বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

আলোয় আলোয়

*******-********************

না পাওয়ার ভাবনায় কতোবারই তো
মেঘ করে আসে চুপিচুপি,,,  বুকফাটা
কান্নায় বালিশ ভেজে রাতের অন্তরালে,,
তবুও আলোর মত যত্ন করে সাজানো তুই,
আঙুলের মুদ্রায় এককলি স্পর্শ স্রোত বয়ে
যায়  তারায় তারায়.....,
জ্যোৎস্নায় চুল ভিজিয়ে ভাবি ভাগ্যিস ঘোর
কৃষ্ণবর্ন রাত ছিল তাই তোকে খুঁজেছি অঝোর
আকুতিতে।
কখন যেন না বলা উচ্চারণএর প্রতিধ্বনি হয়ে
আমার চোখে মুখে সময়ের উপমা ছড়িয়ে দিয়েছিস।।
সেই সব বুকফাটা কান্নারা  অক্লেশে ফিরে গেছে
মাধ্যাকর্ষণ গতিতে,,, শরীরে লিখে রাখা যাপনীয়
কালশিটে অপেক্ষা করতে শিখে ফেলে কোনো
আলোর অধ্যায়ের দোরগোড়ায়---
এভাবে থেকে যাস আমার আমিতে একটা স্বচ্ছ
প্রতিধ্বনির মতো কিছুটা স্পর্শ মেখে।

রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৮

দুই খন্ড

*****************

রাতের গায়ে উপুড় হয়ে একটা ধুকপুকুনি শুনতে শুনতে
দুইখন্ডে বেঁচে থাকা আজকাল অভ্যাস,,
সূর্য  আর চাঁদের আলো দুইখন্ড ছুঁতে পারে না।
ছাতিম ফুলের গন্ধ ঘিরে একলা পূবের বারান্দাটা
বর্ন খুঁজে পায় না কখনওই,, তখন হাতের তালুতে প্রতিটা
রেখা ভীষণ সংগহীনতায় ছটপট করে.....যেন একবার
শুরু থেকে শুরু করার তীব্র আকুতি।
গাছের চারার মত ভোরের স্বপ্নে নিজেকে দেখি,
সমস্ত পোষাকি দেনা পাওনা মিটে যায় নিমেষে।
জীবন যাপনে স্বেচ্ছামৃত্যুর ঝোঁক ক্রমশ স্পষ্ট
একটা ফ্রেমে ঘরের এদেওয়াল ওদেওয়াল
করে বেড়ায়,, সে ছবি প্রতিচ্ছায়া মানে নিয়মমাফিক,
লুণ্ঠন হতে চাওয়া হয়ে ওঠে না কিছুতেই।
একখণ্ড জীবন কফিনে ঘুমায় আর এক খন্ড
তীব্র ভাবে কিছুটা আকাশ হাতড়ে বেড়ায়,,
দুই খন্ড জীবনের সহবাস যেন সমান্তরাল দুটি
পথ সাথে থেকেও বুকে মাথা রাখা যায় না,,
তাই প্রিয় আয়নার ফ্রেমে দেখি আশ্চর্য ঘুণপোকার
সংসার।

পরিচয় ঋন

**********************
নামকরণ হয়নি আমাদের সেতুখানির,
এক দুরন্ত  সময়ের বিভাজনে আবিষ্কৃত দুটো
প্রাণবায়ু ভরা দেহ সামিল হয়ে গেছে একই
পথে।
নামকরণ হয় না অনিয়মিত আলাপনের, একচিলতে
ভালোলাগার, একটু উষ্ণতার। ঘরের ভেতোর গোপন
ঘর তার ভেতোর লুকোনো তোরোনে এ যেন এক
ফুলকি আলো,,
ক্লান্ত মুসাফির বাসায় ফেরার পথে এক সমুদ্র চোখ
লুকিয়ে মুঠো খুলে নিজেকে ভিজিয়ে নেয় সে আলোয়।
রোজ প্রশ্ন জাগে কি নাম দিই সে আলোটুকুর,ভালোলাগাটুকুর!!
হৃদয়পুরের খামার বাড়িতে ক্ষনে ক্ষনে আসা যাওয়া আমাদের
সাতরঙা ভাবনার ভিড়,,।
নির্ভর কে কাকে করবে জীবন সে মুল্যায়নের সময় দেইনি,,
কেতাবি চরিত্র হয়ে সকাল থেকে রাত...নিকোনো
উঠোন থেকে কখন যেন  কর্পোরেট দুনিয়ায় তুমি
সাজানো ম্যানিকুইন,, জংলী হৃদয় থেকে প্রযুক্তির
সার্কিট বোর্ড তখন এ হৃদয়।
এভাবে আজ কাল পরশুর গায়ে সাজানো
পোষাকে ভালো থাকার সুগন্ধি ছিটিয়ে বেঁচে থাকা,,
মাঝরাতে কখনো পূবের বারান্দায়, কখনওবা উত্তরে
নির্ঘুম রাত মাখতে মাখতে প্রহর এর ভগ্নাংশ জুড়ে
ভাবনার সেতু তে হেঁটে যাওয়া....
এসব বেহিসেবি ঋন সময়ের দরজায় দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে,
সাজানো চতুর্ভুজে প্রবেশ নিষেধ।
তবুও জেনো ভালো আছি ততক্ষন
যতক্ষন তোমার গন্ধ আমার ভালোথাকাকে
আগলে আছে।

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮

আকাশের গায়ে

**********************************

নীল বীষে ঢাকা তোমায় দেখবো ভাবিনি,
আজ মৃত কবির মুখোমুখি অজস্র ঢেউ যেন ঘুমিয়ে আছে,
পরিপাটি পদ্মার জলে ভেসে আছে চুপিসারে
অনেক আলাপী কথকতা,,
অনেক বছর হল ভালবাসার খবরাখবর
বিনিময় হয়নি,, বটগাছের ঝুরি বেয়ে আছে জমাট
কান্না।
তুমি বোঝোনি এক অজানা ঘোরে ক্রমশ হারিয়ে
যেতে যেতে আমরা কয়েক যুগ হেঁটে ফেলেছি
যাপনকে বাঁচিয়ে রাখতে।
পলকহীন রাতেরা অপেক্ষা করতে করতে অন্ধত্ব
মেনে নিয়েছে,, জোনাকিরর আলোটুকু ছাড়া
সব তারারা এখন ক্লান্ত...ওরা খসে পড়ছে
একে একে তোমার নীল মুখের পরে, বুকের পরে,
আজো এতো বছর পর তোমার আগুনে পুড়ছি
ক্ষইছি, ফেলে আসা মুখোমুখি দিনগুলো যেমন
ছিল।

একলা শহর

---------------------------------------------------

নানান বাহানায় দিন চলে যায়, শহরের ইতিউতি
দলছুট হাতেহাত। তুমি আমি নেই এর শহরে
শুকসারির পাখায় লেগে থাকে দিগন্ত ছোঁয়া
শোক,,
চিলেকোঠা রাতে  জেগে থাকা স্বপ্ন
চাদরে মোছা নরম অভিমানী ইশারা লেগে থাকে
নির্ঘুম চোখের কাজলে।
কখনো মুখ ফেরানো  কান্নায়  ভেজা রুমাল তার আদোর
মুছে দেয়,,  ভেজা ট্রেন লাইনে লেগে থাকা প্রহর
দ্রুত ঝাপসা হয়ে যায়... সব ভুলে
ভালো থাকার সবুজ ধানক্ষেত ছুঁয়ে একটা মেয়ে
মেঘের দেশ ছুঁয়ে ফেলে,,
তোমার আনাচকানাচ জুড়ে হাজারো ব্যেস্ততায়
সামিল জিন্দেগী,  বুকের ভেতোর একখণ্ড জমি
শূন্যতা রেখে যায়  কোন এক কালবৈশাখীর সাথে,
সে দিনও আজকের মত তুমি আমি নেইএর একলা
এ শহর,,,,  দূরে ট্রেনলাইন সমান্তরালে একলা হাঁটতে থাকে।
একঠোঁট  নানান বাহানায় চুপকথারা ভালো থাকার গল্প
বলে যায়, তুমি আমি নেই এর এই শহর অসম্ভব ভিড়েও
একলা থেকে যায় অজানা নিয়মের গরাদে।

মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট, ২০১৮

খোঁজ (৪)


অনেক কিছু বলা হয় না নিয়ম মেনে
ঘুম ভাঙা সকালের  আলো থেকে চুঁইয়ে পড়া মন খারাপ আজও একলা
চায়ের কাপে।
মানুষ বলে পোষাকি  ভালো থাকাটা জরুরী
আসলে ভালো থাকাটা রংমঞ্চের অভিনয়ের পারদর্শিতা,
  ভাবনায় ভালো থাকা ততক্ষন যত ক্ষন ইচ্ছারা বেঁচে আছে।
জলাভূমি থেকে উঠে আসা  জীবন তার গায়ে আজস্র  দায় ভার চিহ্ন আঁকা।
সকালের শিশিরের জেগে ওঠা থেকে ধারাপাতে সিঁড়িভাঙ্গা অংক
তুমি আমির ,বাঁচার নামতায় দুয়ে দুয়ে চার যতক্ষন, ভালো আছি ততক্ষণ

আসলে চোখের কালিতে জমে থাকা অভিমান
কিংবা বুকের দাবানলে জ্বলতে থাকা আগুন
খুব সহজে সহ্য করা যায় না,,
ভালো না থাকার  কারন যেমন  কবিতায় বন্দী শব্দজব্দ।
কতগুলো শব্দ জুড়ে যেন কোন বিশাল আকাশ
বাঁচার অভিনয়ে মৃত্যু ছুঁয়ে থাকে,,
বেড়ে ওঠা আগামী কে দেখেছে বল.?..  তবু
অনেক কিছু বলা হয়ে ওঠে না অনিয়মিত নিয়ম মেনে।
অন্ধকার সমুদ্রের ভাসতে থাকা নৌকো হারিয়ে যাচ্ছে চোখের পরিসর থেকে
আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র সাক্ষি রেখে বলে মনে মনে ভালো
আছো সুজন এমন সব চুপ থাকার দিনে,
আমিও খুব ভালো আছি ভেবে নিও তুমি।

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮

ভেজা চিঠি(১৪)

বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত সরে গেছি ভিড় থেকে,
যোগাযোগ সেতু মুছে গেছে অদৃশ্য হাতে।
পরিখার পাশে জমে থাকা জলের মত  জীবনের
এযাবৎ সূত্র গুলো রয়ে গেছে,,
আসা আর যাওয়ার মাঝে কিছু সম্পর্কর দাঁতের
কামড়ে লুকিয়ে আছে পাঁচমিশালি যতিচিহ্ন, যা কিনা
বাইরে থেকে দেখতে একরকম আর ভেতোরে অন্য
গল্প।
পরিপাটি দৃশ্যের পেছনে আত্মরক্ষা করে ঘনিষ্ঠ
হয়ে ক্ষতগুলো গুড়ো গুড়ো হলুদ আলোয় নিজেদের
বীষ ধুতে চায়,,
আগাম কোন বার্তা না দিয়ে আজকাল
হৃতপিন্ডের রক্ত চলাচল হঠাৎ হঠাৎ থেমে আসে।
কাটা কাটা ছবিগুলো জুড়বো ভেবে সারাটা বেলা
স্মৃতির কৌটোতে ঘনত্ব খুঁজে রাখি, কখন যেন
কৃষ্ণপক্ষের ছায়া  মৃত্যু ঘনিয়ে আসা শরীরটায়
অলিক অনুভূতি ঢেকে ফেলে। এখন যখন
আমার রক্তে ভাঁটার টান তখন তুমি অন্য
স্রোতের টানে।
কাঁচের বাক্সে তুমি রেখে গেছো ঈশ্বর ছোঁয়ানো
ফুল, আমার কাছে সে সব মূল্যহীন,
দু চোখ বুজে তোমায় ছুঁয়ে সুগন্ধি চন্দনের
সুবাসে আমি ভরে উঠি,,  এমন অনেক কথা
আজকাল বলা হয় না  তাই আমার কান্না
আঁকা খাতাটার শেষ পাতায় রইলো সুগন্ধি
কিছু বর্ণ যা দিয়ে সাজিয়ে দিও উপন্যাসের উপসংহার।

রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৮

একটা মৃত্যু

++++++++++++++++++++++
চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে একটা মৃত্যু দেহ
খুঁজছে, বাসে ট্রামে পিশে যাওয়া মানুষগুলো
জীবন আঁকড়ে  ছ্যেঁচড়াতে ছ্যেঁচড়াতে চলে যাচ্ছে,
এ শহরে অস্থিরতা কোনোদিন কম ছিল না, 
তাই শ্লিপিং পিল এ কিছুটা স্থিরতা  আনার অভ্যাস
বলতে পারো,,   যে ইচ্ছারা ঘর বাঁধতে পারেনি কখনওই
কেবল ঘরের ছবি এঁকে গেছে তট জুড়ে, তারা
এখন তাসের ঘরে মৃত্যু সাজায়....
কবিদের মৃত্যু নেই বলা হয় অথচ কবিদের
বুকে মৃত্যুর কান্না আর তার স্বরলিপি
হাজারো চলন্তিকা, সুরঞ্জনা, কণারর
বুকের পাঁজরে বাজে।
কোনো এক তৃতীয় চক্ষু আসে যায়
সময়ের নিরিখে... কখনো কখনো ঈশ্বরত্ব
মানতে মন চায়,, তবে মন সে তো হাজার বার
প্রতি মুহুর্তে মরছে।
দেহটার কিছুটা স্ফুলিঙ্গ বাকি তাই চৌরাস্তার
মোড়ে একটা মৃত্যু এখনো খুঁজছে দেহ।

শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৮

ভেজা চিঠি (১৩)


মোহ ভেঙে  যাওয়া শব্দরা জিঞ্জাসা চিহ্নের মত,
বার বার গল্পরা সংগ খুঁজতে গিয়ে নির্জনতা ছুঁয়ে ফেলে,
আসা আর চলে যাওয়ারর মাঝে নিঃশব্দে  চাপা থাকে
জীবাশ্মর মত স্নেহ ভালোবাসা,
ভেজা চোখ কোনো সুত্র মানতে রাজি হয় না,
গড়িয়ে পড়ে পরজীবী মেঘেদের মত।
সাবধানে গুছিয়ে রাখা জলছবিরা অজানা
অভিমানে ছেড়ে যায়  ঘরের দেওয়াল,
ধীরেধীরে  ভেঙে পড়া ঘরটার পটভূমিতে
দাঁড়িয়ে আছি ভাঙার প্রতিধ্বনির মত,
যত বার ফিরে তাকাই অংকের প্রথমে কিছুতেই
খুঁজে পাই না ভুল হয়ে যাওয়া  সিঁড়ি কোনটা ছিল।
অনুভুতি সরিয়ে দেখতে চাই গোপোনের থেকেও
গোপোন ঘরটা... যেখানে ঈশ্বর হয়ে তুমি আছো...