মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

তুই ঊনত্রিশে এপ্রিল

----------------------------
উনিশ বছর তুই পুড়ছিস তোর পায়ের নখ থেকে
ক্রমানুসারে  মাথার চুল   মুহুর্তের ভগ্নাংশে পুড়ে চলেছ, 
তোর সাথে  সংযোগ সাঁকোগুলোর বেশির ভাগ এখন
চিহ্নহীন,  পোড়া ছাইয়ে আড়াল  তোর স্মৃতির সাথে তুইও,
আমার মত কারো  কারো বুকে তুই কেবল পুরোনো গোপন
রোগ, 
একটা সলতের ম্রিয়মান ধুকপুক।  আমিও মুঠো 
খুলে সময় কে বেশ খানিকটা জিতিয়ে দিয়েছি, 
তবে আমি  চেয়েছিলাম আমার সম্বলে যতটুকু 
তুই সেটুকু   আমরন   আঁকড়ে বেঁধে বেঁধে থাকতে, 
সবাই বলে তোকে নাকি আমিই মুক্তি দিতে পারিনি
আমায় মুঠোর আঙুল সব আভিধানিক ভাষায় ভুলে
গেছিল উনত্রিশে এপ্রিলের পর,   সবাই বলে ভালবাসলে
মুঠো আলগা করে দিতে হয় আকাশের  দিকে......,, 
উনিশ বছরের কান্না থামাবার পর আমি সে কথা 
শুনতে পেয়েছিলাম   তারপর  তোকে   আকাশ করে দিলাম, 
আমার বুকের পাথরটা একটু একটু করে সরাতে 
সরাতে হয়তো পেরেছি শেষ রাতে....। 
কেন তুই চলে গেলি আজ আর সে প্রশ্ন করবো
না তোকে  ,  এইমাত্র  তুই কাছে এসে বসে আমার
কাঁধে মাথা রাখলি.....   আয় তোকে একবার ঘুরে দেখাই
তোর ফেলা যাওয়া ঘরের মানুষ গুলোর খবরাখবর, 
জানিস   মা গত দেড় বছর ক্যান্সার রুগী,   মা বাবু মানে 
তোর দাদা আর আমি টানা আট মাস যুদ্ধ চালিয়েছি, 
মা লড়েছে সব থেকে বেশি   সাময়িক জয় 
হয়েছে যুদ্ধে,  বাবা আর পারে না জানিস 
কাজ করতে তবু মুখ বুজে কষ্ট অসহায়তা
কে গিলতে থাকে কাজে না গেলে দুমুঠোর
চিন্তা তার বয়সরেখাতে আরো গাড় হয়।  
বাবু...  তোর দাদা তোর অর্ধেক জলন্ত শরীরটার
 যন্ত্রনার  শেষকৃত  সেরেছিল ঠিকিই   অথচ 
আজো  জানি    সময়ে অসময়ে পোড়া যন্ত্রনায়
নিজে  ভুগতে থাকে । 
টুটুর সেই মাথার রোগ আজকাল বেড়েছে...  ডাক্তার
বলে মন খারাপ হলেই ওষুধ শুরু করবেন,   বলেছে
যতদিন বাঁচবেন  আপনার মনের ওষুধ বন্ধ করা যাবে না, 
জানিস আমার ভয় করে টুটুও যদি তোর মত না জানিয়ে
হঠাৎ একদিন............ 
তোকে নিয়ে আমার ভয় হত   রাস্তার বাস লড়ির
ভিড়ে তুই এমন বেখেয়ালি হয়ে সাইকেল চালাতিস, 
আমার কেন এত ভয় বলতে পারিস ? ভয়ে র স্বপ্নে 
আমি৷ ফুরিয়ে ফেলি  আমার  যত্নে   রাখা সম্পর্ক দের,
ঘুম ঘোরে কেঁদে কুঁকড়ে  যাই ,  এমন এক সকালে 
দুঃস্বপ্ন আর  ভাঙেনি তুই  চলে গেছিলি,,
আর পুকার কথা কি বলবো আছে,   গিঁট
বাঁধতে বাঁধতে বেঁচে আছে  হয়তো থেকে যাবে
এভাবে। 
আচ্ছা তুই তো যেমন না বলে চলে গেছিলি 
তেমনি একদিন না বলে আসতেও তো পারতিস
আমি কি অপেক্ষা করিনি!  আমি তো প্রতি মুহূর্তে
তোকে হাতড়েছি,  চেয়েছি তুই এসে আমার দরজা
আমায় আঁকড়ে   পাকাপাকি থেকে যা,৷ 
জানি না রে  এমন কত প্রশ্ন চিহ্নের মাঝে এতগুলো বছর
কি করে বাস করলাম,,   মিথ্যে বলবো না
 ভালো কিছু যোগফলও৷ জীবন দিয়েছে, 
তুই নিশ্চয় বুঝতে পারিস তোর প্রিয় দিদি 
কতখানি বদলেছে নিজেকে  তোর দিদি
আর তোর উজ্জ্বলদার মাঝে যুদ্ধ ফুরিয়ে যায়নি
তবে যুদ্ধের সময় আর গভীরতার দৌলতে
সেটা এখন  ঠান্ডা যুদ্ধের ভুমিকায়...., 
এখন  তোর উজ্জ্বলদা  অহংকারী সমৃদ্ধশীল
মানুষ একজন,   বাকি তোর হিসেবের খাতায়
একটা নাম তোর  সেই  ছোট্ট চকো , .... এখন
সে   একজন সুপুরুষ যুবক ,  তুই অবাক হয়ে 
যাবি ওকে দেখলে,  মনে আছে যেদিন  ওর
জন্মের পর প্রথম দেখেছিলিস আমায় বলেছিলিস
দিদি তোর ছেলে তো নাক টাই দেখা যাচ্ছে আর এত
বড় জুলপি এটা কি ও আগের  জন্ম থেকে নিয়ে এসেছে, 
কত আনন্দ তোর কত যত্ন তোর ওর প্রতি,৷ চলে যাবার
আগের দিনও তুই ওকে শেষবার সারাবেলা
কোলে করে  দেখভাল করেছিলিস,  আমি তোর কাছে 
দিয়ে    নিশ্চিত হয়ে কাজে চলে গেছিলাম ,,  কত আর
বয়স তখন মাস সাতেক হবে বেটু,   আমি ফেরার পর
তুই বলেছিলিস দিদি আজ তোর ছেলে  লক্ষ্মী হয়ে ছিল
একদম কাঁদে নি তোর  জন্য,  আমার আজোও খুব স্পষ্ট
তোর সেসব দিনের গলার স্বর, 

 তোর ক্লিপ কাঁকনে একটুও ধুলো পড়তে দিই নি, 
 আজ এতগুলো বছর     তুই পুড়লেও তোর সব
ছবি আমার ভেতোর  জীবিত,  তোকে মুক্ত
করে দিয়েছি আমার বেঁচে থাকা থেকে  
তবু তোর ছবি আমার  আষ্ঠেপৃষ্ঠে যাপন জুড়ে। 
তুই ভালো থাক  আমরাও বেঁচে আছি দেখা 
হওয়ার দিনের অপেক্ষায়।         
        
                                    
                          
  

        

1 টি মন্তব্য: