সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০

প্রত্যাশা

--------  

তোমার জঠরে জন্মে তোমার শব্দ মালঞ্চের মালাকর
হব,  তুমি হবে মনু সংহিতা স্পষ্ট   স্রস্টা ,  কলমের
নিবে যখন পৃথিবীর ঘুম কিংবা সকাল লিখবে আমি 
তখন কাটা ধানের জমিতে চরে বেড়ানো শালিকের
ঝাঁকে একজন, 
রাজরাজেশ্বর  তোমার সভায় শেষে  করুনা প্রার্থী 
হব একদিন ...... জানাব  বন্দিনী হওয়ার সাধ, 
উপচে পড়া জয়ধ্বনি ঝেড়ে তুমি  যখন ক্লান্তিতে 
অন্তরমহলে  ফিরবে.....
খুঁজবে  ঠান্ডা বাতাস  আমি  দক্ষিণ এর জানালাকে
উদার হতে বলবো,  
যেদিন তুমি ব্রম্ভ রুপে সভ্যতা গড়তে গড়তে দিন রাতের 
সিমানায় দাড়িয়ে এদিক ওদিকে তাকিয়ে  
 খুঁজবে  এক গুন্ডুস জল   নদীকে বলব তোমার ঠিকানা।
এমন করে যেদিন প্রসন্ন হয়ে বলবে 'কি চাও তুমি  উপহারে '
আমি মাথা নত করে বলবো তুমি যে ফুলের বুকে 
রং ভরে দাও আজ থেকে সে  ইজেলদানি আমায়
তুলে দিতে দিও তোমার হাতে,  
তুমি কি আমায় বন্দিনী করবে  সেদিন।             
               

দিলকি

-------- 
গুছিয়ে নিতে শিখে গেছি কেতাবি শব্দজোট
আকাশ আর লাগে না কাল্অপুরুষ আঁকতে, 
 আমরা অনেকেই জানি এখন বৃষ্টি কেবল শ্রাবন 
খোজে না, সে বাইশে শ্রাবণ জড়িয়ে রাখে গায়ের চাদরে,     
 ইদানীং  ঘুম আনা অন্ধকার দিয়ে লিখে
ফেলতে পারি এমন অনেক দেওয়াল লিখন যা কিনা
আলোর দেশেও বিপ্লব আনতে পারে। 
তাহাদের কথা কেউ বলে না বলে হাওয়ায় অদৃশ্য
বিষন্নতা ভেসে বেড়ায়  অদ্ভুত দার্শনিকতা নিয়ে, 
আমি  বহুবার সেসব  হাহাকার পার হয়ে রোদ্দুর দেশ দেখে 
এসেছি,  সেখানে পিঠে পিঠ রেখে বাস করতে দেখেছি
শ্রাবনের সব থেকে  দামি দুঃখ আর শরতের  মেঘের শিশু হাসি। 
যতবার হেরে গেছি  বলে তোমার মনে হয়েছে ঠিক  ততবারই
তোমায় আমি দিগন্তের আকাশ হতে দেখেছি,  
আমাকে শিরা-উপশিরায় না জড়িয়ে তুমি কাল্পনিক
রেখায় চরিত্র আঁকতে ব্যাস্ত হয়েছো।     
 এভাবে একদিন অচেনা সময় শিখিয়ে দেয় কেতাবি শব্দজোট 
ভাংতে শেখা,  যেমন চিরকাল তোমার সাবধানি 
হয়ে গুছিয়ে থাকার নিয়ম..... আমারো স্বভাব যে এলোমেলো
তছনছিয়া, তুমি আকাশ খোঁজ ওড়ার ভাবনায়,   আমি শিকড়ে
বাঁধি নিজেকে।              

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০

জন্ম

------------------------  
তোমার কথা শুনব বলে আমি শব্দের গায়ে কান পাতি
তোমার অঘ্রান পাবো বলে তোমার জন্ম মুহুর্তে আমি অপেক্ষা
করি,  অপেক্ষা করি কোনো মাটির  গভীরে ঘুমন্ত চারা গাছের
জন্ম দুয়ারে হয়তো বা প্রতিটা জঠর আমি তোমার খোঁজে 
হন্যে হই,  
তোমায় স্পর্শ করবো বলে উত্তরের বারান্দায় বাতাসের 
অপেক্ষায় থাকি,  নিজের কাছে না রাখার ব্যার্থতায় থাকি
নিজে তোমার কাছে,  
জ্বরের ঘোরে তোমায় পাই তাই তো আমার জ্বর আসে 
কান্না এলে গড়িয়ে নামো তাই যে আমি কাঁদতে চাই 
বিষন্নতা তোমার কোল এ লোভ আমার চিরকাল,
আমার শিরায় শিরায় ধ্বনি তোমার  আমায় তুমি সৃষ্টি কর, 
তোমাতে আমি আমাতে তুমি জন্ম রোজ দুই আধারে, 
সন্ধ্যে নামে কান পেতে রই   মৃত্যুর শব্দ শুনবো বলে, 
আমি তোমার শব্দের গায়ে কান পেতে রই তোমার কথা শুনব বলে।   
আমি প্রতিটা জঠর তোমায় খুঁজে হন্যে হই, 
তোমার কথা  শুনব বলে প্রতি জন্ম আমার নির্বাক।  

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

সুবর্ণা(৯২)

----------------- 

পরিচিতদের কাছে রেখে গেলাম তোমায়, 
আমি রেখে গেলাম তোমার দেওয়া ঠিকানা 
অপেক্ষা কোনো এক সকালের যেদিন 
এই পরিচিত পৃথিবীতে তুমি একা হবে 
একা হতে হতে  ঘুমিয়ে পড়বে  আমি তোমার স্বপ্নের
দুয়ারে দাড়িয়ে সেদিন, 
সেদিন সভ্যতা নতুন করে তোমায় জাগিয়ে বলবে 
সব কাজ শেষ  এবার এস নতুন জন্মের  অভিষেক
হোক এবার সব  চেনা হোক অচেনা.... সেদিন 
ঘুমঘোরে আমার নাম খুঁজে পাবে কুয়াশা ভোরে,     
আমি আজ হারিয়ে যাচ্ছি ইচ্ছাকৃত কোনো  এলোমেলো
শব্দের হাওয়ায়, 
ভীড় ঠেলতে ঠেলতে শহরের পর শহর ছেচড়ে ছেচড়ে 
তোমার ঠিকানায় ঠিক পৌঁছে যাব,  আর অপেক্ষাও থাকবে 
আমার সাথে অনন্তকালের,   সুবর্ণা রবি ঠাকুর কেমন
করে আমাদের এত বুঝতেন শত শত  বছরের পথেও 
তিনি অবিচল প্রতিটি ভাবনায়.... কেমন করে আজ তিনি
আমার হৃদয় পড়ে ফেললেন... আর লিখলেন যাহা
পাই তাহা চাইনে যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই... 
আমায় মাথায় হাত রেখে শেখালেন ত্যাগি হতে। 
আগুন ছুয়ে হৃদয়কে করলেন শুদ্ধ,,  তারপর আমি
হাঁটতে থাকলাম নিরন্তর মুক্তির পথে যেখানে 
আলো কেবল তুমি অন্ধকার কেবল তুমি বেঁচে থাকা
কেবল তুমি মরন কেবল তুমি,  
আজ রেখে  গেলাম তোমায় পরিচিতদের কাছে 
আমি অপেক্ষার ঠিকানায় শুরু করলাম না ফেরার 
যাত্রা,  তুমি ঠিকানায় এসো ফিরে নতুন সকালের
আগে। 
......... সুবর্ণা প্রিয় ঠিকানা,           

            
        
 

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

বাজারি দর

---------------------------- 
পেটে লাথি মেরে রাস্ট্র আমায় শিখিয়েছিল 
আমার শরীরের দাম, বুকের মাংসে হাত রেখে সভ্যতা
আমায় শিখিয়েছিল দাম আছে দাম আছে, 
শরীরের নিটোল বাঁক দিয়ে নামতে দেখেছি হাজারো
লুকোনো হাতের থাবা,  সেদিন বুঝেছিলাম এই  খাঁচাটায়
আত্মার দাম বড়ই নিতান্ত,  অথচ কড়ায় গন্ডায়  
মাংস পিন্ডের পাহাড় নদী গুহার দাম  আকাশচুম্বী ,   
আসলে এটাই বাস্তব  রে মেয়ে  তোর দাম তোর মাংসের
ওজনের নিরিখে পাবি,  
 খাঁচার মাঝে রাখা পাখিটাকে কেউ লক্ষ্যই
করলো না কখনো, 
তাই মেয়েটাও শিখে নিয়েছে  জন্ম পথে   না জন্মানো
 সন্তানদের পিতারদের  মুখ চেপে ধরতে   , তাদের 
থাবায় ভরে দিতে শিখে নিয়েছে আধপোড়া মাংসের
দলা, 
মেয়েটার পেটে   রাস্ট্রর  লাথিটা  খুব জরুরী ছিল।               

মাটির টানে

---------------------------- 
 

মাঝে মাঝে আমার হোগলা পাতায় পান্তা ভাত
আর নুন লংকায় খিদে উদযাপনের ইচ্ছা হয় 
আমার ওই কালো নিটোল চিকন  সাঁওতালি মেয়েটা
ভেতোর আত্মা হয়ে মাখতে ইচ্ছা হয় ওই সহজ জীবন, 
একদিন ওই পাথুরে লালমাটিয়ার গাঁ এর পথে আমিও 
মাথায় কাঠের বোঝা কিংবা খড়ের আঁটি নিয়ে হাঁটবো 
খুলে ফেলবো এই  আড়ম্বরপূর্ণ পোশাকি  ন্যাকা ন্যাকা 
সভ্যতা,  সারাটা দিন রোদ মেখে স্নান করবো নোনা ঘামে 
মাটি সেদিন বলবে  আমার তুই আর আমি মাটির গন্ধ 
বুকে নিয়ে ঈশ্বরের দিকে চেয়ে বলবো আর কিচ্ছুটি দিও না
আমায়,  বটের ঝুড়ির মত একদিন আমারো মুখ বেয়ে
জীবন জাল বিছিয়ে থাকবে, শরীর ক্রমশ ওই বোহেমিয়ান
আদোরে শিথিল হবে , তুইও থাকবি কোনো আদিবাসী
প্রেমিক হয়ে..... মহুয়ার নেশায় বুঁদ  তুই আমি,  শেষ রাতে 
আদিম আদোরে   জোৎস্না   ছড়াবে সলমাচুমকি, 
আমার   শতায়ু  শরীরে কেবলি তখন বাঁচার গন্ধ ভরপুর । 
আমি পাশ ফিরে শুই শিরশিরে ঠান্ডায় ঘুম ভেঙে যায়, 
এ সির টেম্পারেচার কম করে দিই,  
এই হাজার  স্কয়ারে রাত বড় হয়... হয় নির্ঘুম, 
আমার ইচ্ছাগুলো সিলিং ছুঁয়ে আকাশ খুঁজতে হোঁচট খাচ্ছিলো বারবার 
.......মন  কেমনের সাথে আমার আবার সহবাস শুরু হল।                 

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

তোমার কান্না

তুমি যখন  অন্ধকারে কাঁদো গ্রহন লাগে সভ্যতায়, 
আকাশের সব চেয়ে পুরোনো নক্ষত্র রোহিনির 
চোখ বেয়ে তোমার যাতনা, 
তুমি যখন কাঁদছিলে পৃথিবীর প্রেম তখন পুড়ছিল
হাহাকারে,  জানো বহু সভ্যতার ধ্বংস  মাথা নিচু করে
 মিশেছে  তোমার মত প্রেমিকের কান্নায়,  
আজ আর আকাশে এমন কোন নক্ষত্র নেই যার
বুকে তোমার কান্না অন্তত একটা শরৎ বাবুর গল্প
লেখেনি। 
  তোমার প্রতি রক্ত ক্ষরণে আমি নিজেকে 
ক্ষমার অযোগ্য করে ফেলি,  বৃষ্টি ভিজে  দাঁড়াই 
অসহায় মনখারাপ এর দিনলিপি ঝুলিতে ভরে। 

তোমার কান্নায় বহু শতাব্দির মৃত পীড়িত
প্রেমআত্মা কে ছুঁইয়ে দেয় জীয়ন কাঠি, 
বাউলের একতারার ছিলায় তোমার অনন্ত প্রেম 
তবু এদেশে একজনও প্রেমিকার জন্ম হল না 
জন্ম হল না আদ্যান্ত ভালোবাসার উপন্যাসের,,  
নষ্ট প্রেম,  ,  পোড়া স্বপ্নর গন্ধ কে আমি যমজ
দেখি প্রতি সভ্যতায়  আর আমিও সামিল হই
তোমার আজস্র কারনে অকারনে নোনা বহতায়, 
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পাই আমার মুখ
দিয়ে গড়িয়ে নামছে তোমার ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের
রক্ত,  আসলে আমি চিরকাল অভিশপ্ত ,  আসলে আমার
ঈশ্বর অভিমানী .... তাই আমার নিজের হাতে প্রতিবার
কবরিত হয় আমারি ভালবাসা....., 
...তোমার অন্ধকারে মুখ লুকোনো কান্নায় আমায়
ভাসিয়ে দিতে তো পার, তবু আঁকড়ে রাখ... লাগতে
দাও না গ্রহণ,  আমি মৃত্যু ছুঁয়েও বেঁচে ফিরি বারংবার, 
কারন ঈশ্বর জানেন এখনও পথ হাটা বাকি, 
কারন তুমি চেয়েছ কোন এক দিন শ্রাবণ শুধু আমাদের 
আর  আমরা মুখোমুখি।   
                                             

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

ঈশ্বর ধ্যানমগ্ন

অবোধ কিছু ভাবনারা পাশে থাকলেও
বিশ্বাস হারায়নি এক মুহুর্ত  নেভেনি আশার আলো
তাই তো মেঘ আসে তারপরে কখনো বৃষ্টি, 
প্রতিবার আমার থেকে বেশি সে বৃষ্টিতে তুমি ভিজেছো 
আমার অসম্পূর্ণতায় কেন জানি না লেগে থাকে তোমাকে
ভালো না রাখার রাহু, 
অথচ অতলে কোনো গভীর মনে  প্রান প্রতিষ্ঠান তোমার নামে
তোমার নামে আমার শুভজন্ম লেগে থাকে প্রতি মুহুর্তে। 
নেশাগ্রস্ত না অভ্যাস জানি না,  জানি না তোমার হাতের রেখায়
কতটা পথ সাথে সাথে, 
আসলে আমার জানা গুলো ক্রমবর্ধমান আর নয়, ওরা 
তোমাকে প্রদক্ষিণে দিক্ষিত একলা আর একনিষ্ঠ, 
তোমায় বলা হয় না আসলে আমি কখনো ছায়ায় হাঁটিনি
আগে, আমার বুক গড়িয়ে নামা অক্ষত ক্ষতদের কেউ
এর আগে   শুশ্রূষা করেনি 
বহু দিন ক্ষুদার্ত পেটে সামান্য পান্তা জোটেনি, 
ঈশ্বর এসেছিল একদিন.... শুরু করেছিল দুমুঠো
যত্ন দেওয়া    দিন প্রতিদিন পড়ে পাওয়া চোদ্দয়ানা 
লোভ তো বাড়ারই ছিল, 
এখন ঈশ্বর যখন ধ্যানমগ্ন তখনও যে ওই ক্ষিদে 
নিয়মিয় পায়,  সে কথা বোঝাই কিভাবে। 
                 

আমি আর পাপ

আমি আর পাপ

---------------------------- 
আয়নার সামনে দাঁড়ালে স্পষ্ট দেখতে পাই আমার
পাপগুলোকে ,  চোখ মুখ দেহে নির্দ্বিধায় প্রতিটা পাপ
মাথা উঁচু করে ধ্বংসলিপি খোদাই করছে, 
আমি চুপ করে পাপ মেখে চলেছি যুগের পর যুগ, 
ধাবিত যাত্রী হয়ে। 
আমার অভ্যেসে পাপ গুলো মোহ জাল বিছিয়ে
ফেলেছে যত বেরোতে  চেয়েছি সেই জাল আমায়
আরও  বেধেছে আষ্টেপৃষ্ঠে, 
অন্ধকারে চোরা বালি কখন অপেক্ষায়  থাকে 
কে বলতে পারে?  আমিও ব্যাতিক্রমি হতে পারিনি,
তুমিও তাই প্রতিবার নতুন মোড়কে আমায় পাপ
পাঠিয়ে গেছ ,  ভাংগা বাড়ি ঘর সারাইয়ে সে সব 
পাপ আমি ব্যাবহার করেছি বারবার ,  
কখনো মুক্তি পাবো না এ পাপ থেকে 
কারন  আমি আর পাপ আলাদা নই আর, 
ঈশ্বর সময় পেলে আমায় নিয়ে খেলতে থাকেন 
হাসতে থাকেন....... আমি বুঝি তার অবসরের
সময় যাপন।    

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

সেদিন

ডুবসাঁতার জানতাম তাই প্রতিবার জলচক্রের
চিহ্ন মুছে মুছে নির্জন বুদবুদ লিখতাম
চিলেকোঠার মেঝেতে ...গোপন পুকুর কেটেছিলাম
সেদিন,

দুপুরের নরম আলো রিংটোন হয়ে মুঠোফোনে আসে ঠিকি,
অথচ আমার  কন্ঠস্বর নদী থেকে ঘাসে
মেঘ ডেকে উঠলে যেমন হয় তেমনি ছিল সেদিন...
শ্মশান  কখন স্বজন অপরিচিত করে  পাড়-ভাঙা বিষাদের দেশে বাসিন্দা করে দিয়েছেল সেকথাও
ভুলিনি ....................
চিতা নিভেছিল আর  ফুরিয়ে ছিল যেমন টা 
ফুরোনোর কথা ছিল সবকিছু ।  রজনী গন্ধার গন্ধ ও বেদনা আমার চিরকাল যমজ মনে হয় কেন জানি না 
 দুজন পাশাপাশি স্হির চেয়ে থেকেছি বহুবার আর ততবার 
জল ভেঙে ধেয়ে আসার মতো ব্যাকুল হয়েছে 
এই  পৃথিবী সব প্রেম
সারারাত আমার দিকে ফিরে যন্ত্রনার যতিচিহ্ন গুলো চেয়ে থাকে নিষ্পলক হয়ে 
 ডুব সাঁতার জানতাম তাও শেষ বার জলচক্রে
মৃত্যু খুঁজে নিয়েছি 
অথচ সেদিন প্ৰিয় দেহটা পাওয়া গিয়েগেছে তোমার
রোদ ও ছায়ার উঠোনের  ঠিক মাঝখানে ।

রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০

এস থাকি বেঁধে বেঁধে

----------------------------   

এসো না থাকি বেঁধে বেঁধে  বলি মনের আনবোলা
অন্ধকারের টুকিটাকি,  এমন করে বুকের দেরাজে 
নাইবা রাখলে মনখারাপ এর দিনলিপি, এসো থাকি বেঁধে
বেঁধে,  যে যা বলে বলুক..... মনের অসুখ হতেই পারে 
মনের ও তখন যত্ন লাগে,  মাথায় হাত রাখার হাত 
নিশব্দে বলতে লাগে আছি তো তোমার জন্য, 
  তুমিও যে মুল্যবান আমার জন্য   ,  
এসো  মিঠে রোদ্দুর রাখি মনের ওপর
শুধু ঠোঁট নয় মন অবধি সেতু বাধুক হাসি,  
পৃথিবীটা ছোট হতে হতে মুঠোয়  এসেছে তবু মুঠো
থেকে কেন  সময় ফুরোয়   অসময়ে, 
ঘুম আসুক ভাংতে ঘুম নতুন সকালে,  এসো না 
যাই হয়ে যাক মুখোমুখি হই এই জীবনেই, 
মৃত্যু আসুক শান্তি নিয়ে... এমন করে নাই বা
যেতে,  থাকলে একদিন ঠিক সামলে নিতে। 
যারা রইলাম এসো বিনিময় করি মনের খবর, 
যারা রইলাম এসো আর একটু খবর রাখি 
পাশের জনের , 
যারা রইলাম আজ থেকে থাকি বেঁধে বেঁধে 
........অন্ধকারকে হারিয়ে যুদ্ধে আমরা ফিরবো বেঁচে।                     

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

তবু মনে রেখো

--------------------------------
তুমি বলেছিলে মন খারাপ হলে তিস্তার জন্ম হয়
তাই তোমার উৎসের পাশে লাল মাটির পথের ধারে 
তোমার কবিতার কাছ ঘেষে ঘর বাঁধতে চাই, 
হতে চাই তোমার কবিতার মনিষার এক একটি শব্দ
বুনন গিঁট,  ক্রমশ তোমাকে বুঝতে  তোমার ধারার
কিনারা ধরে হেঁটে যেতে চাই উৎসে , মুগ্ধতায় ডুবে
স্নিগ্ধ হতে পারলে স্বার্থক  এ জন্ম। 
তুমি বলেছিলে মেঘ পিয়নের ব্যাগে মন খারাপের
দিস্তা দিস্তা চিঠিতে  লেখা  থাকে বৃষ্টিদের জন্ম কথা 
বলেছিলে মন ব্যাকুল হলে  জন্মায় তিস্তা,   তোমায়
ছুঁতে পারার ইচ্ছা কেবলি এক বাহুল্যতা  সে কথা মানি, 
তোমার জানার নেশায়  যেতে চাই   মোহন কোন অভিসারে
গুছিয়ে রাখি মালাকার হবার টুকিটাকি, তোমার শব্দদের 
পায়ের চিহ্ন ধরে আমি  প্রবাহমান সময়ে তোমাকে খুঁজে
ফিরি সব জন্মে.................... 
........তুমি বলেছিলে মন ব্যাকুল হলে তিস্তা হয়
সেদিন থেকে তুমি ঈশ্বর  আজ ও  আগামীর চিরসখা হে তুমি।          
        
            

বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

তোমার নাম

------------------- 

তোমার নাম দিলাম পদ্মনাভ,  নামকরণ এর
সাথে সাথে তোমার বুকের বেড়ায়  গেঁথে রাখলাম
রাধা নামের চিরকুট ,  চুক্তি অনুযায়ী এজন্মে অচৌক্তিক
ছিলাম      পর জন্মে  তোমার না বলতে পারা জেহাদে 
একান্তের মশাল করে জ্বালিয়ে নিতে ভুলো না, 
কারন আমি এ জন্মের পরিপাট্ট রেখে যাব আগুন
পথের অনেক আগে। 
.................................
পরজন্মে নাম নিও বনমালী...  জানি না সবাই
কেন বনমালী    হতে পারে না , হয়তো সবাই
শুধু পুরুষ হতেই ব্যাস্ত সারাটা  জীবন ভর 
অথচ এই আধ পয়সার নাটকের মঞ্চে তুমি শুধুই
নারীর বুক হাতড়ে হৃদয়ে কথা খুঁজে গেলে 
নারীর নাভি থেকে তুলে আনলে কস্তুরি ঘ্রানে ঢাকা
সমস্ত অভিমান, নারীর না বলা কথায় ভরিয়ে দিলে 
গ্রন্থ...... বুঝলা না তবু কেউ, ছুটে এলে এক যন্ত্রনা উপচে
পড়া নারীর কাছে... প্রেম চাইলে,  চাইলে দুঃখ,  তার
দুচোখের যমুনা স্নান করলে কয়েক হাজার বার, 
দর্শক  হাততালি দিল  আড়ালে বলল নারীবাদী  শা....
 নাকি  তৃতীয় স্বত্ত্বা,  তাদের বোধগম্য হল না
তোমার কথা ভাবল  খায় না মাখে....
এই পোড়া দেশে এমনটাই হয় ,  আমি গোপনে কাঁদলাম কারন 
তুমি আমার চোখের জল সহ্য করতে পারো না মোটেই, 
তারপর  এজন্মে  তোমার নাম রাখলাম পদ্মনাভ   আর বুকের
ছাল বাকলের ফাটলে গুঁজে রাখলাম রাধা নামের চিরকুট, 

আগুন হয়তো সব পুড়িয়ে ফেলতে পারে না   নিদারুন   
কিছু দেনাপাওনা জমে থাকে বাসি পড়ে থাকা জীবনের
চালচিত্রে,  আগুন হারতে শেখেনি তাই সেসব বকেয়া
বাতাসে মুড়ে আকাশ নগরীর দিকে ছুমন্তর করে দেয়, 
আসলে যা চোখে দেখা যায় না তার থেকে যাওয়া  
আমরা কেউ দেখতে পাই না। 
সাতসতেরো   ভাবলাম কিনা জানি না তবে পরজন্মে
নাম নিও বনমালী,  জন্মের  পর চোখ খুলে প্রথম
দেখ রাধা নামের চিরকুট, 
আমার নতুন জন্ম হোক স্বার্থক কোন
কারনে.... সমস্ত চুক্তিপত্রে শুধু সেদিন রাধা
লেখা,  আর তোমার প্রেম পরিনীতা সেই
নারী কেবল তোমার অপেক্ষায়,,    
.........তোমার নাম রাখলাম পদ্মনাভ... 
.......পরজন্মে নাম নিও বনমালী....।          
          

ফিরে চল

---------------------------- 
চল এবার ফিরে যাই সব শোরগোল থেকে 
তোর কবিতা আর আমার উপন্যাসের পাতা
থেকে ছুটি নিই আমরা পড়ে থাকুক তোর 
কবিতা প্রেমিক পাঠকেরা পড়ে থাকুক কথা
রাখার তোর যাবতীয় কর্মকাণ্ড, 
চল দল ছুট পাখির মত অন্য কোনো আকাশে
যেখানে তোর শাখাপ্রশাখা বিস্তার নেই একটাও
অনধিকার অধিপত্য, 
আসলে অধিকার ভাগ করতে করতে আমি
ক্লান্ত,  কবিতার শব্দ গূলোয় আমার মত ক্লান্ত
হয়রান,  ওরা অনভ্যস্ত তালে হয়তো বা অভ্যস্ত 
 আসলে এ হৃদয়ের অনেক কিছু না পারা আছে, 
তাই সবার মত মঞ্চমুখি হতে পারিনি কখনো, 
ভয় পাই ভিড়কে চিরকাল তাই হাজার খানেক
লোহার চাদরে লুকোই একলা তোকে নিয়ে, 
সময় বালির মত হাত থেকে ফুরোনোর আগে 
চল এবার ফিরে যাই এসব শোরগোল থেকে
মুখ তুলে একটা নাম একটা আকাশ 
আর একটা আমরা হারিয়ে যাই, 
...........এই তো আমি চাই।      
         

সোমবার, ১ জুন, ২০২০

সেদিনের বৃষ্টি

----------------------------  

কেমন করে তুমি যে প্রাক্তন হয়ে গেছ প্রিয়তোষ, 
যে ভাবে বৃষ্টি এসে ধুয়ে দিয়েছিল সেই যন্ত্রনার
আছড়ে পড়া সকালে 
কখন যেন  'বেশ তো ছিলে আদোরে আব্দারে বেঁচে
নিয়ে ছিলে নিজের মত নিজের সাথে আমাকে, 
হঠাৎ তোমার ঝাঁকড়া চুল গহীন দৃষ্টি এমন ফ্যাকাসে
প্রানহীন  মাছের চোখের   গোত্রীয়  কেন যে আজ ? 
প্রাক্তন হলে হয়তো এমনি হয় ,   শিরদাঁড়ায় ঘুন পোকারা
তির তির করে ঘর বাঁধছে ,  চিনতে চাইলেও  খেই হারিয়ে
ফেলি কিছুদূর যেতেই   
সব  উৎসব দহন হতে হতে ছাই হয়ে গেছে আসলে 
আসলে আজ থেকে  তেইশটা   বছর আগে যে সকালে
বৃষ্টি শুরু হয়েছিল তা হয়তো আর থামে নি জানো, 
চোখের কোল ঘেঁষে সেখানে বৃষ্টিনগরী তৈরী হয়েছে। 
অনেক  দুঃস্বপ্নের মাঝে তোমায়  আঁকড়ে রাখতে না
পারাটা একদিন সত্যি হয়ে গেছিল, 
পারলাম কই তোমার প্রথম প্রেরণা থেকে 
শেষ ইচ্ছায় একই ধারায় বইতে? 
আচ্ছা  প্রিয়তোষ যেদিন তুমি শেষ 
চিরকুটে জ্বলন্ত  চিতাকাঠ লিখে পাঠিয়েছিলে
তোমাকেও কি পুড়তে হয়েছিল আঙুল বেয়ে
দহনে  কি হৃদয় পুড়ে  ছারখার হয়েছিল? 
নাকি  ফন্দির আড়ালে ফেটে পড়েছিলে 
 অট্টহাসিতে  আমার জ্বলন্ত ছাইয়ের  ভাবনায়? 
তবু এখন তুমি প্রাক্তন.... তবুও হাজারো  নদীর
নামে নিঃশব্দে আমার চেতনায়,  কখনো অজয়ের
স্রোতে কখনো দামোদরের বহতায়......, 
তবুও তো তুমি প্রাক্তন হলে শেষমেশ।