মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বংসহা

সে স্বপ্ন দেখে , সে ঘুম ভাঙা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভোরের আলোর আলিঙ্গন নেয় ,
ইচ্ছা বোনে মনের সুতোয় ,
২ 
উনুনে বয়েসে হাঁড়িতে ভাত চাপায় ,
 জন্ম দেয় আগামীর জন্য প্রতিদিন যাপন ,
আকাশ এসে উঁকি দেয় হিজল গাছের পাতার
আড়াল থেকে , মুখ ফিরিয়ে 
নেয় সে , 
মৌনতায় কেটে যায় বছর পনেরো ,
নীলকণ্ঠ পাখি দক্ষিণ এর উঠোনে আসে একদিন ,
তার মনে দিকে শিস দিয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো বাসন্তী রং
ছড়িয়ে দেয় ,
একদিন যায় , দুদিন যায় .....মাস পেরিয়ে যায়
 নীলকণ্ঠ পাখিটা রং ছড়াতে থাকে নিয়ম করে ,
 এক সর্বনাশী দুপুরে সে মুখ তুলে  পাপ দেখে 
দেখে নিয়ম ভাঙা নীলকণ্ঠ পাখিটার মায়া চোখ ,
আকন্ঠ বিষ পান করে সে ,
শেকল ছিঁড়ে দৌঁড়ে যায় ভালোবাসা খুঁজতে 
মৃত্যুর হাতছানিতে আশ্রয় নেয় ,
খেলা জমে যায় পাশায় জিতে যায় নীলকণ্ঠ
পাখি , 
আগুনে মন পুড়ে যায় ....জ্বালা ,যন্ত্রনায় 
মুক্তি ভুলে যায় ,
মৃত্যুর পর নিঃশ্বাস যে অসহ্য লাগে সে প্রথম
বুঝেছিল ,
 নীলকণ্ঠ পাখিটা অনিয়মিত হয়ে নতুন নিয়মে
অন্য চিলেকোঠা পাশা পেতে বসে , 
বুকের নিজে জমতে থাকে একসাথে শব্দ আর জল , কেউ খবর রাখে না , 
অবহেলা না গভীরতা বুঝে উঠতে পারে না সে ,
উপচে পড়া আর্তি নিয়ে এক দিন অফিস ফেরতা
সে ঠিকানা ভুলে যায় ,
সকালের তাজা খবরে জানা যায় একটা বিচর5 বত্রিশের মহিলার থ্যেতলে যাওয়া শান্ত দেহ শহরের বড় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে 
মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ,
যে মুক্তির জন্য সে আকাশ দেখতো ....
আসলে সে মুক্তির আর ভালোবাসা খুঁজতে খুঁজতে
নিজের হত্যাকারী নীলকণ্ঠ পাখিটার  চোখে 
চোখ রেখেছিল ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন