বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২

তিনপাত্তির জীবন

  তিনপাত্তির জোকারের গাল গড়িয়ে নামছে রক্ত, 
কলজে থেকে শুনশান বাতাস ছুটে  শহরের খবর  মহলে।

 রোদ চশমার  আড়ালে  জীবন  দহন লুকিয়ে ফেলা এ সভ্যতার  অভ্যাস। 

ধুলোপড়া  সময়কে ধুলো সরিয়ে  দেখার নাম তাই  ইতিহাস।

মিথ্যে  গল্পেরা মঞ্চে  সাজালেই হঠাৎই  কেমন জীবন্ত হয়ে ওঠে, 

মৃত্যুর  ওপারে  কোনো  প্রতিশোধ  ধোপে টেকে না বলেই  তাই মৃত্যু  চেয়ে  লেখা কবিতার শেষ  অক্ষর পরজন্মের দুয়ার আঁকা  যায়  না।

জাতক হয়ে ফিরে এলেও  দুঃখ বলেই ডাকবে সে,
কারণ এখনো তো যন্ত্রনা লিখতে চেয়ে   কেউ মেঘে কাব্য লিখছে ,।

 সময়কে অশ্রাব্য করতে শেখা হলো না বলেই

শেখা হলো না হিসেব নিকেশের মানুষের ভূমিকায় লুকিয়ে থাকা সংকল্প।



নগর সংকীর্তনের উল্লাসে হারিয়ে যায় নিয়মের ঘরন্দা ,,

গল্প কখনো ফুরোয় না 

                      কারণ সময়ের আয়নায়  মানুষ চিরকাল  গল্প হয়েই থেকে  যায়।

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২

সই(৭০)


সময় শিখিয়ে দেয়  না থাকাগুলো   মুছে নিতে,, 
 তাই চোখের  উপত্যকায়  নতুন সকাল অপেক্ষায় জেনো।
 অপেক্ষা  না থাকলে এক সময়  দুরত্বে মাঝে সেতুটা নিজে থেকেই দৃশ্যের  আড়ালে হারিয়ে যায়। 
প্রহসনের  শব্দ গুলোয় প্রহর লেখা থাকলেও সেটা  উহ্য  আর
শান্তি শব্দটা  তরল জাতিয়, ... পাত্র বিশেষ  আকার বদলে নেয় খুব সহজে, 
 জাতকের কাছে তাই জীবন শব্দটা উৎসব কিংবা   যাপন   হতেই পারে 
আসলে শব্দটা    কাঁচা  মাটির ঢেলার মত... গড়ে নিতে হয় একজন শিল্পীর  ভুমিকা নিয়ে ।

..

সই (৬৯)


ঈশ্বর কোনো অপেক্ষায়  স্থবির  নয় 
পথ চলায় তার অধিবাস, 
হৃদয় কে জাতের ছুরি  দিয়ে কাটলে অনুভূতি 
শব্দটা  বড় বেমানান ,, 
কালের খেলায়  মানুষ  কেবল তার দাবার ছকের গুটি।
তুমি ভাবছো অথাস্তু শব্দটায় তথাগত বাস করে, 
আসলে সে সময়ের মঞ্চে  কাঠ পতুল খেলছে  আর তুমি
সারাটা প্রবাহ জুড়ে নিজেকে তথাগত  প্রমান করতে করতে ফুরিয়ে ফেললে শখের জীবন... 
 
...সই

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২

সম্পর্ক

সম্পর্ক গুলো জলের মত   
কাছে গিয়ে ছুঁয়ে না দেখলে বোঝাই যায় না 
সে জল আসলে সমুদ্রের ,নাকি নদীর ,নাকি পুকুর, কিংবা কুয়োর ।
সম্পর্ক গুলো জলের মত তাই ছুঁতে আসে ,আবার ফিরে যায় অজস্র অজুহাতে ।

মানুষ তার ভাবনায় বাঁচে বেশিরভাগ জীবন,
হাঁসি কান্না রাগ অনুরাগের অনুভবে খাবি খায়
মুহুর্মুহু ।
স্মৃতি কখনো কখনো চোখের সামনে নতুন করে বেড়ে ওঠে নতুন চারাগাছ হয়ে ,,

আত্মার সামনে আয়না ধরে সময়ের সমুদ্র,
ভবিষ্যত আর অতীত মুখোমুখি ।

আজকাল  এসব ভাবনায় নিজের ভেতর গোটা ব্রহ্ম দেখতে পাই বোধহয়,

ইদানিং নিঃশব্দের ভেতরে এক কিংকিনি শব্দের সাথে সফর করি , কোনো এক  অন্তহীন প্রবাহর ভেতর হারিয়ে যাই।

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

সই(৬৪)

যখন  কাছে  ছিলে দুদন্ড বসিনি কখনো কাছ টুকু  ঘেঁষে , 
আজ তোমাকে    মন্দির, মসজিদ, গির্জার
কপাট ভেঙে  কাঠামো  তছনছ  করে তন্নতন্ন  করে খুঁজি,
চোখের  জল বুকের আর্তিতে  সব বিষয় -বাসনা বিসর্জন  দিয়েও
 তোমায় পাইনি   আর... 
#সই

 

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রথম ও শেষ

জীবনের  কাছে যাকিছু  প্রথম অনুভূতি  তার স্পর্শে  পুঁজির গাঁথনি বোনে সময়,

পাওয়া না পাওয়ার বাঁধন  কখনো কখনো  আঁকড়ে ধরে বুকের কলজেটাকে। 

কিছু না নিয়ে  এসেও অচেনা কেউ মোহের গিঁট  পরতে পরতে বেঁধে দেয় সুতোয়। 

চোখের  নদীতে  কখনো  কোজাগরী,  কখনো  ঘর ভাঙা  উজানে ফুঁপিয়ে ওঠে ভাসমান তরঙ্গ। 

আয়োজনের পরে স্মৃতি , অভিমান, কিংবা  নিছকই শখের  শব্দ-কোষ হাসায় কাঁদায়, 

 কখনো  জন্ম জঠর, কখনো বন্ধু ,কখনো প্রেম  ,কখনো সুখ, 

সব যেন ভীষণ সম্পর্কের  সুখ  আর অসুখের নকশীকাঁথা । 


খিদে ,তৃষ্ণা ,ক্ষত , প্রেম, শোক, প্রিয়জন ,প্রিয়মুখ প্রয়োজন  সব ভুলতে হয় উপন্যাসের  শেষে রাখা উপসংহারে, 

  মৃত্যু জাজিমের বুননকৌশল কেবল স্পর্শ  অনুভূতি এফোঁড় ওফোঁড় করে এ যেন   পাতা জুড়ে এক বিশাল  সিঁড়ি ভাঙা  অংক। 



 

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২

মহেন্দ্রক্ষন


শব্দেরা ঘুমিয়ে পড়লে বুকের ব্যারিকেড ভেঙে  উত্তরে শীত হাওয়া প্রশ্রয়  পায়,

ইচ্ছাবাড়ির দেহাতি স্বপ্নেরা তখন  হয়তোবা  লাগামহীন,   তারা বোঝে না সুনীল বাবু তিস্তার  বুকে ভাসতে ভাসতে  লিখে গেছে আসলে  কারন ছাড়া কেউ স্রেফ  কথা রাখার জন্যে সারা জীবন  পাশে থাকে না। 

আসলে সবার উঠোনে  সাঁঝবাতি   জ্বলবে এমনটা নয়, 

কিংবা  সব শীত সকালে  চটকানো সূর্য টা উত্তাপ  দেবে এমনটা  নাই বা হোতে পারে। 

তবু চলতি কা নাম গাড়ি যেহেতু  সেহেতু  সে গাড়ির  একটা ছই থাকে কখনো সখনো,

আর কখনো সখনো  সে ছই বড় শান্তির সে ছই এর বুকে মুখ গুঁজে  আর কোন  দুনিয়াদারী কেনাবেচা দরকার  হয় না।

বুকের মাঝে আকুতি  থেমে যায়... ভায়োলিন এর সুর যেন সব পেয়েছির সিম্ফনীতে পরিপূর্ণতা পায়

 ...করণীয় ভাবনারা শূন্যে  অবস্থান  করে  মুহুর্তে,, 

বেঁচে থাকায় ছায়ার মত লেগে থাকা অপেক্ষাগুলো  মুক্তির  আকাশে আনন্দ উতসবে হারিয়ে যায়। 

গল্পের উপসংহারে  একটা  শান্ত তৃপ্তি সমস্ত  স্বার্থ, চালাকি, একাকিত্ব, পাওয়া না পাওয়ার যতি মুছে দেয় শেষ মেষ

প্রশ্নেরা চিহ্ন  হারায়, শব্দেরা ধ্যানমগ্ন হয়,

আর সে মুহুর্তের  নাম মহেন্দ্রক্ষন।

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২

প্র যত্নে আয়োজন

প্রযত্নে  আয়োজন 


সই

.....

সব ফুরিয়ে যাওয়ার উপসংহারে 

যেতে যেতে  চরিত্রেরা একটা ইতিহাসের  পাশে দাঁড়িয়ে থাকে শেষ মেষ । 

পিছনে ফিরে তাকালে সত্যি মিথ্যের যতিচিহ্ন  ছায়ার মত লেগে থাকে।

অনবদ্য  দিনলিপির একটা  খসড়া  থাকে প্রত্যেকের কাছে

অথচ সবটাই  নতুন অজানা সামনে রাখা অধ্যায়,, 

জীবন  প্রয়োজনীয়  আয়োজনে  প্রিয়জনের  তালিকা  তৈরি করে।

আর তারপর কোনো এক তারিখে পাশা পাল্টে  বুকের ভেতোর মুহুর্ত গুলো  কলজেটাকে নাগপাশে বন্দি করে না দেয় মরতে না দেয় বেঁচে থাকতে। 


শব্দ মহলে বর্নদের ইটের দেয়াল বুনে মানুষের  সম্পর্ক  আর সে সম্পর্কের ঘরেও ভালবাসা  একলা কাঁদে। 

বিশ্বাস  ভাংচুর , হাতে হাত রেখে কথারা ঠুনকো  কাঁচের মত আলুথালু  ছড়িয়ে ছিটিয়ে   অচেনা সে কাঁচে  নিজেকে রক্তাক্ত দেখেও হাসি পায়, যেন নিজেই নিজের ধ্বংস  দেখে উৎসব উজ্জাপনে মাতাল।

একটা দ্রোহের  কাছে একটা  দহন মিলেমিশে  বাঁচে শেষমেষ।


আসলে এ পৃথিবীতে সব আয়োজন প্রয়োজন  মেপেই চিরকাল

মানুষের চোখের পাতায় আজও  যে স্বপ্নের বাস সে স্বপ্নে ঈশ্বরের আধিপত্য চিরকাল , 

বুঝি না ঈশ্বরের আর শয়তান কি একই কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ!



সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২

অভিশপ্ত ঈশ্বর

দুচার কথায়  নিম্নবিত্ত দেওয়াল বুনি , তুমি শব্দে হাতুড়ি  পিটিয়ে  আশিয়ানা গড়তে  থাকো। 
যে তোমার নাম জপে মৃত্যু জাজিমে শুয়েও  তুমি সে প্রেমের নাম নিলামে  রাখো খুব সহজে ।

যে কথা বলোনি  শতাব্দীর পথ হেঁটে পাশাপাশি 
লিখেছো নিজের হরফে নিজের মত  অন্ধের গল্প  আলো লেখার আড়ালে।  , 
আসলে কয়েক ছত্র বাঁচতে গিয়ে মৃত্যু  কিনেছো এক মহাভারত। 
নিষ্ঠাবান কে একলা করে ঈশ্বর ও আসলে নিস্তব্ধতায় মোড়া একাকিত্বই  কিনে নেয়। 
কখনো কখনো  ঈশ্বরের চোখে  নোনাপানি  আর বুকে রাখা থাকে পাথরের  অভিশাপ। 

..
সই

গাছেদের সমীকরণ

  
মাটি আঁকড়ে থাকা  সম্পর্ক  আসলে প্রতিবাদের সমীকরণ 
 শিখে  নিতে পারে না,  
তারা শুধুই আকাশ - মুখি প্রেম ছড়িয়ে 
যায়  সবুজ  সাক্ষী হয়ে। ,

হ্যাঁ কখনো কখনো  মোলাকাত  ফুরিয়ে গেলে নিজের কাঠামো  ছেড়ে চলে যেতে  হয়। 

 কখনো কখনো মুখোমুখি দাড়িয়ে  থাকা ভালবাসাও পাতা ঝরা সময় হয়ে ওঠে অচেনা মুসাফির।  

শব্দের স্রোত সাক্ষী  রাখে আকাশ কারন সব গল্প মৃত্যুর  পর ফসিলের ভুমিকায় জমি কিনে নেয় সেই আকাশের নিচেই। 

আচ্ছা নিশ্বাস ফুরিয়ে যাওয়া  অথচ শেকড়ে মাটির টান না ফুরোনো মানে কি শব্দহীন  প্রতিবাদের জেহাদে একটা গোটা মন-জমিন বানজার করে দেওয়া?


...সই

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২

দিনলিপি

রোজ নিয়মিত সুতোর বুনোন জমাটি  আড়াল আর সেই আড়ালে  লুকিয়ে রাখছি তোমার দৃশ্য, 
কারন খুঁজে  সময় বিলিয়ে  সব  আর্তচিৎকার আর ক্ষত দের ব্যান্ডেজ বেঁধে  রেখেছি  সময়ের কফিনে, 
জিতে জেতে হয় এভাবেই নিজের কাছে নিজের জন্যে , 

সকালের কাঞ্চনজঙ্ঘায় লেগে থাকা মাত্রা ছাড়া  কুয়াশা 
শিখিয়ে দিচ্ছে  দূরে থাকা মানে ভালো  থাকা, 

বলতে চাওয়া কথারা একদিন ঠিক এভাবেই দুরত্ব  মাপতে মাপতে পাহাড়ের ঢালে  আরো কোনো  একলা সময়ে  হারিয়ে যাবে খুব সহজে। 
 যাকিছু  ছিল ইচ্ছাবাড়ির চিলেকোঠায় ক্যানভাসে  আঁকা  স্বপ্নের কথা ... তাদের গায়ে চির-শীত, যেন অভিমানের মত আঁকড়ে  ধরছে, 

ভালবাসার সাথে  ঝগড়া তবু ভালবাসা  দিয়ে আগলে রাখা স্বভাব।
প্রশ্নেরা জানে উত্তর  তবু জন্মের  সাথে সাথে  অনবরত  প্রশ্নের  রক্তক্ষরণ স্বভাব।  
  হাত বাড়ানো  বাঁচতে  চাওয়া প্রতিটা সম্পর্ক আসলে  সময়ের কাছে  সিড়ি ভাঙা অংক, হিসেব গুলো  নিজেদের  মত মিলিয়ে জমা খরচের  খাতায় নিজেকে  ঠিক  প্রমাণিতও হয়তোবা সময়ের স্বভাব। 


সেদিনের গল্প আজকের মত নয়



সেই দিন যে   উপন্যাসের ভূমিকা প্রথম  পাতায় শুরু হয়েছিল 
বৃত্তের পথে মুখোমুখি  হাঁটা কিছু শব্দের সোয়েটার বুনেছিলো সময় অজানা  নির্দেশ মেনে। 

আকাশে মেঘেদের মল্লার ছেঁড়া  তারের কান্না গাঢ় মন খারাপের তেজপাতা সবছিল ঠিকানায় রাখা , 
পথ ঘাট গলি মোড়ের মাথায় নির্ভর হীন নৈশব্দর ব্যাস্ততম  জীবন যেন সাজানো পটচিত্র।

সেই দিনের গল্পে  মহাকাল সাজিয়েছিল দাবার ছক 
মুখোমুখি দেওয়া নেওয়ায় দরবারে রঙ মাখা মুখ যেন সত্যির মত সত্যি।
আকাশী পরবাসে অগুনিত শব্দহীন চুপ কথার    ভাঙাচোরা স্বরলিপি।
সদিন যারা সময়ের দেওয়ালে সাক্ষ্য হয়ে ছিলো
কেউ আজ অপরাধী নয়, কারণ সময়ের প্রবাহে আবহাওয়া বদলায় বদলে নিতে হয় প্রয়োজনের সমীকরণ।


বাদশা বেগমের গল্পে জোকার ছিলো সেদিন  উহ্য,
সাজানো সাম্রাজ্যে  উদাস হওয়ায় বসন্ত ছিলো না  ।

 দিনগুলো  হাজারও মতলবি ডোরে বেঁধে ছিলো দৃশ্যের আড়ালে সে ।

 হ্যাঁ আজ মৃত সে গল্প ,  নেই সে গল্পের কোনো চরিত্রেরা আজ,
 



আজ সুখ খুঁজে নেয় নিজের মত সবটুকু আয়োজন ।
  আজ দুঃখ খুঁজে নেয় নিজের থেকে  নিজেকে আড়াল রাখার ব্যাস্ততা।




আজ  গল্পটা অন্য পথে  ,
আজ সেই ভাবনাটা সময়ের  সাথে শব্দদের সাহুর জলে ভাসিয়ে দিয়েছে অজানায় ।
আজ  উপন্যাস  লিখতে বসে  জীবন কে পাখির মত আকাশ থেকে দেখতে ভালো লাগে।
 


বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

সই(৬৩)

একটাই বেঁচে থাকা আর এ সফরে সকল সফরকারি  চায় তার সফর নিরাপদ ও সুগম হোক ।

  অমাবস্যা বিহীন একটা রাত-আঁকাশ , কাব্যময়-বারিশ ,  প্রিয় ওম ছড়ানো শীত সকালে প্রিয়  হাতে এককাপ চা  সকলের চাওয়া ।

 অথচ পাহাড়িয়া জ্যোৎস্নার পথে ভ্রূভুক্ষ মেঘ ভুরু কুঁচকে মুখ ভেঙচে সামনে দাঁড়ায়  সে পরম রূপকথার চাওয়ায়।
 
কুহেলিকার ওপারে দাঁড়ানো আত্মীয় অনাত্মীয় 
ঝাপসা..... আর যুদ্ধ সামনে রেখে ঈশ্বর বলেন সমস্ত প্রচ্ছদ আগে থেকে সাজানো  ।

...হ্যাঁ এই বেঁচে থাকা সফর তারপরেও এক উৎসবের ভেতর লুকিয়ে থাকা আর এক উৎসব

... মৃত্যু সত্যি তবু বাঁচতে চাওয়া আসলে বিসর্জন একমাত্র ভবিতব্য জেনেও সফরকে  ফুল মালা আলো  রোশনাই  দিয়ে  ভরে নেওয়া ।

...সই 
মন কথার কাব্য (১৮)

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

মন কথা (১)

মৃত্যুর কিনারা অবধি ছুঁয়ে থাকা সবটুকু মুহূর্তই
বোধহয় উৎসব ,
অজস্র আসা যাওয়া  ফিরে ফিরে বাতাসে
চেনা অচেনা সুবাস  ছড়ানো
তুমি , আমি ... আর আমি তুমির ঘর ,
ঘর ছেড়ে হারিয়ে গেলেই কাঁটা তারে মানচিত্র রক্তাক্ত ,
বাঁচার মানে  জীবন মঞ্চে রোজ কিছু  সংলাপ বদলে 
নাটকে ভূমিকা আর পোশাক খোলা পরায় নিপুণ হতে হতে পারদর্শী হয়ে ওঠা ।
আর শেষমেষ তুমি কতটা সফল যোদ্ধা তার ইতিহাস রেখে যাওয়া প্রজন্মের জন্য।


সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

ঘর বাঁধতে শেখা


সময়ের স্বাদকারক  বুঝে ফেলে সব রকম  কথাদের 

একলা কোনো বিরহী  অভিমান বোঝে  ...  সামান্যই  হোক তবু থাকুক নিষ্ঠার  স্পর্শ, 

এভাবেই বয়স যখন ষোলো  কিংবা বয়স যখন পরিযায়ী পাখির মত চেনা কালো পরীর হ্রদ ছুঁয়ে দূর কোনো সফরের পথে 

শহরের সোয়েটারের সাথে ওম তখনও  প্রয়োজন ঠিক  প্রিয়জনের  মতই । 


সময়ের বোঝা সময়ই পিঠে বেঁধে  নেয়

শিরায়  প্রবাহিত তরলে নানান ক্ষিদে প্রথম  বসন্তে ও শেষ  বসন্তে  থেকেই যায়  শুধু সে ক্ষিদের ধরন পালটে দেয় স্থান, কাল। 

প্রতিক্ষা কে মুক্তি  দিতে শিখলেই পর মুহুর্ত নতুন সূর্যদয় দেখে জীবন,

আর সময়কে স্বাগতম  জানালেই একটা আবিষ্কারের সামনে দাঁড়ানো যায় । 

তখন ভালবাসা  মানে মুক্তি  লেখা আকাশ 

তখন  চায়ের কাপের ওমে নিজেকে   নিবিড় করে চাওয়া একটা নিজস্ব  অনুভূতি যেন  চিরন্তন। 

তখন পাখিরা রুপকথার  গান গাওয়া শিখে নেয়।


আসলে যে টুকু  যেমন সেটুকু  অপরিবর্তিত  রেখে  নিতে জানা শিখে নিতে হয় নিজস্ব  তথাগতর কাছ থেকে সকাল বেলাতেই। 

 দিনের প্রহরে প্রহরে  শব্দ জব্দে জন্ম মৃত্যু  সবই লুকোনো থাকে... লুকোনো থাকে যুদ্ধ  হার জিত 


 তবুও এ শহর  এভাবে দারুন বেঁচে থাকতে শিখে নেয়   ,এ শহর বাঁচতে চাওয়াকে শুভেচ্ছা  জানায় স্বার্থহীন হয়ে।

এ শহর  জিশুর ক্রুসবিদ্ধ পট সামনে রেখেও মৃত্যু  না বেঁচে থাকার উৎসব  পালন করে।

সই(62)

প্রেম এর মৃত্যুর পর তাকে দাহ করতে হয় বুকের পাঁজরে আগুন দিয়ে ,
.. অথচ ওই প্রেম প্রসূত ভালোবাসা টুকু দ্রোহ আর দহনের মাঝে শেকড় ছড়িয়ে যায় অনন্ত-কালশৌচ  এর মত  ,
 এক মৃত্যু আর জন্মের দায় বয়ে বেড়ায়।
..সই

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

জন্ম ও মৃত্যু

জন্ম আর মৃত্যুর  মাঝে দাবার সাজানো ছক,  
খেলাটায় দু'পক্ষই  এক কাঠামোয় অবয়ব পায়।

কিছুটা শিখে নেওয়া কিছুটা  বোঝাপড়া,  কিছুটা তৃপ্তি, কিছুটা আফশোসে, বারংবার  আবর্তিত  গল্প।

দুই শব্দ জব্দের  মাঝে জুড়ে দেওয়া সেতুর কাঠে   সত্যি  মিথ্যের পেরেক পুঁতে পাওয়া না পাওয়ার অদ্ভুত  খেলায় দিন ভর সাজে নানান মঞ্চে নানান ভুমিকায়। 

মরসুমি সিঁড়ি ভেঙে পাতা ঝরে, বসন্তর বয়স বেড়ে
রঙ বদলায় কখনো  ফিকে কখনো  গাঢ়,
আবিষ্কারে আলো পায়  হাজারো  ছায়াপথ  রেখাপথ,, 
পায়ে পায়ে সফর ফুরোয় আঁতুড়ঘর থেকে দুরত্বের বুননে কাঁধের ঝুলি ভারি হয়... 
সংসারের ক্যানভাসে  আঁকা সূর্য পূব থেকে মাথার ওপর  আর তারপর   অস্ত হয়   ক্যালেন্ডারের কোনো একটা  সংখ্যার ভেতর ..., 
 আগন্তুক ফিরে যায়  মহাকালের কোলে, আবর্তিত সময় এসে দাঁড়ায় নতুন  ঠিকানায় নতুন দরজার  চৌকাঠে  পুরোনো আবর্তিত অভ্যেসে। 
সময় রাজা সাজে, সময়ই সাজে ভিখারি , 
সময় গড়ে নেয়, সময় করে ভাংচুর ,  সময় নিজেই নিজের গল্পের লেখকের  ভুমিকায় অবিনশ্বর। 

উপসংহারে

 

শব্দের হাঁড়িতে কাঠের জ্বাল দিয়ে একটা দেশ অথবা মানুষ হয়ে ওঠার  অধিকার  সুপক্ক ভাবে রেঁধে  ফেলা সহজ নয় কোনো কালেই,
ইতিহাসে জায়গা পেতে গেলে প্রেমের কান কেটে কিছু পাগলামি  উড়িয়ে দেওয়ার জন্যেও বুকের তটের মাটিকে উর্বর  করে নিতে জানা খুব জরুরী। 

সময়ের স্রোতে কাঠের পাটাতন ভেসে  বেড়ায়,  আবার সরগম তার আশ্রয়  খুঁজে বাঁশির অন্তরমহলে   প্রেম রাখে নিভৃতে। 


এক উঠোনে বারো ঘর তবু,   ঘর বাঁধতে এক টুকরো  মন জমিন নেই এ গ্রহর বুকে।
মন বাউল একতারায় কাঁদে কোনো না কোনো  সুরের ভুমিকায়।


শব্দের  প্রতিবাদ  বাতাসে নবান্নের  গন্ধ ছড়াতে পারেনি... তাই
 ভিন্ন রকম খিদেতে মানুষ আজও কাঁদছে। 

ভোর রাতে ঘুরে দাঁড়ানোর  স্বপ্ন আসে... মনে হয় এবার বুঝি দেশটা বদলে ফেলা যেতেও  পারে।

সকাল থেকে জলের লাইনে জীবন দেখি অগুনতি  ফর্মায় 
সাজানো,  বুঝে উঠতে  পারি না মানুষ  স্বপ্ন কেনো দেখে? 

একটা গান দিয়ে  একতারা, বাঁশি আর কান্না কে একই সংগতে বাঁধার লোভ হয় সমস্ত জীবনে দর্শনের শেষে রেখে যাওয়ার  ইচ্ছা নিয়ে সামিল হতে হয় রোজকার মিছিলে। 

তোমার প্রশ্নের জন্যে

তোমার প্রশ্নের  জন্যে
................................
...সই

.কেমন আছি জানতে চেয়েছো,  
তোমায় বলি মানুষের  জীবনে  তিন প্রকার থাকা হয়... বাইরে, ভেতোরে আর দোরগোড়ায় , 
আমি  এর মাঝে একটা  নিজস্ব ভালো থাকায় অভস্ত্য এখন। 

রাত গুলো আমার কোনো ভালবাসার  ওম জড়িয়ে  কাটানোর ইচ্ছা কিংবা সময় কোনোটাই নেই। 
মাথায় হাত কিংবা যত্নের  জন্যে তুমি নামক কোনো  অবয়বে  নির্ভরশীলও নই, 
গভীর  ঘুম  আমায় আদোরে এক সকাল উপহার দেয় স্বার্থহীন হয়েই।

আজ অনেকদিন হলো তোমার শরীরের গন্ধটা আমি অন্ধকারে হাতড়াই না আথবা  ভুলে গেছি কারনে অকারনের ভিড়ে।

 বহুদিন আমার স্বপ্নের বাড়িটা আমিই সাজাই কবিতা, ছবি, কাচের বারান্দা আর ঝর্ণার  কিনার দিয়ে।
বায়োস্কোপ এর বাক্স কাঁধে  কাকুটা এখন সময়ের দান পার করে অন্য কোনো চারিত্রর সাথে অন্য কোনো  গ্রহে হয়তোবা। 

আমার বাড়ির সামনে আজো পুরনো কৃষ্ণচুড়া গাছটা দাঁড়িয়ে  আছে একইভাবে 
 বাড়ির  রাস্তাটা শেষ মেষ বাড়ানো হয়নি 
তাই গাছটা আমার সাথে আছে এযাবত। 

 ইদানীং নিজেকে অধরা করে রাখার ম্যাজিকটাও শিখে গেছি ভালো মতোই 
না আমার পুরনো  কোনো  দৃশ্য  একেবারেই মনে পড়ে না 
 আর অকারণে আগের মত মনখারাপও হয়না, 
আমার দুপুরগুলো জলনুপুরের ছন্দে বিভোর থাকে ইদানীং। 

  গোধুলির  সাথে ফেরিঘাটে আসি নতুনভাবে  নিজেকে  জলের মত আবিষ্কার  করবো বলে, 
খুব সকালে প্রথম আলো আমার প্রেমিক এখন,
 সে ভালবেসে কপালে ঠোঁট  ঠেকিয়ে  রোজ একটা নতুন মোড়কে দিন উপহার দিয়ে বলে আমি রইলাম তোমার প্রতিটা ক্ষনের সৃষ্টি ও ধ্বংসের  পাশে ও সাথে। 
বহুদিন   রাতের অন্ধকারে আমার উত্তরের বারান্দায় দাড়ালে কান্না পায়না আর। 

 মনের না বলা কথাগুলো আমার ক্যানভাস  বুক পেতে যত্ন  করে সাজিয়ে গুছিয়ে  রাখে আর
তারপর মনে মনে আমি বলি
আমার উপন্যাস  এবার সম্পুর্ণর পথে
আমার প্রেম এবার পুর্ন কোজাগরী স্নানের জন্যে প্রস্তুত, 
আমার অভিমানে  এবার শুধুই  তৃপ্তির ভালবাসার পরশ,
আমার সমস্ত রুপকথা  এবার আমাকে ঘিরে উৎসব উজ্জাপনে সামিল হতেই ব্যাস্ত। 







রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

মা

💐মা💐

সময়ের স্রোতে আসা যাওয়া... জন্ম-জঠর থেকে পৃথিবীর সাথে পরিচয় ,আর আজন্ম একটা বর্ন ,গন্ধ, স্পর্শ , লেগে থাকে ।

উৎসব,আনন্দ ,পাওয়া ,নাপাওয়া ,দুঃখ ,রাগ ,শোক,  যন্ত্রনা, অভিমানে  অস্ফুট  কিংবা প্রচন্ড

 চিৎকারে ,  ... আর সব কিছু ছাপিয়ে যে

 অনুভূতিগুলো নিজেও ঠিক বুঝতে পারা যায় না  সেই অনুভূতি

 যে শব্দটা নিঃশব্দে নিঃশর্ত হয়ে  বুঝে নেয় এই

 সমস্ত জন্ম উপত্যকায়   সম্পূর্ণ একটা শব্দ  💐 'মা' 💐 ।

অথচ সময়ের প্রবাহ কিংবা মহাকালের স্রোতে এই সৃষ্টিতেই সেই পরম কাছের  শব্দের স্বাক্ষরকেও বিলীন হতেই হয়।

আর তারপর সমস্ত পৃথিবীতে পড়ে থাকে একমাত্র হিসেবী সম্পর্ক ,শর্তে দাঁড়িপাল্লায় রাখা সম্পর্কের বানান গুলো ।

 মা এক বছর  তুমি চোখের সামনে নেই ,
আর কখনো চোখ খুলে তোমায় দেখতে পাবো না ,

   তোমার না থাকা জুড়ে চিরন্তন থাকাটুকু শুধু মন মস্তিষ্কে রয়েছে ।

                     🙏মা ভালো থেকো🙏
                     💐💐💐💐💐💐💐

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

সুখি অহংকার

সুখ কি কোনো খোয়াই এর হাটে কিনতে পাওয়া যায় ! লাল নীল কিংবা সাতরঙা পোশাকের মতো,

আর পসার শেষে ঘরের আয়নায় সে সুখ গায়ে জড়িয়ে ঠিক কতটুকু আত্মতৃপ্তি কেনাই বা যায়।

হাতা খুন্তি আর বাজারের থলেতে সুখ কি দরকচা হয়ে যায় !


নাকি প্যাট আর চ্যাটের শান্তিই আসল সুখ,

প্রশ্ন অনেক


তবে এ তিলোত্তমায় কাঁচের বয়ামে সুখ বিক্রি হয় শুনেছি, 
যার  ক্রেতা ইচ্ছা মত কিনে নিয়ে সুখ আর ইচ্ছার সামিয়ানায় তাসের ঘরে সুখের সাথে সহবাস করে নেয় ইচ্ছেমত,
আর নিজেদের উৎসব উদযাপন করে ,।



যারা এই পসারে ক্রেতা তাদের বালিশ বিছানায়  আঁশ টে গন্ধ লেগে  সারা জন্ম তারা নিজেদের অভ্যস্ত করে নেয় সে গন্ধে ।
ফুলের বাগানে তাদের বেঁচে থাকা গাগুলিয়ে ওঠে।

নিজেদের মত সংবিধান ভাঙে গড়ে,
তথাস্তু বলে মনের দর্পণে খেয়ালি তথাগত হয়ে উঠতে ভালোবাসে ।

                               ***

একবার একটা লোক কে খোয়াই এর হাটে কাঁধে সময়ের ঝুঁড়ি নিয়ে চিৎকার করে বলতে শুনেছিলাম...   সুখ গো সুখ কিনবে  আমার কাছে হরেক রঙের সুখ কিনতে পাবে , চাই নাকি গো ?

লোকটা আরো বলছিল আমার কাছে কিন্তু এই সুখ কিনতে কোনো পয়সা লাগবে না ,
শুধু একটা গরুর দনের মত আমার পেটের ক্ষিদে মিটিয়ে দিলেই   তোমাদের যার যেমন সুখের দরকার আমার কাছে পেয়ে যাবে।


একজন এগিয়ে এলো   পায়ে দামি জুতো গায়ে সিল্কের জামা শৌর্যের আতরে শুধুমাত্র খোয়াই এর হাট নয় কবিগুরুর সবটুকু লালমাটির জমি আকাশ ও বাতাস তার দখলে যেন মুহূর্তে,

কাছে এসে ফেরিওয়ালার খুব কাছ ঘেঁষে বললো
একটুকরো সুখের স্বপ্ন আছে   আমি কিনতে চাই আমার বালিশে সে সুখের স্বপ্ন গুঁজে রেখে আমি  রাতে শান্তির ঘুম ঘুমিয়ে পড়বো  ,
তার বদলে আমার তিলোত্তমায় তোমায় রাজপ্রাসাদের মত  বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা সব দিতে পারি ,।

লোক টা ফ্যালফ্যাল করে তাঁকিয়ে বললো বাবু আমার বাড়ি গাড়ি নরম বিছানা কিছু চাই না ,

শুধুমাত্র এই যে বিশাল পেট দেখছেন এরকম
 আরো পেট আছে .....যে পেট ভুবনডাঙ্গা মাঠের থেকেও আয়তনে বেশি,   কোপায় এর গতিপথের থেকেও বিশাল ,  সোনাঝুড়ির এই বনানী থেকেও বড় , বড্ড খিদে লেগে থাকে অষ্টপ্রহর   এ পেটে,

 সেই খিদে মিটিয়ে দিলেই আপনার প্রয়োজন মত সুখ আমার কাছে কিনতে পাবেন।



 সুখী হতে চাওয়া লোকটা শেষেমেস সুখের স্বপ্ন কিনেছিল কি না জানি না।
তবে আমি সেদিন শহরের অহংকারী আকাশকে  সাধারণ লালমাটির কাছে মাথা নত করে কাঁদতে দেখে ছিলাম ভিখারির মতোই।

আর আমি শহুরে আভিজাত্যর মোড়কে গল্পের কোনো চরিত্র নই বলে নিজেকে এক ফোঁটা অহংকারশিশিরে স্নান করিয়েছিলাম।



বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২

তফাৎ

সব সভ্যতায় এক অজানা গন্তব্য লেখা থাকে,

 সফরকারি পথিক হয়তোবা জানেনা তার শেষের মাইলস্টোনের সংখ্যা।

 এই সফরে হাজারো আমি তুমি, পাশাপাশি  হাঁটতে হাঁটতে কোন না কোন  সম্পর্কদের নথিতে নাম লিখিয়ে দেয় মহাকাল,
পথ ভাগ হয়ে যায় একসময় , চেনা যাকিছু ভুলে
 যোগাযোগহীন কিছু পথে সময় নিজের মত বীজ পুঁতে সবুজ রোপন করেই নেয় , সম্পর্কের ঘর তখন চিহ্নহীন নোয়তবা ইতিহাসের বুকে ঘুমিয়ে।

এই কোত্থাও চিরন্তন নয় জেনেও    রোজ রোজ চারদেওয়াল বুনে নেয় এ সফর-সময়ের সেলাইকলে ,
 
প্রতিটা  জন্ম  নিয়মে থাকে অথচ ...
অথচ কোনো বেঁচে থাকায় কেউই হয়তোবা গাছ হতে পারে না ,,
 কোত্থাও  নেই বলেই মানুষ আর গাছেদের মাঝে তফাৎ রয়ে গেছে

.... সই

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

আরশি নগরের পথে




একদিন নিজেরই  হাতে হাত রেখে আরশি নগরের পথে হাঁটবো ,
আমার শেষ না হওয়া উপন্যাসকে  বলবো, 

 এসেছি এবার কথা রেখেই ফিরবো।
পথের ওপর লুটিয়ে থাকা  গাছের শুকনো পাতাদের  স্পর্শ করে বলবো, 
মনে আছে তোমাদের তুবড়ি ঝরানো হাসির আলো  মুহূর্তে বিহ্বল করেছিল আমার প্রথম পথ চেনার দিনগুলোকে ।


আরশি নগর যাওয়া হয়নি ,  তবু আমার চোখে বুকে এক আরশি নগরের স্পষ্ট নকশা আছে -

                                          চিনে নেবো নিজের মত করে সে কোনো এক ভোরের দুয়ার খুলে।

আমার ভাঙাগড়া সংসারের মাঝে ২০৬ টা হাড়ের কাঠামোয় রাখা ঠিকানায়  তুমি নামক স্পর্শ একদিন  বাতাস পাঠাবে ঠিক ,
সুরজকা সাতবা ঘোড়ার ক্ষুরের ধ্বনি বুক পকেটের নিয়ে চিৎকার করে বলবো এ প্রার্থনা মঞ্জুর হোক সময়ের দরবারে ...

আমি নিশ্চিত ... বেজে উঠবে শঙ্খ ঘন্টা কাসর, মুখরিত বাতাসে আরশি নগরের সবটুকু অপেক্ষার সুবাস,,

কারা যেন বলে উঠছে
            ফিরে আসবে  কথা রাখবার জন্যে জানতাম !
আমার সেই প্রথম ফুটে ওঠা
  মল্লিকা  বলবে তুমিই যে পারো মনে রেখে কথা রাখতে
 
আমি ক্লান্তি খুলে হেসে বলবো,  আমার উপন্যাস যে ফুরোয়নি ... আমায় যে আসতেই হতো।

বোধ থেকে যে আরশি নগরের ছবির ভেতর আমার উপন্যাসের বোধোদয় , 
এমন সুখের উপত্যকায় আমি আমার থেকে বেরিয়ে শব্দের রঙ তুলিতে স্বর্গ মেলে দিতেই
আমার আরশি নগর বলবে 
এবার আমি তোমার ভেতর নয়, 

তুমি আমাতে বাস করো দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ বরস মাস !
  



পথ

 ক্রমশ এগিয়ে যাবে সময়

শিখর চূড়ায় দাঁড়াতে হবে একদিন

ভালো মন্দের বিচার  মন ও মস্তিষ্ক ছুঁতে পারবে না তখন। 


সূর্যের চলে যাওয়ায় রাত আসবে 

অন্ধকারে খোলস খুলে মন ফিরে যেতে  চাইবে

একান্ত নাভিশ্বাস সাক্ষী রেখে পুরোনো শৈশবের সকালে

খুঁজে ফিরতে চাইবে সময়ের হাত ধরে হাঁটা সেই চৌরাস্তায় হেসে ওঠা ছেলে বেলার অবয়বটা ,


সময়ের আগমনী গান আর

 বিসর্জন জন্ম নাভি বিন্দুতে জমানো থাকবে শেষ পর্যন্ত।

একটা বিন্দু ছুঁয়ে মানুষ জীবন প্রদক্ষিণ করে

যেখানে সবকিছু  আলগা হয়েও মুক্তির একটা নির্দিষ্ট তারিখেই লেখা থাকে,,

জীবনের আলনায় ঝোলানো হাজারো বায়নাবিলাসী ইচ্ছা পাট খোলা ভাঁজ ভাঙা থাকবেই।

মন বাড়ির বাইরে সাজানো বাগান ,সূর্যর সাত রঙ মেখে ফুলেরা আসে আবার মিলিয়ে যায়,

  মুহূর্ত পাহাড়ের উচ্চতা ছাপিয়ে লিখে রাখে দিনলিপি

 প্রতিটা ভেঙে যাওয়ায়  হাওয়ায় ভরি হয় 

প্রতিবার ইঁটের পিঠে ইঁট সাজিয়ে

ইমারত আকাশকে জানায় অস্তিত্বের ইমান ঠুনকো নয় । 

তাই তারিখের আগে  জীবনফর্মা শেষে হয় না কখনো।


বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২

অস্তিত্ব

অস্বস্তি 

জন্ম ও মৃত্যু আসলে একটা  সময় এর শুরুয়াত কিংবা  শেষ, 

এখানে কেউ স্বপ্ন দেখা শেখে না, স্বপ্নর ইঁট বানানো  শেখে,

শেখে মাটি আঁকড়ে থাকার সংকল্প থেকে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পরমত্ব। 

জন্ম মানে কিছু নিশ্বাসের  হিসেবে  মেপে নেওয়া ক্লোরোফিল 

আর সোনালী  কাব্য জড়িয়ে পাথরের ওপর নকশা  গড়ে নেওয়াও হতেই পারে। 


তবু জন্মের দায়িত্বের ভেতোর মায়া, মোহ, ভালবাসা, ঘৃণা, প্রশ্রয় , আশ্রয় ,  দঁড়িয়ে থাকে ঠিক নেমেসিস এর মতোই, 

আর জীবন যতিচিহ্ন  গুলো বড় গোলমেলে ... এখানে উত্তরের মতো প্রশ্ন আর প্রশ্নের  মতোই সব উত্তরেরা, 

সময়ের ঘরে ক্ষত আর ক্ষতি  লাভ ও লাভবান একইসাথে  সহবাসী... যেন কয়েন এর এপিঠ ওপিঠ 

পোয়াতি মেঘের ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা জলের ফোঁটাকেও বন্যার অপবাদ মেনে নিতে হয় আঁতুড়ঘর পেরিয়ে। 

 অন্ধকার সময়ও  চোখ খুলে রাখে  এক ছটাক আলোর খোঁজে, 

 আর মুহুর্ত  মুঠো থেকে কিভাবে যেন  নিরুদ্দেশে হারিয়ে যায়। 

একটা কোপাই নদী হাতছানি  দেয় নিষ্ঠাবান  একা হবার

 একা  বাউলের একতারায় প্রেম

গেয়ে ওঠে  "আমি আকাশে রোদের দেশে ভেসে ভেসে বেড়াই মেঘের পাহাড়  চড়ো তুমি "।

জন্ম ঘর থেকে মৃত্যুর ঘর আসলে একটা সময়- বন্ধনী  আর পথে বারংবার কোনো না কোনো পথিকের  যাওয়া আসা,

আমরা সকলেই সময়ের  ঘরে এক একটা  মুহুর্ত -গুচ্ছ মাত্র,

জন্ম মৃত্যু  আর অপেক্ষা  একটা  বিলীন  হয়ে যাওয়া  সময়ের। 


বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২

সফর


সময়  ভুল নয়  নয়,  ঈশ্বর  কিংবা  প্রেম কোনটা ভুল কে বলবে!

হাতের ওপর  হাতের রেখা মিশিয়ে একটা প্রসস্থ  পথ... 

 সেও ভুল নয়। 

সমস্ত প্রত্যাবর্তনের গহীনে আসলে একটা না বলা গল্প থাকে সময়ের ফাটলে মুখ গুঁজে, সে গল্প বা গল্পের চরিত্র  কখনো বা বরফ-যুগ হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস হয়ে যায়। 

 এ সফরে কেউ কারো অবসর কিংবা ভাবনা চুরি করেনা অকারণে, 

আসলে... 

কিছু প্রশ্রয় জীবন শৈলীতে অজান্তেই অভ্যাস হয়ে যায়, 

আর শহর, ঘর, পথ সেই অভ্যেসে  সামিল হয়ে যায়  আজানা নিয়ন্ত্রণেই।

এরপর  কেউ কেউ হয়তো সহজ ভাবে নিজস্ব  শিরদাঁড়া বিক্রি  করবে বলে মোমের আগুনে মৃত্যু  কিনতে চায়।

তবে মৃত্যুর সামনে গিয়ে দাড়ানো ততটা সহজ নয়... মৃত্যু  পথ কেবলই খেলনাবাটির সফরও নয়। 


জীবন কে ভালবেসে বহু বেঁচে থাকা গোপন কারনে নিলামে দাঁড়ায় 

আর জীবনই আবার অবাক দৃষ্টিতে সে নিলামিও দেখে,

তবে এ পৃথিবীতে আসল কলজে কোনো বাজারেই

 বিক্রি হয় না কোনোকালেই. ..  যাকিছু  সহজলভ্য অসম্পৃক্ত তা হয়তো বাজারি চিরকাল। 

পরে পাওয়া চোদ্দআনার দাম ঈশ্বর ছাড়াও একমাত্র অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে  থাকা খিদেটা  জানে।

তবু  সোনার থালায় খিদে মেটানো রাজাও অভাব পুষে রাখে নিয়মের বাঁধনে। 

আর সময় বলে আমি খেলাটার দান চেলে রেখেছি, পথ, প্রাসাদ  ও মঞ্চ দুই তৈরি   তুমি কেবল একটা সাজানো কাঠের  কাঠামো  যে কিনা ঈশ্বরত্বে পাওয়ার নেশায় মশগুল। 

তোমার তাসের ঘর, তোমার জতুগৃহ, তোমার মৃত্যু জাজিম সব বুনিয়ে নিচ্ছে  সময়, অথচ  এই আমি শব্দটা 

সময়ের  এই খেলাটা  কখনো বুঝতে চায় না 

জীবন  যে কেবল  তিনপাত্তির খেলাটুকু নয়... 


মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২

কাহিনী


তুমি লিখছো কাহিনী, কেউ শুনছে কাহিনী, 

আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা  স্বপ্ন -বাড়ি

নীড় ছোটো  তবু হৃদয়ের ঘরন্দা অসীম। 

 ঘরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে  তোমার সাজানো  গল্প,

সে গল্পে হাতা খুন্তির  সাথে সাজানো পটে প্রতিটা চরিত্র 

আত্মীয়হীন।

.

জীবন কখনো  নিজে থেকে স্পর্শ  দেয় না  

সব কিছুর মুল্য সে নিয়ে নেয় চুক্তি  থেকে মুক্তি  অবধি,,

কৃষ্ণ  পার্থ কে তবু বলে যায়  সামনে বাঁচতে  চাওয়া  প্রতিটা সম্পর্ক  আসলে মৃত।

একটা সুতোর এপার আর ওপার... তুমিও বোধহয়  একদিন ঈশ্বর  হতেই চেয়েছিলে তাই,  

অথচ তোমার  গল্পে তুমিই শয়তান  সাব্যস্ত  শেষমেশ । 

.

অজানা কেউ গল্পের শেষটুকু লিখলো একদিন

সে গল্পে  নাম বদলে দিলো  

সে শয়তান  থেকে আবার ঈশ্বর  হয়ে ওঠার  প্রার্থনা  রাখলো

ফসল ফলাতে চাইলো প্রথম কার্তিকের  ভোরের বুকে।

তবু হত্যাকারী বদলে  যায়নি

তবু প্রেমের নামে প্রতারণা  ফুরিয়ে গেলো না। 

তবু একশ চার সপ্তাহে  অক্ষত রইল সমস্ত  ক্ষত আর রক্ত ক্ষরনের প্রবাহ পথ।

তুমি লিখছো কাহিনী ... কেউ শুনছে কাহিনী 

 আবারও মেঘেদের ঘরে ডাকাত করলো চুরি 

আসমানী  রঙ আসমানী জমিনে ইঁট গাঁথা একটা  স্বপ্ন -বাড়ি

সব হারা হলো  মন্দবাসির অহংকার। 


শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

অন্য শহর


 অন্য শহর 

... সই

.

ঘোড়া  কিংবা ইদুর যে কোনো  একটা  দৌড়ে  সামিল 

এই শহর,  কিছু নিয়মিত  নিয়মে গচ্ছিত রাখা নিয়মের ভাংচুর।

আয়নার  সামনে সাজিয়ে রাখা বোঝাপড়ার চালচিত্র, 

 অথচ  কোন কোন  সফরের  মাঝেই আচমকা  দেখা মেলে প্রাক্তন গল্পের সাথে, থমকে যায়  মুহুর্ত  যেন  জীবন  গো-স্ট্যাচুর খেলার ময়দানে, 

অনুভূতির  জলে  কে যেন একের পর এক পাথর ছুড়ে তরংগে কাঁপুনি  এঁকে  দেয় তিব্রতার সাথে।

.অন্তরমহলে হাত পা ছুড়ে অধিকার  জানাতে চায় কারা যেন। 


 অভিমানি বিকেলে  সাঁঝবাতির আলোর  প্রয়োজনের   হিসেবকেও  সময়ের প্রেম বলেই ধরে নিতে হয়,

 কিন্তু প্রেমও  খোলা জানলার ওপাশে একটা আকাশ খুঁজে হিসেব  মিলিয়ে নিতে চায়, 

তারপর কোনো  এক অন্ধকার  পেরোনো  ভোরের উঠনে  মেঘ আছড়ে পড়ে সবটুকু নিঃস্ব করে। 

এ শহর জানে এমন গোপন মর্মকথা।

এ শহরের বুকে দাঁড়ানো কয়েকশো বছরের সবুজ এখন গাড় ও পাকাপোক্ত এ অভ্যেসে । 

.

মানুষ  বাঁচার নিশ্বাস  কুঁড়িয়ে ফেরে এই পাকাপোক্ত  সবুজের  কাছে,

 মানুষ  ভালো  থাকতে যে নিয়মে নিজেকে বাঁধে একদিন আবার কোনো  নতুন ভালথাকার আবেসে সেই নিয়ম ভাংচুর করে বেরিয়ে  আসে  ,

চেনা  হয়ে যায়  অচেনা, 

ভুলতে চায় মন রোজকার অভ্যেস...

প্রিয়জন কখন  প্রয়োজন  ছাড়িয়ে বিরক্তিকর  আবর্জনায় ট্রান্সফরমেশন। 


  মনের  ঘরে  এলোমেলো ভাবনা  জমে... জমে ইচ্ছা রঙে  আঁকা  অপুর্ন  হওয়া   ঘরে দেওয়াল বেয়ে অঘ্রানী শিশিরের জল , আর কাঁচের বয়ামে রাখা কিছু বেঁচে থাকার সংকল্প। 

এরপর একদিন 

 ভাগ্য মেনে গংগায় ভাসিয়ে দিতে হয় জল-আহুতি ভেবে  


কে কার  নীলচোখে সমুদ্র ডুব দিতো এ শহর মনে রাখেনা তারপর , 

কে নিয়মের চৌকাঠ মাড়িয়েই অনিয়মের উৎসবে মাতাল করতে শিখিয়েছিল শহর  মনে রাখে না তারপর। 

শুধুমাত্র  প্রতিটা ভাংগতে থাকা ইমারতের আঘাত বুকে লুকিয়ে রাখে, আর ফিসফিসিয়ে বলে ভেঙে যাওয়া  যে ফুরিয়ে যাওয়া নয়


বরং ভেঙে  যাওয়া হলো   সময়ের আগুনে একটা আহুতি    যাকিনা  মনে করিয়ে দেয় এই শহরের ভেতরে  আরো একটা  অন্য শহরকে।   


শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস

জগৎ বিখ্যাত দানবীর "দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ যিনি একজন বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদও , একইসাথে কবি ও লেখক ,  ...স্বাধীনতা সংগ্রামী এই জগৎ বিখ্যাত মানুষটির জন্ম কলকাতার পটলডাঙা স্ট্রিটে,
মা নিস্তারিণী দেবী, বাবা ভুবনমোহন দাস।

দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন ভিন্ন গোত্রের । 
জাগতিক বিষয়ে তিনি বরাবর ছিলেন আপনভোলা  ।
প্রেসিডেন্সি কলেজের পড়া শেষ করে পাড়ি দিয়েছিলেন লন্ডনে আইসিএস হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ,
এই সময় দাদাভাই নওরোজিকে পার্লামেন্ট সভ্য নির্বাচনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে  জে ম্যাকলিন নামে এক ওল্ডহ্যাম প্রার্থী ভারতীয়দের 'গোলামের জাতি'  উল্লেখ করায় গর্জে উঠেছিলেন চিত্ররঞ্জন দাস  এই প্রতিবাদ এ রাজনৈতিক সক্রিয়তার ফল স্বরূপ তিনি আইএসসি হতে পারেননি ,
পরে তিনি মিডল টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করেন।

তার 'মালঞ্চ' কাব্যগ্রন্থর  'ঈশ্বর' ও 'বারবিলাসিনি' কবিতার জন্য  ব্রাহ্মসমাজ তাকে ঈশ্বর বিদ্রোহী ও মাতাল আখ্যা দিয়েছিল , পরে তিনি প্রথমটির উত্তরে 'প্রার্থনা' কবিতাটি লেখেন ।
তার বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল  এই ভাবনায় লেখা প্রকাশ  করার জন্যে।


আইনজীবী হিসেবে তিনি যথেষ্ট ঈর্ষণীয় রোজগার করতেন। আইনজীবী হিসেবে আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলা ছাড়াও চিত্তরঞ্জনের কয়েকটি নামকরা মামলা হল, নোয়াখালি নোট চুরি, ভূকৈলাশ জমিদারির নোট চুরি, ডুমরাওন, ঢাকা ষড়যন্ত্র, লছমীপুর, বন্দেমাতরম্ প্রভৃতি। মামলার সওয়াল-জবাবে চিত্তরঞ্জন প্রয়োজনে ব্রিটিশ বিচারকদেরও যথেষ্ট বাক্যবাণে বিদ্ধ করতেন।
তবে  আইনের মারপ্যাঁচ তেমন ভালো লাগতো না ।

সাহিত্যের সৃষ্টি আর তার রসাস্বাদনেই তিনি তৃপ্তি পেতেন।  তিনি বাংলা সাহিত্যের স্রষ্টা 'নারায়ণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন,
এছাড়া তিনি বৈষ্ণব-রসশাস্ত্রর প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন ।
এই বহুমুখী প্রতিভার খনি 'দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস'
আজকের দিনে (৫ই নভেম্বর ১৮৭০) জন্ম গ্রহণ করেন ।

এই প্রখ্যাত আইনজীবী তথা ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা , এবং উদার ও মানবদরদী দেশবন্ধু কে আমাদের  'মোন-তোরঙ' এর  পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।
       ***শুভ জন্মদিন 'দেশবন্ধু চিত্ররঞ্জন দাস'***










বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২

একা থাকতে ইচ্ছে করছে

তোমার সাথে  সব কথা হয়তো  শেষ .... আমার ভেতর কেউ তবু অনর্গল আমার সাথে মুখোমুখি  বকবক করে সারাক্ষণ।  

 ভীষণ একলা হতে ইচ্ছে করে,  ইচ্ছা করে আমার ভেতর আজীবনের  নিস্তব্ধতা এসে ঘর বাঁধুক ,

অথচ  শব্দরা প্রতিবাদ করে সে নিস্তব্ধতা গুড়ো করে দেয় নিমেষে 

 কিছুতেই একা হতে পারি না আমি ,

নিজের সাথে নিজে যে মুহুর্তে  ভালো  থাকার বন্ধনে বাঁধি...  তখনই   আমার ভেতর  কেউ বকবক করে চলে অসম্ভব চিৎকার করে ,

 ইদানিং  একালা থাকতে ভালো লাগে ভিষণ  অথচ  একলা থাকাটা হয় না কিছুতেই। 

.

  আলোহীন  রাস্তা ধরে হাঁটতে  ভালো লাগে নিজেই নিজের হাতে হাত রেখে

একা থাকা এক অদ্ভুত  নেশায় পেয়েছে...  একা  কোনো গন্তব্য হীন পথে এগিয়ে  যাওয়া  এক অ-সুখ আমাকে পেয়েছে। 


 কবিতার শব্দরা  বন্ধনী ছেড়ে  একা একা রাত জাগে..  

 শব্দদের দিন কাটে যেমন বাউল কাটায় প্রহর   

তবুও কেন জানি আমার  একা থাকা হয় না । 

.

 বড় একা ও নিস্তব্ধ থাকতে ইচ্ছে  করে আজকাল

 চারদেয়ালের ঘরের মেঝে জুড়ে   কেউ যেন অজস্র বকবকানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে  রেখেছে  ।

রেলিং ভর করে রাস্তার দিয়ে তাকিয়ে থাকা সড়কটাকে 

বহুদিন...  বহুরাত একলা হতে দেখিনি। 

রবিঠাকুরের গান কোনো পুর্নিমার একলা রাত পেরিয়ে শুধুই শহরের ভিড়ে রিমিক্স এখন। 


 বহুদিন একা  ফাঁকা বাসের সিটে একলা কোনো  স্মৃতি কে আনমনে আকাশ দেখতে  দেখিনি । 


এই পৃথিবীর এখনো কোনো একলা থাকার  ঋতু আসেনি।

কারনের  উৎসব , কারনের  অধিকার , কারনে সম্পর্কের মাঝে হাতে হাত আর কারণের কিছু আশ্রয়ে  মানুষ  একলা থাকতে ভুলে গেছে এখন, কিংবা  একলা থাকতে ভয় পায়। 


  আজকাল ভালোবাসার গলার স্বর শুধু শুনতে ইচ্ছে করে না

আজকাল আমার ভেতোর কার যেন  ঠোঁটের নড়াচড়া আর বকবক  অনর্গল  আমাকে ঝালাপালা  করে দেয়

শব্দহীন একটা  পৃথিবীর দেখতে ইচ্ছে  করে.... ভাল থাকার জন্য  নিজের সাথে নিজে একলা থাকা, নিজের সাথে পথ চলা, নিজেকে  বুঝে নেওয়া... খুব জরুরী। 

তবু পারছি কই একা থাকতে 


 যেন কেউ অনর্গল    ইদানিং আমার ভেতোর  শব্দের কারখানায়  হাপরে টান দিয়ে চলেছে  হাতুড়ি  মারছে শব্দ গড়তে।  

বড় এক থাকেতে ইচ্ছা করছে । 

একেবারে  নিস্তব্ধতা একা আলোহীন  হয়ে নিজের ভেতোরে  একা থাকতে  ইচ্ছে  করছে। 

.

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২

জীবন সংলাপ

 মানুষ কখনো না কখনো নিজের ভেতরের  দরজাটায় গিয়ে দাঁড়ায় 

দরজা খুলে দেখে  কিছু  অনুভূতি হয়তোবা সময়ের আলনায় পাট করে সাজানো আছে

কিংবা সম্পর্কের  অনেকগুলো  বন্ধ জানলা   অন্ধকার ঘরের ভেতর   বানানো  ,

সময়ের পরতে  মোড়া  মানুষগুলো ঋতু পরিবর্তন মেনে চলা জানে বলেই

 গ্রীষ্মের প্রখর রোদ কিংবা বরফ শীতল শীতে আশ্রয় শব্দটার     তলায় দাঁড়াতে অভ্যাস করে নেয়। 

 বর্ষায়  ভিজে যাওয়া শরীর দু চোখের অভিযোগ অভিমান লুকিয়ে  ফেলে অযথা  মেঘের দিকে আঙুল  দেখিয়ে। 

.

সময়ের আগুনে অগুনিত প্রশ্নের  বিলীন  যেন  সব প্রশ্নেরা উত্তরহীনতার গহীনে হারানো দুয়ার মাত্র।

আসলে জীবন হলো মহাকালের ক্যানভাস 

সময়ের কাছে  রং ধার করে শিল্পী ছবির মতো করে একটা গল্প আঁকে ,

জীবনের কাছে তাই প্রতিটি বেঁচে থাকার অজস্র  প্রশ্ন   থাকে,  

মানুষগুলো জীবন কাটাতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। 


দেহ শুধুমাত্র ধারক  ,

আসল কেউ একজন  চিরকালীন জীবন মৃত্যু  মাঝে নাটকের  সংলাপ  লিখেছে

সে শুধু পর্দা ফেলছে আর চরিত্র, স্থান, কাল, বদলে দিতেই ব্যস্ত। 

আমরাই  তো শুধু কাল্পনিক অস্তিত্ব 

আসলে বাস্তব হলো জীবনের গল্পগুলো কেউ আগে থেকেই  লিখে রেখেছে 

এক একটা মঞ্চের  দরজার  সামনে এক একটা গল্প,

লুকিয়ে রাখা গল্পেরাও বন্ধ মঞ্চের দরজার

 পাল্লায় ধাক্কা দিয়ে খুলে আলোর  সামনে দাঁড়ায়, 

আসলে বন্ধ কিংবা  বন্দি গল্পেরাও জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখতে চায় 

জীবন সংলাপে  তাদেরও যে ভুমিকা আছে সেটা চিৎকার করে  পৃথিবীর  কাছে জানিয়ে দিতে চায়।

মৃত্যু একটা পরিবর্তন


.

দেহের সৎকারে  নাভির বিলীন হয়নি 

তবু জন্মের আঁতুড়ঘর থেকে অনেকদুরে কোথাও হারিয়ে যেতে হবে  সব নক্ষত্রকে একে একে।

কাগুজে পরিচয় পত্রের জন্ম লিখে রাখে পৃথিবীর ইতিহাস।

শরীরের ঘর, মনের ঘর, সামাজিক  ঘর... যেন  ঘিঞ্জি  বসতি সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে। 

সূর্য  ঘুমিয়ে গেলেই নিজস্ব কুপির আলো জ্বালিয়ে জীবনকে সেঁকে নিতে হয় রাতভর, 


.  মানুষের মনের আকাশের অজস্র  চরিত্রের মেঘ ভেসে  বেড়ায়, তবু  এক মুহুর্ত সময়ের গতিপথ থামে না 

সময়ের রাজার চুলের রঙ ফ্যাকাসে হয় প্রতি বসন্তের আগেই, 

  শীত-কাঁপন এর তিব্রতাও বছরের সংখ্যা আকাশমুখি ক্রমশ। 

মানুষ নিজের কবিতায় নিজেই রাজা থেকে ভিখারি সাজে রোজ নানান মঞ্চে।  

সমুদ্র সফেনে হারিয়ে যায়  প্রিয় মুখ, চোখের উপকূল জুড়ে

ছড়িয়ে থাকে চেনা অচেনা পায়ের চিহ্ন, 

.

আকাশের  দিকে তাকিয়ে থাকা ঝাঁকড়া গাছটা কি করে যেন  একরকম  বিস্ময়কর ক্ষমতায় ভালো  থাকা শিখে নিয়েছে, 

মানুষের ভিড়ে গাছটার খোঁজ স্বতন্ত্র, তার সবুজে বেঁচে থাকার কবিতা অনন্ত,


আসলে  গাছ, আকাশ, মৃত্যু শব্দটা যতটা সত্যি মানে

তার থেকেও সত্যি মানে... বাঁচা মানে প্রতিটা নিশ্বাসে একটা উজ্জ্বল উজ্জাপন, 

মানে মৃত্যুর একটা পরিবর্তন  মাত্র।

 

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২

দৃষ্টিকোন

চাঁদের  আলো কুড়িয়ে নিয়ে জ্বালাই আগুন

অন্ধকার রাজপথে   উজ্বল বেঁচে থাকার ব্যাস্ততা   খোঁজে 

 পথ ও পথিক দুজনেই একলা।

বাঁচার ইস্তেহার ,ঝকঝকে  হাসি বিক্রি করে শহর

বাঁচার বিশ্লেষণ নিয়ে  রাত রঙিন  করতে চেস্টা করে  শো-কল স্ট্যাটাস। 

সময় মাফিক  শহরের  আকাশে  মেঘের আড়ালে চাঁদ জড়িয়ে নেয় প্রেম

অনেকটা মীরার নিরব ভালবাসার  মতো মনে হয় এই আকাশী গল্পটা। 

.

রাজপথ ঘেঁষা চায়ের দোকান 

অকারণের মোড়কে কারন সাজিয়ে নেওয়া   মাটির ভাঁড় লুটোপুটি খায়  সম্পর্কে  জাগলিং ফস্কে গিয়ে,

চমকে  পিছন ফিরে তাকায় একটা সময়  

একটা  মৃত্যু  বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড জুড়ে ভয় ছুড়ে দেয় আচমকা   হিমেল ঝোড়ো  হাওয়ার মতো 

নির্ঘুম রাতে  মনেরই বারান্দায় অকারণে চাঁদের আলোয় পুড়তে থাকে মন নিজেই

একটার পর একটা সম্পর্ক পুড়েছে  সময়ের চিতায় । 

.

আমরা কখনো কখনো  দুঃখের কারন খুঁজি  বিলাসি মনের খোরাকী  হিসেবে 

 সুখী জীবনের আড়ালে  বিরহী শব্দের সোয়েটার বুনতে বুনতে

ভালবাসাটা যেন অভ্যাস  করে ফেলি কখনো কখনো   ,,,

 জীবনের  গতিকাঁটায় ৮০ কিংবা ১০০ যাইহোক  না কেনো ,

আমরা প্রত্যেকে নিজেদের  সাথেই নিজেরা

একটা রেসের মাঠের ছুটে বেড়াই ,

গতি বাড়ে ,জীবনের  স্পটলাইট খুঁজে চলে  গন্তব্য  

মুহুর্ত এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বেঁচে থাকার ইস্তেহারের  সামনে 

একটা অচেনা হাসি  খুব লোভি করে দেয় মুহুর্তে  দাঁড়িয়ে থাকা মন ও মস্তিষ্ককে।

 চোখের জল মুছে নিয়ে ইস্তেহারি হাসিটার আবেশে  আরো এক মুহুর্ত  হেসে উঠে বলে


আমিও তো ভালো আছি... আমিও যে ভালো  থাকি... আমিও যে সকালের আলো ও রাত্রির অন্ধকারের মতই রোজ নিজেকে ভাঙি

আবারও নতুনভাবে গড়ি আবিষ্কার  করি।

সবকিছু নান্দনিক

  সবকিছু  ভীষণ   নান্দনিক 
জীবন মানে অনুভবের পাত্রে জড়িয়ে থাকা ওম
সব পবিত্র হয়ে যায় স্বচ্ছতায়  ডুবে থাকা সম্পর্কে  
যেন নিজস্বতার আহুতি  নিজের ভেতোরে নিরন্তর। 

দাউ দাউ আগুন পুড়ে যাওয়া  সময়ের ঘরেও ভালবাসা ঘর বাঁধে, 
নিকোনো উঠোনে  অপেক্ষায় প্রদীপ  জ্বলে প্রতিটা সাঁঝবেলায়, 
 কারণ  নির্লিপ্ততায় কাঁটা তার শব্দটা  বেমানান  চিরকাল । 
.
অসমাপ্ত  জীবন বলে কিছু হয় না 
প্রতিটা দিনলিপিতে  অসঙ্গতির আড়ালে আসলেই সমস্তটা সংগতিপূর্ণ ,
 অজানা অচেনা অথচ ভীষণ  চেনা কেউ আছে মনের জমিতে ঘর করে, আছে  হাজারো গল্পের
বুনোনের সুতো তার আঙুলে  । 

 অজস্র মুহুর্ত,  একটা  বিশাল উপন্যাসের খোলা পাতায়... 
মহাকালের চরিত্রদের   জন্ম ও মৃত্যুর মাঝ পথের গল্পে 
  অসমাপ্ত খোলা পাতায়  জীবন লেখা পরিপূর্ণতা পায় ।
.

 মানুষের  বুকের কাছে জমা হয়ে থাকে অনুভবের  খালি  পাত্র। 
সময়ের গভীরে হাঁটতে হাঁটতে   সম্পর্কেরা ছুঁয়ে  দিলেই সে পাত্র ভরতে থাকে ফোঁটায় ফোঁটায়,
 ভালো থাকা, খারাপ থাকা  আসলেই  ক্যানভাসে ছবি আঁকা  শিখে ফেলার মত রপ্ত করে নিতে হয়,
 ভালোবাসতে চাওয়াটাও  কারণ ছাড়া  শিখে নিতে হয়, 
আর এই শেখা গুলো  পরিনতির ঝুলিতে তৃপ্তি সঞ্চয়  করিয়ে দেয় শেষ উপসংহারে ।
হ্যাঁ  কখনো কখনো সময়  মুখোশ পরে   দাঁড়িয়ে মুখ ভেংচায়, 
 তবু মানুষ  সুকৌশলে বাঁচাটা শিখেই নেয় । 

 একলা মুহুর্তে  ফিরে  ফিরে আসা ফ্ল্যাসব্যাক  হয়তোবা কাঁদায় কিংবা  হাসায়, 
সে কান্না হাসিতে  কিছুই বদলায় না চলন্ত মুহুর্তে 
 মানুষের ভালো থাকা  তার নিজের কাছে
অনুভবের খালি পাত্র জীবনের নানান রঙের কিস্তিতে ভরে যায়  ঠিক, 
আর মেঝের উপর গড়াগড়ি যায় কিছু অহংকারে খোলস।

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

সুকুমার রায়

সুকুমার রায় যিনি একাধারে কবি, ছড়াকার,শিশুসাহিত্যিক,রচনাকার,নাট্যকার, সম্পাদক ও প্রবন্ধকার,  বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্য জগতে তিনি  'ননসেন্স রাইম'এর জন্মদাতা। 

আমাদের শৈশব কৈশোরের দিনগুলো  নানান খেলার সাথীর মতোই সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল বইটিও ছিল মনজুড়ে। 
সেই বই এর পাতায় কুমড়োপটাশ, হুকোমুকোহ্যাংলা , কলের বুড়ো ,হাঁসজারু  আমাদের শিশু মনের আনন্দের খোরাক  ছিল অপরিসীম। 

আজ এই কিংবদন্তি মানুষটির জন্মদিন , ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কলকাতা শহরে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ,বাবা ছিলেন বাংলা শিশুসাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। 

সুকুমার রায়ের লেখা ছড়া গুলো বিশেষত আবোল তাবোল বইটির ছড়ায় আপাতদৃষ্টিতে অযৌক্তিক ব্যাঙ্গাত্মক হলেও  অন্তর্নিহিত অর্থ যথেষ্টই গভীর তা এই বড়বেলায় বুঝতে পারি আমরা ।
 তার নাটক বা ছড়া নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে ততটা তার গল্প ও প্রবন্ধ নিয়ে হয়নি , তার রচনায় স্থান পেয়েছে সত্তরটি গল্প ,ষোলটি জীবনী ,একশো আঠাশটি প্রবন্ধ ।

সুকুমার রায়ের বিখ্যাত গল্প গুলি 'হ য ব র ল'  'পাগলা দাশু'  , তার লেখা 'হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডাইরী'তে  এক অদ্ভুত  এডভ্যাঞ্চার  সন্ধান আমরা পেয়েছি ,  
 পরে এই এডভ্যাঞ্চার আরো পূর্ণতা পায় তার সুযোগ্য পুত্র সত্যজিৎ রায়ের হাতে ...'প্রফেসর শঙ্কু' সিরিজ   নামে।

সুকুমার রায়ের পান্ডিত্য ছিলো বহুমুখী  ,তার সাহিত্য প্রতিভা অসম্ভব বিচিত্র  ও সমৃদ্ধশীল ।
এমন ক্ষণজন্মা প্রতিভার অধিকারী অসামান্য ব্যক্তিত্বের মানুষটিকে তার  শুভ জন্মদিন আমাদের 'মন -তরঙ'এর পক্ষ থেকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য 
         শুভ জন্মদিনে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক বাঙালির মনে  অম্লান  তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি  চিরন্তন ।

মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

সই(৬১)

ক্যালেন্ডারের  কোনো কোনো তারিখে আমাদের দূরত্ব  কমে যায় ... এক আকাশের নিচে অন্ধকার  রাতের প্রদীপ  হয়ে পুড়তে থাকি দুজনেই,
গংগার কিনার জুড়ে আজো  বসে থাকে চুপচাপ একটা অপেক্ষা  ... 
তুমি চেয়ে  দেখো যে কথা বলা হয়নি তোমাকে তারা সবাই
ছড়িয়ে আছে কবিতায়, 
....সই

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

মন খারাপ একটা শব্দ মাত্র


আজকাল  আগের মত মন খারাপ হয় না, 

 প্রথম কার্তিকের  হিমেল  আমেজে এখন  এক ওমে  বহুদিন  নেই  আমি ,তুমি 

বৈশাখী রোদ্দুরে   কিংবা ভরা পোয়াতি শ্রাবণের   বর্ষনে কখনো  আমি ,তুমি এক ছাতায় 

 পাহাড়ি  ঝর্নার  খুব পাশেই খোলা  বারান্দায় গরম  চায়ের কাপে  কখনো  আমি, তুমি পরম উত্তাপে মিশে 

হয়তো  আকাশের বাইরে সিঁড়ি বেয়ে এখন আমাদের প্রাক্তনী সুর বাজে সারেংগিতে

তখনও মন খারাপ হয় না আর। 

.

মনখারাপী মেঘের গায়ে  সত্যি সত্যি অতীতের ফোটোফ্রেম গুলো বড্ড জরাজীর্ণ 

জরাজীর্ণ  অতীত  একলা  শীত রাতের মত রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে  ফুরিয়ে যাওয়ার  অপেক্ষায়, 

আসলে কিছু সম্পর্ক  যখন থাকে খুব কাছে থেকে যত্ন  করে 

তখন সেটা  কেমন যেন  প্রিয়জন না  প্রয়োজন  হয়েই থেকে যায়  ,

 প্রয়োজনের বাইরে  বাঁচাগুলোয় কোনো  সুর তাল লয়ের দরকার হয় কি না জানা নেই  ।

এই সংসারে দরকার ছাড়া  কেউ কারো কাছে ও পাশে থাকে না। 

.গভীরে এসব  ভেবেও দীর্ঘশ্বাস  কিংবা মনখারাপ  কিছুই কেন  হয় না আজকাল আগের মত জানি না। 

 পাখির মত সময়ের সাথে বদলে ফেলা যায়  মনের ঠিকানা, 

সুতোর বুনন দেহ রাখে সময়ের স্রোতে   মানুষের  মনখারাপ  হয় শেষকৃত সেরে আয়নায়  নিজের বদলে যাওয়া  চেহারার  মুখোমুখি হতে গিয়ে। 

স্টেশনের শেষ ট্রেনে   অসহায় অপেক্ষা সময়ের দুরত্বের মাইল ফলকে হারিয়ে যায় 

তাই ভালবাসা মরে যায় একদিন

তাই একলা দিনে ঝড়ের মতো স্মৃতি এলোমেলো হয়ে বিস্মৃতির অতলে চাপা পড়ে যায় মানুষের অজান্তেই , 

 মনখারাপের কবিতায় নতুন  শব্দের সূর্যদয়ের মতো 

কষ্ট ঢেকে যায়  আলোয় আলোয় ,

 বুকের গভীরে মৃত স্বপ্নেরা মাটি ভালবেসে ফেলে,, 

আসলে জীবনটা সত্যি  রিলের মতো নয়,

 সব শর্টগুলো সবসময়  দারুন ভিউয়ার্স পাবে তেমন টা নয়।


কেউ কেউ একটাও লাইক নাও পেতে পারে।

তাই মনখারাপ  শব্দটাকে নিয়ে বিশেষ মনখারাপ করার তেমন কিছু নেই।

 

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

বাঁচতে চাওয়া একটা অভ্যেস

বাঁচতে  চাওয়া কি আসলে একটা  অভ্যেস মাত্র?

অভ্যাস ধরে হাঁটতে হাঁটতে  

 একটা গোটা  জীবন পেরিয়ে আসে মানুষ, 

সময় মাঝে মধ্যেই অসম মুহূর্ত থেকে  গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দিতে পারে 

সেখানে সময়ের কখনো ক্ষতি হয়না,

বরং বেয়াড়া বিকেলে সেই সব  মুহূর্তদের পাশে বসে এক কাপ গরম চায়ের ওমে নিজেকে হাওয়ায় মিশে  যেতে  দেখতে বেশ  লাগে। 

যারা মৃত্যুর কথা বলে তারা আসলেই মরে গেছে অনেক আগেই 

.

যারা অন্ধকার ঘরে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে ভাবে আহা কি দুঃখ 

তাদের দুঃখ কেবলি রবিঠাকুরের কবিতা ও গানের ভেতোর

যারা সাজানো দুঃখে সুখে  পাশে থাকবে   বলে তারাও আসলে সাজানো মঞ্চের  অভিনেতা অভিনেত্রী, পর্দা নামলেই অন্য এক চরিত্রে রূপান্তরিত। 


 জন্মান্তরের কথায় তাদের অনেক সাজানো গল্প থাকে জলখাবারের প্লেটে , তারা সব সাজানো সোনার  তৈরি  সে খাবারে খিদে মেটে না সে সম্পর্ক চোখের  জল মুছে নেওয়া যায় না ।  


বাঁচতে চাওয়াটা আসলে একটা দারুণ সফরের  অভ্যেস, 

  

মানুষকে বহুবার   অসম  মুহূর্ত  পথের ধুলোয় খোলা আকাশের নিচে মিশিয়ে দেবে  থাকবে না সেখানে

সামান্যতম  সমবেদনা ,

আমরা জানি ভিক্ষুকের  মানচিত্র লাগে না,  লাগে না কখনো কোনো সীমানা  তবু  তার অন্তরমহলে এক শান্তির  মন্দিরে  স্থাপিত থাকে গভীর  দর্শন ,

  কাঁদতে পারে যারা তারা ভালবেসে দুঃখ কেনে নানান কিস্তিতে, 

 আর নকল হাসতে পারে যারা তারা সুখী দেখাতে চায় এ দুনিয়াকে আসলে তাদের  ভেতোরে দারুন প্রেমহীন  হাহাকার উপচে পড়ে। 

 সীমাহীন গন্ডির বাইরে কিছু   স্থবির অস্তিত্ব 

 হাত পা ছড়িয়ে ঘুমোতে থাকে, 

 বেঁচে থাকে  বেঁচে থাকার অভ্যেসে 

কারণ  সেই সব আসম  মুহূর্তদের পাশে বসেও 

তারা মৃত্যুর কথা না ভেবে বেঁচে থাকার অভ্যাসকে রপ্ত করে নিতে থাকে বারংবার। 

দিন পেরোচ্ছে

দিন  পেরোচ্ছে, আবার নতুন আকাশ দেখতে পাচ্ছে মেয়েটা 

ঝকঝকে সকালে সাদা খাতায় তার সূর্যদয় আঁকা  আবারো সে শিখে ফেলছে 

 লক্ষী মেয়ের ট্যাগ সরিয়ে অলক্ষীর নেমপ্লেট মেয়েটার দরজায়, 

 অলক্ষীতেই বিশ্বাসী  সে আজকাল

ভালোবাসায়  রাখা  মাটির মূর্তিগুলো ইউসলেস আজকাল তার ড্রইংরুমে,  

মেয়েটার কিচ্ছু যায় আসে না এ নবরুপি পোষাকে তাকে আসলে কি চোখে দেখছে শহর, 

এখন কারো দেখার সার্টিফিকেট  নিয়ে মেয়েটা জীবনের ফাইল ভরে রাখে না। 


.

 টের পেতে চায় না কোন সাধনায় সে আরাধ্য


মেয়েটা একদিন যে দরজাগুলো দিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছিলে  তাদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছে আতসবাজির ফুল্কি,


ইদানিং ও চোখে চোখ  রাখতে এ শহর কে ভাবতে হয় কিছুক্ষণ,  

 নিজের লড়াইটা একলাই অনায়াসে  লড়তে শিখে গেছে সে   

.

  শরীর জুড়ে আজস্র সৈন্যের দল

 সশস্ত্র  হাত  , ভালবাসার  শ্বেত পদ্ম নামিয়ে বজ্র তুলে নিয়েছে, 

 আঙুলে আজকাল জ্বলন্ত মারিওয়ানার বেপরোয়া খেলা, 

 চোখের ভাসায়   নতুন  অভ্যাসের জন্মদিনের রোসনাই 

 সুজন তোমার  শহরের কাছে সবটাই একটু বেশি রকম বদল তাই না? 

যে মেয়েটা এক সময় বাঁচার জন্য ,ভালো থাকার জন্য নিজের  নির্ভরশীল একটা ছায়া খুঁজে ফিরতো


আজ  নির্ভরশীল শব্দটা তুড়ি  মেরে উড়িয়ে দিয়ে অট্টহাসিতে হারিয়ে যায়  সে শ,...  হাজারো মনের ছায়া মেয়েটার অস্তিত্ব। 

যে মেয়েটা আজ থেকে বছর দুই আগেও ভালোবাসতে চোখের জল ফেলতো 

সে আজ খুব অবহেলে ভালোবাসা শব্দটার সফর করে এ শহরেই  ,

সময় বদলায়  

 আর বোকা বানানো সম্ভব নয়  সুজন তোমার সেই বোকাসোকা  মেয়েটাকে।

 পায়ের জুতোয় আজ টিপে রাখে ভালোবাসা নামে প্রহসনের  গলা 

হ্যাঁ  বোকা  মেয়েটা জেনে গেছে ভালোবাসা একটা মরীচিকা।

আর সে মরিচীকায় ডুবতে  নেই কেবল ডুবে যাওয়ার অভিনয় টা শিখে  নিতে হয় জবরদস্ত। 


কালির আঁচড়ে


 কালির আঁচড়ে জীবন লেখা যায়  কিনা ভেবে দেখা হয়নি। 

জীবন শুধু মাত্র  সফলতায়  দেখার নাম নয়,  শুধুমাত্র  প্রাপ্তির নাম নয় ,, 

হ্যাঁ  একজন মানুষ  একাকিত্বে  একলব্য  আজীবন , কারণ  প্রতিটি  যুদ্ধ  তাকে একাই লড়াই করে  হারতে কিংবা  জিতে নিতে হয়,

না কোনো দ্রোণাচার্য  সময়ের দরজায়  দাঁড়িয়ে  থাকে না... থাকে না পিছিয়ে যাওয়ার কোনো  পথ


মানুষের  ইতিহাস মানুষকে হেরে যেতে  দেয় না, আসলে হার জিত নয় সবটুকুই কেবল পুঁজি। 

.

যেখান থেকে জীবন লেখার কথা ছিল  সেখান থেকেই লেখাটার শুরুয়াত করে সময়  ... তা সে সাত পাঁচ কিংবা আকাশের চাঁদ কিংবা  ধুমকেতু যাকিছু  আসুক না কেনো....সময়ের কাঁটা   ভুল করেও টিক টিক পথ চলা বন্ধ  করে না।

বাঁচার রাস্তায়  দাঁড়িয়ে  থাকা  প্রিয় মুখও হয়তোবা  কালের খেলায় হারিয়ে  যায় নিয়মমাফিক কিংবা  নিয়মের বিপরীতে। 

 কর্ণর মত জগৎসভায় একাই একার সাথ দিতে হয় শেষতক,


সকলেই আমরা হার জিতের খেলায় পুঁজি  সঞ্চয় করি জীবনের ঝুলিতে 

 আর তাই সকলেই   হেঁটে যেতে  পারি মাথা উঁচু  করে, 

তোমার চোখে জল বুক পকেটের রুমালে লুকিয়ে রাখা আসলে বেঁচে থাকার  একটা  কৌশল , আর সেটা শিখে  নিতে হয় সকলকে।


কালির আঁচড়ে জীবন  লেখার চেষ্টায় হয়তোবা 

কালি ফুরিয়ে যায়  কিংবা ফুরিয়ে যায় জীবন, 

বিকিয়ে যায়  অনেক মুল্যবান যতি চিহ্ন জীবন সফরে,


কারণের পৃথিবীতে  ব্রাত্য দের প্রয়োজন বারংবার জরুরী 

তবুও যত্নে  বেঁচে থাকার উৎসবে আলোর প্রদীপ  জ্বালানো ভীষণ  দরকার, 


কারণ  শেষে নিস্তব্ধ কিছু থেকে যাওয়ার  নাম 

স্মৃতি, 


 আসলে মহাকালের  যুদ্ধটা ফুরোয় না কখনো 

তাই মানুষ খিদে পেটেও অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়ে 

মৃত্যু দিকে পিঠ ফিরিয়ে বেঁচে থাকা মানে উৎসব  ভাবতে পারে।

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

সবটাই মিথ্যে

মিথ্যে বলেছিলে  আগলে রাখবে, হাঁটবে সমন্তরালে, 

নিষ্পাপ মনে তোমার দেওয়া ফুল  গুঁজে নিয়েছিলাম  নিজের খোঁপার বাঁধনে যেন  ঠিক জড়িয়ে নিয়েছিলাম তোমায় ,

আলোর দিকে হাঁটতে  চেয়ে   তোমাকে  উদ্দেশ্য  করে বেড়ে ওঠা মানিপ্ল্যাট গাছটাকে যেমন ইচ্ছে কাটলে, উপড়েই দিলে। 

গাছটার ভেতোর সবুজ  ভাবনার  বাসগুলোর কথা একবারও ভাবলে না

ভাবলে না তোমার ছইয়ে একটা  নিশ্বাস বেঁচে  আছে 

.

মিথ্যে বলেছিলে সাথে আছি,  মিথ্যে  বলেছিলে এটাই তোমার শেষের সেই মাইলফলক, 

সারারাত ঘুমের চোখে মিথ্যে স্বপ্ন এঁকেছি তোমার রঙে 

অজস্র মিথ্যের ফাঁকে নিজেকে লুকিয়ে তুমি আমায় বিকিয়ে দিয়েছো অনায়াসে, 

আমি কিন্তু সত্যি সেদিনে  এবং এদিনে একই রকম  ভালো আছি ,

আসলে তুমি  ঘর শব্দটার মানে বোঝোনি, আসলে বাউলের ভেতোরেও একটা  গোপন  নিজস্ব কুটির থাকে সেটা জানতে চাওনি।

 হয়তো আজকাল তোমারও  মন কাঁদে আকাশে মেঘ দেখলে। 

.

 হাজার মিথ্যে গল্পর মত তোমার মিথ্যে গল্প এ শহর শুধু ভালোবেসে বুকে রাখলো

 হাজার মিথ্যে ঘর ভাংচুর এর মতই   এই শহরে  তুমিও আরো  একটা  ভালোবাসার ঘর ভাংচুর এর সাক্ষী এবং আসামি দুই চরিত্র হয়ে থাকলে।

হয়ত অনেক কবিতা ও গানের কলিতে কারা যেন  বলে গেছে চারটে দেওয়াল মানে নয় ঘর 

হ্যাঁ  হ্যাঁ  মিথ্যে তোমার এই সাজানো বাঁচার খেলা

তোমার মিথ্যে  হাসি মিথ্যে কান্নায় আমার মল্লিকা ফুটেছে  আর   ঝরে পরেছে, বুঝিতে বড্ড সময়  নষ্ট হল

কিন্তু সেই বিশ্বাস  সেই হাসিতে আমি ছিলে  না কোনোদিন তুমি কেবল  স্বার্থপর নাটকের  চরিত্র  যাপন  করে  গেছো

তুমি পথ চলতি আশ্রয়হীন দের নিয়ে তথাস্তু  তথাস্তু  খেলায় আনন্দ  পাও 

 আজ আমি জানি তোমার আসলে আশ্রয় নেই , 

মিথ্যে তোমার  এই সংসারে দাবা খেলায় হেরে যাওয়া  

তুমি জানো না ভালোবাসা আসলে মাটি আঁকড়ে থাকা শেকড় 

একটা আশা 

 একটা  নির্ভেজাল ভাবনা। 

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

মুক্তির পালক

হাওয়ায় ভেসে থাকা পালকের মত লাগে  এ মুক্তি 

এ মুক্তি  নিয়ে জীবন  যেন  উজ্জাপন মনে হয়। 


মশগুল ব্যাস্ত  দিন রাতের সবকটি প্রহর , আমার কবিতার  খাতায়  আমি মুক্তির পালক আঁকতে থাকি 

তুমি বা তোমার পৃথিবীতে  তখন সময় চটকে কিছুটা আলোর দিকে পথ চলতে  চাওয়া হঠাৎ  জেগে ওঠা  ইচ্ছার তুবড়ি জ্বলছে,  

আমি  আজকাল অবাক হই না কোনো  দৃশ্যেই,

 আজকাল ছেলেবেলার ছাদ আর আকাশের রামধনু বড্ড মনে পড়ে... মনে পড়ে  ঠাকুরদার মুখে শুনে  আসা রুপকথার অবাক করা গল্পের  কথা ,  ইচ্ছে হয় ফিরতে 

 ইচ্ছে হয় ভাসতে  রামধনু আকাশে  পাখির  জীবনে  

যদি ভাসতে  পারতাম  আগের মতো এখনকার   নষ্ট অধিকারের শিকল  গুলো  ছিড়ে,

যদি চিৎকার করে আকাশ আগলে বলতে পারতাম , আমি পাখির মত ডানা মেলবো একদিন ,  যদি  বলতে পারতাম

থ্রি চিয়ার্স ফর লাইফ ,

তারপর হয়তোবা মুক্তি আঁকার আনন্দের  আরো আলো এই নয়নে ভরে নিতে পারতাম

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

লোকে আমাকে পাগলী বলে

সত্যি প্রহসন মনে হয়  আজ... 
 আজ কেউ যদি বলে আমি..... তোমাকে ভালোবাসি খুব কিংবা তোমাকে সারাক্ষণ  মিস করি, কথাগুলো  শুনলেই প্রহসন  মনে হয়। 
তাই আমি চাই না কেউ কানে কানে কিংবা  কবিতায়  বলুক 
আমার শুধু তুই... আমার আর কোথাও  যাবার  নেই তুই ছাড়া, আমি তোর ভেতোরেই শেষমেশ  থামতে চাই,
আমি শুনতে চাই না... আমি শুনতে চাই না।
আর যাই হোক তোর হাত আমি ছাড়বো না, এমন কথা শুনতে চাই না।
.
অনেকগুলো রক্ত কান্নার  রাত অন্ধকারে ডুবে গেছে নিজেকে হত্যা করে, আসলে আমি অন্ধকার হয়ে বেঁচে  থাকতে  চাইনি কখনো ,  
 গভীর ওম,  চোখ সহজ ভাষা কাছে পাওয়ার
 অভিমান ... হয়তো ... হয়তো  অনেক বড় আমার চাওয়ার লিস্ট 
লোকে পাগলী  বলে
আমি বলি আমি  কিন্তু  শুধুমাত্র  মন্দবাসায়  একনিষ্ঠ  প্রেমিকা হতেই চেয়েছিলাম। 
.
অদ্ভুত কাব্যিক  আমার প্রেম আর সে চোখে  পেরেক পুঁতে  দেওয়া রক্তাঞ্জলি রাত 
 ফেলে আসা পারিজাতের শব্দরা সব ছায়াময়ী অশরীরির   মত আমাকে জড়াতে থাকে কেনো জানি না 
বুকের ভিতর অভিমানগুলো তখন মাটি চাপা পড়ে
গেছে,  মাটির বুক চিরে  সাদা রজনীগন্ধার গাছ
 সেদিন গুলো   কেন জানিনা আমার বাঁচার গল্প লিখতে ইচ্ছে হতো। খাতার পাতা তখন তোর গল্পের ভীড়
গল্পের শব্দরা তখন তোর শরীর জড়িয়ে বলছে কত্তদিন তোকে জড়াই না, 
আকাশ জুড়ে আচানক বর্ষা নেমেছে কতবার
 আমাদের  সঙ্গম কে হিংসা করে তুমুল ভিজিয়েছিল আকাশ কত কত দিন।
ক্রমশ  আলো অন্ধকারের  খেলা শুরু  হলো 
তুই হারিয়ে গেলি ঠিক কিন্তু তোর গল্পেরা থেকে গেলো তুই বিহীন হয়ে আমার ভেতোর বাইরে। 
লোকে আমাকে পাগলী বলে 
আমি বলি পাগলী  হয়তো এখন  আমি  কিন্তু মন্দবাসায় একনিষ্ঠ  প্রেমিকা হতেই চেয়ে ছিলাম শুধুমাত্র। 

মন্দবাসার সমাপ্তি

তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি ঠিকানা ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছিলাম ক্রমশ... , গাছেদের পাশ কাটিয়ে হারালো পথ, 
স্রোত সাক্ষি রেখেছিলাম,   সাক্ষি রেখেছিলাম আসমান, 
গাছেদের পাতার রেখার সাথে আমার হাতের রেখা ও আমি তোমার গহিনে  পথ হারালাম, 

 কোন  এক নতুন বর্নের  মেঘ বদলে দিলো আকাশের নিশান, 
নদী বক্ষ লুকিয়ে ফেলেছিলো  স্রোত  সক্ষতা। 

প্রতিটা গাছ একই রকম দেখতে,   প্রতিটা পথে ফেলে আসা আজস্র পায়ের চিহ্ন দেখতে একই রকমের , 

তোমার  ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে যে শব্দের কাছে  আমি বান্ধব বর্নে ঋনী হয়েছিলাম... তারা এই গহিনে হাতছাড়া হলো এবার। 

অজয়ের বুকে মোহ ভাসিয়ে  ঘোর জ্বর গায়ে  ঘরে ফিরেছি যখন,

 মনে হলো  আমার আত্মজ শব্দেরা  যারা  কিনা হারিয়ে গেলো গহিনে,     যাদের  মোহ ভাসিয়ে এলাম  অজয়ের বাউল স্রোতে,
 তারা কি পথ চিনে ফিরবে কখনো ?
 মন মুচড়ে উঠলো হয়তো... হয়তোবা চোখ  জ্বালা করে উঠলো  এক মুহুর্ত। 
তোমায়  বললাম চল ওদের  ফিরিয়ে আনি... ওরা যদি  পথ চিনে  ফিরতে না পারে!  তবে যে ওদের ছাড়া অসমাপ্ত আমার মন্দবাসার উপন্যাস । 

গেলাম   ...সে প্রান্তর  ছাড়িয়ে গহিনে আরো গহিনে আরো গহিনে, 
যেখানে গাছেদের সব পাতার বুকে আমারই  হাতের  রেখা,  যেখানে নদী, স্রোত,  পথ, আলো, অন্ধকার পারিজাতীয় সংগমরত  সমস্ত দৃশ্যেরা ভীষন ভাবে  জাগ্রত , 

অথচ আমার শুন্যতার ফ্রেমে সে সব মোহন  দৃশ্য বেঁধে রাখার 
সামান্য আকুতি নিমেষে  উধাও, তারা আর নেই, 
নেই অসমাপ্ত  উপন্যাসের কিসমতের ভয়। 

দুদন্ড দাড়িয়ে  ভাবতেই  বুঝলাম
তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি কখন  জেনো তোমাকেই  পেছনে ফেলে অনেকগুলো  অদৃশ্য মাইল পার করে ফেলেছি, 

 এখন অজয়ের ব্যাস্ত  স্রোত,  গাছেরদের সারি সারি বিলিকাটা পথ, ওদের পাতার রেখার মত আমার হাতের রেখাতে তোমার অস্তিত্ব নেই। 
আমার এতকালের মন্দবাসার উপন্যাসের পাতায় অদ্ভুত  অকাল বর্ষনে একটা  অক্ষরও আর নেই, 
মন্দবাসার খাতাটা আদ্যোপান্ত একেবারে  সাদা।

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২

সমাপ্ত প্রহসন

এখন আর বেশি বাকি নেই 

হাওয়ার কাছে বার্তা আছে  জানালার নেমপ্লেটে অলিখিত চুক্তি রেখে যাবে পুরনো ইতিহাস, 

জানলার পাশে পড়ার টেবিলে হলুদ পান্ডুলিপিতে

 সব কবিতা  অসমাপ্ত হাহাকারে কাঁদছে, 

 জীবিত পরিচয় বেঁচে যে একদিন জমি কিনেছে  আজ তার

জমি শ্মশান মাত্র,

.

আচমকা ধড়ফড় করে উঠে বসে লোকটা  

অজস্র কালো ফ্রেমের অসমাপ্ত ছবি লোকটার বুকের দেওয়ালে আটকানো পেরেক দিয়ে

ছবিগুলোর গায়ে স্বপ্নের বদ রক্ত  প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে স্থির, 

 প্রশ্রয়ের কাছে ঋনী লোকটার মাথা নিচু আজ,

কোনো  উপসংহারি সমাপ্তি  লেখা হবে না কবির খাতায় কোনদিন, 

কেবলমাত্র একটা অসমাপ্ত  নেমপ্লেটে কিছু হিসেব লেখা থাকবে মাটির ওপর আর লেখা থাকবে প্রেমিক আর স্বার্থপর  একসাথে হওয়া যায়না। 


.

চারিদিকে জমে থাকা নোংরা  জলে যোগবিয়োগ এর ফলাফল হিসেবে কিছু ব্যাংাচি কিলবিল করছে আজ। 

 সিঁড়ি ভেঙে ভরসার চিলেকোঠায় লোকটা আর উঠতে পারবে কিনা জানা নেই, ,

লোকটা প্রেমিক হতে গিয়ে খুনি প্রমাণিত হয়েছে সময়ের কাঠগড়ায়, 

.

আর অবিশ্বাসের রক্তে বারংবার  ভিজিয়েছে  

 যোনি ,স্তন ,নাভি ,ও হৃদয় 

তাই লোকটার জিভ ,ঠোঁট সব গলে পচে যাচ্ছে  

সে আর কখনো ঠোঁটের ওপর ঠোঁট  রেখে গভীরে চুমু খেতে পারবে না 

 অপেক্ষা মরে যাবে একদিন নিশ্চিত। 


আনন্দ ,শোক ,দুঃখ,ঘেন্না ,ভয় -শরীরে শেষ সুতোটুকু খসে যাচ্ছে  তার ,

তাকে জীবন্ত  পুড়িয়ে গিয়ে জানলাটা বন্ধ করে দিয়েছে  নিষ্পাপ ভালবাসাতো তার প্রেমিকা , 

কবির অসমাপ্ত কবিতার শেষে লিখে দিয়েছে  সমাপ্ত প্রেমের প্রহসন। 


সময়ের কাছে পরিত্যক্ত

সম্পর্ক আসলে সমীকরণ  ,সময়ে দুলতে থাকা দোলনায় বসানো কাঠের পুতুলের  খেলাও বলা যেতে পারে ।

আবার ভালো থাকা আর না থাকার মাঝে একটা সুক্ষ তারের তফাৎ 

অনেকটা ধীর  গতিতে  শান্ত নদীর ক্ষীন স্রোত এর মতই, 

মানুষ হয়তো বুঝেও   বোঝে না 

  আসলে সম্পর্কগুলো  উঠন জুড়ে সৈন্যদল। 

.

একটা যুদ্ধ-ব্যাকরণ বই খুলে সম্পর্ক পড়তেই হয় প্রতিটা  পোশাক পরা মানুষকে

নিজের হাসি ,নিজের কান্না , অনুভবে মুড়ে

 বুকের গভীরে জমিয়ে রাখতে শিখে নিতে হয়,   

সকলেই পোশাক পরে  ,

সকলে নিভৃতে  সেই পোশাক বদলায় 

 

নিজের একান্ত ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখবে বলে 

 সম্পর্কের ত্রুটি ঢাকার আর্ট কজন  সঠিক জানে জানা নেই।

আমি বুঝি সম্পর্কের মাঝে লুকোনো মুখোশ থাকলে একদিন সে মুখোশে   টান মারবে সময়,

একটা মিথ্যে  ক্রমশ পেঁচিয়ে ধরবে বেঁচে থাকা অস্তিত্বকে, ,ক্রমশ মৃত্যু  হবে সম্পর্ক বানানটার   অসহায় কোনো   কারনে,

তোমার মতো ,আমার মতো সকলেই যারা মুখোশ আড়াল রাখি নিজেদের তারা একদিন পরিত্যক্ত হবেই  সময়ের দরবার থেকে।

 

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

প্রাক্তন


.


 একদিন  থেমে যায়  মুহুর্ত সবকিছু বিসর্জন দিতে হয় 

ভালোবাসার পোষাকের গায়ে  জমে থাকে ফসিল

ভাংতে থাকে কাছে আসা সিড়ি গুলো

আসমানী চাদর  জড়ানো বুকে অনন্তকালের চুপ কথা জন্ম নেয়। 


আমিও চুপ থাকা শিখে নিই সময়ের প্রবাহকে মেনে নিয়ে,

চেনা পথ ভুলতেই হয়... ম্যাজিকের মত ঠিকানা  বদলে যায়  ডাক বাক্সের চিঠিতে, 


.

পিছনে ফিরে দেখলে 

পায়ের তলায় মৃত সময়ের যন্ত্রনা  রাখা 

 স্মৃতির শব্দদেরা  করে একের পর প্রেতাত্মার মত ঘোর লাগায় সমস্ত  বেঁচে থাকা জুড়ে  ,

ঘুমের ফাঁকে কপালে কাপালিক তান্ত্রিকদের ত্তত্বাঘাতের হিসেব নিকেশে চলমান মুহূর্ত নিলাম হয়ে যায়, 

ঘুম আসে তবু ঘুম আসে শেষ রাতে

বুকের নিশ্বাস গচ্ছিত  রাখতেই হয় মহাকালের গহ্বরে, 

.

রাস্তার ধারে পরে থাকা সম্পর্ক শব যেন কিছুতেই চিহ্নহীন  হয়ে মাটিতে মিশতে পারে না, 

একটা  অহংকার যেন   প্রতিবেদন হয়ে  বুকে সেটে অদ্ভুত ভাবে গা-জোয়ারীতে মাতাল হয়,


মানুষ জানে না  ,মানুষ  বোঝে না

প্রতিটা নাটকের পর্দার  পেছনে পোষাকি  সম্পর্ক  ঝালিয়ে  নেওয়া হয়  কারন সমস্ত পরিবেশনায় অসাধারণ  কথাটা জরুরী । 

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ মাঝে অজানা সময় 

মানুষ দুঃখের দেওয়াল ভাঙে আবার সুখের  ঘর বাঁধায় ব্যাস্ত হয়,

হারানো সময়ের পরে আকাশের ভাঙা মেঘে বৃষ্টি নামে মাটির বুকে, জন্ম নেয় নতুন আমার নাম ধামে তখন নতুন মাটির প্রলেপ 

শব্দরা কাঁসর  ঘন্টায় জন্মকান্না ঢেকে দেয়, 

আসলে শব্দদের কারন দরকার পড়ে, আসলে সব বদলের আগে ও পরে শব্দ খুব জরুরী, 

 

আর নতুন শব্দের কাছে পুরোনো  শব্দেরা খুব সহজেই  প্রাক্তন হয়ে যায় , 

প্রতিটা বিসর্জন  আসলে আগামীতে  প্রাক্তন। 

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এবারে মুক্তি দাও প্লিস

মাথার ভেতর তীব্র তোমার থেকে যাওয়া আসা

সময়ের দিকে তাকিয়ে আছি 


একবার চোখ ছুঁয়ে যাও আমার 
স্মৃতি ফিরে আসে রোজ ,একদিন এসো তুমি পথভোলা পথিক হয়েই নাহয়,
 
একদিকে একফালি জিতে যাওয়া হাসি থাক  আমার  তীব্র হাহাকারের বিপরীতে ,
দিনান্তের অক্ষর বোনে তোমারই নাম ,
হারিয়ে যাওয়ার নিয়তিতে চিহ্ন হয়েই রইল শেষমেশ ,
যে খেলা কেবলই খেলার ছলে ছিল প্রহর কাটানো ....তুমি তার সব কটি নিয়মে উত্তীর্ণ ,
আমি মাঠের খেলার হারজিত নিয়ে অন্দরমহলে
আজো জরাজীর্ণ ।
চলে তো গেছোই চোখের বাইরে , মাথার ভেতরের জমির দখল আর কতদিন ।
কিছুই ছিলাম না কখনো তবু আমার রোজনামচায়
প্রথমত ও শেষপর্যন্ত তুমি থেকে শুরু আর তুমিতেই শেষ।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বন্দী মন্দ বাসা



 যে বৃষ্টি আমায়  ফিরতে দেয় না ঘরে আমি তার সাথে ভিজতে ভিজতে শোক ও সুখ দুইই ধুঁয়ে নিই দারুন ভাবেব। নিজেরই  পাপছায়া হারিয়ে যায়  ফুঁসমন্তর হয়ে।
 এভাবেই মেঘে নেমে আসা শহরে আমি একলা হতে ভালোবাসি বারংবার বার। দেখি ফেলা আসা আত্মিক সুখ লেগে থাকা মোড়ের শেষে  
দাঁড়িয়ে থাকা মোহের নেশার এতটুকুও আজ আর এই।
জীবনের নেশায় আমি  দাঁড়িয়ে আছি এখন পাপ ধুঁয়ে দেওয়া বৃষ্টির ফোঁটা মেখে নিতে ,


যে পথ আমার জীবনের চেয়েও প্রিয় ছিল সে পথ
 উষ্ণতা হারানো বলেই মেনে নিয়েছে মন
।  এক একটা  গল্পের কাছে কখনো কখনো
আমরা  ঋণী হয়ে থাকি সারাটা জীবন; একটা মোহের কাছে নিজেকে কাঙাল হতে দেখতে ভালোবাসি চিরকাল।
কিছু কিছু গল্পে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার তীব্র লোভ
লালন করে মানুষ তার মন কোঠায়, 
সে গল্পে থেকে যাওয়ার জন্যে রোজ বোধিবৃক্ষ পরিক্রমা করে । 
 একটা পাগল-মন আদ্য প্রান্ত ভিখিরি হয়ে ঘুরে বেড়ায়  পথে পথে। অথচ
একটাই পথে সে চিরকাল হারিয়ে ফেলে বারংবার নিজেকে।


প্রিয় মুখের কাছে আমারই মৃত  ছবি পড়ে আছে মাত্র। 
 কানে কানে আর কেউ কখনো বলবে না  ...ভালোবাসি...ভীষণ ভালোবাসি তোমায়।

রাত  গাড় হয় , সে তো যতবার  হাওয়া আদর খোঁজে  ততবার
  কলঙ্ক সাজিয়ে পেশ করে সে তার সমুখে
বাতাসে তার নামে কুৎসা উড়িয়ে সে অমোঘ সুখ নেয়... 
শব্দের কাছে মানত করে একদিন শব্দহীন হওয়ার

যে শহরে ঠকের মান বেশি, হৃদয়ের দালাল বেশি
সে শহরে সমস্ত ভালোবাসার কবিতা গন্ধকলিপি তাই তার পুড়ে যাওয়া অনিবার্য।


মন কাঁদানো প্রলাপের গায়ে চাঁদভাঙা অক্ষর এসে আশ্রয় খুঁজে মরে
তার স্পর্শে  এখন মৃত্যুর মতো নীল
তবু আদরের দিন  সোহাগের রাত  ভুলে যেতে নেই বলেই জড়িয়ে রাখতে হয় নিজস্ব শরীরের গন্ধে

পাগলের মত খুঁজে ফেরা  মাথার বাইরে একটা চোখ ও চেহারা, যেন... জান্নাত থেকে ভেসে আসা পূর্ন  ছুঁয়ে যাবে এ প্রার্থনায়।

শিশিরের দিন খুব কাছেই ; সে 
কবিতার চিরকুটে গোপনে লিখে রাখে মন্দ বাসার অনেক চিঠি, 
এ চিঠি নিজের কাছে একা,  এ চিঠি সুজন   তোমার উদ্দেশ্যে ডাকবাক্সে  যাবে না কখনো। 
                
এ কবিতাও পাঠ হবে না  কোনোদিন কোনোখানে।
কেবল গোপন পাপ হয়ে একটা বুকে তুমি বন্দী থাকবে আজন্ম।

তোমার শহরের কবিতা

তোমার চোখে শহরের সাত কহন  গড়িয়ে  নামে

আমি লুকিয়ে  দেখি  পুরোনো শরীরে নতুন পোষাকে তুমি শহরকে উৎসবে  সাজাও। 

সকালে চোখ খুলে দাও এ শহরের, আমি  পাশ ফিরে রাতের পর ভোর দেখি... দেখি তোমার  দায়ভার। 

আমি দেখতে  পাই তোমার আদরের চোখে লুকোনো রক্তের আসা যাওয়া    ,

বই পাড়ায় পুরোনো বইয়ের দোকানের  নতুন অনুবাদে তুমি ব্যাস্ত সময়ের ষড়যন্ত্রে,

  শংখ, শক্তি ,সুনীল ,  হারিয়ে গেছে কবেই... তবু আমার মত কেউ কেউ সব জেনেও  খুঁজছে নীরা কে। 

.স্প্লেনেডে  ক্রমশ বাড়তে থাকে ভিড়  আমরা সবাই নিজেদের হারিয়ে ফেলিতেই চাইছি এই  ভিড়ে, 

কোনো অসময়ের মিছিল মুখ লুকোনো অভ্যেসে সামিল হতে চাইছি  সবাই, 

আমাদের চাওয়াগুলো  গুলো  বড্ড এক রকম শুধু জানলা দরজা ঠিকানা আলাদা আলাদা। 

 সুজন তুমি  বহুদিন  স্নান করোনি, বহুদিন কোনো সাধনায় বসোনি পুজোর ঘরে, 

সংসারের শব্দ লুকিয়ে শান্তি খুঁজতে চাওনি  এক মুহুর্ত  ,

ঈশ্বরকে বলোনি সময়ের  সাথে সকলের ভালো হোক, 

কেবল জানলার বাইরে  শালিখের ঝগড়া তোমার  মাথার ভেতর নিউরনের স্ফুলিঙ্গর উচ্চতা  বাড়িয়ে দিয়ে চলেছে।

.

 তুমি তোমার   পাশে অন্য এক পাগলকে ফস করে বিড়িতে আগুন ধরাতে দেখে চমকে  ওঠো ইদানীং, 

ইদানীং  তুমি  বাজারের থলে হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একরাশ শুন্যতা নিয়ে ফিরে আসো সংসারের হেঁসেলে।  অথচ শুন্যতা দিয়ে খিদে মেটে না বরং খিদে বাড়ে সেকথা তুমি ছাড়া ন-বছরের  ছেলেও বোঝে 

তোমার  সাজানো শহর কিনতে চাইছে সুখ এ এক আসম যুদ্ধ  সুজন... এ অভ্যেস থেকে মোহ থেকে মুক্তি দাও নিজেকে তোমার শহরকে,

 দেখো  চায়ের দোকানে ধুঁকতে থাকা কুকুর আজো কুকুরীর সাথে অজস্র সহবাসে সুখ পেলো না, 

একটা ভাদ্রের মেঘে তপ্ততা  থাকলে রোদ্দুরে ভরসা  করে স্যাতস্যতে ভালবাসা সুখিয়ে নিতে সুখ নেই নেই ভরসা। 

এইভাবে সুখ অন্ধকারেও নেই আলোতেও নেই আকাশেও নেই মাটিতেও নেই

  আসলে সুজন  তুমি আর তোমার এই শহর ঘুমোওনি   অনেকরাত।

.আসলে  তোমার  দিন গুলো কাটে এই শহরে পুঁজ ধরা সম্পর্কের কবিতার মতো, 

আসলে তোমার বয়স বাড়ে এই শহরে হাজারো অপেক্ষায় মাইলস্টোন পেরিয়ে রেখে যাওয়া  অভিশাপে  নাগপাশে,

 জানোতো সুজন সময় ফুরোয় একদিন, একদিন দুঃখ  ফুরোয় 

ময়দান জুড়ে কাশ ফুলের সমাবেশ যেন  শান্তিরক্ষী  সৈন্যরা,  ,সেখান  মানুষের অভ্যেস ফুরোয় না, মানুষের  মাথার ভেতোর পৃথিবীতে  কিছুই বদলায় না কিংবা বদলাতে চায় না।


আমি   শহরের কবিতায় মানুষগুলো পড়ি আর পড়ি মানুষের  চোখ দিয়ে শহর,,

তুমি  নিজের মতো সাজাও একটা  তাসের শহর 

সেখানে  দাবার-মঞ্চ আছে, শব্দ আছে, সৈন্য আছে, রাজা আছে, ঘোড়া আছে, নৌকা  আছে,  শুধু তুমি বোকার মত নিজেকে চিরকাল শ্রেষ্ঠ  খিলাড়ী ভেবে গেলে 

আর কমতে থাকলো তোমার  অন্তরবর্তী একলা সুখ, 

আসলে জানোতো সুজন সময় সবসে বড়া খিলাড়ী। 

ছক খেলা খিলাড়ী  সব আগেই সাজানো তুমি আমি কেবল কাঠের পুতুল।

 


মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সই৬০

প্রয়োজনে কেউ পাশে থাকে না থাকে আয়োজনে
...সই

তোমার আলোর পথ

তোমার আলোর পথ

********

.

 সত্যিই বলতে পারো তুমি  আলোয় আছো?

 তবে ভালোবাসা নামক  শব্দটায় পোষাকি  রঙ খুঁজে  ফেরো কেনো? 

কিংবা আদৌ পোশাক পরা  ভালবাসা বলে কিছু হয় কি!  আর সেই ভালবাসা  খায় না মাখে সেটাও কি জানা আছে তোমার? 

ভালো -বাসা ,বলতে পারো  আশ্রয়  বলতে পারো... 

এই বাসা মানে কি  জানো তো সুজন? 

এই বাসা মানে একটা  গহিন   উপলব্ধি  আর সেই উপলব্ধির পরতে পরতে কোনোটাই  অতিরিক্ত  উপচে  পরা নয়, 

 সেই তুমিতে সবটুকুই  প্রয়োজনীয় 

আসলে আমিও এই শব্দগুল লিখতে লিখতে  হাসছি  হয়তো মনে মনে বলছি এত যত্ন  করে ভালবাসাকে রাখবো  বলে নাম রাখলাম মন্দবাসা... তবু বাঁচাতে পারলাম কই মন্দ নজর থেকে।


.

 তোমার নীল পাঞ্জাবিতে এক পৃথিবী ভাবনার নকশীকাঁথা  শুধুমাত্র  যে আমার পৃথিবী সেদিনেও এদিনেও,  

 তোমার স্বপ্নের শহরে একটা গোপন পারিজাতে  কিছু গল্পে  ,স্বপ্নিল বাঁচা লেগে সেদিনেও এদিনেও..., 

অথচ  তুমি এগোতে  জানো  আলোর দিকে 

আর আমি গাছ শব্দটায় নিজেকে স্থির রেখে আকাশের আলো মাখি রোজ। 

 শেষ বহু মাস তোমার  মুঠোফোনে অজস্র  আত্মিকতা 

  হাজারো মুখের মিছিলে  তুমি সামিল রোজ... রোজ মঞ্চ বদল তোমার 

 তোমার মনের ঘরে শান্তির ঘর পুড়ে যায়  রোজ অজানা জেহাদি আগুনে, তুমি নিজেই সে আগুনে জল ভেবে দাহ্য ঢেলে দাও পোড়ার নেশায় মশগুল তোমার বিকার মন। 

আর আমার মনের  ঘরে একটা অদ্ভুত আশ্চর্য  বোধি ,বড়োই স্নিগ্ধ  শান্তির নিঃশ্বাস, 

  আসলে যারা  সত্যি ভালোবাসে ,তাদের নিজস্ব   ঘর  থাকে থাকে নিজস্ব  অন্তর মহল 

যারা ভালোবাসে তারা   নিজস্ব  যত্নে ভালবাসা রাখে   তারা নির্ভরশীল  নয়  কোনো দিন  কারন তারা কেবল ভালবেসে সুখ পায় শান্তি পায়, সেখানে বিনিময় প্রথা নেই। 

সুজন  তুমি জানো সবই 

তবুও কেন জানতে চাও 

আয়নার ব্যবহার

ভালোবাসা   বাউন্ডুলে  নয়, তার ভেতর অন্তর নিহিত শেকড় থাকে, থাকে মাটি ছুঁয়ে  থাকার সংকল্প 

তার কোনো লোভ নেই , তবে চরিত্র  আছে 

তার চলার পথ আছে,  দেওয়াল তো ইচ্ছাকৃত চাইলেই  আছে চাইলেই  নেই,  আর অধিকার বোধ সে তো ঈশ্বরস্বরুপ,

আসলে  যে সত্যি ভালবাসে  সে একটা  কথা মন্ত্রের মত গিঁট  বেঁধে  মানে "তোমাকে  ভালবাসার  জন্যে তোমাকেও  দরকার নেই" ভালবাসা  বাঁচে নিজের তাগিদে  নিজের জন্যে। 

তার শুধু অনন্ত  আকাশ আছে আর সেটুকুই  তার কাছে  প্রয়োজন। 

 সব জানি সুজন  , তাই শুনতে পাই দূরে কোথাও বাঁশি বাজে 

আর বাঁশির সুরে সেই বাউলের  একতারা আগলে থাকার সুর

"যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না... 

যদি বাতাসকে আমি ছুঁয়ে না দেখি তোমার শরীর স্পর্শ  পাবো না... 

আমি মাটির তলায় ঘর না বাঁধলে তোমার  জঠর গন্ধ পাবো না.... "

"

S

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এলোমেলো

আবছায়া স্বপ্নেরা সাদাকালো গল্প লেখে শহরের বুকে ,
মাটির ভেতর ঘুমিয়ে পড়া ইচ্ছেদের শেকড় শুধুই যেন নিম্নগামী ,
 কংক্রিটের জীবন গুছিয়ে ছেলেটার বেঁচে থাকা গদ্যময় হয় কখনো  না ,
 হাজারো কাঁটাতারে জখম তার অভ্যন্তরীণ মানচিত্র ,।
দূরে কোথাও হাতছানি দিতে দিতে রাত্রি ছুঁয়ে হারিয়ে যায়  ছেলেটার ক্লান্ত স্বপ্নেরা।
শিরা উপশিরা জুড়ে   অর্ফেরণ এর বহতা যেন  শহরটাকে নাগপাশে পেচিয়ে রেখেছে  বহুকাল,
 উৎসবে মেতে ওঠেন ছেলেটার মত এ শহর ,  নির্ঘুম ইনসমনিয়া বহুকাল  কাটে এক অদ্ভুত  ঘোরের মঘ্যে।।
মানুষ গুলো মন খারাপের কারণ খুঁজে পায় না বলেই হত্যা করে ভালো থাকার নিদেন টুকুও ।
 আজকাল ব্যাকরণ বদলে গেছে যে  বেঁচে থাকার ।

...ওরা নামে কিছু প্রাণী বাঁচে কোনো কৌশলে , এরা নামে কিছু প্রাণী বাঁচার কৌশল  জানে না বলে লাশ নামের ট্যাগ জুড়ে রাখে পায়ের বুড়ো আঙুলে   , 
সংবিধান জানে নিয়ম... আর বেঁচে থাকা জানে রুটি কাপড় ছাদ এই থেকেও বেশি কিছু দরকার ,
সংঘাতে এ আগুনে পুড়ে যায় সম্পর্ক আর বেঁচে থাকার সহবাস টুকু ।
শহর নিজের বুকে নিজের উপকথা লুকিয়ে রাখে রোজ। 

বরফ ঘরে রাখা লাশের কপালে।বিন্দু বিন্দু ঘাম ইতিহাস ঘাটবে বলে আবহাওয়া বদলে মেঘ বৃষ্টি নামায় , 
হাত বদলে যুক্তি গুলো রং বদলে নেয় ,
চেনা শহরে সব কিছু অচেনা লাগে রোজ দশটা পাঁচটা সাইরেন এর সাথে জীবন চাবি দেওয়া ছেলেটার ।
ভোকাট্টা ঘুড়ির মত অদ্ভুত ঝুলতে থাকে বেঁচে থাকা ছেড়া  ইচ্ছেগুলো ।
আমার কবিতার মত অনেক কবিতা হঠাৎ শব্দ অন্ধ হয়ে নিয়ন বাতির নীচে অক্ষর খুটে নেয় ।
দিনের আলোয় সে কবিতা এই শহরের মতোই সাদা কালো আবছা ।
এ শহর  সে শহর জুড়ে যায় বিষণ্ণ আবেশে অহংকারী মন খারাপ1 এর সেতুর ভেতর ।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চুপচাপ

চুপচাপ একটা  আসা যাওয়া রয়েই গেছে
আমরা কেউ কারো অপেক্ষায় নেই ,আছে চুপচাপ আসা যাওয়া।
 একটা অদৃশ্য আসা যাওয়া আমাদের
ভেতর  যেন কেউ বিনি সুতোর সেতু বুনে যাচ্ছে ,
তুমি কিংবা আমি কেউই টের পাচ্ছিনা সেসব ....।

সব গল্পের  দৃশ্য  খালি চোখেএকরকম দেখা যায় না ।
উহ্য শব্দটা  এই আসা যাওয়াকে আড়াল করে রেখেছে।
তুমি আমি এখন তুমুল হাত বদলে মাতোয়ারা ,।

আমি নিজেকে স্নান ঘরের আয়নায় দেখে আগে কখনো এত বিস্ময় হয়নি , আমার  চামড়া ,হাড় মাংসের অবয়বটা একেবারেই অনুভূতি হীন ,জড়ের মত হয়ে গেছে ,আর উৎসব নেই শরীরে ,মনে নেই কোনো উজ্জাপন ।
আমার পুরোনো নির্ঘুম রাতগুলো এখন স্মৃতির মত লাগে ...কারণ বালিশ বিছানা ছাড়াও আমার আজকাল অসম্ভব ঘুম পায় ,এত গাড় ঘুম যেখানে কোনো স্বপ্ন পর্যন্ত লখিন্দরের ঘরে প্রবেশের ছিদ্র খুঁজে পায় না ।
অথচ আমার সারাটাদিন জুড়ে নিরন্তর একটা চুপচাপ আসা যাওয়া থাকে বাতাসহীন ,শব্দহীন , হয়ে ।
আমি প্রতিটা অক্ষরকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে আমাকে খুঁজি ...তোমার ভেতর ,অথচ তোমার উপহার দেওয়া উনপঞ্চাশতম সংখ্যাটা আমার চেনা লাগে না ,, ,
আমাদের মাঝে একটা চুপচাপ যাওয়া আসা কেমন সময়ের মাইলস্টোন ছুঁয়ে যাচ্ছে  তবুও দৃশ্যের বাইরে হারিয়ে যাচ্ছে না ,
 অথচ আমরা রোজ  আমরা মুক্তির নপ্রার্থনা করি নিজস্ব তথাগতর কাছে ।

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্পর্শহীন বাতাস এ শহরে



স্পর্শহীন বাতাস তোমার আমার মাঝে সুয়ো দুয়ো খেলায় মেতেছে  ।
অন্তর মহল আর উঠনেও সে নির্বাক ও স্পর্শহীন
যেনো জন্ম -মুক।

তোমার আমার মাঝে শুধুই ভারী নিঃস্পর্শের পাহাড় জমছে আজকাল।

সিলিং এর সাথে সখ্যতা সেধে আকাশ দেখা রাতগুলো নিজের মত জানলা খুঁজে নেয় গুমোট অবস্থানে।

এত বরফ আগে কখনো মৃত্যু ছাড়া জানা হয়নি,
এত স্রোত কখনো ভাঙ্গন ছাড়া দেখা হয়নি,
... যেনো প্রমত্তা প্রকৃতি আজকাল নটরাজের ভূমিকায় আমাদের মাঝে ।
আমাদের আত্মিকতার গায়ে আজকাল শকুন ঠুকরে খায়।

ভাদ্রের রোদ্দুরে ছাদের দড়িতে সুখ-স্মৃতিদের শুকিয়ে মরতে দেখে আমি আবেগহীন সিঁড়িগুলোর সাথে ফিরে যাই খোলসে।

এলোমেলো বৃষ্টি  মেখে হাস্নুহানা জেগে উঠছে দীর্ঘ
ঘুম থেকে,, তবু আমার বুক ভিজলো না সামান্যতম।

আমার বুকের দ্বীপে রাখা জমিটা এক্কেবারে খটখটে শুকনোই রয়ে গেলো।

অথচ দ্যাখো, কেমন গভীর স্পর্শহীন বাতাস
তোমার আর আমার মাঝে একটা বিষণ্ণ বর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে ।

এই বাতাস  আশ্চর্য শূন্যতার ম্যাজিক এর মত তোমার আমার মাঝে সেতুটাকে ধীরে ধীরে দৃশ্যের বাইরে মিলিয়ে দিচ্ছে ।
আজকাল এক শহরের এক আকাশের নিচে আমরা আলাদা আলাদা চাঁদের জন্য আকাশ দেখি।
আমরা আজকাল স্পর্শের শহরে স্পর্শহীন অথচ মুখোমুখি।

#সই #রমা

শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

আমার ভেতর

আমার ভেতর অজস্র ভাঙ্গন টুকরো গুলো গড়ে নেয়  অজানা আরো এক নতুন আমিকে ,
যে ছায়ায় দাঁড়িয়ে বুকের ছইএ হাজারো ছবির রং
মজুত রেখেছিলাম ,..একদিন দেখি সমস্ত রং দানির ভেতর  ফ্যাকাসে বিষণ্নতা ছাড়া কিছুই রাখা নেই সেই ছায়ার ছই এ ,
রং ছেড়ে জীবনের দেওয়াল বুননে মন দেবো বলে অসংখ্য বর্ণের সুতো জড়ো করা শুরু করলাম একবার, 
নানান সম্পর্কের নকশী কাঁথা জুড়ে নিখুঁত ছবির মত  কত মুখ ,কত পথ  পথের বাঁক আসে,  আবার একদিন কারণের নিশান না রেখেই হাওয়া ভেসে যায় ওরা ...আমার বুকে টেনে নেওয়া নকশী কাঁথায় সমস্ত নকশা অন্ধ ও অক্ষরহীন শুধু জীবনময়  কিছু কাপড়ের ভাঁজ ছাড়া কিছুই পড়ে থাকে না ।
আমার চিলেকোঠার ছবি ঘরটিতে এমন বহু তেজপাতা রঙের ছবি ও কাপড়ের ভাঁজে অচেনা সুতোর ফোড় রাখা আছে , রাখা আছে না পাওয়া দুঃখ তোরঙ্ টা, 
একদিন  সন্ধ্যের কোলে মাথা রেখে গড়িয়ে যাওয়া বিকেল কে বলতে শুনেছি ...সব ভাঙ্গন ভেঙে যাওয়া নয়,  সব সেতু জুড়ে দেয় না , সব দুঃখ ঋজু করে না , বলতে শুনেছি এই সমস্ত প্রচ্ছদ জুড়ে রয়েছে অসামান্য আশ্চর্য বিস্ময়কর সৃষ্টি।

আর  সেদিন টের পেয়েছি এই মুহুর্মুহু তীব্র অতীব্র  পরিবর্তনে আমি নিজেকে আরো শ্রষ্ঠ করে পাই বারংবার ।



#সই

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

তথাগতর সাথে

১) আত্ম মগ্ন প্রেমেও তাকে যেদিন হারালাম বুঝলাম
নদীর চরে লুকোনো ভাষা আমার কাছে দুর্বদ্ধ 
অথচ নদীটিকে আমার ভীষণ আপন করে নিতে একবারও দ্বিধান্বিত হতে হয়নি,

২)আমার তথাগত অজানা বিষণ্ণ মগ্ন হয়ে ধ্যানস্থ আজ বহুকাল 
আমি জীবনের গায়ে অক্ষর সেটে নিজস্ব ইচ্ছামতির স্রোত আঁকবো ভেবে খামোখা 
কলঙ্কের মত কালো দাগ কেটে  আলো ও অন্ধকার কে স্পষ্ট করেছি  নদীকে আয়না করে।

৩)তথাগত তুমি যেদিন জাগবে সেদিন আমি কফিন ভর্তি অপেক্ষা কে বুকে দাফন করে  নিরন্তর বৈরাগ্য খুঁজে নেবো ।
৪)মরা নদীতে এখন স্রোতের কঙ্কাল, ফেলে আসা
ঘটনাও বাধ্য ইতিহাস ,পারে যারা বৈতরণীর গল্প খুঁজে নিতে আসে বাউল বাতাসের সখ্যতায়
তারা নিজেদের ইচ্ছা মত ইতিহাসের শব্দদের চরিত্র বদলে রাজা কে ভিখারী আর যুধিষ্ঠির কে শকুনির পোশাকে পেশ করে ফেলে।

৫)একটা নীরব সময়ের মুখমুখি আমি ও তথাগত
ভাষাহীন প্রশ্ন মাথা নিচু করে অস্তিত্বের জেহাদে 
জানতে চায় নদী কি আসলে সম্পর্ক চেনে ? 
নাকি সময় বুকে নিয়ে এক মহাকাল যাত্রী মাত্র সে!



মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

সময়ের দাগ

সময়ের দাগ সময়ই মুছে যায়,
আকাশের মন খারাপ  হলে স্মৃতিরা আকাশ ছুঁতে চায় বড্ড বেশি করে ,,
 সবুজ যেনো আসমানী প্রেমে মীরার ভূমিকায় বিহ্বল।
প্রথম আলোর আদালতে  তুমিই সাক্ষী তুমিই দোষী  তাই...
টুকরো মানচিত্রে আয়না রক্তাক্ত মুখ ও মুখোশ 
দুইয়ের চোখেই গোড়ানো যন্ত্রনা  চিবুক ছুঁয়ে বুক ।


ক্যানভাসে তুমি রং সাজাও গল্পের ছলে ,ভোকাট্টা ঘুড়ির বুকে বিষণ্ণ ছেড়া ছেড়া স্বপ্ন বাঁচে
ঠোঁটের কোণে  রোজ চাপা অভিমান নিয়ে ,,
পথ জুড়ে  তখন অন্তহীন গল্পের বেলোয়ারী।

কথা ছিলো আজন্ম পাখিদের মত করে চিনে নেবো
এ পৃথিবীর দেওয়া নেওয়া গুলো ...কথাছিলো
মৃত্যু ছুঁয়ে থাকা শেষ বাতাসে রেখে যাওয়া হবে পূর্ণতার স্মিত হাসি ,
জমা হওয়া খসড়ায় তবু অনেক কথা ভাঙা শব্দের গোপন বাস থেকেই যায় , 
সময়ের দাগ সময় মুছে দেয় নতুন আরো একটা  সময়ে দাগ কেটে ।

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

জীবনফর্মা

পাথরের কাহিনী লিখতে গিয়ে কাচের মত ভাঙতে দেখেছি  জমানো অভিমান , 
জন্ম শেকড় উপড়ে ফেলে কাঁটা তার পুঁতে দিতে দেখছি ,,  
চোখে ভাসতে দেখেছি পাখিদের গুঁড়ো গুঁড়ো স্বাধীনতা ।

রোদ্ পুড়ে যাওয়া জীবনের পাশে নদীর গল্প মানানসই হলেও বেঁচে থাকায় শীতল পরশ লাগে না তাতে।
জানলার গরাদে জন্মের খিদে একফালি চাঁদে পুড়ে যাওয়া রুটি কতটা আপোষ জানে সেটা বুঝিয়ে দেয় ।
জীবন সময়ের ক্রুস বিদ্ধ যীশু  ... ,
বাতাসে মোলায়েম শোক ও উৎসব দুইই মজুত থাকে , হিসেব মত খোরাক বুঝে বাঁচার রেশন-পানি নিয়ে নেওয়াই এই পথের শুরু থেকে শেষতক একনিষ্ঠ দীক্ষা মন্ত্র ।

জানা চেনার মাঝে হঠাৎ দমকা হওয়া  যেন ভিড় হারানো একা  করে বলে  পার্থ আসলেই সব মৃত, ,কেবল মলাটি বেঁচে থাকা ওদের কফিনের বাইরে এই পৃথিবীর ইজাজত দিয়েছে ।
যুদ্ধের বিকেল ফুরোলেই আগুন কিংবা মাটি খুঁজে নেবে সম্পর্কের থেকে বেদখল দেহগুলো ।
যে জন্মতক একটাও ছবি আঁকেনি পথের শেষে তার জীবনও কেমন যেনো অসম্ভব বর্ণময় হয়ে যায়।
পাখির ডানায় ভর করে  একমাত্র মৃত্যুই দেখতে পায় জীবনকে রূপকথার মতোই ।
অথচ একটা গোটা জীবন পাথরের মতন ভারী ও সম্ভারময়।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

কে ?

যে সংসার তোমাকে বাজারের থলে হাতে ছুটতে বলে না সে সংসারে তুমি রংতুলি দিয়ে একে ফেলো তোমার মনসংসার
আসলে একটা মাটির  নরম তাল চায় মানুষ,
 সে যখন ইচ্ছা যেমন ইচ্ছা আকার দেবে সে তার চাওয়া না চাওয়ার অবয়বে ,
যে ইচ্ছা জন্মায় তাতে কার হাত আছে কে বলতে পারে ! যে ছেলেটা ধর্ষণের দায়ে জেলের গরাদের পেছনে তার ভেতর সেদিন পাশবিক ইচ্ছের জন্ম দায় কার ছিলো ,
রাস্তার ধারে দশ ফুট বাই দশ ফুট জীবন যাদের তাদের কি কোনো ঈশ্বর ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করেছিলেন সে জীবন বাঁচার ইচ্ছা আছে কিনা ।
মানুষের ভেতরের জমিতে অজস্র ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছা বীজ কে পুঁতে চলেছে অহরহ!
না পাওয়ার কান্না পাওয়ার আনন্দ কার ইচ্ছায় ফুল হয়ে মুহূর্তে ফুটছে কিংবা মূর্ছা যাচ্ছে ,
ভিড় স্কুল ঘরে  জেহাদী বিস্ফোরণ  অজস্র নির্মল জীবনে নির্মম মৃত্যু রেখে যায় কার ইচ্ছা পূরণে,  কার ইচ্ছা পূরণে মানচিত্র বদলে যায় ভাগ্যরেখার নামের আড়ালে ।
একটা খোঁজ রোজ সকালে আমাকে এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে বলে , 
আমি পাখির ডাক উত্তর খুঁজি ,উত্তর খুঁজি বৃষ্টির শব্দে , উত্তর খুঁজি ডাস্টবিনে পরে থাকা খাবার খুঁটে খাওয়া  খিদে চোখের ভেতর জেগে থাকে খোদার কাছে ।
উত্তর খুঁজি রাতের গভীরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ্যা শরীরটার কাছে ,
উত্তর খুঁজি সময়ের কাঁটা ক্যালেন্ডারের তারিখ গুলোর কাছে ,
যুদ্ধ দেখি ,জেহাদ দেখি,  ঈদ কিংবা দীপাবলীতে উৎসব দেখি ...দেখি উজ্জাপন ,
ধ্বংস দেখি ...দেখি সৃষ্টি ,
তোমার চোখে কান্না দেখি,  শিশুর মুখে হাসি দেখি , ভিখারির থালায় রুটি দিয়ে নিজের ভালো লাগা কিনতে দেখি নিজেই  , 
জগৎ জুড়ে পসার দেখি , একটা খোঁজ তবু ফুরোয় না , 
অদৃশ্য কে যেনো একটা যন্ত্রনা জিইয়ে রাখতে চায় 
মানুষ জন্ম টার শেষতক ,
কার ইচ্ছার কাঠপুতুল এই মানুষ মনের ইচ্ছাগুলো?

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

মেঘ হতে চাই

মেঘেদের কোনো  কোনো দেশ নেই 

 নেই কোনো নিয়ম কিংবা বারণ এর কাঁটাতার,

শুধু অনেকটা উদার যেন একলা বুকের মাঝে  আকাশ রাখে আকাশের গায়েই ভেসে 

মেঘেদের চোখে এই শহরটায় কি জ্বলে ওঠে সন্ধ্যের বাতি  কারো অপেক্ষায়

ফাঁকা রাস্তায় লাইটপোস্টের নিচে ভাবনাদের খেলা করতে কি দেখতে পায় মেঘ


.

মেঘ নিয়ম বোঝে না 

বোঝে  না এই শহরের হাজারো সুবর্ণা সুজন কেন মন খারাপ করে !

কেনই বা একটা ফাঁকা ঘর আমার ইচ্ছামতির বুকে  !


ধরা দেয় না একমুহূর্ত  সে ফাঁকা ঘরে কোনো স্বজন,

 তবু সারা শরীর  বেয়ে ভিতরে বাইরে শুধুই অজানা স্পর্শ। 

.

আমি মেঘ হতে চেয়েছি 

আমিও একা  হতে পারি ভীষণ ভাবে

এই মেঘেরা কথা বলে রোজ আমার সাথে

চুপিচুপি ধরা দেয় একের পর এক মুহূর্ত আমার উঠোন জুড়ে থাকা আকাশে

জানি না কেন একা হতে কেউ কেউ ভয় পায়।

আকাশ থেকে এই গল্পের শহরটার দিকে তাকালে মনে হয়  মানুষ গুলো একলা বড় ,

মনে হয় এই শহরের বুকে হাজারো গল্প মানুষের বুকে  নিঃশ্বাস নেয়

জানি না সুবর্ণা সুজন এরা  এই শহরের স্রোতে 

বইতে বইতে ঠিক কোথায় কিনার পাবে !

জানি না আমার মতো আরো একজন  কবে বলবে আমিও মেঘ হতে চাই তোর মত তোর সাথে ..ভিজিয়ে দিতে চাই এই শহরের বুকে খিদে আর তৃষ্ণা গেলে থাকা গল্প গুলোকে

জানি ওই গল্প গুলো বাঁচতে চায় 

জানি জানি ওই গল্প গুলো  হাসতে চায় 

কিন্তু ওদের চোখে গোপন কান্না আজ শুধু ..ঠিক যেনো ওরা আকাশের দিকে তাকিয়ে  বলছে 

আমিও মেঘ  হতে চাই ....তারপর বৃষ্টি

 তবে ভালোবাসায় ঠিক কি থাকে জানি না মেঘ না বৃষ্টি  । 

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

ছায়াছবি

ফেলে আসা মুহূর্ত ভুল কি ঠিক জানি না ,তবে জানি  মৃত সময়ের এলবামে  হঠাৎ কিছু ছায়াছবি 

যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে,

 গড়িয়ে নামা বিকেলে স্টেশনে চায়ের ভাঁড় ,

কিছু বিশ্বাস কেনা গল্প যেন ফ্ল্যাসব্যাক ছায়াছবি ।

হ্যাঁ সত্যি ভ্রান্ত গল্পগুলো মুখ খিঁচিয়ে বলে তফাৎএ যাও  আরো তফাৎ এ ,

কে যেন আয়নার ওপারে বিদ্রুপ করে হাসি আঁকে ঠোঁটের কোণে।

জীবনের  কবিতায় সাজানো শব্দেরা সবসময় ঠিক

ভাবে সাজানো হয় না ,

তাই চাইলেই কবি কিংবা কবিতা কোনোটাই হওয়া খুব সহজ নয় ।

সময়ের বালিঘড়ি  সোনালী চুলের মুখোমুখি দাঁড়াতে বলে চুপিসারে।

.সময়ের পতন দেখে আরো এক সময়ের সাক্ষী,

অথচ আমরা জানি এ পতন চিরকাল শব্দহীন শব্দের বাহক।

 ,

দিনগুলো ফুরিয়ে যায় নিমেষে

কল্পনার আকাশ থেকে যত্নে উড়ান দেওয়া পালকরা নিচে মাটি ছুঁতে চায়।

.

মৃত মুহূর্তের ছায়াছবি  শব্দহীন কথায় কথায় প্রহর চুরি করে বেলা বইয়ে দেয়...

ব্যাকফ্ল্যাশে দেখি দুটো চোখ,সে চোখ কারো বেঁচে থাকার সাক্ষ ছিলো কিনা আজ আর মনে পড়ে কই!

সামনে তাকাই দেখি রাস্তায় নতুন গল্পের বাঁক ,

 একলা দাঁড়ানো কবির হাতে মেঘবালিকার জন্যে লেখা কবিতার খাতার দিস্তা, প্রথম পাতায় লেখা কিছু প্রতিশ্রুতি । তারপর একে একে আকাশ ,আয়না, স্বচ্ছতা ....হাহাহা সত্যি অবাক লাগে ভাবতে যখন একজন কবি অন্ধকারের কবিতাকে ভুল করে আলোর কবিতা ভাবে।


 যারা প্রতিজ্ঞা লেখে...লিখতে চায় ,

 অসংখ্য মুহূর্তদের সাক্ষী করে 

তারা আসলে মৃত্যু লেখে  তারা সাধারণ ঘুম ভেঙে সকাল দেখায় আশ্চর্য হয়না ,কারণ তারা বেঁচে থাকাকে সম্মান জানাতে জানেনা 


আসলে  ঈশ্বরের  প্রতিচ্ছবি যে একটা ঘুম ভাঙা সকালে সূর্য ওঠার সাক্ষী থাকার নাম হয়তো সবাই জানে না ।

তাই বুকের ভেতর কষ্টের অসুখ লেগে থাকে শেষতক।  

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

কাপের ওমে

দিনের ভূমিকায় গুঁটি গুঁটি  পায়ে অন্ধকার আঁচল ঢাকে হঠাৎ কেমন মন খারাপের বৃষ্টি নামে , 
 কাপের ওমে  কথা দের ডানা মেলা আকাশ খোঁজা..।
আলোর সাথে অন্ধকারের দেহাতি মনোমালিন্য, একটা চিলেকোঠা বন্ধ যেনো গোপন দ্বন্ধে,
ব্যথাদের ভুলতে চেয়ে  নিয়ন বাতির নীচে জোৎস্না খুঁজি ....ছায়া কেঁপে বলে আমি আলোতে কেবল চোখের বাইরে থাকি ,  ভুলে যেও না আমার অস্তিত্ব

মুহূর্ত আমার

একদিন সমস্ত পরিচয় থেকে নিজের নামটুকু মুছে ফেলে জমির দখল ছেড়ে দিতে হয়,

তুমির দেওয়ালে আমি বলে কোনো চরিত্র থাকে না।
 ...সময় যদি আমায় বহতা নদী জন্ম দিতো তাহলে একবার অন্ততঃ সমস্ত পরিচয় গুলোকে কিনারে পৌঁছে দিতাম ,

যেভাবে কারবা মিশে যায় চলমান স্রোতে , আমি তো চেয়েছিলাম সুতো র বুননে গল্পের পাক সুখের ঘরকন্না ,
কারবা ভেঙেছে  ,তুমির ঘরে প্রতিটা দেওয়াল লিখন বদলেছে স্রোতের নতুন জলের মতোই ।

আমি আপসোস করতে শিখিনি বলেই সমস্ত পাওয়া গুলোর মতো সমস্ত বিচ্ছেদের জন্যেও উৎসব মুখর হয়েছি , 
কারণ আজ এই মুহূর্ত টুকু ছাড়া আমার মুঠোয় বাকি সব রূপকথা কিংবা কাল্পনিক ।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

মানুষ নামক

কখোনো কখনো আমার ভারতবর্ষে একটা শেষ উজ্জাপন পালন করা হয় ,,,
..... দেশটাকে  কাঁটাতারের ফলকে চিরে ফেলার আগে শেষবার একসাথে এক জমিনে মানচিত্র দেখার উৎসব ,,
ভারতবর্ষেকে মা বলে ডাকি দেশকে পরিচয় করে বাঁচি ,  নগরে লুকিয়ে রাখা হয় জানে আনজানে কাহিনী স্তুপ, ,
তবু নতুন গল্পের তাগিদে পুরোনো অনুভূতি কে ফালাকাটা করে রূপ বদলে  নিজেদের আদলে সাজিয়ে নিই আমরা ,,
 ....একবারও  ভাবি না মাটির বুকে লুকোনো নিঃশ্বাসে দম বন্ধ   আমার দেশ  বড় অসহায় হয়েও আমাদের পরিচয়কে হারাতে দেয় না ।

পুরনো সংকল্প চাপা পড়ে থাকে কঙ্কাল সার দেশটার বুকের অস্থি মজ্জায় ,,,
 আর আমরা ...এই আমরা মেতে উঠি নতুন আরো নতুন কোনো উৎসব উজ্জাপন নগ্ন হতে ।

আসলে আমরা পোশাকের ভেতর এক একটা না পোশাক পরা মানুষ ,আসলে আমরা একটা কিচ্ছু না হওয়ায় একটা কিছুর জাত ,,,

আসলে জানোয়ার এর জাত চরিত্র না বদলালো 
এই মানুষ নামক প্রাণীরা কখনো কখনো বড্ড রং বদলে ফেলতে পারে যেকোনো সামান্যতম ফিকিরেই,


বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

মন্দবাসতে চেয়ে

আমি কখনো নিয়ম ছিলাম না মন্দ বাসার গল্পে নিতান্ত বাঁচার অভ্যেসটুকুই চাওয়ার  ছিলো , 
আমি  নিয়মের   মুখোস আটকে বাচিনি তাই ,
আমার কথা ভাবার জন্য কারো কাছে সময়ের দরবারী ইচ্ছাও রাখিনি ।
চাইনি কোনো পরিচয় চাইনি আমার সুখে দুঃখে কাঁধে হাত রাখার কেউ থাক।

.
শুধু চেয়েছি কোনো বৃষ্টি দিনে আমার কবিতার খাতায় যেনো কান্না লিখতে না হয়  । চেয়েছিলাম নোনা জল এর বিপরীতে একটা শক্তপোক্ত বাঁধ।
.
আমি  সমাজের সাজানো   নিয়মিত ঘরকন্নায় বিশ্বাসী নই কোনো কালেই ,
বরং চেয়েছি চিরকাল আমার পাশে এক বাউল এর অস্তিত্ব, চেয়েছি আমার সাথে সেই বাউল বৃষ্টি ছুঁয়ে বৃষ্টি ভিজুক বৃষ্টি মাখুক মন্দবেশে।
   
আমি কোন সংবিধান রাখিনি হৃদয়ের টেবিলে ,
চেয়েছি এই শহরটা একটা বিশ্বাসের কথা  বলতে শিখুক আর একটা বিশ্বাসের কাছে ।
চেয়েছি সেই বিশ্বাসে হাসতে 
  কাঁদতে 
 কথা বলতে,
আমি  নিয়মমাফিক ভালোবাসায় বিশ্বাসী নই বলেই 
 মন্দবাসির একটা গোটা উপন্যাস লিখতে শুরু করেছিলাম ,একটা আকাশ যেখানে বেঁচে থাকার জন্যে মিঠে বাতাস আছে সেই উপন্যাস লিখতে চেয়েছি।
.
আমি কোনো নিয়ম হতে চাই নি
চেয়েছি একটা ছই যেখানে মাথা রেখে আমি বলতে পারি এটা আমার
আমি  মিথ্যে আকাশ চাইনি
 স্পর্ধাও চাইনি
 খাঁচা কিংবা মুক্তি কোনোটাই চাইনি
হয়তো একটা গাছ চেয়েছি  যার বুকে থাকবে নন্দিনী আর কিশোরের মত কিছু মুহূর্ত গোপন যার ঝুলন্ত দেহে আমার মুক্তিগুলো পাথরে বেঁধে শূন্যে রেখে দিতে পারতাম হয়তো ।

অথচ
এই সমাজে হাজারো মুখোশের মাঝে  পরিচয়ের মুখোশ ছাড়া কিছুই পাওয়া হলো কি জানি না ।
কিছু সাদর সম্ভাসন, কিছু অধিকার, কিছু নিয়ম
 এগুলো বড় ঠুনকো আমার কাছে
 বিছানা বালিশ,  সংবিধান , বাদেও জীবন বাঁচে বাঁচার তাগিদে ধিক ধিক করে জ্বলে যাওয়া আগুনে পুড়ে ,
আমরা যারা সেই আগুনে পুড়ে বাঁচি কিংবা বাঁচার জন্যে আগুন জ্বালিয়ে রাখি তাদের ঘরে চিরকালই
হয়তো একটা অভাব লেগে থাকে । 

মানুষ হতে চেয়ে

খাঁচার ভেতর দ্বন্দ্ব লাগে বারো সত্ত্বার ,
অজানা চোখের পাহারা  সেখানা অষ্ঠপ্রহর ,
মানুষ হলাম কতটা জানি না , অবয়বে তকমা লাগলো  ডজন খানেক ,
 রং পেলসিলে ...স্কুল বই পুতুল খেলা ঘর সংসার প্রেমিকা পাঠক কবি স্বাধীনতা মুক্তি প্রাপ্তি নিঃস্বতা আর আঁকলাম একটা তিরঙ্গা ,
আমারই অজান্তে আমারই বুকের খাঁচায় আলোর ভেতর অন্ধকার ...আর অন্ধকারের ভেতর আলোর বসত গড়লো  চুপিসারে ।

যত্নে রাখা গল্প গুলোয় পড়লো রিপু করা যন্ত্রনা দাগ, ,
কিছু দেহাতি অভিমান চরিত্র বদল করে নাম রাখলো জেহাদী ইগো ,
নরম মন আগুন পুড়ে হলো নুয়ারি মন ,
চল্লিশের ফলকে বিকেল গড়িয়ে এখন ক্লান্ত বাতাস ,
মানুষটার অদ্যপ্রান্ত  কীট কুরে খাওয়া ধুলোর স্তুপ  মাত্র ।
অথচ একজন মা একটা সম্পূর্ণ মানুষ গড়তে চেয়েই প্রসব ব্যথা সহ্য করেছিলো একদিন ।



*

মনিশঙ্কর

ধুলোয় পড়ে থাকা জন্ম গুলোর রঙে মিনাকারী তোমার মন বাগানের ফসল ।
ওস্তাদের মত  বাজী মাত বাংলা সাহিত্যের জমি দখল ।
মরে যাওয়া গাছের কঙ্কালে তুমি প্রেম আঁকতে পারো ঈশ্বর স্বরূপে ।
এক কে বদলে গড়লে ঐক্য , ডোম লোহার চিনলো
সভ্য শহুরেও ।
জেগে থাকা চাঁদ আর অক্ষর একই সাথে চরিত্র বদল করে তোমার কলমে কখোনো সে তিমির ,কখনো সে কালিন্দী ।
তবু আলোয় আলোয় একটা সকাল রাখলে তুমি অন্ধ মনেও 
জনের মনি ,মনের মনি ,ইমানে মনি,  করমে মনি ,
আমার প্রিয় লেখক মনি , মনিশঙ্কর ।



সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

ভুললে চলবে কি করে ?

এত তাড়াতাড়ি তোমার নাটকের অংকের সাজানো বয়ান স্ক্রিপ্ট ভুলে গেলে ! 
অথচ এখনো পোয়াতি বর্ষা মাটি ছুঁয়ে শরীর নামায় নি যে !
এখনো তোমার মরশুমি বসন্ত সোনাঝুড়ির পলাশের শরীরে সোহাগ ঢেলে দেওয়ার বর্ষপূর্তির সময়ও আসেনি যে !

এখনই তোমার কবিতা বিপন্ন আঁধার নামলে কি করে প্রমান করবে তোমার বাহান্নতম প্রেমিকাও ব্যার্থ ছিলো প্রেমিক হিসেবে তোমায় একটা আশ্রয়ের বুক দিতে ?
এখনই যদি তোমার সাজানো গল্পের স্ক্রিপ্ট ভুলে যাও তাহলে এই রাতে যে তারাটার খসে পড়ার কথা ছিল ...সে ওই সাজানো স্ক্রিপ্টের বাঘ বন্দী খেলায় পথ হারিয়ে ফেলতে পারে , সে কথা তোমাকেই তো মনে করে মনে রাখতে হবে তাই না?

তোমার আবহাওয়া দফতরির ছুঁড়ে দেওয়া ঝড়ের 
দিক বদলে গেলে তোমারই সাজানো দুয়ো রানী আর সুয়ো রানীর তাসের ঘর ভেঙে যাবে নিশ্চিত ।
তাই বলি হে শব্দের জাগলার একটা গল্পের শেষে কিছুটা বিশ্রাম না নিলে একের গালে আঁকতে চাওয়া চুম্বন অন্যের গালে আঁকা পড়লে সে খেসারত মেটাবে কি করে হে ?
তাই বলি রোজ রাতে ঘুমানোর আগে ওই সাজানো স্ক্রিপ্ট এর শব্দগুলো একবার করে গ্লাসের জলে গুলে ঢক ঢক করে গিলে ঘুমোতে যেও।