মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

আপনাদের পরিচয়

যে মেয়েকে জ্যান্ত রাখা মুশকিল ছিল তাকে পুড়িয়ে দিলে কার কি ক্ষতি ...কি হে প্রতিবাদী মশাই আপনি কি এই খবর টা পেয়ে এক বেলা ভাত মুখে তুলতে পারেননি আপনার কি নিজের কন্যা সন্তান এর মুখটা ভেসে উঠেছিল একবারের জন্যও , 
জানি এসব আপনার কিছুই হয়নি  ,আরে মশাই আপনি তো সেই  মানুষটা  যে ধর্ষক এর সারিতেই
প্রথম থেকে দাঁড়িয়ে... কেবল মানতে চান না ,
মানতে না চেয়ে পুরুষ অঙ্গের বদলে কলমে ধার দিয়ে খস খস করে লিখে ফেলেন প্রতিবাদী কলাম  আর তাতে নপুংসক সরকার বলে অজুহাত দেখানোর আঙ্গুল সংখ্যা বাড়ে  দুচারটে,
আসলে আপনিও জানেন এসবে অদ্যপ্রান্ত সমাজ বদলাবে না বিন্দুমাত্র , আপনারা মিটিং করবেন মিছিল করবেন  ধর্ষিতা কে নিয়ে প্রতিবাদী  ধিক্কার কবিতা পাঠ হবে যত্রতত্র  .......তাতে কাঁচকলা ,
বরং এই আপনাদের মত শো কল ভালো মানুষের ছায়ার  আড়ালে বান্ডিল বান্ডিল পৌরুষ ফলানো থাবা গুলো গুঁজে রাখা যত্ন করে ।
এসব প্রতিবাদী  খবরের শিরোনাম  লেখা -জোখা সব কেবল তরুণী কিংবা ধর্ষিতা বালিকা, প্রৌঢ়া, এক কথায়  নারী মাংস ঢিমে আঁচে পুড়িয়ে স্বাদ আস্বাদন করা ছাড়া কিছুই নয় ।
তাই শুনে রাখুন হে প্রতিবাদী মশাই   আপনাদের ওই প্রতিবাদী কবিতা ,খবর , মিটিং ,মিছিলে  আমার তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই ,মাথাব্যথা নেই যেকোনো রকম প্রতিবাদী সৃষ্টি ও পাঠে ,
কারণ আমি কবি নই ,পাঠক নই ,শ্রোতা নই ,দর্শক নই , আমি সে   যে আপনাদের এই সমাজের সিস্টেম এর কাছে রোজ রোজ ধর্ষিত হই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে  , আপনাদের যুযু যুযু কোনো প্রতিবাদ আমাকে ধর্ষিত হতে বাঁচাতে পারেনি  আর আগামীতে সে সাহস আপনারা দেখবেন না ,
আসলে রুখে দাঁড়াতে গেলে স্খলিত করতে হয় এই বেশ ভালো আছির দেওয়াল , কিংবা আপনার মনে হতেই পারে আমার কি একার দায় ? তাই আমির পরিচয় কন্যা, স্ত্রী, বান্ধবী, বোন, মা , কাকিমা , বৌদি  না হয়ে কেবল ধর্ষিতা বা নারী শরীর , আর আপনারা মশাই সব্বাই  আমার উলটো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা .......।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন