কে আমাকে দুধ ও ভাতের গন্ধ দিয়ে আড়াল করে
কে আমার মাটি যেখানে আমি বৃষ্টির মতো শুষে যাই
আমি যখন দূষিত আকাশে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে উড়ি
আমার পালকে ছাই জমে জমে ধূসর হয়ে যায়
তখন আমার সামনে সবুজ গাছ হয়ে ওঠে কে
কে আমাকে চোখের পাতা বন্ধ করে আড়াল করে
কে আমাকে আগুন দিয়ে মশালের মতো জ্বালায়
কে আমার পৃথিবী যার ভেতরে আমি লাভার মতো
ফুটতে থাকি
আমি যখন পথ থেকে গলিতে তাড়া খেতে খেতে দৌড়ই
আমার পায়ের তলায় হাইওয়ে, আলপথ সব ফুরিয়ে যায়
তখন আমার সামনে আশ্রয় হয়ে ওঠে কে
এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে
আমার ওপরে অনেক অত্যাচার করতে হবে
এত অত্যাচার করার ক্ষমতা, দুর্ভাগ্যবশত,
কোনো শোষক, নিপীড়ক বা রাষ্ট্রমেশিন এখনও জানে না
যখন জানবে
তখন আমার প্রশ্নের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যাবে
আমি প্রশ্নগুলোকে ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগোতেই থাকব
আমাকে দেখা যাক বা না যাক
প্রশ্নগুলো ফেটে অনেক সপ্তর্ষিমণ্ডল আকাশে দেখা যাবে।
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১
সুবর্ণা (৯৮)
সুবর্ণা আর কত যুগ তোমার হৃদপিণ্ডের
মাথা রেখে ঘুমোনোর চেষ্টায় তোমাকে ক্লান্ত করবো?
আর কত সভ্যতা তুমি আমার নিজস্ব মাটি হবে
কতকাল হবে গাছ আমারই জন্য ....
আমার যে অনন্ত কালেও অশ্রু বৃষ্টি থামবে না ...
দূষিত আকাশে উড়তে উড়তে হাঁপানো ফুরোবে না ।
আর কত জন্ম তুমি আমার পৃথিবী হবে ...যার বুক জুড়ে সময়ের তাড়া খেতে খেতে রাজপথ আল পথ পেরিয়ে আমি আশ্রয় নেবো ,
আর কত আমার উপর ক্ষত খোদাই এর শব্দ ছুঁড়ে তুমি আকাশের গায়ে নতুন তারা মন্ডলী
আঁকবে ! এবার মশাল আমাকে জ্বালাতে দাও
পুড়তে দাও হাঁটতে দাও গনগনে দহনের ওপর ,
আমার রোদ্দুর বৃষ্টি আমাকেই শুষে নিতে দাও ,,
আমাকে আরো অত্যাচার হতে হবে , আরো শোষণ নিপীড়ন আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ,
তুমি যাও সুবর্ণা ...... খানিকটা ঘুম তোমার দরকার , আমি বিহীনে তুমি আলো হয়ে ফুটে ওঠো , আমাকে আর তোমার ভেতর লাভার মত ফুটতে দিও না , আমি তেমন যোদ্ধা নই যে তোমার সৎকার এর সাহস রাখি ।
........যাও সুবর্ণা কিছুটা সময় তোমায় এবার ঘুমোতে হবে ।
.......(সুবর্ণা প্রিয় পৃথিবী)
কে আমার হৃদ্পিণ্ডের ওপরে মাথা রেখে ঘুমোয়
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন