মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

আসুখ রং

---------------------------- 
বড় শিথিল লাগে আজকাল নিঃশ্বাসের বেষ্টনী, 
জানি না কেন মনে হয় নদীর ধারে ঘর বাঁধতে
পারলে হয়তো এই শহরের মত একলা হতাম না, 
বারন থাকত না  স্পর্শে....  কিংবা পাখি! -- পাখি হওয়ার
সাধ আমার  সেই ছোটোবেলা থেকে,, 
তাই যাদের সাথে সম্পর্কের বাঁধন পারলাম কই
তাদের আপন হতে..... 
আকাশের বান্ধব রঙেই আমার মুক্তি দেখি বারবার, 
আজকাল শিরদাঁড়ায় একটা তীব্র কম্পন  জাগিয়ে
রাখে রাতগুলোতে,  আমি গিঁট খুলে আকাশের দিকে
ওড়বার  চেষ্টায় ব্যার্থ হই,  আর তখন তীক্ষ্ণ ছুরিতে
  আমার ভেতর মহলে একের পর এক মানুষগুলো নিহত হয়, 
ফোঁটা ফোঁটা রক্ত  যেন দহন আর বিন্যাস আঁকে
সব দেওয়ালে। 
পৃথিবীরও   জ্বরের খবর এখন আমারই মত 
সবকটি বর্নমালায় গেঁথে গেছে,  সবাই  মেনেই 
নিয়েছে ফেরা হবে না আর আগের মতো করে।
বাড়ির বাইরে সোনালী নিস্তব্ধতার ভীড় যেন 
সভ্যতার গলা দিয়ে  সম্ভ্রান্তের  সোনা গলে গলে 
পড়ছে , এ সভ্যতায় কোলাহল দারিদ্র্যের মতো
যেখানে সেখানে অবিচল তার যাওয়া  ছিলো,  
আজ  সব ফুরিয়ে গেছে নিভে গেছে সব চিতকার।                   
  আবর্জনা বাড়ে ভেতরের  আনাচেকানাচে  ....
 নদীর কাছে যাওয়া  হয় না   বহুদিন  
শরীরের কালসিটে ধুয়ে  আসা হয় না নদীর জলে,
উত্তরের বারান্দায়.. পিছন থেকে বেনী টেনে আর
কেউ ভালবাসি লেখা চিরকুট দিয়ে যায় না, 
আরো কতো কিছুই ছেড়ে  চলে  গেছে   এই
যুদ্ধের দিনে, 
নিজেকে রোজ রোজ নতুন অভ্যাসে  অভ্যস্ত করতে
করতে  হাঁপিয়ে গেছি.... তাই বোধহয় আজকাল
  নিশ্বাসের বেষ্টনী শিথিল হয়ে আসে,, 
........জানি না আর কখনো নদীর  কাছে যেতে পারবো
কিনা.... আমার পাখি হওয়াও  আর   হবে না জানি, 
সব খেলা বোধহয় এমন করেই একদিন শেষ হয়ে যায়।                            

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন