সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২

আমার ছবিগুলো

আমার আঁকা  ছবিগুলো সময়ের পরতে হারিয়ে যায় তাই আমার কাছে নিজের আঁকা একটাও ছবি নেই  ।

ছবি  আঁকলেই  ক্রমশ সরে গেছে  মুহূর্তদের দল কোনো এক  মৃত্যুনগরীতে।

 আমি কাউকে বিশ্বাস করাতে পারিনি আমার এই কথা গুলো ,

.

আমি যদি ছবি গুলো রাখতে জানতাম তাহলে 

সবার আগে রাখা থাকতো  আমার শৈশব, আর সেই শৈশবে এক খানা ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে একঝাঁক কোঁকড়া চুল মাথায় বাচ্চা মেয়েটা  , বায়না করছে তার মা এর কাছে একটা চোখ পিটপিট পুতুল তার চাই ,

আমার বহু যত্ন করে আঁকা সে ছবিটা কোথায় যেন হারিয়ে কিংবা মুছে গেছে ।





.

বিশ্বাস করো  তোমারা ... আমার যত্ন করে আঁকা একটা  ছবিও আমার কাছে রাখতে  পারিনি,

 আজ কাল ছবি আঁকতে  গেলেই আমার ক্যানভাস নড়ে যায় , রং তুলি  আমার হাত থেকে পড়ে বিচ্ছিরি ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।

একবার   পাগলা দাশুর   ছবি এঁকে ছিলাম 

যে সারাদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে নিশ্বাস খোঁজে ,নন্দিনীর জন্যে 

একদিন তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি,.. নাহ পাইনি আমার নিন্দিনীর আকাশ আর নিঃশ্বাস খুঁজতে থাকা পাগলা দাশুকে।

আমি অনেকগুলো ক্যানভাসে কবির  চলন্তিকার কপালের   টিপ্  আর তার কাজল আঁকা বিশ্বাসের চোখ দুজোড়াও এঁকেছিলাম , এঁকেছিলাম তথাস্তু বলা সেই অমলতাস গাছটির নীচে আশ্রয়ের হাতটিকেও ,

বিশ্বাস করো  আমার এসব যত্নের ছবিগুলো কে যেন ছু:মন্তর মন্ত্রে ভ্যানিশ করে দিয়েছে ।

একদিন আমার নিকুম্ভ স্যার কে বসিয়ে তার চোখে দেখা মোনালিসার ছবিও এঁকেছিলাম ,

একেছিলাম আরো আরো অনেক মুহূর্তের নান্দনিক ছবি ,

ভেবেছিলাম একদিন আমার নিজস্ব একটা ছবির অভিধান বানাবো সেখানে যত্ন করে সেসব ছবি 

 তুলে রাখতাম ,মুহূর্তের অভিধান রাখা থাকতো আমার প্রিয় সে মৃত্যুর দিনে আমারই ঘুমন্ত শরীরের পাশে ।

আজ চৌকাঠে পা রাখতে ছবি গুলোকে দেখতে ইচ্ছে করলো ,অথচ আমার সেসব যত্নের একটিও ছবি আজ আর আমার কাছে নেই ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন