বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

বাজিকর

তোর জন্য পাওয়া কষ্টরা  প্রায়শই আমার
মুখোমুখি বসে বাজি রাখা খেলা খেলে,, ,  
  কষ্টের ক্ষতরা শর্তের  প্রথমে  আমার চোখপিটপিট
পুতুলটা বাজিতে রাখতে বলে,  আমি প্রথম বার
জিতে  যাই  পরের বার আমার কবিতার খাতা 
আমি জিতে যাই,   আমার সামান্য  ঠুনকো সাহসের 
সম্বলে আমি পরের বার আমার বাঁ চোখ বাজি রাখি
এবার জিতলে তুই আমার ....... 
পারিনি জিততে ধারালো অস্ত্রে আমার বাঁ চোখ খুবলে
নিয়েছিল হেরে যাওয়া বাজি,  এরপর আমার ডান চোখ
বাজি রেখে তুই  আর খোয়া যাওয়া চোখের দাবি
রাখি.....  হেরে গেছি ,  আমার সম্বলের  লাঠিটা
বাঁ হাতে ধরে পরের বার আমি আমার ডান হাতটা
বাজি রাখলাম,  ভাগ্য তখন হারের শিখরে ,  অথচ
আমি তোর নেশায় বুঁদ....  এভাবে ক্রমাগত আমার
ঠোঁট,  কান,  নাক,  কলিজা আমি বাজিতে হারতে থাকি 
আমার শরীরের ক্ষত থেকে পুঁজ রক্তের স্রোত 
পথ ঘাট পার হয়ে নদীর কাছে পৌঁছে যায়,  অথচ
আমি তোর কাছে পৌঁছাতে পারি না। 
শেষ বার বাজি রাখলাম আমার আত্মাটা 
পরিবর্তে  তুই সমেত আমার সমস্ত খোয়া যাওয়া
সম্বল ফেরত,  বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে
আশ্চর্য  আমি ভয় পেলাম না এতটুকু,  
শুধু ঈশ্বর সামনে এসে  আমার  হৃদয় চক্ষুর কাছে
কুমন্ডুলের জল রেখে  বললো দেখ তোর  দুঃখ উৎসর্গ  যাকে 
সেকি সামান্য ভিজেছে তোর ক্ষত থেকে ঝরা আর্তনাদে। 
আমি বিস্ময়ে একবার ঈশ্বরের দিকে একবার তোর
দিকে চেয়ে দেখলাম..... তুই ক্রমাগত সূর্যর দিকে 
বেড়ে  উঠছিস  , আমার কান্না কিংবা রক্তের স্রোত
তোকে আর কখনও ভেজাতে পারবে না, 
অন্য দিকে চেয়ে দেখলাম ঈশ্বরের চোখ বেয়ে
গড়িয়ে নামছে কান্না,, 
আমি সারা জীবন তোর কাছে হারতে চেয়েছি
তবে  এ হার আমার মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রনাদায়ক।                   

নিরানব্বইতম চিঠি

-------------------------   
প্রিয়তোষ অনেক দিন হলো কোনো খবরা-খবর
পাই না তোমার চিঠির অপেক্ষায় এটা আমার নিরানব্বইতম
চিঠি,৷ কাগজ কলমেই তো থাকো শুনেছি  নিয়মিত,   
 শুনেছি তোমার   শব্দদের বাজার দর এখন  তুংগে,
 বেহিসেবী খরচে সেখানে  ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই যায়।
  দু এক কলমে  বিক্রি হয়ে যেতেও পারে ভিটে মাটি!,  
তোমায়  ঠিক বোঝার চেস্টা করি রোজ... যাতে 
তোমায় ভুল বিশ্লেষণের  দায়ে আমার মন্দবাসা  বাজারী  না হয়। 
শুনেছি তুমি আজকাল তোমার  অর্ধশত প্রাক্তন প্রেমিকাদের
স্মৃতি চারনে শব্দর বেচাকেনা করছো,   তাতে রোজকার পাতে অনায়াসে কব্জি ডোবানো রসনার জোগান হচ্ছে ভালো,, 
এসব  সবই  তোমার কাব্যিক মহল  থেকে ফিসফাস শোনা কথা। 
আমি যে একেবারেই বুঝতে পারি না তা নয়  প্রিয়তোষ... 
আমারো তো অভিজ্ঞতার কাঁচাপাকা চুলে লেগে আছে বেশ
খানিকটা সময়.... ,   আর   জানোই তো সময়ের থেকে বড় 
শিক্ষক কে কোথায়?   তা প্রিয়তোষ    তোমার কাগজে কলমে
শব্দের জালে  ঠিক কততম প্রেমিকার  ঠোঁটে এখন চুম্বন  
কিংবা শরীরের উষ্ণতা বিনিময়  ?  
আচ্ছা তোমার প্রতিটা প্রেমিকাকে প্রতিবার ছোঁয়ায় স্পর্শ
থাকতো কতটা....? আসোলে স্পর্শ মাপার  যন্ত্রটা তুমি 
খাতায় কলমে টুকে ফেললেও  বানিয়ে উঠতে পারোনি। 
আমিও তো তোমার কোনো  একতম  সংখ্যা তাই না? 
আমি যে  চিঠি    ছাড়া আর কিছুই তেমন লিখতে পারি না 
যদি  লেখা আসতো তবে তোমার প্রেমিকা বিন্যাসের উপন্যাস
লিখে ফেলতাম।  লিখে ফেলতাম     প্রেমের সস্তা দেহজ 
গল্প,,   আপাতত তোমায় লেখা এটা আমার নিরানব্বইতম চিঠি
আমি যতটা আলবাত আমার তোমাকে লেখা চিঠির সংখ্যা বলতে
পারি ততটা বলতে পারি না আমি তোমার কততম
প্রেমিকা,  বলতে পারি না আরো অনেক অভিযোগ
চিরকুটের গোপন বিষাদ।  শুধু প্রতিবার তোমার 
দু এক শব্দের দাক্ষিণ্যর অপেক্ষায় আমি দিনের 
পর দিন খরচ করি আমার রাতের ঘুম দিনের স্বস্তি,
আমার যতসামান্য শব্দরা তোমার দিকে তাকিয়ে
অদ্ভুত  কংকালসার  দৈনতায় ভোগে, 
প্রিয়তোষ জানি না তোমার প্রাক্তন ও আগামি প্রেমিকারা
ঠিক কেমন তাদের স্তরিভূত মনের খবর আমার জানার
ইচ্ছা আগেও  ছিল না পরেও থাকবে না,  তাদের 
হৃদয়ের শব্দরা উদারতায় অসীম হতেই পারে,,,   
আমি পারি না আমার পারা গুলো খুবই নিতান্ত, 
তাই হয়তো তোমার স্বভাবে আমি বেমানান, 
আমি ইনবক্স ভরিয়ে তোমায়  মনে আতোর মাখাতে পারি না
আমি পাশাপাশি কিংবা মুখোমুখি হতেই সাবলীল, 
তাই প্রতিবার ছুটে যাই তোমার উপকুলে,   এখন 
আমার সাধ্যরা উপায়হীন তাই তোমায় এই নিরানব্বইতম
চিঠি......  জানি এ চিঠিও নিরুত্তর থেকে যাবে,  তবু
আমার অভ্যেসে তুমিই বইছো শিরায় শিরায়,,
  আর আমি অভ্যেস পাল্টাতে শিখিনি
তোমার মত  ,  যাইহোক এবার থামি , আবার কোনো নিরুত্তর 
চিঠি কোনো অবহেলার বেলায় লিখেই ফেলবো ,  প্রিয়তোষ
ভালো আছো নিশ্চয়ই?  আমার না তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছা 
করছে,  তোমার গলার আওয়াজ বহুদিন....  নাহ থাক। 
আসি , 
................ইতি  তোমার....?তম প্রেমিকা, 

পুনশ্চ ঃ প্রিয়তোষ  পর জনমে হয়ো রাধা,     
       
                                                     
              
                

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

তুই ঊনত্রিশে এপ্রিল

----------------------------
উনিশ বছর তুই পুড়ছিস তোর পায়ের নখ থেকে
ক্রমানুসারে  মাথার চুল   মুহুর্তের ভগ্নাংশে পুড়ে চলেছ, 
তোর সাথে  সংযোগ সাঁকোগুলোর বেশির ভাগ এখন
চিহ্নহীন,  পোড়া ছাইয়ে আড়াল  তোর স্মৃতির সাথে তুইও,
আমার মত কারো  কারো বুকে তুই কেবল পুরোনো গোপন
রোগ, 
একটা সলতের ম্রিয়মান ধুকপুক।  আমিও মুঠো 
খুলে সময় কে বেশ খানিকটা জিতিয়ে দিয়েছি, 
তবে আমি  চেয়েছিলাম আমার সম্বলে যতটুকু 
তুই সেটুকু   আমরন   আঁকড়ে বেঁধে বেঁধে থাকতে, 
সবাই বলে তোকে নাকি আমিই মুক্তি দিতে পারিনি
আমায় মুঠোর আঙুল সব আভিধানিক ভাষায় ভুলে
গেছিল উনত্রিশে এপ্রিলের পর,   সবাই বলে ভালবাসলে
মুঠো আলগা করে দিতে হয় আকাশের  দিকে......,, 
উনিশ বছরের কান্না থামাবার পর আমি সে কথা 
শুনতে পেয়েছিলাম   তারপর  তোকে   আকাশ করে দিলাম, 
আমার বুকের পাথরটা একটু একটু করে সরাতে 
সরাতে হয়তো পেরেছি শেষ রাতে....। 
কেন তুই চলে গেলি আজ আর সে প্রশ্ন করবো
না তোকে  ,  এইমাত্র  তুই কাছে এসে বসে আমার
কাঁধে মাথা রাখলি.....   আয় তোকে একবার ঘুরে দেখাই
তোর ফেলা যাওয়া ঘরের মানুষ গুলোর খবরাখবর, 
জানিস   মা গত দেড় বছর ক্যান্সার রুগী,   মা বাবু মানে 
তোর দাদা আর আমি টানা আট মাস যুদ্ধ চালিয়েছি, 
মা লড়েছে সব থেকে বেশি   সাময়িক জয় 
হয়েছে যুদ্ধে,  বাবা আর পারে না জানিস 
কাজ করতে তবু মুখ বুজে কষ্ট অসহায়তা
কে গিলতে থাকে কাজে না গেলে দুমুঠোর
চিন্তা তার বয়সরেখাতে আরো গাড় হয়।  
বাবু...  তোর দাদা তোর অর্ধেক জলন্ত শরীরটার
 যন্ত্রনার  শেষকৃত  সেরেছিল ঠিকিই   অথচ 
আজো  জানি    সময়ে অসময়ে পোড়া যন্ত্রনায়
নিজে  ভুগতে থাকে । 
টুটুর সেই মাথার রোগ আজকাল বেড়েছে...  ডাক্তার
বলে মন খারাপ হলেই ওষুধ শুরু করবেন,   বলেছে
যতদিন বাঁচবেন  আপনার মনের ওষুধ বন্ধ করা যাবে না, 
জানিস আমার ভয় করে টুটুও যদি তোর মত না জানিয়ে
হঠাৎ একদিন............ 
তোকে নিয়ে আমার ভয় হত   রাস্তার বাস লড়ির
ভিড়ে তুই এমন বেখেয়ালি হয়ে সাইকেল চালাতিস, 
আমার কেন এত ভয় বলতে পারিস ? ভয়ে র স্বপ্নে 
আমি৷ ফুরিয়ে ফেলি  আমার  যত্নে   রাখা সম্পর্ক দের,
ঘুম ঘোরে কেঁদে কুঁকড়ে  যাই ,  এমন এক সকালে 
দুঃস্বপ্ন আর  ভাঙেনি তুই  চলে গেছিলি,,
আর পুকার কথা কি বলবো আছে,   গিঁট
বাঁধতে বাঁধতে বেঁচে আছে  হয়তো থেকে যাবে
এভাবে। 
আচ্ছা তুই তো যেমন না বলে চলে গেছিলি 
তেমনি একদিন না বলে আসতেও তো পারতিস
আমি কি অপেক্ষা করিনি!  আমি তো প্রতি মুহূর্তে
তোকে হাতড়েছি,  চেয়েছি তুই এসে আমার দরজা
আমায় আঁকড়ে   পাকাপাকি থেকে যা,৷ 
জানি না রে  এমন কত প্রশ্ন চিহ্নের মাঝে এতগুলো বছর
কি করে বাস করলাম,,   মিথ্যে বলবো না
 ভালো কিছু যোগফলও৷ জীবন দিয়েছে, 
তুই নিশ্চয় বুঝতে পারিস তোর প্রিয় দিদি 
কতখানি বদলেছে নিজেকে  তোর দিদি
আর তোর উজ্জ্বলদার মাঝে যুদ্ধ ফুরিয়ে যায়নি
তবে যুদ্ধের সময় আর গভীরতার দৌলতে
সেটা এখন  ঠান্ডা যুদ্ধের ভুমিকায়...., 
এখন  তোর উজ্জ্বলদা  অহংকারী সমৃদ্ধশীল
মানুষ একজন,   বাকি তোর হিসেবের খাতায়
একটা নাম তোর  সেই  ছোট্ট চকো , .... এখন
সে   একজন সুপুরুষ যুবক ,  তুই অবাক হয়ে 
যাবি ওকে দেখলে,  মনে আছে যেদিন  ওর
জন্মের পর প্রথম দেখেছিলিস আমায় বলেছিলিস
দিদি তোর ছেলে তো নাক টাই দেখা যাচ্ছে আর এত
বড় জুলপি এটা কি ও আগের  জন্ম থেকে নিয়ে এসেছে, 
কত আনন্দ তোর কত যত্ন তোর ওর প্রতি,৷ চলে যাবার
আগের দিনও তুই ওকে শেষবার সারাবেলা
কোলে করে  দেখভাল করেছিলিস,  আমি তোর কাছে 
দিয়ে    নিশ্চিত হয়ে কাজে চলে গেছিলাম ,,  কত আর
বয়স তখন মাস সাতেক হবে বেটু,   আমি ফেরার পর
তুই বলেছিলিস দিদি আজ তোর ছেলে  লক্ষ্মী হয়ে ছিল
একদম কাঁদে নি তোর  জন্য,  আমার আজোও খুব স্পষ্ট
তোর সেসব দিনের গলার স্বর, 

 তোর ক্লিপ কাঁকনে একটুও ধুলো পড়তে দিই নি, 
 আজ এতগুলো বছর     তুই পুড়লেও তোর সব
ছবি আমার ভেতোর  জীবিত,  তোকে মুক্ত
করে দিয়েছি আমার বেঁচে থাকা থেকে  
তবু তোর ছবি আমার  আষ্ঠেপৃষ্ঠে যাপন জুড়ে। 
তুই ভালো থাক  আমরাও বেঁচে আছি দেখা 
হওয়ার দিনের অপেক্ষায়।         
        
                                    
                          
  

        

সুবর্ণা (৯০)

----------------------------
আমাকে নিয়ে যা  আমার থেকে,  আমার
কাঠামো টা ঘুন ধরে গেছে আজ বহুদিন 
নোনা ধরা ইঁটে কংকাল আর ঝুরঝুরে কড়িকাঠের
আগলে  বর্তে আছি,  তুই আমাকে এবার নিয়ে যা আমার থেকে। 
তুই ভুল ছিলিস না আমিও ঠিক ছিলাম  শুধু  দরবারি
সভায়   ঈশ্বর  ছিলেন  সময় আর   আমাদের ভুমিকা পুতুল,  
 বছর কুড়ি পরে  অনাথের আঁতুড়ঘর থেকে  আমাকে দত্তক
নিবি বলে গেছিস,  বলেছিলিস ঠিক এতগুলো দিন তুই তোর
বুকের ধুকপুকটা গচ্ছিত রাখ তোর ঘরে,  আমায় আরো
বলেছিলিস তুই হিসেব বুঝিস ভালো তাই কড়ায় গন্ডায়  
বুঝে নিবি এই আমিটার কাছে আমাকে, 
প্লিস এবার আমায় নিয়ে যা,,  আজ কুড়ি বছর পার 
হয়ে বেশ কয়েকবার ঋতু বদল হয়েছে আকাশে, ,   আমার
কাঠামোয় অজানা শোক গ্রাস করছে,  তারা  কিলবিল
করে প্রতি মুহূর্তে বংশ বাড়াচ্ছে, মাটির সাথে আমাকে
মিশিয়ে ফেলতে  আর বেশি সময়  লাগবে না ওদের,,  
কেউ যাতে বাইরে থেকে বুঝতে না পারে আমার খোলসের
জীর্নতা  আমি  সমস্ত প্রহর  চুনরং মাখিয়ে যাই বাইরের
দেওয়ালে,   
ক্লান্ত আমি নির্নিমেষ ঘুম আমার চোখ
থেকে শরীরে  নামছে,  তুই আয়  সুবর্ণা আমি
শেষ বার ঘুমিয়ে পড়ার আগে তুই আয় তোর আমার কাছে
 গচ্ছিত আমিটাকে নিয়ে যা,  আর কত মাইল পথ তোর
বাকি আমার কাছে আসতে বলবি আমায়? ,  
সুবর্ণা আমি বাঁচতে  চাই 
আমি তোর সাথে বাঁচতে চাই...
 আমায় আমার থেকে নিয়ে যা
আমি বাঁচতে চাই সুবর্ণা,, 
...............…(সুবর্ণা প্রিয় ইচ্ছা)            
               
       

কথা রাখা

---------------------------- 
 আমি পারি না রাস্ট্র  কিংবা  দেশ  লিখতে 
পারি না  পরম্পরা বরাবর  সভ্যতা  লিখে যেতে, 
রাজা রাজনীতি আমি বুঝিইনি কখনো, চানক্য কেও
চিনিনা   ,  আমি কখনো দেখিনি নীলনদ, স্নান করিনি 
শিতলাক্ষের জলে ,   পদ্মার জলে রুপোলী  চাঁদ আমার 
দেখা হয়নি, আমি নিজেকে একটা  দ্বীপের বাসিন্দা করে
আজীবন গুছিয়ে রেখেছি,  আড়াল করেছি সমস্ত মানচিত্রের
জাল থেকে আমার আমি আর দ্বীপটাকে,  ,  
আমি যে চিরকাল বোকা হয়ে রয়ে গেছি 
মানুষের মুখ আর মন আলাদা করে একই সাথে পড়তে শিখিনি, 
তাই আমার মতো যারা তাদের সুখ নেই তারা  সব দিন হেরে যাওয়ার
দলে হারিয়ে যাওয়ার দলে। 
আমি নদী মানে বুঝি কুলকুল  শব্দে বয়ে যাওয়া 
অথচ ওরা বলে নদী মানে ভেতোরে  জমানো আর 
....  বয়ে যাওয়া কেবল বাইরে টুকু ,  
আমি সভ্যতা মানে চিনি এই দ্বীপের
গাছ মাটি ঝিল প্রজাপতি কাঁচপোকা,   আর  ওরা সভ্যতায়
জুড়তে থাকে অজস্র অচেনা বাস্তুসাপ, আমায় ওরা 
জাতে নেয় না... ধুস আমিও তো মানুষ ছাড়া আর 
কোনো জাত বুঝি না,  
ভালবাসা মানে আমি আদ্যোপান্ত তোমায় চিনি তোমায়
সাজাই মনের রঙে,  কখনো তোমায় গাছের মত সাজিয়ে
আঁকড়ে থাকি কখনো নদী  এঁকে তোমাতে গা ধুয়ে নি 
কখনোকখনো বহুদিন পরে  আমার হাতের বেষ্টনীর ভেতোর
তোমায় নেওয়ার চেষ্টা করে পরম তৃপ্তিতে বলি "কত্তদিন
তোমায় জড়াইনি",  আমার তৃপ্ততা চোখ ঠোঁট বেয়ে বুক থেকে
সমস্ত শরীর শীতল করে দেয় অথচ আমার দেওয়ার তেমন
সামান্য কিছুমাত্র থাকে না,  ওরা ভালোবাসা মানে দিস্তা দিস্তা
দেওয়া নেওয়ার চুক্তি পত্রে সাক্ষর করতে 
থাকে  গরম আলোচনা ওদের জীবনভোর....
 বলে এসব শেষ বয়সের
পুঁজি তাই প্রথম থেকে বুঝে আর বোঝাপড়া
করে নিতে হয়,৷ আমি মনে মনে হাসি..., 
ওদের বয়স বাড়ে বৃদ্ধ হয়  হিসেবের খাতা ফেলে রেখে
চলে যেতে হয় শোক বুকে নিয়ে,   আমি বোকার মত
সময়ের ধুলো বালিতে সময়ে মিশে থাকি 
মৃত্যু আসে না আমার,, আমার পুঁজি বলতে ওই
দ্বীপটা। আমায় কখনো কারো কাছে গচ্ছিত রাখতে
হয় না শুধু আমরা আমাদের  রুপান্তরের কালে একে
অপরের কাছে কথা দিই আর প্রতিবার ফিরে এসে
দ্বীপ আর আমি দুজনেই কথা রাখি।            
                                                     

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০

বৃষ্টি আমার

----------------------------  
এবার পুরনো ভাবনা  ভাঙিয়ে সময়ের কাছে
হোক ঋন,  মনের ভেতোর  মল্লার রাগ লিখছে
দেওয়াল লিখন,  বাইরে এখন বর্গিরাজ সময়
নিয়েছে মুঠোয় ভরে,৷   চার দেওয়ালে মেঘ ঢুকে যায়
বিনা কড়া নেড়ে দরজায়, 
তুমিও তো কখনো সখনো আসতেই পারো এমন
 বিনা আমন্ত্রনে,  জানি আমি খরচ আমাতে বরাবর
বেশি তাই তুমি ব্যাস্ততা ঢেকে মুখ ফিরিয়ে চলেগেছ
সব উচাটন থেকে.... আমিই বোকা  যখনতখন
ভাবনা মাখি নিয়ম কিছুই মানছি না,, 
 অথচ ইতিহাসও জানে প্রেম ভাল যত  সে হবে ভীনদেশী, 
আমিই বোকা বরাবরের  ভালথাকার খোঁজে দু পকেট
তোলপাড়..... খুচরোরা কবেই গেছে নুন লংকার খুচখরচে,। 
এই বৈশাখে  মনকে কিনে দিয়েছি তাই বিনে পয়সার  ঝড়, 
 তাই এই বৈশাখে বৃষ্টি কেবল আমার  একার 
 যেমন ইচ্ছা ভিজিয়ে দেব  যখন যাকে মন চাইবে, 
তবুও কই তোমার গায়ে বৃষ্টি নেই একটা ফোঁটাও  , 
 হয়তো দুরত্ব শুকিয়ে  ফেলে সব জল পথের মাঝেই,  
জলের দাগে মনখারাপের চুক্তিতে সই 
 যখনতখন আসতে থাকে মেঘ পিয়নের হাতে হাতে। 
লেখা তাতে ঠিকানায়  তালা দেওয়া।      

ব্যাথার পৃথিবী

----------------------------
কাল  সন্ধ্যে বেলায় পৃথিবীর বুকে চিনচিনে
ব্যাথা তারপর ফুঁপিয়ে কান্না চোখ বেয়ে  বৃষ্টির
ধারা ভিজিয়ে দিয়েছে মন খারাপের মাটি
উত্তরের জানালায় তুমি যে ছুঁয়ে  জড়াচ্ছিলে
ভেজা হাওয়া হয়ে,  কড়ি ও কোমল পৃথিবীর মনকে
ভালো করতে পারেনি  মনে হচ্ছিলো এ কেমন 
বেঁচে থাকা এত দহনে  তুমি আমার  কাছে কি চাও
ছাই ছাড়া সব খেয়েছে ধ্বংসের আগুন। 
পৃথিবীর ভালো লাগে না  সাজানো নিয়মিত পাক
খাওয়া এই সংসার,  সিলিং এর ফ্যানে ঝুলন্ত নিজেকে
উপায় ভাবে   ,  মৃত্যু কে আসল প্রেমিক সে বরাবর মানে 
 এতটা  আশ্রয়  আর কেউ   নিষ্ঠার  সাথে দিতে পারে না
তার ধারনা।  
কিন্তু ওই.... মোহের ওপারে সেই অপেক্ষা ...  আর কত অপেক্ষা
আর কত যাপন,  আর কত ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না দের
হাতা খুন্তির উপঢৌকনে আড়ালে সহবাস?  
পৃথিবী কলের জলে দেখতে পায় একটা  গোটা নদী 
তার ডুবতে ইচ্ছে করে  উত্তরের  অন্ধকার একফালি আকাশে  
সে মুক্তি দেখে ,   রবিশংকরের সেতারের  সুর তার বুক
বেয়ে গড়াতে  থাকে ধীর গতিতে,  কখন যেন বরফ হয়ে জমে যায়
শেষ রাতের কান্নারা,  ব্রম্ম মুহুর্ত খুঁজতে খুঁজতে রোজ ভোর দেখে
পৃথিবী ,  কিন্তু প্রার্থনা পৌছায় না কখনো গর্ভগৃহে.. 
পৃথিবী এবার থামতে চায় অন্য  আগলে  । 
পৃথিবীও একটা বুক খোঁজে ঘুম পাড়ানি গানে 
পৃথিবীর ও যে কান্না পায় মন খারাপের প্রহর জুড়ে।             

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০

মুক্তির খোঁজে

------------------------------- 
কেমন আছিস বুঝতে পারি না  কেমন চলছে বেঁচে
বর্তে থাকা সেও জানি না,  শান্ত সময়ের বুকে নুড়ি
পাথর ছোড়া  বন্ধ রেখেছিস, 
জানিস জীবনের কোনো কোনো  ক্ষেত্রে কন্ঠ কেঁপে
ওঠে কেন সেটা জীবন বলতে পারে, জানতে চাইবি
আমি কি করছি,  ওই ফেরিওয়ালা মতই আছি, 
তুই তো জানিস মৃত্যুর বুকে মাথা  রাখা আমার  বিলাষীতা
আর দুঃখের ফেরি করা আমার ভালোবাসা,  এখন আমার
 সবকটা পছন্দের গানে কেবল অকাল  শ্রাবণ আমায় চান
করিয়ে যায় দুঃখ জলে ,  এইতো আজই সকালে ছাদে সূর্য দেখতে 
গেলাম গিয়ে পেলাম অসময়ের তুমুল বৃষ্টি,  আপাদমস্তক
স্নান করিয়ে দিল.... হাতের আঁজলায় জল নিয়ে ভেতরটা
ধুয়েমুছে নিতে গিয়ে দেখি ,  অদ্ভুত স্বাদ সে  কখনো কষা
 কখনো নোনা  ভিজলাম,
 আর ভিজলাম তোর ছবির সাথে একটা বাইক তুই
আমি আর শহরের আদুরে রাস্তা, প্রিয় কেউ সাথে থাকলে সব
কেমন আদুরে হয়ে যায় রাস্তা, ট্রাফিকের ভিড়, প্রচন্ড চ্যাটচ্যাটে
গরম,  অসময়ের বৃষ্টি সব.... সব শুধু আদোর বোঝে, 
তবে আমি এখন একা থাকি ওই বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর মত আলাদা
পড়ছি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছি আমার কান্নার  শব্দ
মিশে যায় এখন  উত্তরের বারান্দা ছাড়িয়ে অনেক অনেক
দুরে বৃষ্টি ফোঁটার শব্দদের সাথে। 
হাতড়ে বেড়াচ্ছি স্তব্ধ মৃত প্রায়   শহরে  বুকের ধুকপুক
বাঁচানো বাতাস,  অথচ পৃথিবীর  বাতাস এখন সম্পুর্ন
 দূষণ মুক্ত আকাশে মুক্তির রং,৷ আমিও খুঁজছি একটা
দিগন্ত ছোঁয়া নির্নিমেষ  মুক্তি।                                                 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

বদলে গেছো

---------------------------------------
হাঁটতে হাঁটতে বছর কিছু পার হয়েছে ক্যালেন্ডারে, 
নিশর্ত নেই আগের মত প্রেমের  হাওয়া সহজগুলো
কোথাও এখন দলছুট মেঘ, 
রোদবৃষ্টির  নিয়ম মেনে  একটু শর্ত একটু বোঝা, 
একটু আধটু বুঝেও নেওয়া, 
পুরনো সাবিত্রী  প্রেমে ধুলোর পরে জমছে ধুলো 
হিসেব করে কথা বলা  জানতে চাওয়া অসুখবিসুখ
রোগের কথা,, 
সাতসতেরো সংসারনামা  কোথায় ছিল কম কখনো?
তোমার কাছে শর্তহীন হতেই  আমি হয়েছিলাম নিয়মহীন, 
ঘ্যান ঘ্যানে সব ছিল আগেও এখনো আছে ভাঁড়ার জুড়ে.... 
তুমিও এখন  তাদেরই দলে  হারিয়ে গেছো যাপন জালে, 
ভুলে গেছ আমরা কেন নিয়ম ভেঙে   ঘর পালানো। 
আমি  আজো  অপেক্ষাতেই তুবড়ি হাসি তোমার থেকেই,, 
এমন তোমায় চাইনি  কোথাও আমার সাথেও অংক বুঝে 
সাংসারিক ফর্দ মেলাও,,  তোমার কাছে বাঁচতে যাই 
মৃত্যু  সে তো জলের দামে বিকোয়    ফুটপাতেরই ধারে ধারে, 
তুমিও এখন কালের ঘরে   আগুন রোদে গেছো ঝলসে, 
 হয়তো এবার  ফিরতে হবে অন্ধকারের  সেই খোলোসে।                      

বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

আগুন পাখি

-----------------------------  
এক জন্মের অনেক চেনা তবু সেই চেনার ভিড়ে 
আলাদা এক চেনার জন্ম....... ওই  আদিম লোকটা, 
বহু দশকের চৌকাঠ পেরিয়ে এল জেদি রোদ্দুর, 
অগোছালো  ঊষর ধুষর,   জংলী,  ঠিক আগুন পাখি, 
ঝাপটা দিয়ে ঝড় আনতে  পারে যেকোনো সভ্যতায়, 
যেকোন আধুনিক একটা গোটা পৃথিবীতে...সেই ঝড়ে
খড়কুটো হতে ইচ্ছে হল,,      
ইচ্ছে হল পুড়ে মরি সহস্র বার ঐ আগুনে... শরীর ভেজাই
ওই আদিমতার কাছে,  আদ্যান্ত আদিম লোকটা হুবহু  
মিলে গেছে যেমনটা আমার ভেতোর কোনো আদিম যুগে
রাখা গুহাচিত্রে বন্দী আমার একান্ত প্রেমিকজনটি  ,  
যেমনটা আমার ভেতর অনভ্যাসিত সভ্যতায়
বাস্তুভিটে হীন বাউল.... উন্মুক্ত  চড়া শিলাবৃষ্টির  ফোঁটা .....। 
চলতি পথে থমকে গেলাম  হরেক ভিড়ে কে খুঁজে বার করলো
আধুনিকতা , সভ্যতার জঞ্জাল সরিয়ে ওই আদিম প্রেমিকজনটি কে! 
আজ কি তবে চোখ ভরে দেখার দিন  যে দেখা হয়ে ওঠেনি কখনো  কোনো দিন
অথচ  সারাক্ষণ প্রতিমুহূর্ত থাকি সাথে সাথে,  হয়তোবা নদী আর সাঁকোর
মত................
আজ নতুন নামে সে জন যেজন ছিল বেনামি সংগোপন 
আজ চোখের আলোয় সেজন যেজন ছিল অন্তরের কোনো অন্ধকারে .... 
না না রবিঠাকুর নয়,   ওই সে আমার খুব চেনা আদিম
বাস্তুভিটেহীন ঊষর ধুষর  বাউল,  আমার ইচ্ছের আগুন পাখি, 
যার আগুনে পুড়তে আমার বহু জন্মের সাধ।                      

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০

তুমি এলে তাই

---------------------------- 
তোমার সাথে দেখা হওয়ার আগে আমি প্রেম কি
 জানতাম না  ভালোবাসা কি সেটাও ছাই বুঝতাম কি? 
নিজস্ব অভিধানের ফাঁদে আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম 
 শব্দ দুটোকে, 
কেউ কেউ আসেই জীবনে অন্তর দৃষ্টিকে স্বচ্ছ করে 
 শব্দদের আলাদা আলাদা জমি খুঁজে দিতে,  
আজ অবধি কত পরিচয় এলো.....
আর হারিয়েও গেলো, তাদের ভুল করে ভেবেছি শব্দদুটোর
সমন্বয় হয়তোবা একটা আর একটার প্রতি রুপ,, 
আর মিছিমিছি জমিয়ে রেখেছি দেরাজে অজস্র দেনা পাওনার
হিসেব নিকেশ। 
তুমি এত দেরি করলে কেন জানতে চাইবো না, 
ধরেই নিচ্ছি আগের সব আসা যাওয়া সেসব নিশি ডাক
এর মত  কিংবা মেনে নিচ্ছি ভাগ্য আমায় ঘুরিয়েছে 
ভুল  পথে, 
এখন ভেতোরটা বেশ হালকা লাগে জানো... বুকের মাঝে 
একটা পাথর বহু শীত বসন্ত বর্ষা জুড়ে ছিল  অহল্যার মত, 
তোমার প্রেম ও ভালোবাসার বিন্যাসে সে পাথরটা সরে গেলো, 
 নিজের ওপর ভরসা করে বলতে পারি মৃত্যু আসার আগে আমি 
বুঝেছিলাম কে আমার প্রেম আর কে ভালোবাসা, 
তুমি এও শিখিয়েছো প্রেম এর সাথে রোজ সহবাসী হয়ে উঠতে
নেই  বাঁধতে নেই  সামাজিক  দায়ভারে, রাখতে নেই  রোজকার ডালে
ভাতে,  আমি প্রশ্ন করলাম তাহলে   ঘর    বাঁধবো কার সাথে 
আমার জীর্নতা রাখবো কার কাছে আমার মন্দ টুকু কে দেখে নিন্দে
করবে , আমার না পারা,  আমার গোছানো সংসার  চর্চিত হবে কোথায়
আর আমার সন্তান... আমার সমাজিক পরিচয় কি হবে এসবের, 
তুমি মাথায় হাত রেখে বললে  নিজেকেই ঠিক করতে হবে তুমি প্রেম কে 
সহজ সামাকিজ আর ন্যায় যেদিন করবে সেদিন তার দম বন্ধ হয়ে 
যাবে আর তারপর নীরবে হবে  মৃত্যু,   বলেছো আসলে প্রেম হল 
নিসিদ্ধতার নাম সব সৌন্দর্যর সংমিশ্রণ   যা-কিছু  , যেখানে টান থাকে অদৃশ্য, 
তুমি চাইতেই পার সমাজ সংসার সেখানে রেখো ভালোবাসা 
সাথে আরো যতিচিহ্ন এমনি তুমি যৌতুক পেয়ে যাবে শুধু প্রেম কে 
লুকিয়ে রেখো অন্য  তাকের গোপোন কোনে, 
  সে যেন আমৃত্যু প্রেমময়   সুন্দর থাকে,,, 
আমি তারপর সব   দ্বন্দ্ব মুছে সেরেছি স্নান, 
তুমি আর ঈশ্বর দুজনেই আমার ধন্যবাদের  হকদার
 ঈশ্বর  তোমায় যে আমার জীবনে একবারের জন্য হলেও  
পাঠিয়েছেন,  আর তুমি আসতে রাজি হয়েছো।                     

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০

আমার প্রেম

----------------------------
অগম পথে তুমি আমি যাই, যেখানে নেই যতিচিহ্ন 
নির্নিমেষ কোনো  যাত্রায় আমরা হাতে হাত রেখে 
পাশাপাশি থাকি, 
আমাদের আলাপের অনন্ত কথোপকথন সমুদ্র
বিলানো জলের মত..... 
আমাদের নেই নষ্ট  সময়ে জড়ানো কোনো আসুক মাখা মুখ 
কোনো কৃপনতা  কখনো ছিলো না আমাদের 
একান্ত ব্যাক্তিগত অভিধানে.. 
তাই বলে তুমি আর কাউকে ভালোবাসোনি তেমন টা 
একেবারেই নয়,  
তুমি নিয়মবহির্ভূত হবে না তেমনটাও নয়, 
তুমি অন্য কোনো নারীর ঠোঁটে রাখবে না ঠোঁট 
তেমনটাও বলবো না, 
আগে যাদের ভালোবেসেছো তারা কেউ আমার 
চেনা নয়... তুমিও মনে রাখোনি সেভাবে। 
পরেও জানি অগনিত তোমার ভালোবাসা,, 
আমাকে ভালোবাসো এমনটাও আমি চাই নি
  তুমি আমি আগম পথে সাথে সাথে থাকতে
চেয়েছি শুধু মাত্র প্রেমের টানে। 
নির্নিমেষ কোনো প্রেমে চিনচিনে ব্যাথার অসুখ
যেন আমাদের বুকে একসাথে থাকে  । 
আমাদের সমস্ত আলাপ জুড়ে যেন থাকে শুধু
এক এবং একমাত্র প্রেমের টান , 
আমদের ঘরের কড়িকাঠ বাঁধা থাকুক প্রেমের টানে। 
তাই বলে তুমি আর কখনো কারো শরীর
ছোঁবে না ভালোবেসে তেমনটা নয় 
তুমি ভালোবাসো হাজার নারী কে 
 হাজার নারীর শরীররে  হাত বুলিয়ে তোমার 
কবিতায় আসুক প্রলয়..., 
আসলে কি জানো তোমাকে  সহজ করে 
পাবো এমনটা কখনোই আমি চাইনি কোনোদিনই.. .. 
তাই ভালোবাসায় নয় তোমায় বরাবর চেয়েছি
প্রেমের টানে।                                      

সুবর্ণা (৮৯)

----------------------------
পথে ভিড় শব যাত্রার  আগে পরে কত পরিচিত
কাছের ----হয়তোবা ভীষণ প্রিয়, 
যারা কাছে থাকায় মনে ছিল নিশ্চিত আরাম 
তারা সমুদ্রের স্রোতে কোনো নুলিয়াদের মতো
দৃশ্যের বাইরে। 
যত ঘন বেঁচে থাকা তার থেকেও ঠেসাঠেসি এখন
মৃত্যু,  চোখের পলকে ছায়া ঝড় মন জানে এ
অনন্ত ঘুমের সংকেত, 
বজ্র বুকে আকাশও ঘোষণা করেছে তাই খুল্লমখুল্লা
যুদ্ধ,,   
 হত্যা করা ছুরির ফলা গিলে ফেলে জীবন,  কাছে
এনে দেখো রক্তের  গন্ধে   বেঁচে আছে হাজার হাজার  না
পাওয়ার যন্ত্রনায় অতৃপ্ত  প্রেতাত্মা, 
দুরারোগ্য অসুখের শ্বাসকষ্ট বিসাক্ত বাতাসে এবার
অন্ধকার  ভাঙা মন্দিরে     ইতিহাসের মত আমরাও
অনিবার্য। 
এত সব ভিড় ঠেলে  সময় কে  যদিও ফেলি
ছুঁয়ে , হয়তো নুলিয়াদের সমুদ্র পথে  চলে
যাবে পড়ে থাকা সামান্যতম মোহ টুকুও.... 
সুবর্ণা মোহ হীন বাঁচার মনে জানো, 
গন্ধ স্পর্শ দৃষ্টি স্বাদ এসব   অনুভুতি ছাড়া একটা প্রান,,
তাই নিজেকে  চলমান ভিড়ে সামিল করাই শ্রেয়।   
                          

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০

পর পর থাকি

---------------------------- 
 এক বারান্দা জুড়ে আমাদের ঘর আমারা সবাই পর পর থাকি 
বিকেল ছাদে মেঘের শরিকি পাখিদের সাথে আমি কিছু কথা রাখি 
এসো বিনিময় করে দেখি ডজনখানেক দুঃখ ভরা মন 
কবিতা, কন্ঠ, শব্দ, ঠাসা    আজ  আমাদের মুঠোফোন, 
 আছে পড়ে  যেটুকু  যেখানে বাকি 
ভালোর থেকেও অনেক বেশি  হয়তো মন্দ টুকিটাকি
কিছু থাক তোমাদের কিছু আমিও হাতে রাখি, 
সমান্তরালে এভাবে থেকো বাকি পথে 
দুরত্ত্ব আরো বাড়তেও পারে সময়ের সাথে সাথে, 
জলের পাইপে বুলবুলিরা  জমায় রোজই আসর 
বারো ঘর মন  পড়ে ফেলে  আমি লিখেছি  শুধু 
বেহুলার  শাঁখা সিঁদুরে পরে থাকা    শুন্য বাসর, 
একশ বছর পরেও আমি পাল্টে ফেলতে পারিনি 
অভ্যেস  সব পুরোনো একই  যাপন তো বদলায়নি।
নুপুর কখন ভুমিকা বদলে শিকল হতে  শেখেছে 
 জায়গা বদলে  মঞ্চ এখন নাটককে ঘরে রেখেছে, 
 দিনের আলোয় মুখোশ পরে  রাজা  আর রানি সাজি 
রাত্রি হলেই চটি জামা ছেড়ে এঁটো থালাগুলো মাজি,    
......বারান্দা জুড়ে আমাদের ঘর আমরা সবাই পর পর থাকি।        
           

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

অন্য মানুষ

----------------------------
তোমার   শব্দেরা যখন মাঝে মধ্যেই চুরি
হয়ে যায়৷  আমি  বেশ অহংকারী হয়ে উঠি
তোমাকে নিয়ে,,   মনে মনে বলতে থাকি বেশ
হয়েছে ,  না হয়   হলোই  তোমার সৃষ্টি কিছু
শব্দ চুরি... কিংবা হোক না এমন কোটি কোটি
শব্দের ডাকাতি। 
তোমার  প্রাচুর্য তো তাতে বিন্দুমাত্র কমবে না, 
তাই কখনো গোপনে বা আমার সামনেও 
যদি তোমার  সৃষ্টিকে  কেউ নিজের বলে আমি
মনে মনে হাসি আমার ঔদার্য বেড়ে যায় রাজার মতো .. .. 
আর আমি ভীষণ রকম অহংকারী হয়ে উঠি, 
মন বলে এই স্রস্টা   তো আমার বই কারো নয়। 
অথচ শুধু  মাত্র এই তুমিটাকে যেকোনো অদৃশ্য
ছায়াও যদি বাতাস হয়ে ছুঁতে চায়,  আমি তীব্র  হিংস্র
হয়ে উঠি প্রবল মাত্রায়,.... ইচ্ছে করে... ইচ্ছে করে
তোমায় হাজার হাজার লোহার দরজায় বন্দি কোনো
সিন্ধুকে লুকিয়ে রাখি.... যেখানে আলো  বাতাস তোমায়
স্পর্শ করতে না পারে।  কারো  গলার  স্বরে যদি
তুমি ভেসে আসো ইচ্ছে করে সেই গলায়  পা তুলে
উন্মাদ কালির বেশে তার ছিন্ন রক্তাক্ত মাথা হাতে রাখি। 
.............................................................................
.........তুমি কি অবাক হও আমার মধ্যে এমন দুজন
অচেনা কে দেখে,,, 
......শোনো  একটু কাছে আসবে  একটা গোপন
কথা বলার ছিল চুপিচুপি ............ আমি নিজেও
চিনি না ওই আমার ভেতরে যে একজন উদার অথচ 
অহংকারী মানুষ আর একজন তীব্র হিংস্র
মানুষ এক সাথে ঘর করে... তাদের কাউকে আমি 
বিন্দুমাত্র   চিনি না।           

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

বহুদিন হলো

----------------------------
বহুদিন হলো ভালবাসাহীন আমার শহর 
বহুদিন হলো     উথাল-পাথাল  ঘরবন্দী মন, 
বহুদিন  নির্বাসনে একলা মানুষগুলো 
শহর জুড়ে  যেন   বিষন্ন দ্বিপের ছড়াছড়ি, 
বহুদিন হলো কৃষ্ণচুড়া কে দুপাশে  সংগি করে 
আমার চেনা পথে হেঁটে যাইনি, 
বহুদিন হলো নিভে গেছে ভীড় বাসে ঠেসাঠেসি
আর কোলাহল, 
বুকের ভিতর বাইশে শ্রাবণ আর বাইরে গুমোট
খাঁ খাঁ কিছুতেই তাল মেলাতে পারেনা সারাবেলা , 
বহুদিন ভালবাসাহীন আমার মতো অনেক মন 
বহুদিন স্পর্শহীন আমার গড়িয়ে নামা দুঃখ , 
বহুদিন শতমাইল দুরে চেনা অভিমানি ডাক নেই 
বহুদিন ফিরতি বিকেলে মন খারাপের ধু ধু হৃদয়
নেই, 
বহুদিন তোকে এক ছুট্টে ছুঁয়ে এসে   শেষ ট্রেনে
বাড়ি ফেরার নেই  তাড়া, 
আমার বহুদিনগুলো  স্তুপে স্তুপে পাহাড় হয়ে আমার 
সামনে দাড়িয়ে..... আমার বিষন্ন বহুদিনগুলো পড়ে
আছে একলা স্নেহহীন ..... 
আমার বহুদিনগুলোয়  সবুজ বৃষ্টির অপেক্ষায়, 
অপেক্ষা আমার বহুদিনের শহরে কোলাহল আসুক
প্লাবিত হয়ে, 
আমার বহুদিনগুলো  ভেসে যাক যেকোনো  অচেনা দেশে।      

সুবর্ণা (৮৮------------------------------

বিপদগামী বাতাস বইছে বাইরে   সুবর্ণা 
  খুঁজে চলেছো দিকনির্দেশনা নামা কবিতা কে
ছিড়েখুঁড়ে......  ,, যতই  খুঁড়ছো   বিষ মাখানো 
শরীর পাচ্ছো ওরা বলছে ভাল নেই, 
ওদের  শরীর পুড়েছে গোপন কোনো   জ্বরে... 
মারন রোগের প্রতিটা   সঙ্গমে জন্ম  নিচ্ছে 
হাজার হাজার মৃত্যু সৈনিক, নিজেদের নাম
দিচ্ছে ফুসমন্তর, তুমি বুঝতে পারার আগেই  
 সুবর্ণা তোমার গরল শরীরেও বাসা বাঁধছে ওরা নাম এখন ভালবাসা, 
তুমি জানো তো ভালবাসা নামের ওরফে মায়া  শব্দটা শিকড় বিছিয়ে ফেলে,  তবে কেন  ক্রমাগত  খুঁড়ে চলেছো বিষ মাখানো শব্দে কবিতার কবর....  , 
ওদের ঘুমাতে দাও  বড় ক্লান্ত তাই    গভীরে
আরো গভীরে  ওরা হারিয়ে  গেছে, ওদের
জাগার সাথে মৃত্যু তান্ডব নৃত্যে  নটরাজ হয়ে ওঠে,   
আমাদেরও যেতে হবে নিয়ম মেনে, 
তবু যতক্ষন প্রতিটা সকাল আসে  আর সময়
শুভেচ্ছা পাঠায় বেঁচে থাকা নিঃশ্বাসে 
মনে মনে বলি সুবর্ণা টুকরো টুকরো করে 
মৃত্যু জড়ো করে কি লাভ,  অপেক্ষা করো
আমরা না হয়  একটা গোটা  মৃত্যু    সম্পুর্ন
স্বীকার করবো, 
 প্লিস এসো     তার আগে যুদ্ধের খসড়ায় আমাদের স্বাক্ষর সেরে নিই   ।                 
       

বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

তোমাকে ভালবাসি বলে

----------------------------
তোমাকে ভালবাসি বলে   আমায় ওরা   ঢিল
নুড়ি পাথর ছুড়ে মারে, 
তোমাকে ভালবাসি বলে ওরা আমায় এক ঘরে
করেছে, 
তোমাকে ভালবাসি বলে ওরা আমায় তৃষ্ণার জল টুকু
থেকে  বঞ্চিত করেছে,      
তোমাকে ভালবাসি বলে  আমার শরীরে   ওরা
কালসিটে ফেলে নিজেদের  পৃথিবীর মানচিত্র আঁকে, 
তোমাকে ভালবাসি বলে ওরা  একদল আমায় চৌরাস্তার মোড়ে 
ন্যাংটো করে হাত পা বেঁধে ফেলে আসে, 
তোমাকে ভালবাসি বলে ওদের  আরো একদল আমার   গোপনে 
লোহার রড,  জলন্ত সিগারেট দিয়ে সভ্যতার জেহাদ করে, 
আমার মত যারা ভালবাসে তারা নাকি নষ্ট ...  ওরা বলে 
আমি নষ্ট করেছি সমাজ, নষ্ট করেছি   নিয়ম,  
তাই  ওরা  ওদের উত্তেজনা উজার করে বড়  বড় যন্ত্রনা  এঁকে দেয়
আমার ভেতর বাইরে  জুড়ে,  এ যেন   ওদের সামাজিক
নৈতিক  চিরন্তন  দায়িত্ব আর অধিকার,,   আমায় বোঝাতে থাকে  সমাজের জন্যে মানুষ,   আর নিয়ম  মেনে   কাঁটাতার মেনে ভালোবাসা, 
ওরা বোঝাতে থাকে দেশ ভাগ, নদীর জল ভাগ, জাতপাতের  ভাগ, 
আরো কত কিছুর হিসেব আমায় বোঝায়.... আমার থেকে নেয় তারও বেশি কিছু হিসেব,
অথচ আমি ওদের বোঝাতে পারি না আমি সামান্য, 
কোনো পরিচয় নেই বলার মতো... বোঝাতে পারি না  জন্মাবধি আমার যে কিছু শেখা  হয়নি তেমন, 
না পুতুল খেলা, না তাসের ঘর বানানো, না রাজা
আর রাজনীতি, না কাঁটাতার, না  তোমাদের
সাজানো সমাজ,  না জাতপাতের বিচার, 
আমি যে আজন্ম কেবল নিষ্ঠা  ভরে তোমায়
ভালবাসতেই শুধু শিখেছি.... 
যেদিন আমার  শরীরে  সবটুকু রক্ত ওরা চুষে নেবে
তুমি জেনো ওরা ভালোবাসা শব্দটা কখনো শোনেনি
 আমার  শরীর, মাংস, চামড়ায় ওরা সীলমোহর  লাগালেও
মনকে ওরা  শেষমেশ দখলে অসফলই রয়ে গেছিলো, 
তাই তুমি ওদের ক্ষমা করে দিও।         

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

আসুখ রং

---------------------------- 
বড় শিথিল লাগে আজকাল নিঃশ্বাসের বেষ্টনী, 
জানি না কেন মনে হয় নদীর ধারে ঘর বাঁধতে
পারলে হয়তো এই শহরের মত একলা হতাম না, 
বারন থাকত না  স্পর্শে....  কিংবা পাখি! -- পাখি হওয়ার
সাধ আমার  সেই ছোটোবেলা থেকে,, 
তাই যাদের সাথে সম্পর্কের বাঁধন পারলাম কই
তাদের আপন হতে..... 
আকাশের বান্ধব রঙেই আমার মুক্তি দেখি বারবার, 
আজকাল শিরদাঁড়ায় একটা তীব্র কম্পন  জাগিয়ে
রাখে রাতগুলোতে,  আমি গিঁট খুলে আকাশের দিকে
ওড়বার  চেষ্টায় ব্যার্থ হই,  আর তখন তীক্ষ্ণ ছুরিতে
  আমার ভেতর মহলে একের পর এক মানুষগুলো নিহত হয়, 
ফোঁটা ফোঁটা রক্ত  যেন দহন আর বিন্যাস আঁকে
সব দেওয়ালে। 
পৃথিবীরও   জ্বরের খবর এখন আমারই মত 
সবকটি বর্নমালায় গেঁথে গেছে,  সবাই  মেনেই 
নিয়েছে ফেরা হবে না আর আগের মতো করে।
বাড়ির বাইরে সোনালী নিস্তব্ধতার ভীড় যেন 
সভ্যতার গলা দিয়ে  সম্ভ্রান্তের  সোনা গলে গলে 
পড়ছে , এ সভ্যতায় কোলাহল দারিদ্র্যের মতো
যেখানে সেখানে অবিচল তার যাওয়া  ছিলো,  
আজ  সব ফুরিয়ে গেছে নিভে গেছে সব চিতকার।                   
  আবর্জনা বাড়ে ভেতরের  আনাচেকানাচে  ....
 নদীর কাছে যাওয়া  হয় না   বহুদিন  
শরীরের কালসিটে ধুয়ে  আসা হয় না নদীর জলে,
উত্তরের বারান্দায়.. পিছন থেকে বেনী টেনে আর
কেউ ভালবাসি লেখা চিরকুট দিয়ে যায় না, 
আরো কতো কিছুই ছেড়ে  চলে  গেছে   এই
যুদ্ধের দিনে, 
নিজেকে রোজ রোজ নতুন অভ্যাসে  অভ্যস্ত করতে
করতে  হাঁপিয়ে গেছি.... তাই বোধহয় আজকাল
  নিশ্বাসের বেষ্টনী শিথিল হয়ে আসে,, 
........জানি না আর কখনো নদীর  কাছে যেতে পারবো
কিনা.... আমার পাখি হওয়াও  আর   হবে না জানি, 
সব খেলা বোধহয় এমন করেই একদিন শেষ হয়ে যায়।                            

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

তোমার প্রতি

----------------------------
তোমাকে যখন পড়ি তোমার শব্দের মধ্যে
আমি ধ্যানস্থ হয়ে যাই, 
এমনিতে আমি বহুবার ধ্যানে বসেছি অথচ
মনের বাজারি ভিড় সবসময় আমায় সম্বতে 
রেখেছে,,  আর দেখো যখন তোমাকে পড়ি 
তোমার শব্দ আমায় কোনো ক্লেশ  ছাড়াই মগ্ন করে, 
তোমার শব্দের সাথে প্রতিদিন আলোর দিকে আমার
এগিয়ে যাওয়া একটু একটু.... 
জানি না অন্য সবার ভোর আসে ঠিক কিভাবে, 
তোমার  শব্দরা আমার জানলায় আজান হয়ে 
টোকা মারে... আমার ভোর আনে, 
ভাবি এতটা নিয়মিত  তুমি কেমন করে! 
তোমার আয়োজনে  তুমি রোজ কেমন করে 
সফল হতে থাকো, তবে কি সূর্যর সহপাঠী ছিলে তুমি?     
তোমাকে ভাবতে আমি  শুদ্ধ কোমল রাগে  
আবৃত হয়ে পরি,   আমার দুঃখ আমার যাবতীয়
ক্লেদ  নিমেষে সমাধান খুঁজে পায়, 
আমি গভির ধ্যানে তোমায় পড়তে থাকি  তোমার 
প্রতিটা শব্দ  আমায় গভির  বৈরাগ্যের অনুসন্ধানী করে দেয়, 
আমি সন্যাসীনির মত ছেড়ে দিই সমস্ত আভিজাত্য, 
আমার মুকুটের সব রত্ন তুচ্ছ প্রমান হয়, 
খুব সহজ কোনো শিশুর মত....  তোমায় 
শিখতে থাকি,  পড়তে থাকি  যেন  এই পৃথিবী
এমন সুন্দর আগে কখনো জানিনি... 
তোমায় যখন পড়ি তোমার শব্দের ভেতর
আমি খুব সহজে ধ্যানস্থ হই।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

চিতকার

----------------------------
ভেতর মহল বিপ্লবে ফেটে পড়ছে,  সমস্ত
অজুহাত জুড়ে নিয়ে চিতকার করে জানান দেয়.... 
বন্দী এখন আমরা... আমরাই সেই উপন্যাসের
প্রানেশ্বর -------- শুনতে কি পাও ওসমান। 
নেশায় বুঁদ  এখন সমস্ত বিচ্ছেদ... কবি তোমার
থেকে ধার নিয়ে আমার  শব্দের  সংসারে জুটিয়ে
চলেছি দুবেলা দুমুঠো । 
মাথার ভেতোর ঝিম ধরে   রাতের পর রাত
সব বিকিকিনি কলমে সারতে সারতে আমিও   
ইনসোমেনিয়ার রুগি এখন, 
 বাঁচার জন্য ইচ্ছা অনিচ্ছায় মাতাল হয়ে পরি
সমস্ত সম্ভ্রম  রেখে নিলামের পাল্লায়, 
কে বলতে পারে আগামী কোনো উত্তর পত্রে 
এমন দিনের অভিজ্ঞতা সামিল হবে কিনা! 
তবু  নিশ্বাস বাতাস  আছে বলে মনে হয় শুভেচ্ছা
 ফুরোয়নি  ভালো থাকার। আর তাই ওসমান তুমিও
মেনে নাও বন্দী আমরা সবাই সেই উপন্যাসের তীব্র
বিপ্লবী আমরাই সেই প্রানেশ্বর.... 
ওসমান তুমি কি শুনতে পাও?              

দ্বীপের মতো

-----------------------------
ঠিক কতটা বেঁচে আছি জানি না 
বলতে পারি না কেমন আছি...., 
বুকের স্পন্দনে হাত রেখে ভয় কে শুধু
বলি সব ঠিক হয়ে যাবে... সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন,  
জানি না যুদ্ধ পরবর্তী সাক্ষী হওয়া হবে কিনা, 
একটু বলতে পারি ক্ষীণ কোনো গলার স্বরে আজও
আমার ভেতোর মহলে কোলাহল সৃষ্টি করে 
জীয়ল  মাছের মত ভাবতে থাকি এখনো আমরা
মৃত নই। 
জানি না মুখোমুখি হওয়ার দিন আবার কখনো
আসবে কিনা,  জানি না শহরের রাস্তায় আর 
কখনো কোনো ভীনদেশীর অপেক্ষায় একের
পর এক সিগারেটের ধোঁয়া বে-ফিকর  হবে কি না, 
শুধু জানি আজও আছে সামান্য কিছু অভিমান
পুঁজি.. তাই তো কোথাও রয়েছি বেঁচে, 
শুধু জানি হাজারো মুসকিলে আমার রাস্ট্র, সময়, 
শহর একটা দ্বীপের মতো,  যেখানে কোনো যতিচিহ্ন
ছাড়াই আমার বাঁচা তোমার ভেতোর,, 
আমার সমস্ত জীবনের উপার্জন এটুকুই, 
বেশি কিছু কিনতে পারবো  ভাবিনি কখনো, 
কারন বেঁচে থাকায় যাকিছু প্রয়োজন তা ছিল না 
চাওয়ায়, জরুরী ছিল একটা দ্বীপের, 
তোমার কাছে শিখেছি চাওয়া আর জরুরীর তফাৎ... 
তাই  কখনো কিনতে চাইনি পাহাড় ,  কিংবা নদী কেনার
কথা মনে আসেনি কোনোদিনই,    
দ্বীপটুকুই আমার রাস্ট্র আমার শহর আমার সময়, 
শুধু জানি ভালো  থাকতে হবে সেই দ্বীপের জন্য 
বুকের ভয়ে হাত রেখে বলতে হবে সব... সব একদিন
ঠিক হয়ে যাবে...... 
আমি জানি শুধু আমার পৃথিবী ওই দ্বীপটুকুই 
যেখানে সব শেষে রাখা তোমার সাক্ষর, 
আমি সেই সাক্ষরে হাত বুলিয়ে 
প্রার্থনা করি  প্রতি প্রহরে  সব ঠিক হয়ে যাবে 
সব ঠিক হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।                   

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০

আনদেখা কাল

------------------------ 
যুদ্ধ শেষে পরবর্তী কোনো শান্তি মিছিলে
দেখা হবে পাশাপাশি... যদি থাকি, 
তাই আপাতত বেছে নিলাম স্মৃতি ....  জানি
স্মৃতি শুধু বরফে জিইয়ে রাখা মৃত সময় 
আজকাল নেই তেমন চালচুলো  চাল বাড়ন্তের
দিনে মৃত সময় সেলাই করে যুদ্ধের পোশাক খানিক
মজবুত করে নিচ্ছি,  জানি সবটাই মন ভোলানো ছড়ার
মত, 
আসলে আমি আগে কখনো একসাথে এত মৃত্যু দেখিনি, 
জানিনি অচেনা মানুষগুলো মরে গিয়ে এমন
নিকট   আত্মীয় হতে  পারে। 
কখনো কখনো মনে হয়  বাতাসের গতি বদলে
সময়কে যদি পিছনে ঠেলে নিয়ে যেতে পারতাম 
কোনো পারিজাতের বাগানে,  ঈশ্বর  কি মুছে দিত
চলমান দৃশ্যের গা থেকে এই কালো দাগ,  সাদা 
ঘোড়া ছুটিয়ে  দুহাতে সব্যসাচীর মত্ তরোয়ালের
ফালা ফালা করে বলতো এই আমি মৃত্যু কে হারিয়ে
    যুদ্ধ জয় করলাম......  আমার এমন সম্মোহন ভেঙে
গেলে দেখি বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে  এই পৃথিবী
সমস্ত গ্রহপুঞ্জ। 
ইদানীং ভয় হয় ঘুমের পরে যদি আর কখনো জেগে না উঠি 
যদি তোমার গত  কবিতা আমার শেষ মুগ্ধতা হয়ে থেকে যায়...., 
যদি পৃথিবীতে আর কোনো আগামি না থাকে আমাদের,,।                               
                 

বাঁচার খিদে

---------------------------- 
তোমার শব্দ জব্দে আমি হন্যে হয়ে খুঁজছি
একটু সবুজ ছায়া, খুঁজছি সামান্য  ত্রান, 
খুঁজছি আমার রাস্ট্র, একদিন ছিল যা কাব্যের মত,,    
 তবু   মৃত্যু নগরীতে গোপনে
বাড়তে দিই ডালে ভাতে বাঁচতে চাওয়া ইচ্ছা, 
ফুরিয়ে যেতে বড় ভয় হয় আমার।   
 চোখ বন্ধ করলেই অন্ধকার  সিঁড়ি ঠেলে
 এখন শুধু মৃত্যু  দেখতে  পাই আমি,  দেখতে
পাই আমার দুধে ভাতের সন্তানের মুখে এক
ঝাঁক মাছি ভনভন করছে... ভয় পেয়ে রাত পাহারায়
কাটাই ২৪×৭....,, 
তবু জানি তোমার সুখ এখনো কিছুটা বাকি 
মাটিতে এখনো পা রাখোনি সেভাবে,  তাই
মাঝে মাঝেই খবরাখবর জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠো, 
আমার পোড়া  পৃথিবীতে তুমি  সন্তপর্ণে কড়া নেড়ে
যাও। 
রোজ ভাবি নিজেকে নিংড়ে কিছু একটা জুতসই
সাজিয়ে দেবো তোমার থালায়, 
অথচ প্রতিদিন যাকিছু জুটিয়ে ফেলি আজটুকুর
জন্যে তাদের টুকরো টুকরো করে বাঁচিয়ে রাখি 
আমার সন্তান,  আমার   বিন্নি ধান, আমার রাস্তার
খেউটে কুকুরগুলোকে .... বাঁচে না কিছুই,,, 
ভেবে দেখেছি বাকি সব মরে গেলেও চোখের  জল
শুকোবে    ঠিক সময় মেনে,  তাই রোজ নিজের 
এক চিলতে  আকাশে মেলে দিই গরাদ শোক, 
বাকি নিশ্বাস উপুড় করে দিই এই দেশ, এই রাস্ট্র, 
এই খিদে, এই আর্তনাদে.... বুকের ভেতোর     মুচড়ে
ওঠে মায়ের কান্না  এসব কখন যেন আমার  সন্তান হয়ে ওঠে।  
আর সেই মুহুর্তে আমার  পেটে লাথি মারা খিদেটা
শান্ত হয়ে যায়... বুঝি বাকি বকেয়া থেকে যাওয়াটুকুর 
সাথে এটাও এক ধরনের আপোষ, 
এই পৃথিবীর কিছুই কোনো দিনও বদলাবে না,  বদলানো
যায় না,  তাই আজকের পর জানতে   চেয়েও না
কেমন আছি,  কেমন আছে আমার  পৃথিবী ।                           

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

যদি চলে যাই

----------------------------  
  

চলে যাই  যদি আর ফিরবো না , চলে যাই
যদি রাখবো না আর কোনো  অভিমানী আবদার, 
তোমার সংলাপ  রাখা থাকবে  শুন্য কোনো শহরের
বড় রাস্তায়  কিংবা অপেক্ষা লেগে নিকোটিন পোড়া
আঙুলের করে, 
চলে গেলে নিয়ে যাবো তোমার কাছে  গচ্ছিত
আমার শিতকার রাত, নিয়ে যাব আমার উত্তরের
বারান্দায়  জড়িয়ে থাকা মানি প্যান্টএ রাখা 
শিশিরের ফোঁটা, যদি চলে যাই আমার সাথে ফিরবে
তোমার  হায়রানি,  ফিরবে    তোমার থেকে ফিরে আশার
সময় বুকে লাগা  অসহায় মনখারাপ, 
একবার  চলে গেলে ফেরা হয় কই... আজ অবধি
যে যায় সে কখনো ফেরে না,  পড়ে থাকবে
তোমার শহরের ধুলোয় মিশে  কোনো
মন্দবাসার গল্প,  তোমার পুরোনো দীর্ঘশ্বাসে
কোনো এক  নারীর ঘামের   গন্ধ.... সে সব
তোমার কাছে নতুন নয়,  বহু ঘটে যাওয়া 
চলমান মুহূর্ত কেবল  যা আগেও ছিল পরেও থেকে যাবে।    
স্টেশনে শেষ  গাড়ির হুইসেলে গেলে থাকা তাড়ায় আর
থাকবে না কোনো   উৎকন্ঠা,  হয়তো গংগায় ভাসা
ফেরির বাঁশি  বলে যাবে চলি আজ সে আর ফিরবে না... 
সব আসার  উপসংহারে শেষ স্বাক্ষর রেখে যায় যাওয়া,      
তুমি একথা মেনে ডুবে যাবে নতুন কোনো উপন্যাসের পথে , 
যদি চলে যাই আর ফিরবো না তুমিও জানতে সে কথা ।                         
           

মৃত্যু আসবে

--------------------------------------------------------  
একদিন মরে যাবে সব,  মৃত্যুর দানব মুঠো ছিনিয়ে
নেবে বেঁচে থাকা নীল আকাশ, নদী, উল্লাসে উড়তে
থাকা ঘুড়ির উৎসব,  ছিনিয়ে নেবে শান্ত অভিমান,  
কিংবা মারাত্মক হাহাকার, 
সব একদিন মৃত্যুর অধিকারে চলে যাবে... শহর, গ্রাম, 
মাটি লেগে থাকা মানুষ আর রুপোলী চাঁদের আলো, 
মরে  যাবে কাজলে লেখা  নীলখামের স্বপ্ন  মরে যাবে
ক্ষেতের  দুধ ধান  মরে যাবে নবান্নের আঘ্রাণ, 
চৌরাশিয়ার বাঁশি মুখরিত করবে না সুমন বাবুর গান, 
রবিঠাকুরের মেঘমল্লারে লেগে থাকবে কাদম্বরীর শোক
,, মরে যাবে  রুপকথার রাজা রানী সাথে 
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমিও। 
দানবের থাবায় হারাবে অন্ধকার গলি মরে যাবে
নিয়নবাতির আলো,  
মৃত্যু আসবে বহু যুগ ধরে   প্রেমিক প্রেমিকার
 চুম্বন রাখা    ঠোঁটে ... তারপর সমস্ত প্রেম শেক্সপীয়ার 
এর   ট্রাজেডিতে যাবে মিশে। 
এক দিন মরে যাবে  খিদেয় ঘুমানো সন্তান বুকে আঁকড়ে জননী, 
পৃথিবীর সকল সন্তান হবে অনাথ.... হয়তোবা
তারও চেয়ে বেশি কিছু আত্মিয় বিয়োগে পৃথিবী
হবে একলা,   জানি একদিন মৃত্যুর দানব মুঠো
ছিনিয়ে নেবে আমাদের বেঁচে থাকা।                 

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০

নদীটার তীরে

শুধু জানি ছোটো ছোটো জলের ফোঁটা যেদিন
নদী হয়ে ছিল.... তুই দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে
বলেছিলিস, ...... আমার  বড্ড একলা লাগে, যদি
তোর দুঃখদের দত্তক নিই তুই কি রাজি হবি? 
আমি তখন আকাশে উড়ে যাওয়া হলুদ পাখিটার 
উদ্দেশ্যে চিঠি লিখছি, 
সে যা-  চায় আমি কখনওই দিতে পারি না, 
এভাবে রোজ চিঠিতে বাড়ে  আমার  ব্যার্থতার
আয়ু,,, 
তোর দিকে তাকাতেই অগোছালো চুলে মেঘ
সরিয়ে বিকেল আঁকলি কপাল জুড়ে  --- তারপর
ছায়ার বারান্দায় বাকি ছিল যেসব কাহিনি তাদের
তুই সামলে রেখেছিলিস বহু সভ্যতায় । 
আমার বিষন্ন চিঠি থেকে পরের সূর্যদয়ে পাখা
মেলেছিল প্রতিটা শব্দ হলুদ পাখিটার পথে,  
মনে আছে স্পষ্ট  আমিও তারপরে  বেঁধেছিলাম
ঘর সেই ছোটো নদীটার তীরে।         

ঘুমের সাথে

---------------------------- 
ইদানিং রাতে ঘুম হাতড়ে বেড়াই... আমার সাথে
তার বিছানা বালিশে বিচ্ছেদ  নতুন নয়, 
যেন   কেউ কাউকে সইতে পারি না... তাই দুজন
দাঁড়িয়ে দুই প্রান্তে.....  মাঝে একটা প্রশস্ত নদী
যেন    বিষন্ন লিখে যায়,  তাকিয়ে দেখিছি কান্নারা
স্রোত বেঁধে পার হয় একসাথে। 
বুকের ভেতোর অজানা শ্বাসকষ্ট.... কাঁচ মুছে
দেখি হৃদয়পুরে  ধু ধু        বইছে চৈত্রের লু, 
ছুটন্ত প্রহর যেন     সাইরেন  বাজিয়ে ঘোষণা
করছে লকডাউন থাকো, 
নেহাত তখন ঘুমের সাথে সখ্যতা গেছে  ঘুচে,
কে জানে কারা  বাঁধালো এই বিভ্রাট 
খবর হাতড়ে যদিও পাওয়া কিছুটা  স্ক্রিনশট, 
বুঝেছি রাতের নীলাভ আঁচে আমার মত সব
শহরেই এমম অনেক মানুষ দুঃখের কথা বলে।         

বাকি কথা

---------------------------- 
তুমি তো বলেই ছিলে পরে হবে কথা... 
তারও পরে হয়তো হতে পারে দেখা, 
এখন সমস্ত ধুয়ে ফেলে দাও সাফসাফাইএ
 দাও  মন,  যেটুকু যাবার নয় গুঁজে  রেখো
পাঁজরের ফাটলে। 
আমিও লিখেছিলাম সময় কাটানোর গল্প কিছু
....এখন বুঝি তাতেও মিশেছিল মন কিছু,, 
আসমতলে  থাকারই ছিল কথা.... 
মাথা আর মন আসেনি কখনো এক দরবারে, 
অযথা ছিল সব রাজকীয়তা প্রেমের   কাঙালিপনায়, 
রাজা ছাড়াও রাজ্য চলে একথাও ছিল জানা। 
ভাবতে তুমি তাকে প্রবাস.... 
সেই এখন নিজবাস ... 
আমি আজো পরাজয় লিখি মেঘেদের  খাতায়  
তুমি তো বলেই ছিলে পরে হবে বাকি কথা।          
    

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০

নিয়ম মানি

নিয়ম মানি
-----------------------------------  
নিহত সময় লেগে রইলো ইতিহাসের বুকে, 
বিদায় যেন  নালিশ ভুলে অবাক হতে নিচ্ছে
শিখে, 
সমস্ত স্রোত থেমে গেছে আজ 
পিছুটান নেই নেই বাইরে তেমন কোনো কাজ, 
দায় সারা রিংটোন থেমে গেছে নিয়ম মতো 
বন্ধ ঘরে  বাক্স খুলে পুরনো ছবিতে  সময়  যত, 
সময় একদিন নিহত হবে বাতাসে  ছিল
ফিসফিস কানাকানি, 
মুঠোয় রাখা ছিল  ঝুটো ব্যাস্ত বাহানার হায়রানি, 
তোমার মত আমিও  এখন অংক  করার 
সব নিয়ম মানি।                    
  

সুবর্ণা (৮৭)------------------

--------------------------------------------------------    
একমুখি ফ্লাইওভার যে যায়  এ পথে ফেরে না, 
নতুন পথে তার ফেরা,  কখনো মনে হলে  ফেরার
কথা.... ফিরেছি আগের কোনো এক জন্মে, 
থরে থরে সাজানো নানান কোলাহল, সাজানো  
নীরবতা আর নতজানু আমি কূড়িয়ে নিচ্ছি
শুকনো পাতার বাসি বসন্ত, 
আমার প্রতিটা জন্ম ভীষণ সাধের,  সাজানো  
চিত্র পটে শিল্পীর মত কৌশল জানা প্রতিটা
তুলির টান, 
-----------------------------------------------
যদিও   ফিরে আসে না   একই মানুষ একই পথে
তবু যদি কখনো ঘটে যায় অসম্ভব কিছু 
জানবে সুবর্ণা আমি থেকে গেছি প্রথমের দিনগুলোতে,
তাই দেখে যেও কেমন থাকতে পারি এতটা সময়
পার হয়েও,  কেমন আছে আমার অগোছালো দুনিয়া
থেকে তোমার কুড়িয়ে রাখা টুকিটাকিগুলো, 
এটুকু বলতে পারি এখন অনেক কিছু আমায় ছেড়ে
গেছে ,  অথচ আমি  বারংবার হোঁচট খেয়ে থমকে
গেছি  আঙুলের ফাঁকে মোহের গিঁটে। 
আজো দুরে কোনো অন্ধকার চিরে আলোর অপেক্ষা.... 
.....যদি কখনো ঘটে যায় কোনো অসম্ভব।