বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

দৌড়

--------------------------------------   

মনে নেই ঠিক কবে হাঁটতে শিখেছি কিংবা
দৌড়টা কবে পায়ের পাতায় প্রথমবার, 
 না না আমি একটাও বিশ্বকাপ জিতিনি, জিতিনি  
 নিদেন পক্ষে পাড়ার কোনো ক্লাবের দৌড় প্রতিযোগিতা,
বাঁচতে চেয়ে দৌড়ে চলেছি হাজার মাঠ, শহরের  পর
শহর  হয়তো প্রদক্ষিন করেছি পৃথিবী, একটুখানি
খাবার জন্য এঁটো থালাগুলোয় খুঁজতে হত সামান্য
কিছুটা হলেও টুকরো টাকরা খাবার... বাড়িওয়ালার
ফেলে দেওয়া আনাজ খোসা কখনো যদি একটু 
সাস বেশি থাকে তবে খুদ সেদ্ধর সাথে  হয়তো মহাভোজ, 
টুপু দিদির বিছানার পাসে রাখা ছোট্ট দেরাজের দশটাকার
নোট গুলো বেশ কয়েকবার অপরাধে সামিল করিয়েছিল, 
না মনে হয়নি সেদিন কোনো আত্মগ্লানি, পাঁচটা ভাই বোন
আমার  ভিতর বাইরে কাঁদছে তখন... মা কে দেখতাম
পেটের তলায় লুকিয়ে কাজের বাড়ির দু চার টে আটার
গুছি.... কাল হয়তো একটা আলু.... বাবা যে বছর পাঁচেক
লক আউট কারখানার কর্মী, 
সকাল হত স্কুলের পালা... আধকাপ লিকার চায়ে
আধটা রুটি ডুবে যায় অনায়াসে,  আমার পরে আরো চারটে 
....তাই তেমন একটা খিদেও পায় না, 
স্কুল ফিরে কাজের বাড়ি ঘর মোছা বাসন.... 
বিকেল হত দিন ফুরোতো কাজ তো বাকি অনেক
বাকি আছে দৌড়ে চলা.... কতই বা বয়স ক্লাস সেভেন
দু একটা  কচি কাচা টিউশনির  মাস গেলে কুড়ি টাকা 
অ আ ক খ এই আর কি , বছর ঘোরে মাধ্যমিক আমার
বড় হচ্ছি  পাল কাকিমা সংগে করে সেন্টারে নিয়ে.... 
প্রথম বড় পরিক্ষা.... আমার ভয় পাওয়া চেহারা 
অথচ সে পর্যন্ত আমার    বহু পরিক্ষা দিতে দিতে
দৌড়,  পাশ করে গেছলাম এটাতেও.... আরো
দৌড় ক্লাস ইলেভেনে....  আমি  পনেরোটা খুদেকে
অ আ ক খ পার করে কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ির
সফর  করাতে পারি.... আমায় দৌড়ে যেতে হবে 
পথে হাত ধরলো সুবর্নরেখা  হাতে দিল চিঠি তাতে লেখা
আস্তে আমি যেতে চাই তোমার সাথে যখন ক্লান্ত হবে
আমি এক আঁজলা জল তোমার,,,,  না প্রথম নয় আমার
দৌড়ের পথে  সাজানো গোলাপ প্রথম ছিল খানিক আগেই
তবে আমার যে বড্ড খিদে পায় খিদে পায়  ওই পর পর দাঁড়িয়ে
থাকা চারটে পেটের... বলে ছিলাম সেদিনও গোলাপ নয় 
তোমার ঠিকানায় কি বরাবর আমাদের দুমুঠো.... 
ফিরে গেছে হয়তো বড্ড বেশি ভারি ছিল গোলাপের চেয়ে
আমার......, সুবর্ন রেখাও বদলে ফেলেছে নিজের পথ
কেউ কথা রাখতে পারে না আর জরুরী নয়... কথা রাখতে 
হবে । 
 বাকি পথ আমি আর আমার দৌড় এঁকা , পড়েছি,
উঠেছি, হাঁপিয়েছি,  যদিও বয়স তার দাবী মিটয়ে
ফেলে সুকৌশলে....  অন্ধ করলো আশ্রয়ে লোভ,
ডালে ভাতে বেঁচে  থাকার এই বুঝি .... ঈশ্বর 
বাঁধলাম নিজেকে শিকলে মনে হল ছায়া পেলাম
বুক পেলাম আর দৌড় নয়...., 
বাবার কারখানায় এখনো লক আউট 
বাড়িতে চারজন আমার পরে,  মা পরের বাড়ির
ঝিঁ....., 
আমার ভুল আমায় জাগিয়ে দিয়েছিল দেরি করেনি
বেশি.... দৌড় শুরু............... 
হারালাম অনেক বেশি শেকড় আলগা
হতে হতে ভাসলাম.....  আমার পায়ের পাতায়
দৌড় লেগে....সময় রাখিনি সময়ের জন্য,  
সব কথা বলা হয় না কিংবা বলতে নেই আজো
আসে অনেক ফুলের তোড়া.... আমার  ইচ্ছায়
যে নাম ছিল তার দেখা..... জানি না 
কোনো এক সিনেমার ডায়লগ বড় মনে
আসে, চেয়েছিলাম তো সামান্য ডাল ভাত নিয়ম করে
আর পিঠের শিরদাঁড়ায় স্পর্শ.... 
সবাই কেন শুধু  উৎসবে আসে বিরিয়ানি নিয়ে  
.......থাক আর নাই বা এমন খসড়ায় খাতার পাতা
ভরলো।                                                                   
    
   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন