মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

বাহাত্তর ঘন্টা

হাসপাতালের সিলিঙে  তোর ছায়া  সারা রাত
মৃত্যু গল্প শোনায় ।
 তবু কোনো কোনো দিন  বিকেল বেলায়
তোর ফোন আসবে বলে  দূর করিডোরে একা একা ঝুলন্ত রক্তের বোতলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি। ।
  
 সময়ের সাইরেন   দিগন্তে মিলিয়ে যায়
 তোর চাকার ফাঁকে লাফিয়ে ওঠে  বর্ণময় জীবন ,
স্বর্গের  একপাশে দাঁড় করিয়ে মৃত্যুকে 
 আমি দ্রুত হাঁটি  আলো নিয়ে আলোর দেশে ।

ছায়ার নীচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা নদী তখন আমার প্রিয় নদী হয়ে ওঠে ।
  .   ফিরে চায় না  কেউ কখনও দুঃখ ....তবুও সুখের সময় বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় ,
 ফুরিয়ে যায় চামড়ার রঙ ,,
   সাঁকোর আড়ালে গোপন পায়ের ছাপ আঁকতে ভালোবাসিস তুই , 
তবু  বিয়োগফলের টুকরো   জিভে ছড়িয়ে পড়ে তোর থেকে আমাতে ।

একাকীত্ব ভালো লাগে ভীষণ রকম ।
 শ্লোক ও তার উল্টো পথে হেঁটে আসা সম্পর্কেরা বারবার দূরত্ব তৈরি করে বলেই একাকীত্ব প্রিয় ।

 ক্ষত এতটাই গভীর যে, দৃষ্টিপথ ছুঁয়ে আসে না আর , 
ছায়াভাঙা পাড় থেকে তুই অন্ধের মত বেঁচে থাকা আঁকড়ে থাকিস   ... , আমি বিপরীত দেওয়ালে  আড়াল চিরকাল । 
আগুন হাত বাড়ায় ভীষণ কাছের কোনো মনে  ঝুরঝুরে, নিরুপায়, বিষহীন দেহের দিকে পথ এগিয়ে যায় । 
একসাথে বেঁচেছিলাম একদিন   সহবাসে ছিল কাঁপন লাগা বিস্ময়  ।
আজ অলীক বাউলগান সাঁকোয় জমিয়ে রাখে বিচ্ছেদ ও বিদ্রোহের  ইতিহাস।
 ... পারাপার ফিরে আসে বিদ্রোহী নদীর কাছে  বারংবার । 
জরুরি কিছু প্রশ্নের খুঁজে  উত্তাপ বুকে এঁকে নিই, ... হৃৎপিণ্ড পুড়ে যায় অমন দীর্ঘশ্বাসে। 
দীর্ঘশ্বাস বয়ে চলে আঙুলের ধার ঘেঁষেও ...

আমি হাতের তালুর মাঝে রেখা ধরে
 হেঁটে আসি রোজ রোজ ।
   সারাদিন ... সারাক্ষণ আলো হয়ে ছুঁয়ে যাই এই অন্ধকার হাসপাতালেও,
গতজন্মে বৃক্ষ হয়ে ওঠা শ্বাসমূল
যার নিচু ডালে ঢিল বাঁধা 
আর সে সব রোগা ডালে ঝুলে আছে
 বিচ্ছিন্ন দু-একটি করোটি, 
আমি সেসব ছবি এই 
হিসেবহীন করিডোরের দেওয়ালে এঁকে রাখলাম 
সমস্ত আগন্তুক প্রেমিক প্রেমিকার উদ্দেশ্যে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন