শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২

আর্টিকেল ফর আনন্দবাজার পত্রিকা পার্ট-৫


এই আর্টিকেলটা আসলে আমাদের মানসিক ভাবনার দরজায় টোকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ।
আমরা যারা সারাক্ষন আমাদের জীবনের শো-কল
না পাওয়া গুলো নিয়ে শোক মঞ্চস্থ করে আহ্লাদিত হয়ে নিজেদের মনে মনে বীর কিংবা বীরাঙ্গনা ভেবে অলীক সুখ পাই , সেই আমাদের উদ্দেশ্যে।

আমরা আসলে দেখতেই চাই না আমাদের কি কি আছে ,, কতটা আছে ,  আমরা সারাক্ষন আমাদের না থাকাগুলো নিয়ে কেঁদে বেড়াই ....অন্যের কাছে সহানুভূতি আদায় করার জন্যে ।
সব কিছু সুপারপারফেক্ট চাই নিজের জন্যে   অথচ আমরা নিজেরাই ইমপারফেক্ট, 
আসলে পৃথিবীতে কোনো কিছু পারফেক্ট হয় না ,আর তাই ইম-পারফেক্ট  সমস্ত কিছুকে ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া শ্রেয় সারাক্ষণ জীবনের ইম-পারফেক্ট বিরুদ্ধে জেহাদ না জানিয়ে ।
একজন সুস্থ মানুষ রাতে ঘুমাতে গেলো ভালোভাবে , সকালে উঠে দেখলো তার কোমর , পা অচল কিংবা সে চোখ খুললেও পৃথিবীর আলো বা সকাল দেখতে পারলো না  কিংবা সে প্যারালাইসিস হয়ে গেছে....সেদিন সেই মানুষ টা যে কিনা জীবন কে ত্রুটিপূর্ণ দেখতো আর আসে পাশে সমস্ত সম্পর্কেজন্যে  তার নালিশ থাকতো দিনলিপি , .....হয়তো প্রথম বার বুঝবে আসলে না পাওয়া , না থাকা কিংবা ত্রুটি  এই শব্দগুলোর আসল  মর্মার্থ ।
জন্মাবধি কিংবা তারপরেও আমরা যাকিছু খুব সহজে পেয়ে থাকি সেসব কিছুর কদর আমরা তেমন করি কিনা জানি না,,  ,তবে যা নেই  বা কোনোদিন ছিলোই না তার জন্যে একটা অদ্ভুত মেকি হাহুতাশ এর আরম্বরে মানুষ হিসেবে অহংকারী হয়ে ওঠা আমাদের অভ্যেস ।

মানুষ থাকা আর না থাকা , পাওয়া আর না পাওয়ার মাঝে যখন যখন তুলনা করেছে ,সে তার বর্তমান মুহূর্তটাকে এড়িয়ে গেছে কিংবা বহতা সময়টাকে যা কিনা সত্যি মূল্যবান তার অপমান করে গেছে।
 অথচ যে মুহূর্ত আর সময়টুকু মানুষ নিঃশ্বাস নেয় সুস্থ ভাবে হেঁটে চলে বেড়ায় সে সময়  কিংবা মুহূর্ত গুলো যে আসলেই মানুষের বেঁচে থাকার ব্লেসিং সেটা বোঝে কজন ?
আমরা মানুষ যারা সাধারণ পাওয়া না পাওয়া একে অপরকে  বোঝা না বোঝা এসব নিয়ে নিজেদের কে কষ্ট দিতে থাকি আর ভাবি  এগুলোই আসলে জীবনের মূল আর একনিষ্ঠ সমস্যা যা আমাদের বেঁচে থাকাকে জর্জরিত করে দম বন্ধ করে দিচ্ছে ,, ,......আসলে ভালো করে দুদন্ড এই কথাগুলোর কাছে স্থির হয়ে দাঁড়ালে মানুষ। বুঝতে পারবে এগুলো আসলে তার মস্তিষ্ক প্রসবিত ভাবনা ....বাইরে দুনিয়ায় এগুলোর কোনো একজিস্টেন্স কোথাও নেই , আসলে দিনের শুরুতে চোখ খুলে নিজেকে সুস্থ সবল দেখতে পাওয়াটাই   একটা সম্পূর্ণ বেঁচে থাকার জন্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ আর যথেষ্ট ।

আমরা প্রতিটা মানুষ আমাদের বেঁচে থাকা আমাদের এই বেঁচে থাকা জুড়ে নূন্যতম পাওয়া গুলোকে একবারও কি ধন্যবাদ দিয়ে গ্রেটিটিউড করতে পারিনা , হয়তো পারি.. তবু কৃপণতা আমাদের মনুষ্য স্বভাবসিদ্ধ বলেই পাওয়া র থেকে না পাওয়াগুলো কিংবা আছে র থেকে নেই গুলো কে সমাদর করি বড্ড বেশিরকম।
কোথাও কি আমরা নিজেদেরকে  ডিসেবল দেখতে ভালোবাসি ! কেনো পারি না আমরা আমাদের নুন্যতম কিংবা বড় ডিসেবেলিটি গুলোকে  স্ট্রেন্থ করে সেগুলো কে  স্ট্রং এবিলিটি   করে নিতে ? কেনো অন্যের কাছে আমরা বেচারা শব্দটা নিজের জন্যে শুনতে ভালোবাসি? 
কবিগুরু  রবীন্দ্রনাথ বলেছেন .....
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ওপারে তে সর্ব সুখ আমার বিশ্বাস , । তিনি উপলব্ধি করেছিলেন মানুষ মনন চিত্রের ভেতর এমন দোদুল্যমান ভাবনাই তাকে অযথা দুঃখ বিলাসী করে তোলে ।
মানুষ কখনো ভাবে না তার পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেটা যথেষ্ট না হলেও অচল পয়সা নয় ।

প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার পার্থক্যর মাঝে বিরাট অলীক দুঃখ থাকে । তাই নিজের প্রত্যাশাটা  কম করলেই, আমাদের দুঃখও কমে যায় নিজেরা পূর্ণতা ভরে উঠি ।

শেখ সাদি (রহ)  বলেছেন  , একজনের জুতো ছিলো না আর সেটাই ছিলো তার জীবনের বড়সড় আক্ষেপ , একদিন দেখলো একজনের পা নেই সেদিন তার এই বড়সড় আক্ষেপ চিরকালের মত ঘুচে গেলো । তখন সে ইউনিভার্স এর কাছে ধন্যবাদ জানালো তার স্বাভাবিক  জুতো বিহীন পা দুটোর  জন্যেই ।

আসলে আমরা কোথাও কোথাও হয়তোবা সহানুভূতি প্রত্যাশী হয়ে পড়ি  নিজেদের ভেতরে গভীর ভাবে ভেবে দেখার কোনো পরিশ্রম না করেই।


একটা খুব সুন্দর কথা টমাস আলবার্ট এডিসন বলেছিলেন ......আমি  কখনোই বলবো না আমি হাজার বার হেরেছি ,বরং আমি এটা বলতে পছন্দ করবো যে আমি হেরে যাওয়ার হাজারটা কারণ বার করতে পেরেছি । 

তিনি না পাওয়াগুলো কে কি অদ্ভুত বাস্তব অথচ জীবন দর্শন এর সেতু সংযোগ করেছিলেন ।

 তাই এই আমরা যে মানুষগুলো আমাদের না পাওয়া গুলোকে ভাবে পাওয়াটুকুও হারিয়ে ফেলছি রোজ রোজ, তারা  একবার চোখ বন্ধ করে কিছু ক্ষণ ভেবে দেখা উচিৎ ....আসলেই সময়  বড্ড কম ,একটাই জীবন ...একটাই বেঁচে থাকা , আর এই  থাকাটুকুই আমাদের সর্বস্ব , so we should be thankful and gratitude our own existence.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন