বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

যাত্রী

লোকটা  খৈনী  মুলছে এক মনে আর তার কান ও চোখের   দূরত্ব বজায় রেখে  পাশের পোড়া ধানক্ষেতেটা  ক্রমশই পিছনের  দিকে হারিয়ে যাচ্ছে , 
মুখের ওপর মধ্যবিত্ত  সংসার ভাতের হাঁড়ির  বসবাস প্রবল আগ্রহ নিয়েছে এতদিনে,,
একঝাঁক  সাদা বক কেবল কারো বশবর্তী হলো  না কোনোকালেই  শুধুমাত্র কয়াশা জানতো আজ কোনো  প্রাক্তন সময়ের মুখোমুখি  হবে কিনা তারা। 
জীবন এখন ট্রেনের কামরায়  পেট কিংবা চ্যাট এর জন্য কোনো এক স্টেশনের অপেক্ষায় ,, 
পুড়ে যাওয়া  ধান গাছ গুলোর গোড়া মাটি ছুঁয়ে  থাকলেও তারা জানে সময় তার ফুরিয়েছে ...। 
কখনো কখনো জীবন মশলা মুড়ির মত কিছু খুঁজে  ফেরে যেন  খিদে আর সময় দুই কেই সাময়িক বধ করতে পারলে খানিক স্বস্তি।  
তাল গাছের ফাঁকে  জমি গুলো  অজানা বৃষ্টির জলে ঢেকে আছে ওদের  সবটুকু  সাংসার কামরার জানালা দিয়ে  জানা যায়  না কিংবা ওরাও চায় না জানাতে, হয়তো লাংলের বুকের ওই ধারালো ফালাটার রক্তাক্ত  প্রেম ভালবাসে ওরা হয়তো ..., 
 লোহার পথ গুলো  দীর্ঘ  একটা  জীবন  পাশাপাশি কাটাচ্ছে অথচ ওদের কখনো  ইচ্ছা হয়নি একে অপরের সাথে  সামান্য  বিনিময় সেরে নেওয়ার কথা ওরা কেউ কাউকে  চেনে না একজন  জানে না আর একজনের ঠিকানা   তবু ওরাই লোকটাকে তার পছন্দের  ঠিকানা  দিন প্রতিদিন  পৌঁছে দেয়। 
কখনো কখনো নিয়মের বাইরেও কোনো  এক স্টেশনে   কিছু ভাললাগার কাছে  কিছু নিয়ম ভাংচুর  করতে  সম্মতিও দেয়, 
পথ দৌড়ে কবিতা থেকে উপন্যাসের পাতা ছুঁয়ে  ফেলে, 
লোকটার চোখ জুড়ে  রুপকথার ঘুম আসে, সবুজ কামরায় 
একটা  কবিতার জন্ম দেয় লোকটা। 
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন