মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২

ধ্রুবতারা দেশে(২)

 গাছের হিজিবিজি গায়ে  যে সব শব্দেরা লেগে থাকে তাদের গল্প এ শহর এখন শুনতে চায় না...।
 পুরোনো স্বর্গ দুয়ারে  হলুদ শিকলে সুবর্ণরেখার বালি জমেছে আজ বহুকাল। 
আলপিন গেঁথে নিজের মাথায় আশ্রয় নিয়েছে অজস্র বোমারু বিমান। 
 গ্লাসের তরলে একটু একটু করে অভিমান গলতে গলতে  আমার ভেতর সেঁধিয়ে যাচ্ছে একটা গোলার্ধ । 
 নখে লেগে থাকা সব সম্পর্ক এখন  জটিল মানচিত্র আর  বিনিময় প্রথায় বিশ্বাসী...।।
 হারানো বাঁশির ভাঙা টুকরোর গায়ে নটরাজ ঢঙে...সময়ের প্রলয় ভীষন স্পষ্ট ।।


কাচের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয়
ক্রমশ চেপে ধরছিল  আমায়...আমি নির্ভরশীল
হতে শুরু করে ছিলাম বিচ্ছিরি ভ্রমে।

 এখন কালিপার্কের  নিজস্ব জানলায় সবসময় একটি উত্তরীয় সাজিয়ে রাখি। 
যাতে বাতাস বইলে বাইরের অন্ধকারে গর্হিত সম্পর্কের একটানা নির্যাসটুকু লেখা হয় ওই উত্তরীয়তে। 
 চালের পোকার মত কিছু পুরোনো দৃশ্য... বাসা বাঁধে মস্তিষ্কের নিউরনে, তাই নিয়ম করে নিজেকে তারে টাঙিয়ে খটখটে রোদে তাতিয়ে নিতে হয় ।

..
নিজের চারপাশে তৈরি ব্রহ্মকুণ্ডে ভুল করেও সে ভ্রম আর ঢুকতে দিই না  ....যার চোখের নিচে চিরকাল কাদার চোরাবালি-সংসার।
  বুকে ক্রুশ আঁকা নাইট পোশাকে পুরোনো  রক্তের দাগ... শিয়ালের চামড়ায় মোড়া বল্লম এর মতোই হয় জীবন শিখিয়েছে।
সবুজ বাক্সের দোকান জুড়ে অলীক ঝরণার ধ্বনি...  পাতার গায়ে পাখিদের নড়াচড়া... অলৌকিক ভাষার খরতর শ্রুতি , ক্যানভাস ,ছবি, এসব এখন আমার কাছে নেহাত ছেলেমানুষি স্বপ্ন ছাড়া তেমন কিছুই নয়।

 মুখ নীচু করে থাকা  পাহাড়ি বাড়িটায় অন্ধকারের ছায়া পড়ে...ঠিক আমার নির্ধারিত মৃত্যুর ছায়ার মতোই।

  এইমাত্র ডানা মুড়ে বসা পাখিটার কয়েক খণ্ড পালকে আমার প্রেমিকা হয়ে ওঠা দিনের ভাঙা দীর্ঘশ্বাস এখনো সতেজ কেনো জানি না। 
পুরনো মলাটের যে বইটা সে খুঁজে পেয়েছিলাম ফুটপাতে... তার ওপর স্তূপাকার কাগজের তীব্র নিখাদ থেকে রোজ একটা করে পাতা আমি পুড়িয়ে ফেলি ।
...  সিনেয়াস্টের ডায়েরির পাতা ক্রমশ ভরে ওঠে... সময়জুড়ে সেলুলয়েডযাত্রার ঘন উল্লাস...আমাকে ঘিরে রাখে ,
 দ্বিতীয় বন্ধনীর ক্ষমতা অনুভব করে আমার পুরনো প্রেমিক.... আর আমি খুঁজে নিই... নির্বাসন।
 সে ভাবে শব্দই প্রথম অর্থে উটের গ্রীবা,  চিত্রকল্প  শরীরের ভেতর যে একটা মন থাকতে পারে সে কথা তার হয়তো জানা নেই ।
এই ভাবনা থেকেই এ শহরে গাছ গুলোও  অনুভূতিশূন্য জড় এর মত মনে হয়...।
 তার প্রস্থান চিহ্ন হিসেবে কয়েকটা  দৃশ্য বাঁধিয়ে রেখেছি  সিনেয়াস্টের ডায়েরির পাতায়...
যাতে আর কখনো আমি দুর্বল শব্দটার মুখোমুখি না হতে পারি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন