বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

বাজিকর

তোর জন্য পাওয়া কষ্টরা  প্রায়শই আমার
মুখোমুখি বসে বাজি রাখা খেলা খেলে,, ,  
  কষ্টের ক্ষতরা শর্তের  প্রথমে  আমার চোখপিটপিট
পুতুলটা বাজিতে রাখতে বলে,  আমি প্রথম বার
জিতে  যাই  পরের বার আমার কবিতার খাতা 
আমি জিতে যাই,   আমার সামান্য  ঠুনকো সাহসের 
সম্বলে আমি পরের বার আমার বাঁ চোখ বাজি রাখি
এবার জিতলে তুই আমার ....... 
পারিনি জিততে ধারালো অস্ত্রে আমার বাঁ চোখ খুবলে
নিয়েছিল হেরে যাওয়া বাজি,  এরপর আমার ডান চোখ
বাজি রেখে তুই  আর খোয়া যাওয়া চোখের দাবি
রাখি.....  হেরে গেছি ,  আমার সম্বলের  লাঠিটা
বাঁ হাতে ধরে পরের বার আমি আমার ডান হাতটা
বাজি রাখলাম,  ভাগ্য তখন হারের শিখরে ,  অথচ
আমি তোর নেশায় বুঁদ....  এভাবে ক্রমাগত আমার
ঠোঁট,  কান,  নাক,  কলিজা আমি বাজিতে হারতে থাকি 
আমার শরীরের ক্ষত থেকে পুঁজ রক্তের স্রোত 
পথ ঘাট পার হয়ে নদীর কাছে পৌঁছে যায়,  অথচ
আমি তোর কাছে পৌঁছাতে পারি না। 
শেষ বার বাজি রাখলাম আমার আত্মাটা 
পরিবর্তে  তুই সমেত আমার সমস্ত খোয়া যাওয়া
সম্বল ফেরত,  বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে
আশ্চর্য  আমি ভয় পেলাম না এতটুকু,  
শুধু ঈশ্বর সামনে এসে  আমার  হৃদয় চক্ষুর কাছে
কুমন্ডুলের জল রেখে  বললো দেখ তোর  দুঃখ উৎসর্গ  যাকে 
সেকি সামান্য ভিজেছে তোর ক্ষত থেকে ঝরা আর্তনাদে। 
আমি বিস্ময়ে একবার ঈশ্বরের দিকে একবার তোর
দিকে চেয়ে দেখলাম..... তুই ক্রমাগত সূর্যর দিকে 
বেড়ে  উঠছিস  , আমার কান্না কিংবা রক্তের স্রোত
তোকে আর কখনও ভেজাতে পারবে না, 
অন্য দিকে চেয়ে দেখলাম ঈশ্বরের চোখ বেয়ে
গড়িয়ে নামছে কান্না,, 
আমি সারা জীবন তোর কাছে হারতে চেয়েছি
তবে  এ হার আমার মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রনাদায়ক।                   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন