------
প্রিয় মনি
জানিস আজ কয়েকদিন ধরেই ভাবছি তোকে কিছু লিখি
এক মিনিট দাড়াবি পাখার সুইচটা অন করি কলকাতায় বড্ড
ভ্যাপসা গরম জানিস এর এখানে আসার পর থেকে তোর হাতের ওই
নিম্বু পানি কি মিস করি, এই শোন কাকিমা কেমন আছেন রে? কাকুর
কাজকর্ম এখন কেমন চলছে বলতো, আর শোন না তুই চিঠিতে এত কম
কথা বলিস থুড়ি লিখিস কেনরে পড়া শুরু করতে না করতেই শেষ হয়ে যায়,
আসলে কি বলতো দুর্গাপুর ছাড়ার পর তোর চিঠির জানলা দিয়েই আমি
শব্দের পর্দা সরিয়ে দুর্গাপুর কে দেখি, এই দ্যাখ কেমন আকাশের মুখ ভার করে
বৃষ্টি এল দাঁড়া দাঁড়া জলের ঝাপটা আসছে সব ভিজে একাকার এক মুহুর্তে আগে জানলা
বন্ধ করি তার পর তোর সাথে কথা বলি, ।
হ্যাঁ এবার বলতো তোর কি খবর বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেল
আমি ভাবলাম আমার চিঠি লেখা হচ্ছে না সময় নিয়ে তুই হয়তো এরই
মধ্যে ইয়া বড়কা একটা চিঠি লিখে ফেলবি খস খস করে, আর তাতে
ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ অভিমান কত্ত কিছু মেশানো থাকবে , আর আমি কাজের ফাঁকে
তোর ওই ছেলেমানুষী অভিযোগ অভিমান থেকে খুনশুটি কুড়োবো।
যাক সেসব কথা তো হলো, বলছি কলেজ তো যাচ্ছিস নতুন কিছু খবরাখবর দে এবার
কেউ কি চোখ ফিরে একবারো তাকালো না এই ছমাসে, অবশ্য তুই যা খেঁদি পেঁচি মা মনসা
তোকে কোন ছেলের চোখ ট্যারা ছাড়া পছন্দ হবেও না, কিরে কিছু বলবি না বাদি প্রতিবাদী
হয়ে হাহাহাহা এই সময় তোর মুখটা দেখার মত হয়েছে আমি জানি, শোন না চিঠি টা পড়ার সময় একটা
তোর মুখের একটা ফটো তুলে পরের চিঠির সাথে পাঠাস হাহাহাহা।
মনি এই বলছি বাকি কথা পরে কাল সময় করে বলছি বুঝলি খুব খিদে পেয়ে গেছে
নারায়ন দার হোটেল পৌঁছাতে দশ মিনিট লাগবেই আর অনেক রাত হয়ে গেল শেষে খাবার
শেষ হয়ে গেলে আজ উপোস থাকতে হবে কারন তো তুই জানিস আসপাসে তেমন কোনো
ঘরোয়া রান্না করে এমন খাবার হোটেল নেই, আমি তো
জানিস পেট রোগা লোক ভুলভাল কিছু খেলে পেট নিয়ে ভুগতে
হবে অফিস কামাই আরো কত ভোগান্তি, তুইও যা খাওয়া সেরে
নে কাকামা হয়তো বার চারেক তোকে খবার জন্য ডেকেছে আমি
হলফ করে বলতে পার, তুই তো আবার খাবার খেয়ে কাকিমাকে ধন্য
করিস হাহাহা যাক পালাই বুঝলি পেটে ছুঁচো ডন দিচ্ছে মারাত্মক ভাবে।
আজ পাঁচ দিন পর আবার কলম নিয়ে বসলাম বুঝলি মনি
খুব ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি রে অফিস থেকে ফিরে, এরপর আর জল্ টাও
নিয়ে খেতে ইচ্ছা করে না, আজ আসার সময় নারান দার দোকান থেকে
রাতের খাবার নিয়ে ঢুকেছি, আর জ
যেন বেরতে না হয়, তার পর তোর সাথে থিক করে চিঠিতে কথাও
বলা হয়ে উঠছে না, আজ ভাবছি তোকে লেখা টা শেষ করে কাল পোস্ট করব
আচ্ছা শোন না তুই কি ব্যাস্ত? তাহলে একটু পরের দিকে কথা বলি,
ওহ তোর তো এখন ফ্রি সময়, জানিস আমি কিছু ছবি আঁকা শুরু করেছি
পোট্রের্ট তোকে পাঠাব দেখে বলিস কেমন হচ্ছে, আজ একটা মজার ঘটনা হয়েছে৷, মনি জানিস অফিসে পলাশ আর সোফিয়ার মধ্যে যে পুর্বরাগ এর পর্ব চলছিল
সেটা আজ পরিনত হল প্রেম নিবেদনের প্রস্তাবের মাধ্যমে,
জানিস মনটা বেশ ভাল লাগছিল ওদের দুজন কে দেখে অফিসে সাবাই হুল্লোড় করছিল ওদের নিয়ে
আর আমি চুপচাপ ওদের অন্তমিল দেখছিলাম এক তৃপ্তী ওদের চোখ জুড়ে মুখে ফুটে উঠছিল,
যাক ওদের কথা তো গেল এবার তুই বল আজ কি করলি সারা দিন বিকেলে আমাদের বাড়ি গিয়েছিলি
ছোটকার কাছে অংক করতে? মা নিশ্চয়ই কিছু একটা ভাল জলখাবার খাইয়েছেন ইস খুব মিস করি
আর তোর ওপর এই সময় হিংসা হয় আমার মা আমার বাড়ি আর আমি বিদেশ বিভুইয়ে, আর সেখানে
তুই কিনা আমার মায়ের আদর খাচ্ছিস বিকেলের তোয়াজ করে ভাল ভাল জলখাবার খাচ্ছিস,
দাঁড়া এবার দুর্গাপুরে ফিরে আমি সোজা তোদের বাড়িতে লোটাকম্বল নিয়ে উঠব আর কাকিমার কাছে
আদরে যত্নে থাকব কয়েকদিন আর তুই মোটেই ভাগ বসাবি না তখন, আমাকে কেউ ভালবাসুক সেটা আবার
তোর সহ্য হয় না হিংসুটি ক্ষ্যেপি, ওই শোন রাগ করবি না কাতুকুতু দেব কিন্তু বলে দিচ্ছি,
আর বল কি করছিস আজকাল নতুন কিছু গল্পের বই শুরু করলি?
আমি রোজ রাতে পুর্নেন্দু পত্রি মহাশয়ের কবিতা পড়ছি দু একটা,
জানিস ভারি সুন্দর লেখা রে পরে সময় পেলে পড়ে দেখিস ভাল লাগবে,
নয়তো ভাবছি এবার বইমেলায় তোকে আর মা কে নিয়ে আসবো কলকাতা
মা এর সব গল্পের বইগুলো বহুবার পড়া হয়ে গেছে, নতুন কিছু বই মা কে বলব
পছন্দ করতে আর তুইও কিছু বই কিনে নিস, এবার তোর জন্ম দিনের উপহার বই।
চল আজ এবার শেষ করি বুঝলি ক্ষ্যাপি, রাত হল খাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি একটু
ঘুমাতে হবে কাল একটু সকাল সকাল বেরতে হবে রে মর্নিং সিফট ধরতে হবে
চিঠি পৌছালে বড় করে লিখবি কিপ্টেমি করবি না, ভালি থাকবি জানি
আমিও ভাল আছি, শুভ রাত্রি
................................ ইতি বাবাই দা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন