শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

মৃত্যুর পসারে আমিও

হাসপাতালে বিছানা   নির্জন বানপ্রস্থ আমার কাছে  , আমি
নকশি কাঁথার সেলাই বিছিয়ে   শরীররে ফুঁড়ে চলেছি সুচ সহযোগে প্রান্তরে পৌঁছনোর জন্যে ।

 ক্রমাগত অন্তঃসারশূন্যতার  গভীর ধস ও ফাটল
আমার উপত্যকায় ঘটে যাওয়া দৃশ্য গুলোয়।
হাসপাতালে বিছানায় প্রথম শিখেছি মানুষের দেহে  রজনীগন্ধার গন্ধ গুঁজে দিতে হয় কিভাবে ..

 সিরিঞ্জে নিজের অনুভূতি গুলো দেখতে পাই জলের দরে ভাসতে ।
কীভাবে তোমার সূক্ষ্ম অনুভূতি থেকে  ক্রমশ 
অসুস্থতা আমাকে নিয়ে  গাঢ়   কোন চেতনার কাছে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে দেখো ।
 তাকাবার চেষ্টায়  চোখ মেললে  মনে হয়  স্মৃতিমেদুরের  ভিতরে রাত্রিদিন এর গতিবেগ ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি ।
মানুষের ক্ষত ও আহত গুলো উদ্বেলিত জল খোঁজে ...খোঁজে শুশ্রূষা অথচ প্রিয় মুখ এমন দিনেও দিয়ে যাওয়া কথাদের মনে করে ভুলতে চায় ।

 ...কখনো কখনো এই অসুস্থতাকে তাই মনে হয় প্রিয় প্রেমিক কিংবা তার চেয়েও বেশি 
 দ্বিধায় আমার শরীরে অলীক  স্পর্শ রেখে যায়
নিবিড় ভাবে ...আমি চিরকাল পুড়তে ভালোবাসি ।অসুস্থতা আমাকে দিয়েছে  নগ্ন শিহরনের আলিঙ্গন ।
ঈশ্বরের কাছে পাওয়া গুলো মানুষ সহজেই ভুলে যেতে চায় ...

তোমার ছবির দিকে চেয়ে আমি তাই মনে মনে ভাবি তুমি কি মৃত্যুর থেকেও বড়  ছায়া?, 

নাকি কোনো  গাঢ় বিস্মরণ!

তোমার একটি তুচ্ছ বুকের তিল ও এতো বেশি চেনা কেন আজ এই শেষের দিনে  ।
অথচ আমার আত্মাকে এবার যে  শুদ্ধ হতেই হবে , হতে হবে  জড়তামুক্ত 

 
আমার এ রুগ্নতার ভেতর দিয়েই  একটা সভ্যতা হাঁটছে ,  ইতিহাস লিখছে সময় ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন