নিয়েও  শব্দহীন হয়ে ।

পাগলের অভিসম্পাত



যক্ষি প্রপাতের মত তাড়াতাড়ি পথ পেরিয়ে 
পরজন্মের গোধুলি আঁকি  ,, 
নিজের বমনদৃশ্য দেখতে দেখতে   
......... আমার মত আর এক আমি  চরাচর জুড়ে বিছিয়ে নেয় জলছবি ,
উচ্ছিষ্ট ও দহনের সিঁড়িভাঙ্গা অংক গুলো
আঙুলের স্পর্শ ও পাহাড়ের ছায়ার হিসেব শিখে 
পারদর্শী হয়ে উঠে একদিন , 

প্রেমে  আততায়ী- দৃষ্টি  জানে 
মনের  দেওয়ালে  
কিভাবে আঘাত হানতে হয়...

 ওসব বসন্ত টসন্ত নয় হে  আমার  কালো গর্ভে 
............ নির্মাণের স্তুতি শুনিয়েছে স্বয়ং মহাকাল ,
নির্জনতায়  রেখে গেছে মায়ামৈথুনে ভাষাহীন শ্বাস-প্রশ্বাস এর উঠানামা 
 ধ্বনিহীন আয়নায় 
আঁকাবাঁকা প্রপাতের ধারাস্নানটি পারিজাত ছুঁয়ে ঢেকে দিয়েছে  অনুভূতিশূন্য পাতার পোশাকে...
জীবন আর কবিতা যে এক নয় সে পাগল  বারবার মনে করিয়ে যায় সকাল সন্ধ্যা চিৎকার করে জানলায় টোকা মেরে বলে 'জগতে রহ' ..........,

কাল সাপের আয়ু

হৃৎপিণ্ডে জড়িয়ে আছে কাল সাপ ....নিঃশ্বাস তার সর্বস্ব দেয় পুড়িয়ে ....
নিকষ  অন্ধকার পথে আমি প্রবেশ করি ভালোবাসার অন্তেষ্টিতে,

অন্ধকারে আলোর যন্ত্রণার তীব্রতা পূর্ণিমা রাতে 
ছায়ার মতোই সহজে চোখে মুখে ভাসে ,
জীবনের দুয়ারে আসা অতিথির দেওয়া সুবাদের অন্তরালে সম্পর্ক খুঁজতে গেলে বেহিসেবি কিছু 
যন্ত্রণা অনামিকায় পরতেই হয় ,
তারপর...........আসা যাওয়ার পথে .........

মহানগরের ভিড়ে একদিন অচেনা মুখে আশ্রয়ের ছায়া দেখে   ফেলে আসা সময়ের   সম্মোহন  ছুমন্তর হয়ে মিলিয়ে যায় ,,,,

বেলা শেষের গানে  কড়ি ও কোমল স্বর  অপেক্ষা লিখে রাখে , অবগাহনে  আজন্মের যন্ত্রনা গুলো মরতে দেখতে দেখতে কখন যেন তিলোত্তমা হয়ে উঠে মন সমেত মানুষ টা , 
বুকের ভাঁজে কাল সাপের হিসহিস আগুনে পুড়িয়ে যায়  ভোগীবাদী জীবনের  ঐশ্বর্য ,
ভালোবাসা বোঝাতে তিলোত্তমার বুক চিরে ইতিহাস  তুলে আনতে হয় বারংবার  চিরকাল ,,
আর হৃদয়ে জড়িয়ে থাকা কাল সাপ টার আয়ু বাড়তে থাকে  উত্তরত্তর ।


মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

গুপ্ত হত্যা



নিমেষে -নিহত দুটি স্বর  পাহাড়ের
......................... পাকদন্ডী বেয়ে রাত পার করে ফেলে।
পোড়া গন্ধ বয়ে আনে  একে অপরের সমাধি থেকে,
ভাঙা  মেঘ  ভেজা ডানায় ভর করে 
 গাঢ়  অন্ধকারের চিরকুট  বিলিয়ে বেড়ায় পাহাড়ি ছত্রে ছত্রে ,

গুপ্তহত্যা নিবিড় হয় কখন কোন প্রহরে . সে কথা কেবল পাহাড়টা জানতো ,

আমার ভিতর কথা বলে ওঠে 
পাহাড়ি দৃশ্য   অদৃশ্য অক্ষরেরা

 সে তখন নদীর ভিতর... .. কান্নার দাগ  আঁকা শেখে ।

 অন্ধকারে সমাধিক্ষেত্রের  ভেতর সম্পর্কগুলো পরপর শুইয়ে দেওয়া হয়... চারিদিকে সময়ের  পাথুরে স্তূপ , সেখানে দাঁড়িয়ে মৃত্যু ফলক লিখে ফেলে কেউ কেউ এগিয়ে যায় আগামীতে ,,
এমন করে না জানি কতই  না পারা অজান্তে পারা হয়ে যায় , 

তাতে হয়তো দেহটার রং ফ্যাকাশে হয়
 রঙহীন  দেহ  থেকে মাটি খসে  
 খড়ের পাঁজরে  দীনতার জানান দেয় ,,

........  যোনি র  পাশে  যেসব সভ্যতা আসে যায় ,,  অজস্র ভারতবাসীর দেহ  নৈঃশব্দ্য এ  জাগে সেই উপত্যকায়  , 
তাদের  জীবনের সব গল্প, বিদ্রুপ হয়ে যায় শেষমেশ  অথচ বুঝে উঠতে পারে না জীবনভর, এমনি খেলা  বিধাতা পুরুষের পছন্দ ,, ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার আগে বাক্স বদল করে বিধাতা ওই পাশাপাশি পাকদন্ডী বেয়ে ফেরা স্বর দুটিকে আলাদা করে দেয় ,
পাহাড় ছাড়া কেউ কোনোদিন এই গুপ্ত হত্যার কথা জানে নি ।



রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০

সুবর্ণা(৯৭)

 আজকাল.. তোমাকে জড়িয়ে আমার শীত বাড়ে প্রচণ্ড রকম , আজ কাল আমরা পাশাপাশি বাড়িতেও অচেনা পড়শী ।
তুমি রোজ সকালে স্নান করে রোদ চাও আমার উঠোনে আমি তখন  উষ্ণতায় কৃপণ হতে ভালোবাসি ,

একা থাকি আজকাল.... তোমাকেও এক রাখি 
 চার দেয়ালের ভেতরটাতে 
তোমার কিছু যত্ন করে রাখি সমস্ত অবহেলা ,অপ্রেম ,
 রোজ দুপুরের  সেই চেনা রিংটোন এর অপেক্ষা এখন আর রাখিনা 
তোমার  সেই কান্নায় হাত বুলিয়ে 
আমি আর শুশ্রূষা ছড়াতে ভালোবাসি না ,

'আমরা' আমাদের কাছে কেমন একাই থাকি আজকাল.. একার বুকে মুখ গুঁজে ঘুম কে ডাকি 
তবু কেউ কারো দিকে এগিয়ে আসি না ,

তোমার হাত ধরে তেমন করে আর 
খোয়াই মাঠে  সোনাঝুড়ির লাল মাটির ওপর কিংবা শহরের পথে আমার আর হাঁটতে সাধ নেই ....

কি নিদারুণ নিষ্ঠুর নিরাগ্রহ নির্বাসিত 
আমাদের  অনিয়মের বঞ্চনা এই অদেখার  কাছে আসা.... তাই না সুবর্ণা 


তুমি আমি মুখোমুখি...
তবুও কি অসহ্য  সামান্য বারো মিনিট 
আমার ফিরে আসি চৌম্বকিয়  মেরু বিকর্ষণ এ , দুজন দুজনের থেকে  দুরত্ব বজায় রাখি কারণ এর আড়ালে ,
আমরা একা থাকি আজকাল.....সুবর্ণা ।

................(.সুবর্ণা প্রিয় দুরত্ব)


শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

আমার কিনারায় সে

আমার কিনারায় ঘর বেঁধেছে যারা  তাদের যে ভাবে ভালবাসি,  আমাকে যে  ভেঙেছে  তাকে
কখনো  ভালবাসতে পারিনি, 
আমার শব্দ ধার করে যার শব্দ খবরের কাগজের
চৌখোপ ভরে তাদের প্রতি থেকেছি অকৃপণ, 
আমার শব্দ মহলা যে বুকের জমিতে তার কাছে
আমি বার বার কৃপাণ  প্রমান করি নিজেকে, 

শুভ সকাল, শুভ রাত্রি বলে যায়  সব আগন্তুক 
কিংবা পথিক  সৌহার্দ্যতা  থাকি নিয়মিত, 
শুধু তার আসা যাওয়া  শেষ  সম্ভাষণএ আমি পোষাকি হতে পারিনি আজও , 
...
...... "মেরি ক্রিসমাস " এর শুভেচ্ছা আজ,  সে বলে অনন্ত কে ধরে রাখতে কেউ পারে না, আমি সেখানে লেগে থাকতে জানি.... 
আমি কি জানি সে কথা সে জানে না কারন
তার ছেলেমানুষী  ছেলে বেলা তাকে বড় করে তোলেনি  আজ আটত্রিশ শেষ  অধ্যায় এসেও, 
তার বুকে আমি  আস্বস্ত  প্রেমিকার মত মাথা রাখতে পারিনি এখন বরং সময়ের আছড়ে পড়া ঢেউ এসে যখন তাকে ব্রাত্য করে পাড়ে ছুড়ে ফেলেছে আগলে রেখেছি সে ছেচড়ে যাওয়া  হৃদয় টা, 
আমারও  কখনো  মুখ  গুঁজে  কান্না এসেছে স্রোতের তিব্রতায় চেয়েছি সে বলুক আয় আজ তোর জন্য.... তোর চুঁইয়ে পড়া গালের দুঃখের  জন্য আমার বুকের ঘড়িটার কাঁটা থামিয়ে থমকে
থাকি মুহুর্ত ,,,  
না সে এত সব সাত সতেরো দিতে জানে না, 
একটা অপেক্ষা সে বারংবার  চিরকুটে বেঁধে ঢিল
ছোড়া দুরত্ব  বজায় রেখে সমান্তরাল  লাইন পার করে দেয়......  সে চিরকুট অপেক্ষার বছর কুড়ি
ছাড়া কিছু লেখা থাকে না, ....... আমি কখনো  গংগার ঘাটে কিংবা সমুদ্র কিনারে এসে দাঁড়াই, 
মুখোমুখি  দেখি আমার প্রান্তর জুড়ে অসংখ্য  ঘর বাঁঁধা মানুষের  ভিড়..... ভালবাসার  ভিড়....., 
ভালবাসি শব্দের গুঞ্জন , , হেসে উঠি 
ভাবি তাকে তাহাদের মত করে একবারও  বলা হল না ভালবাসি কিনা,  
জানানো  হয়নি একদিন ও শুভ সকাল ...... 
শুভ রাত্রি.......... 
 

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

মৃত্যুর আগে

Death must be so beautiful.......

কাকে তুমি  ভালোবেসে কিন্নরী অক্ষর চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছ আজও ।
 তুমি কি একবারও মুখ ফিরিয়ে দেখেছো  মাত্রাহীন মুহূর্তে গভীর পরিখা ডিঙিয়ে ঢেউয়ের ছদ্মবেশে যেসব যন্ত্রণা এতদিন নিজের ভেতর থাকতে থাকতে আপন হয়ে গেছে 
তার ভেতর ......সে যন্ত্রনা তোমার থেকেও তার হৃদয়ের কাছাকাছি ।
তোমায় হেসে বলে যায় সে রোজ অবিশ্বাসী ভাষা আড়াল করে  করে ,

তুমি . পাহাড়তলীর উড়ন্ত মেঘের  অক্ষরে অক্ষর জুড়ে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সমুদ্রে ঢেউ এর দিকে স্বার্থপরের মত । 

 অসংখ্য কাগুজে ঘুড়ি গায়ে তুমি কয়েক হাজার কবিতার মালিকানার আড়ালে  লিখে গেছো নানারকম গোপন সংকেত।  সেসব 
শুধু দুই ভুরুর মাঝে তর্কহীন মৃত্যু প্রলাপ ।

খুবলে খাওয়া রক্তাক্ত নখগুলো  রোজ দেখে 
কেবল   মৃত্যুচিহ্ন  আর যন্ত্রণার সংগম ।,,
তুমি হাজার বার পরিব্রাজক হয়ে কেবল  এসেছো গেছো ......... অথচ ,
  ঈগলের ঠোঁটের ভেতর নির্জন সমুদ্রের  সন্ধান পাওনি সুজন  ,,. 
....যান সুজন এ  খেলায় বৈদুর্যে পত্রবিন্যাস হারিয়ে যায় স্তরে স্তরে খানিটা শিল্যাজিত এর মতোই

সবটাই কাছে থেকে কাছে না থাকার  অসুখ আসলে ....
তুমি কখনো 
ধানক্ষেতে ছুঁড়ে ফেলা সূর্যাস্তের রঙ দেখেছো কিনা  জানি না 

যেখানে বধিরতা উড়ে যায় ..... গ্রাস করে . কোটি কোটি চিহ্ন ও মায়া ....পারলে একবার তার নিঃশব্দে  ফিরে যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকো সব বুঝতে পারবে,,
এত সমান্তরাল হাঁটার থেকে তোমার কি মনে হয়নি কখনো ...............
Death must be so beautiful.......।

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

ঈশ্বর এর হার

সবটাই কাছের   না থাকার অসুখ বলে ধরে নেওয়া যাক ...,
 ধানক্ষেতে ছুঁড়ে ফেলা সূর্যাস্তের রঙ যেন নব বধূর মত বরণ করে নিচ্ছে সাবলীল ভঙ্গিমায় 
পুরোনো রিং টোন বদলে ফেলে , যেন এটাই নিয়ম ছিল আজন্মের ।
 বহু দূরে অসমাপ্ত স্তম্ভের চূড়ায় অজস্র ঋতুর দল শূন্যতা ছড়িয়ে রাখে সে দেখেও না দেখা বুঝেও না বোঝার ভান করে পার হয়ে রোজ আসা যাওয়া পথ , ...।
 যেখানে বধিরতা উড়ে যায় অলক্ষ্য  ঈশ্বর সংলাপে  সামনে
সেখানেই তার খানিকটা দাঁড়িয়ে যাওয়া স্বভাব ,

 কাচের দেওয়াল গ্রাস করে কোটি কোটি চিহ্ন ও মায়া ,  কাছের অসুখে ভরা উঁচু অশ্বত্থের ডালে তখন একসাথে অনেক জোনাকি... রাতের বুক চিরে ফেলার চেষ্টা করে ,

 সমুদ্রের ঢেউ ফিরে আসে বার বার নিয়ম করে অসুখের কাছে... নীল জল ক্রমশ দূরের হয়
ঈশ্বর কথা রাখতে পারে না , 

তাই বর্ণান্ধ অন্ধকার কে আলো ভেবে নেয় ,
আমি হাসি ঈশ্বরের হাতে নির্বরের লাঠি দেখে ,
আমার হাসিতে লেখা থাকে ...........
I am the greatest ever bron on this planet ...
 আমার ঈশ্বর হেরে গেছে .......
 ঈশ্বর মাথা নিচু করে , রাখতে পারে না চোখের ওপর দৃষ্টি ........এক সর্বংসহার  কাছে 
হা হা হা হা ..........আমার ঈশ্বর হা হা হা হা 

(গোপন গ্রন্থ)............পাপ চিত্র (৫)




শয়তান এর ইচ্ছা

ইচ্ছে করে সভ্যতার  বিরুদ্ধে  ফাঁসির  হুকুম দিই 
একদিন, 
ইচ্ছে  করে সমস্ত এজলাসি বয়ে যাওয়া  সময়ে 
বাঁধ  দিয়ে প্রবাহের বিরুদ্ধে  দাড়াই একদিন, 
রাতারাতি এক দিন মৃত্যু  হোক সমস্ত কাব্য কবিতার স্রস্টা  দের, 
তার পর থেকে পৃথিবীতে  নেমে আসুক কেবল কঠিন  মর্মভেদী  শব্দ  হীন তরংগ, 

ইচ্ছে করে সূর্যর নিয়মিত প্রদক্ষিণ  থামিয়ে দিই 
আর সমস্ত  জাগতিক  ইচ্ছার সকাল আসার পথ
বন্ধ হয়ে যাক  আমার শয়তান  ইচ্ছার প্রকান্ড 
প্রস্তরখন্ডের  আড়ালে, 

ইচ্ছে করে মুহুর্তে  মুহুর্তে  জন্ম  মৃত্যুর  এই খেলার 
পথে এবার  পুর্ন সমাপ্তির যতিচিহ্ন  এসে দাঁড়াক, 
ইচ্ছে করে এভাবে একদিন সমস্ত  ব্রম্মপুত্রে  বয়ে যাক প্রেমে আর ভালবাসার নামাংকিত জন্ম জনক রা, 

আমার খুব ইচ্ছা করে তোমায় ও  তোমার ঐ শো কল সভ্য ভদ্র চরিত্র দের  জামা কাপড়  খুলে ন্যাংটো  করে  বড় রাস্তায় দাঁড় করিয়ে আগুন জ্বালিয়ে  আমি হোলিকা নৃত্যে মেতে উঠি , 

ইচ্ছে করে একদিন সমস্ত  সৃষ্টির বিরুদ্ধে  আমি 
ধ্বংস  প্রলয় হয়ে উঠি ।। 

মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

সময়ের ধারালো প্রেম

সময়ের পায়ে ফুটে গেছে দীর্ঘ  পেরেক, 
তাই ভালবাসতে ইচ্ছে  করে না, 
লোকাল ট্রেনের  ভিড়ে যন্ত্রনা  বিকিয়ে বেড়ায় 
 খুব চেনা  ছিল যে মন.... 
প্রতিশ্রুতি ছড়ানো আজকাল পায়রার বকম বকম 
কথায়..... ছড়ানো চাল, . 
ভালবাসা বদলে যায়  কোনো সমন জারি না জানিয়ে, 
নাভির নিচে এক পস্তর জখম খামোখা টেনে 
এনে কোনো একদিন নিউমার্কেট  এর বড় রাস্তায় 
বিকিয়ে দিয়েছিল আজকের পাগলি টা,  

সে দিন সে আজকের পাগলি হয়ে ওঠে নি 
 দীর্ঘ  দিনের তিন বেলা তাকে ভাতের সাথে ছেলে খেলা প্রতিশ্রুতি  মিশিয়ে স্লো পয়েজেন এর মত 
আত্ম সাত  করতে হয়েছে, কফ, থুতু,... সমস্ত আবর্জনা .... …
 
  এখন সে অনুভুতি  পেরিয়ে রথের চুড়ো চাকা ভেঙে  মুখ  গুঁজে  পড়ে থাকা  যথার্থই  পাগলি বটে, 
তবুও লোকাল ট্রেনে চাপতে চায় না পাগলি, 
তবুও পুঁতে থাকা পায়ের পেরেক টা পা থেকে
বার না করে আরো গভীরে  গুঁজে  দেয়.... 
কারন আর তার ভালবাসতে ইচ্ছে করে না, 
মাঝে মাঝে সে মৃত  সময়ের আলব্যাম খুলে 
দেখে... কখন  ছবির চরিত্র বেমালুম   বদলে গেছে, 
কিছু ছাই আর  আধ পোড়া কাঠ এর চিহ্ন আঁকা 
ছাড়া কিছু পায় না,  ভালবাসতে ইচ্ছে করে না............ 
ভালবাসা  মরে গেলে সেখানে কি যেন  এক নতুন এর জন্ম হয়..... অথচ হাজার চেষ্টায় পাগলি টা আর সময়ের দরজায় ফিরতে পারে না, 
ভালবাসতে আর ইচ্ছা হয় না। 

সর্বংসহা

সে স্বপ্ন দেখে , সে ঘুম ভাঙা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভোরের আলোর আলিঙ্গন নেয় ,
ইচ্ছা বোনে মনের সুতোয় ,
২ 
উনুনে বয়েসে হাঁড়িতে ভাত চাপায় ,
 জন্ম দেয় আগামীর জন্য প্রতিদিন যাপন ,
আকাশ এসে উঁকি দেয় হিজল গাছের পাতার
আড়াল থেকে , মুখ ফিরিয়ে 
নেয় সে , 
মৌনতায় কেটে যায় বছর পনেরো ,
নীলকণ্ঠ পাখি দক্ষিণ এর উঠোনে আসে একদিন ,
তার মনে দিকে শিস দিয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো বাসন্তী রং
ছড়িয়ে দেয় ,
একদিন যায় , দুদিন যায় .....মাস পেরিয়ে যায়
 নীলকণ্ঠ পাখিটা রং ছড়াতে থাকে নিয়ম করে ,
 এক সর্বনাশী দুপুরে সে মুখ তুলে  পাপ দেখে 
দেখে নিয়ম ভাঙা নীলকণ্ঠ পাখিটার মায়া চোখ ,
আকন্ঠ বিষ পান করে সে ,
শেকল ছিঁড়ে দৌঁড়ে যায় ভালোবাসা খুঁজতে 
মৃত্যুর হাতছানিতে আশ্রয় নেয় ,
খেলা জমে যায় পাশায় জিতে যায় নীলকণ্ঠ
পাখি , 
আগুনে মন পুড়ে যায় ....জ্বালা ,যন্ত্রনায় 
মুক্তি ভুলে যায় ,
মৃত্যুর পর নিঃশ্বাস যে অসহ্য লাগে সে প্রথম
বুঝেছিল ,
 নীলকণ্ঠ পাখিটা অনিয়মিত হয়ে নতুন নিয়মে
অন্য চিলেকোঠা পাশা পেতে বসে , 
বুকের নিজে জমতে থাকে একসাথে শব্দ আর জল , কেউ খবর রাখে না , 
অবহেলা না গভীরতা বুঝে উঠতে পারে না সে ,
উপচে পড়া আর্তি নিয়ে এক দিন অফিস ফেরতা
সে ঠিকানা ভুলে যায় ,
সকালের তাজা খবরে জানা যায় একটা বিচর5 বত্রিশের মহিলার থ্যেতলে যাওয়া শান্ত দেহ শহরের বড় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে 
মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ,
যে মুক্তির জন্য সে আকাশ দেখতো ....
আসলে সে মুক্তির আর ভালোবাসা খুঁজতে খুঁজতে
নিজের হত্যাকারী নীলকণ্ঠ পাখিটার  চোখে 
চোখ রেখেছিল ।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

বরফ কথা

বুকের মধ্যে বরফ জমে , সম্বলে নেই লেপ কিংবা নিদেন ছেড়া চাদর , চলশক্তি হীন হয়ে পড়ে আমার শহরের সম্পর্কগুলো 

এভাবে যখন বরফ জমে .... পুরুনো বাড়ির 

স্মৃতি স্বপ্ন থেকে নেমে এসে চুন সুড়কি খুলে ফেলে    প্রবল শীতেও ভিজতে চায় একটা ঘন বর্ষণে ,  তুমি ভাবতেই পারো তোমার একান্ত ঋতু বদলে আমার ক্ষতরা বাড়ে ......ভুল  তোমার শতাব্দীর ভাবনা , আমার বাড়ি ঘর , ছেড়া সম্বল , সব কিছু  মুঠো খুলে দিয়েছি ।

তোমার কাছিমের মত  দুঃখ কখন যেন আমার ঘুমন্ত পথের পাশে পথ করে এগিয়েছে নিজ গন্তব্যে,  

সামান্য দরে বিকিয়ে যায় এখন সময় , আমিও ভাবি দু এক মুঠো কিনে নিই..... সময় রাখি নিজের ভালোলাগার চিলেকোঠায় , ঠিক তখনই মায়াময়

দু চোখে আমার সামনে আসে ....আমি ফিরে আসি হেরে যাওয়া সন্ধ্যায়  , যে অন্তরে বাইরে 

ভিজিয়ে নিচ্ছে অভাবের ঘরে অভাব তারই চিরকাল , 

নিজের থেকে বেশি চাওয়ার মাশুল দিতে দিতে 

ক্লান্ত রে সুজন  আমি ,  তোর পক্ষে আমার ক্লান্তি কিংবা আমায় দত্তক নেওয়া যে সম্ভব নয় বুঝি,  এবার একটা বিষ বৃক্ষের নীচে আমায় 

পুঁতে দে  ,  তবু  ঝুলি ভারী করে আমার বোঝা নিয়ে ফিরিস না দিকভ্রান্ত হয়ে ।

 বুকের ভেতর বরফ জমে 

তোর মত আমারও  একলা লাগে তবু আমি সময়ের বিকিকিনি করতে শিখলাম কই ......।


শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০

পায়ের ছোপ

 যেখানেই পা ফেলি  পা-এর নকশায় অদ্ভুত তেজপাতা রঙের  ছোপ হিজিবিজি ঠিকানা হীন ভাষা ,
 পাতা ঝরা শহর আমার 
মরা পাতার ওপর শুকনো মনের  আলপচারিতা
ধুলোর বুক ছুঁয়ে নেমে গেছে  রুক্ষ  জমির 
অন্তর জগতে,
ফাঁকা  রেলপথে পিঠোপিঠি ছায়া জমছে
সারাদিন তাদের ফিসফিসিয়ে কথা হয়
ঝড় হয়তো  শুনবে  বলে,

রোদ লাগা গাছের পাতার শিরায় যত ঘুম উড়ে আসে... যত ভালো না থাকা স্বপ্ন ... ততটাই গুঁড়ো গুঁড়ো আয়নার ভাঙা  শরীর ।
 জেরুজালেম থেকে মাত্র সাত মাইল পথ আমার ঠিকানা  শত শত মোমবাতি জ্বলা গাছটি হঠাৎ সব আলো নিভিয়ে ফেলে , মনে হয় আমার মন এর সমস্ত অন্ধকার  পড়তে পেরেছে ।
  যাদের  বেদী জুড়ে সমাধিফলক... কাটা হাতের টুকরো...  টব, শুকিয়ে যাওয়া ফুলগাছ, আগাছা, সাপের খোলস, মজা কুয়ো, ডানাভাঙা পরি... এসব দিয়ে মেয়েটা  উঠোন সাজায়। 

 ...... সবার ভালো থাকা  কি একই রকম ? 
চৌকো পাথুরে মুহূর্তে শরীরের সাথে সেলাই করা মৃতদেহ নিয়ে ঘষটে ঘষটে হেঁটে চলে আমার মত দেখতে মেয়েটা  সেও এভাবে ভাল থাকে ।
 যে গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেকদিন আগে, সেটা নিয়ন্ত্রণহীন পিরামিডের ছায়া পেরিয়ে এগিয়ে এসেছে এখন  .....ছায়ানটের চরিত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই শীত শহরে তাদের পায়ের চিহ্নে পোশাকি বান্ধব রং যা কেবল শীত এলে মনে পড়ে । 



নিমন্ত্রণ পত্র

হৃদয় পুরে  নেমন্তন্ন রইল বসন্তে 
রইল নেমন্তন্ন মুখোমুখি একই বৃষ্টি তে ...
শীত রোদ মাখতে এসো চিলেকোঠার ছাদে ,
ভালোবাসাই মাখিয়ে দেব নতুন গুড়ের সুবাস ,
চৈত্র সন্ধ্যা জোৎস্না বিলোয় আমার উঠোন জুড়ে 
জুঁই সুবাসে সেদিন তোমার রইল নিমন্ত্রণ ।

ইচ্ছামতির উপকথা

আছড়ে পড়া সমুদ্রের জলরাশি কাছে ডাকে কোনো অন্তহীন ভাঙচুর বুকে .........................
তার ঘর ভাঙা অনুভব থেকে দ্রুত  সরিয়ে আনি
নিজেকে ,

ভেতরের সমাধিতে সাময়িক কোলাহল  অপরাধী
শব্দবদল  করে ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ,

বেঁচে থাকার আলো ছায়া খেলে আমার প্রিয়তম উত্তরের বারান্দায় , 
শতাব্দী ধরে কোটি কথা জমে যায় তাকে সাজাবো যতনে এই আশায় .....অথচ আসা যাওয়ার সাঁকোটা ডুবে গেছে নীরবতার করতলে ।
......সকালের  ফুল ঝরে যাবে জেনেও ফোটে হাসি মুখে , তবু ....তবু আঁধার হলেই মায়া বাড়ে কান্না আসে উপচে ,
আছড়ে পড়া সমুদ্র ঢেউ এর কাছে গিয়ে দাঁড়াই 
শোক টুকু ভাগ করে নেব বলে ।
............আশা রাখি দেখা হবে পৃথিবীর পরে 
তারাদের দেশে ।
                      .........হৃদয়ের কথা (৫)

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বিশল্যকরণীর খোঁজ

একটা  যদি নদী জুটতো জীবন টাকে  
অনুবাদ করে বুঝে নিতাম প্রতি বর্গমুলে 
কতটা সাবধানি  হতে হয়, 

একটা যদি রোদ সকাল পেতাম শিত মনে 
পশমি শাল আর মোজা না থাকার শোককে 
হৃদয়ের  ঠিকানা  দিতাম না, 

একটা  যদি মন পেতাম তবে..  জমানো কথা দের 
অভিমানের নিমন্ত্রণে সাড়া দিতাম না, 

এ শহরের একটা  যদি  সত্যি প্রেমের হদিস  পেতাম অন্ধকারেও বিলিয়ে দিতাম জুঁই এর সুবাস , 
একটা  চোখ  যদি পেতাম এ মনের  অপেক্ষায় তাকানো,  
তবে দীর্ঘ  নির্ঘুম  রাতকে বিদায়  জানিয়ে 
ও চোখে  শিতলপাটি পেতে ঘুমাতাম, 

একটা  গোটা নদী যদি পেতাম জীবন টাকে 
সহজ করে অনুবাদ করে নিতাম। 

মাধুকরি মন

 সমস্ত বাহুলতায় আজ স্বৈরাচারী স্বভাবে  তীব্র ,,
অনেক পথ হেঁটেছি পূর্নর স্বরূপ খুঁজতে ,

এবার  নিশ্চিন্তে ক্যানভাস তুলি নিয়ে 
আঁকতে বসেছি  শুধুই পাপ .........তোকেও একদিন হুবহু আমারই মত পাপ আঁকতে হবে  কথা দিলাম ,
তুই শুধু ইজেলদানির রঙে খানিকটা তোর হৃদয় ধোয়া জল মিশিয়ে দিস ........
তারপর দেখিস আমরা মুক্ত আকাশে শঙ্খচিল হয়ে যাব ।
            ...........বাউল মন (৯)

অপেক্ষার অনন্তকাল

এতো দিন শুধু মৃত্যু চেয়েছিলাম ,
আজ বুকে তোর অপেক্ষায় বেঁচে থাকার 
সুখের জানলায় বাতাস ,

কখনো এসে ছুঁয়ে দেখিস 
এ পোড়া মনে এখনো মারণ অ-সুখের
দাগ রয়েছে স্পষ্ট ,
ভেজা চোখ হওয়ায় রাখা , মন হাজার বার সভ্যতার বিনাশেও ..
পাড় ভেঙে যাওয়া কিনারায় দাঁড়িয়ে  অনন্তকাল ,

.......সে আসুক একদিন তারপর বলুক সব ভাঙনের  পরেও এই   ঘরটা  শুধুই 'আমার',

                       ...... অপেক্ষা (১)

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

আর একটা মৃত্যু

আমার এই মৃত্যুটা বাকি সব মৃত্যুগুলোর মতো অতটা স্বাভাবিক নয় 
ঈশ্বর উপাসনায় আমি ক্ষনিকের পূর্ন জন্ম প্রার্থনা করেছিলাম..
শুধু তোমাকে হৃদয়ে রেখে 

বালিয়াড়ি ঘাসের ডগায় শিশিরের কাপুরুষ যন্ত্রণার মতো.. আমার বুকের পাঁজরের ব্যাধি যখন প্রবল তোমায় শুধু খুঁজেছি অথচ 
মন্দিরের টলটলে জলেই আমার মৃত্যু লেখা ছিল...!

অক্ষত ভোকাল কর্ডে একটা কিছু আমি বলতে চাইছিলাম.. তুমি বুঝেছিলে তার অর্থ অন্য কিছু
শতাব্দীর দুটো সংখ্যা পেড়িয়ে..
আজও তোমাকে 'মন্দবাসি' বলার অভ্যেসটা ছাড়তে পারিনি.. 
আমার মৃত দেহের লেরিংস থেকে রক্তমাংসের শরীরে
প্রাণের স্পন্দন অসহায় ভীত চোখে এই একটাই শব্দের ব্যবহার মনে রেখেছে শুধু.... তুমি হয়তো হাসছো তাই না !

পাহাড়ি যাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ববিদ যখন আমায় নরম ব্রাশের সাহায্যে স্পষ্ট দেখতে চাইছিলো..
তখনও আমি মৃতই ছিলাম..
কিন্তু অদ্ভুত ঘটনাটা ঘটলো ঠিক যখন   বুকের বা পাশে স্পর্শ করলো.... একটা অচেনা অধ্যায়

 ইতিহাসের পাতায় আর কোনদিন  মন্দ বাসা  শব্দটা শোনা যায়নি...অথচ আজ তোমায়  মন্দবাসার অভাব নেই ,

সময়টা বড্ড এগিয়ে দিয়ে গেলে তুমি..
দীর্ঘ  ক্ষনের অভ্যাসের  পরের পৃথিবী যে ততোক্ষণে প্রবল অভ্যস্ত হয়ে গেছে..
'  যত্নে ভালোবাসায় ,
তাই এই মৃত্যটা বাকি সব মৃত্যুর মত অতটা স্বাভাবিক নয় ।


মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মন

শোন মন এ জীবনের পূর্ন অধিকার ঈশ্বরের পরে তাকে দিয়েছিলিস ..... যে কথা দিয়েছিল আমরা ভালো থাকবো  একে অপরকে  জড়িয়ে 
আজ তার পালে যখন ফিরতি হওয়া .....
বাতাসে তোর ভালোবাসার দিনের সুগন্ধি ছড়িয়ে দে পূর্ন মাত্রায়
যার জন্য মন তুই কাঁদছিস সে যেন বুঝতে পারে তার যাওয়া টুকু তোকে আরো পবিত্র করেছে 
আরো তীব্র করেছে বেঁচে থাকার জন্য ।

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

বাউল মন

মুঠো   বন্দী করিনা আমি আর, বরং খুলে 
দিয়েছি আকাশের দিকে ,  অলিখিত 
শর্তের নামে বিনি সুতোর সেলাই খুলে দিয়েছি ,
গোপন দহন পর্বের কথা এক জীবন না হয় আমার সাথেই দফন হবে ,
শান্ত ঝিল ,  নৌকার বৈঠার শব্দ , সব কিছুই আস্তে আস্তে দুদিকে ভাগ হতে হতে অসীম পৌঁছে যাচ্ছে ,
ইদানিং শীত রাত গুলোতে মায়া ও সংঘাতের
গভীরে কি সাংঘাতিক ভাবে আমি সমুদ্রে তলিয়ে যাই ,
ক্রমশ যন্ত্রনা গুলো সাদা সাদা বকের মত আমার
দেহটাকে ব্রাত্য করে উড়ে যায় আমার অজান্তে , , 

বুকের বাইরে ভেতরে এত জল তবু আমার ভেতর যে শ্মশান জ্বলে তার আগুন যে কোনো রাজদ্রোহীর থেকেও ভয়ানক  তাকে নেভানো যায় না ,
এত চটুলতা বাইরে ভিতরে তবু আমার ভেতর 
আজকাল যে শয়তান ঘুমোয় তাকে জাগাতে ভয় পায় স্বয়ং মহাকালও ,
তাই  এই আগুন , ওই ঘুমন্ত শয়তান , কিংবা নিদেন পক্ষে সাদা বক অথবা  রিক্ত ভালোবাসার ,
দায় ভার আমি বা আমার মত কেউই আজ আর নিতে পারবে না ,
সুতোর ফাঁস খুলে মুক্ত করেছি তাই অলিখিত চুক্তিপত্র ,
হাতের মুঠোর কাটাকুটিরা আকাশের মুখোমুখি থাকুক এবার  ।

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০

বিশু পাগলা

এক বিশু পাগলার সন্ধানে আমি 
নগরে গঞ্জে ইস্তেহার দিতে চাই ,
তাকে পেলে তার হাতের রেখা থেকে মুছে দেব
সমাজ সংসারের যাবতীয় মাইলফলক ,
সমস্ত যুগের হওয়া পেরিয়ে তার আমাকে সামলে রাখাই এক মাত্র কাজ হবে , তার সাথে 
দেখা হওয়া কোনো মুহূর্তে বন্দী রাখবো না তার 
চোখ আমার চোখের দিকে চেয়ে থাকবে অনন্ত কাল যেন বহমান সময় তরঙ্গ , মাথার মধ্যে
যখন তখন গুমরে মরা কিট গুলোকে তার 
গানের সুর ঘুম পারিয়ে রাখবে ,
বাতাসে বিপদের গন্ধে সে ছুটে এসে  আমায় আগলে রাখবে , 
যেমন করে সে  রঞ্জন বিহীন নিন্দিনী কে আগলায় 
এক বিশু পাগলার সন্ধানে আমি নগরে গঞ্জে
ইস্তেহার দিতে চাই .......... যাতে রাজা ভয় পায় আমায় নীরব নিভৃত আভায় .......,
কেউ যদি তাকে দেখতে পাও কোনো পাগল হাওয়ায় হাওয়ায় সে আনন্দ উৎসবে মেতেছে 
তার কানে কানে গিয়ে একটি বার আমার কথা বলো হে পথিক।


নিজের মুর্শিদ

 আমার হৃদ্‌পিণ্ডের ওপরে মাথা রেখে এখন
আমি নিজেই ঘুমিয়ে থাকি

 আমার  
দুশফুট বই দুশফুট 
মাটি যেখানে  যাই নিয়ে যাই কারণ বৃষ্টি হলে
 যেন আমিই  শুষে নিতে পারি সবটুকু জল ,
আকাশে একাই  উড়ি পাখির মত 

পালকে ছাই জমে  ধূসর ভারী হলে
নিজের 
সামনে  গাছ হয়ে উঠি  আমি  নিজেই ,,
 মাাটির  অন্তঃস্থলে   লাভার মতো ফুটতে থাকি
 যখন পথ  
খুঁজে  মরি বেরিয়ে পরার অস্থিরতা  দৌড়াই তখন 
আমার পায়ের তলায় হাইওয়ে, আলপথ সব ফুরিয়ে যায়................
তখন আমার সামনে আশ্রয় উঠি একমাত্র আমি ,,
অনেক অবহেলায়  ভালোবাসার আড়ালে  অত্যাচার , যেন  কোনো শোষক 
প্রতি সভ্যতায় আমার মনকে মেরে চলেছে  দফায় দফায় ।।।।

 নালিশ বা প্রশ্ন রেখেছি যার 
কাছে এ একমাত্র আমিই ,
তখন আমার  সংখ্যাতিত  আঘাত   বেড়ে গেলে
আমি প্রশ্নগুলোকে ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগোতেই থাকি
আমার নিজের দিকেই, 
যাতে একটা যন্ত্রনার থেকে পরেরটা আরো তীব্র হয়ে ওঠে ।
নিজেকে কথা দিয়েছি একদিন আকাশের সব তারা খসে গেলে আমার সমস্ত যন্ত্রনা দের রাখবো  সপ্তর্ষি মন্ডল এর মত সাজিয়ে ওই আকাশ টার বুক জুড়ে ।

পুড়ছে

 সব কিছু  পুড়ছে এই পৃথিবীর প্রতিটা
ঘরে বাইরে ...
 মনে আড়ালে, চোখের সামনে , দাউ দাউ শ্মশান
জ্বলছে  ,অথচ আগুন নিজে পুড়ছে কই ,
যা  কিছু  পুড়েছে সবাই 
দেখছে দেখে  কেউ কেউ পাশ কাটিয়ে 
গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে , কেউ কেউ আগুনে 
জ্বালানী দিচ্ছে উবু হয়ে বসে ,
কয়েকজন চিতায় তুলে দিচ্ছে  ঝেড়ে ফেলে
দেওয়া সম্পর্ক ,
 
 হৃদয়ের যান্ত্রিক গোলযোগের দরুন মৃত  
যারা তাদের জ্বালিয়ে ফেলার আগে 
ওলট পালট  করে 
দেখা হচ্ছে কোথাও কোন ভগ্নাংশে এখনো
জীবন লেগে নেই তো !

কেউ  কেউ আবার 
 কয়লাখনি  কিনে রাখছে আগুন যেন নিভে না যায় , প্রতিটা অলিগলিতে কিছু না  কিছু পুড়ছ,,
ঘুমের  মধ্যে জ্বলছে পরম যত্নে গোপনে রাখা স্বপ্ন ,
নাড়ি ,ধমনী ,মজ্জা সব পুড়ে ছাই হচ্ছে 
যেমন  ভালোবাসায় পুড়ছে বুক ,
পুড়ছে কামনার শরীর,, 
চার দেওয়ালের ভেতর ছিঁড়ে ফেলা জামা 
কাপড়ে  লাগছে আঁচ,
 পুড়ছে দেওয়াল জুড়ে  টাঙানো বিশাল ছবি
প্রতিশ্রুতি, সময়ের  খুদকুশি পুড়ছে ,, সবাই দেখছে কেউ কেউ ব্যস্ত বলে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ,

আমি অবশ্য হাতড়ে হাতড়ে দেখছি ঠিক কি কি 
 পুড়ছে ,আর কি কি পুড়তে পারার সম্ভাবনা রয়ে যায় ।
 আশ্চর্য গনগন  আগুনে কেউ  কেউ কি নিপুণ চারুশিল্পে  চুপ করে  মুখ বুজে 
পুড়ে চলেছে , তাদের নাভিকুণ্ডল তারা 
উৎসর্গ করে দিচ্ছে  নদীর জলে .....
নদী পার যারা বাস করে কোন এক দিন 
তারা  ভাসমান নাভিমূল পেয়ে জানবে এত কিছু
পুড়তে একসাথে একটিও প্রতিবাদ ছাড়াই ।

একই ঘরের বাসিন্দা



আমরা একই ঘরে থাকলেও তেমন আর কথা হয় না ,  
একে অপরের সাথে গোপনীয়তা বজায় 
রাখবো বলে ব্যস্ত থাকি  দিন প্রতিদিন ।
           একে অপরের  আঘাত করতে পারিনা 
কারণ ভাঙনের কথা জেনেও ভয় কাটিয়ে সাহসী হওয়া হয়না ,
            বুকের পাঁচিলে উঁকি দেওয়া ইচ্ছা গুলো সম্পূর্ণ মরে যাওয়ার আগে 
           পুরোনো বাড়িতে রাখা স্মৃতির মায়া ত্যাগ করতে পারে না ,
           প্রহরীবিহীন এ মন 
হামেশাই ঢুকে পড়ে স্মৃতির  সিঁধকাটা পথে 
দুচার টে শরিকি বিবাদের দল ছুট মেঘ হয়ে । 
তাদের ইঙ্গিতে বাজে  বিসর্জন সুর, 
***************************************

খেলনা বাটির সংসারে সব খাবারই গরম  তবু খিদের ভিতর  চাতক নেই ....বিছানা বালিশ 
অপেক্ষা করলেও  শুধু  ঘুম নেই বলে
দুঃখের কাছে বসে থাকে  সমস্ত প্রহরের আদি থেকে অন্তর সন্ধিক্ষনে এই মন ,

কে আমি নামক এই সারবস্তুটি, ভাবতে ভাবতে মাটি 
ভেদ করে উঠে আসে অতীতের বলিরেখারা ।
আঙুলে আঙুল মেপে রাস্তার পরিধি চিনেছি একদিন  চৈত্র মাসের সর্বনাশী প্রহরে
নিষেধের শিকল এক ঝটকায় খুলে রেখে মিথের শহর পৌছেছিলাম ,
****************************************

এক ফিরতি বেলায় দেখেছিল   পাগল বাউল,
সে বলেছিল মেয়ে এ সর্বনাশের খেলায়
হৃদয় পুরের  ঝিলে এ পোড়া মন একদিন ডুবে 
মরবে এই বলে রাখলুম......
*************************************

বারুদের স্তুপ হয়ে জেগে আছি  এখন।
বুকের তাপেই সব জ্বলে পুড়ে যেতে পারে নিমেষে।
তবু এ কবিতার নাম বরফের কবিতাই রাখা যাক আপাতত .....

 নিজেও জানিনা, কোন ক্ষয় স্রোতের  কাছে
নিজেকে বিকিয়ে রেখেছি  অকাতরে, কার ঘোরে
এখন শুধু গোপনে অভাব সঞ্চয় করে রাখি। 
বরফ দেহ মনের পরে  বলহরি খই উড়ে যায়
আমি অবাক হয়ে দেখি নিজের শব যাত্রার আয়োজন,
*******************************
আমি মিছিলের পথে একা যাত্রী 
এখন শুধুমাত্র  দ্বিধা আর বোধের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃত স্রোত  হারানো সময়.....
হাওয়ায় নিষেধ লিখে উড়িয়ে দিয়েছি ওদের  কোলাহল সভায় ,
চোখের নেশায় লাগে মৃত্যুর খিদে,  
জানি  আগুনে পুড়বে না এত জ্বালা।
এত ফুল আর মালা, মৃতপাহাড়ের কাব্য সমাজের 
কাজে লাগে।   
আর  কখনও বলবো না একটিও কথা ...
রাখবো না নালিশ , কিংবা অভিযোগ , শুধু চোখ মেলে দেখবো অবাকে,
কথায় কথারা বাড়ে, বিষের  ওজন হয় ভেরি 
সে কথা কে না জানে ,
********************************************
 
এখনো নুনের কাছে প্রেমিকের ঋণ এইটুকু...
ভালোবাসা মানে কোনো তৃতীয় বিশ্ব সে মনে করে ,
তাই প্রতি মরসুমের শেষে
একটা  ভালোবাসার  পাশে একটা লাশের ভার  লেগে থাকবেই দিনশেষে। 
খবর পাবে একদিন সে বা তার মত অনেকেই
আজও আমি তোমার প্রেমের পথে হাঁটি চটি জামা ছেড়ে , তার মত মিথ্যে ছলনার  মিছিলে  নয় ।

সে কেন্দ্রিক

তুমি কেন্দ্রিক শব্দ গুলো থেকে আঙ্গুল সরাতে পারি না সহজে ,
তাই বুকের কামরায় দোরগোড়ায় তোমার পায়ের চিহ্ন যত্নে রাখি ,
তুমি দূরত্ব ভেঙে ফিরবে কিনা সে কথা হলফ করে বলতে পারি না .....
তবে প্রলেপ হীন এক খানা মূর্তিতে সমস্ত  শূন্য সোহাগী অক্ষরদের  তুলে রাখলাম  , 
এরা রাখা রাখবে দু হাত মাটির নিচে আমার নিবিড়ে ......
এক থেকে গুনতে শুরু করে যেদিন আমাতে সামান্য থমকে দাঁড়াবে কিছুক্ষণ ......ছুঁয়ে দেখো একবার তোমার কথা মত আমার দিকে আসা সেতু টা   কাঁচের বাক্সে ভীষন স্বচ্ছ  সেদিনও।
তারপর নাহয় ঝাপসা হয়ে যেও  তোমার আগামীর ধারাবাহিকতায় ,
দেখবে সেদিনও মেয়েটা নিজেকে বদলাতে পারেনি ।

সেলাই মেশিন

ঠিক কতবার রিপু করা সম্ভব একটা সম্পর্ক
জানতে চাই না ,
জানি না ঈশানি মেঘ কেনই বা জমে বুকের ভেতর 
তার দোহারা মুখ কে সামনে রাখলেই !
ফোঁটা ফোঁটা বদ রক্ত বেরিয়ে পরতে পারে না  হয়তোবা পুরোনো অঙ্গীকারে,


সে বলে আমি নাকি আমারই ভুলের মাশুল গুনছি পাল্টে ফেলা ভীষন জরুরী ।

আসলে সে প্রায়শই একটি করে নতুন নাটিকা কে গোপনে আশ্রয় করে হেঁটে যায় নিজের অন্তঃপুরির দিকে , আমি খোলা জানলায় কখন বা সে দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে পড়ি ।

বুকের ভেতরে প্রবেশ করে ঋতু বদলের  হাওয়া,
---------------------
ভালোবাসার সেলাই মেশিনে শক্ত রিপু হয় না এখন ,কারণ বহুযুগ পরে আজ ভিজছে সেলাই মেশিন একার মত করে নষ্ট হতে আর তার কোন
কষ্ট নেই আজ।

বে মতলব বারিষ

আজকাল বুকের ঘরে এলোপাতাড়ি মেঘ ঢুকে
পড়ে বিনা অনুমতিতে ,

যখন তখন নিষেধ কিংবা অনুমতির অপেক্ষা ছাড়াই অচুক্তিক মন খারাপ আমার চৌহদ্দির
মধ্যে অধিকার জমায় ,

শীত হওয়ায় দূরে অজয়ের জল ফুলে ফুলে ওঠে যেন বিষন্ন ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না ,

সে জল কখন যেন আমার বুকের ঘরে যাকিছু 
ভাসিয়ে দেয় .....আমি ভাবি এত্ত জল এক রত্তি 
বুকে এলো কোথা থেকে ......!
ছেড়া অস্তিন দেখে বুঝলাম সম্পর্ক নামক জামার বতামটা ছিঁড়ে গেছে তাই হুহু করে  বুকের ঘরে মেঘ ঢুকে পড়ে .......
আর যখন তখন বে মতলব বারিষ হয় ।

বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

মানুষ বাঁচে কেন

দেয়ালে টাঙ্গানো ওই  ঘুড়িটার মত

কেবল ওড়ার অপেক্ষায়  সময় জমাচ্ছি 

আগামি বাচাঁ র জন্য... যখন 

হাতের মত মুখের চামড়াতেও অসংখ্য  কাটাকুটি 

খেলার রেশ, সেদিন সময় থাকবে কিন্তু ঘুড়ি বা
আমরা কেউই  আর আকাশে উড়তে পারবো না কোনো প্যারাগ্লাইডিং এডভেঞ্চারে, 

কেবল আকাশ দেখতে দেখতে সাদা রঙ্গা সে
ঘুড়িটি হয়ে যাবে ফ্যাকাশে, আমাদের চাহনিতেও সে বিবর্নতা, 

পারিজাতে শব্দ জব্দ ভেঙে  ভুমিকম্পও

থাকবে তবু .... কোনো  হসপিটালের বেডে 

বোধ শক্তি হীন হয়ে পড়ে থাকব অন্য কোনো সময়ের অপেক্ষায়..... 

আস্তে আস্তে জমবে ধূলো  

অতিত সময়ের ফোটোফ্রেমে, সময় বার্ধক্যের মত চিড় ধরে তা হয়ে যাবে ধ্বংস-নিবিড়স্তুপ, 

পাহাড়ের গায়ে কাচের ঘরে নদী দেখতে দেখতে 

তার শব্দ রঙ নিয়ে ছবি আঁকার সময় থাকবে অফুরান অথচ..... হাত কাঁপতে থাকবে কোন তিরতির৷  ভাবনায় বয়ে যাওয়া  নদীর মত সে দিন আর ছবি আঁকা হবে না, 

দামি কোনো বিদেশি ক্যামেরা নিয়ে ঘন জংগলে অপেক্ষা করতে পারবো  না দীর্ঘ  ঘন রাত... কোনো এক শৃঙ্গ  গন্ডার দের  পদক্ষেপ কেমন করে অন্ধকার রাতের নিস্তব্ধতা  চিরে ফেলে নিজেদের চিহ্ন রেখে যায় ..... এসব দেখার, অনুভব  করা হয়ে উঠবে  না...  আহঃ.....তখন প্রতিটা রাতের ঝিঝিট এর আওয়াজ বলবে এ সময় শুধু নিঃস্বতার আওয়াজ শোনার,..... 

.......এ দুঃখ  বলবো  কাকে কে শুনবে এসব কথা, 

সবাই বলে অপেক্ষা ..... কেবল অপেক্ষা । 
আমি জানি  আর উড়বে না আকাশে ওই দেওয়ালে  টাংানো  ঘুড়িটা কারণ, অপেক্ষার

আর আকাশ এখন আমার দোসোর। 


স্থিত চিত্ত


একাকি  এই রাজপথে নিঃসঙ্গ পথচলা চিরকালের, 
পথের অন্তরালে তুমি বা তোমার মত  ছায়া;
হয়তো  দ্রোহের মায়াজালে
শূন্যতার প্রতিশ্রুতির...... 

তোমার  আমার মাঝে আয়নায় গোপনীয়তা 

এখন গভির  অন্ধকার, চারিদিকে অন্ধকার।

তোমায়  দেখতে গেলে অন্যের জানলায় মুখ বাড়াতে  হয় আমায়,

 এমন চারুশিল্পের  মিথ্যে অস্পৃশ্য ছোঁয়ায়
ভিজে গেছে  হৃদয় আমার;
কাব্য ময় পাতায় পাতায় লুকোচুরি ছায়াদের

ধ্রপদী নৃত্যের পদাঘাত , তোমার না বলতে পারা ভালো থাকা গুলো প্রকাশ পায়, 

 তাই কখন যেন ঝরে পরে সমস্ত প্রতিশ্রুতি,  

আর তারি সাথে সম্বল,....  এই বেশ ভাল,

অপেক্ষারা কেবলি নিঃশব্দে নিঃস্ব করে

অথছ একাকিত্বের  সে ভয় নেই, 

এটাই ব্যর্থতা স্বাপদ শব্দ  জড়ো  করা 

ছায়ানটের দিকে  লেখা শেষ চিঠি,, 
সময়ের বিড়ম্বনার আড়ালে মুখ আর মুখোশ   ঈশ্বর কে তার আসন ছেড়ে নিয়ে এসেছে 

ক্ষমতা হীন করে, 

ঈশ্বর  হাসতে পারে অথচ  নিজের আয়নার সামনে

নিজেকেও তথাস্তু  বলতে পারে না আর, 

--------------------------
তাই বিবর্তনের মাঝেও আজ   অভিশপ্ত ভালবাসা, 

 আজও  এই ‘আমি’  একা.... 

আলো একার মত,, নেই  জরা ভরা শোক, 

স্থিত চিত্ত ....এক দর্শক  আমি তোমার দেখানো দৃশ্যের। 

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

ফেরারী মন

আর কখনও  তোমার হাতে হাত রাখবো বলে তোমায় খুঁজব না ,
গুছিয়ে নিয়েছি  নিজের  ডিঙি 
বয়ে এসেছি এযাবৎ যতটা প্রবাহ তাতে 
বরাবর বেমানান ছিলাম,, 
 চাঁদের নীচে দাঁড়িয়ে কাঁদব হাজার 
 দুঃখবতী মেয়ে যেমন কাঁদে , তবু কোনো বুকে আর মাথা রাখবো না ,

কুয়াশা ভিজে শরীরখানা পাথর হয়ে 
নিথর হলেও তোমায় আর ডাকবো না ,
হাত ছাড়িয়ে নিয়েছ সব 
শীত কিংবা বর্ষা থেকে  ,
তোমাদের ইচ্ছা মত এই মনের জামা কাপড়
খুলেছো ছিড়েছো  কোনো এক দিন তারওপর দিন ।,
  ছিঁড়ে খেতেই পর আস্ত নারীর শরীর মন  নাগাল পেলেই তাতে কি বা যায়
আসে ,,
শীতের ভরে যখন কখনও কেঁপে মরেছে
 মন , শরীর জবুথবু, আমি একটা হাত
কিনতে পারিনি .....পারিনি সামান্য উষ্ণতার ওম জোগাড় করে নিতে ।
যেদিকে যাই, সেদিকে এত ভীষণ লাগে মেকি,
বাজারি সময়ের নিরিখে বিকিয়ে যাওয়া অনাস্থা
সম্পর্কে হাঁপিয়ে ওঠা এ জীবন।

নিজের কাঁধে নিজের হাত নিজেই রেখে বলি 
এসেছিলাম যা গেছে তার দায় আমার একারই 
চিরকাল 
 এবার তবে চলি , 
তোমাদের খোলা মুঠো এবার বন্ধ করে নাও,,,
তবে বলে রাখি এমন করে তোমরা কত মন হত্যা 
করতে পারো প্রতিটি সভ্যতায় আমিও কবরে শুয়ে হয়তো দেখবো ,
আবার তোমারই বড় কাব্যিক হযে  সাহিত্য করবে ,সভা করবে, এমনি অনেক হত্যায় কালো কাপড় মুখে বেঁধে খস খস করে লিখে ফেলবে পাতার পর পাতা যে হত্যা চোখ খুলে দেখা যায় না কোনদিন , 
..............

বলতো তোমাদের কি নামকরণ হওয়ায় উচিৎ।

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

হৃদিয়া

কথারা  তলিয়ে যাচ্ছে,  দেখ রাজন মহাকালের
অন্তরালে  সাথে তলিয়ে যাচ্ছে নিঃশাস ...
সব  জেনেও হাত গুটিয়ে সাবধানী আর স্থির তোমার অবস্থান .....
একি তোমার সেই চির অহংকার যা তুমি পায়ের 
চিহ্নর সাথে সময়ের বুকে রেখে এসেছো আগেও  !

নদীর ভাঙা পাড়ের গল্প লেখা থাকে না 
যেখানে সম্পর্কের  শাখা সিঁদুর ভেঙে ধুঁয়ে ফেলা হয় , শুধু কিছু জল শ্রান্ত ভেঙে যাওয়া ডিঙি বুকে ধরে রাখে সময় ।
 
আজকাল ভালোবাসা জানাতে  একটা  সাঁকো লাগে  কারণ আয়না গুলো বিকিয়ে যায় সস্তা 
কেতাদুরস্তয় ,
তবু যে মন...... তাই হয়তো দু মুঠো শব্দ ছড়িয়ে পাখিদের জীবন ।
কাল  যা ছিল ,আজ তা মৃত ,কাল আবার আজ মৃত ,
তবু ক্ষয়ে যেতে যেতে শেষ বাঁচাটুকু হাতড়ে নেওয়া ,
তুমি বল আমি নাকি বিয়োগ ফলের দিকে আজকাল হাঁটি আসলে ... তুমি আলো দেখ এখন
 অন্য জানলায় , আমি কিন্তু বুকের মাঝে এক উঁচু জমিতেই তোমায় রেখেছি .....জানি না শুধু মনের ভেতর এত জল কোথা থেকে এল ,জানি না  তোমার নৌকার পালে কার হওয়া  লাগলো ,
আসলে বুঝতেও চাই না ....শুধু দেখি সম্পর্ক গুলো সব আসবাবপত্রর মত সীমানা ডুবে যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে  সাঁতার শিখে অন্য পাড়ে উঠে পরে,

রাজন জান এ পৃথিবীতে জলে যত না দেহ ডুবে মরে তার থেকে বেশি মনে ডুবে মরে ....মরে অকেজো কথাদের বোঝা বয়ে , 
তবু বলি কোনোদিন জলের গভীরে রাখা কথাদের
জল থেকে তুলে রেখো , বাকিটা গোপন ডিঙিতে রাখা কাদা মাটি শ্যাওলায় রাখা কিছু সংগোপনে অঙ্গীকার যা জন্মাবার পর মুহূর্তে মরে যায় হাসতে হাসতে ।

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

কয়েক মিনিট

সমস্ত টুকুই কয়েক মিনিট সেরে ফেলা সংলাপ 

এখন, কখন কষ্ট  ঢাকতে তার চেয়েও বেশি 

যন্ত্রনা চেয়ে হৃৎপিণ্ডে পিন ফোটাই ,

চটি জামা ছেড়ে রাস্তা খুঁজি তোমার মত কারো

বুকে মাথা রাখার জন্য ,

আকাশ জুড়ে  বহুদিন হল আমি দুঃখের 

দালান বানিয়ে রেখেছি , দু চোখে আলোর বদলে 

রাত্রি মাখতে মাখতে এক দিন এক তথাস্তু পুরুষ

এক শঙ্খচিলের কান্না ভেজা দুপুর বেলায় 

আমায় আমার থেকে দত্তক নিয়েছিল ,

অবিশ্বাস্য বাসর ঘর সাজিয়ে বুক পেতে বলেছিল 

 তোমার সমস্ত  কুজ্ঝটিক আমি নিলাম , তার বদলে .........

তুমি আমায় জোৎস্না ঝরানো হাসি দিও ,

এমন সত্যি গুলো স্বপ্ন হয়ে যায় .....

যায় সুখ স্মৃতি পুঁজি হয়ে দেরাজ বন্দি ,,

এখন  কেন প্যাঁচার ধাতব গলার শব্দে

কামিনীর ঝরে যায় !

স্বপ্নবাটি উল্টে পড়ে ,

তবু ঘাসের ডগায় নীল ফড়িং মন উচাটন ,

বুকের ভেতর ভারী হয়ে আসা শব্দ 

তোমায় কখনোই ভুলতে দেয় না ।।



শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

তোমায় নিয়ে

তোমায় নিয়ে এবার গল্প হোক .....
গল্প হোক তোমার উপকূলের ভাঙা গড়া নিয়ে
তোমায় নিয়ে যে সভ্যতা ভেল্কি বাজি খেলছে 
সে সভ্যতা মুখ গুলোর এবার খুলে যাক আবরণ,
তোমায় নিয়ে জন্ম খেলছে যে খেলা সে জঠর
কালো ইতিহাসের পাতায় পাক স্থান ,

তোমায় নিয়ে সমাজ যেদিন থেকে আঙ্গুল তুলে কথা বলে সেদিন থেকে সমাজ শুধু অসমাজিকতারই নাম ,
তোমায় নিয়ে যে সম্পর্ক শুধুই লেনা দেনার 
সে সম্পর্কে র নাম থাকলেও বন্ধন হীন ,
তোমায় নিয়ে গল্প হোক এবার নতুন ভাবে ,
তোমায় নিয়ে সম্পর্ক হোক স্বার্থ হীন ,
তোমায় নিয়ে লুকিয়ে কাঁদি বুকের মাঝে ,
তোমায় নিয়ে গুছিয়ে রাখি অন্তঃসারে ,
তোমায় নিয়ে গল্প লিখি ঠিক তোমার মত ,
তোমায় নিয়ে রাখবো যেনো হাতের মুঠোয়,
তোমায় নিয়ে সত্যি বলছি হব একদিন আউলবাউল , তোমায় নিয়ে পাহাড় কোলে 
বাঁধবো ঘর দুই মনেতে ,
সেদিন থেকে পাবে না কেউ নাগাল তোমার 
এখন যারা আপন পর ,
সেদিন থেকে শুধু মাত্র আমি তোমার তুমি আমার একটি মাত্র ঘর ।

এমনটা নয়

শব্দ মহলের সব কথাই যে তোমার আমার ...
তেমনটা কিন্তু নয় , সব নালিশের উল্টো দিকে
তুমি নামক একটি বিশেষ ব্যক্তি দাঁড়ানো তাও নয় ,
নাগরিক সভ্যতার ধমনীতে এমন অনেক সার্বজনীন তত্ত্ব থাকে যা তুমি কিংবা আমির মত আধারে বসবাস করে সময়ের পর সময় ধরে,
তাই এমনটা ভাবার কারণ নেই নালিশ ,অভিমান ,অভিযোগ ,ভালোবাসা কিংবা দুঃখ র ওপারে সর্বদা এক মাত্র তুমিই রয়েছো ,
এমন অনেক বার হয়েছে চলন্ত বাস থেকে দৃশ্য কুড়িয়ে প্রেম এসেছে আমার ভেতর , এমন অনেক বার হয়েছে গভীর রাতে ফুটপাতে দশফুট বাই দশফুটের শরীরের  সঙ্গম দেখে  তোমায় তীব্র ভাবে চুমু খেতে ইচ্ছা হয়েছে ইচ্ছা হয়েছে আমার ওমের
সাথে মিশিয়ে দিই তোমার আগুন নিমন্ত্রণ , 
এমন অনেক বার হয়েছে পার্কে প্রেমিকাকে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে দেখে  আমি তীর্যক শব্দদের পাতায় রেখেছি , 
এমন অনেক বার হয়েছে  অবিশ্বাসে ভেঙে যাওয়া ভালোবাসা দেখে অশ্রাব্য করেছি সমস্ত ভালোবাসা শব্দটাকেই ,,
অথচ এর কোন দৃশ্যের উল্টো দিকে ব্যক্তিগত ফসিল সামিল  রেখেছি এমনটা নয় ,
হয়তো সুচারুভাবে শব্দ নিয়ে খেলা আমার জানা নেই ......তাই বাণিজ্যিক হতে পারেনি সহজ টুকু নিয়ে  ,
তাই তুমি ভুল বুঝে নীরব অভিমানের দোরগোড়ায় ম্লান হাসিটুকু রেখে ফিরে যাও বাইরে থেকে , ,।

সে পথে বাঁকে

রক্তমাংসের  নাভিমূলে শূন্যতা  ছুঁয়েছে
                                          অতীত অক্ষররা 
আলোর উৎসের মুখ এক বিরাট শিলা খন্ড আঁকড়ে যেন চরাচর ভুলেছে,
আমার শহরে সে এসে পাতা ঝরার কথা বলে গেছে , 
তারপর বিষণ্ন বৃষ্টি রাত চোখের ঘুম ধুয়ে দিয়ে গেছে,
সে আরো বলেছিল এক খানা খোলা চিঠির কথা,

আমি নদী নদী খেলাটাও ভাসিয়ে দিয়েছিম শুধু তারই দিকে সময়টা তার নিজস্ব গুহায় উবু হয়ে থাকা রংটুকু জানতো , তার পর তার চলে যাওয়া দীর্ঘ পথের দিকে চল্লিশ মিনিট অপলক ছিলাম।


শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

বিশ্রুতের পথে উৎসর্গ

বিশ্রুত পথের কাছে আমারও কিছু চাওয়ার আছে একদিন তোমার স্পর্শ গান্ধর্ব মতে গ্রহণ করেছি আমি।  যে  ভাঙা দরজায় টোকা দিলেই খুলে যেতও আলিবাবার রত্নভাণ্ডার। ভূমিকম্প র অনুরণনে আমাদের ছুঁয়ে থাকা ঠোঁটও কেঁপে উঠত। যে নিকোটিনএর ধোঁয়া নিজের দিকে উড়িয়ে  নিয়ে বলতাম  তোমার সুগন্ধ মাখছি। তারপর  প্রায় শেষ হওয়া জ্বলন্ত সিগারেট মুখে 
নিয়ে এক আগুনে পারতাম আমরা ,। বাতাসের ছায়া সেখানে পড়ে না... আলো ও অন্ধকার সেখানে  কাটাকুটি খেলে... শ্রাবণের ভিজে হাওয়া খেলে বেড়ানো সেই দক্ষিণ কোণে কীটের পাখায় ঢেকে দিয়েছে বুকের ভেতর মুখ গুঁজে রাখা ঘুমের চৌকাঠ।

.....নকশা এঁকে মুছে দেওয়ার মতো টুকরো টুকরো ছবিগুলো একদিন হারিয়ে যাবে হয়তো... । পাহাড়ি ঝর্ণায় চুল ভিজিয়ে বাদামি বিকেল লিখবে ভিন রাজ্যের কোনো মেঘ। মাঝরাতে ঝড় উঠবে ফালা ফালা অন্ধকারে। তখন আবার লাল ঝুঁটির হাওয়া-মোরগ দু-টুকরো পাথরে রথের চাকা ঘসে দেবে স্থানীয় বিশ্বাসে। আমাদের নিঃশ্বাসের জন্য যে ঘর কাটা ছিল, সে  কাটা দাগের পাশে ট্রামলাইন আঁকা ছিল... আর একটা কালো ঘোড়া। ও বলেছিল... ট্রামের ধাক্কায় ঘোড়াটা মারা গেছে...আসলে
আমাদের সঙ্গমে কোনো প্রত্যয় এর জন্ম হয়নি কোনো দিন ,

উৎসর্গ :  আমাদের সহবাসে যে প্রত্যয় বসবাস করেছিল দীর্ঘদিন, বেগুনি পলেস্তারা মোড়া দেওয়ালে তার ছবি এঁকে রেখেছিলাম আমি... দীর্ঘ প্রান্তর পায়ে হেঁটে... ডোরাকাটা তাপিকজন্মে। এই লেখাটি শুধু তার জন্য।

তুমি কি শুনতে পাচ্ছ



আমি চিৎকার করেছি...... যখন চোখের রক্ত আতশবাজির রাতে ছিটকে এসেছে আমার 
বত্রিশের ছাতি তে । আশ্রয়ের  শার্সিজানালার কুয়াশা সরিয়ে দেখেছি... তোমার ঠিকানা ডাকবাক্সে রয়ে গেছে অচেনা  আলস্যে রেশ। ভৈরবি রাগে ... ভিতরমহলার   একটি মানুষ... প্রিয় সঙ্গ ও ভাসমান শ্যাওলা... অবিশ্বাস ও কাচলব্ধ মৃত্যু... নিয়ে খেলা করছে ....একা একা ভেসে যাচ্ছে । 
মন ভালো নেই... আমার মন ভালো নেই শুনছো  গুমঘরের ভাঙা চেয়ারটায় ... বিন্দু বিন্দু শূন্যতাবোধে অ্যালজাইমার্স এর যৌনতায় ধর্ষিত
হচ্ছি রোজ রোজ ।


শববাহী যান রোজ আমার দরজায় অপেক্ষা করে , একতারা আর আকাশের  ভেতর সবসময়ই সম্পর্ক বিনিময় ঘটে।  ছায়ামাঠ ও কাটাকুটি খেলার কথা  আমি আর বুঝতে চাইনা ,
 শববাহী যান একই মৃতদেহ দু-বার বহন করেনি কখনো , সে কথা কারোরই অজানা নয় ,
 একতারার মাত্র একটি তারেই সুরমুর্ছনা ওঠে মৌন সন্তাপে। আর চৌকো মুখশ্রীর রমণীর লিপস্টিক ভেজা ঠোঁটে  প্রেমিক পুরুষের চুম্বনের পর শুধু অধরোষ্ঠের চিহ্ন আবিষ্কার করি আমার মত কেউ কেউ । ,
তুমি কি শুনতে পাচ্ছ আমার মন ভালো নেই 


মৃত্যুঝাঁপ দেব বলে আমিও
                          সুযোগ খুঁজে নিচ্ছি
 দেখি কত ঋণ ধেয়ে আসে কাঁধের ধনুকে
কত ঋণ মৃগনাভি... মত 
চিমনির সারিপথ বেয়ে 
           কাঠের জ্বালানি ও আগুন কুড়োয়,
তুমি যত তাড়াতাড়ি পারো বুঝে নাও আমার মন ভালো নেই ............,,

সত্যি অথচ সত্যি নয়

 যেখানে শব্দের  শেষ হয়,  সেখানে অপেক্ষার একটি গাছ বেড়ে ওঠে ... বৃষ্টির সাথে যার অদ্ভুত মিল। সময়ের বুকে উড়ন্ত স্মৃতির গুঁড়ো গুঁড়ো রং নাব্যতার ভাষা শিখে ফেলে ..... কায়াহীন শিকল
 মায়ায়  আঙুলের  ছায়ায়  কাঁপে... দু-চোখে সন্ধ্যা রেখে  মেয়েটির কথা ভেবে জানলায় পিঠ রেখে মিথ্যে বলে যায় সে সখার মত । আয়নায় ছদ্মবেশী রঙ লিখে রাখে যেন মেয়েটি তার প্রিয় নারী । সিংহদরজার ফাঁক গলে যে কয়টি গ্রহ-নক্ষত্র চোখে পড়ে... তারাও বোঝে নিজের চারদিকে ঘুরপাক খেতে খেতে... নিজেরই ছায়া কতোবার কতো সত্য বলেনি... 
সূর্যঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে
.................. মিথ্যাও বলেনি  হয়ত সে তবু 
সত্যি যেন মুঠো থেকে ফিরকি  হয়ে গেছে 
কালের স্রোতে ।

আমাদের গড়া ভাঙার খেলা

পাথুরে শব্দের মত  ভেসে আসিস  সিঁড়ির আড়াল থেকে
অমোঘ  মাত্রার ছন্দ ভুলে সন্ধিক্ষণে ছুটে যাই তৃষ্ণা
মেটানো  নদীর কাছে... ,,,
আশ্রমিক জ্বরের খোঁজে... সময় হয়ে সে আসে 

 গভীর ক্ষত তে শুশ্রূষা রাখতে ,
বিকেল হ'লে শ্বাসরোধী নক্ষত্র কুড়িয়ে রোজ ছুটে যাই নদীর ধারে , আমাদের গন্ধর্ব সংসারটুকু বাঁচাতে ,,
 বহতা লাশের ভাসমান  ধ্বনি 
একটানা সারেঙ্গির সুরে নদী ঘাট মেখে থাকে ,
অজস্র দ্বীপের উপবাস ভেঙে
মুখাবয়বে ফুটে ওঠে অপেক্ষার মধ্যে রাখা বাকি আলোটুকু ,,

পাথুরে শব্দ সারা গায়ে মেখে নিতে নিতে
ঘাটের জলে ডোবা সিঁড়ির শেষ ধাপে
উপবাসের দিনগুলি গুছিয়ে রাখে যারা 
আমরাও তাদেরই দলে তবু এতকাল 
নিজেদের ভুল গুলো প্রবল তীর্যক অভাস্যে
ঠিক প্রমান করতে ব্যস্ত ছিলাম , 
আজ  বোধ  আর  বোধোদয় এর মধ্যে অনেক দূরত্ব 
বেড়ে গেছে ,
নদী যে কেবল চিরকাল  ভাঙা গড়ার নীরব সাক্ষী হয়ে থেকে গেছে ।

অমরত্বের বারো মিনিট

শহর-বুক পাথরের শক্ত আস্তরণ চিরে 
             উন্মুখ বারো মিনিট সে আমার জন্য অমরত্ব  নিয়ে এসেছিল ,,
একটা বিবর্ন লেখা স্পর্শ করে স্পষ্ট পড়তে চেয়েছিল ,
দুটো চোখ তার চোখে বারো মিনিট ধরে ভরসা খুঁজছিল 
অলিখিত তরঙ্গের মধ্যে দিয়ে ভাঙনের বার্তা পাঠাচ্ছিল নিঃস্ব হতে থাকা একটা মন ,
পৃথিবীটা ক্রমাগত হেসে কুটিকুটি হচ্ছিল বোধহয়
          নিজের  আপ্রাণ  ভুল চেষ্টা দেখে !
তীব্র শ্লেষ নিয়ে ঘন্টা বাজিয়েছি মাত্র...
আর তখনই সেই আশীর্বাদের বারো মিনিট ঈশ্বর 
ফিরিয়ে নিয়েছিল ,

আমার  কথারা  সেদিনও কাচ বন্দি রয়ে গেল ,
 সে বিদ্রোহী রাতে বাড়ি ফেরা হল না ....হল না 
কথা রাখা ,
আমিও আমার দুটো চোখ উজানে বেঁধে হাতের ভেতর    
                               লুকিয়ে নিতে চাইলাম প্রাণপণে....!

তারপর  একলা  মেয়েটা হাতের উপর হাত বুলিয়ে নিজের কষ্ট মুছতে 
                        আবার চোখের মায়ার চোখ রেখেছিল ....! 
দ্রুতগামী বারো মিনিট      মহার্ঘ্য সময়  আঁধার বুকের ফাটা দেওয়ালে একফালি আলোর মত
সে অমরত্ব নিয়ে এসেছিল .....।।



বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

অপেক্ষা

 বুকের চৌহদ্দিতে যে 
অদ্ভুত এক ফুলের গন্ধ পাই..
তার পরিচয় তোমার মত 
ফুলটার রঙ ইষৎ  নীলাভ কিংবা 
ইজেলের বুকের শেষ দাগ টুকুর মত ,
পাহাড়ি রাস্তায় 
নির্বাক অরুণ আলোয়  ঠিক 
সেই ছবিটির  মতোই লাগে  তাকে ...
যে ছবি  কোন একদিন আমার মতোই 
বুকে ভেতর দারুণ মরার অসুখ নিয়ে 
এঁকে ছিল ভিঞ্চি , তার তুলি থেকে পা বাড়িয়ে 
এক অবাক পৃথিবীতে
ঘুরে বেড়াতো সে  পায়ের পাতায় 
মায়াবতী চিহ্ন নিয়ে....!
সে কি জানে আকাশের বুক  কখন বড্ড 
ভারী হয়ে আসে! সে কি বোঝে বেহুলার বুকে
এক সমুদ্র লুকোনো আছে ! সে কি জানে 
অপেক্ষার   অহল্যা কে সবাই পাথরের পরিচয়েই চিনে গেছে !

সে যখন আসে

সে আসে প্রতিদিন খরস্রোতা নদীর সুবাসে ,

আমার সমস্ত তরঙ্গে জীবন কাঠি ছুঁইয়ে বলে ভালোবাসি,

তার চোখের ভেতর থেকে রোদেলা জানলা আমায় ডাকে  দুহাত বাড়িয়ে অসম্ভব পাগল প্রেমিকের মত , সে আসে চোখে তার দুরন্ত হরিণের বিস্ময় চাউনি আমায় ঘিরে কখনও যেন হেমন্তের সকালে শিশির,

সে এসে আমার আজন্মের শূন্য খামার ভরে যায় উজাড় করে ,

সে এলে আমার বাগানের গোলাপের রং ভীষন রকম লাল , আমার এক একঘেয়ে বহতায় কামরাঙ্গা রং , 

সে এলে সিক্ত দেহ যেন মল্লার মেঘের মৈথুনে সামিল ,,

সে আসে আমার কাছে খরস্রোতা স্রোতে সহজিয়া ভেলার মত ,,,,



তুমি আসার পর

তুমি আমার শহরে আসার পর থেকে এ শহরের পথ ঘাট নকশা সব বদলে গেছে , খেই হারানো 
বিশৃঙ্খলা এলোমেলো শহরটা কপালে হাত রেখে তুমি কেমন যত্নে গুছিয়ে দিলে  যেন একের পর এক   অবিন্যস্ত কেশ গুচ্ছ ,
সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে যাওয়া জট পাকানো  চিন্তা সূত্রগুলো ও মুখ দেখার পরেই শিথিল হয়ে সহজ হল .....খুলে গেল জট ,শৃঙ্খলিত 
যেন জীবন ,, আমার শহর তোমায় পেয়ে শীত রোদ্দুরে নরম উষ্ণতা সেকছে ,
কেবলই তোমারই মুখের অপেক্ষায় যেন এ শহর কয়েক সভ্যতা ঘুমিয়েছে শীত ঘুম , জ্যোতিষ্ক মন্ডলের সব চেয়ে উজ্জ্বল তারা তুমি যেন আমার শহরে ,
তোমাকে দেখার পর অসম্ভব বদলে গেল আমার শহরের জলবায়ু , দিনরাত ,ঋতু , সবাই কেমন সোহাগী হয়েছে তোমার উষ্ণতায় ,,

বিষাক্ত হৃদয়

প্রিয় মন্দ বাসা  আজ তোমায় মুক্তি দিলাম ,
এখন থেকে তুমি চাইলেই চিৎকার করতে পারো ...
তীব্র অশ্লিলতায় গর্জে উঠতেই পারো এই পৃথিবীময় ,
যা কিছু জঘন্যতা ছুঁড়ে মারতে পারো তোমার ফেলে আসা সময়দের মত আমার দিকেও ।

অনেকদিন ....অনেকদিন তোমার মনে আমার ঠিকানা হাতড়ে বেড়াচ্ছি ....আজ মেনে নিতে পারি না আর ,  শুধু বলি নষ্টেরও বাঁচার অধিকার আছে সৃষ্টি কর্তার  মুখোমুখি ,,,
একদিন চৈত্রের দুপুরে পা রেখেছিলে এ মনে ,
বিবর্নতা মেনে নিতে মন চায় না সে রঙের , 
প্রতি রাতে জানলায় মুখ গুঁজে তোমার জন্য জানি না ঠিক কি অনুভব করি !   
শুধু মনে হয় অমৃত  পাত্র বদল হওয়ার... যন্ত্রনায় নীল বিষ এখন , 
তোমায় অমৃত দিয়েছি যে মন দিয়ে সে মন দিয়ে কেমন করে যন্ত্রণার বিষ দেব আজ ?.......
প্রিয় মন্দবাসা আজ তোমায় মুক্তি দিলাম বিষাক্ত হৃদয় থেকে ।

প্রশ্নবিস্ময়

তুমি বল রাজন আমি নাকি  জন্মগত  ত্রিনিয়নী ,
আমার অধরায় অমরত্বে পূর্ন হয় ....
নীরব জীবনের রক্তাক্ত চরিত্রগুলো নাকি তাতে 
প্রাণ ফিরে পেয়েছে বহুবার, 
অথচ তুমি কখনো এ দেওয়ালে কান পেতে শুনেছো ঘাত ও প্রতিঘাত বুনছে ভীষন শ্লেষ ।
আচ্ছা রাজন ও হৃদয়ে আগুন জ্বলতে পারলেই
তুমি কি মেনে নেবে যে জোর করে নয়  পালের হওয়াতেই এ হৃদয়ের মন্দ বাসায়  আশ্রয়ে এসেছিলে ?  নাকি তখনও তুমি সমুদ্রের গভীরে ,
এক সুখী , দাম্ভিক , আবরণে নিজেকে মুড়ে রাখবে ? বলে রাজন তোমার উত্তরের অপেক্ষায় একটা ভোর আসতে পারে .....বল রাজন উত্তর দাও.....,,

বিস্মৃতি

যে ঘোর আমার বুকে একমুহূর্তে বেঁচে থাকার আগুন জ্বালিয়ে দিত ........আমার পর জন্মের
সাধ জাগতো   সে ঘোর দ্রুত ভুলে গেছে নিজের রাস্তা  ,তাই হয়তো ফিরতে পারেনি ।
যে ঘর টা  বেঁধেছিলাম দীর্ঘ অকিঞ্চিত পূঁজি দিয়ে 
তার  ইট গুলোর মধ্যে আর তেমন ঘনিষ্টতা নেই ,,
প্রতিটা ইট কখন যেন আপন মনে ব্যস্ত হয়ে নিজেদের একলা করে ফেলেছে ,  আজ তারা নিঃসঙ্গতার এপিটাফ মাথায় রেখে ঘুমোতে যায় ।
যেসব শব্দ তোমার দিকে ছুটছে বলে ইদানীং তোমার মনে হয় তারা আসলে কগুব ক্ষীণ এক একটা একলা  আর্তি , তারা এ হৃদয় কে বলে এক হও ....ভীষন  একা , যে একার জন্ম সুখ  কিংবা মৃত্যু শোক ছুঁতে পারবে না ।
তাই আমি আমাদের স্মৃতিতে রাখা সোহাগ দের ছিঁড়ে টুকরো করে উড়িয়ে দিই এক একটা  শব্দে 
মুড়ে বাতাসের দিকে ,
তুমি শুধু সে পথ দিয়ে আসা যাওয়া করা আনমনা ব্যস্ত পথিক ।

সত্যি

বরফ ভরা লাশ ঘরে কোন সম্পর্কের ঘ্রাণ 
কখনো লেগে থাকে না , থাকে না কোনো 
ধ্বনিসংবাদ ।
সমস্ত ক্ষয় ফুরিয়ে মাটিতে মিশে যায় ,
অথচ সকলেই যে মৃত্যুর আয়োজন থেকে 
পালাতে চাই সে পিঠের দিকে ছায়া হয়ে থাকে ....
ভার বহন করতে করতে শিরদাঁড়া  বক্র হয় তাকেই 
এড়িয়ে যাই অবুঝের মত ,,,
অথচ যা সত্যি নয় এমন কিছু আঁকড়ে  আমাদের আজন্মের খিদে ......সুখ ,প্রেম নামে কিছু শব্দ জব্দর ভেতর দিশা হাতড়ে বেড়ানো স্বভাব জন্মাবধি,   ভয় পাই..........
সুখের চতুর্ভুজ থেকে ক্ষয়ে না পড়ি , ঝাপসা করে রাখি যা চিরন্তন ,
এসব বর্ণের পিঠে একটাই সত্য মঞ্চস্থ নাটকের নাম বেঁচে থাকা ,...........
বাকিটুকু বরফ ভরা লাশ ঘরে ..........সেখানে  সম্পর্কর নিজস্ব কোন ঘ্রাণ থাকে না ।

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

সে ও আমি

সমস্ত নিয়মিত নিয়মের মৃত্যু সেদিন হয়েছিল 
ব্যস্ততম দিনের মাঝপথে যে দিন ও মুখ খানি দেখেছিলাম ,

জন্মোক্ষনের বিধাতার লিখনকেও খন্ডন করেছিলাম ....আর সে সময় কিনে নিয়েছিল
কেতাদুরস্ত পন্থায় আমার থেকে ,
সেদিন থেকে আজও আমি ভোর দেখার অপেক্ষায় অথচ এখন সে নিয়মিত  ,
সে ভুলেগেছে রং বিলোতে ।
আমি আর প্রশ্ন করি না .....করিনা নালিশ 
সে অযথাই উত্তর দেওয়া নিয়ম করে নিয়েছে এখন ।

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

স্বৈরাচারী অভাব

এখন অন্ধকারের পাঁজরে ঢুকে গেছে স্বৈরাচারী অভাবেরা , জোনাক থেকে আলো খুঁটে রাখি হৃদয়ে লাগা পশ্চিমের আঁধারের জন্য তবু আলোর অভাব আমাকে ভাঙতে ভাঙতে ফুরিয়ে দিচ্ছে ,

খিড়কির ঘরে সে আমায় বন্দী করে রেখেছে চিরকাল ....... কথা ছিল হেঁটে যাব একসাথে নগরের পথে পশ্চিমের দিকে ,
সুজন আমার ভেতর বত্রিশ নাড়ি জ্বলে তুমি কি 
এতই অবুঝ নাকি অন্তরে যেন সে দহন না পৌঁছাতে পারে তাই এ চোখের দিকে না দৃষ্টি রেখে শূন্যে রাখো ।
এমন হাহাকার আগেও ছিল সে কথা জানতে 
তবু কেন বর্ষা এনেছিল এ জমিতে ,
আমি তো জল চাইনি .... জানতাম চিরদিন কেউ তৃষ্ণা মেটাবে না , তবু কেন চেয়েছিলে তেমন কিছু ঘটুক আমি বেঁচে থাকি কেবল মৃত্যুর বুকে মাথা রেখে ?
তুমি কি জানোনি
ছায়া থেকে এভাবে  রোদে পোড়া জীবন 
দূরে রাখতে নেই ।

সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

এমন কিছু

এমন কিছু ঘটে যাক তোমার আমাকে ছাড়া আর কিচ্ছু যাতে মনে না পড়ে , এমন কিছু যাতনা তুমি বুকের মাঝে পাও যাতে সমাজ সংসার কিছুই আর তোমার আমাকে ভাবতে তোমায় দ্বিধা না জাগায় ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি কারণ ছাড়াই আমাকে জড়িয়ে ধরার জন্য আছারি পাছারি কর , 
এমন  কিছু ঘটে যাক তোমার আমাকে ভীষন প্রয়োজন পুরো পৃথিবী তে ,
এমন কিছু ঘটে যাক ও মুখের হাসি এই মুখ ভেবেই শুভ্র  হোক ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি আমাকে ছেড়ে আর কখনো যেতে না পারো ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি আমার ফিরে চাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকো কয়েক সভ্যতার পথে ,,,

অথচ আমি কাল বুঝেছি  ওচোখের ভাষায় আর এমন কিছু ঘটে যাওয়ার কারণ যে নেই ,
ও চোখে এ মুখের বিস্ময় আর নেই , 
ও স্পর্শ  আকুতিহীন ,
এমন অনেক কিছু ঘটে এখন ও মনে যেখানে 
ব্রাত্য এ হৃদয় ,
.............................................
এমন কিছু ঘটবে  সেদিন সমস্ত দ্বিধা চুরমার 
করে এ শহরে একটা আকুতি ধেয়ে আসবে আমার পানে  ....ঘুমন্ত মুখে তখন তৃপ্তির হাসি ...তার সমস্তটা জুড়ে তুমি কেবল তুমি ।

শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

একলা মন

আজ কাল মনে হয় তোমাকে জড়িয়ে থাকতে 
থাকতে আমি নিঃশব্দে আরো এক হয়ে গেছি ,
এই যে দিনে রাতে প্রতিটা পল  অনুপলে তুমি বয়ে চলেছ আমার স্রোতের সাথে তবুও আমি একলা তির হাতড়ে বেড়াই , 
আমার সকল নিয়ম ভাঙা কেবল তোমার দিকে ছুটে যাওয়ায় .....আজ কাল আমি ভীষণ একলা ,
আমার ভেতর তোমায় আগলে বন্দিনী আমি ,
বাঁচার নামে নিজের সাথে প্রহসন করে চলেছি ,
আসলে রোজ রোজ তোমার থেকে দূরে কোথাও 
নির্বাসিত করছি নিজেকে , 
আমার নালিশ গুলো নিয়ম মেনে দূরত্ব বজায় রাখে , স্পর্শ আজ  সোস্যাল ডিস্টানসিং আড়ালে ,

এই যে আমি আমার সমস্ত প্রবাহে তোমাকে আগলে রাখি .....প্রশ্ন  যে একাকীত্ব থেকে পালিয়ে 
তোমার দিকে নিয়ম এর দেওয়াল ভাঙা ...
আজ বৃত্তের একই জায়গায় নিজেকে পাওয়া ।
আজকাল তুমি চিৎকার করে ভালোবাসা জানাও ,
আর আমি হাতড়ে বেড়াই তোমার স্পর্শ , তোমার আওয়াজ আমায় ছোঁয়া দেয় না , অথচ তুমি কখনো চিৎকার করে আগে আমায় ভালোবাসি বলোনি তবুও আমি তোমায় পেয়েছি তোমার নিঃশ্বাসের খুব কাছে । 
কাল হয়তো বলবে এ আমার অভিমান ....
আজ কাল এসব কথা আমার অভিধান ছেড়ে গেছে ....আসলে আমি এমন একলা আগে কখনো হয়নি ।  তুমি ও সেই তুমি থেকে নিয়মিত এখন 
আগ্রহের তালিকায় হাজার মহলার শব্দ জব্দ আর  নবসমাগম , আমিই কেবল প্রাপ্ত বয়স্ক চিরকাল , 

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

আলো

যে ভাবে প্রেম কে তুমি স্নেহ দিয়ে আগলে রাখ,
অন্ধকারে আলো মুড়ে ফেলে পূর্ন সোহাগে ,
যেন আমেজি শালের নিচে ভালোবাসা  কেবল
জাদুকর কাগজের রাতে স্বপ্ন লেখে ,

হয়তো এ আলো  অন্যরকম আলো  , যে আলো
প্রেমিকার দুচোখের পথ দিয়ে জীবনের ঘন 
অন্ধকারে ঢুকে পরে ,

জানো  রাজন যারা চেয়েছিল গাছেদের সংসার ......
চেয়েছিল  ভালবাসায় আকাশ থাক অবকাশ থাক 
প্রতিটা প্রেমময় হৃদয়ে  , আজ তাদের আঙুলের 
ফাঁক দিয়ে গলে গলে পড়ছে নিঃশব্দ রাতের সমস্ত রকম মুদ্রা ,   তাদের কেশরিয়া রং ও বীজ গোপনে
তারা ভাসায়  শিতলাক্ষে কুন্তীর মতোই ,

ভয় পাই আমি জড়োসড়ো মাঘের এমন  শর্ত আঁকা চিত্র দেখে , 
রাজন তখনই বিড়ালের আদরের মত আমায় অন্ধকার থেকে মুখে করে তুলে আনে তোমার 
যথার্থ পিতৃ প্রেম ,
আমি দেখতে পাই আমার দু চোখে  মায়া ঘুম 
তুলে রাখছে তোমার মত কেউ , 
ওরা বোঝেনি কখনও,  কারণ ওরা পর্দার আড়াল
থেকে সাবধানী হয়ে পৃথিবীটাকে দেখতে ভালো বসেছে চিরকাল ,
একদিন  রাজন  তুমি আমি জানি পর্দা সরালে 
আলো ঢুকে পরে যে কোনো করুন অন্ধকারে ,
আর তার বিস্ময় রক্তকরবীর আভার মত হৃদয়ে লোভ  জাগায় .....বাঁচার , মেতে ওঠার , নেচে ওঠার  এ আলোকিত প্রেম একটি ঝলমলে সকালের চেয়েও দামি আর চিরন্তন ।

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সহজিয়া তুমি

সমস্ত শক্তি আমার হাতের মুঠোয় ,আমার 
সাম্রাজ্যে বিধাতা কেবল জয় লিখেছে আজীবন ,...তবু আমি তোমায় ঈর্ষা করি  ,

আমি ছিনিয়ে নিতে পারি নিমিষেই যেকোন পাওয়া কে , তবু তোমার রাঙা আভা ছেঁকে যে প্রেম তাকে 
পাইনে তাই তোমায় ঈর্ষা করি ,
পার্থিব সব কিছুর প্রবাহ জুড়ে আমার স্রোত অবিচল .... অথচ ওই যে মেয়েটির বুকে তার শরীরের সমস্ত ধমনী শিরায় এমন পালে লাগা 
হওয়ায় মত এক মাত্র তুমিই বইতে পারো   তাই যে তোমায় আমি ঈর্ষা করি  ,  তোমায় ঈর্ষা করি ওই 
নরম মাটির বুকে তুমি কোন জোর ছাড়াই জাদুর মত কচি ঘাসে প্রাণ ভরে দাও আনন্দে মেতে ওঠে 
দুলে ওঠে , ,,  আর আমি ....আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে শিকলে বেঁধে একটার পর একটা প্রাণ শুধুই মাত্র 
কাঠামো  করেছি ...তারা হাসতে  ভুলেছে ,ভুলেছে 
আনন্দে দুলে উঠতে ,
আমি রাজরাজেস্বর আমাকে ভয় পায় না এমন কে আছে , তবু তোমার প্রেমে মগ্ন ওই এক রত্তি মেয়েটি আমার চোখে চোখ রেখে বলে যায়,  তার ভালোবাসা কেবল রাঙাতে জানে,  আনন্দে  ফুটিয়ে তোলে  শাখায় শাখায় ফুলেদের,, হাসতে হাসতে ঝরিয়ে দিতে পারে পৃথিবীর বুকে স্নিগ্ধ জোৎস্না , সে আমায় বলে রাজন তুমি কেবলই আশ্চর্য হয়েই রয়ে গেলে ,   তুমি কেবল অন্য কে শৃঙ্খলা বদ্ধ করতে করতে এক গিঁট পরা জালে নিজেকে জড়িয়েছো , 
জানো ....,জানো হে  সামান্য  তোমায় আমি ঈর্ষা করি সে কথা এই চরাচর কে জানাতেও পারি নে ...
আমি যুদ্ধের  ধ্বজা উড়িয়ে পারিনা আমার সমস্ত কিংবা সামান্য শক্তি দিয়ে তোমার সাথে যুদ্ধ করতে ,  কারণ আমি ভয় পাই  , আমি লজ্জায় মিশে যাই ধুলোয় , আমার এই   সামান্য না পারা আমার সমস্ত জয় কে পরাজয়ে ঢেকে দিতে পারে নিমেষে  ,
তাই আজন্ম তোমায় ঈর্ষা  করি , 

আমার সমস্ত  অহংকারের আড়ালে এক নিঃস্ব রিক্ত ক্লান্ত  বেদনার্ত  হৃদয় হাঁটু গেড়ে তোমার কাছে জানতে চায় ...হে সহজিয়া কোনো দিন কি 
বাতাস আনমনে  আমার সমস্ত শৃঙ্খল দুয়ার ভেঙে প্রেম কে আসতে দেবে  ?  আমি কি কখনো ওই মেয়েটির  উপর জোৎস্না হয়ে ঝরে পরতে পারবো ?
একবার একবার এই জীবনের উপান্তে এসেও আমি মুহূর্তের ভগ্নাংশে তোমার মত সহজিয়া হতে উঠতে চাই ........

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

সকাল

শিরদাঁড়ায় ঈশ্বর রেখে দেন সহ্যর কঠিন দন্ড
বুকের খাঁচার বেড়া বাধা হয় হাজার গিঁটের সুতোয়,, 
 অহংকার জড়ো করে   ঈশ্বর  পাহাড় রচনা করে
সে চুড়োয় দাঁড়িয়ে দেখে দুমড়ে মুচড়ে আয়ু টেনে 
বেঁচে আছে নাম মাত্র থেকে যাওয়া ....,

সুখ নামে সোনার খাঁচা টুকরো করে যে পাখি উড়ে ছিল আকাশ খুঁজতে তার ডানায় রক্তাক্ত স্বপ্নরা 
ঘুন পোকার জন্ম দিয়েছে সগৌরবে ,  আকাশ কেবল এবার 
সমাধির জন্য জমি ভেজাতে পারবে  এবার , অথচ পাখিটা জানত আকাশ কখনোই তাকে বুকে নেওয়ার অঙ্গীকার করবে না , তবু  যে স্বপ্ন মন পুরিয়েছিল এক হলুদ বসন্তের দিনে , তাই পাখিটা একটা জন্ম বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি ,,

আমি রোজ ক্লান্ত রাত পেরোনো উচ্ছিষ্ট   সকালে
পাখিটাকে একটু একটু করে মুক্তি খুঁজতে দেখি ,

এবার আমি ও ঈশ্বর   মুখোমুখি হব  সমস্ত 
শক্তি  দিয়ে  , গোপন যুদ্ধের যে উপন্যাস লেখা হবে  সুজন তার নাম দিও "সকাল " 

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

একদিন

একদিন ঠিক আমি ভরা পূর্ণিমায় তোর 
মনের সম্রাজ্ঞী হবো দেখিস ,
ধুলো পড়া নিয়মিত যা কিছু 
সব বদলে দেব মন্দবাসার অভরণে ,
আমাদের গল্পে জোয়ারের ওপর সেদিন কেবল 
জোৎস্না লিখবে  মহা কাব্য
তোতে মগ্ন হতে চেয়েছি এক দিন তাই 
 অঙ্গীকার করলাম........


........তোর আজন্ম অপেক্ষা ছুঁড়ে দেওয়ার 
পথে মুখোমুখি হবে আমার তীব্র মন্দবাসার
প্রেম।

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

কাল বেলা





মেয়েটার গায়ে কালো দগদগে পোড়া আগুনের দাগ...
 একদিন রাজকুমারীর মৃত্যু  হয় একটিও চিৎকার ছাড়া ,
তবুও প্রাণ ভ্রমরে জন্য..
রাজকুমারের আমৃত্যু রাত্রি সহবাস. নিজের 
মিথ্যে বাহাদুরির সাথে ,  রাজকুমার বলে ......

মুখ পুড়ি রাক্ষসী   
কিসের এতো তোর কষ্ট 

একবার  মুখ গুঁজে দেখতিস..
এক অদ্ভুত সুখের আরণ্যক তোর জন্য রাখা 
অথচ
মেয়েটির স্বর রিপুর চোরা অভিমান ডুবে থাকে আকন্ঠ
রাজকুমারী আর কখনো মিথ্যে বেঁচে থাকার বাহানাকে প্রশয় দেয় নি ।


এক আধ বার

বছরে এরকম এক আধ বার তোমার অনিয়মিত ছুটি থাকে ,
বছরে এক আধ বার বাড়ির বাইরে কোনো অন্য কামরায় অফিস অফিস খেলায় মেতে ওঠ ,
বছরে এক আধ বার স্বাদ বদল হয়ে যায় নিয়ম
ভেঙে ,
বছরে এক আধ বার বিছানা পাল্টে হাতড়ে বেড়ানো সুখ আড়াল করে যাপন ,
বছরে এক আধ বার অফিস শেষে খানিকটা প্রেমিক মুখো হতেই হয় ,
বছরে এক আধ বার একটু আধটু মিথ্যে না হয় 
বলাই হল ,
এমন করে পকেট থেকে আচমকা বেরিয়ে পড়ে 
একদিন বেপরোয়া দুটো মিথ্যে বাহাদুরি ,
এমন করেই মালিকানা হয় দু চারটে নৌকার ,
এমন করে এক আধ বার গুলো জুড়ে একটা মুখোশ মানুষ তৈরি হয় ,
এমন করে এক আধ বার বিশ্বাস মরে দারুন শোকে ,
এমন করে আর কত এক আধ বার এক জীবনে ?
এমন করে প্রেমের অন্তরালে বেঁচে থাকে অজস্র বিষাক্ত অপ্রেম ।

সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

বৈষ্ণবি রঙ

চিরকাল  জনঅরন্যে তোমার  জন্যে শুধুই 
ভালবাসা,  তাই মাঝে মাঝে দ্বিধাহীন হয়ে 
ছুড়ে দাও কপট অঞ্জলি ,  আসলে স্ববিরোধী 
সুখের কাছে নতজানু  আমরা কেউ হতে পারি না, 

তোমার গায়ে লেগে থাকা কপট রঙ তুমি 
চিনতে শিখলে না  কখনো  তাই প্রতিবার 
চন্দন  জলে ধুয়ে তোমায় রাখি নিজ পটে, 
এভাবেই ধুলোমাখা ক্লান্ত  শব্দদের  শুশ্রূষা মাখিয়ে এগিয়ে  দিয়েছি এযাবতকাল  তোমার চাওয়া পার্থিব সমৃদ্ধির দিকে, 

সারা রাতের তারার আলো দিয়ে একদিন 
ঠিক বৈষ্ণব  করে তুলবো আমাদের বাকি টুকু
বেচেঁ থাকা,  তার জন্যও তোমায় বিরক্ত করবো না, 
আসলে জানতো সুজন সবারই কিছু  একান্ত 
সুখ রাখা থাকে ব্যাক্তিগত  দেরাজে , বাইরে থেকে
সবাই সেটাকে হয়তো বা প্রত্যাখ্যানে মুড়তে চায়, 
আমি চিরকাল অভিযোগহীনা  তাই প্রহররান্তে আমায় জাগতে দিও প্রতি রাতে। 

প্রেম ডট কম

সারি সারি না বলা কথা একলা দ্বীপের মত
এক একদিন জেগে ওঠে বুকের ওপর ,
সিলিং বেয়ে জন্ম অন্ধকার ছায়া মেপে মেপে 
গলা পর্যন্ত চেপে আসে একাধিক মুখোশ পড়া মুখ 
 একটা অকারণ বেঁচেথাকা অবশিষ্ট মৃত্যুর নামে 
স্বাক্ষর রাখে ।

কোন অভিযোগ নেই বলে চোয়ালের নিপাট সুখ
তার চুপ করে বেঁচে থাকায়  ভীষণ নিয়মিত চিরকাল ,
ইদানিং যখন শূন্যদাহ পাক খায় আমার শরীর
বৃষ্টি খোঁজে ,
তোমার দেশের এলোপাতাড়ি মেঘ কেবল ভাঙা 
সম্পর্কের বিসর্জনের পরেই কাঁদতে জানে ....

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

ফলকনামা

যেদিন মন পুড়ল প্রথম
দরজার বাইরে তখন তরুণ দিন দীঘল অপেক্ষায়।

আমাদের ভালোবাসার কোন নাম ছিলো না কোনদিন..
শরীরের  ওপর নামহীন আশ্রয় ছিল শুধু 

 রাত চাদর  ছুঁতে চাওয়ার 
নেশাতুর হাত বোলাতেই দেখি,
কুঁচকে যাওয়া সুখী সাদা চাদরের  উপর তুমি
 নাম হীন  চিরকুট লিখে গেছো...

"বেঁচে থাকার জন্য এতোদিন যে অস্তিত্বটাকে খুঁজে মরছিলে সমস্ত পৃথিবীতে হন্যে হয়ে 
আজ তার জঠরের  গন্ধ রেখে গেলাম তোমার   ছেলেমানুষি অমরত্বের গায়.....
ইচ্ছে হলে পুড়িয়ে দিও.. 
টুকরো করে উড়িয়ে দিও "...
খুব কিছু জমবে না ক্ষতির তরফে ,,

আমি সেদিনের পর   আজও বিছানায় 
চোখ বন্ধ করে হাত মেলে দেখিনি,

 পরিচয়হীনতায় প্রিয় ক্ষত 
এই কাব্য  সৃষ্টি তে কতটুকুই বা আসে যায়
কবিত্বে কতটুকু জমিরই বা পেতে পারি !
তাই আমার কফিনের চাবির ঠিকানা মাটি ছাড়া 
কেউ জানে না , 
তুমি শুধু মন পুড়ে যাওয়া ভালোবাসার একটি 
কবিতা লিখে দিও সেই অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু 
ফলকে ।

       

বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৬)

সুবর্ণা কথা দিচ্ছি পরবর্তী প্রতি জন্ম উৎসবে
আমার সব পৌরাণিক চরিত্রদের একে একে 
মুক্তি দেব  তোমার দেওয়া বিগত উদযাপনের রঙের  মতোই  ,
জানো তোমার রাত বিছানায় শীৎকার সুখ খুঁজে নেয় যখন,  আমি তখন অজয়ের জলে তীব্র অমৃত ধ্যানে মগ্ন রাখি নিজেকে ।

আজ শুধু সামান্য শেষ চাওয়া ....আমাদের 
চিড়েখুঁড়ে দেওয়া স্মৃতির উদ্দেশ্যে ,  
আমার  পুড়ে যাওয়া নাভীর ছাইয়ে তোমার একটি চারা
কবিতার জন্ম পুঁতে দিও প্লিস  দেখবে 
জন্ম শোক আর মৃত্যু সুখ দুটোই ভীষণ অভিন্ন 
কারণ আমি নাভিমূলে রেখে যাব একজীবনের 
মুক্তিপত্র ।

হিসেবের পথ

তুমি যাকে বল  যন্ত্রণার সহবাস 
আমার কাছে সেটাই কোমল বাসর ঘরে 
তাই জীবন আর যন্ত্রণার ফাঁকে আমি এখনো
অন্য পথ  শুধোইনি কোনো পথিক কে ,
যেখানে সুখের মাটিতে দুঃখের মৃত দেহ বালি
চাপা কচ্ছপের মতো গোপন  সেখানে  চাওয়া
শব্দ নিতান্ত বেমানান  যুগে যুগে ,,

সুজন তুমি চিরকাল রঙিন সাইপ্রেসিয় বোধ নিয়ে
শব্দ জব্দ খেলায় ব্যস্ত থাকলে  ...... বলো
কি করে বুঝবে প্রখর রৌদ্রে মরুর বুকে কাঁকড়ার
ছটপটানি ?
যন্ত্রণারও অভ্যেস রাজার তরবারির মত যোগ্য 
যোদ্ধার মুখোমুখি আসার আগে পর্যন্ত  অসূর্যস্পর্শ
থাকা  সেকথা জানে না  সবাই বলেই দিশা খুঁজে 
হয়রান হয় ,,

জানতো সুজন মুখোশের অমরত্ব হয় না  তাই এটুকু
বুঝি আজ অবধি ....... পথ ভুল ছিল  পথিক হিসেবে  এ জন্ম নয় .....।

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

নাটকের অঙ্ক

শামুক ভাঙা রাত পোকার সংসার আমার 
মুখ আর মুখোশের সাথে ঘরকন্না খেলা চলে ,
বুক খুঁজতে গিয়ে চোরাবালিতে  কখন 
মাথা গুঁজেছি টের পাইনি ,

মন লেখার সাতরঙি  খাতাটায়  কেবলই হিসেবের
খেলা  তবু সে খেলা ক্লান্ত আজ  ,
অথচ কালো ঘোড়া রোজ ছুটে যায় আমার গভীর 
ঘুমের পথ কেটে ,  আমি আঁকড়ে ধরতে যাই স্বপ্ন গুলো  ,ব্যর্থতায় চোখ থেকে ছিঁড়ে যায় একের
পর এক পাতা , 
মনে পড়ে .....................

...বুকের বাড়ন্ত নিঃশ্বাসে আধ ফালি চাঁদের আলো 
দৈন্যতা ঢাকে বহু চেষ্টায় ,
আমার মত অবিকল কারো সমাধির পথের পথে 
এখনো জীবিত রা বেঁচে থাকার গান গেয়ে ফেরে 
ভালোবাসার গল্প শুনিয়ে যায় ।

কারু কথার শিল্প

একদিন সে বলে ছিল নিপুণ শিল্পী হাতে কোনো
ক্ষতি কারো দিকে বিনা আস্ফালনে .....বাঁচবে প্রেম , সাক্ষী কেবল রয়েছে একখানি মন ,

তিলোত্তমা আমার মত অজস্র তার প্রেমিকাদের 
নিখোঁজ করেছে  কারন সে উত্তরত্তর ভালোবাসে 
উত্তরণ , স্পর্শ ভেবে হাতড়ে বেড়ায় মাকালের হাতছানি ।
 একদিন এত শত পাপ তার আগলে রেখেছিল 
আলবেলা এক নারী তার চিবুকের ঠিক নীচে 
যেমনটি প্রদীপ শিখা বুকের নীচে যত্নে আগলায়
অন্ধকার ।

আজকাল আর কাটাতে পারে না মন পুরোনোর মত , রোজ রোজ যে বৃষ্টির জন্ম দিন হয়,
সে নারী হেঁটে যায় মরুর দেশে  সে ছাড়া সকলের
পথে  হয় দেখা ।

.......ভয় নেই তার  রাজপথে  অযথা রাজপোশাকে
দাঁড়াবে না প্রেম ......
ভয় নেই প্রেম হেঁটে গেলে বহুদূরে  পায়ের চিহ্ন 
যাবে সযত্নে মুছে ........,
ভয় নেই কোনো  শ্রাবনী স্নানের পর বিধাতার কাছে
মনের সাক্ষী খুলে সে নারী বিচার চাইবে না .....
ভয় নেই নিপাট সুখ  খুলে রেখে  সেও  একদিন প্রাক্তন প্রেম হয়ে  উঠবে ।

ভ্রান্তি বিলাস

মুখোশে বাঁচতে বাঁচতে কখন যেন অচেনা
হয়ে গেছে নিজের মুখটাই ,আয়নার সামনে 
নিজের প্রতিবিম্ব র ডাইনে বাঁয় মিলিয়ে নিতে 
গিয়ে চমকে উঠি  মনে হয় সমস্তটা অযাচিত ..
মোটেই এই আমির সাথে  আমার পরিচয় নেই ।

এ কবিতা পোষ্টমর্টেম বলা যেতে পারে  
নিজের ছায়াছবিতে নিজেকে টুকরো টুকরো
করে  আদি অন্ত মিল না পাওয়ার নামে আজকাল
এক বিনোদন.…..... অট্টহাসি যে ফেটে পড়ে ঘোর লাগা মন ।

বহুরূপী শ্বাপদের চাইতে শূন্যতা  দরকারি ,
প্লাস্টিক ভালোবাসার মহাকাব্য থাক রঙ্গমঞ্চের
চরিত্রের জন্য ,,,,
আমি তাই স্বপ্নে জাগরণে রোজ শিশু ভোলানো 
চৌহদ্দির বাইরে এক পা দু পা এগোই ,
তোমার মাইক্রোস্কোপিয় বাহাদুরি ভাবনায় 
রেখো আমি বিহীন যাবতীয় প্রটোকল ।

 নিজের প্রজন্ম কে এককোষী ভাবতে আর 
তেমন অসুবিধা কোথায় ,......না হয় আর কিছু
পরে রূপান্তরে নির্ঘাত বিজয় পাওয়া যাবে তোমার
সুড়সুড়ি দেওয়া পালকীয় আস্ফালন থেকে ,
তার পর তারপর অন্তত ধরেই ফেলবো উদ্দেশ্য,
বিধেয় ,কি ভাবে কার পরে ব্যাকরণ মানে ,

এখন কিছু সময় যোদ্ধার মত রক্ত ঘাম ভিজিয়ে
খুঁজে  ফিরি সেরিব্রামে ধোঁয়াশা সরিয়ে শেষ দিগন্ত,।

কিছু বলবো কেমন করে ? বলতে গেলে যত্নের রাখা স্বপ্ন গুলো যন্ত্রনা বাড়ে , তাই এই নির্ঝঞ্ঝাট
গুপ্ত ঘাতক  লুকিয়ে থাকে স্নায়ুতে ......
সমস্ত সমাধান করতে চুপচাপ হাঁটু গেড়ে বসি
দশ হাজার সিন্যাপসের ভিতর ।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

সাজানো সমাধি

ছায়া থেকে বিচ্ছেদ ছিঁড়ে পড়ছে আমার সমাধির
ওপর ,  চলে গেছি চোখ থেকে দৃশ্যত ছিঁড়ে ,
আমার সমস্ত রং থেকে একে একে ছিঁড়ে পড়ছে পলাশ, কিংশুক , আমারই দীর্ঘ ঘুমের পাড়ে ।

এ কেমন চলে যাওয়া যেখানে সুখস্মৃতি 
ভাবা দৃশ্যগুলো যন্ত্রনা হয়ে সামনে এসে দেহে 
সাদা ফুল ছড়ায়  .....আর অবাক হয়ে যাওয়া টুকুর দিকে হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকা , তবু নলা হয় না যেওনা ।

কেন যে পুড়তে পুড়তে দেহ হারায় ............জানা নেই,

কেন যে মাথা নামিয়ে মাটি ছুঁয়ে ফেলে অভিমান 
অথচ কিচ্ছুটি বলা হয়ে ওঠে না শেষ পর্যন্ত  ...জানা নেই,

........এ কেমন আগুন জ্বলছে  অথচ পুড়ছে না আহুতি গুলো ,,,,
.........চিরকাল আমার সব একলা রং কি কেবলই
শূন্যতায়  পরে থাকলো ! 
পলাশ রংটুকু চেয়েছিলাম মাত্র অথচ আগুন হাতে
ছাই করেছো সমস্ত  নির্দয়তা দিয়ে ,,
থেকে যাওয়া বাসর থেকে বঞ্চিত করেছো অথচ
সমাধির ওপর সাদা ফুল রেখে ভালোবাসি বলতে পারো খুব সহজে ,

আমার সমস্ত জীবিত কালে এমন সহজ কাজ টুকু
করে উঠতে পারিনি মানুষ হিসেবে ।

গিঁট

যে কটা দিন ক্ষতদের নিজদেশে ফিরে যেতে
সময় লাগে সেকটা দিন স্পর্শে তোমার আসা যাওয়া থাকবে কখনো খরস্রোতা কখনো মন্থর ,

খিঁচ লেগে থাকা ধমনী গুচ্ছে আজও ভুল ঋণ 
স্রোত টেনে বেড়ায়  ,সত্যিটা মানতে মন চায় না 
তাই গরল মাখছে হৃদয় , 
কিছুটা সময় চাই নতুন জন্ম যন্ত্রণার জন্য ,

বুকে টেনে নিতে পারো না কোনো দিন সমাজের
বেড়ি ছিঁড়ে ,পারোনা সামনে এসে দুঃখ গুলোকে 
নিংড়ে ফেলতে কোনো দিন ....
এযাবৎ কাল আমার সকল পড়শী আমায় কেবল অপেক্ষাই শিখিয়ে এসেছে , সময়ের প্রয়োজন কেউ কখনো বোঝানি , আমিই অপেক্ষার 
গাছের দেহ ধুপ ভেবে পুড়িয়ে ফেলেছি রোজরোজ ,

আর যেকটা দিন ক্ষতদের নিজ দেশে ফিরতে সময় লাগে তোমার অবহেলার স্পর্শ খিড়কি র
প্রান্তে দাঁড়াবে আলগোছে .......... তারপর কিসের 
জোয়ারভাটা ,কিসের আছড়ে পড়া , কিসের সমাজ , কিসের ভয় ,  সমস্ত ঢেউ ভেঙে স্থিরতা নিমগ্ন এই দেহে মনে ,
আর জমি খোঁজার নেই পায়ের তলায় ,
একটা শূন্যতল আমার পৃথিবীর অক্ষরেখার আটকে গেছে ,  বলো সেখানে কোথায় দাঁড়াবে 
অপেক্ষার প্রেম ?

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

অ--সুখ হওয়া

তার গন্ধ এখন পুরোনো অসুখের মত 
কেবল ছায়ার দিকে হাত বাড়াতে চায় , অথচ
পথের বাঁক বদলাতে চায় বহতা হওয়া তাই 
ছিঁড়ে খুঁড়ে তছনছ করে ফেলতে ইচ্ছা হয় ঘরের কোনে পড়ে থাকা পুরোনো প্রেমিক মন ......

চলে যাওয়া দৃশ্য গুলোর  পিছু যে ধরি বারংবার খ্যাপার মত ,
স্টেশনে চায়ের দোকানে প্রেম লেগে থাকা পুরোনো
চায়ের ভাড় এর খোঁজে তাই এখনো মাঝে মধ্যেই 'সন্ধান চাই ' ইস্তেহার  দিয়ে বেড়াই , কখনো বা 
দৃশ্যর বুকে  সিঁধ কেটে তুলে আনি অতীত ,
মাঝে মাঝে ভাবি এসব কেন !  সেই বাউলের মত ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারিনি ....... ওই চায়ের দোকান,
ওই স্বর্গ মহলের রূপ কথার কামরা  ,সেসব উৎসব ,উদযাপন , কেন ঝরা পাতার মত দিশাহীন হয়ে হারিয়ে যায় না ,
হওয়া তো কতকিছুই বদল করে  , আমি দলছুট মেঘ হয়ে শুধুই শূন্য স্থানে ভ্রম জড়ো করি কেন ?
কেন এক দেহে খুঁটে খুঁটে রাখি জল ,আগুন কাঠ ,
কেন ভাসতে পারি না যেমন টি সে ভেসে বেড়ায় কিনারা হতে আরেক কিনারে ।

ঘর চাই

প্রতিটা ক্ষতর জন্য আমার এক একটা বিশেষ ঘর দরকার , 
যে যে ক্ষত বিঁধে আছে একই ঘরের চার
দেওয়ালে ঘেঁষা ঘেঁষি করে  একের পিঠে আর একজন চেপে তাদের একে একে আলাদা করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হত আমায় ,

প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস এর জন্যও আমার আলাদা বিশেষ কিছু ঘরের দরকার যাতে সেসব ঘরে 
আলাদা আলাদা করে প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস কে কিছু
কিছু সময় রেখে আমি শুধু স্নিগ্ধ বাতাসে  বিশ্রাম নিতে পারি ,,

আরো কিছু বিশেষ ঘরের  দরকার ছিল ....., 
মৃত সময়ের ঝুলিতে বয়ে বেড়ানো  বহু স্মৃতির গন্ধদের আলাদা আলাদা করে রাখার জন্য ,তার পর মনকে নাহয় খানিক বিশ্রাম দেওয়া যেত ,,

কিছু বিশেষ ঘরে রাখতাম আমার চোখ এযাবৎ কাল যে সব দৃশ্যে ঘুমের ওষুধকে অবলীলায়
বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সারা রাত অতিক্রম করে 
নির্ঘুম হয়ে , আর হ্যালোইন সেই রাত গুলোতে
আমার বুকের ওপর চেপে বসে কি বীভৎস হাসিই
না হাসে  একের পর এক প্রেতাত্মারা ,
সে সব দৃশ্য ওই বিশেষ ঘর গুলোতে বন্দি রেখে আমি  একটা দীর্ঘ ঘুমে তলিয়ে যেতে চাই ,
তাই এই ইস্তেহার আমার বেশ কিছু বিশেষ ঘর দরকার ................
তোমাদের কারো কাছে কি এমন কিছু বিশেষ ঘরের সন্ধান আছে  ?    যদি থাকে হৃদয়পুরের
খামার বাড়ির ঠিকানায় তার ফেলো ডাকবাক্সে ।

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

ব্রাত্য তবু ব্রাত্যহীন


এক অদ্ভুত বোঝাপড়ার দায় থেকে নিপাট 
মুক্ত এখন তুমি ,
আমিও নিঃসঙ্কোচে ভুলে গেছি সেদিন কেন 
তোমার চোখে আমার সর্বনাশ দেখে নিজেকে 
হত্যা করেছিলাম .....
ভুলে গেছি বলেই হয়তো নিঃশব্দে মুখাগ্নি করি 
বকেয়া হিসেবের কেতাবকে ।
আজকাল  চতুর্দিকে প্রেমের মধ্যে এক চাতুর্য পূর্ন 
আঁতুরঘর লক্ষ্য করি  ....আরো লক্ষ্য করি সেখানে চলে অবিরাম স্যাঁতসেঁতে ভেজা শরীরের খেলা .….,
আমার অবশ্য আজকাল যেকোন রকম খেলা দেখতে বেশ ভালোই লাগে , 
কোথাও  গল্পের রাজা হিসেব করে তার  ও দেবতার মধ্যে  এক পুঁজিবাদী  অহংকারের তৃপ্ত 
দেওয়াল তুলছে কোথাও বা  মানুষ সামাজিক থাকার হিসেব কষছে আর অংক মিলিয়ে নেবার 
দুস্তর চেষ্টায় নিজেকে নির্ভুল ভেবে তৃপ্ত হচ্ছে ,
ঠিক যেন নাটকের শেষ অংকের এক নিপাট মিথ্যে
মোড়া অসাধারণ তৃপ্তি ,
আর সেই তৃপ্তিতে জন্ম মৃত্যুর পূর্ণতা খুঁজতে চাইছে , নিঃশব্দে দেখি এসব খেলা অথচ রাজা কিংবা  তোমার   মাঝের পথে পঞ্চভূতের কোনোটাই জুটিয়ে উঠতে পারা হয়  না ,
আমিও হয়তো কখনো বলতে চেয়েছি এমন উপহাসের জীবন কেন হে সখা  কেন এমন শ্রেষ্ঠতম অপচয় ? জানি না   জানি না  কোনদিন এসব কথা বলা হয়ে উঠবে কিনা ............
জান তবু আমি মৃত্যু ফলকের নীচে শুয়ে নতুন 
ভোরের স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে পারিনি  
পারিনি ভালোবাসা নামক শব্দটা অবহেলা করতে ।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

রোশনি

দু পা এগোলেই অদৃশ্য বহতা জীবন ,
দু পা পিছলে মরণ বিষ যাপন ,
ক্রমশ সরে যাচ্ছে নিয়মিত ভরা পানপাত্রর 
প্রলোভন ,
মৃত শব্দের বুকে ভাঙা কাঁচের স্বাক্ষর বদলে দিচ্ছে
সমস্ত সমীকরণ ।
দূরে কোথাও ছায়া কেটে কেটে কেউ বোধহয় রোদ্দুর কুড়িয়ে নেয় দুহাতের মুঠোয় .....
ভুলে যাওয়া অক্ষর রা এখন অনেকটাই ধুলো চাপা  তাই তাকে অনেকে বাহারি কেতাবি নামে স্মৃতি বলে ডাকে ।
ক্রমশ শব্দহীন হয়ে একের পর এক দ্বার খুলছে 
আমার মত কেউ ,
সে শূন্যতাকে কেবল বিয়োগ ফল শেখাতে পেরে 
গোলাপ গুচ্ছ আর আগুন উপহার দিয়েছে নিজ হাতে ,,
হয়তোবা একদিন এই ও অবাধ্য ডানা নিয়ে উড়ে যাবে ভ্রম মুক্ত দুনিয়াতে ....
সেখানে একটা জন্ম আর একটা মৃত্যু সুতোয় বেঁধে
মাইল ফলক ঝোলানো থাকবে না ,
থাকবে না এসব তিন প্রহরের খুচরো খুচরো মোহ ।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

ফিরে এসো

এ কোন সর্বনাশের দুয়ারে কবি তুমি !
তোমার দুহাতে সমস্ত নির্মল আজ শুধু সর্বনাশের
অপেক্ষায় ,
তোমার কলমে এ কোন বিষ ঝর্নার শব্দ চরণ !
এমন ভাঙা ভাঙা কাঁচের ভেতর তোমার প্রতিচ্ছবি দেখতে আমার বড় ভয় হয় ।
তুমি তো নও বিষাদ পুরুষ ! তবে তোমার সম্পর্কে কেন এমন মরণ রোগের বাস ?
আমি রাত ভোর গুমরে উঠি তোমার কবিতার ক্ষতদের যখন খুব কাছ থেকে অবরণহীন করি ,,
ক্রমশ নদী ,কাঁকর , আর ঝুরঝুরে যন্ত্রনা নিজেকে আড়াল করছ , একটা ধাতব অক্ষরেখার ওপাশে আমাকে রেখেছ অদৃশ্য অপেক্ষায় ,,
অথচ তুমি জান এত গভীর অন্ধকার আমি কোনকালেই লিখে উঠতে পারিনি , তাই তোমার 
আটত্রিশ বসন্ত কেবল রুক্ষতা দেখেছে ।
আমি তো কোন জমিন ভাগ চাইনি  ...তবু কেন ওরা তোমাকে আমার কষ্ঠ থেকে আমার দীনতা থেকে আমার নিদেন শব্দ মঞ্জরী থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে বলতে পারো ?
কেন দমকা স্রোতে ওরা তোমাকে হওয়ার কাছে দত্তক দিচ্ছে বারবার বলতে পারো কবি ?
অথচ পৃথিবী জানে তোমাকে ছুঁয়ে যাওয়া সব হওয়া এসে থামে আমার দক্ষিণে ,উত্তরে ,দশ দিশায় ...আমার আঙুলের সন্তাপে,,,
আমি উষশী নই কোন কালেই ....তবুও তোমার শব্দরা যেদিন যেদিন  তোমায় ভাঙচুর করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয় , আমি জেগে থাকি সেই সমস্ত রাত জুড়ে ....জেগে থাকি প্রথম আলোর সোহাগ খুলে ,
আমার সমস্ত দহন কালের উদ্দেশ্যে একমাত্র প্রার্থনা  খাঁটি সোনা হয়ে উঠুক তোমার একটা সম্পূর্ণ জীবন ,

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

থেকে যাওয়া

যাবতীয় শব্দ বিন্যাসে থেকে যাও 
যত গভীরে ক্ষত পৌঁছায় ততই বাদামী
রঙের দিন ঢলে পড়ে ।
সন্ধ্যে নামার আগে চোখের নীলাঞ্জনায় 
লাশ পড়া ছাইয়ের কাজল লেপে  আছির 
সংকেতে জেগে থাকে কিছু কিছু পিছুটান ,
যেভাবে শব্দরা কবিতায় বাস করে ,
যেভাবে গন্ধ বাতাস খোঁজে ,
যেভাবে যে কোন মৃত  সভ্যতায় থাকে জীবনের
ফসিল .....সেভাবে ঠিক সেভাবে কেউ কেউ 
সম্পর্ক শব্দে বাস করে নিঃশব্দে ,,
যেমন একটা দীর্ঘতম অন্ধকারের বুকে জোনাক
আঁকে আলোর রেখা।

নদী

যে শরীরে ভাটিয়ালি স্রোত থাকে তাকে তুমি 
বুঝবে না ,
শূন্যতার বিষাদে সমস্ত ধ্বনি বিরাম নেয় যেন
শব্দহীন শতাব্দীর মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসা এ সদা জাগ্রত মহাকাল ।
সে নিজেকে পুনরায় ভাঙে তুমি তার প্রেমিক হয়ে 
তীরে দাঁড়িয়ে ভাঙ্গন দেখ , অথচ ইচ্ছা করলেই 
ধারণ করতে পারো তাকে রক্ষা কবচ হয়ে , তবু ...তবু শামুক খোলস বড় প্রিয় ,
যন্ত্রনা  এখন তার চোখে মনে কমলগান্ধার রুপি ,
তার ঠোঁটের বৃষ্টি সংলাপ তুমি বোঝোনি ....
তাই শব্দহীন কেটে যায় তার সমস্ত আত্মপীড়া ।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

প্রেম

সমস্ত সমর্পণ শেষ করে সে দাঁড়িয়েছে মাথা নিচু করে ,অথচ তার প্রেমিকা চেয়েছিল ভালোবাসার বুকে গরাদ অটোক হয়ে থাকতে ,
রোদ্দুর ছিল ছিল মেঘ মোল্লার কিংবা শীত বসন্ত 
অথচ তার প্রেমিকা ধীরে ধীরে অন্ধকার জড়িয়ে ক্রমশ নামছিল কোনো এক পাতাল পুরীর উদ্দেশ্যে ,
মাথা নত করে থাকা প্রেমিক কেবল প্রেম কে পুজো করে গেছিল আশ্রয় দিতে শিখল না 
একদিন তার প্রেম নির্বাক হয়ে আকাশের গায়ে কান পাতলো ,বাতাসের গন্ধ নিল প্রেমের সমস্ত জঠর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তার জন্য রেখে গেল আলোর আয়না , গোপনে হওয়াকে বলে গেল।সে যদি কোন দিন মুখ তুলে চায় একবার দেখার জন্য বলো আমাকে ভালোবাসার জন্য তার আমাকে প্রয়োজন সেদিনও নেই , 
সমস্ত সমর্পণ সেরে তার উত্তরণ শুধু তারই রয়ে গেল ।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৫)

প্রতিদ্বন্দ্বী  হতে চাইনি  কোনো  চারুবাক্যের 
কিংবা দড় কথা গুছিয়ে বলার খেলায়,, 
স্বীকার  করি অনেক কথাই সযত্নে  সঞ্চিত রাখি 
তুমি চুরমার হওয়ার ভয়ে।  
কথপোকথনের মুহুর্তে  বেসুরো  কথা অথবা দীর্ঘ  
নিরবতা রাখি যাতে তোমার ভাল থাকার সাম্রাজ্যর
ব্যাঘাত না ঘটে। 
ইদানীং  তোমার নালিশ সকাল সন্ধ্যা  আমাকে ঘিরে বেহাগ সুরে বেজে চলে..... হয়তো আমি আগের মত তোমার ভেতর স্রোতম্বীনি নই  হয়তো  
নীল পদ্মের জ্যয়গায় এখন  রঙ  বেরঙের  গুঞ্জরন,  এসব বুঝে না পারা ব্যার্থতা গুলো কালি 
অন্ধকারে  নিঃশ্চুপ থাকে  প্রায়শ।  
তুমি স্পষ্টত উচ্চারণ  করেছ অনেক না বলা কথা, 
আসা যাওয়ার  পথে কুড়িয়ে নেওয়া কিছুটা সময়ে 
সামিল করেছো আমার জন্য বঞ্চনা, 
এমন করে হয়তো  আরও  কিছু দিন  তারপর  এক সকালে পাখিরা ডাকবে না আর , সমস্ত নালিশ  থমকে গিয়ে বলবে এবার ফুরিয়ে গেছে 
যাবতীয়  কর্মকাণ্ড,  সেদিন পথ বদলে নিও শব্দ মহলের কোন বুকে,  খুঁজে  নিও নিজেকে গুঁজে  রাখার ছই। 
আমি সেদিনও  অপেক্ষা করতে করতে জ্বলবো  তোমার  হাতে শেষ  আহুতির কাঠটার জন্যে 
জানবো না তুমি কতটা সাবধানি হবে, জানব না 
সেদিনও তোমার  সময় তোমাকে আমার জন্যে শেষ  সময়টুকু দেবে কিনা,  হয়তো তোমার আমার দিকে আসার সব পথ চিরকালই  নিষেধের  প্রস্তাবনা  দিয়ে  দাঁড়াবে। হয়তো তুমি সেদিনও  বাধ্য হবে সমাজের নিয়মিত সম্মেলনে  সামিল হতে,  তবু বলব যে ভাবে ভাল থাকো সেভাবেই নিজেকে রেখো আমার জন্য বাধ্য হয়ো না সে আমার অপেক্ষারা  যত আর্ত হোক না কেন। 

.........সুবর্ণা  প্রিয় শেষ  কথোপকথন, 

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৪)

তোমাকে ছুঁতে পারিনি সুবর্ণা,  তোমার আগুন 
রঙা দেহ থেকে সুখ নিয়েছি বারংবার, নিভৃত 
খুঁজেছি বারংবার  তবু তোমায় স্পর্শ করতে 
পারলাম কই, 
আমাকে যেদিন প্রথম তুমি স্পর্শ শেখাতে খুলে ছিলে একের পর এক আবরন দেখেছিলে আসুখ 
বর্ন আমার শরীরে কিনারাহীন নদীর ভাঙন, 
তোমার চোখে ছিল বিস্ময় তীব্রতম আমি ছিলাম নিশ্বাসের খুব কাছে কাছে.... তবু আজ অবধি তোমাকে ছুঁতে পারলাম কই। 
বিশ্বাসের হাতের ওপর হাতের বন্ধনী  শিথিল যেন
ঝরে যাওয়া শীত....... 
হৃদয়ের কথা জানি না  তবে বড় উদাসীন লাগে এই মেলা,  মনে হয় তছ নছ হয়ে যাক শান্ত সমুদ্র, 
আকাশের মেঘ ভেঙে গুড়ো গুড়ো হয়ে অঝোরে নামুক তারপর আদ্যোপান্ত পৃথিবীর যন্ত্রনাগুলো ধুয়ে মুছে যাক,  তোমাকে ছুঁতে না পারার যন্ত্রনা 
এক পৃথিবী উপচে উঠেছে,  তোমার উপস্থিতিতে তুমি না থাকা তীব্র যন্ত্রনা,  সুবর্ণা ধরে থাকলেই যে
ছোঁয়া যায় না সে কথা আমার থেকে ভালো কে জানে, 
তোমাকে ছুঁতে পারিনি  পরস্পর হয়েছি দীর্ঘ পথ তবু দেখ এক পৃথিবী আলাদা হয়ে আছি। 
.........সুবর্ণা প্রিয় দীর্ঘশ্বাস                             
        

অপারগতা

কতবার যে আমি ভালোবাসা স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে সে   কথা  একমাত্র আমি ও ঈশ্বর জানি ,,
দুচার কথা ভালোবাসার উচ্চারণ করতে গিয়েও
কতবার যে আমি শুধু মাত্র  নিঃশব্দ জুড়ে জুড়ে বুনেছি একাকীত্বর জাল 
ফিরে এসেছি  ভালোবাসার মানুষটির খুব কাছ থেকে  সে কথা  আমি ও  ঈশ্বর জানি  ,
প্রেমিক হাতের মৃদু কড়ানাড়ার  শব্দে 
দরোজা খোলার  জন্যে  চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম 
আমার ইন্দ্রিয়  সে যে আসে নি তা নয় আমিই দরজা খুলতে সাহসী হতে পারিনি ,

আনন্দ উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো 
ভালোবাসার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে কল্পনা করেছি, সে-কথা আমি ও ঈশ্বর জানি 
 
এখন আমার  চুলে  চল্লিশোর্ধ রং ,উচ্ছ এখন রক্ত প্রবাহ , রাতে গায়ে জ্বর আসে  
নিয়মিত ,,
 ঈশ্বর  বোধহয় এখন জানেন- এ  জীবন 
একদিন ভালোবাসা হীন  মৃত্যু লিখে যাবে ,
তারপর অনেকদিন পর একদিন আমার 
এপিটাফে র পাশে  পথ চলতে কোন প্রেমিক প্রেমিকা দু দন্ড দাঁড়িয়ে বলবে 
সে  জন্মেছিল  অপ্রেমের  জন্য। শুধু অপ্রেমের জন্য।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

উপহার

আমার ক্ষিদে এখন কমে গেছে ,
আমার নিতান্ত প্রয়োজন গুলো সামান্য 
থেকে সামন্যতর হয়ে যাপনের একটা 
কোনায় লেগে আছে মাত্র ,
লজ্জা ঢাকার নামে যে সব পোশাক ছিল
সে সব এখন জীর্ণ থেকে জীর্নতর ,
মাথার ওপরে ছাউনি গেল ঝড়ে বদলে ফেলেছে
ঠিকানা ,
আমি গরিব থেকে দরিদ্র   এবং তারপর হয়েছি 
নিঃস্ব,,
তারপর একদিন বঞ্চনা আমাকে দুহাত বাড়িয়ে 
আলিঙ্গন করেছিল ,  বাকি ছিল সর্বহারাত্বের 
তকমাটুকুর  সেটাও পূরণ করেছে সে একদিন 
আর অবশেষে একটা দিগন্ত ছোঁয়া সরলরেখা 
উপহারে পেয়েছি ।
হে ঈশ্বর তোমার সমস্ত উৎসাহ, উদ্দীপনায় ,ইচ্ছায় , চিরকাল তাল মিলিয়ে এসেছি , হ্যাঁ তাতে ক্লিষ্ট
হয়েছি  ....ধুঁকতে ধুঁকতে পার হয়েছি তোমার পথের  সমান্তরালে যে পথ।  , 
হয়েছে কঙ্কালসার আমার সমস্ত বেঁচে থাকা  ,,বেড়েছে তোমারও মগজের চৌকসতার জেল্লা   .....প্রগাঢ় হয়েছে ঈশ্বরত্ত্বের মহিমা ,,
তবুও তুমি আমার সম - অন্তরালে থেকে গেছো ।

শীত

আজকাল আমার খুব শীত করে মনে হয়
আমার ঘরের মেঝেতে বরফ পরে আছে ,
আমার উঠোন জুড়ে বইছে বরফ নদী ,
ঠোঁট দুটো তুষার দহে  ফ্যাকাসে হয়ে গেছে 
যেন বহুকালের বরফ ঢাকা  কোন মৃত ,
অনেক দিন কোন আগুন জ্বলে না  এ ঘরে ,,,
সূর্য ছিল একটা সবার যেমন থাকে ,ছিল চারপাশে
সবুজ গাছগাছালি ,গ্রীষ্মের দুপুর ছিল ,বিশু পাগলের গনগনে গান ছিল ,  ছিল উষ্ণ রাত ।
এখন আমি জলবায়ুহীন , গাছের পাতাদের বাতাসের সাথে সখ্যতা ফেলেছে ঘুচিয়ে , এখন কেবল বরফ ঘেরা রাত্রি বহুকাল ।
আজকাল আমার খুব শীত করে  আর জ্বর আসে 
মনে হয় তুষার ঢেকে ফেলেছে আমার ঘরের সমস্ত দেওয়ালে মেঝেতে পড়ে আছে সীমান্ত হীন নিথর বরফ , রক্তের প্রবাহ গতিহীন ক্রমশই  , এত শীত এত বরফ একসাথে আগে কখনো দেখিনি ......
........আমায় কেউ দুঠোঁট রোদ্দুর দিতে পারো ?
কেউ কি পারবে আমার শীতল চিঠিখানা আগুনের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে ?

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

সেই পাখিটি

সেই পাখিটি তাকে  ডেকে ডানার জখম
দেখিয়েছিল , সে মলম লাগাতে 
গিয়ে বলল  কীভাবে তার এমন সংসার পোড়া ছ্যাঁকা লাগল ,,
কীভাবে পায়ের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে গেল
প্রথম থেকে শেষ বন্ধনীর  সমস্ত শেকল, 
পাখিটা তাকে দেখালো ঠোঁট দিয়ে  
খাঁচার তার  কাটতে গিয়ে ঠোঁটের জখম,
দেখালো তার সমস্ত রঙের ক্ষত , সে 
  বাইরে থেকে  নিজের  ওম দিয়েছিল
 খাঁচার দরজা খুলে তাকে “বাঁচবিযদি আয়’,
বলে বার করে এনে  রেখেছিল বুকের
মত আর একটা খাঁচায়
সেখানে পাখিটা বন্দি আজ
সে কয়েক জন্ম ,পাখিটা ভুলে গেছে আকাশ
দেখতে ,চোখ তার আর রঙ চেনে না , মন আর
দোষারোপ করতে করতে বৃষ্টিতে ভেজে না ,
 সন্ধে হয়ে যায় সকাল হয়ে যায় 
পাখিটার অনন্ত ঘুমের ভেতর ।

হয়তো আর দেখা হবে না

অনেকদিন দেখা হয় না মুখোমুখি
অনেক দিন কেবল নিয়ম মেনে নিয়মিত 
আকাশে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তোমার কথা 
ভাবতে ভাবতে  মাঝ দুপুরে আরো একলা হওয়া ,
হয়তো এমন একদিন নিজেকে রুখতে না পেরে 
তোমার দিকে ছুটে গিয়ে শুধুমাত্র
 দেখা হবে চোখে চোখে ,
দুজনেই দুজনকে বলবো,
‘কত্ত দিন  দেখা হয় নি’ 
অচিমকা স্টিমারের  বাঁশি সময়এর
রিল গুটিয়ে নিয়ে ফিরে যাবে প্রথাগত 
দূরত্বে ।
এইভাবে যাবে দিনের পর দিন
বছরের  পর   বছর পর হবে ভীষন নিয়ম মেনে ,
আমি ফিরে যাব বারংবার তোমার ঠিকানার বাইরে থেকে ।

তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে
বা হয়ত জানা যাবে না,
যে তোমার সঙ্গে আমার
অথবা আমার সঙ্গে তোমার
আর দেখা হবে না।
হয়তো বা সাংকেতিক কোন হাওয়ায় থাকবে
মন কেমন ,  হয়তো বা অহেতুক  ঝির ঝির 
বৃষ্টি শহর জুড়ে , আর তুমি লিখে ফেলবে মন খারাপের এক গুচ্ছ অক্ষর পুঞ্জ দিয়ে তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা গুলো ।

শেষ বাজি

আমার শেষ বাজিটায় সর্বস্ব গচ্ছিত রাখলাম, 
মুখোমুখি রক্তাক্ত হৃদয়,  জ্বলন্ত চেতনা কাঠ, 
সামনে পেছনে সুখ দুঃখের  তিরিশোর্ধ চাপা ব্যার্থতা নিয়ে রাখলাম শেষ বাজিটায়, 
দুরবিনের কাঁচ ভাঙা টুকরোর লেগে সমস্ত ফেলে আসা পায়ের চিহ্ন,  বন্ধুকের নলের মুখে আমার শেষ সারির নিশ্বাসের ওঠা নামা বুক,  
........টালমাটাল খাওয়া রক্ত বহতা ধমনী,  শেষ বাজির গ্যালপে খিমচে রাখা আমার একান্ত শৈশব,  যৌবন। 
আজ অবধি প্রতিটা বাজির ভরাডুবির সময় বয়ে যাওয়া গঙ্গার বুকে নিজের শবে  পেট্রল ঢালা আগুন  দেখা আছে....   তাই ডাইনে বাঁয়ে সামাল রাখতে রাখতে মাথা তুলে দেখা হয়নি সূর্যভোর, 

বরাবর আমার আস্তিনে লুকোনো ধারালো অস্ত্র 
ওঁৎ পেতে থেকেছে,  আজ শেষ বার শেষ ঘোড়ার চাল যার ওপর আমার নিঃসৃত সমস্ত বাজি রেখেছি।                         
    

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

জরুরী

সাদা খই ঢেকে যায় আজকাল বেঁচে থাকার অভিনয়ে ,  ভাবছি পালটে ফেলা কতটা কঠিন ,
ঠিক ততটা যতটা প্রিয় সম্পর্কের শব্ কাঁধে বয়ে বেড়ানো ,  ঠিক ততটা যতটা রোজ রোজ মিথ্যের সাথে সহবাসে দেহ বিলানো , ঠিক ততটা যতটা অযাচিত জন্মর মুখ দেখে প্রতি সকালে নিজেকে চরম প্রতারক হিসেবে সহ্য করা ।
বহুদিন আগে মরে যাওয়া দৃশ্য গুলোর বুকে যে বীজ বপন হয়েছিল ...... আমাদের ভেতর এখন
মহীরুহ আর মরে যাওয়া দৃশ্য গুলো শাখা প্রশাখা মেলে যেন এক একটা প্রেতাত্মা হয়ে গিলছে রোজ রোজ ,।
ভাবছি পালটে ফেলা কতটা জরুরী যতটা ফুরোনো প্রেমের খড়কুটো ঝেড়ে  চলো বদলাই  বলে এগিয়ে যাওয়া , ততটা জরুরী যতটা সহবাসে একটিও মিথ্যে কে প্রবেশ করতে না দেওয়া , ঠিক ততটাই জরুরী   যতোটা  নিজের এপিটাফে যেমন প্রতিটা সত্যি পরিচয় লেখা ।

আপনাদের পরিচয়

যে মেয়েকে জ্যান্ত রাখা মুশকিল ছিল তাকে পুড়িয়ে দিলে কার কি ক্ষতি ...কি হে প্রতিবাদী মশাই আপনি কি এই খবর টা পেয়ে এক বেলা ভাত মুখে তুলতে পারেননি আপনার কি নিজের কন্যা সন্তান এর মুখটা ভেসে উঠেছিল একবারের জন্যও , 
জানি এসব আপনার কিছুই হয়নি  ,আরে মশাই আপনি তো সেই  মানুষটা  যে ধর্ষক এর সারিতেই
প্রথম থেকে দাঁড়িয়ে... কেবল মানতে চান না ,
মানতে না চেয়ে পুরুষ অঙ্গের বদলে কলমে ধার দিয়ে খস খস করে লিখে ফেলেন প্রতিবাদী কলাম  আর তাতে নপুংসক সরকার বলে অজুহাত দেখানোর আঙ্গুল সংখ্যা বাড়ে  দুচারটে,
আসলে আপনিও জানেন এসবে অদ্যপ্রান্ত সমাজ বদলাবে না বিন্দুমাত্র , আপনারা মিটিং করবেন মিছিল করবেন  ধর্ষিতা কে নিয়ে প্রতিবাদী  ধিক্কার কবিতা পাঠ হবে যত্রতত্র  .......তাতে কাঁচকলা ,
বরং এই আপনাদের মত শো কল ভালো মানুষের ছায়ার  আড়ালে বান্ডিল বান্ডিল পৌরুষ ফলানো থাবা গুলো গুঁজে রাখা যত্ন করে ।
এসব প্রতিবাদী  খবরের শিরোনাম  লেখা -জোখা সব কেবল তরুণী কিংবা ধর্ষিতা বালিকা, প্রৌঢ়া, এক কথায়  নারী মাংস ঢিমে আঁচে পুড়িয়ে স্বাদ আস্বাদন করা ছাড়া কিছুই নয় ।
তাই শুনে রাখুন হে প্রতিবাদী মশাই   আপনাদের ওই প্রতিবাদী কবিতা ,খবর , মিটিং ,মিছিলে  আমার তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই ,মাথাব্যথা নেই যেকোনো রকম প্রতিবাদী সৃষ্টি ও পাঠে ,
কারণ আমি কবি নই ,পাঠক নই ,শ্রোতা নই ,দর্শক নই , আমি সে   যে আপনাদের এই সমাজের সিস্টেম এর কাছে রোজ রোজ ধর্ষিত হই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে  , আপনাদের যুযু যুযু কোনো প্রতিবাদ আমাকে ধর্ষিত হতে বাঁচাতে পারেনি  আর আগামীতে সে সাহস আপনারা দেখবেন না ,
আসলে রুখে দাঁড়াতে গেলে স্খলিত করতে হয় এই বেশ ভালো আছির দেওয়াল , কিংবা আপনার মনে হতেই পারে আমার কি একার দায় ? তাই আমির পরিচয় কন্যা, স্ত্রী, বান্ধবী, বোন, মা , কাকিমা , বৌদি  না হয়ে কেবল ধর্ষিতা বা নারী শরীর , আর আপনারা মশাই সব্বাই  আমার উলটো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা .......।

পায়ের শব্দ অচেনা

যুবকটি গভীর ঘুমের মধ্যে বেঁচে থাকে তার স্বপ্নে
এক দল সাদা ঘোড়া কেশর ফুলিয়ে দৌড়ে পর হয় জীবন , ঘোড়ার পায়ের ছাপ অজস্র যোজন শব্দ রহস্য ওড়নার মত জমাচ্ছে কুয়াশা ......... যুবকটি
ঘুমের গভীরে সংসার সাজাচ্ছে আনমনে ।
আমি যুবক টির ঘুম সন্তপর্নে  আগলে রাজকাহিনীর স্বপ্ন গুলো স্পর্শ করতে চেয়েছি বহুবার ,  কি কিছুতেই সে তার আদুরে বেড়ালগুলোকে এক মুহূর্ত হাতছাড়া করতে পারেনি , বিছানার পাশে পড়ে থাকা সাদা কোজাগরী কখন যেন পক্ষ বদল করে ফেলে ।
চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসে এই কলকাতার মন মানি বৃষ্টির ঝাঁটে শুধু নয়  ,তাকে যে বারংবার ঈশানি মেঘেদের থেকে দূরে নিয়ে যেতে চেয়েছি  ,
যুবকটি  গভীর ঘুমে কেবল  দিস্তা দিস্তা মন খারাপ লিখে গেছে .........সামান্য কিছু হিসেব বদলাতে ভয় তার  ,
শুধু সে চিনলো না চোখ  ,সে চেনে না আঁচলে উড়তে থাকা সব কটি জলের দাগ বৃষ্টি ফোঁটা ছিল না ..........।