বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

আমার সেই গাছ

গাছটি  তিরতির কাঁপন গভীর  অস্তিত্ব  ছিল একদিন,   অথচ জায়গা ফাঁকা করে চুপচাপ  চলে গেছে কবে যেন,, , 
গুঁড়ির বাকলের ফাটলে আজ যে পিঁপড়েরা চলাফেরা করছে তারা একদিন শিকড়  থেকে হেঁটে  মগডালের দিকে তীর্থ যাত্রা  করেছিল _____পেয়ে গেছিলো   মানষসরোবরের মত নীল আকাশ.....জন্ম সার্থক  হয়েছিল সেই সব দিন গুলোয়,,, 
 অথচ আজ তৈজিসপত্র সমেত সমস্ত কিছুই  বেওয়ারিশ  পড়ে রইলো, 
 ঠাঁইনাড়া কখন যেন সমস্ত  চলে যাওয়ার  বিচ্ছেদের  সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে  থাকলো একলা হয়ে। 

মাঝে মাঝে মনে হয় সব যদি ঠিক থাকত, ...ইমারতে ঘুন না ধরতো,  
যদি সেই নিজস্ব দেশটা  থাকত, 
গাছটা যদি বেঁচে  থাকতো   তবে উজ্জাপন হত দুশো  বছর,,,
, মনে হয় সবাই গেছে যাক ... নাহয় গাছটা তো থাকতেই পারতো সে তো আমার সাথে  অতিবৃদ্ধ হতে পারত ,  
 অমর হয়ে  এই অন্য দেশেও অনন্তকাল  না হয়  ছায়া দিতেই পারতো ।
  তবু এমনটা হল কই সব কিছুর মতই সেও শর্তপেক্ষ হয়েই ভালবেসেছিল বোধহয় । 

এসব যখন লিখছি সুড়ি পথের দিক থেকে জানলার শার্সি  বেয়ে একটা পোকার টিকটিক শব্দ মিশে গেলো  কবিতার কয়েকটা  বাক্যে, আজকাল  আমায় যেন  কেমন  অর্থহীনতায় পেয়ে বসে মাঝেমধ্যেই ,  
সমস্ত ফাঁকা  জায়গা গুলোয় অচেনা  মায়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়  হঠাৎ হঠাৎ । 
শেষ  রাতে  নাদের আলী আসে আমার স্বপ্নে লণ্ঠন  হাতে তার,,,,
, আলো  কে সংগি করে আমরা তিন প্রহরের  বিলে গিয়ে দাঁড়াই ..শ্বেত পদ্মের মাথায় সাপের খেলা দেখতে থাকি বিভোর হয়ে ।
  তার পর ভোর ছুঁয়ে  বোষ্টমীএর একতারায় সেই গাছটাকে মনে করে  মনে মনে জড়িয়ে ধরে ভালবাসি অজস্রবার,,,  
আমার ক্ষনজন্মা ফুরিয়ে যায়  এইভাবে  নটে গাছের  মতই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন