জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২
তিনপাত্তির জীবন
মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২
সই(৭০)
সই (৬৯)
বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২
সম্পর্ক
মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২
সই(৬৪)
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২২
প্রথম ও শেষ
জীবনের কাছে যাকিছু প্রথম অনুভূতি তার স্পর্শে পুঁজির গাঁথনি বোনে সময়,
পাওয়া না পাওয়ার বাঁধন কখনো কখনো আঁকড়ে ধরে বুকের কলজেটাকে।
কিছু না নিয়ে এসেও অচেনা কেউ মোহের গিঁট পরতে পরতে বেঁধে দেয় সুতোয়।
চোখের নদীতে কখনো কোজাগরী, কখনো ঘর ভাঙা উজানে ফুঁপিয়ে ওঠে ভাসমান তরঙ্গ।
আয়োজনের পরে স্মৃতি , অভিমান, কিংবা নিছকই শখের শব্দ-কোষ হাসায় কাঁদায়,
কখনো জন্ম জঠর, কখনো বন্ধু ,কখনো প্রেম ,কখনো সুখ,
সব যেন ভীষণ সম্পর্কের সুখ আর অসুখের নকশীকাঁথা ।
খিদে ,তৃষ্ণা ,ক্ষত , প্রেম, শোক, প্রিয়জন ,প্রিয়মুখ প্রয়োজন সব ভুলতে হয় উপন্যাসের শেষে রাখা উপসংহারে,
মৃত্যু জাজিমের বুননকৌশল কেবল স্পর্শ অনুভূতি এফোঁড় ওফোঁড় করে এ যেন পাতা জুড়ে এক বিশাল সিঁড়ি ভাঙা অংক।
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২
মহেন্দ্রক্ষন
শব্দেরা ঘুমিয়ে পড়লে বুকের ব্যারিকেড ভেঙে উত্তরে শীত হাওয়া প্রশ্রয় পায়,
ইচ্ছাবাড়ির দেহাতি স্বপ্নেরা তখন হয়তোবা লাগামহীন, তারা বোঝে না সুনীল বাবু তিস্তার বুকে ভাসতে ভাসতে লিখে গেছে আসলে কারন ছাড়া কেউ স্রেফ কথা রাখার জন্যে সারা জীবন পাশে থাকে না।
আসলে সবার উঠোনে সাঁঝবাতি জ্বলবে এমনটা নয়,
কিংবা সব শীত সকালে চটকানো সূর্য টা উত্তাপ দেবে এমনটা নাই বা হোতে পারে।
তবু চলতি কা নাম গাড়ি যেহেতু সেহেতু সে গাড়ির একটা ছই থাকে কখনো সখনো,
আর কখনো সখনো সে ছই বড় শান্তির সে ছই এর বুকে মুখ গুঁজে আর কোন দুনিয়াদারী কেনাবেচা দরকার হয় না।
বুকের মাঝে আকুতি থেমে যায়... ভায়োলিন এর সুর যেন সব পেয়েছির সিম্ফনীতে পরিপূর্ণতা পায়
...করণীয় ভাবনারা শূন্যে অবস্থান করে মুহুর্তে,,
বেঁচে থাকায় ছায়ার মত লেগে থাকা অপেক্ষাগুলো মুক্তির আকাশে আনন্দ উতসবে হারিয়ে যায়।
গল্পের উপসংহারে একটা শান্ত তৃপ্তি সমস্ত স্বার্থ, চালাকি, একাকিত্ব, পাওয়া না পাওয়ার যতি মুছে দেয় শেষ মেষ
প্রশ্নেরা চিহ্ন হারায়, শব্দেরা ধ্যানমগ্ন হয়,
আর সে মুহুর্তের নাম মহেন্দ্রক্ষন।
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২
প্র যত্নে আয়োজন
প্রযত্নে আয়োজন
সই
.....
সব ফুরিয়ে যাওয়ার উপসংহারে
যেতে যেতে চরিত্রেরা একটা ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে শেষ মেষ ।
পিছনে ফিরে তাকালে সত্যি মিথ্যের যতিচিহ্ন ছায়ার মত লেগে থাকে।
অনবদ্য দিনলিপির একটা খসড়া থাকে প্রত্যেকের কাছে
অথচ সবটাই নতুন অজানা সামনে রাখা অধ্যায়,,
জীবন প্রয়োজনীয় আয়োজনে প্রিয়জনের তালিকা তৈরি করে।
আর তারপর কোনো এক তারিখে পাশা পাল্টে বুকের ভেতোর মুহুর্ত গুলো কলজেটাকে নাগপাশে বন্দি করে না দেয় মরতে না দেয় বেঁচে থাকতে।
শব্দ মহলে বর্নদের ইটের দেয়াল বুনে মানুষের সম্পর্ক আর সে সম্পর্কের ঘরেও ভালবাসা একলা কাঁদে।
বিশ্বাস ভাংচুর , হাতে হাত রেখে কথারা ঠুনকো কাঁচের মত আলুথালু ছড়িয়ে ছিটিয়ে অচেনা সে কাঁচে নিজেকে রক্তাক্ত দেখেও হাসি পায়, যেন নিজেই নিজের ধ্বংস দেখে উৎসব উজ্জাপনে মাতাল।
একটা দ্রোহের কাছে একটা দহন মিলেমিশে বাঁচে শেষমেষ।
আসলে এ পৃথিবীতে সব আয়োজন প্রয়োজন মেপেই চিরকাল
মানুষের চোখের পাতায় আজও যে স্বপ্নের বাস সে স্বপ্নে ঈশ্বরের আধিপত্য চিরকাল ,
বুঝি না ঈশ্বরের আর শয়তান কি একই কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ!
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২
অভিশপ্ত ঈশ্বর
গাছেদের সমীকরণ
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২
দিনলিপি
সেদিনের গল্প আজকের মত নয়
বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২
সই(৬৩)
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২
মন কথা (১)
সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২
ঘর বাঁধতে শেখা
সময়ের স্বাদকারক বুঝে ফেলে সব রকম কথাদের
একলা কোনো বিরহী অভিমান বোঝে ... সামান্যই হোক তবু থাকুক নিষ্ঠার স্পর্শ,
এভাবেই বয়স যখন ষোলো কিংবা বয়স যখন পরিযায়ী পাখির মত চেনা কালো পরীর হ্রদ ছুঁয়ে দূর কোনো সফরের পথে
শহরের সোয়েটারের সাথে ওম তখনও প্রয়োজন ঠিক প্রিয়জনের মতই ।
সময়ের বোঝা সময়ই পিঠে বেঁধে নেয়
শিরায় প্রবাহিত তরলে নানান ক্ষিদে প্রথম বসন্তে ও শেষ বসন্তে থেকেই যায় শুধু সে ক্ষিদের ধরন পালটে দেয় স্থান, কাল।
প্রতিক্ষা কে মুক্তি দিতে শিখলেই পর মুহুর্ত নতুন সূর্যদয় দেখে জীবন,
আর সময়কে স্বাগতম জানালেই একটা আবিষ্কারের সামনে দাঁড়ানো যায় ।
তখন ভালবাসা মানে মুক্তি লেখা আকাশ
তখন চায়ের কাপের ওমে নিজেকে নিবিড় করে চাওয়া একটা নিজস্ব অনুভূতি যেন চিরন্তন।
তখন পাখিরা রুপকথার গান গাওয়া শিখে নেয়।
আসলে যে টুকু যেমন সেটুকু অপরিবর্তিত রেখে নিতে জানা শিখে নিতে হয় নিজস্ব তথাগতর কাছ থেকে সকাল বেলাতেই।
দিনের প্রহরে প্রহরে শব্দ জব্দে জন্ম মৃত্যু সবই লুকোনো থাকে... লুকোনো থাকে যুদ্ধ হার জিত
তবুও এ শহর এভাবে দারুন বেঁচে থাকতে শিখে নেয় ,এ শহর বাঁচতে চাওয়াকে শুভেচ্ছা জানায় স্বার্থহীন হয়ে।
এ শহর জিশুর ক্রুসবিদ্ধ পট সামনে রেখেও মৃত্যু না বেঁচে থাকার উৎসব পালন করে।
সই(62)
রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২
জন্ম ও মৃত্যু
উপসংহারে
তোমার প্রশ্নের জন্যে
রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
মা
শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
সুখি অহংকার
বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
তফাৎ
বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২
আরশি নগরের পথে
পথ
ক্রমশ এগিয়ে যাবে সময়
শিখর চূড়ায় দাঁড়াতে হবে একদিন
ভালো মন্দের বিচার মন ও মস্তিষ্ক ছুঁতে পারবে না তখন।
সূর্যের চলে যাওয়ায় রাত আসবে
অন্ধকারে খোলস খুলে মন ফিরে যেতে চাইবে
একান্ত নাভিশ্বাস সাক্ষী রেখে পুরোনো শৈশবের সকালে
খুঁজে ফিরতে চাইবে সময়ের হাত ধরে হাঁটা সেই চৌরাস্তায় হেসে ওঠা ছেলে বেলার অবয়বটা ,
সময়ের আগমনী গান আর
বিসর্জন জন্ম নাভি বিন্দুতে জমানো থাকবে শেষ পর্যন্ত।
একটা বিন্দু ছুঁয়ে মানুষ জীবন প্রদক্ষিণ করে
যেখানে সবকিছু আলগা হয়েও মুক্তির একটা নির্দিষ্ট তারিখেই লেখা থাকে,,
জীবনের আলনায় ঝোলানো হাজারো বায়নাবিলাসী ইচ্ছা পাট খোলা ভাঁজ ভাঙা থাকবেই।
মন বাড়ির বাইরে সাজানো বাগান ,সূর্যর সাত রঙ মেখে ফুলেরা আসে আবার মিলিয়ে যায়,
মুহূর্ত পাহাড়ের উচ্চতা ছাপিয়ে লিখে রাখে দিনলিপি
প্রতিটা ভেঙে যাওয়ায় হাওয়ায় ভরি হয়
প্রতিবার ইঁটের পিঠে ইঁট সাজিয়ে
ইমারত আকাশকে জানায় অস্তিত্বের ইমান ঠুনকো নয় ।
তাই তারিখের আগে জীবনফর্মা শেষে হয় না কখনো।
বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
অস্তিত্ব
অস্বস্তি
জন্ম ও মৃত্যু আসলে একটা সময় এর শুরুয়াত কিংবা শেষ,
এখানে কেউ স্বপ্ন দেখা শেখে না, স্বপ্নর ইঁট বানানো শেখে,
শেখে মাটি আঁকড়ে থাকার সংকল্প থেকে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পরমত্ব।
জন্ম মানে কিছু নিশ্বাসের হিসেবে মেপে নেওয়া ক্লোরোফিল
আর সোনালী কাব্য জড়িয়ে পাথরের ওপর নকশা গড়ে নেওয়াও হতেই পারে।
তবু জন্মের দায়িত্বের ভেতোর মায়া, মোহ, ভালবাসা, ঘৃণা, প্রশ্রয় , আশ্রয় , দঁড়িয়ে থাকে ঠিক নেমেসিস এর মতোই,
আর জীবন যতিচিহ্ন গুলো বড় গোলমেলে ... এখানে উত্তরের মতো প্রশ্ন আর প্রশ্নের মতোই সব উত্তরেরা,
সময়ের ঘরে ক্ষত আর ক্ষতি লাভ ও লাভবান একইসাথে সহবাসী... যেন কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ
পোয়াতি মেঘের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা জলের ফোঁটাকেও বন্যার অপবাদ মেনে নিতে হয় আঁতুড়ঘর পেরিয়ে।
অন্ধকার সময়ও চোখ খুলে রাখে এক ছটাক আলোর খোঁজে,
আর মুহুর্ত মুঠো থেকে কিভাবে যেন নিরুদ্দেশে হারিয়ে যায়।
একটা কোপাই নদী হাতছানি দেয় নিষ্ঠাবান একা হবার
একা বাউলের একতারায় প্রেম
গেয়ে ওঠে "আমি আকাশে রোদের দেশে ভেসে ভেসে বেড়াই মেঘের পাহাড় চড়ো তুমি "।
জন্ম ঘর থেকে মৃত্যুর ঘর আসলে একটা সময়- বন্ধনী আর পথে বারংবার কোনো না কোনো পথিকের যাওয়া আসা,
আমরা সকলেই সময়ের ঘরে এক একটা মুহুর্ত -গুচ্ছ মাত্র,
জন্ম মৃত্যু আর অপেক্ষা একটা বিলীন হয়ে যাওয়া সময়ের।
বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২
সফর
সময় ভুল নয় নয়, ঈশ্বর কিংবা প্রেম কোনটা ভুল কে বলবে!
হাতের ওপর হাতের রেখা মিশিয়ে একটা প্রসস্থ পথ...
সেও ভুল নয়।
সমস্ত প্রত্যাবর্তনের গহীনে আসলে একটা না বলা গল্প থাকে সময়ের ফাটলে মুখ গুঁজে, সে গল্প বা গল্পের চরিত্র কখনো বা বরফ-যুগ হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস হয়ে যায়।
এ সফরে কেউ কারো অবসর কিংবা ভাবনা চুরি করেনা অকারণে,
আসলে...
কিছু প্রশ্রয় জীবন শৈলীতে অজান্তেই অভ্যাস হয়ে যায়,
আর শহর, ঘর, পথ সেই অভ্যেসে সামিল হয়ে যায় আজানা নিয়ন্ত্রণেই।
এরপর কেউ কেউ হয়তো সহজ ভাবে নিজস্ব শিরদাঁড়া বিক্রি করবে বলে মোমের আগুনে মৃত্যু কিনতে চায়।
তবে মৃত্যুর সামনে গিয়ে দাড়ানো ততটা সহজ নয়... মৃত্যু পথ কেবলই খেলনাবাটির সফরও নয়।
জীবন কে ভালবেসে বহু বেঁচে থাকা গোপন কারনে নিলামে দাঁড়ায়
আর জীবনই আবার অবাক দৃষ্টিতে সে নিলামিও দেখে,
তবে এ পৃথিবীতে আসল কলজে কোনো বাজারেই
বিক্রি হয় না কোনোকালেই. .. যাকিছু সহজলভ্য অসম্পৃক্ত তা হয়তো বাজারি চিরকাল।
পরে পাওয়া চোদ্দআনার দাম ঈশ্বর ছাড়াও একমাত্র অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা খিদেটা জানে।
তবু সোনার থালায় খিদে মেটানো রাজাও অভাব পুষে রাখে নিয়মের বাঁধনে।
আর সময় বলে আমি খেলাটার দান চেলে রেখেছি, পথ, প্রাসাদ ও মঞ্চ দুই তৈরি তুমি কেবল একটা সাজানো কাঠের কাঠামো যে কিনা ঈশ্বরত্বে পাওয়ার নেশায় মশগুল।
তোমার তাসের ঘর, তোমার জতুগৃহ, তোমার মৃত্যু জাজিম সব বুনিয়ে নিচ্ছে সময়, অথচ এই আমি শব্দটা
সময়ের এই খেলাটা কখনো বুঝতে চায় না
জীবন যে কেবল তিনপাত্তির খেলাটুকু নয়...
মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
কাহিনী
তুমি লিখছো কাহিনী, কেউ শুনছে কাহিনী,
আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা স্বপ্ন -বাড়ি
নীড় ছোটো তবু হৃদয়ের ঘরন্দা অসীম।
ঘরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তোমার সাজানো গল্প,
সে গল্পে হাতা খুন্তির সাথে সাজানো পটে প্রতিটা চরিত্র
আত্মীয়হীন।
.
জীবন কখনো নিজে থেকে স্পর্শ দেয় না
সব কিছুর মুল্য সে নিয়ে নেয় চুক্তি থেকে মুক্তি অবধি,,
কৃষ্ণ পার্থ কে তবু বলে যায় সামনে বাঁচতে চাওয়া প্রতিটা সম্পর্ক আসলে মৃত।
একটা সুতোর এপার আর ওপার... তুমিও বোধহয় একদিন ঈশ্বর হতেই চেয়েছিলে তাই,
অথচ তোমার গল্পে তুমিই শয়তান সাব্যস্ত শেষমেশ ।
.
অজানা কেউ গল্পের শেষটুকু লিখলো একদিন
সে গল্পে নাম বদলে দিলো
সে শয়তান থেকে আবার ঈশ্বর হয়ে ওঠার প্রার্থনা রাখলো
ফসল ফলাতে চাইলো প্রথম কার্তিকের ভোরের বুকে।
তবু হত্যাকারী বদলে যায়নি
তবু প্রেমের নামে প্রতারণা ফুরিয়ে গেলো না।
তবু একশ চার সপ্তাহে অক্ষত রইল সমস্ত ক্ষত আর রক্ত ক্ষরনের প্রবাহ পথ।
তুমি লিখছো কাহিনী ... কেউ শুনছে কাহিনী
আবারও মেঘেদের ঘরে ডাকাত করলো চুরি
আসমানী রঙ আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা স্বপ্ন -বাড়ি
শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২
অন্য শহর
অন্য শহর
... সই
.
ঘোড়া কিংবা ইদুর যে কোনো একটা দৌড়ে সামিল
এই শহর, কিছু নিয়মিত নিয়মে গচ্ছিত রাখা নিয়মের ভাংচুর।
আয়নার সামনে সাজিয়ে রাখা বোঝাপড়ার চালচিত্র,
অথচ কোন কোন সফরের মাঝেই আচমকা দেখা মেলে প্রাক্তন গল্পের সাথে, থমকে যায় মুহুর্ত যেন জীবন গো-স্ট্যাচুর খেলার ময়দানে,
অনুভূতির জলে কে যেন একের পর এক পাথর ছুড়ে তরংগে কাঁপুনি এঁকে দেয় তিব্রতার সাথে।
.অন্তরমহলে হাত পা ছুড়ে অধিকার জানাতে চায় কারা যেন।
অভিমানি বিকেলে সাঁঝবাতির আলোর প্রয়োজনের হিসেবকেও সময়ের প্রেম বলেই ধরে নিতে হয়,
কিন্তু প্রেমও খোলা জানলার ওপাশে একটা আকাশ খুঁজে হিসেব মিলিয়ে নিতে চায়,
তারপর কোনো এক অন্ধকার পেরোনো ভোরের উঠনে মেঘ আছড়ে পড়ে সবটুকু নিঃস্ব করে।
এ শহর জানে এমন গোপন মর্মকথা।
এ শহরের বুকে দাঁড়ানো কয়েকশো বছরের সবুজ এখন গাড় ও পাকাপোক্ত এ অভ্যেসে ।
.
মানুষ বাঁচার নিশ্বাস কুঁড়িয়ে ফেরে এই পাকাপোক্ত সবুজের কাছে,
মানুষ ভালো থাকতে যে নিয়মে নিজেকে বাঁধে একদিন আবার কোনো নতুন ভালথাকার আবেসে সেই নিয়ম ভাংচুর করে বেরিয়ে আসে ,
চেনা হয়ে যায় অচেনা,
ভুলতে চায় মন রোজকার অভ্যেস...
প্রিয়জন কখন প্রয়োজন ছাড়িয়ে বিরক্তিকর আবর্জনায় ট্রান্সফরমেশন।
মনের ঘরে এলোমেলো ভাবনা জমে... জমে ইচ্ছা রঙে আঁকা অপুর্ন হওয়া ঘরে দেওয়াল বেয়ে অঘ্রানী শিশিরের জল , আর কাঁচের বয়ামে রাখা কিছু বেঁচে থাকার সংকল্প।
এরপর একদিন
ভাগ্য মেনে গংগায় ভাসিয়ে দিতে হয় জল-আহুতি ভেবে
কে কার নীলচোখে সমুদ্র ডুব দিতো এ শহর মনে রাখেনা তারপর ,
কে নিয়মের চৌকাঠ মাড়িয়েই অনিয়মের উৎসবে মাতাল করতে শিখিয়েছিল শহর মনে রাখে না তারপর।
শুধুমাত্র প্রতিটা ভাংগতে থাকা ইমারতের আঘাত বুকে লুকিয়ে রাখে, আর ফিসফিসিয়ে বলে ভেঙে যাওয়া যে ফুরিয়ে যাওয়া নয়
বরং ভেঙে যাওয়া হলো সময়ের আগুনে একটা আহুতি যাকিনা মনে করিয়ে দেয় এই শহরের ভেতরে আরো একটা অন্য শহরকে।
শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২
দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস
বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২
একা থাকতে ইচ্ছে করছে
তোমার সাথে সব কথা হয়তো শেষ .... আমার ভেতর কেউ তবু অনর্গল আমার সাথে মুখোমুখি বকবক করে সারাক্ষণ।
ভীষণ একলা হতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছা করে আমার ভেতর আজীবনের নিস্তব্ধতা এসে ঘর বাঁধুক ,
অথচ শব্দরা প্রতিবাদ করে সে নিস্তব্ধতা গুড়ো করে দেয় নিমেষে
কিছুতেই একা হতে পারি না আমি ,
নিজের সাথে নিজে যে মুহুর্তে ভালো থাকার বন্ধনে বাঁধি... তখনই আমার ভেতর কেউ বকবক করে চলে অসম্ভব চিৎকার করে ,
ইদানিং একালা থাকতে ভালো লাগে ভিষণ অথচ একলা থাকাটা হয় না কিছুতেই।
.
আলোহীন রাস্তা ধরে হাঁটতে ভালো লাগে নিজেই নিজের হাতে হাত রেখে
একা থাকা এক অদ্ভুত নেশায় পেয়েছে... একা কোনো গন্তব্য হীন পথে এগিয়ে যাওয়া এক অ-সুখ আমাকে পেয়েছে।
কবিতার শব্দরা বন্ধনী ছেড়ে একা একা রাত জাগে..
শব্দদের দিন কাটে যেমন বাউল কাটায় প্রহর
তবুও কেন জানি আমার একা থাকা হয় না ।
.
বড় একা ও নিস্তব্ধ থাকতে ইচ্ছে করে আজকাল
চারদেয়ালের ঘরের মেঝে জুড়ে কেউ যেন অজস্র বকবকানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে ।
রেলিং ভর করে রাস্তার দিয়ে তাকিয়ে থাকা সড়কটাকে
বহুদিন... বহুরাত একলা হতে দেখিনি।
রবিঠাকুরের গান কোনো পুর্নিমার একলা রাত পেরিয়ে শুধুই শহরের ভিড়ে রিমিক্স এখন।
বহুদিন একা ফাঁকা বাসের সিটে একলা কোনো স্মৃতি কে আনমনে আকাশ দেখতে দেখিনি ।
এই পৃথিবীর এখনো কোনো একলা থাকার ঋতু আসেনি।
কারনের উৎসব , কারনের অধিকার , কারনে সম্পর্কের মাঝে হাতে হাত আর কারণের কিছু আশ্রয়ে মানুষ একলা থাকতে ভুলে গেছে এখন, কিংবা একলা থাকতে ভয় পায়।
আজকাল ভালোবাসার গলার স্বর শুধু শুনতে ইচ্ছে করে না
আজকাল আমার ভেতোর কার যেন ঠোঁটের নড়াচড়া আর বকবক অনর্গল আমাকে ঝালাপালা করে দেয়
শব্দহীন একটা পৃথিবীর দেখতে ইচ্ছে করে.... ভাল থাকার জন্য নিজের সাথে নিজে একলা থাকা, নিজের সাথে পথ চলা, নিজেকে বুঝে নেওয়া... খুব জরুরী।
তবু পারছি কই একা থাকতে
যেন কেউ অনর্গল ইদানিং আমার ভেতোর শব্দের কারখানায় হাপরে টান দিয়ে চলেছে হাতুড়ি মারছে শব্দ গড়তে।
বড় এক থাকেতে ইচ্ছা করছে ।
একেবারে নিস্তব্ধতা একা আলোহীন হয়ে নিজের ভেতোরে একা থাকতে ইচ্ছে করছে।
.
“
বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
জীবন সংলাপ
মানুষ কখনো না কখনো নিজের ভেতরের দরজাটায় গিয়ে দাঁড়ায়
দরজা খুলে দেখে কিছু অনুভূতি হয়তোবা সময়ের আলনায় পাট করে সাজানো আছে
কিংবা সম্পর্কের অনেকগুলো বন্ধ জানলা অন্ধকার ঘরের ভেতর বানানো ,
সময়ের পরতে মোড়া মানুষগুলো ঋতু পরিবর্তন মেনে চলা জানে বলেই
গ্রীষ্মের প্রখর রোদ কিংবা বরফ শীতল শীতে আশ্রয় শব্দটার তলায় দাঁড়াতে অভ্যাস করে নেয়।
বর্ষায় ভিজে যাওয়া শরীর দু চোখের অভিযোগ অভিমান লুকিয়ে ফেলে অযথা মেঘের দিকে আঙুল দেখিয়ে।
.
সময়ের আগুনে অগুনিত প্রশ্নের বিলীন যেন সব প্রশ্নেরা উত্তরহীনতার গহীনে হারানো দুয়ার মাত্র।
আসলে জীবন হলো মহাকালের ক্যানভাস
সময়ের কাছে রং ধার করে শিল্পী ছবির মতো করে একটা গল্প আঁকে ,
জীবনের কাছে তাই প্রতিটি বেঁচে থাকার অজস্র প্রশ্ন থাকে,
মানুষগুলো জীবন কাটাতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে।
দেহ শুধুমাত্র ধারক ,
আসল কেউ একজন চিরকালীন জীবন মৃত্যু মাঝে নাটকের সংলাপ লিখেছে
সে শুধু পর্দা ফেলছে আর চরিত্র, স্থান, কাল, বদলে দিতেই ব্যস্ত।
আমরাই তো শুধু কাল্পনিক অস্তিত্ব
আসলে বাস্তব হলো জীবনের গল্পগুলো কেউ আগে থেকেই লিখে রেখেছে
এক একটা মঞ্চের দরজার সামনে এক একটা গল্প,
লুকিয়ে রাখা গল্পেরাও বন্ধ মঞ্চের দরজার
পাল্লায় ধাক্কা দিয়ে খুলে আলোর সামনে দাঁড়ায়,
আসলে বন্ধ কিংবা বন্দি গল্পেরাও জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখতে চায়
জীবন সংলাপে তাদেরও যে ভুমিকা আছে সেটা চিৎকার করে পৃথিবীর কাছে জানিয়ে দিতে চায়।
মৃত্যু একটা পরিবর্তন
.
দেহের সৎকারে নাভির বিলীন হয়নি
তবু জন্মের আঁতুড়ঘর থেকে অনেকদুরে কোথাও হারিয়ে যেতে হবে সব নক্ষত্রকে একে একে।
কাগুজে পরিচয় পত্রের জন্ম লিখে রাখে পৃথিবীর ইতিহাস।
শরীরের ঘর, মনের ঘর, সামাজিক ঘর... যেন ঘিঞ্জি বসতি সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে।
সূর্য ঘুমিয়ে গেলেই নিজস্ব কুপির আলো জ্বালিয়ে জীবনকে সেঁকে নিতে হয় রাতভর,
. মানুষের মনের আকাশের অজস্র চরিত্রের মেঘ ভেসে বেড়ায়, তবু এক মুহুর্ত সময়ের গতিপথ থামে না
সময়ের রাজার চুলের রঙ ফ্যাকাসে হয় প্রতি বসন্তের আগেই,
শীত-কাঁপন এর তিব্রতাও বছরের সংখ্যা আকাশমুখি ক্রমশ।
মানুষ নিজের কবিতায় নিজেই রাজা থেকে ভিখারি সাজে রোজ নানান মঞ্চে।
সমুদ্র সফেনে হারিয়ে যায় প্রিয় মুখ, চোখের উপকূল জুড়ে
ছড়িয়ে থাকে চেনা অচেনা পায়ের চিহ্ন,
.
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ঝাঁকড়া গাছটা কি করে যেন একরকম বিস্ময়কর ক্ষমতায় ভালো থাকা শিখে নিয়েছে,
মানুষের ভিড়ে গাছটার খোঁজ স্বতন্ত্র, তার সবুজে বেঁচে থাকার কবিতা অনন্ত,
আসলে গাছ, আকাশ, মৃত্যু শব্দটা যতটা সত্যি মানে
তার থেকেও সত্যি মানে... বাঁচা মানে প্রতিটা নিশ্বাসে একটা উজ্জ্বল উজ্জাপন,
মানে মৃত্যুর একটা পরিবর্তন মাত্র।
শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২
দৃষ্টিকোন
চাঁদের আলো কুড়িয়ে নিয়ে জ্বালাই আগুন
অন্ধকার রাজপথে উজ্বল বেঁচে থাকার ব্যাস্ততা খোঁজে
পথ ও পথিক দুজনেই একলা।
বাঁচার ইস্তেহার ,ঝকঝকে হাসি বিক্রি করে শহর
বাঁচার বিশ্লেষণ নিয়ে রাত রঙিন করতে চেস্টা করে শো-কল স্ট্যাটাস।
সময় মাফিক শহরের আকাশে মেঘের আড়ালে চাঁদ জড়িয়ে নেয় প্রেম
অনেকটা মীরার নিরব ভালবাসার মতো মনে হয় এই আকাশী গল্পটা।
.
রাজপথ ঘেঁষা চায়ের দোকান
অকারণের মোড়কে কারন সাজিয়ে নেওয়া মাটির ভাঁড় লুটোপুটি খায় সম্পর্কে জাগলিং ফস্কে গিয়ে,
চমকে পিছন ফিরে তাকায় একটা সময়
একটা মৃত্যু বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড জুড়ে ভয় ছুড়ে দেয় আচমকা হিমেল ঝোড়ো হাওয়ার মতো
নির্ঘুম রাতে মনেরই বারান্দায় অকারণে চাঁদের আলোয় পুড়তে থাকে মন নিজেই
একটার পর একটা সম্পর্ক পুড়েছে সময়ের চিতায় ।
.
আমরা কখনো কখনো দুঃখের কারন খুঁজি বিলাসি মনের খোরাকী হিসেবে
সুখী জীবনের আড়ালে বিরহী শব্দের সোয়েটার বুনতে বুনতে
ভালবাসাটা যেন অভ্যাস করে ফেলি কখনো কখনো ,,,
জীবনের গতিকাঁটায় ৮০ কিংবা ১০০ যাইহোক না কেনো ,
আমরা প্রত্যেকে নিজেদের সাথেই নিজেরা
একটা রেসের মাঠের ছুটে বেড়াই ,
গতি বাড়ে ,জীবনের স্পটলাইট খুঁজে চলে গন্তব্য
মুহুর্ত এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বেঁচে থাকার ইস্তেহারের সামনে
একটা অচেনা হাসি খুব লোভি করে দেয় মুহুর্তে দাঁড়িয়ে থাকা মন ও মস্তিষ্ককে।
চোখের জল মুছে নিয়ে ইস্তেহারি হাসিটার আবেশে আরো এক মুহুর্ত হেসে উঠে বলে
আমিও তো ভালো আছি... আমিও যে ভালো থাকি... আমিও যে সকালের আলো ও রাত্রির অন্ধকারের মতই রোজ নিজেকে ভাঙি
আবারও নতুনভাবে গড়ি আবিষ্কার করি।
সবকিছু নান্দনিক
শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
সুকুমার রায়
মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২
সই(৬১)
রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২
মন খারাপ একটা শব্দ মাত্র
আজকাল আগের মত মন খারাপ হয় না,
প্রথম কার্তিকের হিমেল আমেজে এখন এক ওমে বহুদিন নেই আমি ,তুমি
বৈশাখী রোদ্দুরে কিংবা ভরা পোয়াতি শ্রাবণের বর্ষনে কখনো আমি ,তুমি এক ছাতায়
পাহাড়ি ঝর্নার খুব পাশেই খোলা বারান্দায় গরম চায়ের কাপে কখনো আমি, তুমি পরম উত্তাপে মিশে
হয়তো আকাশের বাইরে সিঁড়ি বেয়ে এখন আমাদের প্রাক্তনী সুর বাজে সারেংগিতে
তখনও মন খারাপ হয় না আর।
.
মনখারাপী মেঘের গায়ে সত্যি সত্যি অতীতের ফোটোফ্রেম গুলো বড্ড জরাজীর্ণ
জরাজীর্ণ অতীত একলা শীত রাতের মত রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়,
আসলে কিছু সম্পর্ক যখন থাকে খুব কাছে থেকে যত্ন করে
তখন সেটা কেমন যেন প্রিয়জন না প্রয়োজন হয়েই থেকে যায় ,
প্রয়োজনের বাইরে বাঁচাগুলোয় কোনো সুর তাল লয়ের দরকার হয় কি না জানা নেই ।
এই সংসারে দরকার ছাড়া কেউ কারো কাছে ও পাশে থাকে না।
.গভীরে এসব ভেবেও দীর্ঘশ্বাস কিংবা মনখারাপ কিছুই কেন হয় না আজকাল আগের মত জানি না।
পাখির মত সময়ের সাথে বদলে ফেলা যায় মনের ঠিকানা,
সুতোর বুনন দেহ রাখে সময়ের স্রোতে মানুষের মনখারাপ হয় শেষকৃত সেরে আয়নায় নিজের বদলে যাওয়া চেহারার মুখোমুখি হতে গিয়ে।
স্টেশনের শেষ ট্রেনে অসহায় অপেক্ষা সময়ের দুরত্বের মাইল ফলকে হারিয়ে যায়
তাই ভালবাসা মরে যায় একদিন
তাই একলা দিনে ঝড়ের মতো স্মৃতি এলোমেলো হয়ে বিস্মৃতির অতলে চাপা পড়ে যায় মানুষের অজান্তেই ,
মনখারাপের কবিতায় নতুন শব্দের সূর্যদয়ের মতো
কষ্ট ঢেকে যায় আলোয় আলোয় ,
বুকের গভীরে মৃত স্বপ্নেরা মাটি ভালবেসে ফেলে,,
আসলে জীবনটা সত্যি রিলের মতো নয়,
সব শর্টগুলো সবসময় দারুন ভিউয়ার্স পাবে তেমন টা নয়।
কেউ কেউ একটাও লাইক নাও পেতে পারে।
তাই মনখারাপ শব্দটাকে নিয়ে বিশেষ মনখারাপ করার তেমন কিছু নেই।
মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
বাঁচতে চাওয়া একটা অভ্যেস
বাঁচতে চাওয়া কি আসলে একটা অভ্যেস মাত্র?
অভ্যাস ধরে হাঁটতে হাঁটতে
একটা গোটা জীবন পেরিয়ে আসে মানুষ,
সময় মাঝে মধ্যেই অসম মুহূর্ত থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দিতে পারে
সেখানে সময়ের কখনো ক্ষতি হয়না,
বরং বেয়াড়া বিকেলে সেই সব মুহূর্তদের পাশে বসে এক কাপ গরম চায়ের ওমে নিজেকে হাওয়ায় মিশে যেতে দেখতে বেশ লাগে।
যারা মৃত্যুর কথা বলে তারা আসলেই মরে গেছে অনেক আগেই
.
যারা অন্ধকার ঘরে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে ভাবে আহা কি দুঃখ
তাদের দুঃখ কেবলি রবিঠাকুরের কবিতা ও গানের ভেতোর
যারা সাজানো দুঃখে সুখে পাশে থাকবে বলে তারাও আসলে সাজানো মঞ্চের অভিনেতা অভিনেত্রী, পর্দা নামলেই অন্য এক চরিত্রে রূপান্তরিত।
জন্মান্তরের কথায় তাদের অনেক সাজানো গল্প থাকে জলখাবারের প্লেটে , তারা সব সাজানো সোনার তৈরি সে খাবারে খিদে মেটে না সে সম্পর্ক চোখের জল মুছে নেওয়া যায় না ।
বাঁচতে চাওয়াটা আসলে একটা দারুণ সফরের অভ্যেস,
মানুষকে বহুবার অসম মুহূর্ত পথের ধুলোয় খোলা আকাশের নিচে মিশিয়ে দেবে থাকবে না সেখানে
সামান্যতম সমবেদনা ,
আমরা জানি ভিক্ষুকের মানচিত্র লাগে না, লাগে না কখনো কোনো সীমানা তবু তার অন্তরমহলে এক শান্তির মন্দিরে স্থাপিত থাকে গভীর দর্শন ,
কাঁদতে পারে যারা তারা ভালবেসে দুঃখ কেনে নানান কিস্তিতে,
আর নকল হাসতে পারে যারা তারা সুখী দেখাতে চায় এ দুনিয়াকে আসলে তাদের ভেতোরে দারুন প্রেমহীন হাহাকার উপচে পড়ে।
সীমাহীন গন্ডির বাইরে কিছু স্থবির অস্তিত্ব
হাত পা ছড়িয়ে ঘুমোতে থাকে,
বেঁচে থাকে বেঁচে থাকার অভ্যেসে
কারণ সেই সব আসম মুহূর্তদের পাশে বসেও
তারা মৃত্যুর কথা না ভেবে বেঁচে থাকার অভ্যাসকে রপ্ত করে নিতে থাকে বারংবার।
দিন পেরোচ্ছে
দিন পেরোচ্ছে, আবার নতুন আকাশ দেখতে পাচ্ছে মেয়েটা
ঝকঝকে সকালে সাদা খাতায় তার সূর্যদয় আঁকা আবারো সে শিখে ফেলছে
লক্ষী মেয়ের ট্যাগ সরিয়ে অলক্ষীর নেমপ্লেট মেয়েটার দরজায়,
অলক্ষীতেই বিশ্বাসী সে আজকাল
ভালোবাসায় রাখা মাটির মূর্তিগুলো ইউসলেস আজকাল তার ড্রইংরুমে,
মেয়েটার কিচ্ছু যায় আসে না এ নবরুপি পোষাকে তাকে আসলে কি চোখে দেখছে শহর,
এখন কারো দেখার সার্টিফিকেট নিয়ে মেয়েটা জীবনের ফাইল ভরে রাখে না।
.
টের পেতে চায় না কোন সাধনায় সে আরাধ্য
মেয়েটা একদিন যে দরজাগুলো দিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছিলে তাদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে আতসবাজির ফুল্কি,
ইদানিং ও চোখে চোখ রাখতে এ শহর কে ভাবতে হয় কিছুক্ষণ,
নিজের লড়াইটা একলাই অনায়াসে লড়তে শিখে গেছে সে
.
শরীর জুড়ে আজস্র সৈন্যের দল
সশস্ত্র হাত , ভালবাসার শ্বেত পদ্ম নামিয়ে বজ্র তুলে নিয়েছে,
আঙুলে আজকাল জ্বলন্ত মারিওয়ানার বেপরোয়া খেলা,
চোখের ভাসায় নতুন অভ্যাসের জন্মদিনের রোসনাই
সুজন তোমার শহরের কাছে সবটাই একটু বেশি রকম বদল তাই না?
যে মেয়েটা এক সময় বাঁচার জন্য ,ভালো থাকার জন্য নিজের নির্ভরশীল একটা ছায়া খুঁজে ফিরতো
আজ নির্ভরশীল শব্দটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অট্টহাসিতে হারিয়ে যায় সে শ,... হাজারো মনের ছায়া মেয়েটার অস্তিত্ব।
যে মেয়েটা আজ থেকে বছর দুই আগেও ভালোবাসতে চোখের জল ফেলতো
সে আজ খুব অবহেলে ভালোবাসা শব্দটার সফর করে এ শহরেই ,
সময় বদলায়
আর বোকা বানানো সম্ভব নয় সুজন তোমার সেই বোকাসোকা মেয়েটাকে।
পায়ের জুতোয় আজ টিপে রাখে ভালোবাসা নামে প্রহসনের গলা
হ্যাঁ বোকা মেয়েটা জেনে গেছে ভালোবাসা একটা মরীচিকা।
আর সে মরিচীকায় ডুবতে নেই কেবল ডুবে যাওয়ার অভিনয় টা শিখে নিতে হয় জবরদস্ত।
কালির আঁচড়ে
কালির আঁচড়ে জীবন লেখা যায় কিনা ভেবে দেখা হয়নি।
জীবন শুধু মাত্র সফলতায় দেখার নাম নয়, শুধুমাত্র প্রাপ্তির নাম নয় ,,
হ্যাঁ একজন মানুষ একাকিত্বে একলব্য আজীবন , কারণ প্রতিটি যুদ্ধ তাকে একাই লড়াই করে হারতে কিংবা জিতে নিতে হয়,
না কোনো দ্রোণাচার্য সময়ের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে না... থাকে না পিছিয়ে যাওয়ার কোনো পথ
মানুষের ইতিহাস মানুষকে হেরে যেতে দেয় না, আসলে হার জিত নয় সবটুকুই কেবল পুঁজি।
.
যেখান থেকে জীবন লেখার কথা ছিল সেখান থেকেই লেখাটার শুরুয়াত করে সময় ... তা সে সাত পাঁচ কিংবা আকাশের চাঁদ কিংবা ধুমকেতু যাকিছু আসুক না কেনো....সময়ের কাঁটা ভুল করেও টিক টিক পথ চলা বন্ধ করে না।
বাঁচার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয় মুখও হয়তোবা কালের খেলায় হারিয়ে যায় নিয়মমাফিক কিংবা নিয়মের বিপরীতে।
কর্ণর মত জগৎসভায় একাই একার সাথ দিতে হয় শেষতক,
সকলেই আমরা হার জিতের খেলায় পুঁজি সঞ্চয় করি জীবনের ঝুলিতে
আর তাই সকলেই হেঁটে যেতে পারি মাথা উঁচু করে,
তোমার চোখে জল বুক পকেটের রুমালে লুকিয়ে রাখা আসলে বেঁচে থাকার একটা কৌশল , আর সেটা শিখে নিতে হয় সকলকে।
কালির আঁচড়ে জীবন লেখার চেষ্টায় হয়তোবা
কালি ফুরিয়ে যায় কিংবা ফুরিয়ে যায় জীবন,
বিকিয়ে যায় অনেক মুল্যবান যতি চিহ্ন জীবন সফরে,
কারণের পৃথিবীতে ব্রাত্য দের প্রয়োজন বারংবার জরুরী
তবুও যত্নে বেঁচে থাকার উৎসবে আলোর প্রদীপ জ্বালানো ভীষণ দরকার,
কারণ শেষে নিস্তব্ধ কিছু থেকে যাওয়ার নাম
স্মৃতি,
আসলে মহাকালের যুদ্ধটা ফুরোয় না কখনো
তাই মানুষ খিদে পেটেও অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়ে
মৃত্যু দিকে পিঠ ফিরিয়ে বেঁচে থাকা মানে উৎসব ভাবতে পারে।
সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২
সবটাই মিথ্যে
মিথ্যে বলেছিলে আগলে রাখবে, হাঁটবে সমন্তরালে,
নিষ্পাপ মনে তোমার দেওয়া ফুল গুঁজে নিয়েছিলাম নিজের খোঁপার বাঁধনে যেন ঠিক জড়িয়ে নিয়েছিলাম তোমায় ,
আলোর দিকে হাঁটতে চেয়ে তোমাকে উদ্দেশ্য করে বেড়ে ওঠা মানিপ্ল্যাট গাছটাকে যেমন ইচ্ছে কাটলে, উপড়েই দিলে।
গাছটার ভেতোর সবুজ ভাবনার বাসগুলোর কথা একবারও ভাবলে না
ভাবলে না তোমার ছইয়ে একটা নিশ্বাস বেঁচে আছে
.
মিথ্যে বলেছিলে সাথে আছি, মিথ্যে বলেছিলে এটাই তোমার শেষের সেই মাইলফলক,
সারারাত ঘুমের চোখে মিথ্যে স্বপ্ন এঁকেছি তোমার রঙে
অজস্র মিথ্যের ফাঁকে নিজেকে লুকিয়ে তুমি আমায় বিকিয়ে দিয়েছো অনায়াসে,
আমি কিন্তু সত্যি সেদিনে এবং এদিনে একই রকম ভালো আছি ,
আসলে তুমি ঘর শব্দটার মানে বোঝোনি, আসলে বাউলের ভেতোরেও একটা গোপন নিজস্ব কুটির থাকে সেটা জানতে চাওনি।
হয়তো আজকাল তোমারও মন কাঁদে আকাশে মেঘ দেখলে।
.
হাজার মিথ্যে গল্পর মত তোমার মিথ্যে গল্প এ শহর শুধু ভালোবেসে বুকে রাখলো
হাজার মিথ্যে ঘর ভাংচুর এর মতই এই শহরে তুমিও আরো একটা ভালোবাসার ঘর ভাংচুর এর সাক্ষী এবং আসামি দুই চরিত্র হয়ে থাকলে।
হয়ত অনেক কবিতা ও গানের কলিতে কারা যেন বলে গেছে চারটে দেওয়াল মানে নয় ঘর
হ্যাঁ হ্যাঁ মিথ্যে তোমার এই সাজানো বাঁচার খেলা
তোমার মিথ্যে হাসি মিথ্যে কান্নায় আমার মল্লিকা ফুটেছে আর ঝরে পরেছে, বুঝিতে বড্ড সময় নষ্ট হল
কিন্তু সেই বিশ্বাস সেই হাসিতে আমি ছিলে না কোনোদিন তুমি কেবল স্বার্থপর নাটকের চরিত্র যাপন করে গেছো
তুমি পথ চলতি আশ্রয়হীন দের নিয়ে তথাস্তু তথাস্তু খেলায় আনন্দ পাও
আজ আমি জানি তোমার আসলে আশ্রয় নেই ,
মিথ্যে তোমার এই সংসারে দাবা খেলায় হেরে যাওয়া
তুমি জানো না ভালোবাসা আসলে মাটি আঁকড়ে থাকা শেকড়
একটা আশা
একটা নির্ভেজাল ভাবনা।
রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২
মুক্তির পালক
হাওয়ায় ভেসে থাকা পালকের মত লাগে এ মুক্তি
এ মুক্তি নিয়ে জীবন যেন উজ্জাপন মনে হয়।
মশগুল ব্যাস্ত দিন রাতের সবকটি প্রহর , আমার কবিতার খাতায় আমি মুক্তির পালক আঁকতে থাকি
তুমি বা তোমার পৃথিবীতে তখন সময় চটকে কিছুটা আলোর দিকে পথ চলতে চাওয়া হঠাৎ জেগে ওঠা ইচ্ছার তুবড়ি জ্বলছে,
আমি আজকাল অবাক হই না কোনো দৃশ্যেই,
আজকাল ছেলেবেলার ছাদ আর আকাশের রামধনু বড্ড মনে পড়ে... মনে পড়ে ঠাকুরদার মুখে শুনে আসা রুপকথার অবাক করা গল্পের কথা , ইচ্ছে হয় ফিরতে
ইচ্ছে হয় ভাসতে রামধনু আকাশে পাখির জীবনে
যদি ভাসতে পারতাম আগের মতো এখনকার নষ্ট অধিকারের শিকল গুলো ছিড়ে,
যদি চিৎকার করে আকাশ আগলে বলতে পারতাম , আমি পাখির মত ডানা মেলবো একদিন , যদি বলতে পারতাম
থ্রি চিয়ার্স ফর লাইফ ,
তারপর হয়তোবা মুক্তি আঁকার আনন্দের আরো আলো এই নয়নে ভরে নিতে পারতাম
বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
লোকে আমাকে পাগলী বলে
মন্দবাসার সমাপ্তি
বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২
সমাপ্ত প্রহসন
এখন আর বেশি বাকি নেই
হাওয়ার কাছে বার্তা আছে জানালার নেমপ্লেটে অলিখিত চুক্তি রেখে যাবে পুরনো ইতিহাস,
জানলার পাশে পড়ার টেবিলে হলুদ পান্ডুলিপিতে
সব কবিতা অসমাপ্ত হাহাকারে কাঁদছে,
জীবিত পরিচয় বেঁচে যে একদিন জমি কিনেছে আজ তার
জমি শ্মশান মাত্র,
.
আচমকা ধড়ফড় করে উঠে বসে লোকটা
অজস্র কালো ফ্রেমের অসমাপ্ত ছবি লোকটার বুকের দেওয়ালে আটকানো পেরেক দিয়ে
ছবিগুলোর গায়ে স্বপ্নের বদ রক্ত প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে স্থির,
প্রশ্রয়ের কাছে ঋনী লোকটার মাথা নিচু আজ,
কোনো উপসংহারি সমাপ্তি লেখা হবে না কবির খাতায় কোনদিন,
কেবলমাত্র একটা অসমাপ্ত নেমপ্লেটে কিছু হিসেব লেখা থাকবে মাটির ওপর আর লেখা থাকবে প্রেমিক আর স্বার্থপর একসাথে হওয়া যায়না।
.
চারিদিকে জমে থাকা নোংরা জলে যোগবিয়োগ এর ফলাফল হিসেবে কিছু ব্যাংাচি কিলবিল করছে আজ।
সিঁড়ি ভেঙে ভরসার চিলেকোঠায় লোকটা আর উঠতে পারবে কিনা জানা নেই, ,
লোকটা প্রেমিক হতে গিয়ে খুনি প্রমাণিত হয়েছে সময়ের কাঠগড়ায়,
.
আর অবিশ্বাসের রক্তে বারংবার ভিজিয়েছে
যোনি ,স্তন ,নাভি ,ও হৃদয়
তাই লোকটার জিভ ,ঠোঁট সব গলে পচে যাচ্ছে
সে আর কখনো ঠোঁটের ওপর ঠোঁট রেখে গভীরে চুমু খেতে পারবে না
অপেক্ষা মরে যাবে একদিন নিশ্চিত।
আনন্দ ,শোক ,দুঃখ,ঘেন্না ,ভয় -শরীরে শেষ সুতোটুকু খসে যাচ্ছে তার ,
তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে গিয়ে জানলাটা বন্ধ করে দিয়েছে নিষ্পাপ ভালবাসাতো তার প্রেমিকা ,
কবির অসমাপ্ত কবিতার শেষে লিখে দিয়েছে সমাপ্ত প্রেমের প্রহসন।
সময়ের কাছে পরিত্যক্ত
সম্পর্ক আসলে সমীকরণ ,সময়ে দুলতে থাকা দোলনায় বসানো কাঠের পুতুলের খেলাও বলা যেতে পারে ।
আবার ভালো থাকা আর না থাকার মাঝে একটা সুক্ষ তারের তফাৎ
অনেকটা ধীর গতিতে শান্ত নদীর ক্ষীন স্রোত এর মতই,
মানুষ হয়তো বুঝেও বোঝে না
আসলে সম্পর্কগুলো উঠন জুড়ে সৈন্যদল।
.
একটা যুদ্ধ-ব্যাকরণ বই খুলে সম্পর্ক পড়তেই হয় প্রতিটা পোশাক পরা মানুষকে
নিজের হাসি ,নিজের কান্না , অনুভবে মুড়ে
বুকের গভীরে জমিয়ে রাখতে শিখে নিতে হয়,
সকলেই পোশাক পরে ,
সকলে নিভৃতে সেই পোশাক বদলায়
নিজের একান্ত ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখবে বলে
সম্পর্কের ত্রুটি ঢাকার আর্ট কজন সঠিক জানে জানা নেই।
.
আমি বুঝি সম্পর্কের মাঝে লুকোনো মুখোশ থাকলে একদিন সে মুখোশে টান মারবে সময়,
একটা মিথ্যে ক্রমশ পেঁচিয়ে ধরবে বেঁচে থাকা অস্তিত্বকে, ,ক্রমশ মৃত্যু হবে সম্পর্ক বানানটার অসহায় কোনো কারনে,
তোমার মতো ,আমার মতো সকলেই যারা মুখোশ আড়াল রাখি নিজেদের তারা একদিন পরিত্যক্ত হবেই সময়ের দরবার থেকে।
বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২
প্রাক্তন
.
একদিন থেমে যায় মুহুর্ত সবকিছু বিসর্জন দিতে হয়
ভালোবাসার পোষাকের গায়ে জমে থাকে ফসিল
ভাংতে থাকে কাছে আসা সিড়ি গুলো
আসমানী চাদর জড়ানো বুকে অনন্তকালের চুপ কথা জন্ম নেয়।
আমিও চুপ থাকা শিখে নিই সময়ের প্রবাহকে মেনে নিয়ে,
চেনা পথ ভুলতেই হয়... ম্যাজিকের মত ঠিকানা বদলে যায় ডাক বাক্সের চিঠিতে,
.
পিছনে ফিরে দেখলে
পায়ের তলায় মৃত সময়ের যন্ত্রনা রাখা
স্মৃতির শব্দদেরা করে একের পর প্রেতাত্মার মত ঘোর লাগায় সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে ,
ঘুমের ফাঁকে কপালে কাপালিক তান্ত্রিকদের ত্তত্বাঘাতের হিসেব নিকেশে চলমান মুহূর্ত নিলাম হয়ে যায়,
ঘুম আসে তবু ঘুম আসে শেষ রাতে
বুকের নিশ্বাস গচ্ছিত রাখতেই হয় মহাকালের গহ্বরে,
.
রাস্তার ধারে পরে থাকা সম্পর্ক শব যেন কিছুতেই চিহ্নহীন হয়ে মাটিতে মিশতে পারে না,
একটা অহংকার যেন প্রতিবেদন হয়ে বুকে সেটে অদ্ভুত ভাবে গা-জোয়ারীতে মাতাল হয়,
মানুষ জানে না ,মানুষ বোঝে না
প্রতিটা নাটকের পর্দার পেছনে পোষাকি সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়া হয় কারন সমস্ত পরিবেশনায় অসাধারণ কথাটা জরুরী ।
বর্তমান আর ভবিষ্যৎ মাঝে অজানা সময়
মানুষ দুঃখের দেওয়াল ভাঙে আবার সুখের ঘর বাঁধায় ব্যাস্ত হয়,
হারানো সময়ের পরে আকাশের ভাঙা মেঘে বৃষ্টি নামে মাটির বুকে, জন্ম নেয় নতুন আমার নাম ধামে তখন নতুন মাটির প্রলেপ
শব্দরা কাঁসর ঘন্টায় জন্মকান্না ঢেকে দেয়,
আসলে শব্দদের কারন দরকার পড়ে, আসলে সব বদলের আগে ও পরে শব্দ খুব জরুরী,
আর নতুন শব্দের কাছে পুরোনো শব্দেরা খুব সহজেই প্রাক্তন হয়ে যায় ,
প্রতিটা বিসর্জন আসলে আগামীতে প্রাক্তন।
শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
এবারে মুক্তি দাও প্লিস
বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
বন্দী মন্দ বাসা
তোমার শহরের কবিতা
তোমার চোখে শহরের সাত কহন গড়িয়ে নামে
আমি লুকিয়ে দেখি পুরোনো শরীরে নতুন পোষাকে তুমি শহরকে উৎসবে সাজাও।
সকালে চোখ খুলে দাও এ শহরের, আমি পাশ ফিরে রাতের পর ভোর দেখি... দেখি তোমার দায়ভার।
আমি দেখতে পাই তোমার আদরের চোখে লুকোনো রক্তের আসা যাওয়া ,
বই পাড়ায় পুরোনো বইয়ের দোকানের নতুন অনুবাদে তুমি ব্যাস্ত সময়ের ষড়যন্ত্রে,
শংখ, শক্তি ,সুনীল , হারিয়ে গেছে কবেই... তবু আমার মত কেউ কেউ সব জেনেও খুঁজছে নীরা কে।
.স্প্লেনেডে ক্রমশ বাড়তে থাকে ভিড় আমরা সবাই নিজেদের হারিয়ে ফেলিতেই চাইছি এই ভিড়ে,
কোনো অসময়ের মিছিল মুখ লুকোনো অভ্যেসে সামিল হতে চাইছি সবাই,
আমাদের চাওয়াগুলো গুলো বড্ড এক রকম শুধু জানলা দরজা ঠিকানা আলাদা আলাদা।
সুজন তুমি বহুদিন স্নান করোনি, বহুদিন কোনো সাধনায় বসোনি পুজোর ঘরে,
সংসারের শব্দ লুকিয়ে শান্তি খুঁজতে চাওনি এক মুহুর্ত ,
ঈশ্বরকে বলোনি সময়ের সাথে সকলের ভালো হোক,
কেবল জানলার বাইরে শালিখের ঝগড়া তোমার মাথার ভেতর নিউরনের স্ফুলিঙ্গর উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়ে চলেছে।
.
তুমি তোমার পাশে অন্য এক পাগলকে ফস করে বিড়িতে আগুন ধরাতে দেখে চমকে ওঠো ইদানীং,
ইদানীং তুমি বাজারের থলে হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একরাশ শুন্যতা নিয়ে ফিরে আসো সংসারের হেঁসেলে। অথচ শুন্যতা দিয়ে খিদে মেটে না বরং খিদে বাড়ে সেকথা তুমি ছাড়া ন-বছরের ছেলেও বোঝে
তোমার সাজানো শহর কিনতে চাইছে সুখ এ এক আসম যুদ্ধ সুজন... এ অভ্যেস থেকে মোহ থেকে মুক্তি দাও নিজেকে তোমার শহরকে,
দেখো চায়ের দোকানে ধুঁকতে থাকা কুকুর আজো কুকুরীর সাথে অজস্র সহবাসে সুখ পেলো না,
একটা ভাদ্রের মেঘে তপ্ততা থাকলে রোদ্দুরে ভরসা করে স্যাতস্যতে ভালবাসা সুখিয়ে নিতে সুখ নেই নেই ভরসা।
এইভাবে সুখ অন্ধকারেও নেই আলোতেও নেই আকাশেও নেই মাটিতেও নেই
আসলে সুজন তুমি আর তোমার এই শহর ঘুমোওনি অনেকরাত।
.আসলে তোমার দিন গুলো কাটে এই শহরে পুঁজ ধরা সম্পর্কের কবিতার মতো,
আসলে তোমার বয়স বাড়ে এই শহরে হাজারো অপেক্ষায় মাইলস্টোন পেরিয়ে রেখে যাওয়া অভিশাপে নাগপাশে,
জানোতো সুজন সময় ফুরোয় একদিন, একদিন দুঃখ ফুরোয়
ময়দান জুড়ে কাশ ফুলের সমাবেশ যেন শান্তিরক্ষী সৈন্যরা, ,সেখান মানুষের অভ্যেস ফুরোয় না, মানুষের মাথার ভেতোর পৃথিবীতে কিছুই বদলায় না কিংবা বদলাতে চায় না।
আমি শহরের কবিতায় মানুষগুলো পড়ি আর পড়ি মানুষের চোখ দিয়ে শহর,,
তুমি নিজের মতো সাজাও একটা তাসের শহর
সেখানে দাবার-মঞ্চ আছে, শব্দ আছে, সৈন্য আছে, রাজা আছে, ঘোড়া আছে, নৌকা আছে, শুধু তুমি বোকার মত নিজেকে চিরকাল শ্রেষ্ঠ খিলাড়ী ভেবে গেলে
আর কমতে থাকলো তোমার অন্তরবর্তী একলা সুখ,
আসলে জানোতো সুজন সময় সবসে বড়া খিলাড়ী।
ছক খেলা খিলাড়ী সব আগেই সাজানো তুমি আমি কেবল কাঠের পুতুল।
মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
সই৬০
তোমার আলোর পথ
তোমার আলোর পথ
********
.
সত্যিই বলতে পারো তুমি আলোয় আছো?
তবে ভালোবাসা নামক শব্দটায় পোষাকি রঙ খুঁজে ফেরো কেনো?
কিংবা আদৌ পোশাক পরা ভালবাসা বলে কিছু হয় কি! আর সেই ভালবাসা খায় না মাখে সেটাও কি জানা আছে তোমার?
ভালো -বাসা ,বলতে পারো আশ্রয় বলতে পারো...
এই বাসা মানে কি জানো তো সুজন?
এই বাসা মানে একটা গহিন উপলব্ধি আর সেই উপলব্ধির পরতে পরতে কোনোটাই অতিরিক্ত উপচে পরা নয়,
সেই তুমিতে সবটুকুই প্রয়োজনীয়
আসলে আমিও এই শব্দগুল লিখতে লিখতে হাসছি হয়তো মনে মনে বলছি এত যত্ন করে ভালবাসাকে রাখবো বলে নাম রাখলাম মন্দবাসা... তবু বাঁচাতে পারলাম কই মন্দ নজর থেকে।
.
তোমার নীল পাঞ্জাবিতে এক পৃথিবী ভাবনার নকশীকাঁথা শুধুমাত্র যে আমার পৃথিবী সেদিনেও এদিনেও,
তোমার স্বপ্নের শহরে একটা গোপন পারিজাতে কিছু গল্পে ,স্বপ্নিল বাঁচা লেগে সেদিনেও এদিনেও...,
অথচ তুমি এগোতে জানো আলোর দিকে
আর আমি গাছ শব্দটায় নিজেকে স্থির রেখে আকাশের আলো মাখি রোজ।
শেষ বহু মাস তোমার মুঠোফোনে অজস্র আত্মিকতা
হাজারো মুখের মিছিলে তুমি সামিল রোজ... রোজ মঞ্চ বদল তোমার
তোমার মনের ঘরে শান্তির ঘর পুড়ে যায় রোজ অজানা জেহাদি আগুনে, তুমি নিজেই সে আগুনে জল ভেবে দাহ্য ঢেলে দাও পোড়ার নেশায় মশগুল তোমার বিকার মন।
আর আমার মনের ঘরে একটা অদ্ভুত আশ্চর্য বোধি ,বড়োই স্নিগ্ধ শান্তির নিঃশ্বাস,
আসলে যারা সত্যি ভালোবাসে ,তাদের নিজস্ব ঘর থাকে থাকে নিজস্ব অন্তর মহল
যারা ভালোবাসে তারা নিজস্ব যত্নে ভালবাসা রাখে তারা নির্ভরশীল নয় কোনো দিন কারন তারা কেবল ভালবেসে সুখ পায় শান্তি পায়, সেখানে বিনিময় প্রথা নেই।
সুজন তুমি জানো সবই
তবুও কেন জানতে চাও
আয়নার ব্যবহার
ভালোবাসা বাউন্ডুলে নয়, তার ভেতর অন্তর নিহিত শেকড় থাকে, থাকে মাটি ছুঁয়ে থাকার সংকল্প
তার কোনো লোভ নেই , তবে চরিত্র আছে
তার চলার পথ আছে, দেওয়াল তো ইচ্ছাকৃত চাইলেই আছে চাইলেই নেই, আর অধিকার বোধ সে তো ঈশ্বরস্বরুপ,
আসলে যে সত্যি ভালবাসে সে একটা কথা মন্ত্রের মত গিঁট বেঁধে মানে "তোমাকে ভালবাসার জন্যে তোমাকেও দরকার নেই" ভালবাসা বাঁচে নিজের তাগিদে নিজের জন্যে।
তার শুধু অনন্ত আকাশ আছে আর সেটুকুই তার কাছে প্রয়োজন।
সব জানি সুজন , তাই শুনতে পাই দূরে কোথাও বাঁশি বাজে
আর বাঁশির সুরে সেই বাউলের একতারা আগলে থাকার সুর
"যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না...
যদি বাতাসকে আমি ছুঁয়ে না দেখি তোমার শরীর স্পর্শ পাবো না...
আমি মাটির তলায় ঘর না বাঁধলে তোমার জঠর গন্ধ পাবো না.... "
"
S
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
এলোমেলো
বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
চুপচাপ
সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
স্পর্শহীন বাতাস এ শহরে
শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২
আমার ভেতর
বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
তথাগতর সাথে
মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২
সময়ের দাগ
শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২
জীবনফর্মা
বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
কে ?
সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২
মেঘ হতে চাই
মেঘেদের কোনো কোনো দেশ নেই
নেই কোনো নিয়ম কিংবা বারণ এর কাঁটাতার,
শুধু অনেকটা উদার যেন একলা বুকের মাঝে আকাশ রাখে আকাশের গায়েই ভেসে
মেঘেদের চোখে এই শহরটায় কি জ্বলে ওঠে সন্ধ্যের বাতি কারো অপেক্ষায়
ফাঁকা রাস্তায় লাইটপোস্টের নিচে ভাবনাদের খেলা করতে কি দেখতে পায় মেঘ
.
মেঘ নিয়ম বোঝে না
বোঝে না এই শহরের হাজারো সুবর্ণা সুজন কেন মন খারাপ করে !
কেনই বা একটা ফাঁকা ঘর আমার ইচ্ছামতির বুকে !
ধরা দেয় না একমুহূর্ত সে ফাঁকা ঘরে কোনো স্বজন,
তবু সারা শরীর বেয়ে ভিতরে বাইরে শুধুই অজানা স্পর্শ।
.
আমি মেঘ হতে চেয়েছি
আমিও একা হতে পারি ভীষণ ভাবে
এই মেঘেরা কথা বলে রোজ আমার সাথে
চুপিচুপি ধরা দেয় একের পর এক মুহূর্ত আমার উঠোন জুড়ে থাকা আকাশে
জানি না কেন একা হতে কেউ কেউ ভয় পায়।
আকাশ থেকে এই গল্পের শহরটার দিকে তাকালে মনে হয় মানুষ গুলো একলা বড় ,
মনে হয় এই শহরের বুকে হাজারো গল্প মানুষের বুকে নিঃশ্বাস নেয়
জানি না সুবর্ণা সুজন এরা এই শহরের স্রোতে
বইতে বইতে ঠিক কোথায় কিনার পাবে !
জানি না আমার মতো আরো একজন কবে বলবে আমিও মেঘ হতে চাই তোর মত তোর সাথে ..ভিজিয়ে দিতে চাই এই শহরের বুকে খিদে আর তৃষ্ণা গেলে থাকা গল্প গুলোকে
জানি ওই গল্প গুলো বাঁচতে চায়
জানি জানি ওই গল্প গুলো হাসতে চায়
কিন্তু ওদের চোখে গোপন কান্না আজ শুধু ..ঠিক যেনো ওরা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছে
আমিও মেঘ হতে চাই ....তারপর বৃষ্টি
তবে ভালোবাসায় ঠিক কি থাকে জানি না মেঘ না বৃষ্টি ।
শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২
ছায়াছবি
ফেলে আসা মুহূর্ত ভুল কি ঠিক জানি না ,তবে জানি মৃত সময়ের এলবামে হঠাৎ কিছু ছায়াছবি
যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে,
গড়িয়ে নামা বিকেলে স্টেশনে চায়ের ভাঁড় ,
কিছু বিশ্বাস কেনা গল্প যেন ফ্ল্যাসব্যাক ছায়াছবি ।
হ্যাঁ সত্যি ভ্রান্ত গল্পগুলো মুখ খিঁচিয়ে বলে তফাৎএ যাও আরো তফাৎ এ ,
কে যেন আয়নার ওপারে বিদ্রুপ করে হাসি আঁকে ঠোঁটের কোণে।
জীবনের কবিতায় সাজানো শব্দেরা সবসময় ঠিক
ভাবে সাজানো হয় না ,
তাই চাইলেই কবি কিংবা কবিতা কোনোটাই হওয়া খুব সহজ নয় ।
সময়ের বালিঘড়ি সোনালী চুলের মুখোমুখি দাঁড়াতে বলে চুপিসারে।
.সময়ের পতন দেখে আরো এক সময়ের সাক্ষী,
অথচ আমরা জানি এ পতন চিরকাল শব্দহীন শব্দের বাহক।
,
দিনগুলো ফুরিয়ে যায় নিমেষে
কল্পনার আকাশ থেকে যত্নে উড়ান দেওয়া পালকরা নিচে মাটি ছুঁতে চায়।
.
মৃত মুহূর্তের ছায়াছবি শব্দহীন কথায় কথায় প্রহর চুরি করে বেলা বইয়ে দেয়...
ব্যাকফ্ল্যাশে দেখি দুটো চোখ,সে চোখ কারো বেঁচে থাকার সাক্ষ ছিলো কিনা আজ আর মনে পড়ে কই!
সামনে তাকাই দেখি রাস্তায় নতুন গল্পের বাঁক ,
একলা দাঁড়ানো কবির হাতে মেঘবালিকার জন্যে লেখা কবিতার খাতার দিস্তা, প্রথম পাতায় লেখা কিছু প্রতিশ্রুতি । তারপর একে একে আকাশ ,আয়না, স্বচ্ছতা ....হাহাহা সত্যি অবাক লাগে ভাবতে যখন একজন কবি অন্ধকারের কবিতাকে ভুল করে আলোর কবিতা ভাবে।
যারা প্রতিজ্ঞা লেখে...লিখতে চায় ,
অসংখ্য মুহূর্তদের সাক্ষী করে
তারা আসলে মৃত্যু লেখে তারা সাধারণ ঘুম ভেঙে সকাল দেখায় আশ্চর্য হয়না ,কারণ তারা বেঁচে থাকাকে সম্মান জানাতে জানেনা
আসলে ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি যে একটা ঘুম ভাঙা সকালে সূর্য ওঠার সাক্ষী থাকার নাম হয়তো সবাই জানে না ।
তাই বুকের ভেতর কষ্টের অসুখ লেগে থাকে শেষতক।