শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

রাই সংবাদ (১১)



যখন তোমার বন্দিস   শহরের  আসর ভরে ওঠে 
আমার কথা  কখনও ভেবে দেখেছ  গোঁসাই?

আমার ফাটা জমি  থেকে  অনুচ্চারণ  শব্দ থেকে সময়ের চরিত্র রা বার বার  কেমন ছিনিয়ে নিচ্ছে তোমায়,
কিভাবে ফালিফালি করে নিচ্ছে  আমার নিজস্ব  জমিন …
ক্রমশ শূন্যতার মেঘের কাছে আমি একষট্টি হাজার তিনশো কুড়ি ঘন্টা   নত হয়ে বসে আছি… সাধন সঙ্গিনী হয়ে তোমার ছায়ায় ,,

যে অন্ধকারের কথা আমি কাউকে বলিনি সে কথা তোমায় বলেছি
যে একলাঘর একদিন শহরের অক্ষরেখায় তোমার সামনে  দাঁড় করিয়ে দেয় আমাকে,
সেই সমস্ত অন্ধকার আমি লিখতে পারি না তোমার মতো… তোমার মত  অনায়াসে শব্দ বৃষ্টি আমার আকাশে নেই গোঁসাই।

তুমি পারো ক্রমশ নদী, নুড়ি আর ঝুরো বেদনায়
নিজের বান্ধকীতেই নিজেকে   আড়াল করছো…,

স্পর্শের তবু  একটা নাম দেওয়া যায়, এই বেদনার আমি কি নাম রাখি যদি পারো বলে দাও গোঁসাই।
 দমকা হাওয়ারা কেন বারংবার আমার  স্রোতে মেশে ?
যে হাওয়া এসে থামে দক্ষিণে, উত্তরে তারও একলা শীতকাল… আছে ....আছে সময়ের উষ্ণতায় জড়িয়ে থাকা ...গোঁসাই আমি কবে যোগ্য হব , একান্ত আমার শব্দের।
হাতের আঙুলে নেমে আসে অজস্র চেনা অচেনা মেঘেদের  সন্তাপ;
এই  ঘরভাঙা  যেন কাফের, আমি কেন পারিনা ছিনিয়ে নিতে অন্য জমিন ঘর ,
 শুধু তোমার শব্দে  জেগে উঠি আমি আর ভোরের সোহাগ থেকে খুলে রাখি সমস্ত সন্ন্যাস যাপন ,
; এখন রাই কেবল দহনকাল  জ্বালিয়ে রাখে অন্দরে ,

এই সব মোহআতরের গন্ধ তোমায় আর কত দূর নিয়ে যাবে গোঁসাই আমার থেকে ,
 কোমলরাগের কাছে গুমরে কেঁদে উঠি তুমি আগের মত কেঁপে ওঠ কই?
তোমার কোন কবিতার ক্ষতর পাশে  নগ্ন হয়ে দাঁড়াই এ আমার আজও  চির অভ্যাসের মতোই ,
নিজেকে  সমর্পণ এর কাছে  স্থিরায়ু করে রাখি,
কিছুই তো দেখানো হল না তোমাকে 
পোড়াকাজলের দাগ... দেহের গোপন পুঁজ ঘা 
সম্পর্কের কর্কট রোগ  এসব কিছুই দেখলে না কখনো।

তীব্র  আঘাতের কাছেও  মাথা উঁচু করে থাকতে তুমি অথচ  শেষে কিনা মাটির স্তনে হাত রাখতে হল .......তুমি না  সিদ্ধপুরুষ…
তোমার দু হাতের মাঝে এ কোন নির্মল পাপ
আঁকতে  ব্যস্ত ?
এ কোন সর্বনাশের পথে চোখ বেঁধে  রেখেই শিশুর 
মত হেঁটে চলেছো , ওই যে ভাঙা ভাঙা  বিষ মাখানো কাচের  গুঁড়ো 
সে  কাচ বুকে বেঁধে, কানে ভেসে আসে বিদায় বেলার রক্ত করবী র সুর …।
গোঁসাই  দূরে গেলেও রাস্তা রেখো ফেরার 
তুমুল ভাবে ঝড় বৃষ্টি আসার সময় এবার ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন