বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

মার্থা তোমাকে

বৃষ্টিনগরী ছাড়িয়ে আজ অনেক দূরে তুমি মার্থা। গাছেদের নিঃশ্বাস, জলীয় বাষ্প, পাখিদের ফিসফিসানি...  এসব আর তোমায় ছুঁয়ে যায় না জানি ....অথচ এসবে ক্রমশ গাঢ় হয়ে উঠছে আমার একফালি আকাশে ।  তোমার  কাছের সবচেয়ে বড় গাছটার আজ  উৎসব উজ্জাপনের দিন।
 গাছের  পাতার পিঠ বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে  আদর বুকের পাঁজরে  ।
.. যেখানে হাজার হাজার ফাটলের মতো নগ্ন নির্জন নদী বয়ে যায় সব ঋতুতে। 
অদ্ভুত  শূন্যতায় এখন সারারাত সেইসব স্বপ্নের কথা ভাবি, যা দেখিনি কখনো।
 মাঝরাতের বাসস্ট্যান্ডে একা কোনো ক্ষয়ের ইতিহাসকে দেখি অপেক্ষা করতে । 
কালো ছাতার কাপড়ে হইহই বর্ষায় আমি ও আমার   উঠোন ভেসে যেতে দেখি। 
উঠোনে তর্ক জমায় টুপটুপ অতিথি জলেরা ।
  নিঃশ্বাস মানে উষ্ণ রঙের কোলবালিশ তুমি বলেছিলে কখনো মার্থা ,
 . যার দুদিকের আঁকড়ে থাকার  পোস্টার সাঁটা...  পৃথিবীর ছবি। হয়তো মনে করে সেসব কথা এখন তুমি ভুলে গেছো ..., ।

 অথচ দেখো আজও  কেমন হাঁ-করা টাকরায় বালি ঢোকে রোজ স্নান করি যখন...।
 গোপনীয় অতীতের জলে রোদ পড়ে বিকেলের সেঁজুতি গড়িয়ে , দুপুরের পুরোনো কথপোকথন কখন  পৌঁছে গেছে  সন্ধ্যার ডালে... 
আমাদের প্রিয় পাখিরা উড়ে যায়  শোকের দেশ ছেড়ে ।

অদ্ভুত  অস্বাভাবিকতায় পরজীবী মেঘের মতো
এখন তোমায় দেখতে লাগে ।
  সবুজ ঘাসে চিরুনি খুঁজে পাওয়া, অথবা মাটিতে গেঁথে যাওয়া মায়ের হাতের শাঁখার টুকরো...মত তোমার যাপন .... । 
 জানি আজকাল পুবের জানলায় চোখ মেলে ধরো রোজ মাঝ রাতে আঙুলে জ্বলন্ত জীবন কে ছাই করতে করতে ।
 ঝাঁকড়া নিমগাছটা ঠিক তোমার মত দেখতে জানো মার্থা ,,  ঘোলাটে দিগন্তে ... কষ্ট ছড়িয়ে দিতেই যেন সে অভ্যস্ত। 
 আর তোমার স্নায়ুর কাঁচা রঙে বিলি কাটে কাচপোকারা তাদের হাজারো রং কিন্তু কেউ তোমায় তোমার মত রং দিতে পারেনি ।
  

এ আসলে পৃথিবীর কিছু  চলন শর্ত  জানো তো মার্থা,,, হাজার বছর পৃথিবীতে হেঁটে বেড়ানো যায় কিনা জানা নেই , 
এ যেন ফেড ইন আর ফেড আউটের মাঝের কোনো স্তর... চিত্রনাট্যের মতো। 
বদলে ফেলার ইচ্ছা হতে পারে সাময়িক বদলও যায় ...আদতে সারমর্ম একই থাকে ।
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন