খুঁজলাম পায়ের নিচে এদিক ওদিক ডাইনে বাঁয়ে কোথাও আর ছায়াটা পেলাম না ,
তারপর ছুটে গিয়ে আয়নার সামনে..... পেলাম না কোনো ছায়া কিংবা প্রতিচ্ছবি ,
ছুটতে ছুটতে ভুবন ডাঙ্গার মাঠ... , মফস্বলের অলি গলি.... , গাঁয়ের জমি আল পথে.... , খোয়াইয়ের চর..... , তিলোত্তমার রাজপথ থেকে পরিজাত, ষ্টেশন চত্বর....., কোথাও সে ছায়াটার দেখা মিললো না .........,
আমার বাড়ির সামনে চৌরাস্তার মোড়ে জোরালো বাতিস্তম্ভর নীচে উবু হয়ে নখ দিয়ে খুঁটে খুঁটে খুঁজলাম ছায়া ....পেলাম না ।
আবারও ছুটতে ছুটতে প্রতিটা পরিচয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করলাম তাদের দুবাহু ঝাঁকিয়ে সেই ছায়ার কথা ... , সবাই নিজেদের মধ্যেই ব্যস্ত থাকলো আমি যেন তাদের দৃশ্যে দৃশ্যত হইনি মোটেই ,
ছুটে গেলাম আমার সে প্রিয় বাউল এর কাছে যে আমায় নিয়ে রোজ গান লেখে ..... তাকে গিয়ে জিগ্যেস করলাম .......গোঁসাই ছায়া কি দেখতে পাও তুমি ?.... সে মুখ তুললে না, যে গান সে গাইলে তার সুরে আজ কেন যেন শোক লেগে .....তার মরমিয়া বাউলিনী কে আজ গানে গানে শেষ বিদায় অর্ঘ্য ঢালছে ,,
ফিরে এলাম সেখান থেকে ছুটতে ছুটতে
কবির কাছে জিগ্যেস করলাম কবি তোমার প্রিয় নাম ......তার ছায়া নেই কেন আজ...? কবি চাইলো না আমার মুখের পানে ধ্যানমগ্ন কলম থেকে তার বেরিয়ে এলো হৃদয় নিংড়ানো কান্না , আমার কবির এমন কবিতা আগে কখনো লেখেনি, .....দাঁড়ালাম না আর মুহূর্ত ছুটতে ছুটতে এলাম হাঁপিয়ে গিয়ে খানিক থেমেছি যেই চোখে পড়লো চেনা সম্পর্কের ভিড়
ফিসফাস কিছু কথা ভিড় থেকে এগিয়ে আসতেই কাঠের ওপর কাঠ সাজানো তার ওপর চেনা একটা শরীর ......আর একটু কাছে যেতেই দেখি হুবহু আমার মত কেউ ঘুমিয়ে আছে , মুহূর্তে আমার সন্তান এক মুঠো আগুন নিয়ে রাখলো সেই ঘুমন্ত মুখে ,
বুঝলাম আমার ছায়ার খোঁজে আর পাওয়া যাবে না কোনদিন ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন