কিছু কিছু সময়ে একটা চিৎকার ভেতর থেকে জনমহলে খসে পড়ে আচমকাই।
ভিড় ফুরিয়ে যাওয়া মেলা ভেঙে আসে আমার মত কেউ ।
একা একাই খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসি রঙিন বেলুন বিক্রেতার মতো ।
অসুখের আবহাওয়ায় কার্তিকের শুরু ।
একটা উৎসব থেকে ক্রমশ দূর হয়ে যাচ্ছে চেনা মানুষটা.
...আমি ঘরে ফিরে এসে দরজায় দাঁড়াই অপেক্ষার ভোরের দিকে তাকিয়ে।
ফিরে আসতে পারাই জীবন কিনা জানা নেই।
অসুখের দেশে ভালো থাকা একটা আর্ট।
আর কোনও চাহিদা নেই, বলয় সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছি ইদানিং ।
আর কোনও অভাবের কথা লিখব না কখনো।
অভাব বিক্রি হয়ে গেছে বেওয়ারিশ বারোয়ারী হাতে।
সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা পাখি, যারা ফিরে আসতে পারে তারা বাঁচে আসল বাঁচা।
বাকিরা পথেই মারা যায় বলেই নামধাম কিছু কেউ মনে রাখতে চায়না।
পথের ধারেই আজকাল শিয়াল, কুকুর, সমস্ত অনুভব ঠুকরে খেয়ে ফেলে।
মাংস ছেঁড়ার কোনও শব্দ হয় না ....শব্দ হয় না হৃদয় ভাঙার ।
আসলে মৃত্যুর আগে শব্দ না করাই ভালো । হাসপাতাল এলাকায় লেখা থাকে সাইলেন্ট জোন। মৃত্যু ঠান্ডা ঘরে ঘুমায় বলে স্মৃতি বিলোয় বাতাস।
শহরের ভেতরে যখন একটা আস্ত ঠান্ডাঘর জেগে বসে থাকে তখন প্রেমিকের বুকে দাউদাউ স্মৃতির আগুন।
মুখচোরা এই মুহূর্তগুলোয় মুখ বন্ধ করে হেঁটে চলাই বোধহয় ভালো ।
শব্দের ভেতরে বিপণ্ণ এই বেঁচে থাকায় এখন অভ্যস্ত মানুষ।
এমনকি কথারা বোবায় পেলেও বেঁচে যায় বেশি করে । ঘরে ফিরতেই সঙ্গহীনতার খিদে বেড়ে যায় মানুষের।
তবু খিদে নিয়ে কথা বলতে নেই ভুখার শহরে।
চুপ করে যাওয়াটাই নির্বাণ এখন।
বুদ্ধের মতো নিঃশব্দে হেসে ফেলা, হাসি মুখে তোমাদের নগর ঘুরে ঘুরে নির্জন গলিতে এসে দাঁড়ানোই ভালো ।
নিঃশব্দ চতুর্দিকে, এত শব্দ ও কান্নার মজলিস তবু নিঃশব্দ চিতুর্দিক।
কেউ এসে আর বাঁচতে চাই বলে চিৎকার করে ওঠে না। কবিতা থেকে বোবা আবেগ ঝরে পড়ে শুধুমাত্র।
ফুলের বাগান ও ভ্রমরের ছিঁড়ে যাওয়া ডানা থেকে পলাতক শব্দ ভেসে আসে ভালোবাসা হারা মনের কান্না।
এরপরেও শব্দ গলার কাছে নিঃশব্দের সিম্পফনি তবু গাইতে পারে কই তেমন হৃদয়ের গান ।
কথা না বললে আয়ু ক্ষয় হয় সে তো জানোই তুমি।
ক্ষমতার হাতের ভেতর সেই পথভোলা মেয়েটির শেষ ইচ্ছার টুকরো ঝুলতে থাকে,
কিংবা বিশ্বাসঘাতক এর হাতের মুঠোয় নগ্ন সময়, ভাঙা বোতলের কাচের ওপর এসে দাঁড়ায় বুকের যন্ত্রনা ।
এসবের মাঝেই ভুলে যেতে হয় আলপথ ধরে স্মৃতিরা হেঁটেছিল কখনো ।
বুকের মাংস লেগে থাকে, কোন প্রতিশ্রুতির নামে কোন সহবাসের ফাঁদে জড়িয়ে ফেলে কোন ঠগ, মাথার ভেতরে চড়কির মতো ঘুরতে থাকে এসব জটিল বায়ু।
নিঃশব্দ করে মেয়েটাকে আরো বেশি করে ।
, বুকের চন্দনের প্রলেপ কপালে কুমকুম, আগুনের কাছে এসব নৈশব্দের আহূতি বুকের ভেতর নিরন্তর দহন জারি রাখে মেয়েটা।
শব্দ হারাতে হারাতে, নিজের কাছে একলা দাঁড়াতে হয় প্রতিনিয়ত তাকে,
ব্যথার ভেতর ব্যথার আঙুল চেপে ধরে না কেউ। বলে না কাঁদো, চিৎকার করে কাঁদো। নিঃশব্দ একটি স্পেস। যা প্রকৃতিতে মানায়, তবে বুকে নয়। সেটুকুই জড়িয়ে বেঁচে আছি এই নিঃসঙ্গ জীবনে। হে মহামান্য, সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে যেন একবার আমি চিৎকার করে উঠতে পারি।
একবার যেন উত্তরের বারান্দায় অঝোর বৃষ্টি এসে ধুঁয়ে নিয়ে যায় বকেয়া টুকু .....।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন