ক্যারি সাহেব তখন ঘুমের দীর্ঘ পথের অনেক খানি পার করে ফেলেছেন নিশ্চিত।
সে আমায় বললো জন্ম জঠরের কোনো উত্তর কখনোই এই পৃথিবীতে
পাবে না , আমায় নিকষ অন্ধকারে ঠেলে দিলো সে ,..............আমি পচা গন্ধ আর ভেজা বাতাসের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অবয়ব হীন কঙ্কাল আর কিছু অজানা ভয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিলাম সেই সব মুহূর্তে,,
ক্যারি সাহেব তখনো আলো ছুঁয়ে ফেলেছিলেন কিনা আমি জানতাম না , তার দীর্ঘ গাঢ় ঘুম আর আমার অন্ধকারে পথ চলা খানিকটা একই দৃশ্যের মত লাগছিল ,
যাঁরা আমায় জন্ম দিয়েছিলেন অথচ কাছে রাখতে চাননি... তাদের মনের কিছু দুর্গন্ধও আমার কাছে আসতে চাইলো , যারা আমায় কাছে রাখবো বলে কাছে রাখেনি তাদের মনের পচা দুর্গন্ধর পথ যখন আমি পেরিয়ে যাচ্ছি ,. আমায় দুর্বল করছিলো ....পুরোনো প্রক্রিয়ার ভেজা বাতাস ।
অন্ধকারের ভেতরের যে আলো তা ধৈর্য ধরে খুঁজছিলাম ..... যতক্ষণ না খুঁজে পাচ্ছি ততক্ষণ অজানা প্রাপ্তি অজানা দৃশ্যের মুখোমুখি হ'তে চাই না আমি ...
সে আর ক্যারি সাহেব আমায় ছায়ার মত আগলে রাখছিল ......আর এই ফ্রেডরিক নগর আমাকে ঠিকানা বাতলে দিয়েছিল এগিয়ে যাবার ,,
এভাবে অন্ধকারে চোখ গেঁথে হাঁটতে হাঁটতে আলোর ঘোর ঘিরে ধরেছিল আস্তে আস্তে সমস্ত আমিটাকে, ,,
আমার পুরনো সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে
অনুতাপ ধুয়ে মুছে যাচ্ছিল সেদিন .... ধুয়ে যাচ্ছিল অপমান খারাপ লাগা .....আমার ভেতর এক নির্লিপ্ত চারা গাছ অঙ্কুর থেকে পাতার ডানায় ভর করে আকাশের দিকে তখন ।
বিশ্বাস করলাম সেদিনের অন্ধকার ট্যানেল পেরিয়ে আমি মোহ মুক্ত হয়েছিলাম সমস্ত পুরনো প্রক্রিয়া থেকে। ,
তার পর যেই না ক্যারি সাহেব আর তাকে ধন্যবাদ জানান দিতে পেছনে তাকিয়েছিলাম ....সেখানে শুধুমাত্র সেদিন ফুলের গন্ধ... ভেজা বাতাসের মিষ্টি গন্ধ ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাইনি ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন