বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

তোমার শহরের কবিতা

তোমার চোখে শহরের সাত কহন  গড়িয়ে  নামে

আমি লুকিয়ে  দেখি  পুরোনো শরীরে নতুন পোষাকে তুমি শহরকে উৎসবে  সাজাও। 

সকালে চোখ খুলে দাও এ শহরের, আমি  পাশ ফিরে রাতের পর ভোর দেখি... দেখি তোমার  দায়ভার। 

আমি দেখতে  পাই তোমার আদরের চোখে লুকোনো রক্তের আসা যাওয়া    ,

বই পাড়ায় পুরোনো বইয়ের দোকানের  নতুন অনুবাদে তুমি ব্যাস্ত সময়ের ষড়যন্ত্রে,

  শংখ, শক্তি ,সুনীল ,  হারিয়ে গেছে কবেই... তবু আমার মত কেউ কেউ সব জেনেও  খুঁজছে নীরা কে। 

.স্প্লেনেডে  ক্রমশ বাড়তে থাকে ভিড়  আমরা সবাই নিজেদের হারিয়ে ফেলিতেই চাইছি এই  ভিড়ে, 

কোনো অসময়ের মিছিল মুখ লুকোনো অভ্যেসে সামিল হতে চাইছি  সবাই, 

আমাদের চাওয়াগুলো  গুলো  বড্ড এক রকম শুধু জানলা দরজা ঠিকানা আলাদা আলাদা। 

 সুজন তুমি  বহুদিন  স্নান করোনি, বহুদিন কোনো সাধনায় বসোনি পুজোর ঘরে, 

সংসারের শব্দ লুকিয়ে শান্তি খুঁজতে চাওনি  এক মুহুর্ত  ,

ঈশ্বরকে বলোনি সময়ের  সাথে সকলের ভালো হোক, 

কেবল জানলার বাইরে  শালিখের ঝগড়া তোমার  মাথার ভেতর নিউরনের স্ফুলিঙ্গর উচ্চতা  বাড়িয়ে দিয়ে চলেছে।

.

 তুমি তোমার   পাশে অন্য এক পাগলকে ফস করে বিড়িতে আগুন ধরাতে দেখে চমকে  ওঠো ইদানীং, 

ইদানীং  তুমি  বাজারের থলে হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একরাশ শুন্যতা নিয়ে ফিরে আসো সংসারের হেঁসেলে।  অথচ শুন্যতা দিয়ে খিদে মেটে না বরং খিদে বাড়ে সেকথা তুমি ছাড়া ন-বছরের  ছেলেও বোঝে 

তোমার  সাজানো শহর কিনতে চাইছে সুখ এ এক আসম যুদ্ধ  সুজন... এ অভ্যেস থেকে মোহ থেকে মুক্তি দাও নিজেকে তোমার শহরকে,

 দেখো  চায়ের দোকানে ধুঁকতে থাকা কুকুর আজো কুকুরীর সাথে অজস্র সহবাসে সুখ পেলো না, 

একটা ভাদ্রের মেঘে তপ্ততা  থাকলে রোদ্দুরে ভরসা  করে স্যাতস্যতে ভালবাসা সুখিয়ে নিতে সুখ নেই নেই ভরসা। 

এইভাবে সুখ অন্ধকারেও নেই আলোতেও নেই আকাশেও নেই মাটিতেও নেই

  আসলে সুজন  তুমি আর তোমার এই শহর ঘুমোওনি   অনেকরাত।

.আসলে  তোমার  দিন গুলো কাটে এই শহরে পুঁজ ধরা সম্পর্কের কবিতার মতো, 

আসলে তোমার বয়স বাড়ে এই শহরে হাজারো অপেক্ষায় মাইলস্টোন পেরিয়ে রেখে যাওয়া  অভিশাপে  নাগপাশে,

 জানোতো সুজন সময় ফুরোয় একদিন, একদিন দুঃখ  ফুরোয় 

ময়দান জুড়ে কাশ ফুলের সমাবেশ যেন  শান্তিরক্ষী  সৈন্যরা,  ,সেখান  মানুষের অভ্যেস ফুরোয় না, মানুষের  মাথার ভেতোর পৃথিবীতে  কিছুই বদলায় না কিংবা বদলাতে চায় না।


আমি   শহরের কবিতায় মানুষগুলো পড়ি আর পড়ি মানুষের  চোখ দিয়ে শহর,,

তুমি  নিজের মতো সাজাও একটা  তাসের শহর 

সেখানে  দাবার-মঞ্চ আছে, শব্দ আছে, সৈন্য আছে, রাজা আছে, ঘোড়া আছে, নৌকা  আছে,  শুধু তুমি বোকার মত নিজেকে চিরকাল শ্রেষ্ঠ  খিলাড়ী ভেবে গেলে 

আর কমতে থাকলো তোমার  অন্তরবর্তী একলা সুখ, 

আসলে জানোতো সুজন সময় সবসে বড়া খিলাড়ী। 

ছক খেলা খিলাড়ী  সব আগেই সাজানো তুমি আমি কেবল কাঠের পুতুল।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন