রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

ওফেলিয়ার

 একটা শরীর গঙ্গার স্রোতে... ঢেউ খুঁজতে জলের সাথে  কথা বলে। 
কালো-সবুজ... কখনও নীলচে ধোঁয়ার স্বেদে স্নান করে সে... হাতের রেখায় মৃত্যুদাগ ফিরিয়ে দেয় শহরটার আলবেলা জ্যোৎস্নায়...।
 সদ্য কবরে শোয়ানো দেহটিকে কবিতা শোনায়.তার পুরোনো প্রেমিক.. শুধু ওকে শোনাবে বলেই যেন লিখেছে। 
মাথার ক্রুশকাঠ... রাতের অন্ধকারে সরিয়ে পুঁতে রাখে... দূরেনদীর চরে...।
 হয়ত ওফেলিয়ার নিঃশব্দ আত্মহত্যার মতো এই মৃত্যু... হয়ত ডোভার-চূড়ায় অন্ধ গ্লস্টারের মতো সেও জীবনকে ছোটো করে ফেলবে ভেবেছিল...,,
... জীবনের চেয়ে নিজেকে বেশি ভালোবেসেছিল সে... মৃত্যুর আগে লুক্রেশিয়ুসের তার রচনাবলিগুলি শেষ করেছিল তাই খুব তাড়াতাড়ি করে। 
জন ডান-এর 'বিয়াথানাটস' (Biathanatos) ছিল ওর এক হাতে... অন্য হাতে দড়ি... আর কফিনে শুয়ে বলেছিল সেই গোপন কথা... ' তাঁর মৃত্যুর আগে  লিখে রাখা কয়েক মুঠো মাটি ছুঁয়ে থাকা  অক্ষর...,,  ছায়া ও পায়ের শব্দের অসমাপ্ত কিছু চুমু.. চোরকাঁটা ও নাভির চতুষ্কোণ ধরে  চাবুক মেরে স্মৃতি উস্কে দেয় ।
... নানান মাপের পাথুরে অস্ত্রসস্ত্র. যেনো সময় এর শ্রোতেও ক্ষয়ে যেতে শিখলো না ।
দেহটা থেকে হৃৎপিণ্ড বার করে প্রিয় পুরুষ বাজারে দাঁড়িপাল্লায় রাখতে চেয়ে ব্যর্থ হলো যত্নে রাখা মেয়েটার গোপন দৃষ্টির কাছে ,,,
প্রিয়তোষ বলে ছিলো একবার ক্ষমা করে দিতে পারলে ও চোখে নোনা স্রোত আসতে দেবে না ....প্রতিশ্রুতি ,.....মেঘ জানে না সে কি আবার নতুন করে প্রিয়তোষ কে শিশুর মত আগলে রাখতে পারবে কিনা ,, জন্মান্তরের জন্যে কেউ কথা দেয় না ....।
এ কবিতা কেবল ছেড়া ছেড়া মেঘের উদ্দেশ্যে যারা এক শহরে ভিন্ন ধারায় ভিন্ন মন কে ভিজিয়ে দেয় কারণে অকারণে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন